Mahfuzur Rahman Manik
তদন্তের সুপারিশ আমলে না নিলে কোনো দুর্ঘটনাই প্রতিরোধ সম্ভব নয়-সৈয়দা সুলতানা রাজিয়া
ফেব্রুয়ারি 9, 2026

সাক্ষাৎকার: অধ্যাপক ড. সৈয়দা সুলতানা রাজিয়া

ড. সৈয়দা সুলতানা রাজিয়া বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ও বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) সদস্য। তিনি ২০২৩ সালে রাসায়নিক সুরক্ষায় অবদান রাখার জন্য ওপিসিডব্লিউ-দ্য হেগ পুরস্কার লাভ করেন। ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত আন্তর্জাতিক রাসায়নিক অস্ত্র নিরস্ত্রীকরণ সংস্থার বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা বোর্ডের সদস্য ছিলেন। কেমিকৌশল বিষয়ে তিনি কানাডার ইউনিভার্সিটি অব আলবার্টা থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সমকালের জ্যেষ্ঠ সহসম্পাদক মাহফুজুর রহমান মানিক

সমকাল: সম্প্রতি রাজধানীর মিরপুরে রাসায়নিক গুদাম থেকে আগুনের সূত্রপাত, যেখানে ১৬ জনের প্রাণহানি ঘটল। সেপ্টেম্বরে গাজীপুরে একই ধরনের অগ্নিকাণ্ডে মানুষ হতাহত হয়েছে। রাসায়নিক গুদাম ছাড়াও ঝুট গুদাম, পোশাক কারখানা, এমনকি বিমানবন্দরে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড ঘটেছ। এত ঘন ঘন অগ্নিকাণ্ডের পেছনে কী কারণ থাকতে পারে? 

সৈয়দা সুলতানা রাজিয়া: ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী ঢাকা শহরে প্রতিদিন ১০টি এবং সারাদেশে ৭৩টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। আমাদের দেশে সাধারণভাবে অগ্নি প্রতিরোধ ও নির্বাপণ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে এ অগ্নিকাণ্ড যে কোনো সময় বড় আকার ধারণ করতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে  বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ঘটে যাওয়া অগ্নিকাণ্ডের কথা যদি বলি, সেখানকার আমদানি কার্গোর গুদামের পাশে কুরিয়ার সেকশন থেকে আগুন শুরু হয়েছিল এবং পরে কাছাকাছি গুদামে ছড়িয়ে পড়ে। বড় দুর্ঘটনার আগে সাধারণত ছোট ছোট দুর্ঘটনা ঘটে, যা আসন্ন বড় দুর্ঘটনার সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করে। যেমন বিমানবন্দরের কুরিয়ার সেকশনে আগেও আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে, যা অল্পতে সামাল দেওয়া গেছে। কিন্তু সেই ঘটনাকে সতর্কবার্তা হিসেবে গ্রহণ করে গুদামের সামগ্রিক অগ্নি প্রতিরোধ ও নির্বাপণ ব্যবস্থা বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। ফলে আমরা বড় দুর্ঘটনার সম্মুখীন হলাম।  

সমকাল: বিমানবন্দর একটা ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত কেপিআই বা অতি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। সেখানে আগুন নেভাতে এত সময় লাগল কেন?

সৈয়দা সুলতানা রাজিয়া: বিমানবন্দর সরকারের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। সেখানে কার্গো গুদামে সর্বোচ্চ সেফটি ও সিকিউরিটি ব্যবস্থা গ্রহণ করে নিজস্ব ফায়ার ফাইটিং সিস্টেমসহ অগ্নিনিরোধের  সব রকমের ব্যবস্থা থাকা জরুরি। অগ্নিনিরাপত্তার মূলনীতি হচ্ছে কম্পার্টমেন্টালাইজেশন, অর্থাৎ এলাকাটাকে বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত করা– যাতে আগুন এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ছড়িয়ে যেতে না পারে। এ ছাড়া স্বয়ংক্রিয় অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, বাধাহীন বহির্গমন এবং জরুরি ব্যবস্থাপনার জন্য দক্ষ দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি– এসব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, অপরিহার্য। আগুন লাগার পর আমরা দেখলাম, বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপনা এমন যে লোহার ব্যারিয়ার ও তালা-চাবি দিয়ে মালপত্র যাতে চুরি না হয় সে ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু আগুন লাগলে তা থামানো কিংবা আগুন এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেন ছড়িয়ে যেতে না পারে সে ব্যবস্থা নেই।  নিজস্ব অগ্নিনিরোধ ব্যবস্থা অত্যন্ত  দুর্বল। জরুরি ব্যবস্থাপনার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি অপ্রস্তুত এবং অসহায় অবস্থায় দৌড়াদৌড়ি করছেন। ফায়ার সার্ভিসকর্মীরা বিভিন্ন প্রতিবন্ধকের কারণে স্বাচ্ছন্দ্যে উপদ্রুত এলাকায় প্রবেশ করতে পারেননি। অর্থাৎ অগ্নি নিরাপত্তার ন্যূনতম স্ট্যান্ডার্ড বা মান সেখানে রক্ষা করা হয়নি। 

সমকাল: অনেকে বিমানবন্দরের অগ্নিকাণ্ড নাশকতা কিনা– সে প্রশ্ন তুলেছেন। এ বিষয়ে আপনার মন্তব্য কী?  

সৈয়দা সুলতানা রাজিয়া: বিষয়টা আসলে তদন্ত ছাড়া বলা সম্ভব নয়। কিন্তু আমি বলতে চাই, নাশকতা কিংবা দুর্ঘটনা উভয় ক্ষেত্রেই অগ্নিকাণ্ডের জন্য জরুরি ব্যবস্থাপনা একই। যেভাবেই আগুন লাগুক না কেন, প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের যথাযথ ব্যবস্থা অবশ্যই কেপিআই স্থাপনাগুলোতে থাকতে হবে। 

সমকাল: রাসায়নিক দ্রব্যের আলোচনায় আসি। আমাদের কোথায় কোন ধরনের রাসায়নিক পদার্থ রয়েছে, সে তথ্য কি কর্তৃপক্ষের কাছে আছে? তা ছাড়া তো এ সংক্রান্ত অগ্নিকাণ্ডের প্রতিকার কিংবা প্রতিরোধ কোনোটাই সম্ভব নয়।

সৈয়দা সুলতানা রাজিয়া: এ বছরের সেপ্টেম্বরে টঙ্গীতে বিসিক শিল্পনগরীর একটি টিনশেডের কেমিক্যাল গুদামে আগুন লেগে তিনজন ফায়ার সার্ভিসকর্মীসহ চারজনের প্রাণহানি ঘটে। এই টিনশেড কেমিক্যাল গুদামের বৈধ লাইসেন্স নেই। গত মাসে মিরপুরের একটি কেমিক্যাল গুদাম থেকে আগুনের সূত্রপাত। সেখান থেকে পার্শ্ববর্তী গার্মেন্টসে অগ্নিকাণ্ডে ১৬ জন নিহত হয়েছেন। এ গুদামের মালিক ১৫ বছর ধরে শিয়ালবাড়ি আবাসিক এলাকায় অবৈধভাবে রাসায়নিক ব্যবসা করছেন। এই উভয় অগ্নিকাণ্ডের ক্ষেত্রে আমরা দেখেছি লাইসেন্স ছাড়াই ব্যবসা চলছে। ফলে তাদের কোথায় কোন ধরনের রাসায়নিক পদার্থ আছে, সে তথ্য কোনো কর্তৃপক্ষের কাছে থাকার কথা নয়। ২০১৭ সালের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, পুরান ঢাকার ২৫ হাজার রাসায়নিক গুদামের মধ্যে ২২ হাজারই অবৈধ। এটি আমাদের দেশে বিদ্যমান অবৈধ কেমিক্যাল ব্যবসার ব্যাপকতার একটি ধারণা দেয়।  

সমকাল: রাসায়নিক কারখানার অধিকাংশই লাইসেন্সবিহীন কেন?

সৈয়দা সুলতানা রাজিয়া: যে কোনো রাসায়নিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে বৈধভাবে ব্যবসা শুরু করতে ১৫ থেকে ২২টি সংস্থার লাইসেন্স নিতে হয়।  যেমন পুরান ঢাকার সব রাসায়নিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন থেকে তাদের ট্রেড লাইসেন্স নিতে হবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে আমদানি নিবন্ধনপত্র এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড থেকে টিন নাম্বার নিতে হবে। ফায়ার সার্ভিস, কলকারখানা ও  প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং বিস্ফোরকের ছাড়পত্রও প্রয়োজন। নতুন ভবনের ক্ষেত্রে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন লাগবে। এ ছাড়া কেমিক্যাল প্রকারভেদে নানাবিধ লাইসেন্সের প্রয়োজন হতে পারে। একেকটি লাইসেন্স পেতে ছয় মাস থেকে এক বছর লেগে যায়। প্রতিটি ক্ষেত্রে অনেক নথি, কাগজপত্র জমা দিতে হয়। অন্যদিকে অবৈধভাবে ব্যবসা করতে অল্প কিছু মানুষকে খুশি রাখলেই যথেষ্ট। ১৫-২০ বছরে হয়তো ধরা নাও পড়তে পারে। দুঃখজনক হলেও সত্যি, আমরা এ দেশে বৈধভাবে ব্যবসাকে কঠিন করে অবৈধ ব্যবসাকে সহজ করেছি। ফলে অবৈধ ব্যবসা ব্যাপকতা লাভ করেছে।     

সমকাল: যারা পরিদর্শন করছেন অর্থাৎ এসব নিয়ন্ত্রক সংস্থা কতটা কী করছে? অবৈধ ব্যবসা ধরার কি কেউ নেই? 

সৈয়দা সুলতানা রাজিয়া: বৈধ ব্যবসার ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর অনেকেই লাইসেন্স প্রদানের আগে গুদাম বা কারখানা পরিদর্শন করেন। তাদের নিয়মিত পরিদর্শনের বিধান থাকলেও জনবলের সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক সময় তা সম্ভব হয় না। ফলে অনেকে ব্যবসার শুরুতে একভাবে  লাইসেন্স নেন; পরে তা পরিবর্তন করে ফেললেও কর্তৃপক্ষের অগোচরে থেকে যায়। যদি কখনও কোনো অনিয়ম নিয়ন্ত্রক সংস্থার গোচরে আসে, তারপরও শাস্তি দেওয়া কঠিন হয়। কারণ নিয়ন্ত্রক সংস্থার হাতেও খুব বেশি ক্ষমতা নেই। যেমন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর অনিয়মের কারণে চিঠি দিতে পারে। অনেক সময় চাইলে ব্যবসা বন্ধ করার নোটিশ দিতে পারে, কিন্তু কোনো ব্যবসা কার্যকরভাবে বন্ধ করার জন্য শ্রম আদালতে মামলা করতে হয়। সেই মামলা ছয়-সাত বছর পর্যন্ত চলতে থাকে। 

সমকাল: অভিযান তো চালাতে পারে?

সৈয়দা সুলতানা রাজিয়া: নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর  অবৈধ ব্যবসায়ীদের ধরার জন্য সরাসরি অভিযান চালানোর কোনো আইনগত ক্ষমতা নেই। তবে ডিসি অফিস বা স্থানীয় সরকারের সহায়তায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের লক্ষ্যে মাঝে মাঝে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোসহ যৌথ অভিযান চালিয়ে থাকে।  বিশেষ করে বড় দুর্ঘটনা ঘটলে এ ধরনের অভিযান দেখা যায়। লাইসেন্স ছাড়া যেন কেউ কেমিক্যালের ব্যবসা করতে না পারে, সেটা নিশ্চিত করতে অভিযানগুলো নিয়মিত এবং কার্যকর হওয়া জরুরি। তবে লাইসেন্স দেওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করতে না পারলে অবৈধ ব্যবসা বন্ধ করা যাবে না। ব্যবসায়ীরা অনেক দিন ধরে লাইসেন্সের জন্য ওয়ান স্টপ সার্ভিসের দাবি জানিয়ে এসেছেন। বর্তমানে চারটি অথরিটির অধীনে ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু আছে, যা দ্রুত সর্বজনীন ও কার্যকর করা জরুরি।   

সমকাল: এ দেশে কী ধরনের রাসায়নিক দ্রব্যের ব্যবহার হয়, সে বিষয়ে একটু ধারণা দিতে পারেন?

সৈয়দা সুলতানা রাজিয়া: পোশাকশিল্পে ডাইংয়ে বিভিন্ন রকম কেমিক্যাল, পাশাপাশি প্যাকেজিংয়েও কেমিক্যাল ব্যবহৃত হয়। ট্যানারিতে চামড়া প্রক্রিয়াকরণে কেমিক্যাল প্রয়োজন হয়। পেইন্টের জন্য বিভিন্ন ধরনের দাহ্য ও অদাহ্য কেমিক্যাল লাগে। ফার্মাসিউটিক্যালস, প্লাস্টিকসহ প্রায় সব ধরনের শিল্পেই কেমিক্যাল ব্যবহৃত হয়। এ ছাড়া পেট্রোলিয়ামজাত পদার্থ, সার, কীটনাশক, প্রসাধনী ইত্যাদি রয়েছে। পুরান ঢাকায় আবাসিক ভবনে নকল পারফিউম পণ্যের জন্য অনেক গুদাম ঘর এবং রিফিলিং ফ্যাসিলিটি রয়েছে। এ ধরনের স্থাপনায় পারফিউমে ব্যবহৃত দাহ্য কেমিক্যাল লিকেজ হয়ে যে কোনো সময় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটতে পারে, যেমনটি ঘটেছিল ২০১৯ সালে ঢাকার চকবাজারের চুড়িহাট্টার ওয়াহিদ ম্যানশনে।

সমকাল: প্রতিটি দুর্ঘটনা ঘটার পরই তো তদন্ত কমিটি হয়; তারা প্রতিবেদনও দেয়। কিন্তু সেসব সুপারিশ কি বাস্তবায়িত হয়? 

সৈয়দা সুলতানা রাজিয়া: আমরা দেখেছি, একেকটি দুর্ঘটনার পর বিভিন্ন সংস্থার অধীনে চার-পাঁচটি তদন্ত কমিটিও গঠিত হয়েছে। যা দুঃখজনক, তদন্ত কমিটির সুপারিশ কখনও জনগণকে জানানো হয় না। সেগুলোর কোনো ফলোআপও দেখি না। জনগণের তথ্য জানার অধিকার এ ক্ষেত্রে পুরোপুরি অগ্রাহ্য করা হয়েছে। 
২০১৯ সালে চুড়িহাট্টার ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর প্রধান সুপারিশ ছিল– পুরান ঢাকার আবাসিক এলাকা থেকে সব রাসায়নিক গুদাম সরিয়ে ফেলতে হবে। তখন বিকল্প হিসেবে অস্থায়ী ও স্থায়ী গুদামের জন্য স্থান নির্ধারণ করা হয়। অস্থায়ী গুদামের জন্য বিসিআইসির অধীনে শ্যামপুরে স্টোরেজ তৈরি করা হয়।  শ্যামপুরের স্টোরেজের ডিজাইন কেমিক্যাল স্টোরেজের চাইতে সারের গুদামের জন্য অধিক প্রযোজ্য। দেখা গেছে, শ্যামপুরের গুদামগুলি নির্মাণের পরও অব্যবহৃত রয়েছে। ব্যবসায়ীরা উচ্চ ভাড়া এবং অন্যান্য সমস্যার বিষয়ে অভিযোগ করেছেন; আবার যেসব ব্যবসায়ী সত্যিকারের দাবিদার, তাদের বাদ দিয়ে অন্যরা বরাদ্দ পাচ্ছে– এ ধরনের অভিযোগও শোনা গেছে। বিসিকের অধীনে সিরাজদীখানে স্থায়ী স্টোরেজের কথা বলা হয়েছে। স্থায়ী স্টোরেজের কাজ এখনও সম্পন্ন হয়নি। ফলে গুদাম সরানোর সুপারিশ কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়নি, বলা যায়। সাংবাদিকরা এ ব্যাপারে বিস্তারিত অনুসন্ধান করতে পারেন। 

সমকাল: রাসায়নিক সংরক্ষণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশে কোনো স্ট্যান্ডার্ড আছে কিনা? 

সৈয়দা সুলতানা রাজিয়া: আমাদের ওয়্যারহাউস বা গুদামজাতকরণের যথাযথ গাইডলাইন নেই। বিএনবিসি বা জাতীয় বিল্ডিং কোডে ‘হ্যাজার্ডাস ম্যাটেরিয়ালস’ বিল্ডিংয়ের ভেতরে সংরক্ষণের জন্য কিছু গাইডলাইন আছে। কিন্তু সেটা নিশ্চিত করার জন্য কোনো কর্তৃপক্ষ নেই। রাজউক এবং ফায়ার সার্ভিস তাদের নিজস্ব প্রটোকল অনুসরণ করে।    

সমকাল: রাসায়নিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আপনি নিজে একাধিক তদন্তে যুক্ত ছিলেন। নিশ্চয়ই এ ধরনের সুপারিশ করেছেন?  

সৈয়দা সুলতানা রাজিয়া: তদন্তের সময় যে বিষয়টি বারবার উঠে এসেছে তা হচ্ছে, বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক সংস্থার কেমিক্যাল ব্যবস্থাপনা ও সুরক্ষার ক্ষেত্রে আংশিক ক্ষমতা রয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তর বর্জ্য ও কেমিক্যাল ডিভিশনের অধীনে ‘কেমিক্যাল সাবস্টেনসেস (ম্যানেজমেন্ট) রুলস’ তৈরি করা হয়েছে, যা মূলত বর্জ্য ও পরিবেশের সঙ্গে সম্পর্কিত। সামগ্রিকভাবে বিপজ্জনক রাসায়নিক পদার্থের আমদানি, পরিবহন, প্রক্রিয়াকরণ এবং সংরক্ষণ তত্ত্বাবধান করার জন্য কোনো একক সংস্থা নেই। ফলে দুর্ঘটনা ঘটলে কেউই তার দায় নিতে চায় না। বিভিন্ন দেশে পৃথক রাসায়নিক ব্যবস্থাপনা অথরিটি রয়েছে। আমাদের দেশে জাতীয় রাসায়নিক সমন্বয় কমিটি গঠন করে আমরা কাজ শুরু করতে পারি, যা শিল্প মন্ত্রণালয় অথবা কেবিনেট মিনিস্ট্রির অধীনে হতে পারে। কমিটি কেমিক্যাল অ্যাক্ট, কেমিক্যাল রেজিস্ট্রেশন, কেমিক্যাল ম্যানেজমেন্ট গাইডলাইন ইত্যাদি তৈরি, বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক সংস্থার মাঝে সমন্বয় সাধন ও কেমিক্যাল ব্যবসা সহজীকরণে ভূমিকা রাখবে। 

সমকাল: রাসায়নিকের আগুন থেকে সুরক্ষার ক্ষেত্রে নাগরিক সচেতনতা কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন?

সৈয়দা সুলতানা রাজিয়া: রাসায়নিকের আগুন থেকে সুরক্ষার ক্ষেত্রে নাগরিক সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি। অবৈধ ব্যবসা শুধু সরকারের রাজস্বের ক্ষতি করছে না, বরং আইন অমান্যের কারণে জনগণের জানমালের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেমিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনসহ অন্য ব্যবসায়িক সমিতিগুলো এ ক্ষেত্রে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারে। দেশের বেশির ভাগ মানুষ আইন মেনে ব্যবসা করলে কর্তৃপক্ষের কাজের চাপ কমে আসবে; কেমিক্যাল ম্যানেজমেন্ট সহজ হবে এবং জনগণ, সম্পদ ও পরিবেশ সুরক্ষিত থাকবে।  

সমকাল: সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

সৈয়দা সুলতানা রাজিয়া: আপনাকেও ধন্যবাদ।

সমকালে প্রকাশ, ১ নভেম্বর ২০২৫–তদন্তের সুপারিশ আমলে না নিলে কোনো দুর্ঘটনাই প্রতিরোধ সম্ভব নয়

ট্যাগঃ , ,

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।