Monthly Archives: সেপ্টেম্বর ২০১৫

ভেজাল গরু!

cowঈদুল আজহায় গরু-ছাগল দুই-ই কোরবানির অনুষঙ্গ হলেও আলোচনায় সবসময় গরুই প্রধান। বিপুল অধিকাংশই যখন গরু কোরবানি দেয় তখন সংবাদমাধ্যম, ক্রেতা-বিক্রেতা সবার মনোযোগের কেন্দ্রে থাকে গরু। তবে বিক্রেতার মনোযোগই বোধহয় বেশি থাকে। তার প্রস্তুতির ব্যাপার আছে। অনেকে সারাবছর এই ঈদের জন্য অপেক্ষা করেন। অনেক দিন ধরে পরিচর্যা করে গরু কোরবানির হাটে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করেন। বিশেষ করে গরু ব্যবসায়ীরা মোটাতাজা করে গরু হাটে তুলতে চান। তাতে বেশি দাম পাবেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈজ্ঞানিক উপায়ে গরু মোটাতাজা করতে নূ্যনতম চার-পাঁচ মাস সময় লাগে। ইউরিয়া, খড়, চিটাগুড় ইত্যাদি খাইয়ে তা সম্ভব। কিন্তু ঈদ যখন নিকটবর্তী তখন অনেক ব্যবসায়ী বেশি দামের আশায় দুই মাসের মধ্যেই ওষুধ ও রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করে গরু মোটাতাজা করতে চান। ফলে ভেজাল গরুর প্রশ্ন আসে। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ হয় ‘ভেজাল গরু চেনার উপায়‘। সোমবার অনলাইন সংবাদমাধ্যম বিডিনিউজের লাইফ স্টাইল বিভাগে ফিচারটি প্রকাশ হয়। ইউটিউবে ‘মজা লস’ নামের পেজে অবশ্য গত বছরই ৫ মিনিটের একটি ভিডিওতে ‘ভেজাল গরু চেনার ৩টি সহজ উপায়!’ বাতলে দেওয়া হয়। এসব দেখে যত না ভেজাল খোঁজার জন্য সচেতন হই, তার চেয়ে বেশি হই আতঙ্কগ্রস্ত। যে কেউই বিস্মিত হবেন। মাছে ভেজাল, ফলে ভেজাল, তরকারিতে ভেজাল, শিশুখাদ্যে ভেজাল। ইত্যাদি ভেজালে যদিও আমরা অভ্যস্ত তারপরও কোরবানির গরুতে ভেজালের কথা অনেকে চিন্তাও করতে পারেন না। কিন্তু ভেজাল সেখানেও! তার মানে ভেজালমুক্তি যে আমাদের সুদূর পরাহত_ তা বলা বাহুল্য। Continue reading

রানা ভাই এবং ভালো বাসা

রানা ভাইয়ের সঙ্গে পরিচয়টা কোন কাকতালীয় ব্যাপার ছিলো না। তিনি পত্রিকায় লিখতেন, আমিও লিখতাম। দীর্ঘদিন তার নামের সঙ্গে, লেখার সঙ্গে পরিচিত। এমনকি দেখাটাও কাকতাল নয়। রিভারাইন পিপল সূত্রে রোকন ভাই মারফতে আমাদের দেখা। কিন্তু কাকতালটা একসঙ্গে থাকা। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। তাছাড়া পড়াশোনায়ও এক বছর সিনিয়র। তারপরও দেড় বছরের মত সময় আমরা এক সঙ্গে ছিলাম। আমার অনার্স-মাস্টার্স শেষ। দীর্ঘদিনের প্রিয় সলিমুল্লাহ মুসলিম হল আমি ছেড়ে দিবো। রানা ভাই চট্টগ্রামের পাট চুকিয়ে কয়েকমাস আগেই ঢাকা এসেছেন। ভালো বাসা খুজছেন। তখনি আমি জানতে পারি। আমরা একসঙ্গে বেরিয়ে পড়ি বাসার খোজে।  
সেদিনের কথা মনে পড়ছে, প্রথম দিন যখন আমাদের ‍উভয়েরই কর্মস্থলের নিকটবর্তী স্থান ফার্মগেট এলাকায় বাসা খুজি। তখন রানা ভাই কাজ করেন বণিক বার্তায়। আমি সমকালেই। সেদিনের বাসা খোজার তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে সমকালে লিখেছিলাম ‘ভালো বাসা’। যার প্রথম দু’টি বাক্য
Continue reading

স্বর্ণদ্বীপের ছবি

bookশিশু-কিশোর উপযোগী গল্প লেখা কঠিন কাজ। ‘স্বর্ণদ্বীপের ছেলে’তে তা সহজ করে দেখিয়েছেন লেখক মাসুদ আনোয়ার। শিশু বা কিশোরদের জন্য লিখতে গেলে গল্প ও ভাষা উভয়ের প্রতি দৃষ্টি রাখতে হয়। কঠিন কোনো বিষয় এলে তাকে সহজ করে উপস্থাপন করতে হয়। মনোযোগ ধরে রাখতে কিংবা আকর্ষণ বাড়াতে শিশুতোষ নানা উপ-গল্পের আশ্রয় নিতে হয়। ‘স্বর্ণদ্বীপের ছেলে’ তারই প্রমাণ।
‘উপনিবেশ টুপনিবেশের গপ্পো’, ‘যুদ্ধের কাল’, ‘ওয়াক থু’, কিংবা ‘মেঘের দুপুর’_ প্রত্যেকটি গল্পই আলাদা। লেখক কেবল গল্প লিখেই ক্ষান্ত হননি; নির্দিষ্ট বার্তা দিয়েছেন, কিশোর মনের নানা প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন, অজানা বিষয় জানিয়েছেন। গল্পগুলোর কোনোটিতে গল্পের ছলে ইতিহাসের কথা এসেছে। কোনোটায় দেশ স্বাধীন করার জন্য কিশোর মনে যুদ্ধে যাওয়ার আকুতি প্রকাশ পেয়েছে। আবার কোনোটিতে এসেছে স্বপ্নের কথা। একই সঙ্গে কোনোটা হাসির গল্প, কোনোটা কান্নার। আনন্দ-বেদনা-আবেগ-আকাঙ্ক্ষার সম্মিলন ঘটিয়েছেন লেখক। তবে কোনোটাই কিশোর বয়সের বাইরে যায়নি।
Continue reading