সম্প্রতি ইংল্যান্ডের গার্ডিয়ান পত্রিকার লাইফ অ্যান্ড স্টাইল বিভাগের নোটস অ্যান্ড কোয়েরিজে পাঠকদের করা হয় প্রশ্নটি- হোয়্যার ডু স্প্যারোজ গো ইন দ্য উইন্টার বা শীতে চড়ূই পাখি কোথায় যায়? অতিথি পাখির কথা চিন্তা করে উত্তরটা হয়তো আমরা আশা করব বাংলাদেশ। কিন্তু গত ১০ ডিসেম্বরে ছবিসহ পোস্ট করা প্রশ্নটিতে সোমবার বিকেল (১২ জানুয়ারি '১৫) পর্যন্ত পাঠকের ২৮টি মন্তব্যে কেউই বাংলাদেশের নাম বলেননি। ইংল্যান্ডের পরিপ্রেক্ষিতে অনেকেই সেখানকার স্থানীয় জায়গার কথা বলেছেন। তবে প্রশ্নটির সঙ্গে যে মেইল ঠিকানা দেওয়া হয়েছে তাতে কে কী উত্তর দিয়েছেন জানা নেই।
শীতে অবশ্য আমাদের দেশে অনেক পাখিই যে আসে, তা বলা বাহুল্য। পাখিদের এই আনাগোনা শুধু বাংলাদেশে নয়। পাখিদের বিভিন্ন প্রজাতি বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়, বিশেষ করে শীতে হাজার হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে বিশ্বের এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যায়। উত্তর মেরু অঞ্চলের পাখিরা দক্ষিণ অঞ্চলে আসে। এখানে আগত অতিথি পাখিরাও অনেক পথ পাড়ি দিয়ে আসে। হিমালয়ের পাশ থেকেই বেশিরভাগ পাখি আসে। অনেকে বলেন, এসব পাখি হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত তিব্বতের লাদাখ থেকে সেন্ট্রাল এশিয়ান ইন্ডিয়ান ফ্লাইওয়ে দিয়ে প্রবেশ করে। এর বাইরেও ইউরোপ, সাইবেরিয়া থেকে পাখিদের আগমন ঘটে আমাদের দেশে। এরা অতিথির মতো একটা সময়ের জন্য এসে আবার নিজ দেশে চলে যায় বলেই হয়তো এদের অতিথি পাখি বলা হয়।


অতিথি পাখির কথা বলে হয়তো আমরা গর্ববোধ করতে পারি। শিকারসহ এ পাখির প্রতি নানা অবিচারের কথা আমাদের সামনে আসে। কিন্তু সবার অগোচরে যে আমাদেরই পাখি চড়ূই-বাবুইরা হারিয়ে যাচ্ছে, সেদিকে কি আমরা নজর দিচ্ছি?
- সমকালে প্রকাশিত, ১৩ জানুয়ারি ২০১৫
- ই-সমকাল হতে দেখুন
- ছবি: অনলাইন