Monthly Archives: জুলাই ২০১৯

গরুর গলায় বোমার বর্বরতা

নিরীহ প্রাণীটি জানে না কী বিপজ্জনক বোমা বয়ে বেড়াচ্ছে

কোরবানি এলে গৃহপালিত ও নিরীহ গরু কীভাবে উত্তাপ ছড়ায়, তা আমরা দেখে আসছি। রাজনীতি, অর্থনীতি, ধর্মীয় ও আঞ্চলিক বিষয় হিসেবে গরু এক অন্য মাত্রায় হাজির হয়। যদিও গরুর প্রতি বাঙালির রয়েছে অকৃত্রিম ভালোবাসা। শরৎচন্দ্রের মহেশ গল্পে গরুর প্রতি যে মমতা-দরদ প্রম্ফুটিত, তা এখনও বিদ্যমান। অথচ কোরবানির সময় গরুর এমন অনেক বিষয় হাজির হয়, যাতে আমরা অভ্যস্ত নই। এ কলামেই একবার আমি লিখেছিলাম ‘ভেজাল গরু!’। আর এখন যে বিষয় সামনে এসেছে, সেটি আরও ভয়ঙ্কর। রোববার সমকালের এক প্রতিবেদনের শিরোনাম– ‘ভয় দেখাতে গরুর গলায় বোমা’। হ্যাঁ, একেবারে বোমা বাঁধা গরুর ছবিসহ সংবাদটি প্রকাশ হয়। ভারতীয় দৈনিক দ্য টেলিগ্রাফে আরও দু’দিন আগেই খবরটি আসে। ভারত থেকে বাংলাদেশে পাচারের সময় নদীপথে গরু যাতে না আটকায়, সে জন্যই পাচারকারীদের এই ব্যবস্থা!
কী ভয়ঙ্কর ও ভয়াবহ কৌশল! নিরীহ প্রাণীটি জানে না কী বিপজ্জনক বোমা বয়ে বেড়াচ্ছে। পাচারকারীরা ভেবেছে, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ বুঝি বোমা দেখে ভয় পেয়ে গরু ছেড়ে দেবে। ছাড়া পেয়ে ওপারের গরু এপারের চোরাকারবারিদের হাতে আপসে চলে আসবে। যদিও তা হয়নি। বিএসএফ সতর্কতার সঙ্গেই কয়েকটি গরু আটক করেছে। পাচারকারীরা কীভাবে এ কাজ করছে! এটি তো তাদের জন্যও বিপদের কারণ হতে পারে। Continue reading

সোনার ডিমপাড়া হাঁস

হাজার হাজার কোটি টাকা লোকসান যে বিমানের ঘাড়ে, সে বিমানের কর্মীরা কীভাবে ফ্রি টিকিটে দেশে-বিদেশে আরামে ঘোরেন?

কেউ কেউ ফ্রি পেলে নাকি আলকাতরাও খান। আলকাতরার বিষয়টি হয়তো অতিরঞ্জন। কিন্তু ছাড়- একটা কিনলে আরেকটা ফ্রি কিংবা সুযোগ পেলে মাগনা খাওয়া-নেওয়া ইত্যাদিতে যে আমরা অনেকেই সিদ্ধহস্ত, তা বলাই বাহুল্য। এ তো গেল বৈধ ফ্রির কথা। আবার অবৈধভাবে, ক্ষমতার অপব্যবহার করে কিংবা কৌশলেও ফ্রি খাওয়া বা নেওয়ার অপপ্রবণতা রয়েছে অনেকেরই। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের টিকিট নিয়ে এমনটিই ঘটেছে। মঙ্গলবার (২৩ জুলাই ২০১৯) সমকালে প্রকাশিত প্রতিবেদনের শিরোনাম– ‘এত ফ্রি টিকিট পান বিমান কর্মীরা!’ কতটা পান? প্রতিবেদন বলছে, এক কর্মকর্তাই নিয়েছেন ৮৭টি টিকিট। আরেকজন ৬৮টি। পঞ্চাশের ঘরে আছেন অনেকেই। আরও নিচে তো আছেনই। তাদের অনেকেই ক্ষমতার অপব্যবহার করে টিকিটগুলো পেয়েছেন। অনেকে নিজ নামের পাশাপাশি স্ত্রী-পরিজনের নামেও নিয়েছেন। ১০ বছরে প্রায় ৪৫ হাজার টিকিট নিয়ে তারা দেশ-বিদেশ ঘুরেছেন। এর মধ্যে কেউ শতভাগ কমিশনে পেয়েছেন, অন্যরা পেয়েছেন ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ কমিশন। কী সৌভাগ্য বিমান কর্মীদের! অথচ আমাদের এ রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা কেবল গত অর্থবছরেই লোকসান গুনেছে ২০১ কোটি টাকা। পবিত্র হজের ২ মাস ছাড়া প্রায় সারা বছরই বিমানকে লোকসান গুনতে হয়। এ বছরের এপ্রিলে সমকালে প্রকাশিত আরেক প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল- তেলেই ২ হাজার কোটি টাকা বাকি বিমানের। Continue reading

সামান্য সতর্কতা

অধিকাংশ রেলক্রসিং যখন অরক্ষিত তখন সচেনতাই পারে আমাদের রক্ষা করতে

সতর্কতা, সচেতনতা, কাণ্ডজ্ঞান, জীবনবোধ- এগুলোই ‘মানুষ’ হওয়ার মূল বিবেচ্য। অনেকে বলেন, মানুষ মানে যার মান ও হুঁশ দুটিই রয়েছে। এগুলো ছাড়া মানুষ হিসেবে প্রত্যেকেই অসম্পূর্ণ, ব্যক্তিত্বহীন কিংবা ভয়ঙ্কর। যার পরিণতিও ভয়াবহ। মঙ্গলবার সমকালের শেষ পাতায় প্রকাশিত ‘বিয়ের গাড়িতে ট্রেনের ধাক্কা, বর-কনেসহ নিহত ১০’ শিরোনামের প্রতিবেদনটি তার অন্যতম উদাহরণ। সোমবার সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ের বলি হলো এ মানুষগুলো। অরক্ষিত লেভেলক্রসিংয়ের জন্য রেল কর্তৃপক্ষের দায় অবশ্যই রয়েছে। কিন্তু এখানেও যে সতর্কতা ও সচেতনতার ব্যত্যয় ঘটেছে, তা অস্বীকারের জো নেই।

এটা ঠিক যে ঘটনাটি মর্মান্তিক, ট্র্যাজিক ও হৃদয়বিদারক। দুর্ঘটনায় যে কোনো মৃত্যুই আমাদের জন্য বেদনার। তারপরও কিছু ঘটনা দাগ কাটে। এ দুর্ঘটনায় বর-কনের মেহেদির রঙ শুকাবার আগেই উভয়ের মৃত্যু হলো। অথচ কিছুক্ষণ আগেই তাদের বন্ধন হলো; সুখী ও দীর্ঘস্থায়ী একটি দাম্পত্য জীবনের স্বপ্ন হয়তো তাদেরও ছিল। তাদের স্বপ্নের যেমন মৃত্যু হয়েছে; একই সঙ্গে বিয়ের যাত্রী হিসেবে দুই পরিবারের স্বজনরাই প্রধানত হতাহত হয়েছে। পরিবার দুটি এমন শোক কেমনে সইবে! Continue reading

পালাবদলের ঘুম!

ঢাবির হলগুলোর গণরুম যেন উদ্বাস্তু-শিবির

দিনের কর্মব্যস্ততা শেষে রাত আসে বিশ্রামের জন্য। রাতের ঘুম আবার পরদিন কাজের শক্তি জোগায়। মানুষের বাঁচার জন্য তাই জরুরি বিষয়গুলোর মধ্যে বাসস্থান অন্যতম। সুন্দর আবাসন, ভালো ঘুম মানুষকে প্রফুল্ল রাখে, কাজে মনোযোগী করে, জীবনবোধে ইতিবাচক পরিবর্তন আনে। ছাত্রজীবনের প্রধান কাজ পড়াশোনা করা। বিশ্ববিদ্যালয়ে জ্ঞানচর্চা, পড়াশোনা ও গবেষণার পরিবেশ নির্বিঘ্ন করতেই রয়েছে আবাসন ব্যবস্থা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড বলার অন্যতম কারণ হলো যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় আবাসিক। সেখানে শিক্ষার্থীরা হলের সঙ্গে সংযুক্ত এবং তাদের আবাসন নিশ্চিত করা হয়। একইভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের আবাসন নিশ্চিত করত। এখনও সব শিক্ষার্থী কোনো না কোনো হলের সঙ্গে সংযুক্ত। কিন্তু দুঃখের বিষয়, এখন শিক্ষার্থীর তুলনায় আবাসন সুবিধা খুব কম। অধিকাংশ শিক্ষার্থীকে হলের বাইরে থাকতে হয়। আবাসিক হলগুলোতে যে আসন রয়েছে, তার তুলনায় অনেক বেশি শিক্ষার্থী হলগুলোতে থাকছেন। ফলে সেখানে আবাসন সুবিধা একেবারেই অপ্রতুল। সে বিষয়টিই উঠে এসেছে সোমবার প্রকাশিত একটি দৈনিকের প্রতিবেদনে। ‘পালা করে কেউ ঘুমায় রাতে, কেউ বা দিনে’ শিরোনামের প্রতিবেদনটিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি জসীম উদ্‌দীন হলের শিক্ষার্থীদের এমন দুর্দশা উঠে এলেও এটি আসলে গোটা বিশ্ববিদ্যালয়েরই চিত্র। হলটিতে আবাসিক সুবিধা রয়েছে ৩৮৭ জনের। অথচ থাকছেন ১০০০ শিক্ষার্থী। সেখানে রয়েছে ১০টি গণরুম, যেখানে ৪ জনের রুমে থাকছেন ২০/২৫ জন শিক্ষার্থী। স্বাভাবিকভাবেই এসব কক্ষে রাতের বেলায় সবার একসঙ্গে ঘুমানো অসম্ভব। তাই তাদের ঘুমাতে হয় পালা করে। কেউ রাতে ঘুমান, কাউকে ঘুমাতে হয় দিনে। ফলে রাতে হয়তো কাউকে ঘুরেফিরে, বসে কিংবা কষ্ট করে পড়াশোনা করে কাটাতে হয়। একজন প্রতীক্ষায় থাকেন কখন তার সহপাঠী উঠবে, সেও একটু ঘুমাবে। Continue reading

পিচ রাস্তায় আঙুলের খোঁচা

কুষ্টিয়ার কুমারখালীর একটি সড়কে আঙুলের খোঁচায় উঠে যাচ্ছে পিচ

পিচঢালা পথ কেমন? হয়তো সিসাঢালা প্রাচীরের মতো মজবুত নয়; কিন্তু অতটা শক্তও কি নয়? ইট-খোয়া বিটুমিনের তৈরি পিচ, এমন পিচের এক মাইল রাস্তা নির্মাণের জন্য নয় হাজার গ্যালন জ্বালানি খরচ করতে হয়; স্বাভাবিকভাবেই তা শক্ত ও মজবুত হওয়ার কথা। যে সড়কের ওপর দিয়ে প্রতিনিয়ত ভারী যানবাহন যাতায়াত করলেও পিচের কোনো ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকার কথা নয়; এমন মজবুত পিচ দিব্যি কয়েক মাস, এমনকি বছরও পার হয়ে যায়। অনেক সময় তাতে আঁচড়ও লাগে না। কিন্তু মাঝেমধ্যে এমন পিচের খবর সংবাদমাধ্যমে আসে, যে পিচঢালাইয়ের কয়েকদিনের মধ্যেই উঠে যায়! এমনকি সে পিচ ওঠাতে তেমন কসরতও করতে হয় না, আঙুলের খোঁচাই যেন যথেষ্ট। ৩০ জুন সমকালে প্রকাশিত একটি সচিত্র প্রতিবেদন সে কথাই বলছে। ‘নির্মাণ শেষ হতেই উঠে যাচ্ছে সড়কের পিচ’ শীর্ষক প্রতিবেদনটিতে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর একটি সড়কের চিত্র উঠে এসেছে। যেখানে কাজ শেষ হওয়ার কয়েকদিনের মধ্যেই কোটি টাকা ব্যয়ে সড়কের পিচ মানুষের হাতের খোঁচায় উঠে যাওয়ার দৃশ্য দৃষ্টিগ্রাহ্য হয়ে উঠেছে। এ এক দুঃখজনক চিত্র।

এ চিত্র উপস্থাপনে খবর ও ছবি উভয় মিলে হয়তো পত্রিকার পাতায় অল্প জায়গাই যথেষ্ট; কিন্তু এর পেছনের ঘটনা অত ছোট নয়। স্বাভাবিকভাবেই কতগুলো বিষয় সামনে আসবে। প্রথমত, এক কোটি দুই লাখ টাকা বাজেটের সড়কটিতে সঠিকভাবে ঠিকাদার বাছাই করা হয়েছে কি-না; দ্বিতীয়ত, সড়কের কাজ সঠিকভাবে হয়েছে কি? তৃতীয়ত, পিচ তৈরিতে কেমন সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে! প্রতিবেদন বলছে, মাত্র ২১ জুন সড়কের কার্পেটিংয়ের কাজ শেষ হয়। এর মধ্যে ক’দিন যেতে না যেতেই আঙুলের খোঁচায় পিচ উঠে যাচ্ছে! স্বাভাবিকভাবেই ওপরের প্রশ্নগুলো আসছে। Continue reading

বাংলাদেশ যেভাবে মিয়ানমারকে চাপে ফেলতে পারে

মিয়ানমারকে অপরাধী রাষ্ট্র হিসেবে তার অপরাধের জন্য শাস্তিস্বরূপ অবশ্যই ক্ষতিপূরণ দিতে হবে

মূল : মং জারনি

গত সপ্তাহে লন্ডনে একত্রিত হয়েছিলেন জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক নিরপেক্ষ তথ্য-অনুসন্ধান মিশনের ক্রিস সিডটি, যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার ও বাংলাদেশের একটি বিশেষজ্ঞ দল। ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের চ্যালেঞ্জ নিয়ে তারা আলোচনা করেন। এটা এমন সময়ে অনুষ্ঠিত হয়, যখন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন মিয়ানমারকে প্রত্যাবাসনের জন্য প্রস্তুত রোহিঙ্গাদের আদিবাস সম্পর্কে ‘মিথ্যাচারের’ জন্য দায়ী করেন। যদিও বাংলাদেশ-মিয়ানমার গত বছরের অক্টোবরে প্রত্যাবাসনের একটি চুক্তি করে, কিন্তু জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়ার মতো ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হয়নি। প্রত্যাবাসনের জন্য সম্ভাব্য ৮০০ গ্রামের মধ্যে মাত্র দুটি গ্রামের পরিবেশ ইতিবাচক বলে জানা যায়।

আর সমস্যাটা এখানেই। বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে এত বেশি রোহিঙ্গার উপস্থিতি সাধারণ কোনো বিষয় নয়। বাংলাদেশ সরকার বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই শরণার্থী জনগোষ্ঠীকে সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে। শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন বিষয়ক কমিশনার আবুল কালামের মত, চাহিদার (রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় বার্ষিক পরিকল্পনা ৯২০ মিলিয়ন ডলার) মাত্র ২২ শতাংশ মিটেছে। মিয়ানমারের গণহত্যা থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১২ লাখ রোহিঙ্গার আশ্রয় ও খাবারের বন্দোবস্ত করা বাংলাদেশের মতো সীমিত সম্পদের দেশের জন্য বোঝাস্বরূপ। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পর্যাপ্ত সাহায্য ছাড়া কেবল ঢাকার এ শরণার্থীর বোঝা বহন করা অন্যায্য।

অধিকন্তু, বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের স্থায়ীভাবে বসবাসের ব্যবস্থাকরণ প্রকারান্তরে মিয়ানমারের গণহত্যাকেই স্বীকৃতি দেবে। ১৯৭৮ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে মিয়ানমারের সামরিক স্বৈরশাসক জেনারেল নে উইনের সময়কালে মিয়ানমারের রাখাইন থেকে রোহিঙ্গাদের উপস্থিতি নিশ্চিহ্ন করার পরিকল্পিত প্রচার শুরু করা হয়। এর পর তারা মিয়ানমারে রাখাইনের অধিবাসীদের বিরুদ্ধে নৃশংস ও সন্ত্রাসী প্রচারণায় অংশ নেয়। নে উইন রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব কেড়ে নেন। একই সঙ্গে মিয়ানমারের পরবর্তী শাসনগুলোতে সামরিক কিংবা বেসামরিক উভয় আমলে সবাই একই পথে হাঁটে। গত চার দশকেরও বেশি সময় ধরে মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয়ভাবে পরিচালিত নিপীড়নকে জায়েজ করার চেষ্টা করছে।
Continue reading