Monthly Archives: ফেব্রুয়ারি ২০১৭

হোয়াইট হাউসে টিকতে পারি আট দিন

মূল: রুমানা আহমেদ

আমি ২০১১ সালে কলেজ থেকে বের হয়েই হোয়াইট হাউসে এবং ঘটনাচক্রে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদে কাজের জন্য নিযুক্ত হই। আমার কাজ দেশের স্বার্থ রক্ষা করা। পশ্চিম উইংয়ে কেবল আমিই ছিলাম হিজাবি, ওবামা প্রশাসন সবসময়ই আমাকে স্বাগত জানাত, যেন আমি তাদেরই একজন।
অধিকাংশ আমেরিকান মুসলমানের মতো আমিও ২০১৬ সালটা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে মুসলমানদের প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিদ্বেষ দেখে কাটিয়েছি। তা সত্ত্বেও কিংবা এ কারণেই আমি চিন্তা করেছিলাম ট্রাম্প প্রশাসনে আমার জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের স্টাফ হিসেবে থাকাই উচিত। যাতে নতুন প্রেসিডেন্ট ও তার সহকর্মীদের ইসলাম ও আমেরিকার মুসলিম নাগরিকদের সম্পর্কে সঠিক ধারণা দিতে পারি।
কিন্তু আমি টিকে ছিলাম মাত্র আট দিন।
যখন ট্রাম্প সাতটি মুসলিমপ্রধান দেশ ও সব সিরিয়ান শরণার্থীর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন, তখন আমি জানতাম, আমি এখানে আর থাকতে পারব না এবং সে প্রশাসনের হয়ে কাজ করতে পারব না, যারা আমাকে ও আমার মতো মানুষদের নাগরিক হিসেবে নয় বরং হুমকি হিসেবে দেখে।
একই অফিসের হিসেবে আমি ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের জ্যেষ্ঠ যোগাযোগ উপদেষ্টা মাইকেল অ্যান্টনকে আমার পদত্যাগের কথা জানালাম। তিনি বিস্মিত হয়ে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞেস করেন, আমি পুরোপুরিভাবে সরকারকে ত্যাগ করছি কি-না? তারপর তিনি সতর্কতার সঙ্গে নীরব ছিলেন। আর কারণ জানতে চাননি।
যাই হোক আমি তাকে বললাম, আমাকে চলে যেতে হবে, কারণ প্রতিদিন এই দেশের সবচেয়ে ঐতিহাসিক ভবনে এমন এক প্রশাসনের অধীনে কাজ করা আমার জন্য অপমানজনক। যে প্রশাসন একজন আমেরিকান ও একজন মুসলিম হিসেবে আমার স্বার্থের বিপক্ষে এবং তার বিরুদ্ধে বিদ্বেষ পোষণ করে। আমি তাকে বললাম, এই প্রশাসন তো গণতন্ত্রের নীতি ও বিশ্বাসের ভিতকেই আক্রমণ করে বসেছে।

স্বাস্থ্য খাতে আরও বিনিয়োগ হোক

সাক্ষাৎকার// অধ্যাপক সাকিকো ফুকুদা-পার

সাকিকো ফুকুদা-পার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের দ্য নিউ স্কুলের গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রাম ইন ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সের অধ্যাপক। তিনি জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির ভাইস চেয়ারম্যান। কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিট অব সাসেক্স ও দ্য ফ্লেচার স্কুল অব ল অ্যান্ড ডিপ্লোমেসির গ্র্যাজুয়েট। ফুকুদা-পার পড়িয়েছেন কলাম্বিয়া ও হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটিতে। কাজ করেছেন বিশ্বব্যাংকে। সম্প্রতি সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ-সিপিডির তৃতীয় বার্ষিক বক্তৃতার প্রধান বক্তা হিসেবে বাংলাদেশে আসেন। ঢাকায় তিনি সমকালের সঙ্গে কথা বলেন
সাক্ষাৎকার গ্রহণ :মাহফুজুর রহমান মানিক
সমকাল : সিপিডির বক্তৃতায় আপনি স্বাস্থ্যসেবায় কতগুলো চ্যালেঞ্জের কথা বলেছেন…
সাকিকো ফুকুদা-পার : প্রকৃতপক্ষে অপর্যাপ্ত উদ্ভাবন, ওষুধপ্রাপ্তিতে সমস্যা ও নতুন ওষুধের দাম বৃদ্ধি_ এই তিনটি চ্যালেঞ্জ কেবল বাংলাদেশের নয়, বিশ্বব্যাপীই আমরা দেখছি। ওষুধের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসাসেবার ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। এটা সর্বত্রই ঘটছে। এর প্রভাব পড়ছে জনজীবনে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তি থাকার পরও বিশ্বব্যাপী বাড়ছে ওষুধের দাম। ফলে মানুষ কাঙ্ক্ষিত হারে ওষুধ পাচ্ছে না।
সমকাল : আপনি ওষুধের দাম বৃদ্ধির কথা বলেছেন। বাংলাদেশেও একই সমস্যা। কিন্তু বিপরীত বিষয় হলো দিন দিন আমাদের গড় আয়ু বাড়ছে। সাম্প্রতিক হিসেবে আমাদের গড় আয়ু প্রায় ৭১ বছর। ওষুধের দাম কিংবা চিকিৎসাসেবার দাম বৃদ্ধির পরও এমনটা হচ্ছে। কীভাবে বিষয়টি ব্যাখ্যা করবেন।
ফুকুদা-পার : দেখুন গড় আয়ু বৃদ্ধি কেবল ওষুধ বা চিকিৎসার দাম বৃদ্ধির সঙ্গেই সম্পর্কিত নয়, নানা কারণে মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি পেতে পারে। যেমন_ খাদ্য-পুষ্টি, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন ইত্যাদি। এসবসহ অন্যান্য দিক থেকে বাংলাদেশের অগ্রগতি লক্ষণীয়। ফলে এখানে গড় আয়ু বাড়বে এটাই স্বাভাবিক। ওষুধের দাম বৃদ্ধির বিষয়টি আগেই বলেছি; তবে যোগ করার বিষয় হলো, অনেক ওষুধ কিংবা নতুন নতুন ওষুধ বাংলাদেশকে বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। আন্তর্জাতিকভাবে যখন ওষুধের দাম চড়া, তখন বাংলাদেশকেও উচ্চমূল্য দিয়ে ওষুধ কিনতে হয়। তা বহন করতে হয় মানুষকেই। বাংলাদেশেও তার প্রভাব আমরা দেখেছি। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, বাংলাদেশে যক্ষ্মা রোগে ২০১৪ সালে ৮১ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। যদিও যক্ষ্মা চিকিৎসায় দুটি নতুন ওষুধ তৈরি হয়েছে এবং তা বাংলাদেশে ব্যবহৃত হচ্ছে। Continue reading

ভারতে বাংলাদেশি পর্যটক

cox's bazar

পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত, কক্সবাজার

বাঙালি বহুকাল ধরে পরিচিত ছিল ‘ঘরকুনো’ হিসেবে। এ তকমার শানে নুযুল অবশ্য জানা নেই। তবে আমরা যে একেবারে বসে নেই- নজরুলের ‘সংকল্প’ কবিতা হয়তো তার প্রমাণ। কারণ বাঙালি আজ যথার্থ অর্থেই দেশ-দেশান্তরে ঘুরে বেড়াচ্ছে। কক্সবাজারসহ দেশের পর্যটন কেন্দ্রগুলো তো বটেই, দেশের বাইরেও বাঙালির জয়জয়কার। আমরা পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ জয় করেছি। আমাদের বসে না থাকার সাম্প্রতিক প্রমাণ হলো- প্রতিবেশী ভারতের শীর্ষ পর্যটক দেশ বাংলাদেশ।
ভ্রমণের জন্য আমাদের অনেকেরই দেশের বাইরে প্রথম পছন্দ প্রতিবেশী হিসেবে ভারত। পর্যটনের জন্য, চিকিৎসার জন্য, ব্যবসা, আত্মীয়তা সূত্রসহ নানা কাজে বাংলাদেশিরা ভারতে যান। ভারতের পর্যটনে তার প্রভাবও পড়ছে নিঃসন্দেহে। সেখানকার পর্যটন মন্ত্রণালয় বলছে, ২০১৬ সালে ভারতে শীর্ষ পর্যটক বাংলাদেশেরবছরটিতে প্রায় চৌদ্দ লাখ বাংলাদেশি সেখানে যান। এর ফলে প্রথমবারের মতো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে টপকে শীর্ষস্থানে পেঁৗছে বাংলাদেশ। পাঁচ বছরের রেকর্ডে দেখা যাচ্ছে, ক্রমবর্ধমানভাবে ভারতে বাংলাদেশি পর্যটক বাড়ছেই। ২০১২ সালে যেখানে ভারতে মাত্র প্রায় পাঁচ লাখ বাংলাদেশি পর্যটক ছিল, মাত্র চার বছরের ব্যবধানে তা বেড়ে দ্বিগুণের চেয়েও বেশি হয়।
ভারতের অর্থনীতিতে পর্যটন শিল্পের অবদান একেবারে কম নয়, ২০১৫ সালের হিসাবে জিডিপির ৬ দশমিক ৩ শতাংশ। অথচ বাংলাদেশে পর্যটন শিল্প জিডিপির সাড়ে চার ভাগ। পর্যটনের মাধ্যমে আয়ের দিক থেকে ভারত এগিয়ে। ভারতে বাংলাদেশের পর্যটক যখন সবচেয়ে বেশি, তখন স্বাভাবিকভাবেই তাদের অর্থনীতিতে আমাদেরও অবদান রয়েছে। সেদিক থেকে বাংলাদেশিদের ভারতে প্রবেশে যত বাধার কথা শোনা যায়, তা বিস্ময়কর। Continue reading

… ছাড়া চলেই না!

শূন্যস্থানে হয়তো অনেক কিছুই বসানো যাবে। সত্যিকারার্থেই এমন কিছু বিষয় রয়েছে যেগুলো ছাড়া চলে না। যেমন বাঁচতে হলে খেতে হবে, ঘুমাতে হবে, পোশাক লাগবে, থাকার ব্যবস্থা লাগবে। কিন্তু দিন দিন এমন বিষয়ও অনেকের আবশ্যকীয় তালিকায় চলে এসেছে, যেটা হয়তো কিছু দিন আগেও নিত্যব্যবহার্য ছিল না। এখন সেসব ছাড়া যেন চলেই না। অনেকের ফেসবুক ছাড়া চলে না। কারও সবসময় ইন্টারনেট লাগবেই। মোবাইল ছাড়াও যে অচল। ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ান অনলাইনের লাইফ অ্যান্ড স্টাইল বিভাগে ‘হোয়াট আই এম রিয়েলি থিংকিং’_ সতিকারার্থেই ‘আমি কী ভাবছি’ শিরোনামে অনুবিভাগটি দেখছি আর আমাদের সাধারণ কিছু না থাকার ‘অসাধারণ’ অভিব্যক্তির কথা ভাবছি।

আসলে তথ্যপ্রযুক্তিসহ কিছু বিষয়ের ওপর মানুষ এত বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে যে, এগুলো অল্পসময় হাতছাড়া হলেও যেন কী অস্বস্তি। হয়তো আপনি বাজারে এসেছেন অল্প সময়ের জন্য, মোবাইলটি আনতে ভুলে গেছেন। সারা পথ কিংবা যতক্ষণই বাজারে থাকছেন আপনার মনে হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ কিছু নেই বা মারাত্মক ভুল করে ফেলেছেন, ভুল করার জন্য আফসোসের শেষ নেই। আবার ধরুন, কারিগরি ত্রুটির কারণে ইন্টারনেট নেই। মনে হবে যেন ইন্টারনেট না থাকার কারণে সব কাজ আটকে আছে। ইন্টারনেট ছাড়া যেন এক মূহুর্তও চলে না। বিদ্যুতের অবস্থাও তথৈবচ। বিদ্যুৎ না থাকলে তো নগরজীবন অচল। Continue reading