Monthly Archives: সেপ্টেম্বর ২০১৭

দুর্যোগে প্রাণিকুল

পশু-পাখি ও অন্য প্রাণিকুল পরিবেশেরই অংশ। মানুষের স্বাভাবিক জীবন-যাপন ও প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় প্রাণিকুলের বিকল্প নেই। মানুষের উপকারে তারা জড়িয়ে থাকে। কিন্তু খোদ মানুষের জীবনই যখন বিপম্ন; বিশেষত প্রাকৃতিক দুর্যোগে যখন মানুষের বসতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়; যখন প্রাণিকুলের চিন্তার চেয়ে মানুষ নিজের জীবন বাঁচাতেই বেশি ব্যস্ত, তখন প্রাণীরা কী করে? আমেরিকার সাম্প্রতিক দুর্যোগ হার্ভে, ইরমা ও মারিয়ার প্রেক্ষিতে ২০ সেপ্টেম্বর ইংল্যান্ডের গার্ডিয়ানে এক পাঠকের প্রশ্ন ছাপা হয়। গার্ডিয়ানের লাইফ অ্যান্ড স্টাইল বিভাগের নোটস অ্যান্ড কোয়েরিসে প্রকাশিত জিজ্ঞাসা : হারিকেন হার্ভে, ইরমা ও এখনকার মারিয়ার পর প্রশ্ন জাগছে কীভাবে বন্যপ্রাণী ও পাখি এসব প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করে। তারা কি দুর্যোগের লক্ষণ দেখার সঙ্গে সঙ্গেই কোথাও আপদকালীন সময়ের জন্য চলে যায়, না অন্য কোনোভাবে বেঁচে থাকে? নাকি এদের অধিকাংশই মারা যায়? প্রশ্নটি আমাদের জন্য প্রাসঙ্গিক। বন্যা, ঘূর্ণিঝড়সহ প্রতিনিয়ত নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সাক্ষী আমরা। অনেক এলাকায় বন্যার ক্ষত এখনও শুকায়নি; এর আগে বাঁধ ভেঙে ডুবে যাওয়া হাওর আমরা দেখেছি। হাওরের দুর্যোগ বোধ হয় দেখিয়ে দিয়েছে প্রাণিকুলের কী অবস্থা হয়। এবার সবাই দেখেছে হাওরের পানিতে ভেসে যাওয়া মাছ, হাঁস, পাখি, সাপ, ব্যাঙসহ বিভিম্ন প্রজাতির প্রাণীর চিত্র। একই সঙ্গে বন্যায়ও বিপম্ন হয় পশু-পাখি ও প্রাণীর জীবন। যখন ঘরবাড়ি পানিতে ডুবে যায়, রাস্তাঘাট তলিয়ে যায়, বন-জঙ্গল, ফসলি মাঠ, গাছ-গাছালি পানিতে ভেসে যায়, তখন প্রাণিকুলও ঠিকানা হারা হয়। তাদের খাদ্যের অভাব দেখা দেয়। তখন অনেক প্রাণী নিরাপদ স্থান খোঁজে। অনেক সময় তারা আশ্রয় হারিয়ে বাঁধ বা কাছের লোকালয়ে চলে আসে। মানুষের সামনে এসে অনেক প্রাণীরই জীবন বিপম্ন হয়। বিশেষ করে সাপ, শিয়াল, বাগডাশ, বেজি ইত্যাদি যখন কেউ নাগালের মধ্যে পায়, তখন সবাই মিলে তাকে হত্যা করতে উদ্যত হয়। এ সময় মানুষের হাতেও মারা পড়ে কোনো কোনো প্রাণী। Continue reading

রোহিঙ্গা: ভয়াবহ শরণার্থী সমস্যা

মূল: দি ইকোনমিস্ট

রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ

রোহিঙ্গা মুসলমানদের এক জঙ্গি গ্রুপের ২৫ আগস্ট উত্তর মিয়ানমারের পুলিশ ক্যাম্পে হামলার পরিপ্রেক্ষিতে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে অবাধ উন্মত্ততায় গ্রামকে গ্রাম জ্বালিয়ে দিচ্ছে, নিরপরাধ বেসামরিক মানুষ হত্যা করছে এবং নারীদের ধর্ষণ করছে। ৪ লাখ ২০ হাজারেরও বেশি (১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত) আতঙ্কিত রোহিঙ্গা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। যে গতিতে শরণার্থী বাংলাদেশে আসছে তার মাত্রা ও গতিকে অভূতপূর্ব বলছে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)। আর জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক সংস্থার প্রধান জেইদ রাদ আর হুসাইন একে বলেছেন ‘জাতিগত নিধনের প্রকৃষ্ট উদাহরণ’।
রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে পরিচালিত এ হত্যা ও নিপীড়নকে মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি অস্বীকার করেছেন। মিয়ানমার সরকারের ডি ফ্যাক্টো নেত্রী ও শান্তিতে নোবেল বিজয়ী এ নেত্রী নারকীয় আক্রমণের নিন্দা করতেও উপর্যুপরি ব্যর্থ হয়েছেন। এমনকি ১৯ সেপ্টেম্বর প্রদত্ত ভাষণে তিনি রোহিঙ্গা শব্দটিও উচ্চারণ করেননি। উল্টো তিনি বড় গলায় দাবি করেছেন, ৫ সেপ্টেম্বরের পর কোনো ধরনের সহিংসতা কিংবা কোনো গ্রাম পোড়ানোর ঘটনা ঘটেনি। মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সু চির ভাষণকে মিথ্যাচার হিসেবে আখ্যায়িত করে বালিতে মাথা গুঁজে রাখার কথা বলেছে। অ্যামনেস্টি বলছে, ৫ সেপ্টেম্বরের পর থেকে যদি রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনীর অভিযান বন্ধ হয়ে যাওয়ার বক্তব্য সত্য হয়, তাহলে গত দু’সপ্তাহে আমরা সেখানে যেসব গ্রাম পুড়ে যেতে দেখেছি, সেগুলোতে কারা আগুন দিয়েছে? বলাবাহুল্য, ১৫ সেপ্টেম্বর স্যাটেলাইট থেকে তোলা রাখাইন রাজ্যের অনেক ছবি বিশ্নেষণ করে অ্যামনেস্টি বলছে, সেখানে তিন সপ্তাহে ৮০টির বেশি স্থানে বিশাল এলাকা পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও তাদের সহযোগী স্থানীয় গোষ্ঠীগুলো এ কাজ করছে। Continue reading

‘হাসি’র সংস্কৃতি

দুই ঠোঁট আর চোখের কারসাজিতে প্রকাশ পায় হাসি। সাধারণভাবে হাসি আনন্দের বহিঃপ্রকাশ হলেও নানা কারণে মানুষ হাসতে পারে। অনেকে বলেন, সুস্থতার টনিক হলো হাসি। হাসার পক্ষে বৈজ্ঞানিক যুক্তিরও অভাব নেই। হাসিখুশি থাকলে নাকি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে, রক্তপ্রবাহে বেড়ে যায় ভাইরাস-রোধী কোষের সংখ্যা। এতে ভাইরাসজনিত রোগ থেকে সহজে মুক্তি পাওয়া যায়। তবে থাইল্যান্ডের মানুষদের হাসার রহস্য অবশ্য আরেকটু গভীরে। ১৫ সেপ্টেম্বর বিবিসিতে প্রকাশিত ‘হোয়াই থাই পিপল লাভ টু লাফ’ শিরোনামের প্রতিবেদনে থাইল্যান্ডের মানুষের হাসার রহস্য উঠে আসে। তারা যখন কোনো অনাকাগ্ধিক্ষত পরিস্থিতির সম্মুখীন, তখনও হাসে। যুক্তি হলো, তারা খারাপ পরিস্থিতিকেও ইতিবাচক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখে।
বিবিসির খবরে প্রতিবেদক থাইল্যান্ডের এক লেখক ও চিত্র পরিচালকের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলছেন, থাইল্যান্ডের মানুষ হাসিখুশি থাকে, পরস্পর কথাবার্তায় তারা নেতিবাচক বিষয় পরিহার করে, কোনো সমস্যার বিষয়ও তারা সচরাচর উল্লেখ করে না। এমনকি নেতিবাচক কোনো বিষয়কে কীভাবে ইতিবাচক হিসেবে উপস্থাপন করবে, সে চেষ্টাই করে। ধরা যাক বন্যা চলছে। এ সময় তারা মানুষের আনন্দের জন্য নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। Continue reading

রোহিঙ্গা: ক্লিয়ারেন্স অপারেশন!

মূল: ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ

রোহিঙ্গা মুলমানদের কান্নায় আকাশ ভারী

মিয়ানমারের রাখাইন পুলিশ পোস্টে ২৫ আগস্ট জঙ্গিগোষ্ঠী হারাকাহ আল ইয়াকিন হামলা চালায়। হামলার পেছনে রয়েছে আরাকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মি (এআরএসএ)। এআরএসএ’কে ইতিমধ্যেই মিয়ানমার সরকার সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে। সরকার বলছে, হামলাকারীরা হাতবোমা, চাপাতি ও অস্ত্রে সজ্জিত ছিল। তারা দশ পুলিশ অফিসার, একজন সৈন্য ও একজন অভিবাসী কর্মকর্তাকে হত্যা করে। হামলার পর সেখানে দমন অভিযানে নামে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। এ অভিযানকে বলা হচ্ছে ‘ক্লিয়ারেন্স অপারেশন’। রাখাইন এলাকাজুড়ে চলছে এ অভিযান। রোহিঙ্গাদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। কোথাও কোথাও রোহিঙ্গাদের সঙ্গে সংঘর্ষ হচ্ছে। অভিযানকৃত এলাকা থেকে রোহিঙ্গা ও বৌদ্ধ উভয় সম্প্রদায়ের মানুষই নিরাপদ স্থানে যাওয়ার জন্য পালাচ্ছে। রোহিঙ্গারা পার্শ্ববর্তী বাংলাদেশে আশ্রয় নিচ্ছে। এভাবে সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে। রাখাইন রাজ্যকে গভীর খাত থেকে উত্তরণ ও রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে সরকারকে দ্রুত দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
উত্তর রাখাইনে দিনের পর দিন উত্তেজনা বেড়েই চলেছে। ২০১৬ সালের অক্টোবরে জঙ্গিগোষ্ঠী প্রথম তিনটি পুলিশ পোস্দ্বে আত্রক্রমণ করে। পরবর্তীকালে রাখাইন রাজ্যে সেনা অভিযানে ব্যাপকহারে নির্যাতন, হত্যা এবং ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। ৮৭ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা দেশত্যাগ করতে বাধ্য হয়। এ বছরের প্রথম দিকে ফেব্রুয়ারি মাসে ব্যাপকহারে তারা প্রতিবেশী বাংলাদেশে আসে। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সে সময়ের রোহিঙ্গাবিরোধী অপরাধ জাতিসংঘ অনুসল্পব্দান কমিটি মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে চিহিক্রত করে। যদিও মিয়ানমারের একটি তদন্স্ন কমিটি সে অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে।
এমনকি নিউইয়র্কভিত্তিক মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন ‘হিউম্যান রাইটস ওয়াচ’ জানিয়েছে, প্রায় ৩০ হাজার মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়েছে। পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে রোহিঙ্গাদের বহু গ্রাম। তাতে মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ওপর ‘জাতিগত নিধন’ চালাচ্ছে বলেও জানিয়েছে জাতিসংঘ। Continue reading

‘উপমহাদেশীয় ট্র্যাজেডি’

এভাবে কোনো সন্তানের সঙ্গে আচরণ করা উচিত নয়

মা শিশুসন্তানকে পড়াচ্ছেন ওয়ান, টু, থ্রি…। মেয়ে বারবার ভুল করছে আর মায়ের হাতে মার খাচ্ছে। এমনি এক ভিডিও দেখে যে কারও ছোট্ট মেয়েটির জন্য মায়া লাগবে। আর মাকে মনে হবে অত্যাচারী। যে কি-না শিশুটির করুণ আর্তনাদ ও শাস্তি থেকে বাঁচার আবদার সত্ত্বেও তাকে রেহাই দিচ্ছে না, তার হুঙ্কার ও হাত সমানভাবেই চলছে। ভারতের এ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল, যা তারকা খেলোয়াড় বিরাট কোহলি, যুবরাজ সিংসহ অনেকেই শেয়ার করেছেন। তারা বলছেন, এভাবে কোনো সন্তানের সঙ্গে আচরণ করা উচিত নয়। ২৫ আগস্ট ডয়চে ভেলের বাংলা বিভাগে ‘একেই বলে শিক্ষা দেওয়া_ নাকি শিক্ষা পাওয়া?’ শিরোনামে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন ছাপা হয়। যার শুরুটা এ রকম_ ‘তিন কি চার বছরের একটি মেয়ে ইংরেজি ওয়ান-টু-থ্রি-ফোর আওড়াতে গিয়ে মায়ের কাছে বকা ও শেষ পর্যন্ত চড় খাচ্ছে। এক মিনিট ৯ সেকেন্ডের একটি খাঁটি উপমহাদেশীয় ট্র্যাজেডি।’
সত্যিই উপমহাদেশীয় ট্র্যাজেডি বটে। পড়াতে গিয়ে শিশুদের মারা আমাদের দেশে অনেক পরিবারেই সাধারণ ঘটনা। পরিবারের বাইরেও অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিশুদের মেরে পড়ানো স্বাভাবিক বিষয়। বহু বছর বেত, লাঠি ইত্যাদি এখানকার শিক্ষকদের শিক্ষার্থী ‘শায়েস্তা’ করার অন্যতম অস্ত্র ছিল। কখনও কখনও চড়-থাপ্পড়ের মাধ্যমে হাতও অস্ত্র। যদিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শারীরিক শাস্তির বিরুদ্ধে আদালতের আদেশ রয়েছে, সরকারের নির্দেশনা রয়েছে; শিক্ষা আইনেও একে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এরপরও কিন্তু তা থেমে নেই। Continue reading