Monthly Archives: ফেব্রুয়ারি ২০১৮

জলবায়ু : উপকূলবাসীর পাশে থাকুন

মূল : কাসিয়া পাপরোকি

বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে নিউইয়র্ক টাইমসের কলাম লেখক নিকোলাস ক্রিস্টফ ১৯ জানুয়ারি প্রকাশিত তার কলামে লিখেছেন, সেখানে সমুদ্রস্তর বেড়ে যাওয়ায় উপকূলবর্তী এলাকা তলিয়ে যাওয়ার ভয়ে কৃষকরা জোর করে অল্পবয়স্ক মেয়েদের বিয়ে দিচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে বাংলাদেশের কল্পিত এই চিত্র অত্যন্ত গতানুগতিক। এই আখ্যানের মূল বিষয় হলো : সমুদ্রস্তর বেড়ে যাওয়ায় ভূমি তলিয়ে যাচ্ছে, সেখানকার হতভাগা ও মরিয়া বাসিন্দারা তাদের ভূমি ও আবাস হারিয়ে যেতে দেখছে, ফলে ছোট্ট এ দেশটিতে লাখো ‘জলবায়ু শরণার্থী’ হচ্ছে।
জলবায়ু পরিবর্তন হচ্ছে, এর প্রভাব বিশ্বের অন্যান্য জায়গার মতো বাংলাদেশের ওপরও পড়ছে; তাতে কোনো সন্দেহ নেই। এর প্রভাব যেমন উপকূলবর্তী বাংলাদেশিদের ওপর পড়ছে, তেমনি পড়ছে উপকূলবর্তী মার্কিন ম্যানহাটনের ওপরও। উভয় এলাকার মানুষই এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের পথে রয়েছে।
নিকোলাস ক্রিস্টফ যেটা বলছেন, বাংলাদেশ জলবায়ুর অত্যন্ত ঝুঁকিতে রয়েছে। এ ধরনের পরিভাষা বরং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘ঝুঁকিপূর্ণ দেশ’, যাদের অভিবাসীদের তিনি চান না; তার সে কল্পিত পরিভাষার সঙ্গে মিলে যায়। এমনকি ক্রিস্টফের বর্ণনা মানবহিতৈষী হলেও সেখানে বরং একটি দেশের শক্তিহীনতা, অক্ষমতা, নির্ভরশীলতা ও ব্যর্থতার চিত্রই ফুটে ওঠে। Continue reading

একুশে ফেব্রুয়ারি গুলিবর্ষণ সম্পর্কে সরকারি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২ সালের গুলিবর্ষণের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
পরিচালক, প্রচার বিভাগ
পূর্ব বাংলা, ইডেন বিল্ডিং, ঢাকা
২৪ মার্চ, ১৯৫২

প্রেস নোট

ঘটনার বিস্তারিত

সাম্প্রতিক বিশৃঙ্খলা নিরসনে নিহতের সংখ্যা ও তাদের দেহ সৎকার নিয়ে কুচক্রী মহল গুজব ছড়াচ্ছে। বলা হচ্ছে, মৃতের সংখ্যা দেড় শতাধিক, তাদের অধিকাংশই শিক্ষার্থী যেখানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মেয়েও রয়েছে। এমন গুজবও ছড়ানো হচ্ছে যে, মৃতদেহ পেট্রোল দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এসব গুজব কেবল মুখে মুখেই ছড়ানো হচ্ছে না বরং বিভিন্ন জায়গায় প্ল্যাকার্ডও লাগানো হয়েছে। এভাবেই কুচক্রী মহল সাধারণ মানুষের মাঝে দাবানল ছড়িয়ে জনঅসন্তোষ সৃষ্টির পায়তারা করছে। এসব গুজব যে স্পষ্টতই মিথ্যা তা নিচের তথ্য-উপাত্তই প্রমাণ করছে, যেগুলো সকলের অবগতির জন্য অত্যন্ত সতর্ক অনুসন্ধানের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়েছে। এখানে দেখা গেছে দুই দিনের বিশৃঙ্খলায় বুলেটের আঘাতে মাত্র চারজন প্রাণ হারিয়েছে, যাদের একজন মাত্র শিক্ষার্থী। ধর্মীয় যথাযথ নিয়ম মেনে মৃতদেহ সমাহিত করা হয়েছে। জানাজার নামাজ একজন হাফেজ পড়িয়েছেন এবং সেখানে কাছে থাকা মৃতব্যক্তির স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন। একজন প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতি ও নির্দেশনায় সকল কাজ সম্পন্ন হয়েছে। Continue reading

জোকোর দক্ষিণ এশিয়া মিশন ও রোহিঙ্গা সংকট

কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো

মূল : করনেলিয়াস পূর্ব

প্রেসিডেন্ট জোকো ‘জোকোউই’ উইদোদোর ছয় দিনব্যাপী দক্ষিণ এশিয়া সফরকে কেউ কেউ কূটনৈতিক দিক থেকে খারাপ দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। গত বুধবার থেকে সোমবার পর্যন্ত সময়ে তিনি শ্রীলংকা, ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান (যাকে প্রায়শ মধ্য এশিয়ার দেশ বলা হয়) সফর করেন। এ সফরকে ‘খারাপ’ হিসেবে চিহ্নিত করার কারণ আসলে তার ব্যাপারে অনেকের ধারণায় গলদ রয়েছে, যেখানে অনেকেই তার পূর্বসূরি সুশিলো বামবাং ইয়োধোয়েনার সঙ্গে যখন তুলনা করেন, তখন জোকোউইকে সেভাবে পররাষ্ট্রনীতির নেতা হিসেবে দেখেন না। কারণ সুশিলো তার সক্রিয় কূটনীতি ও বিশ্বব্যবস্থায় ভূমিকার জন্য খ্যাতিমান ছিলেন।

সাধারণের দৃষ্টিতে দেখলে জোকোউইর দ্বন্দ্ব-সংঘাতগ্রস্ত আফগানিস্তান সফর নিয়ে প্রশ্ন করা যায়- তিনি কেন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাবুল গেলেন? কারণ তার সফরের কিছুদিন আগেই কাবুলে ইন্দোনেশিয়ার দূতাবাসের কাছে বোমা হামলা হয়। এর পরও তিনি সেখানে গিয়ে যে সাহসিকতা দেখিয়েছেন, তার কোনো অর্জন নেই? অবশ্যই আছে। জোকোউইর পররাষ্ট্রনীতির দর্শনের দিকে তাকালে এটা বোঝা সহজ। অভ্যন্তরীণ বিষয়কেন্দ্রিক চিন্তাধারাসম্পন্ন ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত হলেও তিনি প্রায়ই সাংবাদিকদের বলেন, একজন সাবেক ব্যবসায়ী হিসেবে তিনি তার কূটনীতির মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বৈঠক থেকে বাস্তব ফল পেতে চান।

বলা চলে, তার এ সফরে তিনি যেমনভাবে তার অভ্যন্তরীণ মানুষকে সন্তুষ্ট করতে পেরেছেন, একইভাবে আন্তর্জাতিক ঠাটও বজায় রাখার মাধ্যমে তার বাস্তব লক্ষ্য অর্জনে এগিয়ে গেছেন। এটি ইন্দোনেশিয়ার কূটনীতিতেও মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে।

প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো তার সফরের মাধ্যমে আশা করেছিলেন, ইন্দো-প্যাসিফিক বা ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলকে একটি শক্তিশালী ব্যবসায়িক ও নিরাপত্তাবলয় হিসেবে গড়ে তুলবেন। আসলে জোকোউই নতুন বছরের প্রথম সফর শুরু করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে আসিয়ান-ভারতীয় স্মারক সম্মেলন ও ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য। সে সম্মেলন ২৫ বছর ধরে আসিয়ান ও ভারতের মধ্যে এক ঐতিহাসিক সম্পর্ক বজায় রেখে আসছে।

Continue reading