Tag Archives: সাক্ষরতা

প্রকল্প ও দিবসনির্ভর সাক্ষরতা

করোনাদুর্যোগের মধ্যেই এবারের সাক্ষরতা দিবসের তাৎপর্য বহুমুখী। জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা ইউনেস্কোও বিষয়টি ধরে দিবসটির প্রতিপাদ্য করেছে- ‘কভিড-১৯ সংকট :সাক্ষরতা শিক্ষায় পরিবর্তনশীল শিখন-শেখানো কৌশল এবং শিক্ষাবিদদের ভূমিকা’। অর্থাৎ করোনার নতুন পরিস্থিতিতে সাক্ষরতা শিক্ষায়ও পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবী। এ ক্ষেত্রে মূল ভূমিকা রাখবেন শিক্ষক বা শিক্ষাবিদরা। বলাবাহুল্য, দেশে সাক্ষরতার যতটুকু অর্জন, সেখানে শিক্ষকরাই মুখ্য ভূমিকা পালন করে এসেছেন। আর সাক্ষরতার হার বাড়াতে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার অবদানই বেশি। রোববার সাক্ষরতা দিবসের সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, দেশে সাক্ষরতার হার ৭৪.৭ শতাংশ। গত এক বছরে সাক্ষরতার হার বেড়েছে শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ। সাক্ষরতার হার নিয়ে বেসরকারি তথ্যে অমিল থাকলেও সরকারি হিসাব অনুযায়ীই চার ভাগের এক ভাগ মানুষ এখনও নিরক্ষর।

অথচ সরকার ২০১৪ সালের মধ্যে শতভাগ সাক্ষরতা অর্জনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এরপর অর্ধযুগ পার হলেও আমরা শতভাগের কাছে যেতে পরিনি। এখানে ব্যর্থতা প্রকল্পের। সাক্ষরতা সংক্রান্ত দুটি বড় প্রকল্পের পরিকল্পনা করা হলেও সেগুলো যথাসময়ে বাস্তবায়ন হয়নি বলেই আমরা পিছিয়ে পড়েছি। অবশ্য সাক্ষরতার যেসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে, সেগুলোর ফলও সন্তোষজনক নয়। ১৫ থেকে ৪৫ বছর বয়সী প্রায় সাড়ে তিন কোটি মানুষকে সাক্ষর করতে ২০১৪ সালে ৪৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে নেওয়া চলমান ‘মৌলিক সাক্ষরতা প্রকল্পের (৬৪ জেলা)’ ফলও হতাশাজনক। ৩ সেপ্টেম্বর সমকালে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসেছে, চার বছরের এই প্রকল্প দুই দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে ছয় বছর করলেও সাক্ষরতা বৃদ্ধিতে বিশেষ কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি বলে সংসদীয় কমিটি ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ একে ‘ব্যর্থ’ প্রকল্প হিসেবে চিহ্নিত করেছে। সংসদীয় কমিটি প্রকল্পটির মেয়াদ আর না বাড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন নেওয়ার পরামর্শ দিলেও মুজিববর্ষের কথা বলে প্রকল্পের মেয়াদ তৃতীয় দফায় ২০২১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। দেখার বিষয়, এই প্রকল্প আর কতদূর যায়। Continue reading

‘শতভাগ সাক্ষরতা’ কতদূর

কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দিয়ে নিরক্ষর মানুষদের সাক্ষরতার কাজে নিয়োজিত করা যায়

আজকের সাক্ষরতা দিবসের প্রাক্কালে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তরফে আমরা জানছি, দেশে বর্তমান সাক্ষরতার হার ৭৩.৯ শতাংশ। এখনও প্রায় ২৬ শতাংশ মানুষ নিরক্ষর। অর্থাৎ শতভাগ সাক্ষরতা অর্জনে বাকি এ সংখ্যাটি। এর সঙ্গে আরেকটি হিসাবও জরুরি। এ জন্য একটু পেছনে ফিরতে হবে। ঠিক ১০ বছর আগে আমরা দেখেছি, তখন সরকার ২০১৪ সালের মধ্যে শতভাগ সাক্ষরতা অর্জনের অঙ্গীকার করে। ২০১২ সাল পর্যন্ত জোরেশোরে এ প্রচারণা চলে। তখন উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর ওয়েবসাইট খুললেই লেখা উঠত- ‘উই আর কমিটেড টু এনশিউর হান্ড্রেড পার্সেন্ট লিটারেসি বাই টোয়েন্টিফোরটিন।’ কিন্তু ২০১২ সালের সাক্ষরতা দিবসের দু’দিন পর আমরা জানতে পারলাম- সে সময়ের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর ভাষায়, ‘২০১৪ সালের মধ্যে দেশ থেকে নিরক্ষরতা দূরীকরণের ঘোষণা থাকলেও সম্ভব হচ্ছে না। তবে আমরা একটি ট্র্যাকে পৌঁছাতে চাই।’ হঠাৎ করে সম্ভব না হওয়ার কারণ অনুসন্ধান করে আমি ওই সময় সাক্ষরতা দিবসে (৮ সেপ্টেম্বর ২০১২) সমকালেই লিখেছিলাম, ‘দুটি প্রকল্পের পোস্টমর্টেম এবং শতভাগ সাক্ষরতা’। সে সময় সরকার দুটি প্রকল্প হাতে নেয়। প্রথমটি ৬১ জেলার নিরক্ষরদের সাক্ষর করার জন্য, ব্যয় ২ হাজার ৯৬২ কোটি টাকা আর অন্যটি এর বাইরের তিনটি পার্বত্য জেলার জন্য, ব্যয় ৫০ কোটি টাকার কিছু বেশি। সে সময় টাকার অভাব দেখিয়ে প্রকল্প দুটি বাস্তবায়ন করেনি সরকার। আর ওই দুটি প্রকল্প যখন বাতিল হলো, তখন শতভাগ সাক্ষরতার স্লোগানও শেষ হলো। তার মানে শতভাগ সাক্ষরতার স্লোগান ছিল প্রকল্পসর্বস্ব। আরও আশ্চর্যের বিষয়, সে সময় দুটি প্রকল্পের স্থানে গ্রহণ করা হয় মৌলিক সাক্ষরতা প্রকল্প। সেই প্রকল্পই মেয়াদ বাড়িয়ে এখনও চলছে। গত এক বছরে তার সুফল হলো সাক্ষরতার হার বেড়েছে মাত্র ১ শতাংশ। এভাবে করে ২০১৪ সাল থেকে পিছিয়ে আসা ‘শতভাগ সাক্ষরতা’ আমাদের কবে অর্জিত হবে? Continue reading

‍সাক্ষরতায় ‌‘আজিবাইচিঁ শালা’

ভারতের মহারাষ্ট্রে অবস্থিত দাদি-নানিদের জন্য স্কুল ‘আজিবাইচিঁ শালা’

শিক্ষার বয়স নেই। শিশুও প্রকৃতি থেকে শেখে। তবে শিশুর আনুষ্ঠানিক পড়াশোনার বয়স আছে বটে। জার্মানিতে তো শিশুদের ৬ বছরের আগে বিদ্যালয়ে যাওয়াই নিষেধ। আমাদের এখানে অবশ্য অনেকে ৩ বছর থেকেই শিশুদের স্কুলে পাঠানো শুরু করেন। শিশুর ব্যাগও ভারী হয় তখন থেকেই। তা বন্ধে আদালতের রায়ও রয়েছে। সে ভিন্ন প্রসঙ্গ। তবে এটা ঠিক, আনুষ্ঠানিক পড়াশোনা যেন একটা বয়সের ফ্রেমে আবদ্ধ। ছোটবেলায় যারা শিক্ষা থেকে ঝরে পড়ে, পরবর্তীকালে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও অনেকে পড়াশোনায় ফিরতে পারে না। হয়তো বয়সে বাধা জয় করতে লজ্জা পায়। পারিপার্শ্বিক নানা কারণও থাকতে পারে। তার পরও মাঝে মধ্যে আমরা দেখি ‘বাবা-ছেলে এসএসসি পরীক্ষার্থী’। কিংবা এ রকম বেশি বয়সে পড়ার প্রেরণাদায়ী নানা খবর সংবাদমাধ্যমের কল্যাণে আমাদের কাছে আসে। প্রাসঙ্গিকভাবে ৮ মার্চ এবারের নারী দিবসে বিবিসির ‘মিট দ্য গ্র্যানি’স গোয়িং টু স্কুল’ শিরোনামের প্রতিবেদনটি প্রণিধানযোগ্য। সেখানে ভারতের দাদি-নানিদের একটি স্কুলের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।
স্কুলটি দাদি-নানিদের জন্যই বটে। ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্য, যেখানে নারীরা তুলনামূলক শিক্ষার সুযোগ কম পান। পরিসংখ্যান বলছে, সেখানে পুরুষ-নারীর সাক্ষরতার হার ৩ অনুপাত ১। সেখানেই এবারের নারী দিবসে স্কুলটির বয়স হয়েছে ১ বছর। মহারাষ্ট্রের ছোট একটি গ্রাম ফাংগানের দাদি-নানিদের স্কুলে ৯০ বছরের বৃদ্ধাও রয়েছেন। ‘আজিবাইচিঁ শালা’ নামের এ স্কুলটির মোট শিক্ষার্থী ২৯ জন নারী, যাদের বয়স ৬০-৯০ বছর। বয়সের কারণে অনেকে ঠিকমতো অক্ষরও দেখেন না। Continue reading

ছিটমহল: শিক্ষা থাকুক অগ্রাধিকারে

Chitmahal-edn

দাসিয়ারছড়া ছিটমহলের একটি প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষাকেন্দ্র। ছবি: সমকাল

ছিটমহলের অন্ধকার যখন কাটতে শুরু করেছে তখন আলোই সেখানকার গন্তব্য। দুই দেশের তরফ থেকে আইনগত বাধা দূর হওয়ার কথা জেনে শুরুতেই ছিটমহলবাসী সে আলোর সন্ধান করেছেন। ৭ মে সর্বশেষ ভারতের লোকসভায় এ সংক্রান্ত বিল পাসের পর থেকেই তাই সংবাদমাধ্যমের কল্যাণে আমরা জানতে পারছি, সেখানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের জন্য ‘সাইনবোর্ড তোলার হিড়িক’। যদিও সেগুলো প্রস্তাবিত এবং প্রাথমিক পর্যায়ে কেবলই সাইনবোর্ড, তারপরও এর মাধ্যমে কেবল একটা বার্তাই ছিটমহলবাসী দিচ্ছেন যে, তারা দ্রুতই শিক্ষার আলোয় আলোকিত হতে চান। আর সর্বশেষ মঙ্গলবার (২৩ জুন) প্রকাশিত ‘খুলেছে শিক্ষার বন্ধ দরজা’ শিরোনামে সমকালের প্রতিবেদনটি যে তারই ধারাবাহিকতা। যেটি বলছে, ছিটমহলগুলোতে প্রাথমিকভাবে ইসলামিক ফাউন্ডেশন শিক্ষার কাজ হাতে নিয়েছে। তারা মসজিদভিত্তিক শিশু শিক্ষা ও গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রকল্পের আওতায় প্রথম রমজান থেকেই ১০০টি প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা কেন্দ্র চালু করেছে। এটা অবশ্যই আশাজাগানিয়া খবর। যদিও তারা কেবল প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার ব্যবস্থা করছে এবং সেটা প্রয়োজনের তুলনায় হয়তো নগণ্য। Continue reading