ইন্টারনেট নির্ভরতার কাল

করোনার এ সময়ে সবচেয়ে যুগান্তকারী বদল ঘটেছে- ঘরে থেকে অফিস করা

সম্প্রতি জাতীয় দৈনিকে একটি সরকারি হাসপাতালের ছবি বেরিয়েছে- করোনা আক্রান্ত রোগী তার ভাইয়ের কাছ থেকে খাবার নিতে নিজেই বাইরে এসেছেন। ছবিটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও আলোচনা হয়েছে। আইসোলেশনে থাকা রোগী বাইরে আসতে পারে কি-না কিংবা তাদের জন্য বাইরের খাবার নেওয়া সিদ্ধ কি-না, সেটা ভিন্ন প্রসঙ্গ। তবে এটা সত্য যে, এসব রোগীর সেবায় যারা থাকেন অনেকেই কাছে যেতে চান না। করোনা সংক্রামক ব্যাধি বলে বিষয়টি অস্বাভাবিকও নয়। কিন্তু এর বিকল্প সমাধান বিশ্বের অন্যান্যরা দেখিয়েছে। এমনকি চীনের যে উহানে করোনাভাইরাসের উৎপত্তি সেখানেও হাসপাতালে রোগীর সেবায় নার্স বা অন্যান্য সহযোগী স্টাফের বদলে ব্যবহার করা হয়েছে রোবট। রোগীর খাবার, ওষুধ ইত্যাদি দেওয়াসহ যেকোনো কাজ অনায়াসেই রোবট করতে পারে। আমাদের দেশেও বাণিজ্যিক ভিত্তিতে রোবট তৈরির প্রতিষ্ঠান রয়েছে। যেসব হাসপাতালে করোনা আক্রান্তদের সেবা দেওয়া হচ্ছে, সেখানে রোবট সার্ভিস দিতে তাদের সঙ্গে চুক্তি করে তা করা যায়। যদিও জরুরি পিপিই কিংবা মাস্ক এমনকি করোনা চিকিৎসা নিয়েই রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। সেখানে রোবটের বিষয়টি বাতুলতা মনে হতে পারে, তবে অসম্ভব নয়।

বলাবাহুল্য স্বাভাবিক জীবন-যাপনেই আমরা ইন্টারনেট ও প্রযুক্তির ওপর অনেকখানি নির্ভরশীল। আর করোনা সংক্রমণের এ সময়ে অধিকাংশ মানুষই ঘরে থাকছেন বলে ‘ঘরে থাকা’ নিশ্চিত করাসহ বাইরের কাজ ঘরে থেকে সম্পাদন করতে ইন্টারনেট ও প্রযুক্তির ওপর আমরা অনেকেই বলা চলে পুরোপুরি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছি। Continue reading

করোনায় তারাবির নামাজ

পবিত্র রমজানে রোজা পালনের সঙ্গে মসজিদে জামাতে তারাবির নামাজ পড়ার বিষয়টি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। দেশে সাধারণত রমজানের এক মাস তারাবির নামাজে অনেক মসজিদেই পবিত্র কোরআন খতম করা হয় বলেই হয়তো এ নামাজের এত গুরুত্ব। কিন্তু এ বছর এমন সময়ে রমজান শুরু হচ্ছে, যখন করোনাভাইরাস থেকে বাঁচতে মানুষ ঘরবন্দি; যখন নিয়মিত ফরজ নামাজ মসজিদে হওয়ার ব্যাপারে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নির্দেশনা রয়েছে; যখন পরিস্থিতির নাজুকতায় বিজ্ঞ আলেমগণ ঘরেই নামাজের ব্যাপারে একমত হয়েছেন; যখন সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য প্রশাসনের তরফ থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ অবস্থায় মসজিদে তারাবির নামাজের বিষয়টা আলোচনায় এসেছে। রমজান মাসে ইবাদতের গুরুত্ব বিবেচনায় হয়তো ধর্মপ্রাণ মুসলমানের হৃদয়ের আকুতি মসজিদে তারাবি পড়া। কিন্তু পরিস্থিতি যেখানে ভয়াবহ এবং মহামারিতে জীবন-মরণের প্রশ্ন, সেখানে ইসলামের নির্দেশনা অনুযায়ী নিজেকে সুরক্ষাই অগ্রাধিকার। তারাবির প্রশ্নে এটাই বলা যুক্তিসঙ্গত যথেষ্ট যে, যেহেতু করোনা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটেনি, উল্টো করোনায় আক্রান্ত ও শনাক্ত মানুষের সংখ্যা দিন দিন ব্যাপক হারে বাড়ছে; বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা, এ অবস্থায় ঘরে থাকা জরুরি।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত জুমার নামাজসহ নিয়মিত নামাজের ব্যাপারে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের যে নির্দেশনা ছিল, তাই হয়তো বলবৎ থাকবে। Continue reading

চোখ রাঙাচ্ছে করোনা

কেবল সংবাদকর্মীই নন, এ মুহূর্তে দেশের সব সচেতন নাগরিকই বোধ করি প্রতিদিন করোনা সংক্রান্ত সরকারের প্রেস ব্রিফিংয়ের জন্য অপেক্ষা করেন। দেশে করোনা পরিস্থিতি বুঝতে এটা জরুরিও বটে। এতদিনের ব্রিফিং যা-ই হোক, রোববারের ব্রিফিংয়ে নিশ্চয়ই অনেকে নড়েচড়ে বসেছেন। একদিনে এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ ১৮ জন করোনা পজিটিভ রোগী শনাক্ত হওয়ায় অনেক হিসাব-নিকাশও নিশ্চয়ই পাল্টে যাবে। দেশে করোনা পরিস্থিতি যে খারাপের দিকে যাবে, তা অনেকেই অনুমান করেছিলেন। দেশে ৮ মার্চ প্রথম করোনা আক্রান্ত শনাক্ত হওয়ার পর আমরা দেখছি, দিন দিন বাড়ছে সংক্রমিত রোগীর সংখ্যা। রোববার ২৮তম দিনে এক লাফে এত করোনা পজিটিভ খবর আমাদের বৈশ্বিক পরিসংখ্যানের দিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে। করোনা যদি বাংলাদেশে একই রূপ ধারণ করে তাতে বলতে হবে, এখনও প্রাথমিক পর্যায়েই রয়েছি আমরা। বিশ্বের যেসব দেশে এ ভাইরাস মহামারি আকারে ছড়িয়েছে, সেখানে প্রথম মাসের লক্ষণে বোঝাই যায়নি পরবর্তী মাসে ঠিক কী অপেক্ষা করছে। সর্বাধিক করোনা আক্রান্ত রোগী যে আমেরিকায়, সেখানে প্রথম ব্যক্তি শনাক্ত হন ২০ জানুয়ারি। মার্চের প্রথম দিন পর্যন্ত সেখানে ৭৪ জন রোগী শনাক্ত হয়। এর এক মাস পর এসে প্রায় দুই লাখ রোগী আক্রান্ত হয়। এখন সেখানে তিন লাখ ছাড়িয়ে গেছে। করোনায় সর্বাধিক মৃত্যু ১৫ হাজারের বেশি যে ইতালিতে, সেখানে জানুয়ারি মাসের শেষ দিনে দু’জনের দেহে করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়। এর মাস খানেক পর শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়ায় ১১শ’ জনে। আর সেখানে ৩১ মার্চ করোনা পজিটিভ মানুষের সংখ্যা বেড়ে লক্ষাধিক হয়ে যায়। স্পেন, যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও ফ্রান্সের অবস্থাও তথৈবচ। Continue reading

করোনার দিনগুলোতে ‘শিক্ষা’​

বাচ্চাদের পড়াশোনার মূল দায়িত্বটা কিন্তু নিতে হবে মা-বাবা/অভিভাবককে

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া রোধ ও তা থেকে সুরক্ষায় ‘ঘরে থাকা’ নিশ্চিত করতে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কেবল বাংলাদেশে বন্ধ হয়নি; বরং দেড় শতাধিক দেশের অবস্থাও তথৈবচ। তবে ১৬ মার্চ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের পর ছুটি পেয়ে অনেকেই ‘বদ্ধ ঘরে’ না থেকে ‘জগৎ’ দেখার আশায় কক্সবাজারসহ নানা জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছিলেন। এমনকি অনেক শিক্ষকও এ ‘সুযোগ’ হাতছাড়া করেননি। অবশ্য প্রধানমন্ত্রীর হুঁশিয়ারির পর, প্রশাসনের তরফ থেকে ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে এ প্রবণতা কমেছে। কক্সবাজারসহ বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। আর এখন তো চলছে দেশব্যাপী ‘লকডাউন’। সংক্রামক ব্যাধি করোনা থেকে বাঁচতে কেবল ঘরে থাকাই যথেষ্ট নয় বরং আরও কিছু সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। আমরা দেখেছি, ইতোমধ্যে শিক্ষার্থীদের হাত ধোয়াসহ বেশকিছু নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। সংবাদমাধ্যম ও মোবাইলে খুদেবার্তার মাধ্যমেও সতর্ক থাকার বিষয়গুলো প্রতিনিয়ত জানছেন শিক্ষার্থী ও তার পরিবার।

সরকারের ঘোষণায় প্রথমে ৩১ মার্চ পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার কথা বলা হলেও পরে তা বাড়িয়ে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত করা হয়েছে। কিন্তু করোনা পরিস্থিতি যেদিকে যাচ্ছে, তাতে ৯ এপ্রিলের পরই প্রতিষ্ঠানগুলো খুলবে- এ সম্ভাবনা রয়েছে সামান্যই। এমনকি এপ্রিলের প্রথম দিন থেকে অনুষ্ঠিতব্য চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষা ইতোমধ্যে পেছানো হয়েছে। কথা হলো, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি যদি আরও বাড়ে তাতে শিক্ষার্থীর পড়াশোনায় বিরতি দীর্ঘ হয়ে যাবে। শিক্ষাবর্ষের এক-তৃতীয়াংশ এখনই পার হয়ে গেছে। নানা পরীক্ষার তারিখ থাকলেও পেছাচ্ছে। এ অবস্থায় তথ্যপ্রযুক্তিসহ নানা উপায়ে পড়াশোনা চালিয়ে নেওয়ার বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা চলছে দেশ-বিদেশে। Continue reading

মায়া

মেয়েটি আমার যত বড় হচ্ছে মায়া মনে হচ্ছে ততই বাড়ছে

গতকাল আমার পিতৃত্বের এক বছর পূর্ণ হলো আলহামদুলিল্লাহ। ২০১৯ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি পৃথিবীতে আসার পর থেকেই কেবল নয়, বরং তারও প্রায় নয় মাস আগ থেকে আমাদের সকল কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে মেয়েটি। সন্তান-মা-বাবাকে ঘিরে পৃথিবীর যে মায়ার জগৎ এতদিন তা কেবল সন্তান হিসেবেই দেখে আসছিলাম এখন সেটা বাবা হিসেবেও আবিষ্কারের চেষ্টা করছি।
প্রথম প্রথম মেয়েটিকে দেখতাম বিস্ময়ের সঙ্গে। নবজাতকের কান্না, হাসি, আড়মােড় ভাঙ্গার মধ্যে কতটা শিল্প, কতটা সৌন্দর্য রয়েছে মেয়ে না হলে তা দেখার সৌভাগ্য হয়তো হতো না। মেয়েটি যখন আরেকটু বড় হচ্ছে শিশুর কাজ দেখারও সুযোগ হচ্ছে, এক সেকেন্ডের জন্যও তার ফুরসত নেই; যতক্ষণ সজাগ থাকবে, ততক্ষণ ব্যস্ত। এই এটা ধরবে, ওটা ধরবে। এক হাতে না পারলে দুই হাতে, এক হাত ছাড়ালে আরেক হাতে। মেয়েটার কাজ দেখে আমরা হয়রান হই। মেয়েটি যখন কথা বলা শিখছে ওর মুখ থেকে ফুটছে- আম্মা, বাব্বা, দাদ্দা, নান্না। মুখ থেকে একটা কথা বেরুবে সেটাই বলতে থাকবে। এক নাগাড়ে, এ নিশ্বাসে, একই শব্দ সুন্দর করে, দরদ দিয়ে এভাবে কাউকে বলতে দেখিনি।
মেয়েটি যতই একটু করে বড় হচ্ছে ততই চিনছে বাবাকে। বাবা হিসেবে সেটা আমার জন্য যেমন আনন্দের তেমনি মধুর বিড়ম্বনারও। বাবাকে সবসময় সামনে থাকা চাই। মেয়েকে রেখে বাইরে বেরুবার অধিকার, অফিসে যাওযার সুযোগ নেই। আহা প্রতিদিন অফিসের জন্য বেরুতে মেয়েকে যেভাবে বাসায় রেখে আসতে হয় সেটা এক কষ্টের ব্যাপার। অফিসে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছি কিন্তু মেয়েটি কোলে এসে বসে আছে। এমনভাবে বসবে যে, তাকে ছাড়া সহজ নয়। Continue reading

শিক্ষায় বড় তিন পরিবর্তন- তিনটি ছোট প্রশ্ন

তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পরীক্ষা নেই, পঞ্চম শ্রেণিতে সমাপনী কেন

শিক্ষাব্যবস্থায় ‘ব্যাপক’ পরিবর্তন আসছে বলে আমরা সম্প্রতি সংবাদমাধ্যম থেকে জানছি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তন প্রয়োজন। তবে পরিবর্তন যেমন ইতিবাচক ফল বয়ে আনতে পারে, তেমনি নেতিবাচকও হতে পারে। পরিবর্তন যাতে ইতিবাচক হয় সেটাই কাম্য। সে প্রত্যাশায় আমাদের প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা- প্রতিটি স্তরেই যে বড় পরিবর্তন আসছে, তা নিয়ে আমি আগাম তিনটি ছোট প্রশ্ন রাখতে চাই।

তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পরীক্ষা নেই, পঞ্চম শ্রেণিতে সমাপনী কেন : শিক্ষাব্যবস্থায় যে পরিবর্তনের কথা আমরা শুনছি, এর মধ্যে সবচেয়ে যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত হবে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পরীক্ষা উঠিয়ে দেওয়া। শিশুদের সুন্দর, সুষম ও সৌহার্দ্যপূর্ণ বিকাশে এটি সত্যিই জরুরি। পরীক্ষা তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে আমরা ধন্যবাদ জানাই। ছোটবেলা থেকেই যেভাবে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার চাপে পিষ্ট, যেভাবে শিশু ও অভিভাবকের মধ্যে পরীক্ষায় ‘ভালো ফল’-এর জন্য অসুস্থ প্রতিযোগিতা চালু রয়েছে; যেভাবে শিশুরা কোচিং-প্রাইভেট টিউটরের কাছে ধর্ণা দিচ্ছে, তা থেকে নিস্কৃতি পেতে পরীক্ষা বাদ দেওয়ার কোনো বিকল্প নেই। সিঙ্গাপুর ও ফিনল্যান্ডের মতো শিশুদের পরীক্ষা উঠিয়ে দিয়ে আনন্দদায়ক পরিবেশে শিক্ষার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। এটা হয়তো ঠিক; সিঙ্গাপুর-ফিনল্যান্ডের মতো পরিবেশ-পরিস্থতি আমাদের নেই। আমরা জানি, ফিনল্যান্ডে শিশুদের ১৬ বছর পর্যন্ত কোনো পরীক্ষাই নেই। আমরা তাদেরটা পুরোপুরি না হোক, কিছু তো অনুসরণ করতে পারি। তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পরীক্ষা উঠিয়ে দেওয়া যতটা উপকারী; পঞ্চম শ্রেণির সমাপনী ততটাই অপকারী। Continue reading

বিদ্যুতের বৃক্ষপ্রাপ্তি

গাছকেই বানানো হয়েছে বিদ্যুতের খুঁটি

বিদ্যুৎ নিয়ে রং-তামাশার যেন শেষ নেই। এই তামাশায় একবার আমরা দেখেছি, বিদ্যুতের খাম্বা আছে, কিন্তু বিদ্যুৎ নেই। আবার উল্টো দেখা গেল, বিদ্যুৎ আছে, কিন্তু খাম্বা কিংবা বিদ্যুতের খুঁটি নেই। খাম্বা বা বিদ্যুতের খুঁটি ছাড়া বিদ্যুৎ থাকে কীভাবে! সে বিস্ময়ই শনিবারের সমকালে এসেছে ‘বিপজ্জনক’ হিসেবে। যেখানে বিদ্যুতের খাম্বা কিংবা খুঁটির বালাই নেই; তবে বিদ্যুৎ ঠিকই গ্রাহক পাচ্ছেন গাছের মাধ্যমে! ঝালকাঠির ‘নলছিটিতে গাছকেই বানানো হয়েছে বিদ্যুতের খুঁটি’। অভিনব বটে।

প্রাকৃতিক গাছই যদি বিদ্যুতের খুঁটি হিসেবে ব্যবহূত হয়, তাহলে নতুন করে খুঁটি নির্মাণ, আনয়ন ও স্থাপনসহ নানা ঝামেলা পোহানোরই বা দরকার কী! নলছিটিতে গাছকে বিদ্যুতের খুঁটি হিসেবে ব্যবহারের যুক্তি যদিও এটি নয়। সেখানে নিরাপদ বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইন স্থাপনের জন্য এক কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়া হয়। এ প্রকল্পের মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষও হয়েছে কিন্তু কাজ হয়েছে মাত্র ৪০ শতাংশ। স্বাভাবিকভাবেই ওই এলাকায় গাছে গাছে শোভা পাচ্ছে বিদ্যুতের তার। কিংবা গাছের সঙ্গে র‌্যাক দিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ, সুতরাং বাকি কাজ কখন হবে, কেউ জানে না।

কেতাবে অনেক কিছুই থাকে। যেমন- জীবন্ত গাছের সঙ্গে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন স্থাপন করা বিদ্যুৎ প্রবাহ আইন ও বিদ্যুৎ উনয়ন বোর্ডের নীতিমালার সম্পূর্ণ পরিপন্থি। কারণ, জীবন্ত গাছ এমনিতেই অতিমাত্রায় বিদ্যুৎ পরিবাহী। আর সেটা বর্ষায় বা কুয়াশায় যেভাবেই ভিজুক, তা আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। এতে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। সেখানে এরই মধ্যে নানা ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে বলে সমকালের প্রতিবেদনে এসেছে। Continue reading

ইফা, তুমি পথ হারাইয়াছ?

দুর্নীতির বিরুদ্ধে যখন জাতি সোচ্চার, যখন সরকারি নানা অফিসে শোভা পাচ্ছে ‘আমি এবং আমার অফিস দুর্নীতিমুক্ত’; সেখানে ইসলামিক ফাউন্ডেশন (ইফা) ও এর মহাপরিচালকের (ডিজি) নানা দুর্নীতি ও অনিয়মের খবর সংবাদমাধ্যমে এসেছে। কোনো প্রতিষ্ঠান দুর্নীতিমুক্ত ঘোষণা করলেও বাস্তবে প্রতিষ্ঠানটি কতটা দুর্নীতিমুক্ত, সেটি আমরা জানি না। তবে এটা অন্তত অনুধাবন করা যায়, দুর্নীতিমুক্ত করতে প্রতিষ্ঠানটির কর্তাব্যক্তিদের সদিচ্ছা রয়েছে। কিন্তু যেখানে গোড়ায় পচন ধরে, অর্থাৎ খোদ প্রতিষ্ঠানপ্রধান দুর্নীতিগ্রস্ত হন, অনিয়ম ও স্বেচ্চাচারিতায় বেপরোয়া হন, সেখানে গোটা প্রতিষ্ঠানই তার লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ভুলে একজনের আজ্ঞাবহ ও সেবাদাসে পরিণত হতে বাধ্য। ইসলামিক ফাউন্ডেশনে ঠিক তা-ই হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির জন্য ‘পথিক, তুমি কি পথ হারাইয়াছ?’ উক্তিই যথার্থ।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালে প্রতিষ্ঠা করেন ইসলামের সমুন্নত আদর্শ প্রচার ও প্রসারের লক্ষ্যে। এমন মহান উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত ইসলামিক ফাউন্ডেশন যখন দুর্নীতির জন্য টানা খবর হয়, তার চেয়ে দুঃখজনক বিষয় আর কী হতে পারে! রোববার সমকালের প্রতিবেদন ‘ইসলামিক ফাউন্ডেশনে জেঁকে বসেছে দুর্নীতি’ পড়ে যে কেউ অবাক হবেন; হেন কোনো প্রকল্প নেই যেসব ক্ষেত্রে দুর্নীতি হয়নি। এক টাকা, দুই টাকা নয়; প্রতিষ্ঠানটিতে অডিট করে প্রায় আটশ’ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে। প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক সামীম মোহাম্মদ আফজালের নেতৃত্বে এসব অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ। ১০ বছর ধরে তিনি প্রতিষ্ঠানটির নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। পুরো সময়টির তদন্তে দেখা গেছে নিয়োগে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি, প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ, বেশি ব্যয়, অপচয়সহ তিনি নানা অপকর্ম করেছেন। সমকালের প্রতিবেদন বলছে, নিরীক্ষায় প্রথমে ১৩২টি অনিয়ম ও ৯০০ কোটি টাকা আর্থিক ক্ষতির হিসাব পাওয়া যায়। পরে ৩৬টি অডিট আপত্তি নিষ্পত্তি হয়। ডিজি ১০০ কোটি টাকার বেশি সরকারি কোষাগারে ফেরতও দেন।

এত বড় দুর্নীতি যে কোনো প্রতিষ্ঠানের জন্যই ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার বিষয়। আর সেখানে যদি একজনই অভিযুক্ত হন, তাহলে তো কথাই নেই। তবে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের দুর্নীতিতে তোলপাড়ের কারণ কেবল প্রতিষ্ঠান হিসেবে নয়, ব্যক্তির কারণেই নয় বরং কারণটি খোদ প্রতিষ্ঠানের ধরন-ধারণের জন্যও। প্রতিষ্ঠানটির নামের সঙ্গেই রয়েছে ইসলাম। Continue reading

অধ্যক্ষ বড় বাঁচা বেঁচেছেন…

অধ্যক্ষকে পুকুরে ফেলার ঘটনায় রাস্তায় নেমেছেন রাজশাহী পলিটেকনিকের শিক্ষকবৃন্দ

রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বড় বাঁচা বেঁচেছেন। সাঁতার জানায় তিনি প্রাণে বেঁচেছেন, এটা তার সৌভাগ্য। কিন্তু এ বাঁচা তো আসলে ‘বাঁচা’ নয়। একজন শিক্ষক হিসেবে তার জন্য এর চেয়ে বড় অপমানের বিষয় আর কী হতে পারে। তারই শিক্ষার্থী দ্বারা তিনি নিগৃহীত হয়েছেন। আসলে এটি তার নয়, আমাদেরই অপমান। লজ্জায় আমাদের মাথা নুইয়ে আসে। এ সমাজ বরাবরই শিক্ষকের সম্মান বজায় রাখতে ব্যর্থ। পুলিশের হাতে শিক্ষক মার খান রাজপথে, ক্যাম্পাসে ছাত্রের হাত থেকেও নিস্তার নেই! আমরা দেখেছি, এ বছরেরই মে মাসে এইচএসসি পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনে বাধা দেওয়ায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের হাতে লাঞ্ছনার শিকার হন শহীদ বুলবুল সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক মো. মাসুদুর রহমান। এভাবে উদাহরণের শেষ নেই। রাজশাহীর ঘটনাটি এরই যেন পুনরাবৃত্তি।

রাজশাহী পলিটেকনিকের অধ্যক্ষকে যেভাবে ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী টেনেহিঁচড়ে পুকুরে ফেলেছে, তার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখে আমরা হতবাক হয়েছি। কতটা বেপরোয়া হলে অন্যায় আবদারের কাছে নতিস্বীকার না করায় একজন শিক্ষকের সঙ্গে এমন ন্যক্কারজনক আচরণ করা সম্ভব? ঘটনাটি যে কারণে ঘটেছে, তাতে আমাদের বিস্ময় আরও বেড়েছে। একজন অধ্যক্ষ প্রতিষ্ঠানের অভিভাবক। প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা রক্ষায় তিনি যে কোনো ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারেন। সঙ্গত কারণেই অধ্যক্ষ শ্রেণিকক্ষে প্রয়োজনীয় সংখ্যক উপস্থিতি না থাকায় কয়েকজন শিক্ষার্থীকে পরীক্ষার ফরম পূরণ করতে না দিয়ে তাদের অভিভাবকসহ বিভাগীয় প্রধানের সঙ্গে দেখা করতে বলেন। সংবাদমাধ্যমসূত্রে আমরা জেনেছি, ঘটনার দিন (২ নভেম্বর) সকালে তাদের মধ্যে অন্যতম কামাল হোসেন সৌরভ, যিনি মিডটার্ম পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছেন এবং শ্রেণিকক্ষেও তার প্রয়োজনীয় উপস্থিতি নেই। তবে তার পরিচয় তিনি রাজশাহী পলিটেকনিক শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক। Continue reading

ট্রাম্পের নোবেল আবদার

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নোবেল পুরস্কার নিয়ে যা বলেছেন, তাকে কেবল আবদারই বলা যায় না বরং নোবেল না পাওয়ায় তিনি একে প্রশ্নবিদ্ধও করেছেন। ট্রাম্প বলেছেন, নোবেল পুরস্কার পক্ষপাতহীন ও সুষ্ঠু হলে অনেক কিছুতেই তিনি নোবেল পেতেন। তিনি আরও বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ওবামাকে কেন নোবেল পুরস্কার দেওয়া হলো, তা তিনি নিজেও জানতেন না।

ট্রাম্প বিষয়টি কতটা সিরিয়াসলি বলেছেন, বোঝা মুশকিল। তবে ট্রাম্পের আচরণ আসলে এমনি। তিনি এমন কথা বলবেন, সেই কথায় লোকে হাসছে; অথচ তিনি কিন্তু হয়তো তার মনের কথাই বলে ফেলেছেন। ২০১৭ সালের শেষ দিকে একবার ট্রাম্প বলেছিলেন, তার আইকিউ রেক্স টিলারসন (তার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী) থেকে বেশি। এমনকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট হওয়ারও আগে ২০১৩ সালে তিনি এক টুইটে বলেছিলেন, তার আইকিউ বারাক ওবামা ও জর্জ ডব্লিউ বুশ থেকেও বেশি। আমরা জানি না, ট্রাম্পের আইকিউ বেশি কি-না। তবে কমন সেন্সের বিষয়টি বলাই বাহুল্য। অবশ্য কমন সেন্স বা কাণ্ডজ্ঞানের ব্যাপারটা ট্রাম্পের সঙ্গে কতটা যায়, সেটাই প্রশ্ন। যে বিষয়টিকে আমরা মনে করি, জনসমক্ষে বলা মানায় না, ট্রাম্প সেটা থোড়াই কেয়ার করেন। সেটাকে ট্রাম্পের স্টাইল না বলে রাজনীতি বলাই বোধহয় অধিক যুক্তিযুক্ত। Continue reading