Mahfuzur Rahman Manik
দুর্নীতির সূচকে অগ্রগতি: অব্যাহত থাকবে তো? (Prothom Alo
মার্চ 17, 2010

ঢাকা, বুধবার, ১৭ মার্চ ২০১০, ৩ চৈত্র ১৪১৬, ৩০ রবিউল আউয়াল ১৪৩১

Prothom Alo

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআই) ১৭ নভেম্বর দুর্নীতির ধারণাসূচক-২০০৯ প্রকাশ করেছে। বিশ্বব্যাপী দুর্নীতির ওপর চালানো টিআইয়ের এবারের জরিপে বাংলাদেশের অবস্থার বেশ উন্নতি ঘটেছে। দুর্নীতিগ্রস্ত শীর্ষ দশের তালিকা থেকে বাংলাদেশ শুধু বের হয়েই আসেনি, বরং এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ অগ্রগতি অর্জন করেছে যে নয়টি বাংলাদেশ তার অন্যতম। সর্বোচ্চ অগ্রগতি অর্থাত্ শূন্য দশমিক ৩ পয়েন্ট এক বছরে অর্জন করলেও ১৮০টি দেশের মধ্যে আমাদের অবস্থান ১৩৯তম।
গত বছরের তুলনায় এ অবস্থান আশাব্যঞ্জক, গত ২০০৮-এ বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৮০টি দেশের মধ্যে ১৪৭তম। এবার ১৩৯তম। আবার গত বছর শীর্ষ ১০টি দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের মধ্যে দশম ছিল বাংলাদেশ। এবার ১৩তম। ২০০৭-এ ছিল সপ্তম, এর আগের রেকর্ডগুলো আমাদের লজ্জার ইতিহাস। ২০০১ থেকে ২০০৫ পর্যন্ত দুর্নীতির টানা পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ছিল বাংলাদেশ। জাতি হিসেবে আমাদের মাথা হেট হওয়ারই কথা।
সবাই ভাবছিল কীভাবে বাংলাদেশ এ লজ্জার অধ্যায় থেকে বের হতে পারে। বের হয়েছে বটে। ২০০৬-এ এসে আমাদের চ্যাম্পিয়নশিপটি হাতছাড়া হয়! তৃতীয় স্থানে আসে বাংলাদেশ। সেখান থেকে ধীরে ধীরে আমাদের অগ্রগতি। বিশেষ করে বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কথা বলতেই হয়। ২০০৭-এর ১৫ নভেম্বরের সিডরে যতটা না কেঁপেছে গোটা বাংলাদেশ, তার চেয়ে বেশি ঝড় গেছে তখন দুর্নীতিবাজদের ওপর। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের শেষ দিকে অর্থাত্ ২০০৮ এবং বর্তমান সরকারের সময়ের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়কে ধরে সাতটি সমীক্ষা থেকে তথ্য সংগ্রহ করে এবারের দুর্নীতির সূচক ঘোষণা করা হয়।
দুর্নীতিমুক্ত একটি দেশের স্বপ্ন আমরা দেখি। কিন্তু আমাদের সরকারগুলোর অতীত ইতিহাস দুর্নীতিমুক্ত ছিল না। এবার দিনবদলের সরকার ক্ষমতায়। ২৯ ডিসেম্বরের নবম জাতীয় সংসদের আগে আওয়ামী লীগ দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি দেন। নির্বাচনে তারা পেয়েছে এক বিশাল জয়। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার ‘দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠন’ শিরোনামে কিছু ওয়াদা করা হয়, সেগুলো হলো—‘স্বাধীন ও শক্তিশালী দুর্নীতি দমন কমিশনসহ দুর্নীতি দমনে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানসমূহকে আরও কার্যকর করে গড়ে তোলা হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। নাগরিক অধিকার সনদ রচনা, তথ্য অধিকার নিশ্চিত করা এবং সরকারি দলিল-দস্তাবেজ কম্পিউটারায়ন এবং ক্ষমতার বিকেন্দ্রীয়ন, জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে দুর্নীতির পথগুলো সম্ভাব্য সব উপায়ে বন্ধ করা হবে।’
আওয়ামী লীগের ইশতেহারের এ বক্তব্য অনুযায়ী সরকার গঠনের পর সেভাবেই পথ চলা শুরু করে। কিন্তু তারা যে প্রতিশ্রুতি নিয়ে ক্ষমতায় আসে, তার কতটুকু বাস্তবায়ন করতে পেরেছে? দেশের মানুষ হতাশা হয়েছে যখন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান দুদককে বলেছেন, নখদন্তহীন বাঘ। আবার সরকারি দলের নেতা-কর্মীদের দুর্নীতির মামলা একের পর এক প্রত্যাহার করায় জনগণ অবাক ও হতাশ হয়েছে। কিন্তু তার পরও আমরা আশা করি, এ সরকার তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে। দুদক স্বাধীনভাবে তার কাজ করতে পারবে। তবেই টিআইবিকে আর বলতে হবে না, বাংলাদেশকে তার এ অগ্রগতির সূচক ধরে রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ। আমাদের যে ধারাবাহিক অগ্রগতি সাধিত, সেটি অব্যাহত থাকবেই। দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ হবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা। সরকার সে প্রত্যাশা পূরণ করবে তো?
http://www.prothom-alo.com/detail/news/21661

ট্যাগঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।