Monthly Archives: ফেব্রুয়ারি ২০১২

ভিকারুননিসার চৈতীর দায় কে নেবে

চৈতীর কথা জানা গেল পত্রিকার সংবাদ হিসেবে। এক অসম্ভব জেদি মেয়ে সে। বিজ্ঞান নিয়ে পড়ার জেদ ধরেছিল, ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিল। চৈতীর সে স্বপ্ন পূরণ হতে দেয়নি আমাদের সমাজ, শিক্ষা ব্যবস্থা আর তথাকথিত স্কুলের নিয়ম। না ফেরার দেশে চলে গেছে সে। দেখিয়ে গেছে আমাদের নামিদামি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাছে শিক্ষার্থীরা কতটা অসহায়।
চৈতীকে নিয়ে সংবাদ শিরোনামগুলো জানা যাক_ ২২ ফেব্রুয়ারির প্রথম আলো বলছে, ‘অসময়ে চৈতীর মৃত্যু’; ২১ ফেব্রুয়ারি সমকাল লিখছে, ‘বিজ্ঞান পড়তে না পেরে আত্মহত্যা করল চৈতী’ আর কালের কণ্ঠ লিখেছে, ‘বিজ্ঞান বিভাগে পড়তে না পেরে ভিকারুননিসা ছাত্রীর আত্মহত্যা’।
তার পুরো নাম চৈতী রায়। একই প্রতিষ্ঠান থেকে সে এ বছর জেএসসিতে ৪.৬০ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছিল। সে তার বাবা-মাকে বলত, নবম শ্রেণীতে বিজ্ঞান নিয়ে পড়বে, ডাক্তার হবে। বাদ সাধল তার প্রতিষ্ঠানের নিয়ম। জিপিএ গোল্ডেন-৫ ছাড়া বিজ্ঞান বিভাগে কাউকে ভর্তি করায় না প্রতিষ্ঠানটি। শিক্ষার্থীর স্বপ্ন আর অভিভাবকের অনুরোধ এ নিয়মের কাছে বড়ই নগণ্য। যেটা বোঝানোর মতো নয়, চৈতী সেটা বুঝিয়েছে তার নিজের জীবন দিয়ে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিয়ম থাকবেই এটা অস্বাভাবিক কিছু নয়, কিন্তু তার একটা মাত্রা থাকবে, যৌক্তিকতা থাকবে। বিজ্ঞানে যাওয়ার পেছনে জিপিএ গোল্ডেন-৫ এর কী যৌক্তিকতা আছে। প্রথম কথা হলো, এটা অষ্টম শ্রেণীর সমাপনী পরীক্ষা বা জেএসসির ফল। যেটা মাত্র দু’বছর ধরে চালু হয়েছে এবং এবারই কেবল অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা প্রথম পাবলিক পরীক্ষা হিসেবে জেএসসিতে অবতীর্ণ হয়েছিল। আর সেই রেজাল্ট কি-না তাদের পছন্দের বিষয়ে যাওয়ার জন্য প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিয়মানুযায়ী যে কোনো শিক্ষার্থী পাস করলেই যে কোনো বিভাগে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে জিপিএ গোল্ডেন-৫-এর শর্ত হাস্যকর। এটা অন্তত জিপিএ-৪ হতে পারে। কারণ জিপিএ-৪ মানে গড়ে ৭০ নম্বর; এটা কম কিসে।
তবে সবচেয়ে ভালো হয় সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী যে বিষয়ে যেতে চায় তাকে সে বিষয় দেওয়া। শিক্ষার্থীর রেজাল্ট না দেখে তার আগ্রহ দেখা। কারণ পড়াশোনা শিক্ষার্থীর কাছে, সে পছন্দ অনুযায়ী বিভাগে ভর্তি হলে সেখানে ভালো করতে পারবে। ধরা যাক, একজন শিক্ষার্থী গোল্ডেন-৫ পেল, কিন্তু বিজ্ঞানে তার আগ্রহ নেই অথচ দেখা গেল সে তার অভিভাবক কিংবা প্রতিষ্ঠানের চাপে নিতে বাধ্য হলো। আবার আরেকজনের আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও সে রেজাল্টের কারণে বিজ্ঞানে যেতে পারল না। এসব কীভাবে মেনে নেওয়া যায়। যার ফল আমরা দেখলাম চৈতীর ক্ষেত্রে। এ রকম নিশ্চয়ই আরও অনেককে পাওয়া যাবে, যারা এভাবে পছন্দের বিভাগ না পেয়ে অরুচি নিয়ে অন্য বিভাগে পড়ছে।
এ রকমটা আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার সর্বত্র রয়েছে। স্কুল পর্যায়ে যেমন অনেকে তার পছন্দের বিভাগে যেতে পারে না, আবার ঠিক উচ্চশিক্ষায়ও অনেকেই আগ্রহের বিষয় পায় না। অনেকে আবার আগ্রহের প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পারে না। উচ্চশিক্ষায় বরং এটা খুব বেশি দেখা যায়। স্কুল পর্যায়ে দেখা যায়, অভিভাবক কিংবা প্রতিষ্ঠানের চাপ আর বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে এসে ভর্তি পরীক্ষাই ভাগ্য নির্ধারণ করে। সবক্ষেত্রেই অবশ্য রেজাল্ট একটা বড় ফ্যাক্টর। অর্থাৎ কোনো ক্ষেত্রেই শিক্ষার্থীর নিজের আগ্রহের কোনো দামই নেই। আর এই অরুচির মধ্য দিয়েই চলছে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা। ফলে এখানে পরিমাণগত পরিবর্তন হয় ঠিকই অর্থাৎ বছর বছর জিপিএ-৫ বাড়ে, কিন্তু গুণগত কোনো পরিবর্তন হয় না।
আর নামিদামি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো এই গোলকধাঁধায়ই চলছে। কোন প্রতিষ্ঠানের কতজন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেল এটার প্রতিযোগিতাই করছে তারা। চৈতীর ঘটনা ব্যতিক্রম কিছু নয়। চৈতীর প্রতিষ্ঠানটি হয়তো ভেবে নিয়েছে, এসএসসির পাবলিক পরীক্ষায় তার বিজ্ঞানের সব বিষয়ে শিক্ষার্থীকে জিপিএ-৫ পেতেই হবে। ফলে আগ থেকে বাছাই করে কেবল রেজাল্টধারীদেরই নেওয়া হলো। এতে যেমন স্বপ্নবাজ ডাক্তার চৈতীকে আমরা হারিয়েছি, এ রকম আরও কত চৈতীর স্বপ্নের যে মৃত্যু হয়েছে জানা নেই।
অভিভাবকরাও ছুটছেন রেজাল্টের পেছনে আর এর চেয়েও বড় বিষয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। নামিদামি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সন্তানকে পড়াতে অভিভাবকরা সবাই ব্যাকুল। চৈতীর ক্ষেত্রে যেটা দেখা গেল, সে তার বাবা-মাকে অন্য প্রতিষ্ঠানে হলেও বিজ্ঞানে ভর্তি করতে বলেছিল; কিন্তু তার বাবা-মা তাকে অন্য স্কুলে ভর্তি না করিয়ে তাকে উল্টা বোঝানোর চেষ্টা করে এবং শেষ পর্যন্ত তার ইচ্ছার বাইরে ওই প্রতিষ্ঠানেই বাণিজ্য বিভাগে ভর্তি করান। ফলে যা হওয়ার তা-ই হলো। চৈতীর অভিমান তাকে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করেছে আর তাকে এনেছে পত্রিকার পাতায়।
আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা যেভাবে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে সেটাই ভাবনার বিষয়। এখন সমাপনী পরীক্ষার মাধ্যমে পঞ্চম শ্রেণী থেকেই শিক্ষার্থীরা রেজাল্টের কারণে বৈষম্যের শিকার, যেটা অষ্টম শ্রেণীতে এসে খুব বেশি স্পষ্ট হয়। আমাদের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা অল্প বয়স থেকেই যে স্বপ্নের দোলাচলে দুলছে তার পরিণাম শুভ নয়। তবে আত্মহত্যা কখনোই সমর্থনযোগ্য নয় আর এটা কোনো কিছুর সমাধানও নয়। চৈতীর আত্মহত্যাকেও সমর্থন দেওয়া হচ্ছে না। চৈতীর যে বয়সে অতিরিক্ত মাত্রা ঘুমের ওষুধ খেয়ে মৃত্যু হলো তা মেনে নেওয়া কষ্টের বিষয়। একই সঙ্গে এটা তার অভিমানের মাত্রাও বোঝাচ্ছে।
আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আর অভিভাবক সকলের গোঁজামিলে ‘শিক্ষা’ কী রূপ ধারণ করছে তা বলাই বাহুল্য। এদের সকলের ফল হিসেবে আমরা হারিয়েছি চৈতীকে। আর সুতরাং চৈতীর দায় তারা কেউই এড়াতে পারে না।

সমকালে প্রকাশিত ২৭-০২-২০১২

যেখান থেকে অনেক দুর্নীতির জন্ম

২৪ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সহকারী প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষাও প্রশ্নপ্রত্র ফাঁসের অভিযোগ থেকে বাঁচতে পারেনি। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় অবশ্য এটি নাকচ করে দিয়েছে। তারা বলছে, যেটা বিলি করা হয়েছে, সেটা ভুয়া প্রশ্নপত্র আর পুলিশ এ অভিযোগে ২২ জনকে আটক করেছে। সহকারী প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা আলোচিত একটি পরীক্ষা, যেখানে দেশের ৬১টি জেলার প্রায় সাড়ে ১০ লাখ প্রার্থী অংশ নেন। মন্ত্রণালয়ের নাকচ আমলে নিলেও এটা ঠিক, প্রশ্নপত্র ফাঁস দেশে স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। বিসিএস থেকে গুরুত্বপূর্ণ কোনো পরীক্ষা বাকি নেই, যেখানে এমন অভিযোগ নেই। এর আগে ১৬ ফেব্রুয়ারি প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে বাতিল হয় খাদ্য বিভাগের নিয়োগ পরীক্ষা। তারও আগে ২৯ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত নার্সিং ইউনিটের ফাইনাল পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়। এসএসসির নির্বাচনী পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ও ঢাকা মেডিকেলের প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগগুলোও প্রায় সাম্প্রতিক ঘটনা।
বাংলাদেশে নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ও নিয়োগে ঘুষের বিষয়টি ওপেন সিক্রেট। যারা সত্যিকার অর্থে পড়াশোনা করে যোগ্যতার বলে চাকরি পেতে চান, তাদের চাকরির নিশ্চয়তা কমেছে এতে। এখানে টাকার কাছে যেন মেধা অসহায়। মনে হয়, মগের মুল্লুক চলছে। একজন শিক্ষার্থী ডিগ্রি বা অনার্স পাস করে ১৫-১৬ ও মাস্টার্স করলে ১৭-১৮ বছর পড়াশোনা শেষ করে যখন চাকরির বাজারের এ অবস্থা দেখেন, তখন তার হতাশ হওয়া ভিন্ন পথ খোলা রয়েছে কি? এটা আমাদের জন্য কতটা লজ্জার তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
২০১০ সালের মাঝামাঝি সময় প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ায় মাধ্যমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করার মধ্য দিয়ে বিষয়টি গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচিত হয়। ঠিক তখনই জানা যায়, আসলে এর সঙ্গে জড়িত কারা। সে সময় প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার সঙ্গে সরকারি বিজি প্রেসের নাম সামনে আসে। যেখান থেকে একটি শক্তিশালী চক্র বিসিএসসহ অন্যান্য পরীক্ষা মিলিয়ে মোট ৬৪ বার প্রশ্নপত্র ফাঁস করে এবং এর জন্য এ পর্যন্ত ২৯টি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। কমিটি প্রতিবেদন দেয়, তবে শাস্তি হয়নি কারোরই।
সম্প্রতি সহকারী প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার বিষয়ে অবশ্য গণমাধ্যমও বলছে, ‘ভুয়া প্রশ্নপত্র’ বিক্রি অর্থাৎ মূল প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়নি। অনেকে ফাঁস করার কথা বলে মানুষকে প্রতারিত করে ভুল প্রশ্নপত্র বিক্রি করেন। ঘটনাটি বিশেষত উত্তরাঞ্চলে ঘটেছে; যেখানে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় থেকে আটক করা হয়েছে ২২ জনকে। উত্তরাঞ্চল থেকে এর আগেও খাদ্য বিভাগের প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় কয়েকজনকে আটক করা হয়, যারা সত্যিকার অর্থেই প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িত ছিল। এ অঞ্চলে প্রশ্নপত্র ফাঁস একটু বেশিই হয় সম্ভবত। প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার আগে বিতরণ করা প্রশ্নপত্রের সঙ্গে মিল পাওয়া যায়নি, কিংবা ভুয়া প্রশ্নপত্র বিতরণের চেষ্টা বলেই কিন্তু প্রশাসন দায়মুক্ত হতে পারে না। এ রকম ঘটনা কেন ঘটল তারও সুষ্ঠু তদন্ত দরকার।
সহকারী প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের সার্কুলার হওয়ার পর থেকেই বাতাসে ভাসছিল যে, ৩ থেকে ৫ লাখ টাকা দিলেই চাকরি। অন্যান্য চাকরির ক্ষেত্রেও গুরুত্ব অনুসারে এমন টাকার অঙ্কের কথা প্রায়ই শোনা যায়। যা কিছু রটে, তার কিছু না কিছু তো ঘটে। আর এটা যদি হয় বাস্তবতা তাহলে বলা যায়, যার টাকা নেই তার চাকরি নেই। মনে শঙ্কা জাগে, ভারতের কৃষকদের অনেকে যেমন ঋণের ভার সইতে না পেরে আত্মহত্যা করেন; তেমনি বাংলাদেশের সৎ, যোগ্য, মেধাবী কিন্তু দরিদ্র ঘরের সন্তানরাও এভাবে চাকরি না পেয়ে আত্মহত্যা করবেন।
তবে আইনের দিক থেকে কোনোভাবেই পিছিয়ে নেই আমরা। পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) আইন, ১৯৮০ ও সংশোধনী ১৯৯২-এর ৪ নম্বর ধারায় স্পষ্ট করে প্রশ্নপত্র ফাঁসের শাস্তির বিধান আছে। বলা হয়েছে, এটি ফাঁস বা বিতরণে জড়িত থাকলে ৩ থেকে ১০ বছর কারাদণ্ডসহ অর্থদণ্ড হবে। তবে এ আইনের যথাযথ প্রয়োগ পরিলক্ষিত হয়নি কোথাও। কারণ প্রত্যেক ঘটনার পেছনেই রাঘব-বোয়ালরা জড়িত, যাদের গায়ে আঁচড় দেয়ার ক্ষমতা বোধহয় কারোর নেই।
বাংলাদেশের সর্বত্র দুর্নীতির যে ছাপ আমরা দেখছি, তার সূচনা চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়া থেকেই। যেখানে যাবেন সেখানে যদি বড় অঙ্কের টাকা দিয়ে চাকরি পেতে হয়, স্বাভাবিকভাবেই পরবর্তী সময়ে সে টাকা ওঠানোর জন্য বৈধ-অবৈধ উপায় অবলম্বন করবেন। এটা একদিকে যেমন দুর্নীতি বাড়ায়, আবার যারা টাকা দিয়ে এভাবে চাকরি পান তারা সংশ্লিষ্ট কাজের যোগ্যও হন না অনেক ক্ষেত্রে। আমাদের প্রশাসনের সর্বত্রই এ অযোগ্যরা যদি অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে নিয়োগ পান, সেটা দেশের জন্য কতটা ভয়াবহ ফল বয়ে আনবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
প্রশ্নপত্র ফাঁস আর নিয়োগ পরীক্ষা এবং চাকরির নিয়োগের ক্ষেত্রে অনিয়ম, দুর্নীতি এভাবে আর কত দিন চলবে? আমাদের পিছিয়ে পড়াটা তো এ কারণেও ঘটছে। এ থেকে মুক্তি চান সবাই।

বণিক বার্তা ২৮.০২.২০১২

এমএলএম এর খপ্পর থেকে রক্ষা করতে হবে শিক্ষার্থীদের

মাহমুদ (ছদ্মনাম) সবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে। টানাটানির সংসারে বড় হয়েছে। মেধায় কমতি নেই; এসএসসি-এইচএসসি দুটোতেই গোল্ডেন এ প্লাস। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর তার এক বন্ধু খাণ্ডকালীন চাকরি দেয়ার নাম করে এক অফিসে নিয়ে যায় তাকে। কোট-টাই পরা অফিসারের বক্তব্যে কুপোকাত মাহমুদ। চাকরির চেয়ে কোটিপতি হওয়াটাই এখন তার স্বপ্ন। লাখ টাকা জীবনে কোনো দিন দেখেনি যে, এত সহজে কোটিপতি হওয়ার রাস্তা পেয়ে সে আনন্দিত। মেধাবী মাহমুদ যে স্বপ্ন নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে, তার চেয়ে কোটি টাকা এখন অনেক বড় তার কাছে। এর পেছনেই ছুটছে সে; টাকার কাছে পড়ালেখা বড়ই অসহায়!
মাহমুদকে আসলে টাকার নেশা ধরিয়ে দিয়েছে এমএলএম কোম্পানি। এমএলএম মানে মাল্টি লেভেল মার্কেটিং। সবার কাছে এমএলএম যতটা না পরিচিত, তার চেয়ে বেশি পরিচিত কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নাম। এমএলএম কোম্পানির খপ্পরে পড়েনি এমন মানুষ পাওয়া ভার। তবে তাদের আগ্রহ শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক। কারণ এরা তাদের টোপ খুব সহজেই গ্রহণ করে— এটা বিভিন্ন কারণে হতে পারে। এ বিষয়ে যাওয়ার আগে কয়েকটি এমএলএম কোম্পানির নাম জানি— ডেসটিনি, নিউওয়ে, লাইফলাইন, গ্যানেক্স, গেটওয়ে, ব্রাভো আইটি, ডোরওয়ে, ইউনিপেটুইউ, ই-লিংকস। সম্প্রতি জাতীয় সংসদে এমন মোট ৬৯টি কোম্পানির নিবন্ধন রয়েছে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী জিএম কাদের।
বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজে ভর্তি হলে স্বাভাবিকভাবেই তার চলাফেরায় প্রয়োজন টাকার। যদি বলা হয়, ‘তুই পড়ালেখার পাশাপাশি হাজার হাজার টাকা কামাতে পারবি সহজেই’, তার মাথা ঠিক থাকার কথা নয়। অসচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থীকে পড়ালেখা ভালোভাবে চালিয়ে নেয়ার দোহাই দিয়ে এমএলএম কোম্পানি মানুষকে প্রলুব্ধ করছে। একসময় দেখা যায় শিক্ষার্থীটি পড়াশোনার আগ্রহ তো হারিয়েছেই, তার ওপর নিঃস্ব হয়ে এমএলএম কোম্পানিও ছেড়েছে।
বাংলাদেশে শিক্ষার্থীদের, বিশেষত কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের ওপর এমএলএম কোম্পানির প্রভাব নিয়ে গবেষণা করলেই বের হয়ে আসবে কত শিক্ষার্থীর জীবন এরা নষ্ট করেছে। পড়ালেখার পাশাপাশি এমএলএম কোম্পানি করা সম্ভব বা পড়ালেখা চালিয়ে নিতে এমএলএম কোম্পানি সাহায্যকারী— এমন ধোঁকা দিয়ে শিক্ষার্থীদের এরা বশ করে। মজার বিষয় হলো, ঠিক এ শিক্ষার্থীটির ভেতরে যখন এমএলএমের বীজ ঢুকে যায়, যখন সে প্রত্যেক দিন ঘুম থেকে উঠে একটা টাই গলায় ঝুলিয়ে অফিসে যায়, যখন তার সহপাঠী বন্ধু জিজ্ঞেস করে ‘কি রে ক্লাস করবি না?’ তখন তার উত্তর হয়, ‘আরে ক্লাস করে কী হবে’ কিংবা ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখাশেষে চাকরি করে কত টাকা পাবি— বিশ, ত্রিশ কিংবা পঞ্চাশ হাজার? আর আমি এখন এটি করলে দুই বছর পর ঘরে বসে থাকলেও দেড় লাখ টাকা আসবে।’ আরও মজার বিষয় হলো, এরাই আবার হতাশ হয়ে অনেকে কাজ না পেয়ে বিদেশে যেতে বাধ্য হন।
বাংলাদেশে এমএলএম কোম্পানির শিকার শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, বরং এর দ্বারা নিঃস্ব হয়েছেন অনেক সাধারণ মানুষও। এটা অবশ্য আমাদের এমপি-মন্ত্রীরাই স্বীকার করছেন। ৬ ফেব্রুয়ারি বাণিজ্যমন্ত্রী যেমন সংসদে বলেছেন, ‘এমএলএম কোম্পানিগুলো মানুষের কাছে স্বপ্ন বিক্রি করছে। প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে স্বপ্ন দেখিয়ে অনেক ক্ষেত্রে অনেককে নিঃস্ব করছে’ কিংবা ২০১১ সালের ২৪ অক্টোবর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একটি কোম্পানির নাম উল্লেখ করে বলেছেন, ‘তাদের অপকর্ম খতিয়ে দেখা হবে। এর কিছু কর্মকর্তা এরই মধ্যে সরকারের নজরে এসেছে। তাদের মিথ্যা আশ্বাসে অনেকে প্রতারিত হচ্ছেন। সরকার তাদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছে।’ এমএলএম কোম্পানি বন্ধের সুপারিশও করা হয়েছে। এখনো কর্তৃপক্ষ বলেই যাচ্ছে, ‘এমএলএম ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে আইন হচ্ছে।’ তবে এ ক্ষেত্রে অগ্রগতি ধীর।
এমএলএম কোম্পানির বিরুদ্ধে কমিউনিটি ব্লগগুলোয় ব্যাপক জনমত তৈরি হয়েছে। এমএলএম কোম্পানিগুলো আর যা-ই করুক; অন্তত শিক্ষার্থীদের জীবন নষ্ট করার অধিকার তাদের নেই। শিক্ষার্থীদের নানা কৌশলে টাকার পেছনে যেভাবে ছোটাচ্ছে, তা করতে পারে না কোম্পানিগুলো। কোম্পানিগুলো যেভাবে ব্রেন ওয়াশ করছে, শিক্ষার্থীদের পাগল বানাচ্ছে কিংবা মেধাবী শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা বিমুখ করছে, তা চলতে দেয়া যায় না। এটা একদিকে শিক্ষার্থীর নিজের জন্য ঝুঁকিস্বরূপ, অন্যদিকে দেশের সম্পদ হারিয়ে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে আইনের যেমন দরকার আছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেরও রয়েছে দায়িত্ব। প্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষার্থীদের কাউন্সিলিং করতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ভর্তি হওয়ার পর পরই শিক্ষার্থীকে তার শিক্ষাজীবনের সম্ভাব্য প্রলোভন, ঝুঁকি, সাফল্যের পথ প্রভৃতি বিষয়ে কাউন্সিলিং করালে এর একটা সমাধান হতে পারে।
গোড়ায় গলদ। গলদটা শিক্ষাব্যবস্থায়। দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ বিশ্ববিদ্যালগুলোয় পড়েও চাকরির কোনো নিশ্চয়তা নেই। হতাশা থেকেও এমএলএম কোম্পানির খপ্পরে পড়াটা আশ্চর্যের কিছু নয়; এটাই বরং তার ভবিষ্যতের জন্য ভালো। আরেকটা বিষয় হলো, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় খণ্ডকালীন কাজের কোনো ব্যবস্থা নেই। বিশ্ববিদ্যালয় যদি পার্ট-টাইম কাজের নিশ্চয়তা দিতে পারত, তাহলে শিক্ষার্থীরা এমএলএমসহ পড়ালেখার জন্য হুমকিস্বরূপ, এমন অন্যান্য কাজে হয়তো জড়াত না। সর্বোপরি শিক্ষার্থীদের সচেতনতা, বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব আর প্রশাসনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে এমএলএম কোম্পানির খপ্পর থেকে বাঁচা সম্ভব।
বণিক বার্তা ১৬.০২.২০১২

Green Economy: I’m included

I can remember my childhood, the days were very much enjoyable. Obviously the environment was favorable, very often I was used to going my grandfather’s home where a river was flown beside their home. My uncles and I enjoyed our time in the river, like the boys in the picture. I can’t express that feelings with my words and I think that was the real happiness of my life. When the river was the source of entertainment. And the rivers were full of water, the people whenever get time had passed their leisure time seeing the beauty of nature on the bank of river.

Only twelve years ago I have passed my childhood and this was the scenario of that time. But the days have been changed, the rivers are not same as that I have seen in my childhood. The pictures below are the exact condition of present rivers of Bangladesh. It has been dying day by day. I can’t but regret for my younger brother who is passing his childhood, but he has no opportunity to pass his time with nature. The river had no water, it has been constraint by encroachment of men.

Bangladesh is called the riverine country. There are very much contribution of river in our country . The river is a part of our culture. Our economy dependents on it. It is a part of our history. The writers, specially poets has written poems on it, novelists has created novels on it and also many stories and songs have been created on river; Their focus was the charming scenario of rivers and natural beauty of Bangladesh. And even these descriptions were a devastating river, Which floods its shore and even villages near the river.

But at present we see its opposite picture. Rivers are dying here day by day. Here, writer refers a survey of Bangladesh Water Development Board (BWDB) which shows that- in 2010 among three hundred and ten rivers in Bangladesh fifty-seven 50% of all sales is put into advertising.”>percent of the rivers lack proper depth. He also shows the study of Bangladesh Inland Water Transport Authority (BIWTA), which reveals that one hundred and seventeen rivers are either dead or have lost navigability.

When this is the condition of rivers, it is very easy to guess the position of environment of our country. In this moment it is emergence to save the river for saving our environment. So, to save our rivers we have taken initiatives from our ability. We have established an organization named riverine people.

Riverine people’s strength is here we all are the university students, who are young and energetic. Primarily we are doing research activities and we have already conducted a research on dying river named Baral and we have submitted it to the government for taking necessary steps to save it, Moreover we have a group in the Facebook, which has 3343 member and also page named riverine news’ where we update the regular river related news published at the dailies of home and abroad; I am specially doing this as I am secretary of online affairs of riverine people.

Water of river is important to us, like blood. But this blood has been polluted by our activities. We have encroached it and we are responsible for these dying rivers, whenever I update our page I only see the negative news. I think firstly we need our consciousness. I am doing my work relentlessly to save our river; if it includes me in the green economy, so, I am included.

Photos: Collected from different Newspapers of Bangladesh

This post has been submitted to UNEP‘s facebook fan-page to participate at world environment Day 2012 Blogging Competition Link