Mahfuzur Rahman Manik
ট্রাম্প-পুতিনের শরীরী ভাষা
জুলাই 9, 2017
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রথম সাক্ষাতে তাদের শরীরী ভাষা বিশ্লেষণ করেছে বিবিসি

মানুষের মুখই কেবল কথা বলে না, শরীরের অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গও কথা বলে। প্রতিটি অঙ্গেরই নির্দিষ্ট ভাষা রয়েছে, মুখ দিয়ে উচ্চারণ না করলেও সেসব শরীরী ভাষা মানুষ বোঝে। এমনকি তা দিয়ে পরস্পরের সঙ্গে ভাববিনিময়ও হয়ে থাকে। সেসব শরীরী ভাষা নিয়ে ব্যক্তিগত পর্যায়ে আলোচনা হলেও সংবাদমাধ্যমে খবর হিসেবে আসাটা আশ্চর্যের বটে। তবে ব্যক্তিটি যদি রথী-মহারথী হয়, মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রে থাকে, তাকে নিয়ে খবর হতেই পারে। যেমনটা করেছে বিবিসি। শুক্রবার ৭ জুলাই শুরু হওয়া জি২০ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রথম সাক্ষাতে তাদের শরীরী ভাষা বিশ্লেষণ করেছে বিবিসি। বলা প্রয়োজন, এবার শিল্পোন্নত ২০টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের জি২০ শীর্ষ সম্মেলন হচ্ছে জার্মানিতে। ৭-৮ জুলাই অনুষ্ঠিত এ সম্মেলন শুরুর আগের দিন সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত রণক্ষেত্র হয় জার্মানির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর হামবুর্গ। পুঁজিবাদ ও বিশ্বায়নের প্রতিবাদে ১২ হাজার মানুষ রাস্তায় নামে। পুলিশ বেধড়ক লাঠিচার্জ করে, জলকামান, কাঁদানে গ্যাস, পিপার স্প্রে ছুড়ে। পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট, পাথর ছুড়ে মানুষ। তাতে জখম অন্তত ৭৪ জন অফিসার ও পুলিশকর্মী। বিক্ষোভকারীরা আহত হয়, গ্রেফতার হয়। এ রকম প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে অবশ্য সম্মেলনটি সম্পন্ন হয়।
আমেরিকা, রাশিয়া, ফ্রান্স, ব্রিটেন, জার্মানি, ভারতের মতো ক্ষমতাধর দেশগুলোর এ সম্মেলনেই প্রথম সাক্ষাৎ হয় ট্রাম্প ও পুতিনের। ক্ষমতাধরদের মধ্যে এরা বিশেষ বটে। তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো উভয় দেশই ঐতিহাসিকভাবে চির-বৈরী। যদিও ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পেছনে পুতিনের হাত রয়েছে বলে অনেকেই মনে করেন।
যাহোক, ৭ জুলাই বিবিসির ফিচারড ভিডিওতে শরীরী ভাষা বিশেষজ্ঞ ম্যারি সিভিয়েলো বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছেন, বিশ্বের ক্ষমতাধর দুই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও পুতিন প্রথম সাক্ষাতে যখন পরস্পরের সঙ্গে হ্যান্ডশেক করেন তাতে উভয়ের হাত সমান্তরালে ছিল, কারোটা উঁচু-নিচু হয়নি। উচুঁ-নিচু হলে সমস্যা হতো, উঁচুতে থাকাটা বেশি শক্তির নিদর্শন। এখানে উভয়ে সমানে সমানে থাকলেও বৈঠক শুরুর আগে তাদের অঙ্গভঙ্গির বিষয়টিতে ট্রাম্পকে এগিয়ে রেখেছেন এ বিশেষজ্ঞ। সে সময় ট্রাম্প দুই হাতের তালু নিয়ে খেলছিলেন। একে আরামদায়ক অবস্থার পরিচায়ক হিসেবে বিবিসিতে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে পুতিন তখন এক হাতের আঙুল দিয়ে অন্য হাতের আঙুল মটকাচ্ছিলেন। এ অবস্থাকে অস্বস্তিকর বলেছেন বিশেষজ্ঞ। তাদের চোখের ভাষা নিয়েও বিশ্লেষণ হয়। ট্রাম্প সে সময় স্বাভাবিকভাবে তাকাচ্ছিলেন। আর পুতিন তাকিয়েছিলেন নিচের দিকে। এখানেও ট্রাম্পকেই এগিয়ে রাখছেন ম্যারি সিভিয়েলো।
বলা বাহুল্য, হয়তো উভয়ে উভয়ের অবস্থান থেকে ঠিক ছিলেন, স্বাভাবিকই ছিলেন কিন্তু সাংবাদিক নাছোড়বান্দা। তাদের কথা দূরে থাক, পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে ভিডিও করে যে তার চুলচেরা বিশ্লেষণ হবে তা কে জানত। আসলে এর আগেও এ রকম ক্ষমতাধরদের শরীরী ভাষা নিয়ে খবর হয়েছে। এ জি২০ সম্মেলনের প্রথম দিনেরই আরেক ভিডিও প্রকাশ করেছে বিবিসি, তাতে দেখানো হয়েছে, জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেল পুতিনের ওপর চোখ ঘুরিয়েছেন।
মানুষের আগ্রহ আছে বলেই হয়তো সংবাদমাধ্যম এসব খুঁটিনাটি বিষয়ও খবর হিসেবে উপস্থাপন করে। তবে এটাও তো ঠিক, প্রত্যেকেরই ব্যক্তিত্বের সঙ্গে শরীরী ভাষার একটা সম্পর্ক রয়েছে। খুঁতখুঁতে স্বভাবের অনেকে হয়তো বিষয়টি খুব ভালোভাবেই লক্ষ্য করেন। সুতরাং নতুন কোথাও গেলে যে আপনার অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ব্যাপারেও নজর রাখতে হবে। আর ক্ষমতাধর হলে তো কথাই নেই।

ট্যাগঃ , , , ,

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।