Category Archives: লেখক

বঙ্গবন্ধু স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সংবাদমাধ্যম চাইতেন-আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী

সাক্ষাৎকার

লেখক ও সাংবাদিক আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী ভাষা আন্দোলনের স্মরণীয় গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো’-এর রচয়িতা। ১৯৫০-এর দশকে সাংবাদিকতার মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। পেশাগত কাজে সফলতার স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদক, স্বাধীনতা পদক, ইউনেস্কো পুরস্কার, বঙ্গবন্ধু পুরস্কার, মানিক মিয়া পদকসহ দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক পদক ও পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। বর্তমানে লন্ডনপ্রবাসী আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী ১৯৩৪ সালে বরিশাল জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আস্থাভাজন ও ঘনিষ্ঠজন ছিলেন। সম্প্রতি বঙ্গবন্ধুর সংবাদমাধ্যম ভাবনা প্রসঙ্গে সমকালের সঙ্গে কথা বলেন


সমকাল : বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আপনার কবে প্রথম দেখা হয়?

আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী : বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আমার প্রথম দেখা হয় ১৯৪৯ সালের মার্চ মাসে বরিশালে। ১৯৫১ সাল পর্যন্ত ১১ মার্চ রাষ্ট্র্রভাষা দিবস পালন করা হতো। ছাত্রলীগ তখন দ্বিধাবিভক্ত ছিল। একটি মুসলিম লীগ সরকারের সমর্থক। নেতা ছিলেন শাহ আজিজুর রহমান। অন্যটির নেতা মুসলিম লীগ অর্থাৎ তখনকার সরকারবিরোধী ছাত্রলীগ নেতা শেখ মুজিবুর রহমান। তখনও আওয়ামী লীগের জন্ম হয়নি। বরিশালে সরকার-সমর্থক ছাত্রলীগের স্ট্রং হোল্ড ছিল। নেতা ছিলেন মহিউদ্দীন আহমদ (পরে ন্যাপ এবং আরও পরে আওয়ামী লীগে যোগ দেন)। তিনি শাহ আজিজের ব্যক্তিগত বন্ধুও ছিলেন। বরিশালে ১১ মার্চের ভাষা দিবস উদযাপনের বিরাট ব্যবস্থ্থা হয়। শাহ আজিজ তা জানতে পেরে সরকার-সমর্থক ছাত্রলীগ যাতে সেই দিবস পালনে যোগ না দেয়, সেই ব্যবস্থ্থা করার জন্য বরিশালে আসেন। শাহ আজিজ বরিশাল থেকে চলে যান ৭ মার্চ (১৯৪৯)। যতদূর মনে পড়ে, শেখ মুজিব মার্চ মাসের ৮ কি ৯ তারিখে বরিশালে আসেন। তখন তিনি বঙ্গবন্ধু নন। ছিলেন মুজিব ভাই। বরিশালে মুজিব অনুসারী ছাত্রলীগ নেতা ছিলেন বাহাউদ্দীন আহমদ এবং শামসুল হক চৌধুরী টেনু মিয়া। বিএম কলেজের একটি হলে শাহ আজিজের বক্তব্য খণ্ডন করে এবং বাংলা ভাষার পক্ষে জোরালো ভাষায় বক্তৃতা দেন মুজিব ভাই। আমি তার বক্তৃতা বরিশালের সাপ্তাহিক নকীব পত্রিকায় ছেপেছিলাম। মুজিব ভাই তাতে খুশি হয়েছিলেন। তার সঙ্গে এই প্রথম আমার পরিচয়। আমি তখন স্কুলে পড়ি। বঙ্গবন্ধু আমাকে ম্যাট্রিকের পর ঢাকা যেতে বলেন।

সমকাল : সাংবাদিকদের সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর কেমন সম্পর্ক ছিল? Continue reading

নষ্ট সময়ের শুদ্ধ কণ্ঠস্বর

প্পান্ন বছর বয়স ছাপিয়ে উপছে পড়েনি। ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল বইয়ের লেখকের। তিনি শুধু লেখকই ননÑ একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, ভাষাবিজ্ঞানী, সমালোচক এবং সমাজ সংস্কারকও বটে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্রথাবিরোধী এবং বহুমাত্রিকতা। যিনি বিশ্বাস করতেন সাহিত্য, জীবনের মতোই আপত্তিকর। সে হুমায়ুন আজাদ। স্বমহিমায় ভাস্বর। হুমায়ুন আজাদ। ১৯৪৭-এর ২৮ এপ্রিলে আসেন পৃথিবীতে। বিক্রমপুরের রাড়িখালে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. হুমায়ুন আজাদ। বাংলার সাহিত্যাকাশের অন্যতম নক্ষত্র। উজ্জ্বল এ নক্ষত্রটির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র থেমে থাকেনি। ২৭ ফেব্র“য়ারি ২০০৪-এ একুশে বইমেলা থেকে বাসায় ফেরার পথে আঁততায়ী সন্ত্রাসীদের আক্রমণের শিকার হন। জয়ী হন হুমায়ুন আজাদ। এ ঘটনার সাড়ে পাঁচ মাস অব্যবহিত পরেই জীবনাবসান হয় এ নক্ষত্রটির। ২০০৪-এর ১১ আগস্ট। জার্মানির মিউনিখ। রাত ১২টা। আকাশে জ্বল জ্বল তারকারা। ঘুমুতে গিয়েছেন হুমায়ুন আজাদ। জ্বল জ্বল তারকাগুলো হয়ে গেল নিষ্প্রভ। জানা গেল হুমায়ুন আজাদ নেই। আর নেই। চিরদিনের জন্য চলে গেলেন। এ মাসেরই ১২ আগস্ট।
তার মৃত্যুর পাঁচ বছর হল। তিনি সমাজের সংস্কার চেয়েছেন। সমালোচনা করতে ছাড়েননি কাউকে। ছাপ্পান্ন বছরের ছোট্ট জীবনে তিনি যেভাবে বলেছেন, যেভাবে লিখেছেন এবং যেভাবে সমালোচনা করেছেন এভাবে কেউ করেননি। ১৯৯২ সালে প্রকাশিত তার ‘নারী’ নিষিদ্ধ করা হয়। সবশেষ ‘পাকসার জমিন সাদ বাদ’ এর মাধ্যমে তিনি হামলার শিকার হন মৌলবাদীদের। সে ঘটনার পাঁচ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর আজও বিচার হয়নি তাদের। হুমায়ুন আজাদ সাম্প্রদায়িকতামুক্ত সমাজ চেয়েছেন। চেয়েছেন জীবন ও সাহিত্যকে একত্র করতে।
তিনি চলে গেছেন। রেখে গেছেন অসংখ্য স্মৃতি। তার বইয়ের মাধ্যমে তিনি বেঁচে থাকবেন চিরকাল।