Mahfuzur Rahman Manik
আইল বাঁধার প্রচেষ্টা
জুলাই 14, 2013

book-reviewআইলের কথা সবাই জানেন। তারপরও বলা যায়, আইল জমির চারদিকের সীমানা। জমির ভেতরের পানি, সার ইত্যাদি যাতে বাইরে না যায় তা আটকায় আইল। ক্ষেত চাষার সময় আইল বাঁধাটা জরুরী। এই আইল বাঁধাটা কেবল জমিতেই নয়, অন্য ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। এরকম একটা চমৎকার ক্ষেত্রের কথা বলেছেন আবদুর রাজ্জাক। জাতীয় অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক। শিরোনামটা তার কথা থেকেই ধার করা। তাকে নিয়ে লেখা আহমদ ছফার যদ্যপি আমার গুরু যারা পড়েছেন তাদের জানার কথা। আবদুর রাজ্জাক এবং আহমদ ছফার অনেকটা কথোপকথনধর্মী বইটা। প্রাসঙ্গিক অংশটুকু উদ্ধুত করছি, যেখানে আহমদ ছফা বলছেন- ‘রাজ্জাক স্যার জিগ্গেস করলেন, পড়ার সময় দরকারি অংশ টুইক্যা রাখার অভ্যাসটা করছেন কি না? আমি চুপ করে রইলাম। তার অর্থ এই যে আমি কোনো নোট রাখিনি। স্যার মন্তব্য করলেন, তাইলে ত কোনো কামে আইব না। ক্ষেত চষবার সময় জমির আইল বাইন্ধ্যা রাখতে হয়।’
এই আইল বাঁধার কাজটা যেহেতু জরুরী, বইটা পড়ার সময় ভাবলাম আমি এখনি শুরু করে দিবো। যদিও আগ থেকে এ কাজটা করলে খুব ভালো হতো। এতদিনের পড়া বইগুলোর কিছু লিখে রাখলেও অনেক উপকারে দিত। অবশ্য আমার মনে আছে কয়েক বছর আগে পড়া রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নৌকাডুবি উপন্যাসটা অসাধারণ লেগেছিলো। তখন ডায়েরিতে কিছু প্রশ্ন লিখে রেখেছিলাম, যাতে বোদ্ধা কারো কাছ থেকে উত্তরগুলো পাওয়া যায়। কিন্তু কাউকে জিজ্ঞেস করা হয়নি। যদিও রবীন্দ্রনাথের নৌকা ডুবির চেয়ে গোরাটা বেশি ভালো লেগেছিলো। সে যাই হোক, কিছুদিন ধরে আবার ভাবছিলাম প্রত্যেকটা বই পড়ার পর ছোট করে হলেও একটা রিভিউ বা অত্যন্ত গুরুপূর্ণ অংশ লিখে আমার ওয়েবসাইটে প্রকাশ করবো। সে অনুযায়ী সম্প্রতি পড়া বইগুলোর কিছু কিছু ডায়েরিতে টুকেও রেখেছি। প্রাসঙ্গিকভাবে বলি, ২০১০ সালের প্রথম দিকে যখন আমি ইউনিভার্সিটির তৃতীয় বর্ষের শেষ পর্যায়ে তখন আনা ফ্রাঙ্কসহ আরও অনেকের ডায়েরি পড়ছিলাম। অসাধারণ ডায়েরিগুলো আমাকে ডায়েরি রাখতে উদ্বুদ্ধ করেছিলো। তখন থেকেই শুরু করা ডায়েরি লেখাটা আমার এখনও চলছে। আর আহমদ ছফার যদ্যপি আমার গুরুর বদৌলতে এখন বই রিভিউ সে অর্থে না হলেও কিছুটা আইল বাঁধার চেষ্টা শুরু করছি। এই চেষ্টা আমার ওয়েবসাইটের পাঠোদ্ধার বিভাগে অব্যাহত থাকবে আশা করি। জানিনা কতদিন অব্যাহত রাখতে পারবো।
সাম্প্রতিক সময়ে পড়া বইয়ের নাম বলি। যে বইগুলো পড়ার পর থেকে ডায়েরিতে টুকা শুরু করলাম। এই চর্চার বয়স বেশি দিন হবে না। যেটা বলাচলে আমার জীবনের পড়ার তৃতীয় মৌসুম। ইউনিভার্সিটি লাইফের আগে এক মৌসুম। ইউনিভার্সিটি লাইফটা এক মৌসুম। আর এখন অনার্স-মাস্টার্স শেষ করার পর মোটামুটি চাকরিতে ঢুকে তৃতীয় মৌসুম। এ মৌসুমে পড়া প্রথম বই পাওলো কোয়েলহোর দি আলকেমিস্ট। চুনিলাল মুখোপাধ্যায়ের করা অনুবাদ আমি পড়েছি । দ্বিতীয় বই ওয়াল্টার আইজ্যাকসনের স্টিভ জবস: আনটোল্ড স্টোরিজ এর বাংলা অনুবাদ বণিক বার্তা প্রকাশ করেছে অপ্রকাশিত স্টিভ জবস নামে। অনুবাদ করেছেন জায়েদ ইবনে আবুল ফজল। তৃতীয় বই মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুতুল নাচের ইতিকথা। চতুর্থ বই উইলিয়াম হান্টারের দি ইন্ডিয়ান মুসলমান। অনুবাদ করেছেন আবদুল মওদুদ। পঞ্চম বই বঙ্কিমচন্দ্রের দুর্গেশনন্দিনী। ষষ্ঠ বই আহমদ ছফার যদ্যপি আমার গুরু। আর সপ্তম বই চার্লস ডিকেন্সের নিকোলাস নিকলবি। সেবা প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত বইটি রূপান্তর করেছেন কাজী শাহনূর হোসেন।
যাহোক পড়া বইগুলো নিয়েই কথা বলি। শুরুর পর্ব হিসেবে এখন একসাথে সাতটি বই নিয়েই আলোচনা করি। এরপর থেকে প্রতিটি বই আলাদা করে করবো আশা করি।

যদ্যপি আমার গুরু- আহমদ ছফা

Joddopi
বইটা পড়ার সঙ্গে সঙ্গে আফসোস বাড়ছিলো। চলমান বিশ্বকোষ অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক সম্পর্কে জেনে বিস্মিত হচ্ছিলাম। আবদুর রাজ্জাক সম্পর্কে আহমদ ছফার এই বইটি এবং সরদার ফজলুল করিমের আরেকটি বই কয়েক বছর আগে আমার পড়ার সুযোগ এসেছিলো। কিন্তু সে সুযোগটি আমার হাতছাড়া হয়ে গিয়েছিলো যেটা আমার আফসোসের কারণ। চাল চলনে সাধারণ একজন মানুষ অথচ প্রতিষ্ঠিত হেন কোন মানুষ নেই যে অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাকের সান্নিধ্যে আসেনি। কতটা সাধারণ ছিলেন তিনি মজার একটা ঘটনা দিয়ে আহমদ ছফা বলছেন, ‘আমি একটা প্রেস করছিলাম। সেই প্রেস থেকে একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশ করতাম। বত্রিশ নম্বর তোপখানা রোডে ছিলো অফিস। তখন আমি মীরপুরে থাকতাম। একবার স্যারকে বাড়িতে যেয়ে অনুরোধ করছিলাম, তিনি যেনো আমার প্রেসে এসে একবার পায়ের ধুলো দিয়ে যান। পরের দিন অফিসে এসেই আমার প্রেসের ম্যানেজারের কাছে শুনলাম, একজন লুঙ্গি, চাদর এবং পাঞ্জাবি- পরা বুড়োমতো মানুষ বেলা ন’টার সময় এসে অনেকক্ষণ আমার নাম ধরে ডাকাডাকি  করছেন। স্যার যে পরদিনই প্রেসে চলে আসবেন ভাবতে পারিনি। আমি ম্যানেজারকে জিগ্গেস করলাম, আপনি অফিস খুলে বসতে দেননি কেনো? ম্যানেজার আমাকে জানালেন, আমি মনে করেছি প্রেসের মেশিনম্যান কিংবা কম্পোজিটরের চাকুরি চাইতে লোকটা এসেছিলো। আমাদের এখানে কোনো মানুষের দরকার নেই। শুনেই লোকটা চলে গেলো।’
অথচ আহমদ ছফার ভাষায় এই রাজ্জাক সাহেবের স্নেহধন্য মানুষগুলো দেখেন- ড. কামাল হোসেন, বদরুদ্দীন উমর, ড. আনিসুজ্জামান, ড. রওনক জাহান, ড. মোশাররফ হোসেন, ড. মমতাজুর রহমান তরফদার। ড. রেহমান সোবহান, সলিমুল্লাহ খান, মুস্তাফা নূরউল ইসলাম, হামিদা হোসেন, ড, হোসেন জিল্লুর রহমান, সৈয়দ আলী আহসান প্রমুখ। তিনি শেরে বাংলা একে ফজলুল হকের সান্নিধ্যে এসেছিলেন। মাওলানা ভাসানী, বঙ্গবন্ধু সম্পর্কেও তিনি কথা বলেছেন। শেখ মুজিবুর রহমান সরকারের শিক্ষামন্ত্রী ড. মোজাফ্ফর আহমদ ছিলেন অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাকের ছাত্র। কেবল দেশে নয় আন্তর্জাতিক পর্যায়ের নানা ব্যক্তিত্বের সঙ্গে ছিলো তার পরিচয়। তৎকালীন আমেরিকান পররাষ্ট্র সচিব হেনরি কিসিঞ্জার, এশিয়া অ্যাওয়েকস এর লেখক ডিক উইলসনের সঙ্গে ছিলো তার বন্ধুসুলভ সম্পর্ক। উইলসন বইটির উৎসর্গে লিখেছেন, ‘টু আবদুর রাজ্জাক অব ঢাকা, হু ব্রট ইস্ট ইন মাই মাইন্ড’। লন্ডনে তিনি হ্যারল্ড লাস্কির ছাত্র ছিলেন।
পুরো বই জুড়ে এদের সম্পর্কে মোটামুটি বিস্তর আলোচনা রয়েছে। যে বিষয়টা বইয়ের শুরুতেই আহমদ ছফা বলেছেন, ‘বিগত অর্ধশতাব্দীরও অধিক সময় ধরে আমাদের দেশের কৃতবিদ্য ব্যক্তিদের একটা বিরাট অংশ প্রফেসর রাজ্জাকের সংস্পর্শে এসেছেন। তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজসমুহ, আমলাতন্ত্র, রাজনীতি এবং আইন ইত্যকার নানা পেশার মধ্যে ছড়িয়ে রয়েছেন। বলা বাহুল্য আহমদ ছফা নিজেও তাদের একজন। যদিও তিনি লেখক কিংবা সাংবাদিকদের কথা বলেননি। আহমদ ছফাকে রাজ্জাক স্যার মৌলবি আহমদ ছফা বলে ডাকতেন। তিনি কথা বলতেন ঢাকাইয়া ভাষায়। আহমদ ছফা নানা বিষয় তার কাছ থেকে জানতে চাইতেন। একবার তিনি ছফাকে বলছেন, ‘লেখার ব্যাপারটি অইল পুকুরে ঢিল ছোড়ার মত ব্যাপার। যত বড় ঢিল যত জোরে ছুড়বেন পাঠকের মনে তরঙ্গটাও তত জোরে উঠব এবং অধিকক্ষন থাকব।’ লেখালেখি নিয়ে আরও বলেছেন, ‘লেখার ক্ষমতা আছে লেইখ্যা যান। নিজের খুশিতে লেখবেন। অন্য মাইনষে কী কইব হেইদিকে তাকাইয়া কিছু লেখবেন না’। তাদের আলোচনায় ইসলামও এসেছে। রাজ্জাক স্যার বলছেন, ‘ইসলাম ধর্মের সঙ্গে অন্যান্য ধর্মের একটা বড় পার্থক্য এইখানে যে ইসলাম ধর্মেও পরকালের গুরুত্ব স্বীকার করা অইছে, কিন্তু ইহকালের গুরুত্বও অস্বীকার করা অয় নাই। ফিদ্দুনিয়া ওয়াল আখেরাতের কথা ইসলামে যেভাবে বলা অইছে, অন্য কোনো ধর্মে সেরকম নাই’। তাদের কথাবার্তার মধ্যে গ্রামের কথা এমনকি নদীর কথাও বাদ যায়নি, রাজ্জাক স্যার বলছেন ‘আগে গ্রামে অঢেল খাদ্যদ্রব্য পাওন যাইত। অখন যায় না। নদীনালা বিলে হাত দিলেই মাছ পাওন যাইত। এখন একরকম অদৃশ্য হইয়া গেছে। মাইনষে খাইব কী। আগের নদীও কি এখন আছে। পূর্বের দিনে ঢাহা শহর থেইক্যা আমাগো গ্রামে যাইতে অইলে তিন জাগায় নদী পার অওন লাগত। এইবার যাইয়া নদীর দেখাও পাইলাম না। বেবাক খটখট্যা শুকনা।’
নানা জ্ঞানের কথা যেমন রাজ্জাক স্যার বলতেন তেমনি তার সংগ্রহে থাকা নানা বইও পড়তে দিয়েছেন আহমদ ছফাকে। আহমদ ছফা সেসব পড়েছেন, লিখেছেনও। আমাকে একজন বলছেন বাঙালির বুদ্ধিজীবিতা বুঝতে হলে আহমদ ছফাকে পড়তেই হবে। কিন্তু তার গুরু রাজ্জাক স্যার কিছু লিখেছেন তার নজির নেই। বইটি আহমদ ছফা যে ঘটনা দিয়ে শুরু করেছিলেন, যে থিসিসের সুপারভাইজার করা উপলক্ষে তিনি রাজ্জাক স্যারের সান্নিধ্য পেয়েছিলেন, স্কলারশিপ পাওয়া সত্যেও তা আর হয়ে উঠেনি। কারণ তিনি এর চেয়েও বেশি কিছু পেয়েছিলেন। সেখানেই অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাকের কৃতিত্ব। বইটি পড়লে সবই জানা যাবে।

দুর্গেশনন্দিনী- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টপাধ্যায়durgeshnandiny

দুর্গেশনন্দিনী কেবল বঙ্কিমচন্দ্রের প্রথম উপন্যাসই নয় বাংলা সাহিত্যেরও প্রথম সার্থক উপন্যাস। একে বাংলায় প্রথম রোমান্টিক প্রণয় উপাখ্যান হিসেবে পাঠকধন্যও বলেছেন অনেকে। দুর্গেশনন্দিনী আমাকে পড়তে হয়েছে বাংলা অভিধান নিয়ে। যদিও তিনি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের নির্মিত ভাষাকে আরো সহজ ও সাবলীল করার চেষ্টা করেছেন। তারপরও আজকের দিনের পাঠকের জন্য বোঝা অনেকটা কঠিনই। যেমন প্রথমেই তিনি লিখেছেন, ‘৯৯৭ বঙ্গাব্দের নিদাঘশেষে একদিন একজন অশ্বারোহী পুরুষ বিষ্ণুপুর হইতে মান্দারণের পথে একাকী গমন করিতেছিলেন। দিনমনি অস্তাচলগমনোদ্যোগী দেখিয়া অশ্বারোহী দ্রুতবেগে অশ্ব সঞ্চালন করিতে লাগিলেন। কেননা, সম্মুখে প্রকা- প্রান্তর; কী জানি, যদি কালধর্মে প্রদোষকালে প্রবল ঝটিকা বৃষ্টি আরম্ভ হয়, তবে সেই প্রান্তরে, নিরাশ্রয়ে যৎপরোনাস্তি পীড়িত হইতে হইবে।’ একে তো সাধু ভাষা তার ওপর পুরো উপন্যাসজুড়েই এরকম দুর্বোধ্য শব্দের ছড়াছড়ি। ফলে উপন্যাসটির পাঠোদ্ধার একরকম কঠিনই। তারপরও ঘটনা পরম্পরায় আজকের দিনের যেকোন সচেতন পাঠকের কাছে উপন্যাসটি ধরা দিবে। দুই খণ্ডে যথাক্রমে একুশ ও বাইশ পরিচ্ছদে একে সাজিয়েছেন বঙ্কিম।
মোগল-পাঠান যুদ্ধের এক ঐতিহাসিক ঘটনাপ্রবাহের মধ্যে উপন্যাসটিতে তিলোত্তমা, জগৎসিংহ আর আয়েষার ত্রিভুজ প্রেমের আখ্যান রচিত হয়েছে। শুরুতে জগৎসিংহের সঙ্গে মোগল বাদশাহ কতলু খাঁ কর্তৃক  সম্রাট বীরেন্দ্রসিংহের কন্যা তিলোত্তমার পরিচয়, প্রেম দেখিয়েছেন বঙ্কিম। তিলোত্তমার সাক্ষাতের জন্য জগৎসিংহ এসেই কতলু খাঁর হাতে বীরেন্দ্রসিংহসহ রাজদরবার ধৃত হন। জগৎসিংহ বন্দী ও আহত অবস্থায় কতলু খাঁর কাছে আসেন। তাকে তার কন্যা আয়েষা সেবা-শুশ্রুষা দিয়ে সুস্থ করেন। ইতোমধ্যে জগৎসিংহের প্রেমে পড়েন কতলু খাঁর কন্যা আয়েষা। এক পর্যায়ে সেটা এই বলে প্রকাশও করেন আয়েষা, ‘এই বন্দী আমার প্রাণেশ্বর’। যদিও শেষতক তিলোত্তমার সঙ্গেই জগৎসিংহের পরিণয় হয়। নানা ঘটনাপ্রবহের মধ্য দিয়ে অসাধারণভাবে বঙ্কিমচন্দ্র এসব চিত্রায়িত করেছেন দুর্গেশনন্দিনী উপন্যাসে।

দি ইন্ডিয়ান মুসলমান- উইলিয়াম হান্টার

IndianMusউইলিয়াম হান্টারের দি ইন্ডিয়ান মুসলমান পড়ার প্রায় শেষ পর্যায়ে এসে ডায়েরিতে লিখছিলাম, ‘ইংরেজ আমলে মুসলমানদের দুর্দশার চিত্র আছে বইটিতে। মুসলমানদের অতীত পর্যালোচনায় বইটি ইতিহাসের আমূল খোরাক।’ এটি মূলত উইলিয়াম হান্টারের ইন্ডিয়ার মুসলমানদের সম্পর্কে ইঙেরজদের কাছে জমা দেওয়া রিপোর্ট। চার অধ্যায়ে সন্নিবেশিত বইটির প্রথম তিনটি অধ্যায়ে হান্টার মুসলমানদের সঙ্গে ইংরেজদের বিরোধের জায়গা তুলে ধরেছেন। অধ্যায়গুলো হলো আমাদের সীমান্তে সদা জাগ্রত বিদ্রোহী ক্যাম্প, আমাদের ভূখণ্ড নিয়ে ভয়ানক ষড়যন্ত্র। তৃতীয় অধ্যায় আলোচিত হয়েছে মোহাম্মদী আইন নিয়ে। আর চতুর্থ অধ্যায়ে রয়েছে মুসলমানদের দুর্দশার চিত্র। ১৮৬৯ সালে তিনি বলছেন, ‘একশ সত্তর বছর আগে একজন বাঙ্গালী মুসলমানের পক্ষে গরীব হওয়া অসম্ভব ছিলো। আর আজ তার পক্ষে ধনী হিসেবে টিকে থাকাই প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
মুসলমানদের দুর্দশা যেমন তাদের দ্বারাই অনিবার্য হয়েছে। বিশেষ করে মুসলমান আলেমগণের ফতোয়ার দরুন ইংরেজি শিক্ষা গ্রহণ না করায় মুসলমানরা পিছিয়ে পড়ে। একই সঙ্গে ইংরেজরাও মুসলমানদের নানাভাবে বঞ্চিত করেছে। যেমন হান্টার সাহেব বলছেন, ‘আমরা মুসলমান ভদ্রশ্রেণীর জন্য সেনাবিভাগ বন্ধ করে দিয়েছি, কারণ আমরা বুঝেছি যে, আমাদের নিরাপত্তার জন্য তাদের ছেঁটে ফেলা দরকার। আমরা তাদের শাসনবিভাগের সবচেয়ে বেশি লাভজনক কাজের একচেটিয়া অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছি, কারণ তাদের এ ক্ষতি জনসাধারণের ন্যায়ানুগ ও কল্যাণের শাসনকার্যের জন্যই দরকার হয়েছিল।’
এভাবে মুসলমান দুর্দশার নানা চিত্র রয়েছে বইটিতে।

পুতুল নাচের ইতিকথা- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়

পুতুল নাচের কোনো বর্ণনা নেই মানিক PutulNacherবন্দ্যোপাধ্যায়ের বিখ্যাত এ উপন্যাসে। তবে জগতে অস্বাভাবিক যা ঘটে সবই পুতুল খেলার মতই, তা-ই হয়তো বুঝিয়েছেন মানিক। মানব জীবনের নানা বিষয় অসাধারণভাবে তুলে ধরেছেন তিনি। কুমুদ-মতি, বিন্দু-নন্দলাল নানা চরিত্র উপন্যাসটিতে দেখা গেলেও সব ছাপিয়ে শশীই মূর্তমান। অজপাড়াগাঁয়ে কোলকাতার ডাক্তারী পাস করা শশী। গ্রামের মানুষকে চিকিৎসা দিয়ে সেবা শুশ্রূষাই যার কাজ। শশীর গাওদিয়া গ্রামের শত শত সেবাগ্রহণকারী পরিবারের ভীড়ে পরান ঘোষের পরিবারই যেন প্রধান। পরানের বাবা হারু ঘোষের মৃত্যু দিয়ে উপন্যাসের সূচনা। পরানের বউ কুসুমের সঙ্গে ডাক্তার শশীর সম্পর্কটা বড় করে দেখিয়েছেন মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রথম দিকে পড়তে পড়তে পাঠক পরানের বোন মতির সঙ্গে ডাক্তার বাবুর প্রেমের কথা ভাবতে পারেন। কিন্তু নানাভাবে কুসুমই এসেছে শশীর হৃদয়ে কিংবা যদিও প্রথমদিকে কুসুমকে এ ব্যাপারে অধিক সক্রিয় দেখা গেছে আর শেষে উল্টা হলো, তখন আর সময় ছিলো না। পরান-কুসুমরা যখন গ্রাম ছেড়ে চলে যায় তখনই শশী তার একাকীত্ব টের পায়। ইতিম্যধ্যে যদিও গ্রামে হাসপাতাল হয়েছে, শশী হাসপাতালের প্রধান হিসেবে সব দেখাশোনা করছেন। তারপরও নানা ঘটনাপ্রবাহের মধ্যে শশীর গ্রাম ছাড়াই সিদ্ধান্ত হলো। শশী গ্রাম ছাড়বেন যখন ঠিক হলো তখনই একটা চমক দেখালে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়। শশীর যে সুদী মহাজন বাবার জন্য তিনি গ্রাম ছাড়বেন সে বাবাই অবশেষে তাদের ছেড়ে যান।
উপন্যাসটি পাঠককে জোঁকের মত ধরে রাখবে। পুতুল নাচের ইতিকথা হতে আমার ভালো লেগেছে কয়েকটি বাক্য টুকে রেখেছিলাম-

  • গরীবের জেলে যাওয়ার অনুভূতি বর্ণনা এমন, ‘শ্বশুর  ঘর থেকে ফিরলুম দাদা। বেশ ছিলাম গো!’
  • জীবনকে শ্রদ্ধা না করিলে জীবন আনন্দ দেয় না। শ্রদ্ধার সঙ্গে আনন্দের বিনিময়, জীবন দেবতার এই রীতি
  • রাগ, প্রতিহিংসা এই সব যে মানুষের অবলম্বন, সহজে ওসব সে ছাড়িতে চায় না। ছাড়িলে বাচিঁবে সে কি লইয়া?
  • সব মানুষের মধ্যে একটি খোকা থাকে যে মানুষের কবিত্ব, মনের কল্পনা, মনের সৃষ্টিছাড়া অবাস্তবতা, মনের পাগলামিটিকে লইয়া সময়ে-অসময়ে এমনিভাবে খেলা করিতে ভালোবাসে।

অপ্রকাশিত স্টিভ জবস- ওয়াল্টার আইজ্যাকসন

SteveJobs

প্রযুক্তির স্বপ্নের জগৎ দেখিয়েছেন স্টিভ জবস। ২০১১ সালের ৫ অক্টোবর প্রয়াত হওয়া এই সফল এই মানুষটিকে কাছ থেকে দেখেছেন ওয়াল্টার আইজ্যাকসন। স্টিভ জবস পরিত্যক্ত এক গ্যারেজে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তার কোম্পানি ‘অ্যাপল’। অ্যাপলের বিখ্যাত আইপড, আইপ্যাড, আইফোন, ম্যাকপিসি, আইটিভি, আইডিভিডি প্রভৃতি তৈরি এবং এগুলোকে গ্রাহক বান্ধব করার কাহিনী রয়েছে বইটিতে। এখানে স্টিভ জবসের বিশেষ কিছু গুনাবলীর কথা বলা হয়েছে, যেগুলো তাকে এনে দিয়েছে একদিকে খ্যতির শীর্ষে অন্যদিকে অ্যাপলকে দিয়েছে জনপ্রিয়তা। বাস্তব দুনিয়া হতে একধাপ এগিয়ে স্বপ্ন দেখতেন তিনি। পুরো বইটি কতগুলো পয়েন্টে আলোচিত হয়েছে। যেগুলো স্টিভ জবসকে তুলে এনেছে-  যেমন, ‘প্রচলিত ধারণার বাইরে চিন্তা করা মানুষ, মুনাফা পরে আগে তাকাও পণ্যের মানে, কী করতে চাই না সেটাও গুরুত্বপূর্ণ, কল্পনার সঙ্গে মিশিয়ে নাও বাস্তবতা কিংবা কাজের লোক ছাড়া বাকিদের পাত্তা দিও না’ ইত্যাদি।
স্টিভ জবস কতটা বিখ্যাত ছিলেন তা জানার জন্য তার মৃত্যুর দিনটির সংবাদমাধ্যমের দিকে তাকানোই যথেষ্ট। নিউইয়র্ক টাইমস, গার্ডিয়ান, বিবিসিসহ দুনিয়ার জগৎজোড়া সকল মিডিয়া তাকে নিয়ে যে কাভারেজ দিয়েছে সেটা অকল্পনীয়। যেখানে উঠে এসেছিলো ‘অ্যাপল’সহ তার জীবনের সাফল্যের নানা কাহিনী। দুনিয়া মাত্র ৫৬ বছর তাকে পেয়েছে। অ্যাপল-এর মত প্রতিষ্ঠানের সিইও হিসেবে তিনি যেমন গ্রাহকবান্ধব, গুণমানে অনন্য পণ্য উৎপাদনে সচেতন ছিলেন তেমনি ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বিষয় হতেও বিস্মৃত ছিলেন না। যেমন বইটি বলছে, তার প্রতিষ্ঠানের কোনো সধারণ কর্মচারীর জন্মদিনের খবর হয়তো মানবসম্পদ বিভাগও খবর রাখেন না অথচ দেখাগেলো সিইও স্বয়ং তার খবর রাখছেন। জন্মদিনে তার বাসায় উপহার নিয়ে হাজির কিংবা অফিসে আয়োজন করছেন জন্মদিনের অনুষ্ঠান। সব মিলিয়েই তিনি মাত করেছেন দুনিয়া।

নিকোলাস নিকলবি- চার্লস ডিকেন্স

NicholasNicklebyCharlesDickensবাবা মারা যাওয়ার পর নিকোলাস এবং রালফ দুই ভাইয়ের কাহিনী দিয়ে শুরু। বড় ভাই রালফ নানাভাবে টাকা বানিয়েছে। ছোটো ভাই কোনোমতে জীবন টেনে নিচ্ছেন। নিকোলাস বিয়েও করেছে। কিন্তু বেশিদিন তার টেকা হলো না। স্ত্রী, ছেলে নিকোলাস জুনিয়র আর ছোটো মেয়ে রেখে মারা গেলেন। বাবা মারা যাওয়ার পর মা-বোনকে সাপোর্ট দিতে সাহায্যের জন্য নিকোলোস জুনিয়র চাচা রালফের কাছে হাজির। সাহায্য করার মত ব্যক্তি চাচা নন। তারপরও এক বুদ্ধিবিবেকশূন্য স্কুয়ার্সের স্কুলে অ্যসিস্ট্যান্ট মাস্টারের চাকরি জোগাড় করে দেন রালফ। সে এক আশ্চর্যজনক স্কুল। শিক্ষার্থীদের প্রতি নির্দয় আচরনে নিকোলাস জুনিয়র অচিরেই স্কুয়ার্সের প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়েন। এমনকি বিরক্ত হয়ে একদিন স্কুয়ার্সকে ছাত্র-পেটানো বেত দিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে স্কুল ছেড়ে চলে এলেন। সঙ্গে নিয়ে এলেন স্মাইককে, যাকে স্কুয়ার্স সবচেয়ে বেশি অত্যাচার করত।
এরপর নিকোলাস জুনিয়র আর স্মাইক গেলেন লন্ডনে। লন্ডনে গিয়ে ভাগ ফিরলো তাদের। সে আরেক কাহিনী, এখন না হয় থাক।

দি আলকেমিস্ট- পাওলো কোয়েলহো

Alchemistপাওলো কোয়েলহোর অসাধারণ সৃষ্টি দি আলকেমিস্ট। কোয়েলহোর নাম অনেক আগ থেকেই শুনেছি, কিন্তু তিনি কতটা জাদুকরী লেখক তা বোঝা গেলো উপন্যাসটা পড়ে। আলকেমিস্ট সম্পর্কে অন্তত এতটুকু বলা যায়, এটা না পড়লে যে কেউ জীবনে একটা বড় কিছু মিস করবে। বইয়ের মাঝে একটু ঢুকতে পারলে তা সম্মোহনীর মত শেষ ঘটনা পর্যন্ত পাঠককে টেনে নিয়ে যাবে। মানুষের জীবনের অনেক শিক্ষাই রয়েছে এতে। বইটা পড়ার পর কোয়েলহো সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হলাম। তার ব্যক্তিগত ওয়েবসাইট খুলেই আমি থ। ওয়েবসাইটে তিনি ২১টি ভাষা সন্নিবেশিত করেছেন। সংশ্লিষ্ট দেশের (ভাষার) পতাকার ওপর ক্লিক করে পাঠক ওয়েবসাইটে ঢুকতে পারবেন। সামাজিক যোগাযোগের সাইটগুলোতে ব্রাজিলীয় এ লেখকের অবাক হওয়ার মত জনপ্রিয়তা দেখা গেলো। ১৩ জুলাই দুপুর পর্যন্ত ফেসবুকে তার পেইজের লাইক সংখ্যা একক, দশক, শতক হিসাব করে গুনে পাওয়া গেলো এক কোটি ১৩ লাখ ৩৬ হাজার নয়শ আটান্নবই। আর টুইটারে ফলোয়ার রয়েছে ৮২ লাখ ২৬২ জন।
আলকেমিস্টে ফিরি। কোয়েলহোর সবচেয়ে বিখ্যাত ও জনপ্রিয় উপন্যাস এটি। এএফপির হিসেবে বাংলাসহ ৫৬ টি ভাষায় অনুবাদ হয়েছে আর বই বিক্রি হয়েছে  ৩ কোটিরও বেশি। জীবিত কোনো লেখকের লেখা এত বেশি ভাষায় অনুদিত হয়েছে, ফলে তার রেকর্ড রয়েছে গিনেস বুকে।
আলকেমিস্টে কোয়েলহো স্পেনের আন্দালুসিয়ার মেষ বালক সান্তিয়াগোর এক লোমহর্ষক স্বপ্ন যাত্রার কাহিনী বর্ণনা করেছেন।  সান্তিয়াগো তার এক স্বপ্নের ব্যাখ্যা জানতে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়েছেন। সঙ্গে রয়েছে তার ভেড়ার পাল। এক যাযাবরের কাছে তিনি জানতে পারলেন মিসরের পিরামিডের নীচে গুপ্তধন আছে। নানা বাধা বিপত্তি ডিঙ্গিয়ে সান্তিয়াগো ছুটে চলেছে সে গুপ্তধনের সন্ধানে।
শুরুতেই সান্তিয়াগোর সঙ্গে এক প্রাচীন রাজার সঙ্গে সাক্ষাৎ ঘটে। যিনি তাকে তার ভেড়া বিক্রি করে মিসর যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। তিনি আরও নানা বিষয়ে উপদেশ দিয়েছেন। সান্তিয়াগোকে বলছেন, ‘যখন তুমি কোনোকিছু সত্যিকারার্থেও চাও, গোটা বিশ্ব তা অর্জনে তোমার সাহায্যে এগিয়ে আসবে’। পথিমধ্যে সান্তিয়াগো প্রেমের হাতছানি, কঠিন বিপদ, আর নানা প্রলোভনের মুখোমুখি হয়ে তার নিজ ও জগৎ সম্পর্কে অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে বিস্তর জানার সুযোগ পায়। সান্তিয়াগো যাত্রাপথে ফাতেমা নামে মোহনীয় এক আরব নারীর প্রেমে পড়ে। যে নারী তাকে উপদেশ দিচ্ছে, ‘সে যদি তার হৃদয়ের কথা শুনে তাহলে সে যা স্বপ্ন দেখছে তা হাতে পাবে’।
সান্তিয়াগোর সঙ্গে এরপর এক রসায়নবিদের সাক্ষাৎ ঘটে তিনিও তাকে নানা উপদেশ দেয়। তিনি বলছেন, মানুষের জন্য যা বরাদ্দ আছে তা আবিষ্কার করা উচিৎ। সান্তিয়াগো অবশেষে তার গুপ্তধনের খোজে কাঙ্খিত পিরামিডের কাছে পৌঁছে। বলা বাহুল্য সে তার গুপ্তধন পেয়েছেও তবে মিসরের পিরামিডের নীচে নয় তার বাড়ি ফিরেই। পাঠকের জন্য নানা চমকের সবচেয়ে বড় চমকটি বোধহয় একেবারে শেষেই রয়েছে। তবে পুরোটা না পড়লে তা বোঝা যাবে না।
আলকেমিস্ট পড়ে ভালো লেগেছে এরকম কয়েকটা বাক্য উল্লেখ না করলেই নয়-

  • প্রিয় যা কিছু পেছনে ফেলে যাচ্ছ তা নিয়ে মন খারাপ করো না। জগতে কিছুই হারিয়ে যায় না, বিশ্বের আত্নায় সব কিছুই খোদাই করা থাকে।
  • কাজই হলো জ্ঞান লাভের শ্রেষ্ঠ উপায়।
  • মানুষ তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্বপ্ন চিনতে ভুল করে। তার ধারণা, সে ঐ স্বপ্নের উপযুক্ত নয় কিংবা ঐ স্বপ্ন সফল করার ক্ষমতা তার নেই।
  • প্রকৃত যাতনার চেয়ে যাতনাবোধের ভীতিই বেশি দুর্বল করে দেয়।
  • রাত্রির অন্ধকার ঠিক ভোরের আগেই বেশি ঘন হয়।
  • তোমার মধ্যে যদি কোনো বড় গুন থাকে এবং অন্যদের তা জানার চেষ্টা কর, তাহলে সে কথা তারা কানেই তুলবে না।
  • অসফলতার ভীতিই আমাদের স্বপ্ন পূরণের একমাত্র বাধা।
  • একবার যা ঘটে দ্বিতীয়বার তা ঘটে না। তবে যদি দ্বিতীয়বার ঘটে, তৃতীয়বারও ঘটবে।
  • ফল লাভ না করা পর্যন্ত কোনো প্রচেষ্টাই সম্পূর্ণ নয়।

... ছবি: ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত...

ট্যাগঃ , , , , , , , , ,

5 comments on “আইল বাঁধার প্রচেষ্টা”

  1. দারুন চেষ্টা মানিক ভাই। কিপ আপ!

    আলকেমিস্ট নিয়ে বলি, আমার জন্য এটা ছিল "জীবন বদলে দেয়া" টাইপ একটা এক্সপেরিয়েন্স। আপনার আইল বাধার চেষ্টা দেখে এখন মনে হচ্ছে এই চেষ্টা না করাই একটা বড় ভুল।

    এখন থেকে আইল বাধব 🙂

  2. অসংখ্য ধন্যবাদ। বিশাল বই পড়ে তাকে ছোট আকারে প্রকাশ করা একটু কঠিনই। তারপরও এর মাধ্যমে অন্যরা বইয়ের বিষয়বস্তু বুঝতে পারেন; কারো আগ্রহ থাকলে পড়তে উদ্বুদ্ধ হতে পারেন; সর্বোপরি বইয়ের শিক্ষনীয় অংশগুলো টুকে রাখার চেষ্টা এই 'আইল বাঁধার প্রচেষ্টা'। আবদুর রাজ্জাক স্যারের এ অভিধাটা সত্যি অসাধারণ।
    আলকেমিস্টের কথা ঠিক বলেছেন। এটা মানুষের 'জীবন বদলে দেয়া'র মতই উপন্যাস।

  3. জিনিসটা ভালো হইছে। মানুষ বই কিনার আগে এইখানে আইসা দেখে নিতে পারবে যে বইটার পাঠোদ্ধার করা যাবে কিনা !
    বেশি বেশি লেখেন, ভান্ডার বাড়ান। সেবা প্রকাশনীর আইল বাঁধা গুলা পছন্দের তালিকায় থাকবে। বিদেশী সাহিত্যের বেশি বেশি আইলবাঁধা দরকার 🙂
    হ্যাপী আইল বাঁধা 😀

    1. ধন্যবাদ ভাই। আপনি তো আইল বাঁধার কথা বলতে গিয়ে আমাকেই বেধে ফেলবেন দেখছি হা হা হা । এত এত পাঠোদ্ধার কি সম্ভব যে পাঠকরা বই কেনার আগে এখানে সব পাবে? তারওপর আবার বিদেশি সাহিত্য বেশি বেশি করতে হবে। আপনার পরামর্শ অবশ্য যথার্থ। এগুলো আমলে নিয়ে আমার সামর্থ্য আর সীমাবদ্ধতার মধ্যে দেখি কতটা পারি।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।