Category Archives: সমাজ

মোটরসাইকেল ‘বীরত্ব’ নয়, আহাজারি

মোটরসাইকেল সংক্রান্ত সাম্প্রতিক খবরগুলো যতটা না ঘটনা, তার চেয়ে বেশি দুর্ঘটনা। সড়কে প্রায় প্রতিদিনই এ দুর্ঘটনায় মৃত্যুর খবর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ হচ্ছে। মাস শেষের হিসাবে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার খবরই প্রধান হয়ে উঠছে। ৮ মে সমকালের শেষ পাতায় প্রকাশ, এপ্রিলের দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি নিহত শিক্ষার্থী। বলার অপেক্ষা রাখে না, এর পেছনের কারণটি মোটরসাইকেল। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের হিসাবে এপ্রিলে দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৫৪৩ জন। এর মধ্যে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ২০৬ জন। এমনকি গত মাসের মোট দুর্ঘটনার প্রায় অর্ধেকই মোটরসাইকেল সংক্রান্ত।
মোটরসাইকেল বর্তমান সময়ে তরুণদের বিশেষ আকর্ষণের জায়গা। কিশোররা বন্ধুদের সামনে নিজেকে হিরো হিসেবে জাহির করতে মোটরসাইকেল কিনতে চায়। অভিভাবকরাও অনেক সময় তাদের আবদার মেটাতে মোটরসাইকেল কিনে দেন কিংবা মোটরসাইকেলের চাবি তাদের হাতে দেন। তরুণ ও কিশোরদের একটি অংশ যেভাবে বেপরোয়া হয়ে দুই চাকার এ যানটি পেতে চায় এবং এটি চালাতে গিয়ে ‘বীরত্ব’ প্রদর্শন করে, তার করুণ পরিণতি আমরা দেখছি। যাত্রী কল্যাণ সমিতির হিসাবে, ২০২০ সালে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ৭৯ শতাংশেরই বয়স ছিল ২১ বছরের কম। ১৭ শতাংশের বয়স ৩০-এর কম। বাকি ৪ শতাংশ ৩০-এর বেশি বয়সী। এ পরিসংখ্যানেই স্পষ্ট, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার সঙ্গে বয়সসীমার সম্পর্ক কতটা। Continue reading

রাজনৈতিক দায়িত্ববোধ থেকেই ‘শহীদ বুদ্ধিজীবী কোষ’

সাক্ষাৎকার: আলী মো. আবু নাঈম

শহীদ বুদ্ধিজীবী কোষের অন্যতম সম্পাদক ও সংকলক আলী মো. আবু নাঈম। ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতি পাঠাগারের সঙ্গে শুরু থেকেই যুক্ত। বর্তমানে তিনি পাঠাগারটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আবু নাঈম কাজ করেছেন সেন্টার ফর এশিয়ান আর্টস অ্যান্ড কালচারে। দীর্ঘ সময় তিনি বাসদের মুখপত্র ‘ভ্যানগার্ড’ প্রকাশনার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। সরকারি বাংলা কলেজ ও ঢাকা কলেজে পড়াকালে বামপন্থি ছাত্র রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন।

সমকাল: কোন প্রেরণা থেকে আপনি ‘শহীদ বুদ্ধিজীবী কোষ’ রচনার কাজে হাত দেন?

আলী মো. আবু নাঈম: আমি যখন সরকারি বাংলা কলেজে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে পড়াশোনা করি তখন শহীদজায়া জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির আন্দোলনে যুক্ত হই। এরপর ২০১৩ সালের গণজাগরণসহ মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রায় সব আন্দোলনে আমরা সক্রিয় ভূমিকা পালন করি। মূলত সে চেতনা থেকেই দেশের জন্য আত্মত্যাগকারী সব শহীদের প্রতি আমার এক ধরনের ভালোবাসা রয়েছে। বিশেষ করে ওই সময় যেসব বুদ্ধিজীবী শহীদ হন, তাদের অবদান বর্তমান প্রজন্ম যাতে মনে রাখে, সেটা সবসময়ই অনুভব করেছি।

সমকাল: কখন আপনারা এ কোষ রচনার কাজ শুরু করেন।

আবু নাঈম: ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে ‘শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতি পাঠাগার’ শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্বপ্ন ও চেতনা সমাজে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। ২০১৯ সালের ৩ মার্চ এ পাঠাগারের ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালনের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের নিয়ে আমরা একটি প্রামাণ্য বই প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নিই। সে অনুযায়ী আমরা পাঠাগারের টিম এ লক্ষ্যে কাজ শুরু করি ২০১৭ সালের শেষ দিকে এবং ২০১৯-এর একুশের বইমেলার আগেই আমরা পাণ্ডুলিপি প্রস্তুত করতে সক্ষম হই।

সমকাল: বিভিন্ন উৎস থেকে আমরা সহস্রাধিক শহীদ বুদ্ধিজীবীর সংখ্যা দেখেছি। শহীদ বুদ্ধিজীবী কোষে আপনারা ৩২৯ জনের কথা লিখেছেন।

আবু নাঈম: আপনি ঠিকই বলেছেন, ১৯৭২ সালে সদ্য স্বাধীন দেশের তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ’ পুস্তিকায় ১০৭০ জন শহীদ বুদ্ধিজীবীর কথা বলা হয়েছে। সংবাদমাধ্যমে ১২ শতাধিক শহীদ বুদ্ধিজীবীর বিষয়েও প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। তবে ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত বাংলা একাডেমির ‘শহীদ বুদ্ধিজীবী কোষগ্রন্থে’ ২০১ জনের পরিচিতি প্রকাশ হয়। ৩২৯ জন শহীদ বুদ্ধিজীবীর জীবনবৃত্তান্ত, মুক্তিযুদ্ধে তাদের অবদান ও শহীদ হওয়ার ঘটনা এ গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে। এ সংখ্যাটি আমরা নিজেরা ঠিক করিনি, বরং ৩২৯ জনের তথ্যই আমরা পেয়েছি। সেই আলোকেই গ্রন্থটি রচিত হয়েছে।
Continue reading

অন্যের চরকায় তেল দেওয়ার বাতিক

‘পাছে লোকে কিছু বলে’- এটাই বাস্তবতা। তবে তাদের জন্য যথার্থ উত্তর ‘নিজের চরকায় তেল দাও।’

অন্যের বিষয়ে নাক গলাতে আমরা অনেকেই সিদ্ধহস্ত। একনজর দেখেই মন্তব্য করার মতো বিশেষজ্ঞ সমাজে কম নেই। সহপাঠীকে ভালোভাবে ডাকার মতো বন্ধুর সংখ্যা যেন বিরল। অনেক শিক্ষকও শিক্ষার্থীকে সম্বোধন করে যে ‘বডি শেমিং’ করে ফেলছেন, সে হুঁশও নেই। খোশগল্পে সুযোগ পেলেই অনেক সময় কাউকে আকাশে উঠাচ্ছি, আবার কাউকে জমিনে আছড়ে ফেলছি। পরচর্চায় বাঙালির মুনশিয়ানা বলে কথা।

কারও থেকেই যেন নিস্তার নেই। কোনোভাবেই যেন রেহাই নেই। শারীরিকভাবে লম্বা হলে তো কথাই নেই। খাটো হলেও কথা শুনতে হবে। মোটা হলেও উপদেশের বান আপনার দিকে ধেয়ে আসবে। চিকন হলেও সমস্যা। কালো হওয়ার বিপদ ভুক্তভোগীরাই জানেন। আর সুন্দরী হলেও মাপ নেই। আমরা চিন্তাও করতে পারি না, অপরের দিকে মুখ নিঃসৃত যে শব্দ বেরিয়ে যাচ্ছে তার প্রতিক্রিয়া কতটা ভয়াবহ হতে পারে।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ১৬ বছরের কিশোর আজওয়াদ আহনাফ করিমের মৃত্যুর খবর আমরা দেখেছি। এমন অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু আমাদের হতবাক করেছে। Continue reading

কৃষি বাজেটের সুফল সরাসরি কৃষকের ঘরে পৌঁছান- আবদুল লতিফ মণ্ডল

আবদুল লতিফ মণ্ডল খাদ্য সচিব হিসেবে ২০০২ সালে অবসর গ্রহণ করেন। এরপর তিনি চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে এক বছর রাষ্ট্রপতির সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। তার প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা ৪। বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষাতেই সংবাদপত্রে বিশেষত কৃষি খাতের নানাদিক নিয়ে লিখছেন নিয়মিত। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক আবদুল লতিফ মণ্ডল শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করলেও সিএসপি অফিসার হিসেবে সিভিল সার্ভিসে প্রবেশ করেন স্বাধীনতারও আগে। তিনি রংপুরে জন্মগ্রহণ করেন।

সমকাল: বাংলাদেশের কর্মসংস্থানের উল্লেখযোগ্য অংশ কৃষি খাতকেন্দ্রিক হলেও জাতীয় আয়ে কৃষি খাতের অবদান সেই অর্থে কম। বাজেটেও কি এর প্রভাব রয়েছে?

আবদুল লতিফ মণ্ডল: কৃষি খাতের অবদান জাতীয় আয়ে একেবারে কম নয়। এটা ঠিক, স্বাধীনতার পর জিডিপিতে কৃষির অবদান অনেক বেশি ছিল। তার কারণ তখনও অন্যান্য খাত সেভাবে বিকশিত হয়নি। ধীরে ধীরে অন্যান্য খাত বিশেষত শিল্পের বিকাশে কৃষির অবদান কমেছে। তবে মনে রাখতে হবে, কৃষি খাত অনেক বড় বিষয়। এর সঙ্গে শস্য, মৎস্য, বন এমনকি প্রাণিসম্পদও অন্তর্ভুক্ত। জিডিপিতে কৃষির অবদান ২০ শতাংশের নিচে নেমে এলেও বাজেটে কৃষি যথাযথ গুরুত্ব পাচ্ছে না তা কিন্তু নয়।

সমকাল: কৃষি কীভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে?

আবদুল লতিফ মণ্ডল: আমরা দেখেছি, দেশের সব বাজেটে কৃষিতে বরাদ্দ ছিল। প্রথম থেকে পঞ্চম পর্যন্ত সব পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায়ও কৃষিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে যথাযথভাবে। মনে রাখা দরকার, শিল্পের অগ্রগতিতে কৃষি খাতে জিডিপিতে অবদান কমলেও কৃষিই দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাত। কৃষি আমাদের অর্থনীতির প্রাণ। দেশের মোট কর্মসংস্থানের অন্তত ৪০ শতাংশ কৃষিকেন্দ্রিক। এমনকি আমরা যদি হিসাব করি, দেখা যাবে অন্যান্য খাতও কৃষির ওপর প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে জড়িত। যেমন হোটেল-রেস্তোরাঁ, পর্যটন এবং অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসা। Continue reading

উইকিপিডিয়ায় বাংলা কেন পিছিয়ে

বিনামূল্যে সবার জন্য তথ্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অনলাইন জ্ঞানভান্ডার হিসেবে ২০০১ সালে উইকিপিডিয়ার যাত্রা শুরু হয় মার্কিন ইন্টারনেট উদ্যোক্তা জিমি ওয়েলসের হাতে। অনলাইনে কেউ যখন কোনো তথ্য ও তত্ত্বের অনুসন্ধান করেন, কোনো কিছু জানতে চান, তখন শুরুতেই যে বিশ্বকোষ আলাদিনের চেরাগের মতো কোনো উত্তর হাজির করে সেটিই উইকিপিডিয়া।

অবশ্য এতে উপস্থাপিত নিবন্ধের তথ্য কোনো কোনো সময় বিভ্রান্তিও সৃষ্টি করে। কারণ উন্মুক্ত তথ্যভান্ডার হওয়ায় অনেকে উইকিপিডিয়ায় উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্যও যুক্ত করে থাকেন- যা যাচাই-বাছাই ও সম্পাদনার আগেই অনেক অনুসন্ধানকারীর কাছে পৌঁছে যায়।

উইকিপিডিয়ার বাংলা সংস্করণ হিসেবে বাংলা উইকিপিডিয়া ২০০৪ সালের ২৭ জানুয়ারি প্রথম যাত্রা শুরু করে। এর আগে ২০০৩ সালের ৯ ডিসেম্বর কানাডার ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডির তৎকালীন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী শাহ আসাদুজ্জামান বাংলায় উইকিপিডিয়া তৈরির অনুরোধ করে জিমি ওয়েলসের কাছে প্রথম ই-মেইল করেন। আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরুর পর থেকে গতকাল বুধবার পর্যন্ত এতে নিবন্ধ যুক্ত হয়েছে এক লাখ চার হাজার ১৪৭টি; যেখানে বাংলা ভাষাভাষী রয়েছেন ২৩ কোটি। নিবন্ধের সংখ্যার হিসাবে উইকিপিডিয়ার ৩০৩টি ভাষার মধ্যে বাংলা উইকিপিডিয়ার অবস্থান ৬৮-তে। ২০২০ সালে সারাবিশ্ব থেকে ২৯ কোটি ৮ লাখ ৩৪ হাজার ৪৯৩ বার এই উন্মুক্ত বিশ্বকোষে অনুসন্ধান করা হয়েছে। প্রতিদিন গড়ে পড়া হয়েছে সাত লাখ ৯৪ হাজার ৬৩০ বার।

উইকিস্ট্যাটস অনুযায়ী, উইকিপিডিয়ায় ইংরেজি ভাষায় সবচেয়ে বেশি ৬২ লাখ ৫৫ হাজার ৭৬৪টি নিবন্ধ রয়েছে। নিবন্ধের সংখ্যার দিক থেকে উইকিপিডিয়ায় উপমহাদেশীয় ভাষা উর্দু সবার ওপরে- সম্মিলিত তালিকার ৫৪তম স্থানে। উপমহাদেশে হিন্দি রয়েছে দ্বিতীয় স্থানে এবং সম্মিলিতভাবে ৫৭তম স্থানে। সম্মিলিত তালিকায় ৬১তম স্থানে থাকা তামিলেরও পরে ৬৮তম স্থানে অবস্থান করছে বাংলা ভাষা। অথচ তামিল ভাষাভাষীর সংখ্যা সাড়ে সাত কোটি।

উইকিপিডিয়ায় নিবন্ধের দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ফিলিপাইনের সিবুয়ানো ভাষা। এ ভাষার ব্যবহারকারী প্রায় দুই কোটি, নিবন্ধ সংখ্যা ৫৫ লাখ। কিন্তু ভাষাভাষীর দিক থেকে বাংলা পঞ্চম ভাষা হলেও নিবন্ধ ও ব্যবহারকারীর দিক থেকে বাংলা উইকিপিডিয়ার অবস্থান বেশ দূরে। Continue reading

উষ্ণতার এক ফালি হাসি

রথ দেখা এবং কলা বেচা- দুটোরই ইচ্ছে ছিল আমাদের। মানে, একদিকে নিঝুম দ্বীপ দেখা, অন্যদিকে সেখানকার অসহায় শিশুদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা। চাইল্ড সেন্ট্রিক ক্রিয়েটিভ সেন্টার বা ফোরসি টিম শিশুর সৃজনশীলতা বিকাশে যেমন চেষ্টা করছে, তেমনি মেডিকেল ক্যাম্পসহ এসব কাজের মাধ্যমে সামাজিক দায়িত্ব পালনে এগিয়ে আসছে। নোয়াখালীর হাতিয়ার নিঝুম দ্বীপে যাওয়ার আগেই টিম ফোরসি সেখানকার স্থানীয় শিশুদের মাঝে শীতের উষ্ণতা ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। তাতে অনেকেই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। বছরের শেষ দিনের গোধূলিতে লঞ্চটি যখন হাতিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে যায়, আমাদের মানসপটে তখন ভেসে ওঠে ইন্টারনেটে দেখা নিঝুম দ্বীপের মনোহর দৃশ্য আর মায়াময় কিছু শিশুর চেহারা।

নতুন বছরের প্রথম সকালে চোখ মেলেই দেখি হাতিয়া দ্বীপ। নদীর পাড়ে ভিড়েছে লঞ্চ। চারদিকে শতব্যস্ত মানুষ। আমরাও নেমে পড়লাম। সৌন্দর্যের দিক থেকে হাতিয়ার মাধুরীও কম নয়। নিঝুম দ্বীপে শিশুদের বস্ত্র দেওয়ার চাপ মাথায় নিয়েও আমরা যাওয়ার পথে হাতিয়ায় দুটি আকর্ষণীয় পর্যটন স্পট দেখে ফেলি। প্রথমটি কমলার দিঘি। এখানে কেবল দিঘিই নেই, আছে মনোমুগ্ধকর সৈকত। কমলার দিঘিতে একই সঙ্গে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত আর সুন্দরবনের আমেজ পাওয়া যাবে। সেখান থেকে আমরা যাই নিমতলী সৈকতে। এরপর মোক্তারিয়া ঘাট পেরিয়ে কাঙ্ক্ষিত নিঝুম দ্বীপ। Continue reading

করোনা: প্রযুক্তিনির্ভর সাংবাদিকতার কাল

সংবাদপ্রবাহ পানির প্রবাহের মতো। একে বাঁধ দিয়ে রাখা যায় না। সকল প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিকরা থেমে থাকেনি। যার সর্বশেষ নজির কোভিড-১৯। করোনাদুর্যোগের মধ্যেও যখন পৃথিবী থমকে ছিলো তখন সংবাদমাধ্যম ছিলো সচল। এবং এটা জরুরিও ছিলো। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য মিরর-এ প্রকাশিত এক নিবন্ধে কলাম লেখক সুসি বোনিফেস লিখেছেন-১ ‘সাংবাদিকতা না থাকলে করোনায় প্রাণহানি আরও বেশি হতো। তার মতে, সাংবাদিকতা না থাকলে মজুদ চলতে পারে, এমনকি লুটও হতে পারে। পুলিশ তার নতুন ক্ষমতা নিয়ে আরও উদ্দীপনার সঙ্গে ভুল করে যেতে পারে। পত্রিকায় বা সন্ধ্যার খবরে ছবি ছাপা হবে না জেনে মানুষ আরও বেশি সমুদ্রের তীরে যাবে। ফলশ্রুতিতে আরও বেশি সংক্রমণ হবে এবং আরও বেশি মৃত্যু হবে।’ বস্তুত সংবামাধ্যম কেবল সংবাদই দেয় না বরং সমস্যার সমাধানেও ভূমিকা রাখছে। আমরা দেখেছি, বিশ্বের অন্যান্য দেশে তো বটেই বাংলাদেশেও করোনার সম্মুখযোদ্ধা যারা তাদের মধ্যে সাংবাদিকরা অন্যতম। তবে বলার অপেক্ষা রাখে না যে, বৈশ্বিক এ দুর্যোগে করোনায় সংবাদমাধ্যমের কর্মতৎপরতার পেছনে সবচেয়ে বড় নিয়ামক ভূমিকা পালন করে ইন্টারনেট ও তথ্য প্রযুক্তি। বলাবাহুল্য বর্তমান স্বাভাবিক সাংবাদিকতাই অনেকাংশে প্রযুক্তি নির্ভর। আর করোনা বাস্তবতায় সে প্রযুক্তি আরও বেশি অনিবার্য হয়ে ওঠে। প্রযুক্তির কল্যাণে করোনার পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে কীভাবে সাংবাদিকতার অভিযোজন ঘটে এবং সংবাদমাধ্যমের ভবিষ্যতই বা কী ইত্যাদি এ প্রবন্ধের প্রয়াস।

ঘরে বসে অফিস
করোনার এ সময়ে সংবাদমাধ্যমে সবচেয়ে যুগান্তকারী বদল ঘটেছে- ঘরে থেকে অফিস করা। ধারণাটি হয়তো বিশ্বে নতুন নয় কিন্তু বাংলাদেশে এর বাস্তব রূপ আমরা এ সময় দেখেছি। দুর্যোগে আবদ্ধ ঘরে থাকা মানুষের জরুরি চাহিদার মধ্যে খবর অন্যতম। ঘরে বসে থাকলেও মানুষ খবর চায়, কোথায় কী হয়েছে সেটা জানতে চায়। সংবাদমাধ্যমও দেশ-বিদেশের সংবাদ প্রদান করে তার দায়িত্ব নিরলসভাবে পালন করেছে। এ সময়ে সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের অধিকাংশই ঘরে থেকে অফিস করেছে। কেউ অফিসের নিজস্ব নেটওয়ার্ক ও সফটওয়্যারে কাজ করছেন কিংবা ই-মেইলসহ অন্যান্য যোগাযোগমাধ্যমে নির্দেশনা নিয়ে, কাজ সম্পন্ন করে পাঠিয়ে দিয়েছেন। প্রযুক্তির কল্যাণে বড় কোনো ঝামেলা ছাড়াই সুন্দরভাবে ঘরে চলেছে অফিস কার্যক্রম। Continue reading

ইন্টারনেট নির্ভরতার কাল

করোনার এ সময়ে সবচেয়ে যুগান্তকারী বদল ঘটেছে- ঘরে থেকে অফিস করা

সম্প্রতি জাতীয় দৈনিকে একটি সরকারি হাসপাতালের ছবি বেরিয়েছে- করোনা আক্রান্ত রোগী তার ভাইয়ের কাছ থেকে খাবার নিতে নিজেই বাইরে এসেছেন। ছবিটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও আলোচনা হয়েছে। আইসোলেশনে থাকা রোগী বাইরে আসতে পারে কি-না কিংবা তাদের জন্য বাইরের খাবার নেওয়া সিদ্ধ কি-না, সেটা ভিন্ন প্রসঙ্গ। তবে এটা সত্য যে, এসব রোগীর সেবায় যারা থাকেন অনেকেই কাছে যেতে চান না। করোনা সংক্রামক ব্যাধি বলে বিষয়টি অস্বাভাবিকও নয়। কিন্তু এর বিকল্প সমাধান বিশ্বের অন্যান্যরা দেখিয়েছে। এমনকি চীনের যে উহানে করোনাভাইরাসের উৎপত্তি সেখানেও হাসপাতালে রোগীর সেবায় নার্স বা অন্যান্য সহযোগী স্টাফের বদলে ব্যবহার করা হয়েছে রোবট। রোগীর খাবার, ওষুধ ইত্যাদি দেওয়াসহ যেকোনো কাজ অনায়াসেই রোবট করতে পারে। আমাদের দেশেও বাণিজ্যিক ভিত্তিতে রোবট তৈরির প্রতিষ্ঠান রয়েছে। যেসব হাসপাতালে করোনা আক্রান্তদের সেবা দেওয়া হচ্ছে, সেখানে রোবট সার্ভিস দিতে তাদের সঙ্গে চুক্তি করে তা করা যায়। যদিও জরুরি পিপিই কিংবা মাস্ক এমনকি করোনা চিকিৎসা নিয়েই রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। সেখানে রোবটের বিষয়টি বাতুলতা মনে হতে পারে, তবে অসম্ভব নয়।

বলাবাহুল্য স্বাভাবিক জীবন-যাপনেই আমরা ইন্টারনেট ও প্রযুক্তির ওপর অনেকখানি নির্ভরশীল। আর করোনা সংক্রমণের এ সময়ে অধিকাংশ মানুষই ঘরে থাকছেন বলে ‘ঘরে থাকা’ নিশ্চিত করাসহ বাইরের কাজ ঘরে থেকে সম্পাদন করতে ইন্টারনেট ও প্রযুক্তির ওপর আমরা অনেকেই বলা চলে পুরোপুরি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছি। Continue reading