Mahfuzur Rahman Manik
রোহিঙ্গা: ক্লিয়ারেন্স অপারেশন!
সেপ্টেম্বর 14, 2017

মূল: ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ

রোহিঙ্গা মুলমানদের কান্নায় আকাশ ভারী

মিয়ানমারের রাখাইন পুলিশ পোস্টে ২৫ আগস্ট জঙ্গিগোষ্ঠী হারাকাহ আল ইয়াকিন হামলা চালায়। হামলার পেছনে রয়েছে আরাকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মি (এআরএসএ)। এআরএসএ'কে ইতিমধ্যেই মিয়ানমার সরকার সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে। সরকার বলছে, হামলাকারীরা হাতবোমা, চাপাতি ও অস্ত্রে সজ্জিত ছিল। তারা দশ পুলিশ অফিসার, একজন সৈন্য ও একজন অভিবাসী কর্মকর্তাকে হত্যা করে। হামলার পর সেখানে দমন অভিযানে নামে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। এ অভিযানকে বলা হচ্ছে 'ক্লিয়ারেন্স অপারেশন'। রাখাইন এলাকাজুড়ে চলছে এ অভিযান। রোহিঙ্গাদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। কোথাও কোথাও রোহিঙ্গাদের সঙ্গে সংঘর্ষ হচ্ছে। অভিযানকৃত এলাকা থেকে রোহিঙ্গা ও বৌদ্ধ উভয় সম্প্রদায়ের মানুষই নিরাপদ স্থানে যাওয়ার জন্য পালাচ্ছে। রোহিঙ্গারা পার্শ্ববর্তী বাংলাদেশে আশ্রয় নিচ্ছে। এভাবে সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে। রাখাইন রাজ্যকে গভীর খাত থেকে উত্তরণ ও রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে সরকারকে দ্রুত দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
উত্তর রাখাইনে দিনের পর দিন উত্তেজনা বেড়েই চলেছে। ২০১৬ সালের অক্টোবরে জঙ্গিগোষ্ঠী প্রথম তিনটি পুলিশ পোস্দ্বে আত্রক্রমণ করে। পরবর্তীকালে রাখাইন রাজ্যে সেনা অভিযানে ব্যাপকহারে নির্যাতন, হত্যা এবং ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। ৮৭ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা দেশত্যাগ করতে বাধ্য হয়। এ বছরের প্রথম দিকে ফেব্রুয়ারি মাসে ব্যাপকহারে তারা প্রতিবেশী বাংলাদেশে আসে। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সে সময়ের রোহিঙ্গাবিরোধী অপরাধ জাতিসংঘ অনুসল্পব্দান কমিটি মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে চিহিক্রত করে। যদিও মিয়ানমারের একটি তদন্স্ন কমিটি সে অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে।
এমনকি নিউইয়র্কভিত্তিক মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন 'হিউম্যান রাইটস ওয়াচ' জানিয়েছে, প্রায় ৩০ হাজার মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়েছে। পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে রোহিঙ্গাদের বহু গ্রাম। তাতে মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ওপর 'জাতিগত নিধন' চালাচ্ছে বলেও জানিয়েছে জাতিসংঘ।
মিয়ানমারের এ সংকটে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান সূত্র আমাদের জানা। যদিও কিছুটা চ্যালেঞ্জিং। এর বিস্টস্নারিত রয়েছে কফি আনান নেতৃত্ম্বাধীন কমিশনের প্রতিবেদনে। যেটি ২৩ আগস্দ্ব প্রকাশ পায়। সরকার অবশ্য প্রতিবেদনকে স্ট্বাগত জানিয়েছে। যেখানে রোহিঙ্গাদের স্ট্বাধীন জীবনযাপনের অধিকার, চাকরিতে সুযোগ, রাজনীতিতে অংশগ্রহণ ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিতকরণের কথা বলা হয়েছে। এসব সুপারিশ বাস্টস্নবায়নে সাম্ঙ্রতিক হামলা জটিলতা সৃষ্দ্বি করেছে বটে; তবে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে আসলে কফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্টস্নবায়নের বিকল্কপ্প নেই।
বর্তমান সংকট অনুমেয় ছিল না, এটি অপ্রতিরোধ্যও নয়। ২০১২ সালে সংঘটিত মুসলিমবিরোধী সহিংসতায় সেখানে সশস্ট্প গোষ্ঠীর উদ্ভব ও গত বছরে তাদের তৎপরতায় এ ইঙ্গিতই স্ঙ্ষ্দ্ব যে, রাখাইনে কেবল নিরাপত্তার বিষয়টি দেখলেই হবে না বরং সংকট নিরসনে সেখানকার সব গোষ্ঠীর মধ্যে রাজনৈতিক সমঝোতা দরকার। ইতিমধ্যেই মিয়ানমার সরকার তার সীমা অতিত্রক্রম করেছে, সেখানে রোহিঙ্গাদের ওপর সহিংসতা চালিয়েছে, রোহিঙ্গাদের সঙ্গে বৈষম্য করেছে ও তাদের জাতিগত নিধনের চেষ্দ্বা করেছে। এগুলো পরিস্ট্থিতিকে আরও ঘোলাটে করেছে।
২০১৫ সালের নির্বাচনের পূর্বে তাদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়। নাগরিকত্ম্ব লাভের সব সনদ থেকে বঞ্চিত রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের সব ধরনের সামাজিক ও রাজনৈতিক অধিকার হারায়। এরপরই ২০১২ সালে সহিংসতা সর্বোপরি গত বছরের সেনাবাহিনীর বর্বরতম নির্যাতন, হত্যা ও শত শত ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া ইত্যাদি এআরএসএ'র উত্থানে সুযোগ পায়।
বর্তমান সংকট ও পূর্বে সংঘটিত সহিংসতার ঘটনাবলি থেকে মিয়ানমার সরকারকে বুঝতে হবে, ত্রক্রাইসিস গ্রুপ বরাবরই বিষয়টি বলে আসছে যে, আত্রক্রমণাত্ম্মক সামরিক হামলা পরিস্ট্থিতি আরও খারাপ করবে। এতে জঙ্গিগোষ্ঠী আরও আশকারা পাবে। সমস্যার গোড়ায় গিয়ে সমাধান না করলে সংকট আরও বাড়বে। আর এর প্রভাব কেবল রাখাইন রাজ্যের ওপরই পড়বে না, গোটা মিয়ানমারের ওপর পড়তে বাধ্য। যেখানে মুসলিমবিরোধী জনমত ও বৌদ্ব্দ জাতীয়তাবাদ বাড়ছে, সেখানে জাতিগত সর্ম্ঙ্ক ভঙ্গুর হচ্ছে। সরকারের আরও অনেক গুরুত্ম্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে, বিশেষত সব সশস্ট্প গ্রুপের মধ্যে শান্স্নি স্ট্থাপন প্রয়োজন। এর মাধ্যমেই মিয়ানমারে শান্স্নি ও সমৃদ্ব্দি আসতে পারে। রাখাইনের গভীর সংকটই এখন মিয়ানমারের প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। কারণ এটি অভ্যন্স্নরীণ বিতর্ক ও আন্স্নর্জাতিক মনোযোগের কেন্দ্র হয়ে উঠছে।

 

 

ট্যাগঃ , , ,

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।