Mahfuzur Rahman Manik
খবরের 'ডোজ'
জানুয়ারী 27, 2017

Newsখবর অবশ্য সবই_ সঠিক কিংবা ভুয়া। সংবাদমাধ্যমের বাইরেও সামাজিক যোগাযোগ ওয়েবসাইট ও নানাভাবে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন খবর সকলের সামনে আসে। এর মধ্যে সঠিক খবর যেমন রয়েছে, তেমনি ভুয়াও হতে পারে। ভুয়া খবর অনেক সময় পাঠকের কাছে বিশেষভাবে উপস্থাপন করা হয়, যাতে সহজেই সঠিক হিসেবে তা অনেকে বিশ্বাস করে। এটা নিশ্চয়ই চিন্তার বিষয়। বিশেষ করে ইন্টারনেট যখন সহজলভ্য। নতুন ওয়েবসাইট খোলা যখন মামুলি ব্যাপার, প্রতিটি ফেসবুক-টুইটার ইত্যাদির একেকটি অ্যাকাউন্ট যখন খবর সরবরাহের একেকটা মাধ্যম, তখন ভুয়া খবর ঠেকানোর উপায় কী? উপায় উদ্ভাবনের প্রচেষ্টা ও উদ্যোগ আসলে থেমে নেই। সোমবার (২৩ জানুয়ারি) বিবিসির খবর তা-ই বলছে। কেমব্রিজ সায়েন্টিস্টস কনসিডার ফেইক নিউজ 'ভ্যাকসিন' শিরোনামের প্রতিবেদনটি জানাচ্ছে, কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা ভুয়া খবর ঠেকাতে ভ্যাকসিনের কথা বলছেন। ভ্যাকসিন কীভাবে ভুয়া খবর ঠেকাতে বা শনাক্ত করতে পারে, বিষয়টি ব্যাপক কৌতূলেরই বিষয়। খবরটি বিবিসি ছাড়াও নিউজউইক, ফোর্বস, আরটিসহ বিশ্বের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে। বলাই বাহুল্য, এ ভ্যাকসিন বা প্রতিষেধক আদতে চমক লাগানো কিছু নয়। এটি আসলে গ্গ্নোবাল চ্যালেঞ্জেস জার্নালে প্রকাশিত কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষকের গবেষণা। দুই হাজার জনের ওপর পরিচালিত জরিপ থেকে গবেষকরা এ সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, কিছু কিছু মনস্তাত্তি্বক বিষয়ই ভুয়া খবরের ভ্যাকসিন হতে পারে। তা হলো, পাঠকদের আগে থেকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে ভুল তথ্য সম্পর্কে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র 'ডোজ' দিয়ে রাখতে হবে। তাতে করে পরবর্তী সময় ভুল তথ্য তারা সহজেই এড়িয়ে যেতে পারবে। মিথ্যা তথ্য আকর্ষণীয় এবং তা ভাইরাসের মতো দ্রুত ছড়ায়_ গবেষকদের এ পর্যবেক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এর বিপরীতে গবেষকরা যে ডোজের কথা বলছেন, তাতে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। এমনকি এটা যে উল্টা ভুয়া খবরের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হতে পারে তাও আশঙ্কা অনেক পাঠকের। রাশিয়ার মস্কোর আরটি ডট কমে প্রকাশিত খবরটিতে একজন তেমনটিই মন্তব্য করেছেন এক পাঠক। সত্যিকারার্থেই এর মাধ্যমে উপসংহারে পেঁৗছা কঠিন। গণিতে কিছু সূত্র দিয়ে অঙ্ক মেলানো যায় বটে। কিন্তু এখানে ভ্যাকসিনের কাজটা ততটা সহজ নয়। তবে ভুয়া খবর যে অনেক সময় কেবল খবরই নয়, তা হয়তো অনেকের প্রোপাগান্ডা কিংবা কারও বিরুদ্ধে ক্যাম্পেইন। যেমন বিবিসি উদাহরণ দিয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সমর্থন দিয়েছেন পোপ ফ্রান্সিস, হিলারি ক্লিনটন আইএসের কাছে অস্ত্র বিক্রি করেছেন_ এ ধরনের সংবাদ ও ছবি-ভিডিও মার্কিন নির্বাচনের সময় ফেসবুকে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল। এমনকি অনেকে সেগুলো শেয়ারও করেছে। পরে জানা যায়, এসব ভুয়া; মার্কিন নির্বাচনকে প্রভাবান্বিত করতেই এসব করা হয়েছে। ফলে ভুয়া খবর শনাক্ত করতে ও ঠেকাতে আসলে সতর্কতার বিকল্প নেই। একে সামান্য 'ডোজ' দিয়ে ঠেকানো কঠিন বটে। তবে সবক্ষেত্রেই যে কোনো খবরের সত্যতার জন্য নিউজ সোর্স বা খবরের উৎস গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে ওই সংবাদমাধ্যম কাদের দ্বারা পরিচালিত হয় ও কাদের সমর্থন দিচ্ছে বা কার হয়ে কাজ করছে, তাও জানা থাকা দরকার। তারপরও হয়তো এ চিন্তা একেবারে ফেলনা নয়। গবেষকরা এ নিয়ে কাজ করছেন নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। আর এ ভুয়া খবর ঠেকানোর 'ভ্যাকসিন' নিয়ে নতুনভাবে কাজ করলে আরও ভালো কিছু বের হয়ে আসতেই পারে।

ট্যাগঃ , , , ,

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।