Monthly Archives: জানুয়ারি ২০১৬

অভিবাসীদের আচরণ গেলানো!

finland-migrants

গত বছর ১০ লাখেরও বেশি মানুষ ইউরোপে পাড়ি জমিয়েছে। ফিনল্যান্ডে গেছে ৩২ হাজারেরও বেশি

শিক্ষা মানে আচরণের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন। শিক্ষিত ব্যক্তি মার্জিত ও বাঞ্ছিত আচরণের অধিকারী। কোথায় কী করতে হবে, বলতে হবে, কীভাবে চলতে হবে, ব্যক্তি সে কাণ্ডজ্ঞান শিক্ষার বদৌলতে অর্জন করেন। তারপরও কথা থাকে। মানুষ যে সমাজে বাস করে সেখানকার আচরণ এক রকম; অন্য দেশের আচরণ-মূল্যবোধ আবার আরেক রকম। আরেক সমাজে গেলে সে অনুযায়ী তাকে চলতে হয়। এখানে অনেকের ভুল হওয়া স্বাভাবিক। ফিনল্যান্ড হয়তো এ জন্যই অভিবাসীদের ‘আচরণ’ শেখাচ্ছে। শুক্রবার বিবিসি ম্যাগাজিনে প্রকাশিত ‘টিচিং মাইগ্র্যান্টস হাউ টু বিহেভ’ প্রতিবেদন সে কথাই বলছে।
মানুষ নানা কারণে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গা, এক দেশ থেকে আরেক দেশ, এক মহাদেশ থেকে আরেক মহাদেশে যায়। গতিশীল মানুষ যেমন ভ্রমণপ্রিয় তেমনি নতুন নতুন অভিজ্ঞতা লাভে আগ্রহী। কাজের ক্ষেত্রেও বৈচিত্র্য খোঁজেন অনেকে। ঘুরে বেড়ান দেশে-বিদেশে। কাজ, পড়াশোনা, ভ্রমণ ইত্যাদির বাইরেও মানুষ বাধ্য হয়ে আশ্রয়ের খোঁজে অন্য দেশে যান। Continue reading

চা, কফি কিংবা ফিকা

Tea-Fikaএটা হয়তো মানুষের বিনয়েরই প্রকাশ, যখন কাউকে দাওয়াত দেন চা কিংবা ডাল-ভাতের কথা বলেন। বড় আয়োজন হলে ডাল-ভাতের প্রসঙ্গ আসে। কিন্তু সচরাচর সবাই চায়ের দাওয়াতই দেন। এমনকি এক দেশের প্রধানমন্ত্রী আরেক রাষ্টীয় প্রধানকেও চায়ের দাওয়াত দেন। রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীদের চা-চক্রের কথা শোনা যায় অহরহ। কয়েকজন একত্র হলে খাওয়ার অনিবার্য উপাদান চা। আড্ডা ছাড়াও অনেকের চা ছাড়া দিনই শুরু হয় না। ‘অদ্ভুত চা-খোর’ গল্প তো অনেকের জানা। ঠিক আমাদের এ চায়ের মতোই অনেকটা সুইডেনের ‘ফিকা সংস্কৃতি’। এ বিষয়ে ১৩ জানুয়ারি সাংবাদিক এলিজাবেথ হটসন বিবিসিতে লিখেছেন, ‘ইজ দিস দ্য সুইট সিত্রেক্রট টু সুইডিশ সাকসেস?’ তথা ‘সুইডিশদের সফলতার গোপন রহস্য কি মিষ্টি?’। শিরোনামে মিষ্টির কথা এলেও তিনি আসলে লিখেছেন ফিকা নিয়ে। ফিকা হলো একত্রে বসে গল্প-গুজবে কফি, কেক বা মিষ্টিজাতীয় কিছু খাওয়া। সুইডেনের অনেক প্রতিষ্ঠানে কর্মচারীদের জন্য রয়েছে বাধ্যতামূলক ফিকা বিরতি, সে সময় প্রতিষ্ঠানের তরফ থেকেই পানীয় পরিবেশন করা হয়। তাদের বিশ্বাস, এতে জনশক্তির কর্মমতা বাড়ে। পরিসংখ্যানও বলছে, বিশ্বের অন্যতম উৎপাদনমুখী শ্রমিক সুইডেনের। Continue reading

জীবন ও দ্রোহের কবিতা

Poem-didarহোসাইন মোহাম্মদ দিদারের ‘কাছে থেকো হৃদয়ের’ ও ‘সর্বাঙ্গে তোমার বিচরণ’ দুটি কবিতার বই। তাকে প্রেমিক কবি বলা যায়। উভয় বইয়ের প্রথম পৃষ্ঠায় বইয়ের নামের ওপর ব্র্যাকেটে তা পাঠকদের কাছে স্পষ্ট করেছেন। প্রথমটিতে লিখেছেন প্রেম ও দ্রোহের শ্রেষ্ঠ কবিতা নিয়ে। আর দ্বিতীয়টিতে লিখেছেন জীবন ও প্রেমের শ্রেষ্ঠ কবিতা নিয়ে। বলাবাহুল্য, কবির অসংখ্য কবিতা থেকে বাছাইকৃত শ্রেষ্ঠ কবিতাই বই দুটিতে স্থান পেয়েছে। তবে উভয়টিতেই প্রেম কমন। বইগুলো দেখে তাই কবি কিসের প্রেমিক তা খোঁজার চেষ্টা করি। ‘তোমরাই ঋণী’ কবিতায় পেয়েও যাই। তিনি লিখেছেন_ ‘এই দিনমজুর, বস্তিবাসী না থাকলে/তোমাদের মিছিল জমবে না। জমবে না সমাবেশ। রক্তাক্ত করতে পারবে না/মিছিলে মিছিলে রাজপথ। তোমরাই ঋণী তাদের কাছে।’ কবি দিনমজুরের কথা বলেছেন। তিনি আসলে মানবপ্রেমী। অবশ্য তাকে কেবল প্রেমের ফ্রেমে আবদ্ধ করা কঠিন। তিনি তার কবিতায় স্বাধীনতার কথা বলেছেন। বলেছেন গণতন্ত্রের কথা, স্বপ্নের কথা। মৃত্যুর কথাও এসেছে কবিতায়। ভালোবাসার কথা তো আছেই। কবি ও কবিতার বন্দনা গেয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে তারুণ্যের জয়গান গাইতেও ভোলেননি। কবি নামক কবিতায় তা-ই স্পষ্ট হয়_ ‘আমি রবির দলের তরুণ কবি’। তরুণ কবি দিদার নানা উপমা কবিতায় এনেছেন। সেসব তার কবিতার সৌন্দর্য আরও বাড়িয়েছে। তিনি লিখেছেন_ এতো দিন হৃদয় মহলের/সব দরজা-জানালা/খোলা ছিলো/ছিলো না কোনো প্রহরী। আরও লিখেছেন_ আমাকে সোনা ভেবে/ হাতে তুলে নিয়ে/আবার মাটির দলা মনে করে/ ছুড়ে ফেলে দিলে। এ রকম নানা জায়গায় অসাধারণ উপমা পাঠককে ধরা দেবে। কবি অবশ্য কবিতায় প্রকৃতির কথাও ভোলেননি। ভোলেননি দেশমাতৃকার প্রতি মানুষের দায়িত্বের কথা। Continue reading

জন্মদিনের শুভেচ্ছা!

flower-birthdayখ্যাতিমান কিংবা নিকটজন ছাড়া অন্যদের জন্মদিনের খবর মানুষ সাধারণত রাখে না। সংবাদমাধ্যমসহ নানাভাবে তাদের জন্মতারিখ জানা সম্ভব। এর বাইরে অন্যদের জন্মদিনের বিষয়টি জানা ততটা সহজ নয়। অবশ্য এখনকার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সেটা সহজ করেছে। বিশেষত ফেসবুকের কল্যাণে এখন সহজেই একজন আরেকজনের জন্মতারিখ জেনে নিতে পারছেন। সে সূত্র ধরেই লেখাটির অবতারণা। নতুন বছরের ১১তম দিন চলছে। এ বছরের শুরুর দিন এবং গত বছরের শেষ দিনে যারা ফেসবুকে সক্রিয় ছিলেন তাদের হয়তো অনেকেরই অভিজ্ঞতা হয়েছে, আপনার উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বন্ধুর জন্মদিন ছিল এ দুটি দিনে। হয়তো ফেসবুকে লেখা আপনার জন্মদিনটিও এ দু’দিনের একদিনেই পড়েছে। দেখা গেছে, এ দু’দিনের মধ্যে বছরের প্রথম দিনেই বেশিসংখ্যক মানুষের জন্মদিন। বছরের অন্যান্য দিনের চেয়ে প্রথম দিনে অস্বাভাবিক সংখ্যক মানুষের জন্মদিন হওয়ায় স্বভাবতই প্রশ্ন জাগে_ জন্মদিন কতটা সঠিক। এ প্রশ্নের ভিত্তিও আছে। কারণ আমাদের অনেকেরই জন্মতারিখ একাধিক। যদিও ধরাধামে প্রত্যেকের একটি নির্দিষ্ট দিনেই জন্ম হয়েছে। তারপরও নানাভাবে একাধিক জন্মতারিখ হয়ে যায়। এর অন্যতম প্রধান কারণ শিক্ষা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনেক সময় ভর্তি হতে প্রয়োজন অনুসারে প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীর বয়স কমায়-বাড়ায়। Continue reading

জার্মানিতে বর্ষবরণে যৌন নিপীড়নের নেপথ্যে

large-crowds-germany-new-year's eve

নববর্ষ উদযাপনে জার্মানির কোলনে সমবেত মানুষ

জেসমিন কোলম্যান

জার্মানির কোলন শহরে বর্ষবরণ উৎসবে সংঘটিত সংঘবদ্ধ যৌন নিপীড়ন ও চুরির ঘটনা ক্ষোভ ও ক্রোধের জন্ম দিয়েছে। রাজনীতিবিদরা এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। কোলনের প্রধান রেলওয়ে স্টেশনের বাইরে সংঘটিত এ ঘটনায় শতাধিক নারী নিপীড়নের অভিযোগ করেছেন। কর্তৃপক্ষের ভূমিকা ব্যাপক সমালোচিত হয়েছে। সমালোচনার মুখে পড়েছেন কোলনের মেয়রও। কারণ তিনি এ ঘটনার পর উল্টো নারীদেরই সাবধান হওয়ার মতো মন্তব্য করেছেন।
প্রতিবেদন বলছে, এ নিপীড়নের ঘটনা কেবল কোলনেই ঘটেনি বরং জার্মানির অন্যান্য শহরেও ঘটেছে। এর শিকার নারী ও ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের বিস্ময়_ ‘কীভাবে এ রকমটা ঘটল!’
কোলনের বাসিন্দারা বলছেন, যে এলাকায় যৌন নির্যাতন সংঘটিত হয়েছে সে এলাকাটি আসলে অপরাধের জন্য ডেঞ্জার জোন হিসেবে পরিচিত। সেখানে পকেটমার ও চুরির ঘটনা অহরহ ঘটে। যদিও সে স্পটটি শহরের একেবারে কেন্দ্রে অবস্থিত, যেখানে নতুন বছর উদযাপনে হাজারো মানুষকে একত্র হতে উদ্বুদ্ধ করেছে। মানুষের ভিড়, কোলাহল, মাদকের ছড়াছড়ি, আতশবাজি ইত্যাদি পরিস্থিতিকে পুলিশের নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে গিয়েছিল। অপরাধীরা সে সুযোগই কাজে লাগিয়েছিল। তারা ভিকটিমের সঙ্গে নেচে-গেয়ে তাদের বিভ্রান্ত করতে চেয়েছিল।
Continue reading