Monthly Archives: এপ্রিল ২০১৮

এমন বিক্ষোভ নয় কেন

ধর্ষণের বিরুদ্ধে স্পেনের এ বিক্ষোভের মত প্রতিবাদ প্রয়োজন

স্পেনে গতকাল (শনিবার, ২৮ এপ্রিল ২০১৮) তৃতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ চলেছে। সেখানে হাজারো মানুষের স্বতঃস্ম্ফূর্ত অংশগ্রহণে এমন জোরালো আন্দোলন হচ্ছে ধর্ষণের বিরুদ্ধে। রোববার গার্ডিয়ান অনলাইনে যার শিরোনাম :প্রটেস্ট কন্টিনিউ ফর থার্ড ডে ওভার পাম্পলোনা গ্যাং রেপ একুইটাল অর্থাৎ স্পেনের পাম্পলোনা শহরের গণধর্ষণে অপরাধীদের খালাস দেওয়ার প্রতিবাদে তৃতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ চলছে। পাম্পলোনার পুলিশ বলছে, অন্তত ৩৫ হাজার মানুষ এ বিক্ষোভে অংশ নেয়। তারা স্লোগান দিচ্ছে, ‘এটা যৌন হয়রানি নয়, ধর্ষণ।’ কেবল পাম্পলোনায় নয়, মাদ্রিদ, বার্সেলোনা ও ভ্যালেন্সিয়াসহ কয়েকটি শহরেও বিক্ষোভ-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ঘটনা ২০১৬ সালের, পাম্পলোনা শহরের ষঁাঁড়-দৌড় প্রতিযোগিতার সময় ১৮ বছরের এক কিশোরী ওলফ প্যাক নামে একটি গোষ্ঠীর পাঁচ ব্যক্তি যৌন হামলা চালায়। আদালতে তারা নিপীড়নের দায়ে অভিযুক্ত হলেও ধর্ষণের অভিযোগ থেকে তাদের খালাস দেওয়া হয়েছে। এর প্রতিবাদেই সেখানে এমন বিক্ষোভ।
ভারতেও ধর্ষণের বিরুদ্ধে এমন বিক্ষোভ দেখে গেছে। বিশেষ করে এ মাসের মাঝামাঝি সময়ে উত্তরপ্রদেশের উন্নাওয়ে ১৭ বছরের মেয়েকে গণধর্ষণ, জম্মু ও কাশ্মীরের কাঠুয়ায় মাত্র ৮ বছরের শিশুকন্যা আসিফাকে অপহরণ, গণধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় ভারতজুড়ে বিক্ষোভ প্রদর্শিত হয়। আসিফা ধর্ষণ ও হত্যার বিচার দাবিতে বিক্ষোভে অংশ নেন প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস পার্টির সভাপতি রাহুল গান্ধী, তার মা সোনিয়া গান্ধী এবং বোন প্রিয়াংকা ভদ্র গান্ধী। দেশজুড়ে বিক্ষোভের মুখে বিজেপির দুই মন্ত্রী পদত্যাগ করেন।
আমাদের দেশে ধর্ষণ থেমে নেই। ৯ এপ্রিল ধামরাইয়ে বাসে গণধর্ষণের ঘটনা ঘটে। ২১ এপ্রিল রাজধানীর চলন্ত বাসে উত্তরা ইউনিভার্সিটির এক ছাত্রী যৌন হয়রানির শিকার হয়। এসব ঘটনায় কিছু প্রতিবাদ বিক্ষোভ হয়েছে বটে। কিন্তু সে অর্থে সমাজে স্বতঃস্ম্ফূর্ত ব্যাপক বিক্ষোভ দেখা যাচ্ছে না। Continue reading

স্বাস্থ্য খাত : বাংলাদেশ থেকে শিক্ষা নিন

মূল : আশোক আলেকজান্ডার

যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর থেকেই সংগ্রাম করে আজ বিকাশমান। ভগ্ন আমলাতন্ত্র, ভঙ্গুর শিক্ষা ব্যবস্থা, বেহাল স্বাস্থ্য খাত নিয়ে দেশটির যাত্রা শুরু। অথচ আজ গত কয়েক দশক ধরে স্বাস্থ্য খাতে বাংলাদেশের উন্নয়নকে খ্যাতনামা চিকিৎসা সাময়িকী ল্যাঞ্চেট বলছে, ‘বিশ্ব স্বাস্থ্যের এক অপার বিস্ময়।’

যদিও বাংলাদেশের জনপ্রতি জাতীয় আয় ভারতের অর্ধেকের চেয়েও কম। বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় হয় জিডিপির ২.৮ শতাংশ আর ভারতে ব্যয় হয় ৪.৭ শতাংশ। বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের রেকর্ড একেবারে নিশ্ছিদ্র নয়, দেশটির গণস্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিখুঁত করতে আরও করণীয় রয়েছে বটে। তারপরও বাংলাদেশ পাঁচ বছরের কম ও শিশু মৃত্যুহার, উর্বরতার হার ও গড় আয়ুর দিক থেকে ভারতের চেয়েও ভালো অবস্থানে রয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব মতে, বাংলাদেশে খোলা টয়লেট প্রায় শূন্য, যেখানে ভারতে এখনও ৪০ শতাংশ মানুষ খোলা জায়গায় প্রাকৃতিক কর্ম সারেন। এখন ভারতের একেবারে প্রতিবেশী একটি দেশ কীভাবে সফল হলো। তা থেকে ভারতেরই-বা কী শেখার আছে?

আসলে বাংলাদেশে এ অলৌকিক পরিবর্তন হয়েছে গত কয়েক বছরে। আমরা যদি এর কারণ খুঁজি তাহলে বলব, নারীরাই এ পরিবর্তনে প্রধান ভূমিকা পালন করেছে। তারপরও কথা আছে, আসলে একেবারে তৃণমূল পর্যায়ের নারীরাই এ পরিবর্তনে নেতৃত্ব দিয়েছে। দেশটি তাৎপর্যপূর্ণভাবে নারীমুখী নীতিও প্রকল্পে বিনিয়োগ করেছে। যেমন- মেয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা অবৈতনিক হয়েছে, মানবাধিকার সংরক্ষণ করেছে ও নারীদের কেন্দ্র করে ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচি চালু করেছে। ২০১৩ সালে বাংলাদেশে নারী শ্রমিকের সংখ্যা ছিল ভারতের চেয়ে দ্বিগুণের চেয়েও বেশি। নারী সাক্ষরতা ও নারীর ক্ষমতায়নের দিক থেকেও ভারতের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ। অর্থনীতিবিদ জ্যা দ্রেজ ও অমর্ত্য সেন তাদের গবেষণায় দেখিয়েছেন, সব দিক ঠিক রেখে কীভাবে নারী সাক্ষরতা ও শ্রমশক্তি শিশুমৃত্যুর হার ও উর্বরতা বাড়িয়েছে। Continue reading

বলী কিংবা রেসলিং

চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী জব্বারের বলী খেলায় বিজয়ী জীবন বলী

টিভিতে অনেকে রেসলিং বা কুস্তি খেলা বুঁদ হয়ে দেখেন। দু’জন কুস্তিগির নিজের শারীরিক ক্ষমতার শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে জেতার চেষ্টা করেন। দর্শক এসব দেখে আনন্দ পান, বিনোদিত হন, প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। অন্যান্য খেলার মতোই এটা যেমন প্রতিযোগিতামূলক, তেমনি বিনোদনও। হয়তো মানুষের আগ্রহ থেকেই একেবারে পেশাদার কুস্তি ও কুস্তিগির দেখছি আমরা। ওয়ার্ল্ড রেসলিং এন্টারটেইনমেন্টের (ডব্লিউডব্লিউই) কুস্তি বিশ্বে জনপ্রিয়। রেসলিংয়ের বিষয়টি সামনে এলো আমাদের জব্বারের বলী খেলার খবরে। সংবাদমাধ্যমগুলোতে কয়েকদিন ধরে এ খেলার কথা আসছে, বুধবার তা শুরু হয়ে গেছে। চট্টগ্রামে এখন তাই উৎসবের আমেজ। সেখানে লালদীঘির ময়দানে চলছে ঐতিহাসিক এ বলী খেলা। খেলার পাশাপাশি রয়েছে জমজমাট বৈশাখী মেলা। বাংলা বছরের প্রথম মাস বৈশাখের ১২ তারিখ প্রতি বছর অনুষ্ঠিত হওয়া এ আয়োজনের জন্য অনেকে অপেক্ষা করেন। অনেককেই বলী খেলা বিনোদিত করে, অনেকে হয়তো কোনো কুস্তিগিরের ভক্ত, তার প্রতিযোগিতা দেখার জন্য উৎসুক হয়ে আছেন।

চট্টগ্রামের জব্বারের বলী খেলার ইতিহাস অনন্য। আজকে হয়তো এটি অনেকের কাছে বিনোদন কিংবা কারও কাছে নিছক খেলা বা কুস্তি প্রতিযোগিতা। কিন্তু এর উদ্যোগকে বলা চলে একটি প্রতিবাদ। ১০৮ বছর আগে ১৯০৯ সালে তখন ব্রিটিশ শাসন। ব্রিটিশদের শোষণ-নিপীড়নের বিরুদ্ধে অনেকেই নানাভাবে সোচ্চার হয়েছেন। তারই দৃষ্টান্ত আজকের এ বলী খেলা। ব্রিটিশ শাসন-শোষণের বিরুদ্ধে যুব সমাজকে উদ্বুদ্ধ করতেই তখন স্থানীয় ব্যবসায়ী আবদুল জব্বার সওদাগর লালদীঘি মাঠে আয়োজন করেন এই কুস্তি প্রতিযোগিতা। ১৩১৬ বর্ষের ১২ বৈশাখ বলী খেলার প্রথম আসর বসে। পরে এ প্রতিযোগিতা ওই সওদাগরের নামানুসারেই জব্বারের বলী খেলা হিসেব পরিচিতি পায়। এরপর থেকে প্রতি বছর ১২ বৈশাখ এ বলী খেলা হয়। বলা বাহুল্য, জব্বারের বলী খেলার সূচনার সঙ্গে রেসলিংয়ের ইতিহাসেরও মিল রয়েছে। কারণ, কুস্তি আসলে প্রাচীন যুদ্ধকৌশলেরই একটি অংশ। উইকিপিডিয়া লিখছে, ১৫ হাজার বছর আগে কুস্তির জন্ম। প্রাচীন ব্যাবিলনীয় ও মিসরীয় সভ্যতায় কুস্তিগিরদের দেখা মেলে। গ্রিসে কুস্তি মার্শাল আর্টের মতো জনপ্রিয় ছিল। আরবেও কুস্তির প্রচলন ছিল, আরবের উকায মেলায় কুস্তির প্রতিযোগিতা হতো। Continue reading

দুই কোরিয়ার মাইকযুদ্ধ

এ মাইকযুদ্ধ ‘লাউড-স্পিকার প্রপাগান্ডা’ নামে পরিচিত

চারপাশের অধিক সংখ্যক মানুষের কাছে কোনো সংবাদ বা তথ্য আদান-প্রদানে ব্যবহূত হয় মাইক। বাংলায় ব্যবহূত এ মাইক ইংরেজিতে লাউড-স্পিকার কিংবা সাউন্ড বক্সও হতে পারে। প্রচার-প্রচারণা, জরুরি নাগরিক বিজ্ঞপ্তি, মসজিদের আজান, বিভিন্ন অনুষ্ঠানসহ নানা প্রয়োজনে ব্যবহূত হয় মাইক। উচ্চস্বরের এ মাইকের মুখ যেদিকে থাকে, সাধারণত সেদিকে ভলিউম অনুযায়ী অনেক দূর পর্যন্ত আওয়াজ পৌঁছায়। এ যন্ত্রটি উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ায় পরস্পরের উদ্দেশে বিশেষ প্রচারে ব্যবহূত হয়, যার ইতিহাসও দীর্ঘ। সোমবার নিউইয়র্ক টাইমস, গার্ডিয়ান, বিবিসিসহ বিশ্বের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সংবাদমাধ্যমের অনলাইনে এ সংক্রান্ত একটি সংবাদ গুরুত্বের সঙ্গে ছাপা হয়। বিবিসি লিখেছে, সাউথ কোরিয়া টার্নস অফ লাউড স্পিকার ব্রডকাস্টস ইনটু নর্থ। অর্থাৎ উত্তর কোরিয়ার উদ্দেশে প্রচারিত লাউড-স্পিকার দক্ষিণ কোরিয়া বন্ধ করে দিয়েছে। বলা বাহুল্য, এ খবরের সঙ্গে লাউড-স্পিকারের যে ছবি দেওয়া আছে সেটি আর কিছু নয়, কতগুলো মাইক।

দুই কোরিয়ার এ মাইকযুদ্ধ বিশ্বে ‘লাউড-স্পিকার প্রপাগান্ডা’ নামে পরিচিত। ১৯৬৩ সাল থেকে চালু হওয়া এ মাইকযুদ্ধে দক্ষিণ কোরিয়া প্রচার করে সংবাদ, পপ মিউজিক, আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও উত্তর কোরীয় শাসনের সমালোচনা। অন্যদিকে উত্তর কোরিয়া এসব প্রচারে বেশি আক্রমণাত্মক। তারা দক্ষিণ কোরিয়ার সমালোচনা ছাড়াও পিয়ংইয়ংয়ের মিসাইল পরীক্ষার খরচ এবং সেখানকার উচ্চবিত্তের বিলাসী জীবনচিত্রও প্রচার করে।

উত্তর কোরিয়া এখন প্রচার বন্ধ রাখছে। কারণ শুক্রবার দুই কোরিয়ার নেতৃস্থানীয়দের মধ্যে এক ঐতিহাসিক আলোচনা রয়েছে। Continue reading

অধিক যোগ্যতাসম্পন্ন পুলিশ!

মানুষ পুলিশ মানে বোঝে অন্যরকম ক্ষমতার অধিকারী। সেটা পুলিশের যে পর্যায়ের চাকরিই হোক না কেন।

লেখাটি যখন লিখছি (মঙ্গলবার বিকেল, ১৭ এপ্রিল ২০১৮) টাইমস অব ইন্ডিয়ার অনলাইন সংস্করণের প্রধান শিরোনাম– ‘কনস্টেবলস ইন গুজরাট আর ইঞ্জিনিয়ারস, এমবিএস অ্যান্ড টেকিস!’ অর্থাৎ গুজরাটের পুলিশ কনস্টেবলরা ইঞ্জিনিয়ার, এমবিএ পাস ও প্রযুক্তিবিদ! প্রতিবেদনটি গুজরাটের বরোদা রেঞ্জের আইজিপি, ২০১৭ সালের এলআরডি বা লোক রক্ষক দল এ নিয়োগ বোর্ডের প্রধান জিএস মল্লিকের তরফে বলছে- নিয়োগ পাওয়া ১৭,৫৩২ জন কনস্টেবলের মধ্যে অর্ধেকের বেশিই স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী। যেখানে আবেদনের যোগ্যতা ১২ শ্রেণি পাস, যেটি আমাদের এইচএসসি। এলআরডি বা লোক রক্ষক দল নামে এ চাকরিতে প্রথম পাঁচ বছর একটি নির্ধারিত টাকা বেতনে নিয়োগ দেওয়া হয়। পাঁচ বছর পর তাদেরকে নিয়মিত কনস্টেবল হিসেবে অভিষিক্ত করা হয়। প্রতিবেদনের শুরুতে আহমেদাবাদের নবরংপুরা পুলিশ স্টেশনের চিত্র উঠে এসেছে, সেখানে দু’জন এলআরডি জওয়ান রয়েছেন এমবিএ ডিগ্রিধারী, একই স্টেশনে এ রকম আরও পাঁচজন আছেন, যারা বিসিএ, বিএ, বিএড পিজিডিসিএ ও এমএসসির মতো প্রফেশনাল ডিগ্রিধারী।

আমাদের অবস্থাও যে খুব একটা ভালো, তা নয়। এখানে কনস্টেবল পদে চাকরির যোগ্যতা এসএসসি পাস হলেও এইচএসসি পাস করা কিংবা ডিগ্রি বা তদূর্ধ্ব স্নাতকরাও যে আবেদন করেন, তা বলা বাহুল্য। অধিক শিক্ষাগত যোগ্যতা ছাড়াও এ পদের জন্য ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা ঘুষ দিতেও প্রস্তুত অনেকে। এমনকি হয়তো টাকা দিয়েও অনেকে স্বপ্নের কনস্টেবল হতে পারেন না! বাংলাদেশে পুলিশের চাকরি সম্পর্কে এটাই যেন ওপেন সিক্রেট। Continue reading

খালি সিট, ভরা রাস্তা

কৌতুক হিসেবে হয়তো অনেকেই জানেন- বাবা-ছেলে বাসে উঠেছে, সিট না পেয়ে দাঁড়িয়ে যাচ্ছে। হঠাৎ বাসের মধ্যে এক লোক পাগলামি শুরু করল। ছেলে জিজ্ঞেস করছে, বাবা লোকটা কী করছে? বাবা বলছেন, লোকটা পাগল, ওর মাথায় সিট আছে। ছেলে বলল, তাহলে আমি ওই সিটেই বসব। হায় অবুঝ ছেলে হয়তো জানে না, এ যে সে সিট নয়!

ঢাকা শহরে একটি বাসে যখন সিট নেই, দাঁড়িয়ে গাদাগাদি করে যাচ্ছে যাত্রী, তখন হয়তো পাশেই চলছে খালি প্রাইভেটকার। তাতে অবশ্য কারও অসুবিধা নেই; কিন্তু সমস্যা যানজট। এটা কেবল ঢাকার চিত্রই নয়। অন্য শহরেও আমরা দেখছি। নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের ট্রাফিক সমস্যা নিয়ে গবেষণা করেছেন পরিবহন বিশেষজ্ঞ ব্রুস স্ক্যালার। তার প্রতিবেদনের শিরোনাম দিয়েছেন- এম্পটি সিটস, ফুল স্ট্রিটস অর্থাৎ খালি সিট, ভরা রাস্তা। গত শনিবার এ গবেষণার খবর দিয়েছে বিবিসি। ‘হাউ দ্য ইন্টারনেট ইজ ক্লগিং আপ সিটি স্ট্রিটস’ বা ‘ইন্টারনেট কীভাবে রাস্তা ভারাক্রান্ত করছে’ শিরোনামের খবরে তার বিস্তারিত রয়েছে। ম্যানহাটনের ট্রাফিক জ্যামের অন্যতম কারণ ইন্টারনেট। এখানে ইন্টারনেটের ভূমিকা কোথায়? সেটাও অবোধগম্য নয়। ম্যানহাটনে ইন্টারনেট অ্যাপের মাধ্যমে রাইড শেয়ারিংয়ের পরিমাণ চার বছরে বেড়েছে ৮১ ভাগ। পুরো নিউইয়র্ক সিটিতে এখন রাইড শেয়ারিং চালকের সংখ্যা প্রায় ৬৮ হাজার। স্বাভাবিকভাবেই এটি পুরো ট্রাফিক ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলছে। তার চেয়ে বড় বিষয় যেটি গবেষণায় উঠে এসেছে, রাইড শেয়ারিংয়ের গাড়িগুলো ৪৫ ভাগ সময়ই রাস্তায় ভাড়া পাওয়ার আশায় ঘোরে। এতে অযথাই ব্যস্ত রাস্তা আরও ভারাক্রান্ত হয়। তাতে যানজট লাগাও অস্বাভাবিক নয়।

ঢাকার রাস্তায়ও এখন জনপ্রিয় রাইড শেয়ারিং। উবার, পাঠাও, সহজ রাইডসহ কয়েকটি মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেল ডেকে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় সহজেই মানুষ যেতে পারছে। Continue reading