Category Archives: শিক্ষানীতি

শিক্ষায় বড় তিন পরিবর্তন- তিনটি ছোট প্রশ্ন

তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পরীক্ষা নেই, পঞ্চম শ্রেণিতে সমাপনী কেন

শিক্ষাব্যবস্থায় ‘ব্যাপক’ পরিবর্তন আসছে বলে আমরা সম্প্রতি সংবাদমাধ্যম থেকে জানছি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তন প্রয়োজন। তবে পরিবর্তন যেমন ইতিবাচক ফল বয়ে আনতে পারে, তেমনি নেতিবাচকও হতে পারে। পরিবর্তন যাতে ইতিবাচক হয় সেটাই কাম্য। সে প্রত্যাশায় আমাদের প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা- প্রতিটি স্তরেই যে বড় পরিবর্তন আসছে, তা নিয়ে আমি আগাম তিনটি ছোট প্রশ্ন রাখতে চাই।

তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পরীক্ষা নেই, পঞ্চম শ্রেণিতে সমাপনী কেন : শিক্ষাব্যবস্থায় যে পরিবর্তনের কথা আমরা শুনছি, এর মধ্যে সবচেয়ে যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত হবে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পরীক্ষা উঠিয়ে দেওয়া। শিশুদের সুন্দর, সুষম ও সৌহার্দ্যপূর্ণ বিকাশে এটি সত্যিই জরুরি। পরীক্ষা তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে আমরা ধন্যবাদ জানাই। ছোটবেলা থেকেই যেভাবে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার চাপে পিষ্ট, যেভাবে শিশু ও অভিভাবকের মধ্যে পরীক্ষায় ‘ভালো ফল’-এর জন্য অসুস্থ প্রতিযোগিতা চালু রয়েছে; যেভাবে শিশুরা কোচিং-প্রাইভেট টিউটরের কাছে ধর্ণা দিচ্ছে, তা থেকে নিস্কৃতি পেতে পরীক্ষা বাদ দেওয়ার কোনো বিকল্প নেই। সিঙ্গাপুর ও ফিনল্যান্ডের মতো শিশুদের পরীক্ষা উঠিয়ে দিয়ে আনন্দদায়ক পরিবেশে শিক্ষার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। এটা হয়তো ঠিক; সিঙ্গাপুর-ফিনল্যান্ডের মতো পরিবেশ-পরিস্থতি আমাদের নেই। আমরা জানি, ফিনল্যান্ডে শিশুদের ১৬ বছর পর্যন্ত কোনো পরীক্ষাই নেই। আমরা তাদেরটা পুরোপুরি না হোক, কিছু তো অনুসরণ করতে পারি। তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পরীক্ষা উঠিয়ে দেওয়া যতটা উপকারী; পঞ্চম শ্রেণির সমাপনী ততটাই অপকারী। Continue reading

Whither the education policy?

The formulation of the National Education Policy 2010 is one of the successes of the present government, but its implementation process is moving at a very slow pace.

Two years have already passed since the education policy was adopted. After coming to power in January 2009, the present government formed a committee to draft the education policy in April of the same year. The committee was headed by National Professor Kabir Choudhury. Kazi Kholiquzzaman and Muhammed Zafar Iqbal were among the other 18 members of the committee.

The committee submitted the draft of the policy in September 2009. It was then made public on the education ministry website for open discussion, soliciting opinions on the draft.

At that time, the government said that the education policy would be finalised within December of that year and the implementation process would start from January 2010. But that deadline was not met; rather it was approved in the cabinet on May 31 2010, and it was adopted in the form of a bill by parliament on December 7 of the same year.

Later, to finalise the implementation process of the education policy, 24 sub-committees were formed on January 26, 2011. The sub-committees were told to submit their reports within two or three months.

Recent media reports indicate that not a single sub-committee had submitted their reports, even after eight months. On September 29, the education minister urged the members of the sub-committees to complete their recommendations within the next 20 days. When the sub-committees could not complete it within eight months, how could they do it in another 20 days? Sure enough, more than two months have passed since and recommendations are yet to be completed.

Clearly, one of the main reasons behind this delay is ‘bureaucratic complexity’, as all the sub-committees are headed by a bureaucrat, like secretary, additional secretary and joint secretary. They are busy with their regular official duties and are apparently unable to provide enough time for the purpose.

The inordinate delay is raising many questions about the implementation process of the education policy. Although the government took up the issue of formulation of the education policy within four months of coming to power, as a priority initiative, its implementation process is now moving at a snail’s pace. The government did not even allocate any additional funds for the implementation of the education policy in the budget for 2011-2012. The education and IT sector got only 12.4 per cent allocation of the whole budget, similar to that of other years.

The most important characteristic of this education policy is that only two stages have been defined, instead of the earlier three stages, before the higher education stage. Primary (Class 1 to 8) and secondary education (Class 9 to 12) would replace the existing three stages of primary (Class 1-5), secondary (Class 6 to 10) and higher secondary education (Class 11 to 12).

It was expected that the extension of the primary education will start from 2012. But that is unlikely to happen. The sub-committee which is working on this extension is headed by the secretary of the ministry of primary and mass education. The sub-committee could only sit once during this entire period.

What is the necessity to form such sub-committees for implementation of the education policy primarily with bureaucrats? It could have been formed with the specialists or educationists, who would have been better equipped to do the job. In this sense, the experience of experts from the Institute of Education Research (IER) of Dhaka University could have been utilised.

The slow pace of implementation of the National Education Policy 2010 is a cause for serious concern. Although some limited progress has been made like instituting the Junior School Certificate system and starting primary-level terminal exams and the setting of structured questions for examinations. But the inordinate delay in the overall implementation of the education policy is not acceptable.

The Daily Financial express 03.12.2011

কোন পথে শিক্ষা নীতি

সন্দেহ নেই, জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ প্রণয়ন বর্তমান সরকারের একটা বড় কৃতিত্ব। কিন্তু পদে পদে শিক্ষা নীতি বা শিক্ষানীতির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় যে ধীরগতি লক্ষ্যনীয়, তাতে এ শিক্ষানীতি চুড়ান্তভাবে কার্যকর হবে কি-না তা নিয়ে সন্দিহান হওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে। বর্তমান সরকারের ক্ষমতা গ্রহণের সঙ্গে শিক্ষানীতির সম্পর্ক ওতপ্রোতভাবে জড়িত। জানুয়ারিতে এ সরকারের মেয়াদ হবে তিন বছর, আর এখন পর্যন্ত শিক্ষানীতিও আড়াই বছর পার করে এসেছে। আড়াই বছর পর শিক্ষানীতি এখনও প্রক্রিয়াধিন
এ বিষয়টা বুঝার জন্য কিছু তারিখের অতিরঞ্জিত ব্যবহার করতেই হচ্ছে। ২০০৯ এর ৬ জানুয়ারি বর্তমান সরকার ক্ষমতাগ্রহন করেই তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে যে শিক্ষনীতির কথা বলা হয়েছে ; বলাচলে তাতেই প্রথম হাত দেয়। ওই বছরের ৪ এপ্রিল জাতীয় অধ্যাপক কবীর চৌধুরীর নেতৃত্বে আঠারো সদস্যের শিক্ষানীতি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি অত্যন্ত দ্রুত সময়ে, মাত্র চারমাসের মাথায় ২ সেপ্টেম্বর খসড়া রিপোর্ট পেশ করে। খসড়া রিপোর্ট শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে এবং তার ওপর মন্তব্য জানাতে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত সকলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয় সরকার।
দ্রুত খসড়া রিপোর্ট পেয়েই সরকারের শিক্ষাসংশ্লিষ্টরা আশা করেছিলেন ২০০৯ এর ডিসেম্বরের মধ্যে তা চুড়ান্ত করে জানুয়ারি থেকেই বাস্তবায়ন শুরু করবেন। যদিও সে আশায় গুড়েবালি। অবশ্য সে রিপোর্ট চুড়ান্ত হয়েছিলো তারও একবছর পর ২০১০ এর ৭ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদে পাশ হওয়ার মাধ্যমে। মাঝখানে এটি মন্ত্রী-পরিষদের বৈঠকে ওঠে ৩১ মে ২০১০, এছাড়া ২৭ জুন গঠন করা হয় শিক্ষানীতি বাস্তবায়নসংক্রান্ত ৩২ জনের উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন জাতীয় কমিটি।
তবে শিক্ষানীতি চূড়ান্ত বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নির্ধারণের জন্য এ বছরের (২০১১) ২৬ জানুয়ারি ২৪ টি উপকমিটি গঠন করা হয়। যেমন শিক্ষা আইন প্রনয়ণ কমিটি, পাঠ্যপুস্তক আধুনিকীকরণ কমিটি, শিক্ষা কমিশন কমিটি, পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষা বর্ধিতকরণ কমিটি ইত্যাদি। এসব কমিটিকে দুই-তিন মাসের মধ্যে রিপোর্ট দেয়ার কথা বলা হয়। কিন্তু মজার বিষয় হলেও এখন নভেম্বর; অর্থাৎ আট মাস পরও কোনো কমিটি তাদের প্রতিবেদন পেশ করতে পারে নি।
এ বিষয়ে গত সেপ্টেম্বরে যুগান্তরসহ প্রায় প্রত্যেকটি দৈনিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনগুলো দেরির কারণ হিসেবে একটি বিষয়কেই দেখিয়েছে ‘আমলাতান্ত্রিক জটিলতা’। শিক্ষানীতি বাস্তবায়নে উপ-কমিটিগুলোর প্রায় প্রত্যেকটির মূল দায়িত্বে আছে বিভিন্ন মন্ত্রনালয়ের সচিব, যুগ্ম সচিব, অতিরিক্ত সচিব পর্যায়ের আমলারা। যারা নিজেদের দাফতরিক কাজ, জনপ্রতিনিধিদের ডিও লেটার নিষ্পত্তিসহ নানা কাজ সামাল দিতেই ব্যস্ত।
শিক্ষানীতির অগ্রগতি সংক্রান্ত সংবাদপত্রের প্রতিবেদনের পরই শিক্ষামন্ত্রীর নেতৃত্বে শিক্ষানীতি জাতীয় কমিটির এক বৈঠক হয় ২৯ সেপ্টেম্বর। বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী কোনো অজুহাত না দেখিয়ে সকল কমিটিকে ২০ দিনের মধ্যে রিপোর্ট দেয়ার নির্দেশ দেন। অবশ্য শিক্ষামন্ত্রীর দেয়া সে ২০ দিনও ইতিমধ্যে শেষ হয়ে গেছে; কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো কমিটি রিপোর্ট দিয়েছে বলে আমরা জানি না। এটা ঠিক যে কাজ ২০০ দিনেও হয়নি সেটা ২০ দিনে কিভাবে হবে।
এ হলো শিক্ষানীতি ২০১০ এর সর্বশেষ চিত্র। যেটি হতাশা ছাড়া কোনো আশার আলো দেখাচ্ছে না। যদিও বিচ্ছিন্নভাবে শিক্ষানীতির কিছু বাস্তবায়নের কথা সরকার বলছে, যেমন- পঞ্চম শ্রেণীর সমাপনী, অষ্টম শ্রেণীর জেএসসি ইত্যাদি। এছাড়া নতুন কারিকুলামের কাজ শুরু হয়েছে বলেও গনমাধ্যম বলছে, আবার বিনামূল্যে বই বিতরণকেও এরই সাফল্য হিসেবে দেখাতে চায় সরকার।
বর্তমান শিক্ষানীতির বড় বৈশিষ্ট্য আকারে সবাই দেখছে প্রাথমিক শিক্ষাকে পঞ্চম শ্রেণী হতে বাড়িয়ে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত করাকে। ২০১২ সাল থেকেই তা বাস্তবায়নের কথা থাকলেও তা হয়তো হচ্ছে না। এখানে প্রথমত: সংশ্লিষ্ট কমিটির ব্যর্থতা। কমিটি যদি এবছরের আরও আগের দিকে বর্ধিত করণ সংক্রান্ত সুপারিশ পেশ করতে পারতো; হয়তো সরকারের পক্ষে তার বাস্তবায়ন সহজ হতো, বা সরকার ২০১২ হতে বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারতো। আসল কথা হলো সংবাদ মাধ্যম বলছে, বিষয়টা নিয়ে কমিটি নিজেরাই দ্বিধাদ্বন্দ্বে আছে। অস্বীকার করার জো নেই বাংলাদেশের জন্য হুট করেই প্রাথমিককে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত বাড়ানো কষ্টকরই বটে।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে সম্প্রতি সর্বকালের সেরা বাজেট ২২ হাজার কোটি টাকার পিইডিপি-৩ শুরু হওয়ার কথা। সেখানে খাত হিসেবে কিন্তু শিক্ষানীতি বাস্তবায়নের কথা আসেনি। যদিও বর্তমান প্রাথমিক শিক্ষার যে অবস্থা তাতেই অনেক নতুন বিদ্যালয় প্রয়োজন, প্রয়োজন নতুন শিক্ষক নিয়োগ এছাড়া বিদ্যালয় অবকাঠামোসহ সার্বিক উন্নয়ন ভালোভাবে করতে এ বাজেট প্রয়োজন। এর বাইরে নতুন করে শিক্ষাস্তর বর্ধিতকরণের খরচতো লাগবেই। অবশ্য সরকার চাইলে উভয়কে একীভূত করে একই সঙ্গে উন্নয়ন এবং বর্ধিতকরণের কাজে হাত দিতে পারে।
তবে শিক্ষানীতি অগ্রগতির প্রতিবন্ধকতার অন্যতম কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্ট সূত্র যে অর্থনৈতিক কারণকে দেখিয়েছে এটা দুঃখজনক। শিক্ষানীতি বাস্তবায়নের জন্য আলাদা কোনো বরাদ্দ না থাকলে এর কাজ এগুবে না এটাই স্বাভাবিক। অবশ্য বিষয়টা আমরা এবারের ২০১১-২০১২ জাতীয় বাজেটেই দেখেছি। সেখানে শিক্ষার জন্য বরাদ্দ ছিলো বলাচলে আগেকার বছরগুলোর তুলনায় আরও কম- শিক্ষাও প্রযুক্তি উভয় খাত মিলে বরাদ্দ দেয়া হয় মোট বাজেটের ১২.৪ ভাগ মাত্র। যেখানে শিক্ষানীতি বাস্তবায়নের জন্য কোনো বাজেট ছিলো না।
শিক্ষানীতি বাস্তবায়নের কমিটিগুলোতে আমলা নির্ভরতা কমিয়ে যারা যথার্থ শিক্ষা নিয়ে গবেষণা করে তাদেরকে অন্তর্ভূক্তকরণটা তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষা নিয়ে যারা পড়াশোনা করে, গবেষণা করছে তারাও এখানে কাজ করতে পারে। তবে কমিটিগুলোর ওপরই এখন নির্ভর করছে শিক্ষানীতির পরবর্তী বাস্তবায়ন কাজ। এক্ষেত্রে মনিটরিং গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষামন্ত্রী এ বিষয়টা নিশ্চয় দেখছেন। তবে ২০ দিন বা এরকম তাড়াহুড়া করে কোনো সময় বেঁধে না দিয়ে প্রকৃত কাজ যাতে হয় তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
সরকার শুরু থেকেই যে প্রণোদনা নিয়ে কাজটা শুরু করেছে, তাড়াহুড়ো করে করা শিক্ষানীতির শেষটা দেখতেই এখন সবাই আগ্রহী। এটা নানা কারণে, এখনও এ শিক্ষানীতি যে স্তরে আছে তা আগের শিক্ষানীতিগুলোর মতই। এর আগে ২০০৪ এর মনিরুজ্জামান মিয়া শিক্ষা কমিশনও বলা চলে কমিটি পর্যন্তই সীমাবদ্ধ ছিলো। অবশ্য এবারেরটা আরেকটু এগিয়ে আছে। কারণ এটা জাতীয় সংসদে পাশ হয়েছে। সরকারও শুরু থেকেই এটা বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আর এজন্যই অতীতের ‘খসড়া রোগে আক্রান্ত’ শিক্ষানীতিগুলো থেকে এবারের নীতিকে সবাই ভিন্ন চোখে দেখে আসছে।
বলার অপেক্ষা রাখেনা, শিক্ষানীতি বাস্তবায়ন খুব সহজ কাজ নয়। এর জন্য যে প্রস্তুতি, প্রক্রিয়া দরকার তা সময় সাপেক্ষ বটে। এর জন্য গবেষণারও প্রয়োজন আছে। শিক্ষানীতির সুপারিশক্রমে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় নতুন যে দুটি পাবলিক পরীক্ষা শুরু হয়েছে, তার যথার্থতা বা কার্যকারিতার জন্য গবেষণা হয়েছে বলে জানিনা। এমনকি অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষা বর্ধিতকরণের জন্য কোনো স্টাডি হয়েছে বলেও কিছু পাওয় যায়নি। তবুও এ শিক্ষানীতি বাস্তবায়ন হোক, এটি বাস্তবায়নে সরকার যথাযথ পদক্ষেপ নিক। পরে ধাপে ধাপে এর মানানসই উন্নয়ন সম্ভব হবে।

যুগান্তর ২১.১১.১১

নিজস্ব আয়ে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার নীতি!

‘বাংলাদেশে বর্তমানে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় ভর্তি ফি ও বেতন খুবই সামান্য।’ এ বক্তব্য দিয়ে শিক্ষাব্যয় বাড়ানোর একটা নীতিগত ন্যায্যতা তৈরি করেছে শিক্ষানীতি। অবশ্য এর আগের সব শিক্ষানীতি বা কমিশন— তা কুদরাত-এ খুদাই হোক, মজিদ খান কিংবা শামছুল হক সবাই এ শিক্ষাব্যয় বাড়ানোর সুপারিশই করেছেন
বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষায় ভর্তির হারটা দেখার চেষ্টা করি। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের ২০০৬-এর হিসাব অনুযায়ী ৪ শতাংশ শিক্ষার্থী মাত্র উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়, যা অন্য অনেক দেশের তুলনায় কম। স্বাভাবিকভাবেই সরকারের উচ্চশিক্ষা সম্প্রসারণের নীতি গ্রহণ করা ছিল বাস্তবতা। ঘটল উল্টোটা। ২০০৬ সালে তৈরি হয় দেশের উচ্চশিক্ষা কৌশলপত্র, যেখানে শিক্ষার সম্প্রসারণের বদলে সংকোচন নীতি গ্রহণ করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের এ কৌশলপত্র অনুযায়ী সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি বৃদ্ধি করে।
সম্প্রতি (২৫ সেপ্টেম্বর) প্রথম আলো ‘তিন বিশ্ববিদ্যালয়কে টাকা দিতে অর্থ মন্ত্রণালয় রাজি নয়’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনের ভাষ্যমতে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সময় বলে দেয়া হয় পাঁচ বছর এবং জাতীয় কবি নজরুল ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়কে ১০ বছরের মাথায় নিজের আয় থেকে নিজস্ব ব্যয় নির্বাহ করতে। পাঁচ বছর পার হওয়ার পর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আর অন্য দুটি বিশ্ববিদ্যালয় ১০ বছরের মেয়াদ শেষের আগেই বলছে, এটা সম্ভব নয়।
প্রতিবেদনটি প্রকাশের দিন থেকেই উত্তাল ছিল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। অবশ্য এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন অনেক দিনের। বিশেষ করে তারা যখন জানল, সরকার তাদের কাঙ্ক্ষিত ২৭(৪) ধারা বাতিলের দাবিকে অস্বীকার করে জানিয়ে দেয়— এ ধারা বাতিল হবে না। অর্থাত্ তাদের নিজস্ব আয়েই চলতে হবে এবং সরকার কোনো টাকা দিতে পারবে না। ২৫ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর চার দিনের বিক্ষোভ প্রশাসন সামলাতে না পেরে পূজার ছুটির নামে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইনের ২৭(৪) ধারায় বলা হয়, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রকল্প বাস্তবায়িত হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের পৌনঃপুনিক ব্যয় জোগানে সরকার কর্তৃক প্রদেয় অর্থ ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাইবে এবং পঞ্চম বত্সর হইতে উক্ত ব্যয়ের শত ভাগ অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আয় ও উত্স হইতে বহন করিতে হইবে।’
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি দমাতে পুলিশ যেমন তাদের ওপর দমন-পীড়ন করে, তার চেয়ে ছাত্রলীগের পদদলন ছিল দেখার মতো। এর চেয়েও আশ্চর্যের বিষয়— জগন্নাথের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে ব্লগাররা যখন সোচ্চার, সে আন্দোলন থেকে ৩১ জনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার করা হয় ব্লগার আসিফকে।
জগন্নাথের বিষয়ে বিস্তর আলোচনার পরিবর্তে আমাদের উচ্চশিক্ষার নীতি দেখব। কারণ জগন্নাথের এ ঘটনাপ্রবাহ এ নীতিরই এক অনিবার্য পরিণতি। ২০০৬ সালে বিশ্বব্যাংক ও এডিবির অর্থায়ন এবং পরামর্শে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন উচ্চশিক্ষার কৌশলপত্র তৈরি করে। কৌশলপত্রের সুপারিশমালা চার পর্বভিত্তিক মেয়াদে বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে। এগুলো হলো— প্রাথমিক পর্ব ২০০৬-০৭, স্বল্পমেয়াদি ২০০৮-১৩, মধ্যমেয়াদি ২০১৪-১৯ ও দীর্ঘমেয়াদি ২০২০-২৬। এতে সরকারের কাছে উচ্চশিক্ষা খাতে সব ধরনের ভর্তুকি বন্ধের সুপারিশ করা হয়েছে। তাতে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষা ব্যয় খুবই কম। সরকারের উচিত উচ্চশিক্ষা গ্রহণকারীদের মাধ্যমে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য প্রয়োজনীয় ফান্ড তৈরি করা।
মঞ্জুরি কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যয়ের ৫০ শতাংশ অর্থ আসতে হবে এর অভ্যন্তরীণ খাত থেকে। এর মধ্যে শিক্ষার্থীদের বেতন-ফি বৃদ্ধির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ খাতে আয় বাড়ানোর দিকটায় জোর দিতে হবে। মঞ্জুরি কমিশনের এ সুপারিশ এরই মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বাস্তবায়ন শুরু করেছে। সরাসরি বেতন-ফি বৃদ্ধি না করেও বিভিন্ন ফির নাম করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ঠিকই টাকা নিচ্ছে। যেমন বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বেতন মাসে ২৫ টাকা। সে হিসাবে বছরে দাঁড়ায় ৩০০ টাকা। অথচ গত দুই সেশনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শুধু পরিবহন চার্জই দিতে হয়েছে বার্ষিক এক হাজার ৮৫ টাকা করে।
২০০৬ সাল থেকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বিভিন্নভাবে বছর বছর ফি বাড়াচ্ছে। অভ্যন্তরীণ আয় বৃদ্ধির কয়েকটি খাতের মধ্যে রয়েছে ছাত্র বেতন বৃদ্ধি, আবাসন ও ডাইনিং চার্জ বৃদ্ধি, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থাপনা ভাড়া দেয়া, ক্যাফেটেরিয়া ভাড়া, দোকান ভাড়া, কনসালটেন্সি সার্ভিস, বিশ্ববিদ্যালয়ের বীমা প্রভৃতি। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আয় বাড়ানোর আরেক নজির হলো সান্ধ্য কোর্স চালু।
জগন্নাথসহ সাম্প্রতিক সময়ে যত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হয়েছে, সবগুলোর চরিত্রই বলা চলে ‘নামে পাবলিক হলেও কর্মকাণ্ডে প্রাইভেট’। বলা যায়, ‘বেসরকারি মডেলে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়’। যেমন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভাগ চারটি। ভর্তি ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার ২০০, ডাইনিং ফি এক হাজার ৮০০ এবং বিদ্যুত্ বিল ও সেমিস্টার ফি বাবদ ৫ হাজার টাকা দিতে হবে প্রতি শিক্ষার্থীকে।
বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার নীতিতে সম্প্রসারণের চেয়ে সংকোচন প্রবণতা স্পষ্ট। আমাদের শিক্ষানীতিগুলোও নীতি হিসেবে সংকোচনকে গ্রহণ করেছে। অবশ্য এবারের চূড়ান্ত শিক্ষানীতিতে কৌশলে এ ধারাটি বাদ দেয়া হয়েছে, যদিও নীতির খসড়ায় তা স্পষ্ট ছিল। উচ্চশিক্ষা অধ্যায়ে কৌশল-১০ এ বলা হয়েছে, ‘সরকারি অনুদান ছাড়াও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যয় নির্বাহের জন্য শিক্ষার্থীর বেতন ব্যবহার করতে হবে এবং ব্যক্তিগত অনুদান সংগ্রহের চেষ্টা চালাতে হবে। বাংলাদেশে বর্তমানে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় ভর্তি ফি ও বেতন খুবই সামান্য।’ এ বক্তব্য দিয়ে শিক্ষাব্যয় বাড়ানোর একটা নীতিগত ন্যায্যতা তৈরি করেছে শিক্ষানীতি। অবশ্য এর আগের সব শিক্ষানীতি বা কমিশন— তা কুদরাত-এ খুদাই হোক, মজিদ খান কিংবা শামছুল হক সবাই এ শিক্ষাব্যয় বাড়ানোর সুপারিশই করেছেন। বিশ্বব্যাংক, আইএমএফের পিআরএসপির কৌশলেও ছাত্রদের বেতন-ফি বাড়িয়ে শিক্ষাব্যয় বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে।
বর্তমানে বাংলাদেশের ১৭ থেকে ২৩ বয়সী ৪ শতাংশের কিছু বেশিসংখ্যক ছাত্র উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে। ভারতে এ হার ১১ দশমিক ৯, মালয়েশিয়ায় ২৯ দশমিক ৩ ও থাইল্যান্ডে ৩৭ দশমিক ৩ ভাগ। আমাদের উচ্চশিক্ষা সবার জন্য আবশ্যক, সে কথা বলছি না। দেশের বেশির ভাগ মানুষের অবস্থার আলোকে যে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, অন্যভাবে বললে দেশের দরিদ্র কিন্তু মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করতে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় যেভাবে ভূমিকা পালন করছে, এ জায়গাটায় বিশ্ববিদ্যালয় যে থাকছে না তা স্পষ্ট। ‘টাকা যার শিক্ষা তার’ নীতির মাধ্যমে শিক্ষা হয়ে পড়ছে কেবল এক শ্রেণীর জন্য। এতে বঞ্চিত হচ্ছে দরিদ্র শিক্ষার্থী।
সরকার উচ্চশিক্ষার জন্য দাতাদের দেয়া প্রেসক্রিপশন বাস্তবায়ন করে আদৌ লাভবান হওয়ার মতো কোনো বিষয় স্পষ্ট নয়। এমনিতেই আমাদের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আকাল যাচ্ছে। তেমন কোনো গবেষণা নেই, জাতীয়ভাবেও তেমন অবদান রাখতে পারছে না। র্যাংকিংয়ে দিন দিনই পিছিয়ে পড়ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যাংকিং নিয়ে গণমাধ্যম প্রায়ই প্রতিবেদন প্রকাশ করে। বিশ্ব র্যাংকিংয়ে সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ৫ হাজারের মধ্যেও নেই এটি। এ অবস্থায় যেখানে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য সরকারের গবেষণাসহ সার্বিক ব্যয় বাড়ানো উচিত, সেখানে তা সংকোচনের সিদ্ধান্ত মেনে নেয়ার মতো নয়।
উচ্চশিক্ষায় সরকারের টাকা জোগাতে অনীহা স্পষ্ট। প্রত্যেক বছর বলা হয়, বাজেটে শিক্ষা খাতকে গুরুত্ব দেয়া হয়। মূলত তা শুভঙ্করের ফাঁকি। কারণ প্রত্যেক বছরই দেখা যায়, শিক্ষা খাতকে অন্য একটি খাতের সঙ্গে মিলিয়ে এতে ১২ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বরাদ্দ দেয়া হয়। সর্বশেষ অর্থবছরে শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে বরাদ্দ ছিল ১২ দশমিক ৪ শতাংশ। আবার এ অংশ জাতীয় আয়ের ২ শতাংশ মাত্র। ইউনেস্কোর নির্দেশনা হলো শিক্ষা খাতে ৮ শতাংশ ব্যয় করা।

বণিক বার্তা, উপসম্পাদকীয় ১০ অক্টোবর ২০১১

শিক্ষানীতিতে নতুন শিক্ষাস্তরের সার্থকতা কোথায়

জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ সংক্রান্ত সর্বশেষ সংবাদ হলো- শিক্ষানীতি বাস্তবায়নে ২৬ জানুয়ারি ২০১১-তে গঠিত ২৪টি উপকমিটির একটি কমিটিও তাদের প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি (সমকাল, ২৫ জুলাই)। যে প্রতিবেদন কমিটিগুলোকে ২-৩ মাসের মধ্যে জমা দিতে বলা হয়। পাঁচ মাস পরও তারা তা জমা দিতে পারেনি। আর এভাবে এ শিক্ষানীতি শুরু থেকে এখন পর্যন্ত দু’বছরেরও বেশি সময় পার করে ফেলেছে। এর আগে ২০০৯-এর ৪ এপ্রিল শিক্ষানীতি কমিটি গঠন, ২০০৯ এর ২ সেপ্টেম্বর কমিটির খসড়া শিক্ষানীতি প্রকাশ, ২০১০-এর ৩১ মে শিক্ষানীতি চূড়ান্তকরণ এবং মন্ত্রিপরিষদে অনুমোদন, আর ২০১০-এর ৭ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদে তা পাস করা হয়।
যাহোক এ শিক্ষানীতি সব প্রক্রিয়া শেষে এখন বাস্তবায়নের পথে। শিক্ষানীতি মন্ত্রিপরিষদ, জাতীয় সংসদসহ সবপর্যায়ে অনুমোদন পেয়েছে মানে এর নতুন স্তরবিন্যাসেরই অনুমোদন। বলা চলে শিক্ষানীতির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য কিংবা সবার কাছে নতুন শিক্ষানীতি বোঝার জন্য এ স্তরবিন্যাসটা সহজ বিষয়। আগের শিক্ষাস্তরগুলো হলো- প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক এবং উচ্চশিক্ষা। এখন আর উচ্চ মাধ্যমিক থাকছে না। পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষা এখন হবে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত। আর মাধ্যমিক শিক্ষা অষ্টম শ্রেণীর পর হতে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত।
নতুন এ স্তরবিন্যাসের সার্থকতা কতটা তা পরীক্ষা পদ্ধতির মাধ্যমে দেখা যাক। এখানে পরীক্ষা মানে পাবলিক পরীক্ষা। আগে উচ্চশিক্ষার পূর্বে পাবলিক পরীক্ষা ছিল দু’টি, এসএসসি ও এইচএসসি। এখন পাবলিক পরীক্ষা দাঁড়িয়েছে চারটিতে, পঞ্চম শ্রেণীর পর প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী, অষ্টম শ্রেণীর পর জেএসসি, আর এসএসসি এবং এইচএসসি তো আছেই।
পঞ্চম শ্রেণীর পর সমাপনী আর অষ্টম শ্রেণীর পর জেএসএসসির যৌক্তিকতা কী। বর্তমান শিক্ষাস্তরের সঙ্গে মিলিয়ে যদি বলি_ পঞ্চম শ্রেণীর পর প্রাথমিক শিক্ষার সমাপনী হিসেবে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী। যদি তা-ই হয় তবে অষ্টম শ্রেণীর জেএসসি কী? এবার জেএসসিকে যদি বলি ভবিষ্যৎ প্রাথমিক শিক্ষার সমাপনী (যখন অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষা হবে)। তবে পঞ্চম শ্রেণীর পর সমাপনীর আর দরকার কী?।
শিক্ষানীতিতে দেখা যাক। শিক্ষানীতির একুশতম অধ্যায় ‘পরীক্ষা ও মূল্যায়ন’। অধ্যায়টিতে পনেরটি কৌশল আছে। পাঁচ নম্বর কৌশলটি হলো_ ‘পঞ্চম শ্রেণী শেষে উপজেলা/পৌরসভা/থানা (বড় বড় শহর) পর্যায়ে সবার জন্য অভিন্ন প্রশ্নপত্রে সমাপনী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।’
ছয় নম্বর কৌশল_ ‘অষ্টম শ্রেণী শেষে পাবলিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। আপাতত এ পরীক্ষার নাম হবে জুনিয়র সার্টিফিকেট (ঔ.ঝ.ঈ) পরীক্ষা।’
আট নম্বর কৌশল_ ‘দশম শ্রেণী শেষে জাতীয় ভিত্তিতে পাবলিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এ পরীক্ষার নাম হবে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (ঝ.ঝ.ঈ) পরীক্ষা। দ্বাদশ শ্রেণীর শেষে আরও একটি পাবলিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে, এর নাম হবে উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (ঐ.ঝ.ঈ) পরীক্ষা।’
শিক্ষানীতির নতুন স্তরবিন্যাসের অসারতা বা অপ্রয়োজনীয়তা আসলে এখানেই। মুখে মুখে বা কাগজে কলমে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বললেও আসলে উচ্চ মাধ্যমিক ঠিকই থাকছে। কারণ আগের মতোই মাধ্যমিকের পর এসএসসি পরীক্ষা হচ্ছে আর উচ্চ মাধ্যমিকের পর এইচএসসি পরীক্ষা হচ্ছে। এছাড়া প্রাথমিকের পর প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনীতো আছেই। তাহলে শিক্ষার নতুন স্তরবিন্যাসের কার্যকারিতা কোথায়?
আর যদি নতুন স্তর ধরি, অষ্টম শ্রেণীর পর জেএসসি ঠিক আছে প্রাথমিক শিক্ষার সমাপনী হিসেবে। আর মাধ্যমিকের পর এইচএসসি থাকবে মাধ্যমিক শিক্ষার সমাপনী হিসেবে। তাহলে শুধু শুধু পঞ্চম শ্রেণীর পর সমাপনী আর দশম শ্রেণীর পর এসএসসি কেন?
এসব পরীক্ষা খুব বড় বিতর্কের বিষয় তা কিন্তু নয়। তবে সবকিছু মিলিয়ে একটা জগাখিচুড়ি অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশের মতো এতবেশি পাবলিক পরীক্ষা পৃথিবীতে কমই আছে। শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিতে দিতে ক্লান্ত। বই মুখস্থ করে পরীক্ষা দিচ্ছে। পাস করছে। জ্ঞানার্জন বলতে কিছুই হচ্ছে না। যদিও শিক্ষানীতি পরীক্ষার্থীর মুখস্থকরণকে নিরুৎসাহিত করে সৃজনশীলতার কথা বলেছে। এত চাপে শিক্ষার্থী কিভাবে সৃজনশীল হবে তা বোঝা মুশকিল।
এতবেশি পরীক্ষা না নিয়ে, শিক্ষার স্তর ঠিক করে, স্তর অনুযায়ী সমাপনী পরীক্ষা নিলেও অনেকটা চাপ কমবে। এক্ষেত্রে নতুন শিক্ষানীতি উচ্চশিক্ষার আগে যে স্তরবিন্যাস করেছে, সে অনুযায়ী পরীক্ষা হতে পারে। সেক্ষেত্রে প্রাথমিক স্তর তথা অষ্টম শ্রেণীর পর হবে জেএসসি পরীক্ষা। আর মাধ্যমিক স্তর তথা দ্বাদশ শ্রেণীর পর হবে এইচএসসি পরীক্ষা। মাঝখানে পঞ্চম শ্রেণীর পর সমাপনীর দরকার নেই। আর দরকার নেই এসএসসিরও।
একথা ঠিক এ শিক্ষানীতি নতুন শিক্ষার স্তরবিন্যাস করলেও পরীক্ষার ক্ষেত্রে আগের পদ্ধতিকেই বেছে নিয়েছে। যেমন পঞ্চম শ্রেণীর পর প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী, দশম শ্রেণীর পর এসএসসি। এগুলো থাকার ফলে নতুন স্তরবিন্যাসের আর কোন যৌক্তিকতা রইল না। ফলে এখন আগের বিন্যাসেই শিক্ষাস্তর থাকাটা ভালো। মাঝখানে শুরু হওয়া অষ্টম শ্রেণীর পর জেএসসি বাদ দিলেই ঝামেলা চুকে যাবে।
মজার বিষয় হলো_ এ অষ্টম শ্রেণীর পর সমাপনী পরীক্ষার ব্যাপারে শিক্ষানীতিতে একটা ছাড় লক্ষণীয়। শিক্ষানীতির ‘পরীক্ষা ও মূল্যায়ন’ অধ্যায়ের সাত নম্বর কৌশলটি তা বলে দেয়_ ‘যেসব শিক্ষার্থী অষ্টম শ্রেণীর পাবলিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে না, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের একটি কোর্স সমাপ্তি সনদপত্র প্রদান করবে এবং শিক্ষার্থীর আন্তঃপরীক্ষা ও ধারাবাহিক মূল্যায়নের ফলাফল জন্ম তারিখসহ ওই সনদপত্রে লিপিবদ্ধ থাকবে।’ ফলে স্বাভাবিকভাবেই অষ্টম শ্রেণীর জেএসসি বাদ দেয়াটা তেমন কোন সমস্যাই না।
আর আগের শিক্ষাস্তরের আরেকটা সুবিধাও আছে। সেটা হলো_ পরীক্ষার আন্তর্জাতিকীকরণ এসএসসি ‘ও’ লেভেল, এইচএসসি ‘এ’ লেভেল। ফলে আগের স্তরে ফিরিয়ে যাওয়া তেমন কোন ব্যাপার না। অন্যথায় একদিকে স্তরবিন্যাসের জটিলতা। অন্যদিকে চার চারটি পাবলিক পরীক্ষার ভার শিক্ষার্থীদের সইতে হবে।
বলার বিষয় হলো_ ২০১২ সাল থেকে প্রাথমিক শিক্ষাকে পঞ্চম শ্রেণী থেকে বাড়িয়ে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত করার কথা। আর এর জন্যও একটি কমিটি গঠন করা হয়। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব একেএম আবদুল আউয়াল মজুমদারকে সভাপতি করে এ কমিটি গঠন করা হয়। প্রাথমিক শিক্ষাকে পঞ্চম শ্রেণী থেকে কিভাবে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত করা যায়, তার বাস্তবায়ন কৌশল কী হবে, তা জানিয়ে কমিটিকে দু’মাসের মধ্যে একটি প্রতিবেদন পেশ করার কথা বলা হয়। দু’মাসের জায়গায় এখন পাঁচ মাস অতিবাহিত হলেও কমিটি কোন প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি (নিউএজ, ৩ জুলাই)। এ কমিটির প্রধান সমস্যা হলো_ ঠিক কিভাবে নতুন স্তর অনুযায়ী শিক্ষাব্যবস্থাকে সাজাবে তারা সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না।
বাংলাদেশের এ অবস্থায় নতুন স্তর করা জটিলই। কার্যত যেহেতু এ নতুন স্তরবিন্যাসে শিক্ষার্থীদের বেশি পরীক্ষা দেয়া ছাড়া কোন সার্থকতা নেই, সেহেতু আগের স্তরবিন্যাস রাখা যেতে পারে।

সংবাদে প্রকাশিত ০১-০৮-২০১১

শিক্ষানীতির অগ্রগতি কত দূর?


নিউ এজের সাম্প্রতিক (৩ জুলাই) একটি প্রতিবেদন দিয়ে শুরু করা যাক। প্রতিবেদনটির শিরোনাম ‘২০১২ 2012 start of primary edn extension uncertain’Ñ সাল থেকে প্রাথমিক শিক্ষা বর্ধিতকরণ অনিশ্চিত। শিক্ষানীতি ২০১০-এর বর্তমান অগ্রগতি পর্যালোচনা করে প্রতিবেদনটি বলছে, ২০১২ সাল থেকে প্রাথমিক শিক্ষাকে পঞ্চম শ্রেণী থেকে বাড়িয়ে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত করার কথা থাকলেও তা অনিশ্চিত।
প্রতিবেদনের ভাষ্যমতে, গত ২৬ জানুয়ারি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব একেএম আবদুল আউয়াল মজুমদারকে সভাপতি করে একটি কমিটি গঠন করা হয়। প্রাথমিক শিক্ষাকে পঞ্চম শ্রেণী থেকে কীভাবে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত করা যায়, এর বাস্তবায়ন কৌশল কী হবে, তা জানিয়ে কমিটিকে দুই মাসের মধ্যে একটি প্রতিবেদন পেশ করার কথা বলা হয়। দু’মাসের জায়গায় এখন পাঁচ মাস অতিবাহিত হলেও কমিটি কোনো প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি। কমিটির চেয়ারম্যানসহ অনেক সদস্য নিজেরাই বাস্তবায়ন বিষয়ে সন্দিহান।
শিক্ষানীতি ২০১০ বাস্তবায়নে একটি উপকমিটির চিত্র এটি। অন্য কমিটিগুলোর অবস্থাসহ সার্বিক অগ্রগতি নিয়ে গত ৭ জুন প্রতিবেদন করে দৈনিক জনকণ্ঠ ও সংবাদ। উভয় পত্রিকার শিরোনাম প্রায় অভিন্ন। পত্রিকাগুলো বলছে, শিক্ষানীতি বাস্তবায়নে ২৬ জানুয়ারি ২৪টি উপকমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে দু’তিন মাসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত একটি কমিটিও প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি।
কারণ হিসেবে একটি বিষয়ই উঠে এসেছে_ ‘আমলাতান্ত্রিক জটিলতা’। শিক্ষানীতি বাস্তবায়নে উপকমিটিগুলোর প্রায় প্রতিটির মূল দায়িত্বে আছেন বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, যুগ্ম সচিব, অতিরিক্ত সচিব পর্যায়ের আমলারা; যারা নিজেদের দাফতরিক কাজ, জনপ্রতিনিধিদের ডিও লেটার নিষ্পত্তিসহ নানা কাজ সামাল দিতেই ব্যস্ত। অনেক কমিটি শিক্ষানীতি নিয়ে এখনও একবারের জন্যও বসতে পারেনি।
এ শিক্ষানীতি শুরু থেকে এখন পর্যন্ত দু’বছরেরও বেশি সময় পার করে ফেলেছে। ২০০৯-এর ৪ এপ্রিল শিক্ষানীতি কমিটি গঠন, ২০০৯-এর ২ সেপ্টেম্বর কমিটির খসড়া শিক্ষানীতি প্রকাশ, ২০১০-এর ৩১ মে শিক্ষানীতি চূড়ান্তকরণ এবং মন্ত্রিপরিষদে অনুমোদিত হয়। শিক্ষানীতি ২০১০ সালের ৭ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদে পাস হয় আর তা বাস্তবায়নে ২৬ জানুয়ারি ২০১১-তে ২৪টি উপকমিটি গঠন করা হয়। এভাবে শিক্ষানীতির প্রক্রিয়ায়ই দু’বছরের বেশি সময় লেগে যাচ্ছে। মূল বাস্তবায়নের কাজ তো বাকিই রয়ে গেছে।
শিক্ষানীতির দ্রুত বাস্তবায়নে সরকারের আন্তরিকতায়ও ভাটা পড়েছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের চার মাসেই ব্যাপক উৎসাহ নিয়ে তড়িঘড়ি করে যে শিক্ষানীতি করল, সেটাই এখন নানা স্তরে কচ্ছপের গতিকেও হার মানাচ্ছে। বিশেষ করে শিক্ষানীতির প্রাথমিক শিক্ষাকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত করার প্রধান যে চ্যালেঞ্জ, তার অগ্রগতিও প্রশ্নবিদ্ধ। আবার এবারের বাজেটে শিক্ষানীতি বাস্তবায়নে, শিক্ষাক্ষেত্রে যে বাজেট দেওয়ার কথা ছিল, তাও সরকার দেয়নি। শিক্ষা ও প্রযুক্তি উভয় খাত মিলে বরাদ্দ দেওয়া হয় অন্যান্যবারের মতোই মোট বাজেটের ১২ দশমিক ৪ ভাগ মাত্র।
শিক্ষানীতির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে, এর বাস্তবায়ন কৌশল নির্ধারণে আমলাপ্রধান উপকমিটি গঠনের আবশ্যকতা কোথায়? এ বিষয়ে যারা বিশেষজ্ঞ আছেন, কিংবা বিশিষ্ট শিক্ষাবিদদের দ্বারা তা করানো যায়। সবচেয়ে ভালো হয়, বাংলাদেশে যারা শিক্ষা নিয়ে কাজ করেন বা শিক্ষা নিয়ে যারা একাডেমিক গবেষণা করেন তাদের দায়িত্ব দেওয়া। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট এ ক্ষেত্রে যথার্থ প্রতিষ্ঠান। এতে একদিকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দেশের কাজে অবদান রাখতে পারে, অন্যদিকে যেহেতু তাদের এ বিষয়ে গবেষণা আছে, তারা দ্রুত সময়ে ভালো কাজ করে দিতে পারবে। এভাবে আমলানির্ভর কমিটি দিয়ে শিক্ষানীতির অগ্রগতি কতটা সম্ভব বলা মুশকিল।
অতীতের ‘খসড়া রোগে আক্রান্ত’ শিক্ষানীতিগুলো থেকে এবারের নীতিকে সবাই ভিন্ন চোখে দেখে আসছে। এ প্রক্রিয়ার বাস্তবায়নে ধীরগতিও তাই সবাইকে ব্যথিত করবে। অবশ্য শিক্ষাসচিব ঠিকই বলেছেন, শিক্ষানীতির কিছু কাজ শুরু হয়েছে, যেমন_ পঞ্চম শ্রেণীর সমাপনী, অষ্টম শ্রেণীর জেএসসি ইত্যাদি। এরপরও একটি আশঙ্কাই সবার মনে_ এ নীতি অতীতের শিক্ষানীতিগুলোর ভাগ্য বরণ করতে যাচ্ছে না তো?

সমকাল ০৯-০৭-২০১১

শিক্ষানীতি ও মানবসম্পদ উন্নয়ন

শিক্ষানীতি আলোচনার আগে শিক্ষার আলোচনা আবশ্যক। শিক্ষা কী? উত্তরটা প্রচলিত এবং চিরাচরিত ধারণার বাইরে খোঁজা যাক। জন মিল্টনের কথা ধরি- মানুষের দেহ মন ও আতœার বিকাশ সাধন হলো শিক্ষা, কিংবা সক্রেটিসের কথা- নিজকে জানা হলো শিক্ষা। এসব মনীষীদের কথা বাদ দিয়েও শিক্ষার একটা প্রচলিত ব্যাপক কথা আছে- ‘মানুষের আচরনের কাংখিত এবং বাঞ্চিত পরিবর্তন’। আমরা বলছি এগুলো শুধুই প্রচলিত আর চিরাচরিত কথা।
এর বাইরে এসে গুরুত্বপূর্ণ এবং বাস্তব কথা হলো- ‘শিক্ষা হলো উৎপাদনের দক্ষ জনশক্তি তৈরি’। ভালোভাবে যাকে অনেকে বলেন ‘হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলাপমেন্ট বা দক্ষ মানব সম্পদ তৈরি’। বিষয়টা স্পষ্ট, তবুও একটু ব্যাখ্যায় যাওয়া যাক। যারা শিক্ষা গ্রহনকরে আমরা তাকে বলি শিক্ষিত। এটা একাডেমিক। একাডেমিক যোগ্যতায় যে যত অগ্রসর সে ততবেশি শিক্ষিত। মাস্টার্স বা ¯œাতকোত্তর হলো সর্বোচ্চ। এখন পঞ্চম শ্রেনী হবে সর্বনি¤œ শিক্ষিত।
এ শিক্ষিত হওয়া মানে সে উৎপাদনের দক্ষ শ্রমিক। মাস্টার্স পাশ- সর্বোচ্চ শিক্ষিত, সর্বোচ্চ দক্ষ। তাকে তাকে যে কোন উৎপাদনমূলক কাজে নিয়োগ করে। সাদামাটাভাবে বললে তার উচ্চ চাকরি নিশ্চিত।
উৎপাদনের ধরণ অনুযায়ী শিক্ষিত শ্রমিক নিয়োগ করা হয়। যেমন- গার্মেন্টস। উৎপাদনের কারখানা। এখানে হেলপারের কাজ করতে পঞ্চম শ্রেণী পাশ শিক্ষার্থী যথেষ্ট। এরা অষ্টম শ্রেনী পাশ দেখলে সহজে নিয়ে নেয়।
শিক্ষানীতির মূল আলোচনা আসলে এখানেই। এটা দক্ষ শ্রমিক তৈরির নীতি। সুন্দরভাবে বললে, একটি দেশ পুরো মানব সম্পদ কিভাবে কাজে লাগাবে তার আলোচনাই শিক্ষানীতির মূখ্য বিষয়। এ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আমাদের শিক্ষানীতি কী বলেছে সেটা আমরা দেখবো।
শিক্ষানীতি ২০১০ এর বিষয়ে বলে রাখা আবশ্যক। ২০০৯ এর ৬ জানুয়ারি বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতা গ্রহন করেই এপ্রিলে শিক্ষানীতি কমিটি গঠন করে। কমিটি মে ২০০৯ হতে কাজ করে, তিনমাসের মাথায় খসড়া শিক্ষানীতি ২ সেপ্টেম্বর শিক্ষামন্ত্রীর নিকট জমা দেয়। পরে খসড়াটি শিক্ষামন্ত্রলায়ের ওয়েবসাইটে জনসাধারণের মতামতের জন্য দেয়া হয়।
সরকারের জানুয়ারি ২০১০ এ শিক্ষানীতি চূড়ান্ত করার কথা বললেও, ছয় মাস পর একত্রিশ মে’তে মন্ত্রীসভার বৈঠকে তা পাশ হয়। খসড়া শিক্ষানীতি চূড়ান্তভাবে পাশ হয় ৩ অক্টোবর ২০১০। জাতীয় সংসদে পাশ হয় ৮ ডিসেম্বর। ২৮ জুন শিক্ষানীতি বাস্তবায়নে একুশ জনের সমন্বয়ে শিক্ষানীতি বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করলেও, এখনো তাদের কোন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়নি।
মূল আলোচনায় চোখ ফেরাই। মানব সম্পদ উন্নয়ন। শিক্ষানীতির আটাশটি অধ্যায় দুটি সংযোজনী, শিক্ষানীতির শুরুতে প্রধানমন্ত্রী এবং শিক্ষামন্ত্রীর কথনে তা দেখবো। শুরুতেই প্রাক কথন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। প্রধানমন্ত্রী যে এ বিষয়টির দিকে লক্ষ্য রেখেছেন তা প্রথম কয়েকটি লাইনেই রয়েছে- ‘দক্ষ মানব সম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে একটি যুগোপযোগি শিক্ষানীতি’। তিনি শেষের দিকেও বিষয়টা এনেছেন ‘শিক্ষানীতিতে জীবন জীবিকার সুযোগ সৃষ্টিকারী শিক্ষা প্রদানের ব্যবস্থা ব্যবস্থা রয়েছে- যা কর্মসংস্থানের দ্বার উন্মোচিত করবে’। প্রধানমন্ত্রী এসব কথা মূল ফোকাস হিসেবে বলেছেন, তা বলা যাবেনা। তার এ বক্তব্য বিক্ষিপ্ত এবং বিচ্ছিন্ন।
শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যে আসি। শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যে বিষয়টা এসেছে এভাবে- ‘নতুন প্রজন্মকে দক্ষ মানব সম্পদে উন্নীত করে এবং তা প্রয়োগ করে দারিদ্র্যতা, নিরক্ষরতা, দুর্নীতি, সাম্প্রদায়িকতাও পশ্চাৎপদতার অবসান ঘটিয়ে উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখতে পারে তা নিশ্চিত করতে হবে’। এছাড়া ‘কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসার ঘটিয়ে আমাদের বিরাট সংখ্যক তরুণদের দক্ষ ও পেশাদার মানবসম্পদে রূপান্তরিত করতে হবে’। শিক্ষামন্ত্রীর কথায় ‘মানবসম্পদ’ এসেছে বটে, অনেকটা প্রধানমন্ত্রীর মতই কথার কথা।
শিক্ষানীতির উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির বিষয়টাকে প্রাধান্য দিয়েছে, মোটেও বলা যাবেনা। ত্রিশটি উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যের মাত্র দুটিকে এ সংশ্লিষ্ট ধরা যায়- ‘দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতি সাধনের জন্য শিক্ষাকে সৃজনধর্মী , প্রয়োগমুখী ও উৎপাদন সহায়ক করে তোলা, শিক্ষার্থীদেরকে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব হিসেবে গড়ে তোলা’। আরেকটা হলো- ‘শিক্ষার প্রত্যেক স্তরে যথাযথ মান নিশ্চিত করা এবং পূর্ববর্তী স্তরে অর্জিত ( শিক্ষার বিভিন্ন লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ) জ্ঞান ও দক্ষতার ভিত দৃঢ় করে পরবর্তী স্তরের সাথে সমন্বয় করা’। এগুলো একেবারে প্রত্যক্ষ নয়, প্ররোক্ষ। উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যে এ গুরুত্বপুর্ণ বিষয়টা যেমন গুরুত্ব পায়নি, পুরো শিক্ষানীতিতে তার ছাপ থাকবে, সেটাই স্বাভাবিক।
প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক শিক্ষা অধ্যায়টি দেখা যাক। বলে রাখার বিষয় হলো- পঞ্চম শ্রেনী পর্যন্ত প্রচলিত প্রাথমিক শিক্ষাকে শিক্ষানীতি অষ্টম শ্রেনী পর্যন্ত করার সুপারিশ করেছে। অষ্টম শ্রেনী পর্যন্ত বর্ধিত করার তেমন কোন কারন শিক্ষানীতি দেখায়নি, তবে একটা কথা মানব সম্পদ উন্নয়নের সঙ্গে যায় বলে, যুক্তি হিসেবে এটাকে আমরা নিতে পারি- ‘প্রাথমিক শিক্ষার পর অনেকে কর্মজীবন আরম্ভ করে বলে মানসম্পন্ন প্রাথমিক শিক্ষা তাদের যথেষ্ট সহায়ক হতে পারে’। আমরা আলোচনার সুবিধার্থে এভাবে বলতে পারি- পঞ্চম শ্রেনী পর্যন্ত পড়াশোনা করে কেউ কর্মজীবনে প্রবেশ করতে পারেনা, এক্ষেত্রে অষ্টম শ্রেনীর যোগ্যতাকে অনেকে প্রাধান্য দেয়। ফলে প্রাথমিক শিক্ষাকে অষ্টম শ্রেনী পর্যন্ত করার যুক্তি এটাই, যাতে এ শিক্ষা শেষ করে, তার সার্টিফিকেট দ্বারা যেকোন কর্ম শুরু করা সম্ভব হয়।
গার্মেন্টস এর কথা আগেই বলেছি, প্রাথমিক শিক্ষার উদাহরন হিসেবে গার্মেন্টস গুরুত্বপূর্ণ। দেশে বর্তমানে নিঃসন্দেহে এ সেক্টর অর্থনীতির বড় একটি খাত। এখানে শ্রমিক হিসেবে যারা কাজ করেন তাদের যোগ্যতা অষ্টম শ্রেনী পর্যন্ত হলেই চলে। অন্তত এ খাত বা এরকম আরো কয়েকটি খাতে শ্রমিক দেয়ার জন্যই অষ্টম শ্রেনী পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষা করা হয়েছে। সরকার যদি এ চিন্তা থেকে করে ভালো। বাস্তবতা হলো এ ব্যপারে এ অধ্যায়ের উপরের একটি লাইন ছাড়া কোন কথাই শিক্ষানীতিতে নেই। আরেকটা হলো, যদি ঠিক এদিক বিচেনায় রেখেই করা হয় , তাহলে পাঠ্য পুস্তকেও এ খাতের বিষয়ে পাঠ থাকবে। অসলেই সেটা হবে কিনা তা দেখার বিষয়।
অবশ্য প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক শিক্ষা অধ্যায়টিতে ‘শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচী’ নামে একটি পয়েন্ট আছে, যার শেষ কথাটা আলোচনার জন্য প্রাসঙ্গিক “প্রাথমিক স্তরের শেষ তিন শ্রেনী অর্থাৎ ষষ্ঠ হতে অষ্টম শ্রেনী পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জীবন পরিবেশের উপযোগী প্রাক বৃত্তিমূলক ও তথ্য প্রযুক্তি শিক্ষা প্রদান করা হবে, যাতে যারা কোন কারনে আর উচ্চতম পর্যায়ে পড়বেনা এ শিক্ষার ফলে তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ হতে পারে”।
মাধ্যমিক শিক্ষা দেখি। শিক্ষানীতি এ শিক্ষার উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যে যা বলেছে তা আজকের বিষয়ের আলোচনায় মোটামুটি চলে- ‘এই স্তরের শিক্ষা শেষে শিক্ষার্থীরা সামর্থ্য অনুযায়ী উচ্চশিক্ষার বিভিন্ন ধারয় যাবে, নয়তো অর্জিত বৃত্তিমূলক শিক্ষার ভিত্তিতে বা আরো বৃত্তিমূলক শিক্ষার মাধ্যমে জীবিকার্জনের পথে যাবে’। এখানে আরো বলা হয়েছে – ‘কর্মজগতে অংশগ্রহনের জন্য, বিশেষ করে দেশের অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে, একটি পর্যায়ের প্রয়োজনীয় দক্ষতাসম্পন্ন ব্যক্তিরূপে শিক্ষার্থীদের তৈরি করা’।
শিক্ষানীতি অনুযায়ী মাধ্যমিক শিক্ষা এখন দ্বাদশ শ্রেনী পর্যন্ত। বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থায় স্বাভাবিকভাবেই যেকোন শিক্ষার্থী, এ স্তর পর্যন্ত যাতে কর্মজীবনে প্রবেশের সুযোগ পায় তার বন্দোবস্ত করা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোর চিত্র এমনই, কম শিক্ষার্থীই সেখানে ব্যচেলর লেভেলে পড়াশোনা করে, অধিকাংশই এইচএসসি লেভেল পর্যন্ত পড়াশোনা করে পছন্দ অনুযায়ী কাজে প্রবেশ করে। যারা গবেষক হতে চায় বা যাদের রেজাল্ট খুব ভালো তারাই উচ্চতর ডিগ্রি নেয়।
বাংলাদেশের অবস্থা উল্টা। এইচএসসি পাশ করে সবাই অনার্সে ভর্তি হতে চায়, না পারলে ডিগ্রিতে হলেও ভর্তি হয়। ফলে সরকারের উপর উচ্চশিক্ষার একটা বিরাট চাপ বিদ্যমান। এটা ঠিক, এ অবস্থার সৃষ্টি হতোনা যদি শিক্ষার্থীরা ভালোভাবে জীবন যাপন করার মত চাকরি বা কাজ এইচএসসি পাশ করেই পেতো।
শিক্ষানীতিতে এবার সে চেষ্টা দেখা গেলেও অলোচনার জন্য কয়েকটা বিষয় থেকেই যাচ্ছে। প্রথমত: যেসব প্রতিষ্ঠান চাকরি দিবে তারা এইচএসসি পাশ করা শিক্ষার্থী নেবে কি-না।
দ্বিতীয়ত: কর্মজীবনে প্রবেশের মত এমন কোন বিষয় সিলেবাসে থাকবে কি-না।
তৃতীয়ত: থাকলেও বাস্তবে কোন খাতে এগুলো কাজে লাগবে।
চতুর্থত: এইচএসসি পাশ করলেই চাকরি দেবে এমন প্রতিষ্ঠান সংখ্যা কেমন এবং তারা বছরে ঠিক কি পরিমান লোক নিতে পারবে।
শিক্ষানীতিতে মোটাদাগে কিছু কথা বলা আছে। বাস্তব ক্ষেত্রে প্রয়োগ বা ফলানোর তেমন কোন কার্যকরী কথা নেই।
উচ্চশিক্ষায় আসি। এখানে উদ্দেশ্যে বলা আছে জ্ঞান সঞ্চারণ ও নতুন জ্ঞানের উদ্ভাবন এবং সেই সঙ্গে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা। দক্ষ জনশক্তির স্পষ্ট উল্লেখ শুধু এখানেই। এর বাইরে এ সংশ্লিষ্ট কথা হলো- ‘চার বছরের সম্মান স্নাতক ডিগ্রিকে সমাপনী ডিগ্রি হিসেবে এবং উচ্চশিক্ষায় শিক্ষকতা ব্যতিত অন্য সকল কর্মক্ষেত্রে যোগদানের প্রয়োজনীয় যোগ্যতা হিসেবে বিবেচনা করা হবে’।
আরেকটা কথা হচ্ছে- ‘বাংলাদেশের বিকাশমান অর্থনীতিতে পাট বস্ত্র ও চামড়া খাতের বিপুল গুরুত্ব ও সম্ভাবনার কথা বিবেচনায় রেখে পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট, টেক্সটাইল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলেজ অব লেদার টেকনোলজিকে অধিকতর শক্তিশালী করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে’।
উচ্চশিক্ষায় এরকম প্রতিষ্ঠানের কথা আসতেই পারে। পরিকল্পিত উপায়ে আগ থেকেই বর্তমান বাজার বিশ্লেষণ করে, উচ্চশিক্ষার নানা প্রতিষ্ঠান গড়া উচিত ছিলো, যেটা হয়নি বললেই চলে। এক্ষেত্রে আইবিএ প্রকৃষ্ট উদাহরণ। আইবিএ তথা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউট, এটি প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় আজকে দেশের বিভিন্ন মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিসহ দেশের বাইরেও সহজেই এখানকার শিক্ষার্থীরা চাকরি পাচ্ছে। আমাদের উচ্চ শিক্ষায় চাকরির বাজার উপযোগি এরকম প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন। এর মাধ্যমে শুধু দেশের চাকরির বাজারই নয় আন্তর্জাতিক বিশ্বের অন্যান্য দেশেও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। প্রতিবেশি ইন্ডিয়াকেই ধরি, এখানকার গ্রাজুয়েটরা বিশ্বে বিভিন্ন দেশে কাজ করছে।
আমাদের শিক্ষানীতি প্রনয়ণে মানব সম্পদ উন্নয়নের যা কথা আমরা শুনছি সবই অপরিকল্পিত এবং কথার কথা। যদি তা-ই না হতো, শিক্ষানীতি প্রনয়নের আগে বাংলাদেশের চাকরির বাজারের কী কোন জরিপ হয়েছে, শিক্ষানীতিতে কী কোন অর্থনীতির বিশেষজ্ঞ ছিলো, আগামী দিনের উদিয়মান খাতগুলো চিহ্নিত করেছে? সবগুলোর উত্তর ‘না’। এখানে উত্তর ‘না’ হলে মানব সম্পদের অর্থবহুল আলোচনা শিক্ষানীতিতে এসে, তা ‘হ্যাঁ’ হবে কীভাবে।

(Daily Jugantor বাতায়ন 24.01.2011)

Whither the education policy?


National Education Policy 2010 was approved at the cabinet meeting on 31 May. Six months passed by, we are yet to see any implementation. We have a bitter experience about past educational policies. From Qudrat-e-Khuda Education Commission-1972 to Moniruzzaman Mia Commission-2003, there have been a total of eight education commissions coming in an average of every four to five years. Unfortunately, none of these could bring into effect an effective education policy.

Since the first one was formed in 1972 and headed by scientist Dr Qudrat-e-Khuda, all commissions shared a common, lofty aim to bring about qualitative improvement in the education system. Every time there was a new government in power, it entrusted itself with forming a new committee to review education system anew. The irony is that none of the governments could give a successful output. What, however, came clean out of all the hustle and bustle are the political and ideological differences among the policymakers.

The present government had formed a committee headed by Professor Kabir Chowdhury and it submitted the draft report on September 2 of last year. The draft was uploaded on the website of education ministry and it was open for public opinion.

The government earlier promised that they would start its implementation process from January 2010. But the reality is, though the draft has been okayed within six months, no visible attempts have yet been taken in that direction. I don’t understand why it’s taking so long and what’s holding back the authorities from moving the process. The education minister said that the policy was going to be passed in the sixth session of parliament. The session has ended on the first week of October and the policy was not given the final ‘go’.

We understand the whole process of framing a national education policy may take some time. But when it gets delayed or hung up without a particular reason, it is a matter of concern. The policy is only for the educational system of the nation, not for defining our nationhood or something big like that where a lengthy period of preparation could be understandable.

Besides, some issues of major importance were removed from the finalized draft. What prompted the policymakers to do that remains a question.

We know that education policy is a serious matter, and we expect the government to take it seriously. Unreasonable delay is not acceptable. Strong will of the government is needed to get the things out of the current impasse.

( writing published DAILY SUN 29-11-10)

সার সংক্ষেপ: জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০

জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০ শিক্ষামন্ত্রনালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয় এ মাসের তিন তারিখ। একত্রিশ মে’তে মন্ত্রীসভার বৈঠকে অনুমোদন করা হয়। এ শিক্ষানীতি নিয়ে আলোচনা বা সমালোচনার আগে দেখা দরকার এখানে কি আছে। যে কেউ ঊনাশি পৃষ্ঠার পুরো শিক্ষানীতি না পড়েও যাতে বুঝতে পারে এতে কি আছে। সে জন্যেই এ প্রয়াস। ঘুরে আসা যাক তাহলে-
প্রাক-কথন: শিক্ষানীতির শুরুতেই আছে প্রাক-কথন। কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাঁচশত পয়ষট্টি শব্দের এ কথনের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটা লাইন তুলে ধরছি।
* ”আওয়ামী লীগ আগামী প্রজন্মকে নৈতিক মূল্যবোধ, জাতীয় ঐতিহ্য ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করে জ্ঞান ও প্রযুক্তিতে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে একটি যুগোপযোগী শিক্ষানীতি প্রণয়নের প্রস্তুতি পূর্বেই গ্রহণ করেছিল।
* বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদকছিলেন
* এই শিক্ষানীতির উল্লেখযোগ্য দিক হল এখানে ধর্ম, বিজ্ঞান ও কারিগরি শিক্ষাকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। এতে মানুষের স্বভাবজাত অনুভুতিকে যেমন গুরুত্ব দেয়া হয়েছে, তেমনি পার্থিব জগতে জীবন জীবিকার সুযোগ সৃষ্টিকারী শিক্ষা প্রদানের ব্যবস্থা রয়েছে- যা কর্মসংস্থানের দ্বার উন্মোচিত করবে। দেশ অগ্রগতির পথে এগিয়ে যাবে। আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসম্পন্ন জ্ঞানলাভ করে বাংলাদেশকে আমরা জাতির পিতার স্বপ্নের দারিদ্রমুক্ত সোনার বাংলা গড়ে তুলতে সক্ষম হব।”
মুখবন্ধ: মুখবন্ধ আমাদের শিক্ষামন্ত্রীর। এগারশ তিনশব্দ বলার পর মুখবন্ধ শেষ হয়েছ্।ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি কথা এখানে এসেছে।
(১) এটা কোনো দলীয় শিক্ষানীতি নয়- জনগণ তথা জাতির আকাক্সক্ষা ও প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটিয়ে তৈরি করা হয়েছে জাতীয় শিক্ষানীতি।
(২) শিক্ষানীতিকোনো অপরিবর্তনীয় বিষয় নয়, এর পরিবর্তন ও উন্নয়নের পথ সব সময়ে উন্মুক্ত থাকবে। কোনো ভুল-ত্রুটি হলে তা সংশোধন করা যাবে।
আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ কথা আছে- ‘ শিক্ষানীতির মূলে প্রতিফলিত হয়েছে জনগণের রায় ও প্রত্যাশা এবং আমাদের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, লক্ষ্য ও আদর্শের প্রতিফলন এবং আমাদের সংবিধানের মূল দিকনির্দেশনা। সবরকম বৈষম্যের অবসান ঘটিয়ে সকলের জন্য শিক্ষার অধিকার ও সুযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্য শিক্ষানীতির মৌলিক ভিত্তি হিসেবে অনুসরণ করা হয়েছে।’
আটাশটি এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলো দেখা যাক-
শিক্ষার উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য: সাতশ ঊনষাট শব্দের এ অধ্যায়ে মোট ত্রিশটি উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য নির্ধারণ কর হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো বলা আছে এভাবে- ‘এই শিক্ষানীতি সংবিধানের নির্দেশনা অনুযায়ী দেশে গণমুখী, সুলভ, সুষম, সর্বজনীন, সুপরিকল্পিত,বিজ্ঞান মনস্ক এবং মানসম্পন্ন শিক্ষাদানে সক্ষমন শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার ভিত্তি ও রণকৌশল হিসেবে কাজ করবে।’ ত্রিশটি উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যে আর যেসব বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেয়া আছে সেগুলো হলো- সংবিধান, দেশের স্বাধানতা সার্বভৌমত্ব, দেশজ আবহ, জাতীয় ইতিহাস ঐতিহ্য, গণতান্ত্রিক মনোভাব, বিশ্বপরিমন্ডলের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অংশগ্রহণ ইত্যাদি।
প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক শিক্ষা: পুরো শিক্ষানীতির কথা বললে বড় পরিবর্তনটা আসলে এখানেই। আগে প্রাক-প্রাথমিক ছিলোনা এখন প্রথম শ্রেণীর আগে করা যোগ করা হলো এট্ ি। একবছর মেয়াদের। শিক্ষানীতিতে এটাকে দেখানো হয়েছে বিদ্যালয় প্রস্তুতি পর্ব হিশেবে। শিক্ষাদান প্রক্রিয়া শিশুসুলভ হবে তা বলা আছে। শিক্ষার কৌশল হিশেবে এখানে ধর্মকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। যেমন বলা আছে- ‘ মসজিদ, মন্দির, গীর্জা ও প্যাগোডায় ধর্ম মন্ত্রণালয় কর্তৃক পরিচালিত সকল ধর্মের শিশুদেরকে ধর্মীয়জ্ঞান, অক্ষরজ্ঞান সহ আধুনিক শিক্ষা ও নৈতিকতা শিক্ষাপ্রদানের কর্মসূচি প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার অংশ হিসেবে গণ্য করা হবে।”

প্রাথমিক শিক্ষাকে পঞ্চম শ্রেনী হতে তিন বছর বাড়িয়ে অষ্টম শ্রেনী পর্যন্ত করা হয়েছে। শিক্ষানীতির ভাষায় ‘। দেশের সব মানুষের শিক্ষার আয়োজন এবং জনসংখ্যাকে দক্ষ করে তোলার ভিত্তিমূল প্রাথমিক শিক্ষা’। আরও বলা আছে ‘ প্রাথমিক শিক্ষা হবে সর্বজনীন, বাধ্যতামূলক, অবৈতনিক এবং সকলের জন্য একই মানের’। এ শিক্ষার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। একে কোন এনজিওর হাতে তুলে দেবেনা, বলছে শিক্ষানীতি। ২০ ১১-১২ অর্থ বছর থেকে প্রাথমিক শিক্ষায় ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত চালু করার জন্য নতুন পাঠক্রম, শিক্ষক, অবকাঠেিমার আবশ্যকতা মেটানোর কথা বলা হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষায় বিভিন্ন ধারার মাঝে সমন্বয় করতে নির্দিষ্ট শ্রেণীর পাঠ্যসূচি অনুযায়ী নির্ধারিত বিষয়সমূহ অর্থাৎ বাংলা, ইংরেজি, নৈতিক শিক্ষা, বাংলাদেশ স্টাডিজ, গণিত, সামাজিক পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনের ধারণাসহ প্রাকৃতিক পরিবেশ পরিচিতি এবং তথ্যপ্রযুক্তি ও বিজ্ঞান বাধ্যতামূলকভাবে পড়তে বলা হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষার বয়স ৬+ এতে ২০১৮ সালের মধ্যে শিক্ষক শিক্ষার্থী আনুপাত হবে ১ : ৩০। বিদ্যালয় পরিবেশ শিশুসুলভ করা, ঝরে পড়া রেধে দুপুরে খাবারের ব্যবস্থা, ভালো শিক্ষক নির্বাচন ইত্যাদি বিষয়ও বলা আছে। প্রাথমিক স্তরে পরীক্ষার কতা বলা হয়েছে এভাবে ‘ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীতে ধারাবাহিক মূল্যায়ন এবং তৃতীয় থেকে সকল শ্রেণীতে ত্রৈমাসিক, অর্ধবার্ষিক ও বার্ষিক পরীক্ষা চালু থাকবে। পঞ্চম শ্রেণী শেষে উপজেলা/পৌরসভা/থানা (বড় বড় শহর) পর্যায়ে সকলের জন্য অভিন্ন প্রশ্নপত্রে সমাপনী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। অষ্টম শ্রেণী শেষে আপাতত: জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষা নামে একটি পাবলিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে এবং এই পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড দ্বারা পরিচালিত হবে”। প্রাথমিক শিক্ষার মনোন্নয়নে জনস্পৃক্ততা বাড়ানো। আদিবাসী, প্রতিবন্ধী এবং বঞ্চিত শিশুদের পড়ার সুযোগের কথা বলা আছে।

মাধ্যমিক শিক্ষা: এবারের শিক্ষা নীতিতে মাধ্যমিক শিক্ষা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ শিক্ষানীতির প্রাথমিকের পর বড় পরিবর্তণটা এখানে। নতুন শিক্ষা কাঠামোয় নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত মাধ্যমিক শিক্ষা স্তর হিসেবে বিবেচিত হবে। এ শিক্ষার পর শিক্ষার্থীরা একদিকে যেমন উচ্চশিক্ষার বিভিন্ন ধারায় যেতে পারবে তেমনি কেউ ইচ্ছে করলে আবার বৃত্তিমূলক শিক্ষার ভিত্তিতে বা আরো বৃত্তিমূলক শিক্ষার মাধ্যমে জীবিকার্জনের পথে যেতে পারবে। এখানে উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য হিসেবে যেসব কথা বলা হয়েছে। শিক্ষার্থীর অন্তর্নিহিত মেধা ও সম্ভাবনার পরিপূর্ণ বিকাশে সাহায্য করা। উচ্চশিক্ষার ভিত শক্তিশালী করা। কৌশল হিশেবে পাঠ্যসূচীর বিষয়ে বলা হয়েছে- সব ধারাতেই জন-সমতাভিত্তি সৃষ্টির লক্ষ্যে কয়েকটি মৌলিক বিষয়ে
যথা- বাংলা, ইংরেজি, বাংলাদেশ স্টাডিজ, সাধারণ গণিত ও তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষায় অভিনড়বড়ব শিক্ষাμম ও
পাঠ্যসূচি বাধ্যতামূলক থাকবে। মাধ্যমিকের মূল্যায়ন পদ্ধতির বিষয়ে বলা হয়েছে- ‘দশম শ্রেণী শেষে জাতীয় ভিত্তিতে পাবলিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এই পরীক্ষার নাম হবে মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং এই পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত বৃত্তি প্রদান করা হবে। দ্বাদশ শ্রেণীর শেষে অরো একটি পাবলিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে, এর নাম হবে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা। উভয় পরীক্ষা হবে সৃজনশীল পদ্ধতিতে এবং পরীক্ষার মূল্যায়ন হবে গ্রেডিং পদ্ধতিতে। উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে উচ্চশিক্ষার জন্য বৃত্তি প্রদান করা হবে।’ ইংরেজী মাধ্যমের ও লেভেল এবং এ লেভেলকে সাধারণ ধারার অন্তর্ভূক্ত করতে শিক্ষানীতি বলেছে- ‘ও’লেভেল উত্তীর্ণকে এস.এস.সি এবং ‘এ’ লেভেল উত্তীর্ণকে এইচ.এস.সি-র সমমান হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

মাদরাসা শিক্ষা: শিক্ষানীতি মাদরাসা শিক্ষার স্বকীয়তা রেখে একে সাধারণ ধারার সাথে মিলানোর প্রয়াস হিশেকে দেখেছে। উদ্ধেশ্য ও লক্ষ্যে বলেছে- শিক্ষার্থীর মনে সর্বশক্তিমান আল্লাহতায়ালা ও তাঁর রাসূল (সা:)-এর প্রতি অটল বিশ্বাস গড়ে তোলা এবং শান্তির ধর্ম ইসলামের প্রকৃত মর্মার্থ অনুধাবনে সমর্থ করে তোলা। মাদরাসা শিক্ষাকে সাধারন ধারার সাথে – ইবতেদায়ি আট বছর , দাখিল দুই এবংআলিম দুই বছর করা হবে। সাধারণ ধারায় উচ্চশিক্ষার সাথে সমন¦য় রেখে প্রয়োজনীয় যোগ্যতা সম্পনড়ব শিক্ষক ও অন্যান্য উপকরণ নিশ্চিতকরণ সাপেক্ষে ৪ (চার) বছর মেয়াদি ফাজিল অনার্স এবং এক বছর মেয়াদি কামিল কোর্স চালুর কথা বলা হয়েছে। সিলেবাস হিশেবে এখানে – ইবতেদায়ি পর্যায়ে নির্দিষ্ট শ্রেণীর শিক্ষাμম অনুযায়ী নির্ধারিত বিষয়সমূহ, অর্থাৎ বাংলা, ইংরেজি, গণিত ,নৈতিক শিক্ষা, বাংলাদেশ স্টাডিজ, সামাজিক পরিবেশ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ধারণাসহ প্রাকৃতিক পরিবেশ পরিচিতি, তথ্যপ্রযুক্তি ও বিজ্ঞান
বাধ্যতামূলকভাবে অনুসরন করা হবে। ষষ্ঠ শ্রেণী থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত প্রাক-বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষা প্রদান করা হবে। দাখিল পর্যায়ে বাংলা, ইংরেজি, সাধারণ গণিত, বাংলাদেশ স্টাডিজ এবং তথ্যপ্রযুক্তি বিষয় বাধ্যতামূলক থাকবে। মাদরাসা শিক্ষা আলিম পর্যন্ত দেখবে মাদরাসা বোর্ড এরপর ফাজিল কামিল দেখবে ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়।

ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা: এখানে ইসলাম ধর্মসহ প্রচলিত চারটি ধর্মের ধর্মীয় বিভিন্ন বিষয় বলা আছে। শিক্ষানীতি এর বাইরে ও অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের কথা ও বলেছে। নৈতিক শিক্ষার ব্যাপারে বলছে- নৈতিকতার মৌলিক উৎস ধর্ম। তবে সামাজিক ও সংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যসমূহ এবং দেশজ আবহও গুরুত্বপূর্ণ উৎস। নৈতিকতা শিক্ষার ক্ষেত্রে এসকল বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন করে নৈতিক শিক্ষাদান পদ্ধতি নির্ধারণ করা হবে। তবে কোন শ্রেণী হতে কোন শ্রেণী এ শিক্ষা থাকবে সেব্যাপারে শিক্ষানীতি কিছুই বলেনি।

উচ্চশিক্ষা: শিক্ষানীতি উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্য দেখেছে- জ্ঞান সঞ্চারণ ও নতুন জ্ঞানের উদ্ভাবন এবং সেই সঙ্গে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলাকে। এ ক্ষেত্রে বিশ্বমানকে ও প্রাধান্য দেয়ার কথা আছে। শিক্ষানীতি চার বছরের সম্মান ডিগ্রিকে সমাপনী ডিগ্রি হিসেবে এবং উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষকতা ব্যতীত অন্য সকল কর্মক্ষেত্রে যোগদানের প্রয়োজনীয় যোগ্যতা হিসেবে বিবেচনা করার কথা বলেছে। ফলে যে সকল কলেজে তিন বছর মেয়দি স্নাতক ডিগ্রি কোর্স চালু আছে পর্যায়μমে সেখানে চার বছরের স্নাতক সম্মান ডিগ্রি কোর্স চালুর কথা বলেছে। মাস্টার্স, এম.ফিল বা পি.এইচ.ডি-কে বিশেষায়িত শিক্ষা হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং শুধুমাত্র গবেষণা ও উচ্চশিক্ষায় শিক্ষকতা করতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদেরকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করতে হবে। ছাত্রবেতনের বিষয়টিও এনেছে শিক্ষানীতি বলেছে- সরকারি অনুদান ছাড়াও উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যয়নির্বাহের জন্য শিক্ষার্থীর বেতন ব্যবহার করতে হবে এবং ব্যক্তিগত অনুদান সংগ্রহের চেষ্টা চালাতে হবে। বাংলাদেশে বর্তমানে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোতে ভর্তি ফি ও বেতন খুবই সামান্য। তবে মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য ফেলোশিপের কথাও এসেছে এ নীতিতে- প্রত্যেক বিশ্ববিদ্যালয়ে মেধাবী শিক্ষার্থীদেও গবেষণার উদ্দেশ্যে যথেষ্ট সংখ্যক আকর্ষণীয় মূল্যের গবেষণা অনুদান এবং স¤প্রতি প্রবর্তিত বঙ্গবন্ধু ফেলোশিপ ছাড়াও আরো ফেলোশিপের ব্যবস্থা করতে হবে। সঙ্গে সঙ্গে ডিগ্রি কলেজগুলোতে গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টির পদক্ষেপ নেওয়া হবে। উচ্চশিক্ষার শিক্ষকদের গবেষনায় উৎসাহিত করেছে এ নীতি।
বাছাই ব্লগের লেখাটি রয়েছে সামহোয়ার-ইন ব্লগে

National education policy

National Education policy 2010 was approved by the Cabinet on 31 May this year. Though five months have already passed since its approval we are yet to see any moves to implement it. According to a news report published on 24 September (Preface delays education policy) only the writing of a preface is delaying its gazette notification. The question is, does it take this long to write a preface? The report also said that the formulation committee formed on 28 June has not had any meeting to discuss the implementation process. Some other newspapers also published similar reports. We have bitter experiences with education policies. Before this report, eight education commissions/committees had been formed. From Qudrat-e-Khuda education report of 1974 to the Moniruzzaman Mia commission of 2004, recommendations were never implemented as an education policy. On an average every four to five years we got an education policy. When a new government ascends to power it forms a committee for a national education policy. It seems that our national education policy is a matter of politics, and only for political reasons not a single report has been of any use. All the reports are suffering from what maybe termed as `draft` disease.
From the very beginning this government started working on an education policy as it was an important issue in the Awami League’s election manifesto. They formed a committee headed by professor Kabir Chowdhury and it submitted the draft report within three months on 2 September of last year. The draft report was published on the website of the education ministry to get opinions from the people.
The government said that it would start its implementation process from January 2010. But the regrettable reality is, the implementation process is far behind the schedule.
A national education policy and its implementation is a lengthy process, and it needs time. But while it is delaying without any reasonable cause it worries us because it is a serious issue. If we look to the policy, approved by the cabinet meeting, we understand that some important things are missing from it. See the name “national education policy”, as the policy for our nation, simply it should define from the very first of the report, what kind of nation this policy want to build, after a long future where will the position of this nation be, with the competition of other nations how will we survive; how to prove us as a fit nation to this world? We don’t find the answer from the policy. There is no chapter written on ‘aim and objectives of the national education policy’ instead of this, the first chapter of the policy is‘aim and objectives of the education’.
However, as a nation we are not child, we are 39 years old as a nation from 1971. But a pathetic reality is that we have not a tangible education policy. So, we are lagging behind to compete with other countries. This is a hindrance to our development also. If we see to the world many nations have developed them within this time, and they proved in the world. It also true, we formed about nine policies but none was implemented. If this education policy can fulfill the demands of our society, we will be able to say that, we have also an education policy.
We understand, the government is very much in favour of this education policy, but because of the dilly dallying in implementation of the policy, question simply arises” What fate awaits the national education policy”. We know education policy is a serious matter, and that is why the government should take it seriously. Unreasonable delay is not desirable at all.

Daily Independent 12 November10