Monthly Archives: অক্টোবর ২০১৭

সিঙ্গাপুর পারছে, কিন্তু ঢাকা?

সিঙ্গাপুরে ব্যক্তিগত গাড়ির নিবন্ধন বন্ধ হচ্ছে

সিঙ্গাপুরে ব্যক্তিগত গাড়ির নিবন্ধন বন্ধ হচ্ছে ফেব্রুয়ারি থেকে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ছোট দেশটির এই সিদ্ধান্তের মূল কারণ সড়কের সীমাবদ্ধতা। কর্তৃপক্ষের ভাষ্যমতে, সিঙ্গাপুরের ১২ শতাংশ জায়গা সড়ক হিসেবে ব্যবহূত হচ্ছে। তবে সিঙ্গাপুর উন্নত গণপরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ঢাকার দ্বিগুণের চেয়ে বড় আয়তনের দেশ সিঙ্গাপুরে এমনিতেই ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবস্থাপনা খুব ব্যয়বহুল। সেখানে গাড়িচালককে সরকার থেকে একটি বিশেষ সনদ কিনতে হয়, যার মূল্য ৩০ লাখ টাকার মতো, তাও ১০ বছরের জন্য। দেশটিতে চলতি বছর শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ গাড়ি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়, ফেব্রুয়ারি থেকে তা শূন্যে নামিয়ে আনার ঘোষণা দেওয়া হয়। ২৩ অক্টোবর সেখানকার যানবাহন কর্তৃপক্ষ (ল্যান্ড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি) কর্তৃক ইস্যুকৃত এ সংক্রান্ত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২০২০ সালে তারা আবার যানবাহনের প্রবৃদ্ধি পর্যালোচনা করবে। অবশ্য সেখানে ব্যবসায়িক যানবাহনের নিবন্ধন শূন্য দশমিক ২৫ হারে চলবে।

সিঙ্গাপুর যখন এ সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, তখন ঢাকার চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। সাম্প্রতিক এক হিসাবে দেখা গেছে, ঢাকার রাস্তায় ব্যক্তিগত গাড়ির সুবিধা ভোগ করে মাত্র ৬ শতাংশ মানুষ, অথচ এই গাড়িগুলো ৭৬ শতাংশ সড়ক দখল করে রাখে। সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) তথ্যানুযায়ী, প্রতিদিন গড়ে ৫৩টি নতুন ব্যক্তিগত গাড়ি ঢাকার রাস্তায় নামে। Continue reading

রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান সু চির হাতেই

সাক্ষাৎকার: পেনি গ্রিন

লন্ডনের কুইন মেরি ইউনিভার্সিটির ল অ্যান্ড গ্লােবালাইজেশনের অধ্যাপক ও ইন্টারন্যাশনাল স্টেট ক্রাইম ইনিশিয়েটিভের (আইএসসিআই) প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক পেনি গ্রিন রোহিঙ্গাদের সঙ্গে মিয়ানমারের কর্মকান্ড গত পাঁচ বছর ধরে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে আসছেন। ১২ মাসের ফিল্ড ভিজিট ও দুই শতাধিক সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে আইএসসিআই ২০১৫ সালে এক প্রতিবেদন তৈরি করে। তাতে রোহিঙ্গাদের ওপর মানবাধিকার লঙ্ঘনের বহুবিধ প্রমাণ সংস্থাটি পেয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে- হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন, নাগরিকত্ব অস্বীকার, বাড়িঘর ধ্বংস, ভূমি বাজেয়াপ্ত করা ও জোরপূর্বক বেগার খাটানো। সম্প্রতি রোহিঙ্গা ইস্যুতে পেনি গ্রিন লেখক নেভে গর্ডনের মুখোমুখি হন। আমেরিকার প্রাচীনতম সাময়িকী দ্য নেশন তার বিস্তারিত প্রকাশ করে। প্রাসঙ্গিক দুটি প্রশ্ন আলোচিত হলো

নেভে গর্ডন : আপনার ২০১৫ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়, রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যার হুমকি রয়েছে। আসলে কোন ধরনের প্রমাণ গণহত্যার দিকে ধাবিত করে? এখানে জাতিগত নিধন কি বেশি যথোপযুক্ত পরিভাষা?
পেনি গ্রিন : ‘এথনিক ক্লিনজিং’ বা ‘জাতিগত নিধন’ পরিভাষাতে কয়েকটি কারণে সংশয় রয়েছে। প্রথমত, এর কোনো আইনগত ভিত্তি নেই। মিয়ানমারে যা হচ্ছে তা দেখে বিদেশি সরকারগুলোর জাতিগত নিধন বলা এ জন্য সহজ যে, তাতে হস্তক্ষেপ করা, সহিংসতা প্রতিরোধ ও রোহিঙ্গাদের রক্ষা কিংবা অপরাধীদের শাস্তির কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। অন্য সমস্যা হলো, ‘এথনিক ক্লিনজিং’ পরিভাষাটি স্লোবদান মিলসেভিক প্রথমে চালু করেছিলেন বসনিয়ার মুসলমানদের বিরুদ্ধে সংঘটিত গণহত্যার উপাদান আড়াল করার জন্য। এটি আসলে অপরাধীদের পরিভাষা।
রাফায়েল লেমকিন জেনোসাইড বা গণহত্যার বিষয়টি বুঝেছিলেন এবং এর বিরুদ্ধে একটি আন্তর্জাতিক আইন করার জন্য ক্যাম্পেইন করেছিলেন। সামাজিকভাবে হেয় করা ও অমানবিক আচরণের মাধ্যমে গণহত্যা শুরু হয়। যার প্রমাণ আমরা মিয়ানমারে দীর্ঘ সময় ধরে দেখছি। রোহিঙ্গাদের বিচ্ছিন্ন করে সমাজচ্যুত করার চেষ্টা অব্যাহত। তাদের থেকে নাগরিক সব সুযোগ-সুবিধা কেড়ে নেওয়া হয়েছে; যেমন তারা ভোট দিতে পারবে না, নির্দিষ্ট যানবাহনে চড়তে পারবে না, পছন্দমতো কিছু করতে পারবে না। ঠিক এ সময়ে বিক্ষিপ্তভাবে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। নির্দিষ্ট গ্রুপের ওপর পরিকল্পিতভাবে পরিচালিত এ সহিংসতায় দেখার চেষ্টা করা হয়েছে যে, তাতে স্থানীয় মানুষ কতটা জড়িত হয় ও তাদের প্রস্তুতি কেমন। ২০১২ সালে রাখাইনের সহিংসতায় রোহিঙ্গাদের জোরপূর্বক এক জায়গায় করে সেখানকার অন্য জাতি থেকে আলাদা করে। তারা তখন সম্পূর্ণভাবে একঘরে হয়ে পড়ে। এই চর্চা রোহিঙ্গা নিধনে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সম্মতি ও সক্রিয় অংশগ্রণের জন্য জরুরি ছিল। Continue reading

ট্রাম্পের আইকিউ

ক্ষমতা গ্রহণের আগ থেকেই যেখানে ডোনাল্ড ট্রাম্প নানাভাবে আলোচিত-সমালোচিত, সেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার আইকিউ বা বুদ্ধ্যঙ্ক নিয়ে অনেকের কৌতূহল থাকা অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু এ নিয়ে অন্যের আগ্রহ যতটা না, তার চেয়ে ট্রাম্পের নিজের আগ্রহই বেশি দেখা যাচ্ছে। এখন ট্রাম্প নিজেই তার আইকিউর আলোচনা উস্কে দিয়েছেন। গত মঙ্গলবার প্রকাশিত ফোর্বস ম্যাগাজিনের এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প গর্বভরে বলেন, তার আইকিউ তার প্রশাসনেরই পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন থেকে বেশি। আইকিউ নিয়ে তার এ বড়ত্বের ঘোষণা অবশ্য নতুন নয়। ২০১৩ সালে ট্রাম্প এক টুইটে বলেন, তার আইকিউ বারাক ওবামা ও জর্জ ডব্লিউ বুশ থেকেও বেশি। ট্রাম্প আরও দাবি করেছেন, তার আইকিউ আমেরিকান কমেডিয়ান জন স্টুয়ার্ট ও ব্রিটিশ বিজনেস ম্যাগনেট লর্ড সুগার থেকে বেশি।
গতকাল বুধবার বিবিসি অনলাইনে ‘ক্যান উই টেল ইফ ডোনাল্ড ট্রাম্প হ্যাজ অ্য হাই আইকিউ?’ অর্থাৎ আমরা কি বলব ডোনাল্ড ট্রাম্প উচ্চ আইকিউর অধিকারী? শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। সেখানে অন্য মার্কিন প্রেসিডেন্টদের আইকিউও আলোচনায় আসে। ইউনিভার্সিটি অব ভার্জিনিয়ার প্রেসিডেন্সিয়াল স্টাডিজের পরিচালক ড. বারবারা এ পেরি, ৪৪ জন মার্কিন প্রেসিডেন্টের মধ্যে একটি বিশেষ তালিকা থেকে ১৭ জনের নাম বলেন। যাদের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ের বিল ক্লিনটন, জর্জ ডব্লিউ বুশ ও জিমি কার্টার রয়েছেন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের কথা আসতেই পেরি বলেন, তিনি টিলারসনকে চ্যালেঞ্জ করছেন, আসলে তিনি যদি তার আইকিউ স্কোর জানাতেন তাহলে আমরা বুঝতাম, সত্যিকারার্থেই তার আইকিউ কত উঁচু মানের। তাকে অপছন্দ করে অনেকেই বলেন, ট্রাম্প একটা গাধা কিংবা বোকা। সেটাও মেনে নেওয়ার মতো নয়। তবে ড. পেরির ভাষায়, ট্রাম্পের আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা, কান্ডজ্ঞান, দূরদর্শিতা ও সাংগঠনিক ক্ষমতা নিল্ফম্নমানের। কিন্তু তার গণযোগাযোগ ও রাজনৈতিক দক্ষতা অসাধারণ। পেরি অবশ্য ট্রাম্পের ব্যবসায় দক্ষতার কথাও উল্লেখ করেছেন। Continue reading

রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশের দিল ও দরজা

মূল: মাইকেল হটজ

রোহিঙ্গাদের পাশে বাংলাদেশ

মিয়ানমার থেকে ছয় সপ্তাহ আগে যখন রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে পালিয়ে আসা শুরু করে, তখন স্থানীয় হারুন রশিদ ও তার স্ত্রী তাদের সামর্থ্যানুযায়ী পানি, চাল, প্লাস্টিকের ত্রিপল দিচ্ছিলেন। কিন্তু এসব খুব দ্রুতই ফুরিয়ে যায়। অবশেষে গত সপ্তাহে একটি স্থানীয় ইসলামী দাতব্য সংগঠন সাময়িকভাবে তাদের বাড়িকে হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহারের জন্য অনুরোধ করে। তারা হাসিমুখেই তা মেনে নেয়। তাদের ঘর ব্যবহার হয় হাসপাতালের প্রসব ঘর হিসেবে। আর সম্মুখভাগ ব্যবহার হয় ফার্মেসি হিসেবে।
একদল স্বেচ্ছাসেবী চিকিৎসক খুব দ্রুতই সেখানে পৌঁছে। তিন দিনে সেখানে পাঁচটি শিশু প্রসব করে। আর বাইরে হাজারো অসুস্থ ও আহত শরণার্থী ওষুধ গ্রহণ করে। রশিদ ও তার স্ত্রী বলছেন, তাদের বাড়িতে কোনো গভবর্তী এলে তিনি তাদের গ্রহণ করেন, তাদের জন্য নিরাপদ পানির ব্যবস্থা করেন। দু’জন চিকিৎসক তাদের ধরে ঘরে নিয়ে যান এবং প্রসবের ব্যবস্থা করেন। কেবল রশিদের পরিবারই নয়, এ রকম অনেকেই আজ সেখানে রোহিঙ্গাদের জন্য এগিয়ে এসেছেন। আগস্টের শেষ দিক থেকেই যখন মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও বৌদ্ধরা রোহিঙ্গা মুসলমানদের গ্রাম জ্বালিয়ে দিচ্ছিল, তখন থেকেই রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে পালিয়ে আসছে। এ পর্যন্ত পাঁচ লাখের অধিক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়, যা এশিয়ায় কয়েক দশকে সবচেয়ে ভয়াবহ শরণার্থী সংকট তৈরি করে।
বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ বলছে, শরণার্থী আগমনের ধারা দুই সপ্তাহ ধরে কমেছে। যারা এসেছে তাদের চাহিদা মেটাতে মানবিক সংগঠনগুলো হিমশিম খাচ্ছে। জাতিসংঘের খাদ্য বিষয়ক সংস্থা ড্িব্নউএফপি আগামী ছয় মাসের জন্য ৭৫ মিলিয়ন ডলার সাহায্য চেয়েছে। ড্িব্নউএফপির নির্বাহী পরিচালক বাংলাদেশের কয়েকটি শরণার্থী ক্যাম্প ঘুরে বলছেন, অবস্থা শোচনীয়। Continue reading