টিকা নিশ্চিত করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলুক- ড. ছিদ্দিকুর রহমান

ড. ছিদ্দিকুর রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক হিসেবে ২০১১ সালে অবসর গ্রহণ করেন। এর আগে তিনি একই ইনস্টিটিউটের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৯ সালের জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়ন কমিটির অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। প্রবীণ এই শিক্ষাবিদ শিক্ষা মন্ত্রণালয়, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক, ইউনিসেফসহ দেশি-বিদেশি নানা প্রতিষ্ঠানে কনসালট্যান্ট হিসেবে কাজ করেন। ১৯৭৯ সালে দিল্লি ইউনিভার্সিটি থেকে ডক্টরেট ও ১৯৮২ সালে লন্ডন ইউনিভার্সিটি থেকে পোস্ট ডক্টরেট অর্জনকারী ছিদ্দিকুর রহমান কুমিল্লায় জন্মগ্রহণ করেন

সমকাল: করোনা দুর্যোগের প্রভাব শিক্ষা খাত কতটা কাটিয়ে উঠতে পেরেছে বলে আপনি মনে করেন?

ছিদ্দিকুর রহমান: গত বছরের মার্চ মাসে দেশে যখন প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়, স্বাভাবিকভাবেই সবার মধ্যে একধরনের আতঙ্ক ছিল। আমরা দেখেছি, একে একে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সব কিছু বন্ধ হয়ে যায়। লকডাউনের মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এরপর ধীরে ধীরে সব খুললেও এখনও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম চালু হয়নি। এখন বলা চলে সবই প্রায় স্বাভাবিক। হাট-বাজার, কল-কারখানা, অফিস-আদালত, পরিবহন- কোনো কিছুই বন্ধ নেই। দীর্ঘ সময় শিক্ষাঙ্গন বন্ধ থাকার ফলে আমাদের শিক্ষার ব্যাপক ক্ষতি হয়ে গেছে। এর প্রভাব কাটিয়ে উঠতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন।

সমকাল: করোনার এ সময়ে অনলাইনসহ নানাভাবে দূরবর্তী শিখন কার্যক্রম আপনি দেখেছেন নিশ্চয়ই। এ ব্যাপারে আপনার মন্তব্য কী?

ছিদ্দিকুর রহমান: বিদ্যমান পরিস্থিতিতে অনলাইন কিংবা অন্যান্য মাধ্যম ব্যবহার করে দূরবর্তী শিখন কার্যক্রমের বিকল্প ছিল না, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই। তবে শিক্ষার্থীদের একটি অংশই কেবল এর মাধ্যমে শেখার সুযোগ পেয়েছে। অধিকাংশই সে সুযোগ পায়নি। তার ওপর শিশুদের জন্য সশরীরে শিক্ষাঙ্গনে উপস্থিত থেকে শেখা আর অনলাইনে শেখা এই দুইয়ের মধ্যে ব্যাপক ফারাক রয়েছে।

সমকাল: শিক্ষার্থীদের অটোপাস দেওয়ার সিদ্ধান্ত কীভাবে দেখছেন?

ছিদ্দিকুর রহমান: শিক্ষার্থীদের পরবর্তী শ্রেণিতে ওঠার জন্য অটোপাসের সিদ্ধান্ত যথোচিত বলে আমি মনে করি না। Continue reading

বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে চল্লিশের দশকের সাম্প্রদায়িকতা ফিরিয়ে আনতে চায়-অমর্ত্য সেন

অমর্ত্য সেন নোবেল বিজয়ী বাঙালি অর্থনীতিবিদ। সম্প্রতি তিনি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির সঙ্গে অনলাইনে ও পিটিআইর সঙ্গে ই-মেইলে সাক্ষাৎকার প্রদান করেছেন। সেখানে তার বাড়ির সীমানা, পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন, বিজেপির রাজনীতি ও ভারতের কৃষক আন্দোলন নিয়ে কথা বলেন। সাক্ষাৎকার দুটি ঈষৎ সংক্ষেপে ইংরেজি থেকে ভাষান্তর মাহফুজুর রহমান মানিক

আপনার শান্তিনিকেতনের বাড়ি ‘প্রতীচী’র সীমানায় বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি ঢুকে গেছে বলে সম্প্রতি অভিযোগ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি আপনি কীভাবে দেখছেন?

অমর্ত্য সেন: আসলে এ ব্যাপারে আমার কোনো ধারণা নেই। তবে একজন অর্থনীতিবিদ হিসেবে আমি অর্থনীতির কথা বলতে পারি। করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সংকট আমরা দেখছি। এর মধ্যে আমার বাড়ি নিয়ে কী বলব? ৮০ বছর আগে ওই জায়গাটি লিজ হিসেবে নেওয়া হয়েছিল। এখন এসে বলা হচ্ছে, লিজে সমস্যা আছে। লিজের বাইরেও আমার বাবা আরও কিছু প্লট কিনেছিলেন। তারা যে জনসমক্ষে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছে, তার আগে আমাকে কোনো চিঠি দেয়নি। আমার সঙ্গে কোনো কথাও বলেনি।

তার মানে আপনি বলতে চাইছেন, আপনার বাড়ি ‘প্রতীচী’র ব্যাপারে এত বছরেও বিশ্বভারতী কোনো লিগ্যাল নোটিশ বা চিঠি দেয়নি বা কোনোভাবে জানায়নি?

অমর্ত্য সেন: না। আমার বাবা মারা গেলেন। এর পর আমার মা। লিজ নিয়ে তাদের সঙ্গে অনেক আগে কথা হয়েছে। স্বাভাবিক কথাবার্তা। তারা মিডিয়াতে বলেছে, আমি আরও অনেক জমি নিয়েছি। জমির ব্যাপারে কোনো সমস্যা নেই। কারণ এর সব কাগজপত্র রয়েছে। কিন্তু তারা আমার সঙ্গে কথা না বলে মিডিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। শান্তিনিকেতনের নিজস্ব ঐতিহ্য ও উপাচার্যের আচরণের মধ্যে বেশ পার্থক্য রয়েছে। আমি এ বিষয়ে মন্তব্য করতে পারতাম। কারণ, তিনি পশ্চিমবঙ্গের ওপর কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণের অংশ হিসেবেই দিল্লির কেন্দ্রীয় সরকারের মাধ্যমে ক্ষমতায়িত হয়েছেন। বিজেপি আমাকে মানুষ হিসেবে নীচু করছে। সত্যটা পশ্চিমবঙ্গের মানুষ ভালো করেই জানে। সামনে নির্বাচন আসছে। এর মধ্যে সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিষবাষ্প ছড়ানোর এজেন্ডা থাকতে পারে। ১৯৪০-এর দশকে আমরা ঢাকা ও কলকাতায় বাংলার সাম্প্রদায়িকতার কদর্য রূপ দেখেছি।

আপনি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিক্রিয়া দেখেছেন। তিনি আপনাকে সমর্থন করেছেন। এমনকি আপনাকে একটি চিঠিও লিখেছেন।

অমর্ত্য সেন: যারা আমার প্রতি সমবেদনা প্রদর্শন করেছেন, তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমার প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি আমাকে যে চিঠি দিয়েছেন, তা আমাকে স্পর্শ করেছে। তাকে আমি ধন্যবাদ জানাই। Continue reading

শিক্ষার্থীর সুযোগ সংকোচন কেন

শিক্ষার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা করোনা দুর্যোগে সৃষ্ট প্রভাব অটোপাস-অ্যাসাইনমেন্ট ইত্যাদির মাধ্যমে কোনো রকম কাটিয়ে উঠতে পারলেও উচ্চশিক্ষা এখনও বলা চলে পিছিয়ে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কেবল স্নম্নাতক শেষ বর্ষ ও স্নাতকোত্তর পরীক্ষা সম্পন্নের আয়োজন করছে। অন্যান্য বর্ষের ব্যাপারে প্রশাসন এখনও সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। এ সপ্তাহের মধ্যেই উচ্চ মাধ্যমিকের (অটোপাসের) ফল প্রকাশ হবে। এরপরই উচ্চশিক্ষায় ভর্তির তোড়জোড় শুরু হবে। ভর্তির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অবশ্য নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। দেশের অধিকাংশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় গুচ্ছ পদ্ধতির ভর্তিতে সম্মত হয়েছে। স্বায়ত্তশাসিত চার পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়- ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও জাহাঙ্গীরনগর এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) আগে থেকেই স্বতন্ত্রভাবে পরীক্ষা নেওয়ার কথা বলেছে। সবাই গুচ্ছ পদ্ধতিতে এলে অন্তত করোনা পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীরা উপকৃত হতো। তারপরও অধিকাংশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এ পদ্ধতিতে যাচ্ছে- এটা ভালো বিষয়। কিন্তু স্বস্তি মিলছে না; বিভাগ পরিবর্তনের বিষয়ে প্রশাসনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নেমেছে।

করোনা থেকে সুরক্ষা দিতে প্রশাসন পরীক্ষা কমানোর সিদ্ধান্ত নিলেও বিষয়টি কতটা গুরুত্বপূর্ণ হলে শিক্ষার্থীরা দুর্যোগ উপেক্ষা করেই মাঠে নেমেছে? আগে এক বিভাগ থেকে অন্য বিভাগে ভর্তি হওয়ার জন্য তথা বিজ্ঞান বিভাগ, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখার শিক্ষার্থীরা নিজস্ব বিভাগে ভর্তি হতে না পারলেও বিভাগ পরিবর্তনের নির্দিষ্ট ইউনিটে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে শর্তসাপেক্ষে অন্য বিভাগে ভর্তি হওয়ার সুযোগ ছিল। এ বছর গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তির ক্ষেত্রে এ রকম পৃথক কোনো ইউনিট রাখা হয়নি। ভর্তিচ্ছুরা বিভাগ পরিবর্তনের জন্য আলাদা পরীক্ষার ব্যবস্থা রাখার দাবি জানিয়েছে। এই দাবিতে রাজধানী ঢাকা, বরিশাল শহরসহ বেশ কিছু জায়গায় তারা বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে। Continue reading

দুর্যোগের পৃথিবী এবং আমাদের দায়

Secretary-General António Guterres holds a lecture at Columbia University entitled “State of the Planet”.

লেখক: আন্তেনিও গুতেরেস

আমরা একটি বিধ্বংসী মহামারি মোকাবিলা করছি। একটি সমতা, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই উন্নয়নের বিপরীতে আমরা দেখছি, বৈশ্বিক তাপমাত্রার নতুন উচ্চতা, বাস্তুসংস্থান অবক্ষয়ের নতুন মাত্রা ও বৈশ্বিক লক্ষ্য অর্জনের নতুন সংকট। এক কথায় বলতে গেলে, আমাদের এই পৃথিবীর এক ভঙ্গুর দশা।

মানুষ যেন প্রকৃতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করছে। এটি আত্মঘাতী। প্রকৃতি সবসময়ই তা ফিরিয়ে দেয়। আর তার প্রকাশ আমরা দেখছি আরও শক্ত ও রুদ্ররূপে। জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হচ্ছে। দশ লাখ প্রজাতি বিলুপ্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। বাস্তুতন্ত্র আমাদের চোখের সামনেই নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে। মরুভূমি প্রসারিত হচ্ছে। জলাভূমি হারিয়ে যাচ্ছে।

প্রতিবছর আমরা এক কোটি হেক্টর বন হারাচ্ছি। সমুদ্রগুলোতে মাছ নিঃশেষ হয়ে প্লাস্টিক বর্জ্যের স্তূপে পরিণত হচ্ছে। এগুলো কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করছে বলে সমুদ্রকে বিষাক্ত করে ফেলছে। কোরাল দ্বীপগুলো মরে যাচ্ছে। প্রতিবছর বায়ু ও পানিদূষণে ৯০ লাখ মানুষ মারা যাচ্ছে, যা বর্তমান মহামারির চেয়েও ছয়গুণ বেশি। মানুষ যেভাবে প্রাণীর আবাসন ধ্বংস করছে এবং বন্যপ্রাণীর বসবাসে হস্তক্ষেপ করছে, তাতে আমরা হয়তো আর এক ভাইরাসের অস্তিত্ব দেখতে পাব, যেটা প্রাণী থেকে মানুষের দেহে আসছে। ভুলে যাওয়া চলবে না, মানুষের সংক্রামক রোগের ৭৫ ভাগই প্রাণী থেকে আগত।

Continue reading

ভর্তিতে শিক্ষার্থীর করোনাভাগ্য!

দুর্যোগের মধ্যেও শিশুদের একটি চাপমুক্ত ও স্বস্তির বছর শিক্ষার্থীর করোনা ভাগ্য বৈকি

শিশুদের স্কুলে লটারির মাধ্যমে ভর্তির বিষয়টি ২০১০-১১ সালের পর আবার আলোচনায় এসেছে। ২০১১ সালে সমকালেই লিখেছিলাম ‘ভাগ্যই বিজয়ী হোক‘। এবার করোনার সময় যখন লটারির পরিধি বাড়ছে, অর্থাৎ এতদিন কেবল প্রথম শ্রেণিতেই ছিল, এখন নবম পর্যন্ত প্রতিটি শ্রেণিতে লটারি হলেও বিজয়টা করোনার নয় বরং ভাগ্যেরই। এ সিদ্ধান্তে স্বাভাবিকভাবেই অনেকে খুশি হয়েছেন, আবার অনেক অভিভাবকই মন খারাপ করেছেন। লটারি যেখানে ভাগ্যের বিষয়, সেখানে ‘প্রত্যাশিত’ প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে না পারার বেদনা কাউকে না কাউকে তো সইতে হবেই। প্রশ্ন হলো, প্রত্যাশিত প্রতিষ্ঠান কোনগুলো? তার আগে বলা দরকার, শিক্ষামন্ত্রী এ-বিষয়ক আলোচনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের অবতারণা করেছেন : ‘ক্যাচমেন্ট এরিয়া’ বা প্রতিষ্ঠানসংলগ্ন এলাকা। আমি মনে করি, প্রত্যাশিত প্রতিষ্ঠান আর ক্যাচমেন্ট এরিয়া- এই দুটি জটিলতা নিরসনের ওপরই বহুলাংশে নির্ভর করছে স্কুলে ভর্তি সমস্যার সমাধান।

প্রত্যাশিত প্রতিষ্ঠান মানে সবাই ভালো ফল অর্জনকারী নামিদামি প্রতিষ্ঠানই বুঝে থাকেন। ওই সব প্রতিষ্ঠানে সন্তানের ভর্তি অনেকের কাছে সামাজিকভাবে সম্মানেরও বিষয়। সেগুলোতে অভিভাবকরা হুমড়ি খেয়ে পড়েন। ১০ বছর আগেও যখন প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির মাধ্যমে পরীক্ষা নেওয়া হতো, আমরা তখন কী এক অসুস্থ প্রতিযোগিতা দেখেছিলাম। ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য শিশুর স্বাভাবিক খেলাধুলা বাদ দিয়ে বই-খাতা-কলম নিয়ে বসে থাকা আর টিউটর-কোচিং সেন্টারে দৌড়ঝাঁপ করতে হতো। এমনকি কোনো কোনো অভিভাবক অন্য প্রতিষ্ঠানে দ্বিতীয় বা তৃতীয় শ্রেণিতে উঠলেও সন্তান নামিদামি প্রতিষ্ঠানে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে সেখানে প্রথম শ্রেণিতেই ভর্তি করিয়ে দিতেন!

প্রথম শ্রেণির ভর্তিতে লটারির প্রচলন করায় অন্তত শিশুরা কিছুটা হলে স্বস্তি পেলেও তা থেকে একেবারে মুক্তি মেলেনি। কারণ দ্বিতীয় শ্রেণি থেকেই আবার সেই ভর্তি পরীক্ষা। Continue reading

Children’s creativity, our responsibility

Environment is the best school for the children

Children are the wonder of the world. Every child has potential.  Every child is important and creative. Creativity has no limit, we cannot and we should not bind it in a frame. We can nurture children’s creativity, but we cannot define them. It is hard to say, there are ten ways or five ways to make your children creative. But we can show you a way. Writing is a creative work, playing games is not out of creativity. Reading books, listening to stories, art work etc. every work is creative work for children. Even, we get the smell of creativity from the children’s words, when they talk we listen carefully. And there is magic in those words. When we meet a new child, we ask more questions to listen- not only creative answers but also sweet words.

So, how to nurture children’s creativity? There is no shortcut. As children are naturally curious and inquisitive, they need support to develop their creative capacities and reach their full creative potential. Of course the environment is the best school for the children. When you are going outside with your child she/he will ask enormous questions- what it is. Why is its size big or tiny? Why is its colour like this? Your responsibility is to respond to the proper answer. You should not stop a child asking questions. By questioning they are learning and at the same time their brain is opening and it help them in creativity also. So in my opinion, visiting new places, going outside and staying with the natural environment is important for children’s creativity. Continue reading

আমেরিকান সমাজে বিপজ্জনক বিভক্তি দেখা দিয়েছে : বারাক ওবামা

বারাক ওবামা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৪তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সদ্য সমাপ্ত মার্কিন নির্বাচনের পর প্রথম তিনি সিবিএস নিউজে এক সাক্ষাৎকার প্রদান করেন। সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেন সাংবাদিক স্কট পেলি। দীর্ঘ এ সাক্ষাৎকারের চুম্বক অংশ ভাষান্তর করেছেন মাহফুজুর রহমান মানিক

স্কট পেলি: এ মুহূর্তে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য আপনার পরামর্শ কী?

বারাক ওবামা: দেখুন, প্রেসিডেন্ট হলেন জনসেবক। নিয়ম অনুযায়ী তাদের সময় সীমিত। মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে আপনি চলে যাবেন। আপনার ব্যক্তিগত ইগো, আগ্রহ কিংবা হতাশার বাইরে গিয়ে আপনাকে দেশের স্বার্থ আগে চিন্তা করতে হবে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতি আমার পরামর্শ হলো- যদি আপনি মনে করেন, আপনার শেষ কর্ম দ্বারা মানুষ আপনাকে স্মরণ করুক, যে দেশকে সর্বাগ্রে প্রাধান্য দিয়েছে, তাহলে আপনাকে সেটাই করতে হবে।

স্কট পেলি: তার মানে আপনি বলছেন, তাকে নির্বাচনের ফল মেনে নিয়ে চলে যাওয়া উচিত?

বারাক ওবামা: হ্যাঁ, অবশ্যই। আমি তো মনে করি, তাকে নির্বাচনের পরদিন কিংবা দু’দিনের মধ্যেই তার ফল মেনে নেওয়া উচিত ছিল। আপনি যদি নিরপেক্ষভাবে সংখ্যার বিচার করেন, দেখা যাচ্ছিল জো বাইডেন সহজেই জিতে যাচ্ছেন। যেসব রাজ্যে নির্বাচনের ফল বাকি ছিল, তাতে নির্বাচনের উল্টো ফল হওয়ার মতো অবস্থা ছিল না। স্বীকার করার চেয়েও বড় বিষয়, ট্রাম্পের হোয়াইট হাউস পরবর্তী প্রশাসনের জন্য সাধারণ ফান্ড ও সুবিধাদি আরও কমিয়ে দিচ্ছে। নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট বাইডেন জাতীয় নিরাপত্তার গোপন সারসংক্ষেপ পাচ্ছেন না। অথচ ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর তা পেতেন।

স্কট পেলি: এ অবস্থায় আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী রাশিয়া, চীন কী ভাবছে বলে আপনার ধারণা।

বারাক ওবামা: দেখুন, আমি মনে করি, আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বীরা কেবল এই নির্বাচন-পরবর্তী অবস্থাই দেখছে না; বরং কয়েক বছর ধরেই আমাদের পর্যবেক্ষণ করছে। আমাদের রাজনীতিতে যে ফাটল ধরেছে, তারা হয়তো এর সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করবে। একটা প্রবাদ আছে, পানির কিনারায় থাকতেই দলীয় রাজনীতি বন্ধ করা উচিত। আর বৈদেশিক নীতির ক্ষেত্রে তো অবশ্যই। কারণ, এই আমেরিকা মানে যুক্তরাষ্ট্র, বিভক্ত রাষ্ট্র নয়। Continue reading

করোনা: প্রযুক্তিনির্ভর সাংবাদিকতার কাল

সংবাদপ্রবাহ পানির প্রবাহের মতো। একে বাঁধ দিয়ে রাখা যায় না। সকল প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিকরা থেমে থাকেনি। যার সর্বশেষ নজির কোভিড-১৯। করোনাদুর্যোগের মধ্যেও যখন পৃথিবী থমকে ছিলো তখন সংবাদমাধ্যম ছিলো সচল। এবং এটা জরুরিও ছিলো। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য মিরর-এ প্রকাশিত এক নিবন্ধে কলাম লেখক সুসি বোনিফেস লিখেছেন-১ ‘সাংবাদিকতা না থাকলে করোনায় প্রাণহানি আরও বেশি হতো। তার মতে, সাংবাদিকতা না থাকলে মজুদ চলতে পারে, এমনকি লুটও হতে পারে। পুলিশ তার নতুন ক্ষমতা নিয়ে আরও উদ্দীপনার সঙ্গে ভুল করে যেতে পারে। পত্রিকায় বা সন্ধ্যার খবরে ছবি ছাপা হবে না জেনে মানুষ আরও বেশি সমুদ্রের তীরে যাবে। ফলশ্রুতিতে আরও বেশি সংক্রমণ হবে এবং আরও বেশি মৃত্যু হবে।’ বস্তুত সংবামাধ্যম কেবল সংবাদই দেয় না বরং সমস্যার সমাধানেও ভূমিকা রাখছে। আমরা দেখেছি, বিশ্বের অন্যান্য দেশে তো বটেই বাংলাদেশেও করোনার সম্মুখযোদ্ধা যারা তাদের মধ্যে সাংবাদিকরা অন্যতম। তবে বলার অপেক্ষা রাখে না যে, বৈশ্বিক এ দুর্যোগে করোনায় সংবাদমাধ্যমের কর্মতৎপরতার পেছনে সবচেয়ে বড় নিয়ামক ভূমিকা পালন করে ইন্টারনেট ও তথ্য প্রযুক্তি। বলাবাহুল্য বর্তমান স্বাভাবিক সাংবাদিকতাই অনেকাংশে প্রযুক্তি নির্ভর। আর করোনা বাস্তবতায় সে প্রযুক্তি আরও বেশি অনিবার্য হয়ে ওঠে। প্রযুক্তির কল্যাণে করোনার পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে কীভাবে সাংবাদিকতার অভিযোজন ঘটে এবং সংবাদমাধ্যমের ভবিষ্যতই বা কী ইত্যাদি এ প্রবন্ধের প্রয়াস।

ঘরে বসে অফিস
করোনার এ সময়ে সংবাদমাধ্যমে সবচেয়ে যুগান্তকারী বদল ঘটেছে- ঘরে থেকে অফিস করা। ধারণাটি হয়তো বিশ্বে নতুন নয় কিন্তু বাংলাদেশে এর বাস্তব রূপ আমরা এ সময় দেখেছি। দুর্যোগে আবদ্ধ ঘরে থাকা মানুষের জরুরি চাহিদার মধ্যে খবর অন্যতম। ঘরে বসে থাকলেও মানুষ খবর চায়, কোথায় কী হয়েছে সেটা জানতে চায়। সংবাদমাধ্যমও দেশ-বিদেশের সংবাদ প্রদান করে তার দায়িত্ব নিরলসভাবে পালন করেছে। এ সময়ে সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের অধিকাংশই ঘরে থেকে অফিস করেছে। কেউ অফিসের নিজস্ব নেটওয়ার্ক ও সফটওয়্যারে কাজ করছেন কিংবা ই-মেইলসহ অন্যান্য যোগাযোগমাধ্যমে নির্দেশনা নিয়ে, কাজ সম্পন্ন করে পাঠিয়ে দিয়েছেন। প্রযুক্তির কল্যাণে বড় কোনো ঝামেলা ছাড়াই সুন্দরভাবে ঘরে চলেছে অফিস কার্যক্রম। Continue reading

কর্তৃত্ববাদের বিরুদ্ধে অহিংস প্রতিবাদ

যদি কর্তৃত্ববাদের আচরণ একই হয়, সেখানে প্রতিবাদের ক্ষেত্রে অভিন্ন কারণও স্পষ্ট।

লেখক: অমর্ত্য সেন

দার্শনিক এমানুয়েল কান্ট যেমনটা বলেছেন, ‘যে কোনো বিষয়ে কারও মত প্রকাশ্যে তুলে ধরার স্বাধীনতার’ মতো গুরুত্বপূর্ণ আর কী হতে পারে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, কান্ট এটাও বলেছেন, সমাজই তর্কের সুযোগ প্রায়শ বন্ধ করে দেয়। কখনও কঠোরভাবেই বন্ধ করে। আজকের বিশ্বের একটি দুঃখজনক বাস্তবতা হলো- এশিয়া, ইউরোপ, লাতিন আমেরিকা, আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ, এমনকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও কর্তৃত্ববাদী শাসনের প্রবণতা লক্ষণীয়। অপ্রিয় হলেও সত্য, এ তালিকায় আমার দেশ ভারতকেও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। ভারতও সেই দুর্ভাগ্যজনক দেশগুলোর অন্যতম।

ভারত ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন থেকে স্বাধীন হওয়ার পর কয়েক দশক ধরে ব্যক্তিস্বাধীনতাসহ অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক চর্চার মধ্য দিয়ে অগ্রসর হয়েছিল। মানুষ তাদের স্বাধীনতার প্রতি দায়বদ্ধতার পরিচয় দেয়। তারা কঠোর ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচির মাধ্যমে কর্তৃত্ববাদী শাসন ব্যবস্থার বিলোপ সাধন করে সেই স্বাধীনতার প্রতি তাদের সংকল্পও প্রদর্শন করে। উদাহরণস্বরূপ ১৯৭৭ সালের নির্বাচনের কথা বলা যায়। যে নির্বাচনে স্বৈরাচারী আইন যাকে ‘জরুরি অবস্থা’ বলে ঘোষণা করা হয়, তাকে মানুষ কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছিল। সরকার দ্রুতই তা মেনে নেয়।

যা হোক, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে স্বাধীনতা দৃশ্যত অনেকের ক্ষেত্রেই অকার্যকর হয়ে পড়েছে। তারই আলোকে বর্তমান সরকার সেখানে ভিন্ন ধরনের সমাজ গড়তে আগ্রাসী নজির হাজির করছে। সরকারবিরোধী আন্দোলন দমন করতে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে, যাকে বিস্ময়করভাবে গ্রেপ্তারের প্রয়োজনীয় উপাত্ত হাজির করে ও বিরোধী নেতাদের বন্দি করে ‘রাষ্ট্রদ্রোহ’ হিসেবে বর্ণনা করছে সরকার। এ প্রক্রিয়ার ভেতরে স্বৈরাচারী মনোভাবের বাইরেও চিন্তার গভীর সংশয় রয়েছে। কারণ সরকারের সঙ্গে দ্বিমত মানে রাষ্ট্রদ্রোহ কিংবা কাউকে উৎখাত নয় Continue reading

অনলাইনে ভর্তি পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের কথা ভাবতে হবে- অধ্যাপক ড. এ কে আজাদ চৌধুরী

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. এ কে আজাদ চৌধুরী বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও ভারতের নয়াদিল্লির সাউথ এশিয়ান ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব গভর্ন্যান্সের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল ফার্মাসি ও ফার্মাকোলজি বিভাগে দীর্ঘদিন অধ্যাপনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার ইউনিভার্সিটি থেকে ঔষধবিজ্ঞানে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনকারী এ কে আজাদ চৌধুরী ১৯৪৬ সালে ফেনী জেলায় জন্মগ্রহণ করেন
সমকাল: কয়েক বছর ধরে উচ্চশিক্ষায় সেশনজট ছিল না বললেই চলে। করোনায় নতুন করে সেশনজটের কথা শোনা যাচ্ছে। আপনার কী মনে হয়।
এ কে আজাদ চৌধুরী: হ্যাঁ, দীর্ঘদিন উচ্চশিক্ষায় সেশনজটের সমস্যা ছিল না। আমি যখন (১৯৯৬-২০০১) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ছিলাম, তখনই সেশনজটমুক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করি। এরপর ধীরে ধীরে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ও এ থেকে মুক্ত হয়। এটা সত্য যে, করোনাদুর্যোগের কারণে সেশনজটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে সেশনজট খুব বেশি হবে বলে আমি মনে করি না। কারণ ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অনলাইন শিক্ষা চালু করেছে।
সমকাল
: প্রশাসন কি চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় খুলতে পারত?
এ কে আজাদ চৌধুরী: করোনার মধ্যেও আমরা দেখেছি পোশাক শিল্পকারখানাসহ অর্থনৈতিক সবকিছুই খোলা রয়েছে। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সে সাহসিকতা প্রশাসন দেখাতে পারেনি। এর বাস্তব কারণ অস্বীকার করা যাবে না। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্য সচেতন বটে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে তো আবাসিক হলও খুলতে হবে। আমরা জানি, বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলের কোনো কোনো রুমে ১৬/১৭ জনও থাকে। সেখানে কীভাবে শারীরিক দূরত্ব থাকবে? Continue reading