আফগান হাসপাতালে হামলা ও পাঁচ প্রশ্ন

Kunduz-hospital-bomb
অ্যামি ডেভিডসন
আফগানিস্তানের উত্তরাঞ্চলীয় প্রাদেশিক রাজধানী কুন্দুজে শনিবার রাত ২টায় স্বেচ্ছাসেবী চিকিৎসা সংস্থা মেডিসিন স্যান্স ফ্রন্টিয়ার (এমএসএফ) পরিচালিত একটি হাসপাতালে মার্কিন বাহিনী বিমান হামলা শুরু করে। হাসপাতালের ডাক্তার ও নার্সদের তরফে জানা যাচ্ছে, এই বিমান হামলা এক ঘণ্টার বেশি সময় অব্যাহত ছিল। গোটা সময় ধরে হাসপাতালটি আগুনে পোড়ার চিত্র দেখা গেছে বিভিন্ন ছবি ও ভিডিওতে। এমএসএফের বিবৃতিতে দেখা যাচ্ছে, একজন নার্স বলছেন, আমরা জ্বলন্ত হাসপাতালটির স্থাপনা দেখছি। সেখানে ছয়জন রোগী তাদের বিছানায় জ্বলছিল। সেখানে নূ্যনতম ২২ জন মানুষ, ১০ জন রোগী ও এক ডজন এমএসএফ কর্মী মারা যায়। মৃতদের মধ্যে তিনটি শিশুও ছিল। আহত তিন ডজন মানুষের মধ্যে শিশু রয়েছে। রয়েছে এমএসএফ স্টাফ। যাদের সেবার জন্য অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। এমএসএফের মতে, সংখ্যাটি আরও বাড়তে পারে।
হাসপাতালটি বন্ধ হয়ে গেছে। বলা চলে এটি শেষ হয়ে গেছে। তবে রেখে গেছে পাঁচটি প্রশ্ন।
এক. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হাসপাতালে হামলা করল কেন?পেন্টাগনের বিবৃতি হলো_ এই বিমান হামলা ছিল একটি ভুল। কুন্দুজে আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে তালেবানের লড়াই চলছিল। সেটা হাসপাতালের খুব কাছে। এই হামলা যেখানে হওয়ার কথা ছিল সেখানে হয়নি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও ডিফেন্স সেক্রেটারি এসটন কার্টার একে ‘ট্র্যাজিক ইনসিডেন্ট’ বলে তদন্তের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এ রকমটা হয়তো যুদ্ধের সময় হয়েই থাকে! মার্কিনরা যখন বলছে সেখানে কাছেই শত্রুরা ছিল, তখনই দ্বিতীয় প্রশ্নের উদয় হয়।
দুই. আফগান বাহিনী এ হামলায় আমাদের কী বোঝাতে চায়? এটা মৌলিক প্রশ্ন। আসলে টার্গেট কি হাসপাতাল ছিল, নাকি হাসপাতালের পাশের কোনো কিছু বা কোনো ব্যক্তি? আফগানিস্তানের অভ্যন্তরীণ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র দাবি করছেন, হাসপাতালের ভেতর ‘সন্ত্রাসীরা’ ছিল। এই তারা নিহত হয়। তবে আমরা কয়েকজন চিকিৎসকও হারিয়েছি। আফগান জেনারেলের কাছে ব্যাখ্যায় বলা হচ্ছে, সরাসরি হাসপাতালে হামলার কারণ হলো সেখানে সন্ত্রাসীরা ঢুকেছিল। সাধারণ মানুষদের (সিভিলিয়ান) তারা জিম্মি করতে চেয়েছিল। সিভিলিয়ানদের কথা যখন তারা জানছে, স্বাভাবিকভাবে আমরা প্রশ্ন করতে পারি।
তিন. বোমা হামলা কেন বন্ধ হয়নি? বিভিন্ন ধাপে এক ঘণ্টা ধরে চলছিল হামলা। এমএসএফ বলছে, এই হামলা বন্ধের জন্য তারা তখনই জরুরি ভিত্তিতে আফগানিস্তান, ওয়াশিংটন ডিসি এবং অন্যান্য সম্ভাব্য জায়গায় যোগাযোগ করে হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছিল। সে সময় টেলিফোনের ওপারে কে ছিল! তৎক্ষণাৎ কেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি! আফগানিস্তানে দায়িত্বে থাকা মার্কিন জেনারেল ক্যাম্পবেলকে সাংবাদিকরা জিজ্ঞেস করেছিলোন, এমএসএফ যে যোগাযোগ করেছিল সে সম্পর্কে কি পেন্টাগন জানত? উত্তরে তিনি বলেছিলেন, সেটা এক অনুসন্ধানের বিষয়। আসলে সেটা যতটা না যোগাযোগের ব্যাপার তার চেয়ে বড় প্রশ্ন।
MSF_hospital_in_Ku_3463542bচার. আফগানিস্তানে আমাদের মিত্রদের মতলব ও অগ্রাধিকার কি আমরা বুঝতে পারছি? আমরা তাদের সাহায্য করছি। দৃশ্যত মনে হয় তারা যেখানে বলছে সেখানেই আমরা হামলা করছি। বিমান থেকে আপনিতেই হাসপাতালে বোমা পড়েনি বরং কেউ একজন সে নির্দেশ দিয়েছে। আসলে এভাবেই হামলা হচ্ছে আফগানিস্তানে। সাহায্য করছে আফগান বাহিনী। এভাবেই আমরা চূড়ান্ত প্রশ্নে আসি।
পাঁচ. আসলে আমরা কি আফগানিস্তানে আমাদের নিজস্ব করণীয় ও অগ্রাধিকার বুঝতে পারছি? মার্কিন দখলের এই ১৪ বছরেও যদি তা বুঝতে না পারি তবে কখন পারব?

Post By মাহফুজ মানিক (496 Posts)

Mahfuzur Rahman Manik, Profession: Journalism, Alma Mater: University of Dhaka, Workplace: The Daily Samakal, Dhaka, Birthplace: Chandpur, Twitter- https://twitter.com/mahfuzmanik, Contact: mahfuz.manik@gmail.com

Website: →

Connect


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *