Monthly Archives: ডিসেম্বর ২০১৬

রোহিঙ্গাদের জন্য বিশ্ব এগিয়ে আসুক

মূল: রুশনারা আলী
স্যাটেলাইট থেকে তোলা মিয়ানমারের দুটি ছবি অনেক কথা বলছে। দুটিই সকালে তোলা, উভয়টি রোহিঙ্গা মুসলিম অধ্যুষিত রাখাইন রাজ্যের একই গ্রামের ছবি। প্রথম ছবি তোলা হয়েছে ২০১৪ সালে। দেখা যাচ্ছে, কার্যত রাষ্ট্রহীন সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ঘরবাড়ি। শতাধিক ঘর সড়ক ও গাছের মাঝামাঝি জায়গা দিয়ে যেন শুয়ে আছে। আর দ্বিতীয় সেট ছবি তোলা হয়েছে দুই মাস আগে, যাতে ঘরবাড়ির কোনো অস্তিত্বই নেই; আগুনে পোড়ামাটির ওপর সব একাকার হয়ে আছে।
মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ সেখানকার তিনটি ভিন্ন গ্রামের ৪৩০টি ঘরবাড়ি ধ্বংসের ছবি দেখিয়ে জাতিসংঘের কাছে বলছে, মিয়ানমার রোহিঙ্গা মুসলিম নিধনের মাধ্যমে নিজেদের ভূমি থেকে তাদের উচ্ছেদ করছে।
ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী রোহিঙ্গা মুসলমানদের এলাকার কাছে মিয়ানমার সীমান্তে ৯ অক্টোবর ৯ সীমান্তরক্ষী নিহত হওয়ার ঘটনার পর মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ সন্দেহ থেকে রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়ন চালিয়ে আসছে। ঘরবাড়ি আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, তাদের উচ্ছেদ করা হয়েছে, রোহিঙ্গা নারী ধর্ষিত হচ্ছে। এভাবে দিন দিন নির্যাতনের মাত্রা বাড়ছেই। দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে প্রায় দশ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও শরণার্থীদের সূত্র মতে, সামরিক বাহিনীর নেতৃত্বাধীন মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী শত শত ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো হেলিকপ্টার গানশিপ থেকে ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া, নির্বিচারে গ্রেফতার ও নারীদের ধর্ষণের জন্য মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীকে অভিযুক্ত করেছে। জাতিসংঘ এই তালিকায় নির্যাতন, প্রাণদণ্ড ও মসজিদ গুঁড়িয়ে দেওয়ার বিষয়টিও যুক্ত করেছে। রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের জোর করে রাখার আশ্রয় শিবিরগুলোর চিত্র অত্যন্ত ভয়াবহ। Continue reading

সালতামামির বাইরের দিন

saltamamiসাল ও তামামি দুটি শব্দ মিলে সালতামামি। শব্দ দুটি ফার্সি ভাষা থেকে এসেছে। সাল মানে বছর আর তামামি হলো সমাপ্তি। বছরের আলোচিত বা উল্লেখযোগ্য ঘটনা নিয়ে করা হয় সালতামামি। ২০১৬ সাল শেষ হয়ে আসছে। বছরটিকে ঘিরে ইতিমধ্যে অনেকে নানা সালতামামি তৈরি করেছে। আবার অনেকে করছে। সংবাদমাধ্যমগুলোই সাধারণত সালতামামি তৈরি করে। তবে সামাজিক যোগাযোগ ওয়েবসাইট যেমন ফেসবুকেও এর আদলে দেখা যায় ইয়ার ইন রিভিউ। সালতামামিতে পুরো বছরের ঘটনা থেকে বাছাই করে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হয়। কিংবা এক নজরে বছরের পুুরো বছরের ঘটনাপ্রবাহ সামনে নিয়ে আসা হয়। লক্ষণীয় বিষয় হলো, সালতামামি প্রকাশের সময় বছরের শেষ মাস ডিসেম্বর শুরু হতেই এর তোড়জোড় দেখা যায়। ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে বছরের শেষ দিন পর্যন্ত সাধারণত সালতামামি প্রকাশ হয়। অনেকক্ষেত্রে পরের বছরের শুরুতেও সালতামামি প্রকাশ হয় বটে, কিন্তু তা কম। তখন নতুন বছরের প্রত্যাশা, কেমন যাবে এ বছর_ এ রকম ভবিষ্যতের বিষয় প্রাধান্য পায়। ফলে দেখা যাচ্ছে, সালতামামি পুরো বছরের হলেও আসলে কিছু দিন বাইরেই থেকে যাচ্ছে। Continue reading

অভিবাসী যখন বিশ্বগ্রামের সদস্য

অভিবাসী দিবসের পোস্টার

অভিবাসী দিবসের পোস্টার

উন্নত জীবন ও কর্মসংস্থানের আশায় মানুষ দুনিয়ার এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় অভিবাসী হিসেবে পাড়ি দেয়। শরণার্থী হিসেবেও অনেকে অন্যত্র যায়, নানা কারণে অন্য দেশে আশ্রয় চায় মানুষ। অভিবাসনের বিষয়টি প্রাচীনকাল থেকেই চলে আসছে। মানুষ কখনও এক জায়গায় বসে থাকেনি। মানুষের পৃথিবী জয় এভাবেই হয়েছে। তবে আজ এমন সময়ে বিশ্ব আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস পালন করছে, যখন প্রতিবেশী মিয়ানমারে অত্যাচার-নির্যাতনের শিকার রোহিঙ্গারা, সাগরে ভাসছে তাদের নৌকা; যখন সিরিয়ায় চলছে যুদ্ধ, সেখানকার সাধারণ মানুষ আশ্রয় খুঁজছে; যখন আফ্রিকার লাখো মানুষ ইউরোপে কাজ খুঁজছে। আবার এটাও জানা আছে যে, বাংলাদেশের প্রায় ৯০ লাখ মানুষ এখন বিদেশে বাস করছেন। তারা প্রবাসে থেকে কষ্ট করে কাজ করে দেশের জন্য টাকা পাঠান।
শ্রমিকরা বিদেশে কাজ করলেও, কাজ করছেন আসলে দেশের জন্য। তাদের পাঠানো রেমিট্যান্সে দেশের উপকার হচ্ছে। এ জন্যই এবারের দিবসটির প্রতিপাদ্য করা হয়েছে, ‘উন্নয়নের মহাসড়কে, অভিবাসীরা সবার আগে।’ প্রবাসীরা বছরে প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলার দেশে পাঠাচ্ছে। তাদের রেমিট্যান্সের ওপর ভর করেই এখন আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ তিন হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়েছে।
অভিবাসীদের দ্বারা দেশ উপকৃত হচ্ছে। তাদের স্বার্থ দেখাও দেশেরই কাজ। নানা দেশে নানাভাবে শ্রমিকরা বঞ্চিত হচ্ছে, নির্যাতিত হচ্ছে। অনেকে বিদেশে কাজ করেও পারিশ্রমিক না নিয়েই দেশে ফিরতে হচ্ছে। এমন সমস্যায় প্রশাসন তাদের পাশে দাঁড়াবে এটাই স্বাভাবিক। Continue reading

তিস্তা চুক্তিকে পানিতে ফেলা নয়

তিস্তা নদীর উজানে পানির জন্য হাহাকার

তিস্তা নদীর উজানে পানির জন্য হাহাকার

মূল: জয়ীতা ভট্টাচার্য
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের অনিশ্চয়তা নানা জল্পনা-কল্পনার জন্ম দিয়েছে। দৃশ্যত মনে হচ্ছে, বাংলাদেশ-ভারত তিস্তা চুক্তি নিয়ে একমত হতে না পারাই এর প্রধান কারণ। এর আগে ২০১১ সালেও ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের বাংলাদেশ সফরের সময় দুই দেশ পানি বণ্টন চুক্তিতে স্বাক্ষরের জন্য প্রস্তুত ছিল। কিন্তু সে সময় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির আপত্তিতে তা হয়নি। চুক্তির খসড়ায় ছিল খরা মৌসুমে উভয় দেশ অর্ধেক অর্ধেক পানি পাবে। এটি তার রাজ্যের বিরুদ্ধে গেছে বলে মমতার আপত্তি। তিস্তার উৎপত্তি সিকিমে এবং এটি পশ্চিমবঙ্গের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে বলে রাজ্য সরকারের অনুমতি প্রয়োজন। এমনকি সংবিধানও বিষয়টির অধিকার রাজ্যকে দিয়েছে। কেন্দ্র-রাজ্য আলোচনায়ও জট না খোলায় তিস্তা চুক্তির বিষয়টি ঝুলে থাকে। Continue reading

মাফলারপ্রীতি!

ঢাকায় শীত বলা চলে আসি আসি করছে। ক্যালেন্ডারের হিসাবেও হেমন্তের শেষ দিনগুলো পার করছে নগরবাসী। রাস্তাঘাটে এখনও তেমন শীতের পোশাক দেখা যায় না। যদিও অন্যান্যবার আরও আগেই পুরোদমে শীত পড়েছে। ঢাকায় শীতের অবস্থা যা-ই হোক প্রতিবেশী দিলি্লতে যে শীত পড়ে গেছে, সেখানকার মুখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়ালই তার প্রমাণ। এ বিষয়ে শুক্রবার (৯ ডিসেম্বর) টাইমস অব ইন্ডিয়া লিখেছে, অ্যাজ উইন্টার হিটস দিলি্ল, অরবিন্দ কেজরিওয়াল আনপ্যাকস হিজ মাফলার। দিলি্লতে শীত এসেছে, অরবিন্দ কেজরিওয়াল তার মাফলার বের করেছেন। ভারতের আম আদমি পার্টির প্রধান কেজরিওয়াল কেবল নিজে মাফলার পরেছেন তা নয়, বরং অন্যদেরও শীতের আগমনে সতর্ক থাকার কথা বলেছেন। তিনি হিন্দিতে টুইট করেছেন, ‘ঠাণ্ডা পড়ে গেছে, মাফলার বের হয়ে গেছে; আপনিও নিজের খেয়াল রাখবেন।’ কেজরিওয়ালের টুইটে তার দলেরই সহকর্মী আশুতোষ মজা করে পাল্টা টুইট করেছেন, ‘যখন মুখ্যমন্ত্রী নিজেই মাফলার বের করে ফেলেছেন, তখন দিলি্লতে আনুষ্ঠানিকভাবেই শীতের ঘোষণা হয়ে গেল।’ তবে টাইমস অব ইন্ডিয়া কেজরিওয়ালের মাফলারপ্রীতির কথাও লিখেছে। ২০১৩ সালে শীতের মধ্যে দিলি্লর বিধানসভা নির্বাচনী প্রচারকালে তাকে মাফলার পরিহিত দেখা গেছে। সে নির্বাচনে তিনি জিতেছিলেন, যদিও ৪৯ দিনের মাথায় তিনি পদত্যাগ করেন। পরে আবার নির্বাচনে জিতে তিনি মুখ্যমন্ত্রী হন। তখন বলা হয়েছিল, মাফলারম্যান রিটার্নস মানে মাফলারমানব কেজরিওয়াল আবার ফিরলেন। এবারও তার মাফলার টুইটের পর সংবাদমাধ্যম শিরোনাম করছে, মাফলারম্যান রিটার্নস!
যাহোক, এটা অস্বাভাবিক নয় যে, কেজরিওয়ালের মাফলারপ্রীতি অন্যকেও প্রভাবিত করতে পারে। তবে ঢাকার চিত্র ভিন্ন। এখানে শীতের সময়ও যে খুব মাফলার দেখা যায় তা নয়। হাল ফ্যাশনে মাফলারের বদলে এসেছে শীতের টুপি। এসেছে হুডি। নানা ধরনের হুডি এখন তারুণ্যের প্রিয়, যাতে মাথা ও কান ঢাকা থাকে। তাতে শরীরও বাঁচে, মাফলারের কাজও সারে। Continue reading

আসিয়ান থেকে মিয়ানমারকে চাপ দিতে হবে

 rohingya

মূল: শাফিরা ডি. গায়েত্রী

মিয়ানমারের উত্তর রাখাইন রাজ্যে বসবাসকারী নৃতাত্তি্বক সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠন ও সংবাদমাধ্যম মিয়ানমারের সেনাবাহিনী কর্তৃক রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো পরিকল্পিত সহিংসতা, নিপীড়নসহ গণধর্ষণ, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও উচ্ছেদের প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদন বলছে, কর্তৃপক্ষ কর্তৃক রোহিঙ্গাদের প্রায় ১২৫০টি বাড়ি পোড়ানো হয়েছে।

৯ অক্টোবর সীমান্ত বাহিনীর ৯ সদস্যের নিহতের ঘটনায় মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ রোহিঙ্গাদের দোষারোপ করেছে। সংবাদমাধ্যমের খবরে প্রকাশ, সন্দেহবশত দোষারোপ করে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন শুরু করে। ফলে নিহত হয় একশ’রও বেশি আর গ্রেফতার করা হয় ৬শ’ মানুষকে। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার মতে, মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ও সীমান্ত পুলিশ ‘সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের একত্রে শায়েস্তা করার কাজে জড়িত’_ মিয়ানমার সরকার এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এসব তথ্য-উপাত্ত অবশ্য যাচাইয়ের সুযোগ কমই। মিয়ানমার সরকার রাখাইন প্রদেশে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা ও দাতা সংস্থার প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে।

জাতিগত বৈষম্য এবং চলমান নিপীড়নে অনেক রোহিঙ্গা তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে বাংলাদেশের দিকে যেতে বাধ্য হচ্ছে। অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকলে এবং রোহিঙ্গারা এভাবে দেশ ছাড়তে বাধ্য হলে গত বছরের মতোই শরণার্থী সংকট প্রকট আকার ধারণ করবে। গত বছরের মে মাসে আমরা রোহিঙ্গাসহ বিশ্বব্যাপী শরণার্থী সংকট দেখেছি। তখন রোহিঙ্গাসহ সাগরে ভাসছিল শরণার্থী হয়ে। মানবতার এ বিপর্যয় ঘনীভূত হয় যখন নিকটস্থ দেশগুলো তাদের দেশে নৌকা ভেড়াতে দিচ্ছিল না। অবশ্য অবশেষে তাদের দয়া হয়, শরণার্থীদের বাঁচাতে আন্দামান সাগরের উপকূলীয় দেশগুলোর কাছে জাতিসংঘের তরফ থেকে বারবার অনুরোধ জানানোর পর তারা আশ্রয় দেয়। বিশেষ করে ইউরোপের কয়েকটি দেশে বেশি শরণার্থী আশ্রয় পায়। পরিসংখ্যান বলছে, গত এক বছরে ১০ লাখের বেশি মানুষ ইউরোপে পাড়ি জমায়। মিয়ানমারের প্রতিবেশী ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ায়ও অনেকে আশ্রয় পায়। Continue reading