Mahfuzur Rahman Manik
টিপাইমুখ বাঁধ : সরকারের সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে (ভোরের কাগজ,২ আগষ্ট ২০০৯)
মার্চ 17, 2010

টিপাইমুখ বাঁধ প্রসঙ্গে ভারতীয় হাই কমিশনারের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে আমাদের মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্য ‘উনি হয়তো কূটনৈতিক শিষ্টাচার লংঘন করেছেন।’ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপুমনির এ মন্তব্যে ঝড় উঠেছে খোদ আওয়ামী লীগেই। আওয়ামী লীগের মুখপাত্র সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম তৎক্ষণাত স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, পিনাক চক্রবর্তী ঠিকই আছেন, বিপাকে আমরা জনগণ, একজন সত্যিই অপরাধ করলে তার কথা বলা যাবে না? এটা কী গণতন্ত্র! পররাষ্ট্রমন্ত্রী তো ঠিকই বলেছেন, তার এ মন্তব্যে স্পষ্ট যে প্রতিক্রিয়া দেখলাম তা লজ্জারই বটে। টিপাইমুখ বাঁধ। মরণ ফাঁদ। এটা সকলের কাছে স্পষ্ট। দিন যতোই গড়াচ্ছে টিপাইমুখ নিয়ে কেবল কথাই হচ্ছে। মিডিয়া গরম হচ্ছে, কলামিস্টরা কলাম লিখছেন, বিরোধী দল নানা বিরোধী বক্তব্য দিচ্ছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না।
বাস্তবতা হচ্ছে ভারত তাদের বাঁধ করার কাজ চালু করেছে। অবশ্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনার আগে বাঁধ নির্মাণ না করার ব্যাপারে আহ্বান জানিয়েছেন। এছাড়া যে সরকারের প্রধান দায়িত্ব এটি বন্ধ করা সে সরকার ভারতের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনায় না বসে দেশেই নানা বক্তব্য দিয়ে বেড়াচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের প্রতিবেদনে টিপাইমুখ বাঁধ বাংলাদেশের জন্য হবে অত্যন্ত হুমকিস্বরূপ। টিপাইমুখ বাংলাদেশের সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর সংযোগস্থল বরাক নদীতে অবস্থিত। ভারতের পরিকল্পনা হচ্ছে এ বরাক নদীতে বাঁধ দিয়ে ১৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন। এ বিশাল বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে পানির স্রোতের মাধ্যমে। অর্থাৎ কয়েক হাজার টন পানির জলাধারের মাধ্যমেই হবে টিপাইমুখ। এ বিশাল জলাধার বরাক নদীতে নির্মিত হলে ভয়াবহ ক্ষতির সম্মুখীন হবে বাংলাদেশ এবং ভারতের কয়েকটি রাজ্য।
ভাটির দেশ বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চলের ১৫ থেকে ১৮টি জেলা হবে এর প্রকাশ্য বলি। আর এর প্রভাব শুধু সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোতেই থাকবে না বরং গোটা দেশের ওপরও পড়বে। টিপাইমুখ বাঁধকে বন্ধ করার জন্য ভারতের রাজ্যগুলোও উঠেপড়ে লেগেছে। বাংলাদেশে তো শুরু থেকেই আন্দোলন হচ্ছে। নানা সংলাপ, সেমিনার, মানববন্ধন ইত্যাদি চলছেই। বাংলাদেশী প্রবাসীরাও আন্দোলন করেছে। কিন্তু এগুলো গায়ে লাগছে না ভারতের। তারা দিব্যি কাজ শুরু করে দিয়েছে। ভারত তার টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে বাংলাদেশকে বিস্তারিত তথ্য দেয়ার কথা থাকলেও বাস্তবতা শূন্য। টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনা না করে গঙ্গা পানি চুক্তি লঙ্ঘন করেছে ভারত। ভারতের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করা সময়ের অপরিহার্য দাবি। সরকারের উচিত এটি নিয়ে ভারতের সঙ্গে আলোচনা করা এবং রাজনৈতিকভাবেই এর সমাধান করা।
সরকারের মনে রাখা উচিত, বিশাল ম্যান্ডেট দিয়ে জনগণ তাদেরকে ক্ষমতায় বসিয়েছে, তাই ক্ষমতা নিয়ে জনগণের বিরুদ্ধে যায় এমন কোনো কাজ সরকারের করা উচিত হবে না। আজকের বাংলাদেশ জলবায়ু এবং আবহাওয়ায় এক চরম ঝুঁকির মধ্যে নিপতিত। আইলা নার্গিস এখন রীতিমতো বিষয়। উন্নত বিশ্বের পরিবেশ বিপর্যয়ের ফল ভোগ করতে হচ্ছে বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল বিশ্বকে। ঠিক ঝুঁকির মধ্যে টিপাইমুখ বাঁধ কতোটা থ্রেট তা বলাই বাহুল্য। আমরা চাই না আমাদের দেশের বিপর্যয়, চাই না কোনো প্রাণহাণি। প্রাকৃতিক পরিবেশ বিপর্যয়ে ভারত এ প্রকল্প বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হবে সন্দেহ। তাই সরকারকে এ ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানাচ্ছি।

ট্যাগঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।