Mahfuzur Rahman Manik
৫০০!
জানুয়ারী 23, 2022

আলহামদুলিল্লাহ। আমার ওয়েবসাইট তথা মাহফুজমানিক ডট কমের ৫০০তম পোস্ট এটি। ব্যক্তিগত পাঁচশত পোস্ট হওয়ার তাৎপর্য এটাই যে, এটি আমার লেখালেখি জীবনের একযুগের অধিককালের সঞ্চয়। এখানে আমার বিপুল অধিকাংশ কাজের লিখিত রূপ রয়েছে; সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত কলাম আছে; রয়েছে অনুবাদ এবং সাক্ষাৎকার। বই আলোচনা কিংবা ব্যক্তিগত অনুভূতির প্রকাশ আছে। আছে ভিন্ন কিছুও।

বলেনিই, ২০১৩ সালের ১১ নভেম্বর এ ওয়েবসাইটের ২০০তম পোস্ট হওয়া সংক্রান্ত ডাবল সেঞ্চুরি শিরোনামে একটা লেখা লিখেছিলাম। ক্রিকেটীয় অভিধা দিয়ে সেটি লিখেছিলাম বলে বাংলাদেশের ক্রীড়াজগতের অন্যতম তারকা সাংবাদিক রানা ভাই (রানা আব্বাস) ক্রিকেটীয় উদাহরণ দিয়েই তখন এই মন্তব্য করেছিলেন- ‌'আপনার ২০০তম লেখার জন্য অভিনন্দন! 🙂 আশা করি একদিন এটা ৪০০তম হবে। তখন আপনি ক্রিকেট বরপুত্র লারার রেকর্ডটি স্পর্শ করবেন। তিনি একবার ৪০০ (নটআউট) করেছিলেন; যেটি টেস্টম্যাচের এক ইনিংসে সর্বোচ্চ রান। আর ৪০১ হলে লারার রেকর্ডও ভেঙে যাবে। বোধ করি লারা তাতে অখুশি হবেন না। কেননা তিনি জানবেন, যোগ্য লোকটিই তাঁর রেকর্ড ভেঙেছেন!'
মন্তব্যটি অবশ্য রানা ভাইয়ের উদারতার প্রমাণ। ৫০০তম পোস্ট লিখতে এসে সে উদাহরণ আনলেও আহামরি কিছু করেছি বলে মনে হয় না। কারণ বলাচলে এসব অধিকাংশ আমার পেশাগত কাজেরই অংশ। তারপরও আনন্দের জায়গা এটাই যে আমার কাজগুলো এক জায়গায় রয়েছে। যদিও প্রতিবছরই যখন ওয়েবসাইটটির মেয়াদ শেষ হয়ে যায়, ডোমেইন হোস্টিং মিলে রিনিউ চার্জ যা-ই হোক, এক মুঠে দিতে কিছুটা কষ্টই হয়। তারপরও ভালো লাগে। আন্তরিকভাবে আমি ওয়েবসাইটে লেখাগুলো আপ করি। অন্যদের না হোক, নিজের লেখার রেফারেন্সের প্রয়োজনেও এই ওয়েবসাইটই আমার প্রধান ভরসা।
অবশ্য প্রায়শই যখন আমি ওয়েবসাইটটিতে লগিন করি এবং পরিসংখ্যান চেক করি, তখন দেখি প্রতিদিনই কিছু না কিছু মানুষ এ সাইটটি ব্যবহার করছেন। বেশিরভাগই শিক্ষা সংক্রান্ত কোনো বিষয় অনুসন্ধান করে এখানে চলে আসেন। সেটিও এক ধরনের ভালো লাগার বিষয়। আমি মনেকরি, তা আসলে উপর পাওনা।
ওয়েবসাইট শুরুর গল্প আসলে ২০০তম পোস্টেই করেছি। সেটি আর না বলি।
তবে একটা জিনিস বলি। একবার বছর দশেক আগে, আমি ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছিলাম এ বলে, ‌'ইন্টারনেটে আমি সবচেয়ে বেশি যে ওয়েবসাইটে ঢুকি সেটি মাহফুজমানিক ডট কম।' আমার এক বন্ধু তখন মন্তব্য করেছিলেন- নিজের ঢোল নিজেই পিটাও! তখন আহসান হাবীবের ভাষায়ই আমাকে রিপ্লাই দিতে হয়েছে। নিজের ঢোল আসলে নিজেকই পেটাতে হবে, অন্যদের পেটাতে দিলে ঢোল ভেঙ্গে ফেলতে পারে। আগের মতো রুটিন করে এখানে ঢুকি না। তবে অনলাইনে থাকলে মাঝে মাঝেই ঘুরে যাই।
এ জায়গাটা আমার ভালো লাগার জায়গা। যদিও ওয়েবসাইটটি সাজানো গোছানো নয়। এটি চেহারায় ব্লগের মতোই রয়ে গেছে। হয়তো আরও ডিজাইন করার সুযোগ রয়েছে। প্রফেশনালদের দিয়ে কাজের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু আমার ফোকাসটা আসলে সবসময়ই কন্টেন্টকেন্দ্রিক। একেবারে ইউজার ফ্রেন্ডলি না হলেও আমার লেখাগুলো এখান থেকে পাওয়া যাবে। সুন্দর করে পড়া যাবে।
সাইটের টাইম মেশিনটা ফেব্রুয়ারি ২০১০ দিয়ে শুরু। তার মানে অন্তত একযুগ আমি ওয়েবসাইটটি অব্যাহত রাখছি। ২০১৩ এর ২০০ পোস্ট থেকে আজ ৫০০ পোস্টে পৌছেছে। এই যে লেখালেখির চর্চাটা অব্যাহত রাখা। সেই মানসিকতা ধরে রাখা। এটাকেও একটা অর্জন বলা যায়। জানি না, সেটা কতদিন ধরে রাখতে পারবো। প্রত্যাশা আছে আজীবন ধরে রাখার।
তবে এটাও বলা দরকার, ৫০০ পোস্টের মধ্যে অধিকাংশই সংবাদপত্রে প্রকাশিত। সংবাদপত্রে লেখার অভিজ্ঞতাও এক যুগের ওপর, সংবাদপত্রে ফুলটাইম কাজের অভিজ্ঞতার এক দশক হতেও তেমন বাকি নেই।তারওপর সত‌্যিকারার্থে এখনও কোনো লেখা প্রকাশ হলে ভালো লাগে। অনেকের মন্তব্য উৎসাহিত করে। পরবর্তী লেখার প্রেরণা পাই। কিংবা লেখার জন্য ঘাটাঘাটি আর খাটাখাটনির প্রয়োজনটা অনুভব করি। এই ধৈর্য্যটা থাকুক। সময়টাই তো এমন- যে সহে সে রহে!

ট্যাগঃ

4 comments on “৫০০!”

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।