মান- বিশ্বের অভিন্ন ভাষা

standard_day1444759311বিশ্বের ৭০০ কোটিরও বেশি মানুষের ভাষার সংখ্যা সাত হাজারের ওপর। সবার ভাষা এক হলে হয়তো বিশ্বের অবস্থা অন্যরকম হতো। মানুষের মুখের ভাষা ভিন্ন হলেও তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে অনেক কিছুর অভিন্ন ভাষা আছে। আপনার কাছে যে ক্রেডিট কার্ড আছে সেটা সব ক্যাশ মেশিনেই খাটবে; আপনি বাজার থেকে যে বাল্বই আনবেন তা নির্দিষ্ট পোর্টের জন্য প্রযোজ্য হবে; কম্পিউটারের জেপিজি ফরম্যাট সারাবিশ্বে একই; আপনার ওজনের ইউনিটও সর্বত্র সমান। এ বিষয় সামনে রেখেই এবারের বিশ্ব মান দিবসের প্রতিপাদ্য : স্ট্যান্ডার্ডস_ দ্য ওয়ার্ল্ডস কমন ল্যাঙ্গুয়েজ অর্থাৎ মান_ বিশ্বের অভিন্ন ভাষা। এই প্রতিপাদ্যের পেছনের কারণও বলছে আন্তর্জাতিক মান সংস্থা (আইএসও)। দিবসটি উপলক্ষে আইএসওর ওয়েবসাইট বলছে, এক দেশের ক্রেতা অন্য দেশে গিয়ে যদি বলতে না পারত এটা এই পরিমাণ দিন, ওটা অতটুকু দিন_ তখন কী সমস্যাই না হতো! এই অভিন্ন ভাষা কেবল মানুষের ব্যবসার জন্যই ভালো নয়, এটি বিশ্বের সব মানুষকে একসঙ্গে কাজ করাও সহজ করেছে, বলছে আইএসও।
ভাষা অভিন্ন তবে মানের ক্ষেত্রে ছাড় নেই। এই মান রক্ষা মানুষের সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার জন্য সব জায়গাতেই প্রয়োজন। খাবারের ক্ষেত্রে যেমন ভেজাল খাওয়া যাবে না তেমনি পোশাক-পরিচ্ছদ থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত চালচলনও ভালো হওয়া প্রয়োজন। আইএসও মানের ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয়ের কথা বলেছে। যেমন_ টেকসই উন্নয়ন, খাদ্য, পানি, গাড়ি, জলবায়ু পরিবর্তন, এনার্জি, স্বাস্থ্য ও সুবিধা।
মান দিবসের সূচনা ১৯৪৬ সালে। সে বছর ১৪ অক্টোবর লন্ডনে বিশ্বের ২৫টি দেশের প্রতিনিধি বিশ্বব্যাপী পণ্যসেবার মান বজায় রাখার জন্য একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মান নির্ধারক সংস্থার বিষয়ে একমত পোষণ করেন, যা পরের বছর থেকে কার্যক্রম শুরু করে। ওই দিনকে স্মরণীয় করে রাখতেই এ দিবস বৈশ্বিকভাবে পালন করা হয়। ১৯৭০ সাল থেকে আইএসও এ দিনটি পালন করে আসছে।
বাংলাদেশে মান রক্ষার সরকারি প্রতিষ্ঠান বিএসটিআই বা বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন। ১৯৮৫ সালে সরকারি এক অধ্যাদেশে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। বিএসটিআই দেশে উৎপাদিত শিল্পপণ্য, বৈদ্যুতিক ও প্রকৌশল পণ্য, খাদ্য ও কৃষিজাত পণ্যের প্রক্রিয়া ও পরীক্ষণ পদ্ধতির জাতীয় মান প্রণয়ন করে। এটি প্রণীত মানের ভিত্তিতে পণ্যসামগ্রীর গুণগত মান পরীক্ষণ/বিশ্লেষণ এবং পণ্যের গুণগত মানের নিশ্চয়তা বিধান করে এবং দেশে ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে মেট্রিক পদ্ধতির প্রচলন, বাস্তবায়নসহ ওজন ও পরিমাপের সঠিকতা তদারক ও নিশ্চিতকরণের কাজ করে। ফলে আমরা বিভিন্ন দ্রব্যের প্যাকেটের গায়ে বিএসটিআই চিহ্নিত লোগো দেখে থাকি। মান রক্ষার্থে প্রতিষ্ঠানের চেয়ে ব্যক্তির ভূমিকা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ব্যক্তিগতভাবে প্রত্যেকে তার কর্মক্ষেত্র, ব্যবসা তথা সর্বত্র স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির অনুভূতি নিয়ে চললে কারও দ্বারা ভেজাল কিছু হতে পারে না। খাদ্যে ভেজাল, ফরমালিন, কাজে ফাঁকি দেওয়া ইত্যাদি মানবিরোধী। এসব থেকে বিরত থেকে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথ পালন করলে যেমন মান রক্ষা হবে তেমনি একটি সুষ্ঠু সমাজ গঠনও সহজ হবে।
ফলে অভিন্ন ভাষা সম্ভবত এটাই হওয়া উচিত_ মানের সঙ্গে আপস নয়। এটা আপসের জায়গাও নয়। আজকের দিবসটিকে কেবল পণ্যের ফ্রেমে আবদ্ধ না রেখে বাস্তব জীবনেও আনতে হবে। মানের ভাষা যেমন অভিন্ন, সেখানে ভালোর ভাষাও বিশ্বের সর্বত্র একই।

Post By মাহফুজ মানিক (496 Posts)

Mahfuzur Rahman Manik, Profession: Journalism, Alma Mater: University of Dhaka, Workplace: The Daily Samakal, Dhaka, Birthplace: Chandpur, Twitter- https://twitter.com/mahfuzmanik, Contact: mahfuz.manik@gmail.com

Website: →

Connect


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *