Mahfuzur Rahman Manik
আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস ও বাংলাদেশ
ফেব্রুয়ারী 20, 2010

৮ সেপ্টেম্বর। আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস। ১৯৬৫ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো এদিনটিকে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। ১৯৬৬ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে দিনটি। নাগরিকতা এবং সামাজিক উন্নতিতে সাক্ষরতার ক্ষমতাকে প্রাধান্য দিয়ে এবারের প্রতিপাদ্য সাক্ষরতাই ক্ষমতা। সাক্ষরতা বলতে সাধারণত অক্ষর জ্ঞানসম্পন্নতাকেই বোঝায়। দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে এর পরিধি। এখন শুধু স্বাক্ষর জ্ঞান থাকলেই সাক্ষরতা বলা চলে না। বাংলাদেশের ভৌগোলিক পরিসরে সক্ষরতা শব্দের প্রথম উলেখ দেখা যায় ১৯০১ সালে লোক গণনার অফিসিয়াল ডকুমেন্টে। শুরুতে স্ব অক্ষরের সঙ্গে অর্থাৎ নিজের নাম লিখতে যে কয়টি বর্ণমালা প্রয়োজন তা জানলেই তাকে সাক্ষর বলা হতো। ১৯৪০-এর দিকে পড়ালেখার দক্ষতাকে সাক্ষরতা বলে অভিহিত করা হতো। ষাটের দশকে পড়া ও লেখার দক্ষতার সঙ্গে সঙ্গে সহজ হিসাব-নিকাশের যোগ্যতাসম্পন্ন মানুষ সাক্ষর মানুষ হিসেবে পরিগণিত হতো। আশির দশকে লেখাপড়া ও হিসাব-নিকাশের পাশাপাশি সচেতনতা ও দৃশ্যমান বস্তুসামগ্রী পঠনের ক্ষমতা সাক্ষরতার দক্ষতা হিসেবে স্বীকৃত হয়। বর্তমানে এ সাক্ষরতার সঙ্গে যোগাযোগের দক্ষতা, ক্ষমতায়নের দক্ষতা, জীবন নির্বাহী দক্ষতা, প্রতিরক্ষায় দক্ষতা এবং সাংগঠনিক দক্ষতাও সংযোজিত হয়েছে। বাংলাদেশের বর্তমান সাক্ষরতার হার ৬২.৬৬ ভাগ। এ হিসাব বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রদত্ত। উইকোপিডিয়া এবং ইউনেস্কোর তথ্য মতে, বাংলাদেশের বর্তমান সাক্ষরতার হার ৪৭.৫০ ভাগ। বিশ্বে র�্যাংকিং-এ এর অবস্থান ১৬৪ তম। প্রথমে রয়েছে জর্জিয়া। সাক্ষরতার হার ১০০ ভাগ। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে যৌথভাবে কিউবা, ইস্টোনিয়া এবং পোল্যান্ড। এদের সাক্ষরতার হার ৯৯·৮০ ভাগ। ৯৯.৭০ ভাগ সাক্ষরতা নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে বারবাডোস। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ১৮তে। সাক্ষরতার হার ৯৯ ভাগ। প্রতিবেশী দেশ ভারত ও পাকিস্তানের অবস্থান যথাক্রমে ১৪৭ ও ১৬০-এ। সাক্ষরতার হার ৬১.০০ ও ৪৯.০০ ভাগ। সাক্ষরতায় সর্বনিম্নে অবস্থানকারী দেশ বারকিনো ফ্যাসো। ১৭৭-এ অবস্থানকৃত এ দেশটির সাক্ষরতার হার ২৩.৬০ ভাগ। ১৭৬ স্থানে রয়েছে মালি। সাক্ষরতার হার ২৪.০০ ভাগ। এ বছর সাক্ষরতার বিশেষ অবদানের জন্য পুরস্কার পাচ্ছে ৪টি দেশ। এগুলো হলো আফগানিস্তান, বারকিনো ফ্যাসো, ভারত এবং ফিলিপাইন। বাংলাদেশের সাক্ষরতা সরকারি হিসেব মত ধরলেও এখন ও প্রায় ৪০ ভাগ মানুষ নিরক্ষর । অথচ ২০১৫ সালের মধ্যে দারিদ্র্য বিমোচন ও নিরক্ষরতা দূরীকরনে দীর্ঘমেয়াদী পিআরএসপি কৌশলপত্র বাস্তআয়নে প্রতিজ্ঞ বাংলাদেশ । অন্যদিকে ২০২১ সালের মধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে এসেছে এ সরকার। এ লক্ষে ২০১৫ সালের মধ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এনরোল মেন্ট ১০০ ভাগ পূরনের সিদ্ধান্�ক নিয়েছে সরকা । হাতে সময় ৫ বছর এর মধ্যে নিরক্ষরতা মুক্ত বাংলাদেশ গড়া কতটা সম্ভব তাই দেকার বিষয় । নিরক্ষরতামুক্ত বাংলাদেশ গড়ার আন্দোলন আমাদেও দেশে অনেক আগ থেকেএ শুরু হয়েছে । ফল আমরা সেভাবে পাইনি । এর অন্যতম কারন ঝরে পড়া। সাক্ষরতা একটি দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার সঙ্গে সাক্ষরতার আর সাক্ষরতার সঙ্গে উন্নয়নের সম্পর্ক ওতপ্রোতভাবে জড়িত। যে দেশের সাক্ষরতার হার যত বেশি সে দেশ তত উন্নত। সাক্ষর জাতি সচেতন জাতি। শি ক্ষসাধারণত তিনটি উপায়ে অর্জিত হয়।। আনুষ্ঠানিক, উপানুষ্ঠানিক এবং অনানুষ্ঠানিক। যারা আনুষ্ঠানিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত বা যারা আনুষ্ঠানিক শি ক্ষা পায়নি তাদের সাক্ষরতার জন্য উপানুষ্ঠানিকভাবে শি ক্ষা দেয়া হয়। বাংলাদেশে সরকারি প্রচেষ্টার বাইরে বিভিন্ন এনজিও সংস্থা সাক্ষরতা বৃদ্ধির জন্য কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশের হারকে বৃদ্ধি করতে এগিয়ে আসতে হবে সবাইকে। সবাই সাক্ষও হলেই পূরন হবে ডিজিটাল বাংআদেশের স্বপ্ন । আসুন আমরা সচেতন হই।

Published at jaijaidin in 8 september2009

ট্যাগঃ

One comment on “আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস ও বাংলাদেশ”

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।