Monthly Archives: ডিসেম্বর ২০১১

তিতাসের বুকে বাঁধ


সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইটগুলোয় (ব্লগ, ফেসবুক) একটা ভিডিওর ব্যাপক ছড়াছড়ি। তেমন কিছু নয়, একুশে টিভিতে প্রচারিত সংবাদের ভিডিও। ‘ট্রানজিট’ নিয়ে প্রচারিত তিন পর্বের এক পর্ব। সেখানে উঠে এসেছে আখাউড়া ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সংযোগস্থলে তিতাস নদী দ্বিখণ্ডিত হওয়ার করুণ কাহিনী। ভারতকে ট্রানজিট সুবিধা দেয়ার নামে তিতাসের মাঝখানে রাস্তা বানিয়ে কীভাবে তাকে মেরে ফেলা হচ্ছে তার প্রমাণ ভিডিওটি। যারা কখনো তিতাস দেখেননি কিংবা নদী বরাবর কীভাবে রাস্তা বানানো হলো তা দেখার কৌতূহল থেকেও অনেক ইন্টারনেট ব্যবহারকারী এতে ঢুঁ মেরেছেন।
ঠিক কত মানুষ ভিডিওটি দেখেছেন তার হিসাব বের করা কঠিন, তবে লেখকের দেখা মতে ফেসবুক থেকেই ছয় হাজারের ওপর মানুষ ভিডিওটি শেয়ার করেছেন। এটা খুবই আশ্চর্যজনক ঘটনা— আরেক দেশকে সুবিধা দিতে গিয়ে একটা নদীকেই দ্বিখণ্ডিত করে ফেলছে বাংলাদেশ। এটা বাংলাদেশের নাগরিকরা কোন যুক্তিতে মেনে নেবেন? ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ উপন্যাসেই থাকবে হয়তো; আরেক বাস্তব উপন্যাস লেখা হতে পারে— ‘তিতাস একটি ট্রানজিট রুটের নাম’। যেটি অপ্রতিরোধ্য, দেশ অথবা মানুষ গোনে না। গোনে ফায়দা। অর্থনৈতিক ফায়দা কিংবা চকচকে নোটের কাছে ছলছল মানুষের চোখের জলের কোনোই মূল্য নেই!
বাংলাদেশের নদীগুলোর করুণ অবস্থার কথা কারও অজানা নয়। তিতাসের পরিণতি দেখছে সবাই, যেটি ভারতের ট্রানজিটের কাছে বলি হয়েছে। ঠিক এ রকম ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে, যেগুলোর অধিকাংশের উত্স ভারতে। উজানে পানি প্রত্যাহার করে নিলে ভাটির দেশ হিসেবে স্বাভাবিকভাবেই তাতে বাংলাদেশ বঞ্চিত হয়। নদী নিয়ে বহু খেলা এ দেশের মানুষ দেখেছে। ফারাক্কা বাঁধ দেখেছে, তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তির শেষ অবস্থা দেখেছে, টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে ভারতের আচরণ দেখেছে, দেখেছে বাংলাদেশের হর্তাকর্তাদের আচারণ। আবার একই সঙ্গে আপসে ট্রানজিট কবুল হতে দেখেছে কিংবা মানুষকে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার লোভ দেখিয়ে রক্ষক কীভাবে ভক্ষক হয়, তাও দেখেছে।
তিতাসে আসি। একুশে টেলিভিশন প্রচারিত সংবাদটি বলছে, তিতাস নদীর ওপর বাঁধ দেয়ায় চারপাশের লাখ লাখ হেক্টর জমিতে ফসল উত্পাদনের ওপর বিশাল প্রভাব পড়ছে। এ নদীর ওপর নির্ভর করে যারা জীবিকা নির্বাহ করেন, তাদের জীবনে এসেছে অনিশ্চয়তা। বিশেষ করে জেলেদের অবস্থা খারাপ। সেখানকার মানুষ ঘরে ফসল তুলতে পারেন না। হাজার হাজার হেক্টর জমি তলিয়ে গেছে পানিতে। পরিবেশ বিপর্যয় তো রয়েছেই। তিতাস পাড়ে এখন শুধুই হাহাকার। তাদের প্রিয় নদী দ্বিখণ্ডিত। রোজগারের পথ বন্ধ। বেঁচে থাকার লড়াইয়ে পর্যুদস্ত। এর প্রভাব যে কেবল তাদেরই ঠকাচ্ছে তা নয়, তা এখন আমাদের সবার ওপর পড়বে স্বাভাবিকভাবেই।
সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিক খবর দিয়েছে, ট্রানজিটের জন্য কেবল তিতাস নয়, আশুগঞ্জ থেকে আখাউড়া পর্যন্ত করিডোর পেতে ১৮টি নদী এবং খালে বাঁধ দেয়া হয়েছে এভাবে। এ কাজ বাংলাদেশীরা করেনি, সরাসরি ভারতীয় কোম্পানি এবিসি নিজস্ব তত্ত্বাবধানে করেছে। এ কাজে বাংলাদেশের কোনো প্রতিষ্ঠানকেও জানানো হয়নি, বলে জানিয়েছে পত্রিকাটি। একুশে টেলিভিশন এ বিষয়ে কথা বলতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাউকে পায়নি। অবাক ঠেকছে, ঘটনা ঘটেছে এক বছর আগে আর তার আলোচনা চলছে এক বছর পর। মিডিয়া এর আগেই সংবাদটি সংগ্রহ করতে পারত। এক বছর ধরে ভারত যখন তাদের সব কাজ শেষ করেছে, ঠিক তখন কিনা টনক নড়লো!
মজার বিষয় হলো, ২০ ডিসেম্বর সংবাদটি প্রচারের পর ২১ তারিখ একই টিভির টকশোতে এ বিষয়ে সরকারদলীয় এক সংসদ সদস্য বলছেন, তিতাস তো মরা নদী আর মরা নদীতে বাঁধ দিলেই কী? এ হলো আমাদের জনপ্রতিনিধিদের চিন্তা। ভাবখানা এমন— নদী মরে গেলেই কী। দেশের দায়িত্বশীলদের আচরণ বরাবরই এ বিষয়ে প্রশ্নবিদ্ধ। তিতাস নদীতে বাঁধ দেয়া হয় ট্রানজিটের জন্য। অথচ গত সেপ্টেম্বরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী যখন বাংলাদেশে আসেন তখন ভারত তিস্তা চুক্তিতে সই করেনি বলে আমাদের সরকারও নাকি ট্রানজিটে সই করেনি। জনগণকে এটা শোনালেও বাস্তবতা হচ্ছে, ভারত আরও আগেই ট্রানজিট পেয়ে গেছে। যদি তা-ই না হতো, চুক্তির আগেই কীভাবে ভারত তিতাসসহ অন্যান্য নদীর ওপর বাঁধ দিতে পারে? সরকারের বোঝা উচিত, জনগণকে ফাঁকি দেয়া এখন আর সম্ভব নয়।
ট্রানজিটে অর্থনৈতিক লাভ-ক্ষতির বিষয়ে জ্ঞান আমার নেই। তবে এটা স্পষ্ট যে, ভারতের ট্রানজিট দরকার। ট্রানজিটের মাধ্যমে ভারত লাভবান হবে। ভারতের জন্য যেহেতু এটা আবশ্যক, সেহেতু দরকষাকষির এই একটা পথই বাংলাদেশের সামনে খোলা আছে। কারণ বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশেকে ভারতের সঙ্গে কথা বলতে হবে। পানি, নদী, করিডোরসহ নানা ইস্যু রয়েছে। ভারত বড় দেশ বলে বাংলাদেশকে গুরুত্ব দেবে না, এটা স্বাভাবিক। এটা বাস্তবে হয়েছেও, ভারতের আচরণ বরাবরই বিমাতাসুলভ। সুতরাং কথা বলার মাধ্যম হিসেবে ভারতকে যখন সহজে ট্রানজিট দিয়ে দেয়া হলো, তার পরিণতি কী হবে বিশেষজ্ঞরাই ভালো বলতে পারবেন।
ব্লগে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, তিতাস যদি ভারতের নদী হতো তারা কি বাংলাদেশকে এর ওপর বাঁধ নির্মাণ করতে দিত? উত্তর হলো, না। তাদের ক্ষেত্রে উত্তর না হলে বাংলাদেশের জন্য সেটি কীভাবে হ্যাঁ হতে পারে? দ্বিখণ্ডিত তিতাসের বিষয়ে একটা গণজাগরণ হবে না তার নিশ্চয়তা নেই। এ দেশের মানুষের সহ্যক্ষমতা যখন শেষ হয়ে যাবে তখন কী ঘটবে বলা যায় না। শাসকবর্গের বিষয়টা মাথায় রাখা দরকার।
বাঁধের প্রভাব প্রভাব হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন স্থানীয় মানুষ। সেখানকার কৃষকের মাঠের ফসল, জেলেদের আয় রোজগারের মাধ্যম ছিল এই নদী। তাদের মুখে হাসি ফোটানোর দায়িত্ব সরকারেরই। তবে দেশের সার্বভৌমত্ব আরও গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের রক্ষকরা সেটা রক্ষায় কতটা তত্পর তার ওপর নির্ভর করছে আগামীর বাংলাদেশ। তিতাস দ্বিখণ্ডিত হলো, ঢাকা দ্বিখণ্ডিত হলো, এরপর কী আমরা জানি না। তবে অনুরোধ, বাংলাদেশটা অখণ্ড রাখবেন।

বণিক বার্তা ২৮.১২.২০১১

ছবি কৃতজ্ঞতা- অপ্রকাশিত

ভাগ্যই বিজয়ী হোক


বিদ্যালয়গুলোতে এখন চলছে ভর্তির তোড়জোড়। ভর্তির ক্ষেত্রে অভিভাবকদের চিন্তার ধরনে কিছুটা হলেও একটা মৌলিক পরিবর্তন এসেছে। ভর্তির প্রস্তুতির চেয়ে এখন ভাগ্যটাই মুখ্য। লটারির কথাই বলছি। ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকায় ২৩ নভেম্বর প্রকাশিত একটা খবর হলো, ‘নিজের স্কুলে ভর্তির ক্ষেত্রে লটারি নয়।’ আর ১৬ ডিসেম্বরে বাংলাদেশের পত্রিকাগুলোর খবর_ ‘বেসরকারি স্কুলেও প্রথম শ্রেণীতে লটারি বাধ্যতামূলক।’ না, ভারতে বিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে লটারি বাদ হচ্ছে না। সেখানে প্রথম আর পঞ্চম শ্রেণীতে ভর্তিতে লটারি হয়। যেসব বিদ্যালয়ে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুল একসঙ্গে রয়েছে, সেখানকার প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদেরও পঞ্চম শ্রেণীতে ভর্তিতে লটারির কথা বলে বিদ্যালয়গুলো। এরই পরিপ্রেক্ষিতে কেবল সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পঞ্চম শ্রেণীতে ভর্তির জন্য সরকারের এই বিজ্ঞপ্তি।
ভারতে অনেক আগ থেকে যে লটারি রয়েছে, আমরা সেটা দেখলাম গত বছর। রাজধানীর সরকারি বিদ্যালয় এবং ভিকারুননিসাসহ কয়েকটা বেসরকারি বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণীতে ভর্তির জন্য লটারি পদ্ধতি চালু হয়। সরকারি বিদ্যালয়গুলোতে বলা চলে ভর্তির পদ্ধতি হিসেবে গত বছর থেকে চালু হওয়া লটারিটাই অঘোষিতভাবে নিয়ম। কিন্তু বেসরকারি বিদ্যালয়ে সে রকম কোনো নিয়ম নেই। যে যেভাবে পারছে ভর্তি নিচ্ছে। কেউ আগের মতো সেই পরীক্ষাই নিচ্ছে, অনেকে আবার সেখান থেকে বের হয়ে এসে লটারিকে বেছে নিয়েছে। তবে ১৬ ডিসেম্বরের সংবাদটার মাধ্যমে সবার জন্য লটারিকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অর্থাৎ আমরা ভর্তির ক্ষেত্রে সবার জন্য সরকারের তরফ থেকে আরোপিত একটা নীতিমালা দেখতে পেলাম। এখন থেকে সরকারি-বেসরকারি সব বিদ্যালয় প্রথম শ্রেণীতে লটারি পদ্ধতিতে ভর্তি করতে বাধ্য। শিক্ষা মন্ত্রণালয় নির্দেশিত চার পৃষ্ঠার নীতিমালাটা যে কেউ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট থেকে দেখতে পারেন।
দেরিতে হলেও একটা সুনির্দিষ্ট নীতিমালা হয়েছে_ এটা বেশ ভালো খবর। কিন্তু এমন সময় এটা প্রকাশ হলো, যখন সব বিদ্যালয়ের ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পথে। স্বাভাবিকভাবেই ১৫ ডিসেম্বর বিদ্যালয় ভর্তি কার্যক্রম সংক্রান্ত কোনো নীতিমালা প্রকাশ হলে বিদ্যালয়গুলো সেটা অনুসরণ করতে পারবে না; যেহেতু জানুয়ারির প্রথম থেকেই নতুন শিক্ষাবর্ষের কার্যক্রম শুরু করতে হবে।
নীতিমালার বিষয়ে বিস্তারিত বলার আগে, এখানে কী আছে তার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো দেখি। বিদ্যালয়গুলো প্রথম থেকে নবম শ্রেণী পর্যন্ত আসন খালি থাকাসাপেক্ষে শিক্ষার্থী ভর্তি করতে পারবে। প্রথম শ্রেণীতে ভর্তির জন্য কেবল লটারি পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণীতে ভর্তির জন্য লিখিত পরীক্ষা হবে। প্রথম শ্রেণীতে ভর্তির বয়স ৫-৭ বছর। ভর্তির ফরম একশ’ টাকা। সেশন চার্জসহ ভর্তি ফি এলাকাভেদে ৫০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫০০০ টাকা। এ ছাড়া ঢাকা শহরের বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সন্তানদের জন্য কোটা থাকবে ২ শতাংশ, মুক্তিযোদ্ধার নাতি-নাতনিদের জন্য কোটা ৫ শতাংশ এবং প্রতিবন্ধী কোটা রাখা হয়েছে ২ শতাংশ।
প্রথম শ্রেণীতে ভর্তির ক্ষেত্রে এক অসুস্থ প্রতিযোগিতা সবাই দেখছি। ঢাকা শহরের অভিভাবকরা নামিদামি বিদ্যালয়ে তাদের সন্তানদের ভর্তি করাতে বলা চলে আদাজল খেয়ে নামেন। যে শিশুটি বোঝে না পরীক্ষা কী, সারা বছর প্রাইভেট-কোচিংয়ে পড়িয়ে তার সামর্থ্যের বাইরে পড়াশোনা চাপিয়ে, তার ওপর যে নির্যাতন করা হয়, তা সত্যিই অমানবিক। কাঙ্ক্ষিত বিদ্যালয়ে ভর্তি করাতে অভিভাবকরা এতটাই মরিয়া যে, শিশুর বয়সের দিকে তাকানোর সময় নেই। বারবার ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া এমনকি অন্য স্কুলে তৃতীয় শ্রেণীতে পড়লেও তাকে এনে প্রথম শ্রেণীতে ভর্তির নজির রয়েছে অহরহ। একবার না পারিলে দেখ শতবার যেন এখানেই বাস্তবে ফলে।
এ বছর হয়তো প্রশাসনের দেরিতে সিদ্ধান্তের কারণে সবাই এটা মানবে না। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেও সবাই যদি লটারি পদ্ধতি মানে, অন্য কিছু না হোক অন্তত অবুঝ বয়সের শিশুরা কিছুটা হলেও নির্যাতন থেকে রেহাই পাবে। এর মাধ্যমে কোচিং বন্ধকরণ, বয়সের সমতা আনয়নের কথা নাইবা বললাম। তবে যাদের সন্তানদের নামকরা স্কুলে না পড়ালে সামাজিক স্ট্যাটাস রক্ষা হয় না, যারা সন্তানদের ভর্তি করাতে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত উৎকোচ দিতে পারেন, তাদের সন্তানরা লটারিতে না টিকলে খেসারত হিসেবে সন্তানটিকে মানসিক নির্যাতন ভোগ করতে হবে না_ এ নিশ্চয়তা কে দেবে? কিংবা তারা যে এখন টাকা দিয়ে হলেও সন্তানের ভর্তি নিশ্চিত করতে চাইবে, আর টাকার কাছে স্কুল প্রশাসন গলে যাবে না তার গ্যারান্টি কে দেবে? আর ক্ষমতাসীনদের চাপ ও তদবির বন্ধই-বা কে করবে!
আসলে লটারি পদ্ধতির কার্যকারিতা এখানেই। শতভাগ স্বচ্ছ না হলে এটি যেমন নির্ভরযোগ্যতা হারাবে, তেমনি হারাবে বিশ্বস্ততা। কার্যত এটার কোনো সুফল কেউ পাবে না। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিমালায় এটা বেশ ভালোভাবেই এসেছে। এ ছাড়া ভর্তি ফির বিষয়টাও গুরুত্বপূর্ণ। বেসরকারি অনেক স্কুল ভর্তির ক্ষেত্রে ইচ্ছামতো টাকা আদায় করে থাকে। অভিভাবক তার সন্তানকে ভর্তি করাতে বাধ্য। সুতরাং টাকা দিতেও বাধ্য। এবার সেটাকে পাঁচ হাজার টাকার মধ্যে রাখার কথা বলা হয়েছে।
সরকারের এ নীতিমালা ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের জন্য প্রযোজ্য কিনা বোঝা যাচ্ছে না। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বললে এসব স্কুলগুলো অন্তর্ভুক্ত হয় বটে। কিন্তু পুরো নীতিমালা পড়লেই বোঝা যাবে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলো ধরছোঁয়ার বাইরেই থেকে যাচ্ছে। জানুয়ারি-ডিসেম্বর শিক্ষাবর্ষ কিংবা ভর্তি পরীক্ষায় বাংলা ইরেজি ও গণিতের যোগ্যতা যাচাই ঠিক তারই প্রমাণ।
গত বছর ভিকারুননিসা যখন লটারি চালু করল ‘মেধার মূল্যায়ন হবে না’ অভিযোগ করে কেউ কেউ এর বিরোধিতা করে। তারা অবশ্য প্রধানত অভিভাবক। তবে এবার সরকারের নীতিমালা জারির পর এ রকম বিরোধিতা দেখা যায়নি। আসলে যার শিক্ষাজীবনই শুরু হয়নি তার আবার কিসের মূল্যায়ন। এছাড়া লটারি পদ্ধতি তো অনেক দেশেই প্রচলিত আছে। এমনকি রাজধানীর কয়েকটা ভালো স্কুলে আগেও এটা ছিল। যাদের পাবলিক পরীক্ষার ফল বেশ ভালোই হয়। সবাই লটারি পদ্ধতি একযোগে চালু করলে বরং সব স্কুলের মান সমান থাকবে। এখন যেমন স্কুলগুলোর পড়াশোনার মানে আকাশ-পাতাল পার্থক্য। তা কিছুটা হলেও কমবে এবং সবাই ভালো করবে।
প্রথম শ্রেণীতে ভর্তির মাধ্যম যখন লটারি; ভাগ্যটা এখানে মুখ্য। কোমলমতি শিশুদের নির্যাতনের চেয়ে এটাই মন্দের ভালো। টাকাপয়সা, ক্ষমতা আর অনিয়মের কাছে এটা যেন পরাজিত না হয়। ভাগ্যই বিজয়ী হোক।

সমকালে প্রকাশিত ২৬.১২.২০১১

রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট বটে

তামান্না আপু বারবার জানতে চাচ্ছেন-‘আনিকা আপুর (ছদ্মনাম) সঙ্গে তোমার কাজ কেমন চলছে’। বিষয়টা আমি বরাবরই এড়িয়ে গেছি। অবশ্য শেষবার তাকে আশ্বস্ত করলাম ‘আনিকা আপুর কাজের বিষয়ে বলবো আরেকদিন, লিখেও ফেলবো হয়তো’। পরবর্তী অংশ তারই ধারাবাহিকতা।

নামের সঙ্গে গবেষক শব্দটা যোগ করার তেমন খায়েশ আমার নাই, যতটা না আছে আমার রুমমেট এবং ক্লোজ কিছু বন্ধুর। বিশেষ করে পত্রিকায় আমার লেখা প্রকাশ হলে, পরিচিতিতে তারা যখনই ‘শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ’ দেখে আমাকে নোটিশ করে। তাদের চিন্তা একটু অন্যরকম ‘শিক্ষার্থী দেখলে কেউ তোমার লেখা পড়বে?’। যুগান্তরে আমার শেষ লেখাটায় পরিচিতি লিখেছিলো- ‘শিক্ষা গবেষক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ দেখে তারা বললো এবার ঠিক আছে।

বিষয়ে আসি। গেলো সাতাশ অক্টোবর সন্ধ্যা সাতটায় একটা কল রিসিভ করলাম- ‘আমি ডা. আনিকা বলছি’ । আমার নামটা নিশ্চিত হয়ে বললেন, রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করার জন্য সিভি পাঠিয়েছিলেন, জি সূচক জবাব পেয়ে তিনি তার কাজটা সময়, তারিখ এবং সম্মানিসহ বিস্তারিত জানিয়ে, সময় দিতে পারবো কি-না জানতে চাইলেন। বললাম পারবো। চিন্তা করছিলাম, আমি তো এই নামের কাউকে সিভি পাঠাইনি। ঠিক তখনই তিনি বললেন, আপনার নাম যিনি সাজেস্ট করেছেন তার সঙ্গে কথা বলুন।

তিনি ‘তামান্না কলিম দ্যুতি’। আমাদের আইইআর থেকে পাশ করে গেছেন প্রায় চার বছর হবে। তাকেও আমি চিনতামনা। আসলে ফেসবুকে আইইআর গ্রুপে তিনি একজন ‘ফিমেল রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট’ চান বলে একটা পোস্ট দিয়েছেন। আমি তাকে সিভি পাঠিয়ে বললাম, আমার অভিজ্ঞতা আছে, আপনার সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী, আমার সিভিটা দেখেন। এর আগে আসলে আমি আরও কয়েকটা কাজ করেছি। তবুও, তার মেয়ে দরকার, আমি ছেলে, সুতরাং আমাকে না নেয়ারই কথা। ফলে এটা নিয়ে কোনো চিন্তা করলাম না।

ডা. আনিকার ফোনের মাধ্যমে সেটার যে কিছু একটা হলো তা বুঝলাম। কিন্তু কিভাবে হলো, তা অবশ্য ওইদিনের ফোনের পরই তামান্না আপুর মেইল দেখে বুঝলাম। তার ইংরেজি মেইলটার মুল কথাগুলো বাংলায়- ‘আমি তোমার সিভিটা দেখেছি। আমার গবেষণার কাজে মেয়ে গবেষণা সহকারি প্রয়োজন বলে, তোমার সিভিটা ডা. আনিকার কাছে ফরোয়ার্ড করেছি, যার একজন পুরুষ সহকারি লাগবে, তিনি আইবিএনএনজিতে (কল্পিত প্রতিষ্ঠান) কাজ করেন’। আরও জানালেন- এখানে ফুলটাইম কাজ করতে হবে, ঈদের তিন/চারদিন পর কাজ শুরু হবে। দুই সপ্তাহের মত কাজ করতে হবে। তার থিসিস ইটের ভাটা নিয়ে বলে ঢাকার আশে-পাশের ইটের ভাটাগুলোতে ফিল্ড ওয়ার্ক করতে হবে। সবশেষে রাজি থাকলে রিপ্লাই দিতে বললেন। রিপ্লাই দিলাম।

মনে মনে আমি বেশ খুশি। বেশি খুশি হওয়ার কারণটার বিষয়ে পরে আসছি।

সামনে ঈদ, কুরবানির ঈদ। ঈদ হলো সাত নভেম্বর। ইতিমধ্যে তামান্না আপুর সঙ্গে মেইলে যোগাযোগ চলছে। তিন নভেম্বর বাড়ি গেলাম। ফিরলাম দশ তারিখ, একটু আগে আগে ফিরলাম কি-না জানিনা। অবশ্য বাড়িতে কখনোই বেশিদিন থাকা হয় না। তবে গবেষণার বিষয়টা মাথায় রেখেই হয়তো দ্রুত আসলাম।

তামান্না আপুকে জানালাম আমি ঢাকায় এসেছি। বললেন, আমি তোমাকে জানাবো কখন কাজটা শুরু হচ্ছে। দশ তারিখে ঢাকায় আসার পর বারো তারিখ পর্যন্ত বলা চলে তাকে বেশ বিরক্তই করেছি। ভাবখানা এমন- এখন তো ঈদের পর পাঁচদিন হয়ে গেলো সুতরাং কাজ কবে শুরু হচ্ছে। এটা তাকে বলিনি। তবে তেরো তারিখে মেইল করে বললাম- ‘আপু আমি এত তাড়াহুড়ো করার কারণটা বলছি, আমাদের বন্ধুরা অনেকেই ইন্ডিয়া-ভুটান ট্যুরে যাচ্ছে, তারা সেখানে দশ/বারো দিন থাকবে, এসময় কোনো ক্লাস হবে না, ফলে এর মধ্যেই আমি গবেষণার কাজটা করতে চাচ্ছি’। আপু বললো আশা করছি, আনিকা আপু এ সময়ের মধ্যেই তোমার সঙ্গে যোগাযোগ করবে।

আসলে আমার খুশির কারন এখানেই। আমি ক্লাস বন্ধের সময়টা ভালোভাবে কাজে লাগাতে পারবো।

যাহোক, প্রতীক্ষার প্রহর গুণা শেষ হলো পনের তারিখ রাত একটা তিন মিনিটে হঠাৎ একটা মেসেজের শব্দে ঘুম ভাঙ্গার মাধ্যমে। ডা. আনিকা জানাচ্ছেন- ‘আগামী কাল বিকেল তিনটার আগে আইবিএনএনজি-তে আসো, আমরা জিপিএস মেশিনের ওপর ট্রেনিং নিবো’। ঠিক তারপরই তামান্না আপু মেসেজ পাঠিয়ে বললেন, এখনি আনিকা আপুর সঙ্গে যোগাযোগ কর।

একটা মজার ঘটনা ঘটেছে। তামান্না আপুর মেসেজ পেয়ে, লিখলাম ‘আপু আমি তার মেসেজ পেলাম মাত্র, আপনি যদি মাইন্ড না করেন তো বলছি, তাকে আমি কি বলবো- আনিকা ম্যাডাম না আপু’। মজাটা হলো এই মেসেজটা তামান্না আপুকে না পাঠিয়ে ভুল করে ডা. আনিকাকে পাঠিয়ে দিলাম। এটা মধ্যরাতে ঘুম ভাঙ্গার কারনে হতে পারে। তো, তামান্না আপুকে পাঠানোর পরে বললেন, তাকে আপু বলতে পারো, যেহেতু আমি আপু বলি। এবার ডা. আনিকাকে বললাম- ‘আপু কিছু একটা ভুল হয়ে গেছে, যাহোক আপনার মেসেজ পেয়েছি, কাল তিনটার মধ্যে আসবো’। ভিতরে ভিতরে আমি বিষয়টা নিয়ে চিন্তায় অস্থির।

পরদিন গেলাম আইবিএনএনজিতে। দেখলাম, আমার মত আরেকজন এসেছে। সে-ও আনিকা আপুর অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করবে। আমার কিছুটা পরিচিত। সেখানে যাওয়ার আগেই আনিকা আপুর সম্বন্ধে খুজলাম ইন্টারনেটে। ছবিসহ বিস্তারিত পেলাম তিনি আইবিএনএনজির মেডিক্যাল অফিসার। যাহোক, আমরা ট্রেনিং নিলাম। আপু জানালেন কাল সকালেই আমরা কাজ শুরু করবো।

পরদিন অর্থাৎ সতের নভেম্বর আমরা সবাই গেলাম আমিন বাজার, ইটের ভাটায়। এগারোটা থেকে দুইটা পর্যন্ত কাজ করলাম। জিপিএস মেশিন দিয়ে ইট ভাটার অবস্থানের অক্ষাংশ এবং দ্রাঘিমাংশ নিলাম, আপু দু’জন ম্যানেজারের ইন্টারভিউ নিলেন। প্রথম দিন শেষ।

আপু বললেন পরের দিন সকাল নয়টায় আমিন বাজার থাকতে। সেদিন শুক্রবার, সকাল সাড়ে পাঁচটায় উঠে আর ঘুমাইনি। ল্যাপটপে কাজ করে রেডি হয়ে আটটায় বের হয়ে গেলাম। এসএম হল থেকে বের হয়ে রাস্তায় উঠতেই ফোন পেলাম, আরেকজন অ্যাসিস্ট্যান্ট থেকে ‘ম্যাডাম আজ যাবেনা’। তার পাঁচ মিনিট পর আনিকা আপু মেসেজ পাঠালেন, আজ আমি বাসায়, সুতরাং আজকে ফিল্ডে যাচ্ছিনা।

মেজাজ সম্ভবত কিছুটা খারাপ হয়েছিলো, তবে চরমে উঠলো ওইদিন রাতে যখন আপুর আরেকটা মেসেজ পেলাম- কাল আমি শরিফুলের (আরেকজন অ্যাসিস্ট্যান্ট) সঙ্গে যাবো, তোমার সঙ্গে যাবো পরশু। কারণ, আমরা জানি সবাই একসঙ্গে যাবো, এছাড়া আমার সঙ্গে আগে কথা হলো দুই সপ্তাহের প্রত্যেকদিন যাওয়ার। সুতরাং এভাবে রোটেশন করাতে মেজাজ খারাপ হবে এটাই স্বাভাবিক।

যাহোক পরশু আসলো, পরশু মানে বিশ তারিখ। বিশ তারিখ দশটার মধ্যে পৌঁছলাম আমিন বাজারের বলিয়ারপুর। আপু আসলেন বিশ মিনিট পর। কাজ শুরু করলাম। কাজ করতে করতে দুইটা বেজে গেছে। এমন জায়গায় ইটের ভাটাগুলো যেখানে খাবারের কোনো ব্যবস্থা নেই। আপু ব্যাগে করে পানি, কেক, বিস্কেট, ডিম নিয়ে এসেছেন, খেলাম। আপুকে প্রস্তাব বললাম, আপু যেহেতু ইটভাটায় খাবার পাওয়া যাচ্ছেনা সেজন্য কাল থেকে একটা ট্যাবলেট নিয়ে আসবেন যেটা খেলে ক্ষুধা লাগে না। যেমনটা আমরা শুনেছি মহাশুন্যের যাত্রীরা করে। তারা নাকি একটা ট্যাবলেট খেয়ে ছয়মাস পর্যন্ত থাকে। আপু প্রস্তাব শুনে হাসলেন। আপুকে বললাম আমি ভেবেছি আপনি ডক্টর, এখন দেখছি ডাক্তার। বললেন- হুম, এখন ড. হওয়া খুব সহজ হয়তো। সেদিন চারটা পর্যন্ত কাজ করে বিদায় নিলাম।

ওইদিন রাতে আপু মেইল করেছেন (বাংলা তরজমা)- ‘প্রিয় মাহফুজ, আমি তোমাকে বিষয়টা আবার ক্লিয়ার করছি, প্রত্যেকদিন আমার সঙ্গে ফিল্ডে যাওয়ার জন্য তোমাকে ‌‌’ক’ টাকা দিবো (নিয়মানুযায়ী)। আমি জানি তুমি এটা জানো, তবে ভুল বুঝাবুঝি যাতে না হয় এজন্য আবার বললাম’। বলে রাখছি, আপুর রিসার্চ টাইটেল, প্রপোজাল, বাজেটসহ বিস্তারিত আমার জানা। সংগত কারণেই শেয়ার করছিনা।

পরদিন শরিফুলের পালা। এর পরের দিন বাইশ তারিখ আবার আমি যাবো, স্পট বছিলা, মোহাম্মদপুর দিয়ে যেতে হয়। দশটায় বছিলা থাকবো। নয়টা থেকে আপুকে ফোনে পাচ্ছিনা। দশটার একটু আগে তিনি ফোন দিয়ে জানালেন। আমি রিকশা নিয়ে বছিলা যাচ্ছি, তুমি আসো। বছিলা গেলাম। আপুকে ফোন দিচ্ছি, কিন্তু পাচ্ছিনা। আধাঘন্টা দাঁড়িয়ে আছি। অবশেষে তিনিই ফোন করলেন। বললেন আমিতো ইটের ভাটায় চলে এসেছি। তুমি আসো। আপু কোন ভাটায় আছে তিনি বলতে পারছেন না, অথবা বলছেন কিন্তু আমি বুঝতে পারছিনা। কয়েকজন রিকশাওয়ালাকে জিজ্ঞেস করেও হতাশ হলাম, অবশেষে একজনকে পেলাম, বললো ওই জায়গায় যেতে চল্লিশ টাকা লাগবে। কাছাকাছি এসেও রিকশাওয়ালা ভুল করলো। অবশেষে তিন ঘন্টার অভিযানের পর আপুকে উদ্ধার করলাম।

এমন খারাপ লাগছিলো, ভেবেছিলাম চলে যাই। খারাপটা তীব্র হলো যখন এসে দেখলাম আপু এমন এক ম্যানেজারের ইন্টারভিউ নিচ্ছে যে স্বাক্ষর দিতে রাজি নয়। আপুও নাছোড় বান্দা, শেষে আপুকে হারতেই হলো। ওইদিন দুপুরেও খাওয়ার একই অবস্থা। আপু যা এনেছেন তা দিয়েই দিন পার করলাম। এর আগের রাতে তাকে মেইল করলাম ট্যাবলেটের কথা না ভুলতে। তিনি ট্যাবলেট আনেননি, আমিও কিছু বলিনি। এখানকার একটা থেকে আরেকটা ইটের ভাটায় যেতে বেশ কষ্ট হয়েছে। নৌকায় চড়ে, কাদা মেখেও গিয়েছি।

পরদিন শরিফুলের পালা, আপুর কাজ আছে বলে ওইদিন যাননি। এরপরদিন বৃহস্পতিবার গেলেন তার সঙ্গে। শুক্রবার আপু যেতে চাননি। অবশেষে শনিবার ছাব্বিশ তারিখ, বাইশ তারিখের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে, আপুকে গুলশান-০১ থেকে নিয়ে গেলাম নারায়নগঞ্জের ফতুল্লায়। ওইদিনও দুপুরে খাবার নাই প্রথম দিনের মতই। তবুও বেশ উপভোগ করছিলাম, বিশেষ করে নৌকায় বুড়িগঙ্গার ওপারে গিয়ে ইট ভাটার অবস্থান নিতে ভালোই লাগছিলো।

শরিফুল পরদিন গেলেও আমি এরপরদিন যেতে পারলামনা। যেহেতু আমার ক্লাসমেটরা ট্যুর থেকে চলে এসেছে। ফলে ওইদিন মানে আটাশ তারিখ ক্লাস। আপুকে বললা ঊনত্রিশ তারিখ যাবো। কিন্তু আটাশ তারিখ বিকাল তিনটা চৌত্রিশে আনিকা আপুর একটা মেসেজ পেলাম, বলছেন- মাহফুজ আইবিএনএনজি (মানে তার প্রতিষ্ঠান, মূল নামটা বলছিনা) জিপিএস মেশিনটা ফেরত দিতে বলছে। দিয়েছি। আর হয়তো আমাদের ফিল্ডে যেতে হবো না।

ঘটনা এখানেই শেষ হতে পারতো। আর আমি সেটাই ধরে নিয়েছিলাম। কিন্তু, ঊনত্রিশ তারিখ সন্ধ্যায় আপুর আবার ফোন পেলাম। মাহফুজ, কাল কি তুমি ফ্রি? বললাম- হ্যাঁ। কাল আইবিএনএনজি জিপিএস মেশিনটা আবার ফেরত দিবে, আমরা ফিল্ডে যেতে পারি। বললাম, অবশ্যই। সকাল নয়টায় আইবিএনএনজি পেীছলাম। একসঙ্গে ফিল্ডে যাবো। আপুকে ফোন দিলাম, বললো- একটু অপেক্ষা করো। মেশিনটা নিয়ে আসছি। অপেক্ষা করলাম বিশ মিনিটেরও বেশি হয়ে গেছে। আপু আসলেন। কিন্তু, তার অবস্থা যতটা ভালো আশা করছিলাম ততটা নয়। এসেই বললেন- মাহফুজ মেশিনটাতো আনতে পারি নি। মুখফুটে আমি কিছুই বললাম না। বললেন, আরেক গবেষকদল সবগুলো মেশিন নিয়ে গেছে।

আমার দুই সপ্তাহের কাজ চারদিনেই শেষ হলো। আমার প্রত্যাশা হয়তো আরও বেশি ছিলো। যাহোক, প্রথম দিনের ওই মেসেজের কথা আপু কখনোই বলেন নি। ম্যাডাম না বলে আপু হিসেবেই তাকে ফিল করছি- আনিকা আপু ভালো থাকবেন। আপনি খুব ভালো, যেটা প্রথম দিনই তামান্না আপু বলেছিলো। আপনার কাছ থেকে একটা জিনিস কিন্তু পাবো। খেজুর। মক্কা শরিফের খেজুর। অপেক্ষায় রৈলাম।

সামহোয়্যার-ইন ব্লগ

Whither the education policy?

The formulation of the National Education Policy 2010 is one of the successes of the present government, but its implementation process is moving at a very slow pace.

Two years have already passed since the education policy was adopted. After coming to power in January 2009, the present government formed a committee to draft the education policy in April of the same year. The committee was headed by National Professor Kabir Choudhury. Kazi Kholiquzzaman and Muhammed Zafar Iqbal were among the other 18 members of the committee.

The committee submitted the draft of the policy in September 2009. It was then made public on the education ministry website for open discussion, soliciting opinions on the draft.

At that time, the government said that the education policy would be finalised within December of that year and the implementation process would start from January 2010. But that deadline was not met; rather it was approved in the cabinet on May 31 2010, and it was adopted in the form of a bill by parliament on December 7 of the same year.

Later, to finalise the implementation process of the education policy, 24 sub-committees were formed on January 26, 2011. The sub-committees were told to submit their reports within two or three months.

Recent media reports indicate that not a single sub-committee had submitted their reports, even after eight months. On September 29, the education minister urged the members of the sub-committees to complete their recommendations within the next 20 days. When the sub-committees could not complete it within eight months, how could they do it in another 20 days? Sure enough, more than two months have passed since and recommendations are yet to be completed.

Clearly, one of the main reasons behind this delay is ‘bureaucratic complexity’, as all the sub-committees are headed by a bureaucrat, like secretary, additional secretary and joint secretary. They are busy with their regular official duties and are apparently unable to provide enough time for the purpose.

The inordinate delay is raising many questions about the implementation process of the education policy. Although the government took up the issue of formulation of the education policy within four months of coming to power, as a priority initiative, its implementation process is now moving at a snail’s pace. The government did not even allocate any additional funds for the implementation of the education policy in the budget for 2011-2012. The education and IT sector got only 12.4 per cent allocation of the whole budget, similar to that of other years.

The most important characteristic of this education policy is that only two stages have been defined, instead of the earlier three stages, before the higher education stage. Primary (Class 1 to 8) and secondary education (Class 9 to 12) would replace the existing three stages of primary (Class 1-5), secondary (Class 6 to 10) and higher secondary education (Class 11 to 12).

It was expected that the extension of the primary education will start from 2012. But that is unlikely to happen. The sub-committee which is working on this extension is headed by the secretary of the ministry of primary and mass education. The sub-committee could only sit once during this entire period.

What is the necessity to form such sub-committees for implementation of the education policy primarily with bureaucrats? It could have been formed with the specialists or educationists, who would have been better equipped to do the job. In this sense, the experience of experts from the Institute of Education Research (IER) of Dhaka University could have been utilised.

The slow pace of implementation of the National Education Policy 2010 is a cause for serious concern. Although some limited progress has been made like instituting the Junior School Certificate system and starting primary-level terminal exams and the setting of structured questions for examinations. But the inordinate delay in the overall implementation of the education policy is not acceptable.

The Daily Financial express 03.12.2011