Monthly Archives: জুলাই ২০১৮

নেপালি মন্ত্রীর নিছক অজ্ঞতা!

বাংলাদেশে অধ্যয়নরত বিদেশি শিক্ষার্থীর উল্লেখযোগ্য অংশ নেপালের। নেপালের অধিকাংশ শিক্ষার্থীই বলা চলে, আমাদের মেডিকেল কলেজগুলোতে পড়াশোনা করছেন। নেপালের দ্য হিমালয়ান টাইমস পত্রিকার এক প্রতিবেদন অনুসারে, নেপাল থেকে প্রতি বছর তিন শতাধিক শিক্ষার্থী এমবিবিএস ও বিডিএস পড়তে বাংলাদেশে আসেন। পত্রিকাটির হিসাবে ২০১৬ সালে বিদেশে ডাক্তারি পড়তে যাওয়া ৪৭৮ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩২৮ জনই এসেছেন বাংলাদেশে। সে হিসাবে ওরা বলছেন, দেশের বাইরে পড়তে যাওয়া নেপালের ৭২ শতাংশ শিক্ষার্থীর পছন্দ বাংলাদেশ। এডুকেট নেপাল ডট কম ওয়েবসাইটের এক প্রতিবেদন দূতাবাস সূত্রে বলছে, বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় সাত হাজার নেপালি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। বাংলাদেশ কেন পছন্দ, তার কারণ বলেছেন এক নেপালিয়ান অধ্যাপক। একদিকে কম দূরত্বে অবস্থিত বাংলাদেশ, রয়েছে সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা, পড়ার মাধ্যম ইংরেজি, তার চেয়ে বড় বিষয়- ভিসার জটিলতা নেই। তিনি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ বলেছেন, দুই দেশের রোগের ধরনও প্রায় একই রকম। এর সঙ্গে আমরা পরিবেশকেও যুক্ত করতে পারি। ঠিক যে বিষয়ে মন্তব্যের জেরে পদত্যাগ করতে হয় নেপালের আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রীকে।

২০ জুলাই এক অনুষ্ঠানে নেপালের মন্ত্রী শের বাহাদুর তামাং বলেছিলেন, ‘মেডিকেলের ওপর যারা বাংলাদেশে লেখাপড়া করতে যায়, সার্টিফিকেট পাওয়ার জন্য তাদেরকে সেখানে নিজেদের বিক্রি করতে হয়।’ ছাত্রীদের নিয়ে এমন অশালীন মন্তব্যের জবাব সংশ্নিষ্টরাই দিয়েছেন। ফলে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু ও ঢাকা উভয় স্থানে সমালোচনার ঝড় ওঠে। প্রতিবাদ জানান ঢাকায় পড়তে আসা নেপালের ছাত্রীরাও। প্রতিবাদের মুখে তিনি তার মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। ক্ষমাও চেয়েছেন তিনি। এরপরও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা অব্যাহত থাকে। অবশেষে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। বিবিসির সংবাদদাতা বলছেন, তিনি প্রথমে পদত্যাগ করতে চাননি। কিন্তু পরে তার দল ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপালের ভেতরেই তার ওপর প্রচণ্ড রকমের চাপ তৈরি হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। এ কারণেই শেষ পযন্ত তিনি পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন। পদত্যাগী সেই মন্ত্রীর জেলও দাবি করছেন বাংলাদেশে অবস্থানরত নেপালের শিক্ষার্থীরা।

আসলে নেপালের ওই মন্ত্রী এক ভয়ঙ্কর মন্তব্য করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি একদিকে যেমন নেপাল থেকে আসা ছাত্রীদের চরিত্রের ওপর কালিমা লেপন করেছেন, তাদের প্রাপ্ত ডিগ্রিকে ছোট করেছেন; ঠিক তেমনি বাংলাদেশের সংশ্নিষ্টদের ওপর অন্যায়ভাবে দোষারোপ করেছেন। আমাদের পড়ার পরিবেশ ও ছাত্রীদের নিরাপত্তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। Continue reading

গৃহহীনের ক্যামেরা

এই কলামেই গত বছর (৩০ মার্চ ২০১৭) গৃহহীনদের নিয়ে লিখেছিলাম, ‘ঢাকা-লন্ডন এক কাতারে‘। অর্থাৎ গৃহহীন মানুষ যেমন ঢাকায় আছে, তেমনি লন্ডনসহ উন্নত বিশ্বের মানুষও ফুটপাতসহ খোলা জায়গায় রাতযাপন করে। ১৮ জুলাই ব্রিটেনের দ্য গার্ডিয়ান লিখেছে, ‘গিভ আ হোমলেস পারসন আ ক্যামেরা, অ্যান্ড দে উইল লুক এট দ্য সিটি ইন আ নিউওয়ে’ অর্থাৎ গৃহহীন মানুষকে একটি ক্যামেরা দাও, শহরকে তারা ভিন্নভাবে উপস্থাপন করবে। তারা কীভাবে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করবে? বলা বাহুল্য, আমরা যারা গৃহে বাস করি, আমাদের কাছে পৃথিবী একরকম; যারা বাইরে জীবন অতিবাহিত করে, তাদের কাছে অন্যরকম।

গার্ডিয়ানের খবরটি আসলে গৃহহীনদের নিয়ে কাজ করা দাতব্য প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে আয়োজিত এক ছবি প্রদর্শনীর সংবাদ। ইংল্যান্ডের গৃহহীনদের তোলা ছবি নিয়ে ম্যানচেস্টারে যা প্রদর্শিত হয়; এই আয়োজনের উদ্দেশ্য গৃহহীনদের সহযোগিতার জন্য ফান্ড তৈরি। একজন ফটোগ্রাফার বলছেন, ফুটপাতের জীবন ভয়ঙ্কর। প্রতিমুহূর্তে এখানকার চিত্র বদলায়। এখানে ঘুমানো নিয়েও যে দ্বন্দ্ব হয়, তা দেখার মতো। আরেকজন বলছে, আমার ছবির মাধ্যমে পৃথিবীর অন্ধকার দিকটি তুলে ধরছি, যেটি মানুষ দেখে না।

আসলে গৃহহীনরা নিজেরাই ছবি ও খবরের বিষয়, যখন তারাই ছবি তোলেন, বিষয়টি নিশ্চয়ই অন্য মাত্রা দেবে। রাতে শহরের ফুটপাতে, রাস্তাঘাটে, খোলা ময়দানে কী হয়, সাধারণ হিসেবে তা সচরাচর আমাদের দেখা সম্ভব হয় না; কিন্তু যারা সেখানেই বাস করে, তাদের জন্য সে চিত্র তুলে ধরা কঠিন নয়। Continue reading

থাই গুহার কিশোররা

কিশোরদের উদ্ধার অভিযান

থাইল্যান্ডের তো বটেই, গোটা বিশ্বেরও দৃষ্টি ১০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের থাম লুয়াং নামক থাই গুহার দিকে। যেখানে আটকে পড়েছে থাইল্যান্ডের ১২ কিশোর ফুটবলার ও তাদের কোচ। ২৩ জুন ফুটবল টিম খেলার পর তারা দেশটির চিয়াং রাই প্রদেশের ওই গুহায় প্রবেশ করে। গুহায় প্রবেশ করার পরই প্রবল বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট বন্যায় বের হওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যায়। তারা গুহায় আটকা পড়ে। এরপর তাদের উদ্ধারে শুরু হয় অভিযান। ৯ দিন নিখোঁজ থাকার পর তাদের সন্ধান পায় উদ্ধারকারী ডুবুরিদের একটি দল। তারা এমন জায়গায় আটকা পড়ে, যেখান থেকে বের হতে ডুবুরির মতো পানির নিচ দিয়ে সাঁতরে আসতে হবে। অন্যথায় বন্যার পানি কমা পর্যন্ত কয়েক মাস তাদের সেখানে থাকতে হতে পারে। সমস্যা হলো বালকদের কেউ সাঁতার জানে না। আশার দিক হলো, গুহায় থাই নৌবাহিনীর টিম পৌঁছেছে। তাদের বেঁচে থাকার জন্য অক্সিজেন, খাদ্য-পানীয় ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছানো হয়েছে। এমনকি বালকদের সাঁতারও শেখাচ্ছে তারা। কর্তৃপক্ষ তাদের উদ্ধারে ঝুঁকি নিতে চায় না। ফলে দেখেশুনেই পদক্ষেপ নিচ্ছে।

এর মধ্যেই বিবিসি, গার্ডিয়ানসহ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো শুক্রবার খবর দিয়েছে, বালকদের উদ্ধার করতে গিয়ে মারা গেছেন এক ডুবুরি। সামান গুনান নামে থাই নেভির সাবেক এ সদস্য বালকদের উদ্ধারে স্বেচ্ছায় গুহায় গিয়েছিলেন। তিনি অক্সিজেন সরবরাহ করতেন। গুহা থেকে বের হওয়ার সময় অক্সিজেন সংকটে নিজেই প্রাণ হারান। অবশ্য কিশোরদের উদ্ধার অভিযানে এক হাজারেরও অধিক উদ্ধারকারী অংশ নেয়, যেখানে থাই নৌবাহিনীর বিশেষ ডুবুরি দল ছাড়াও ইংল্যান্ড, চীন, অস্ট্রেলিয়া, লাওসসহ কয়েকটি দেশের বিশেষজ্ঞ আছেন। আছে স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীও। Continue reading