Monthly Archives: আগস্ট ২০১০

চূড়ান্ত শিক্ষানীতি প্রকাশ হবে কবে? (দৈনিক সমকাল ৩১ আগস্ট ২০১০)


মাহফুজুর রহমান মানিক
শিক্ষানীতি প্রণয়নের এক বছর পূর্ণ হতে যাচ্ছে। গত বছর শিক্ষানীতি কমিটি অত্যন্ত অল্প সময়ের মধ্যে খসড়া শিক্ষানীতি শিক্ষামন্ত্রীর কাছে জমা দিয়েছিল। এরপর শিক্ষানীতি ইন্টারনেটে প্রকাশ করা হয়। ইন্টারনেটে প্রকাশিত শিক্ষানীতির ওপর অনেকেই মতামত দেন। সরকার ঘোষণা দিয়েছিল, এ বছরের জানুয়ারিতেই চূড়ান্ত করা হবে শিক্ষানীতি। শেষ পর্যন্ত ছয় মাস পর ৩১ মেতে এসে এটি মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পেল। অনুমোদিত নীতিতে নতুন কিছু বিষয় সংযোজন করে একে চূড়ান্ত করা হয়। এখন বাকি শুধু সংসদে পাস হওয়া। অর্থাৎ জাতীয় সংসদে সংসদ সদস্যদের অনুমোদনের মাধ্যমেই শিক্ষানীতি নীতিগতভাবে চূড়ান্ত রূপ পাবে। কিন্তু তার আগের আনুষ্ঠানিকতা হলো শিক্ষানীতি প্রকাশ করা। দুটি কারণ। প্রথমত, যে সংসদ সদস্যরা এ নীতি পাস করবেন তাদের জানতে হবে আসলেই কী শিক্ষানীতি তারা পাস করতে যাচ্ছেন। দ্বিতীয়ত, দেশের জনগণকেও জানতে হবে তাদের শিক্ষার কী নীতি সরকার চূড়ান্ত করেছে। এখন জনগণ জানে শিক্ষানীতি চূড়ান্ত হয়েছে, বাস্তবে এ চূড়ান্ত নীতিতে কী বিষয় নতুনভাবে এসেছে বা কোন বিষয়গুলো বাদ পড়েছে, তা কেউই জানে না। ফলে চূড়ান্ত শিক্ষানীতি প্রকাশ করা সময়ের দাবি।
শিক্ষানীতি যেমনই হোক তবুও বলার বিষয় হলো, আমরা একটি শিক্ষানীতি করেছি। কারণ জাতি হিসেবে, স্বতন্ত্র বাংলাদেশ ভূখণ্ডে আমাদের বয়স প্রায় ৪০ বছর। এ ৪০ বছরে কিন্তু আমরা আমাদের জন্য একটি শিক্ষানীতিও ঠিক করতে পারিনি। অবশ্য প্রবোধ পাওয়ার বিষয়টি হলো, স্বাধীনতার পর থেকে ১৯৭৩-এর কুদরাত-এ-খুদা শিক্ষা কমিশনসহ এ পর্যন্ত ছোট-বড় আটটি শিক্ষানীতি/শিক্ষা কমিশন/শিক্ষা কমিটি ইত্যাদি গঠন করা হয়েছে। হতাশার বিষয় হলো, এ আটটির একটিও বাস্তবায়ন হয়নি। আটটি শিক্ষানীতি/শিক্ষা কমিশন/শিক্ষা কমিটির তিক্ত অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও এ সরকার নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এ তিক্ত অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও সরকার যখন শিক্ষানীতি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, নিশ্চয়ই তারা ভালোভাবেই নেমেছে। সে প্রমাণও অবশ্য আমরা দেখেছি। সরকার গঠনের চার মাসের মাথায় শিক্ষানীতি কমিটি গঠন এবং তিন মাসের মাথায় সে কমিটির খসড়া প্রতিবেদন প্রদানই তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ। কিন্তু মাঝপথে আমাদের ভাবনার ছেদ ঘটেছে। যখন জাতি দেখল সরকার জানুয়ারিতে শিক্ষানীতি চূড়ান্ত করার কথা বলেছে অথচ মে পর্যন্তও তা চূড়ান্ত হয়নি। যাক ৩১ মে মন্ত্রিসভা শিক্ষানীতি চূড়ান্ত করেছে।
গণমাধ্যমগুলো সংবাদ দিয়েছিল জুনেই চূড়ান্ত কপি প্রকাশ করা হবে, কিন্তু এখনও তা প্রকাশ করা হয়নি। ঢিলেঢালাভাবে কাজ করে এমন একটি সিরিয়াস বিষয়কে সরকার কতদিনে বাস্তবায়ন করবে, সে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। যে শিক্ষানীতির খসড়া মাত্র তিন মাসে করা হলো, সেটি চূড়ান্ত হতে ১২ মাস লেগে যাচ্ছে কেন?

মাহফুজুর রহমান মানিক : শিক্ষার্থী, শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

দৈনিক সমকাল