Monthly Archives: সেপ্টেম্বর ২০১১

প্রাথমিক শিক্ষায় ঝরে পড়ার হার আসলে কত?


শিরোনামটা একটা প্রশ্ন। উত্তরটা শিক্ষা গবেষক, শিক্ষাবিদ বা সচেতন ব্যক্তিমাত্রই দিতে পারবেন। সবচেয়ে সঠিকভাবে উত্তর দিতে পারবেন সরাসরি এ নিয়ে যার কাজ— সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী। মন্ত্রী মহোদয় উত্তরটা দিয়েছেন, কিন্তু তার উত্তর পেয়ে গণমাধ্যম সংশয় প্রকাশ করেছে তো বটেই, উল্টো এর সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
বিষয়টা খুলে বলা যাক। সম্প্রতি (২১ সেপ্টেম্বর) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আফছারুল আমীন তার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সংবাদ সম্মেলন করে মন্ত্রণালয়ের ২০১১-১২ অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি প্রাথমিক শিক্ষাসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেছেন, তার মধ্যে ঝরে পড়া বা ড্রপ আউট অন্যতম। মন্ত্রী বিষয়টা নিয়ে এক নতুন আশ্চর্যজনক তথ্য দিয়েছেন— প্রাথমিক শিক্ষায় ঝরে পড়ার হার ২১ শতাংশ। সংবাদটি ২২ সেপ্টেম্বর বণিক বার্তাসহ, প্রায় প্রত্যেকটি জাতীয় দৈনিকে এসেছে। ‘২১’ এমন কোনো আহামরি সংখ্যা নয় যে তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করতে হবে। প্রশ্ন হলো, কিসের ভিত্তিতে মন্ত্রী এ তথ্য দিয়েছেন। অবশ্য মন্ত্রী মহোদয়ের সচিব বিষয়টার ন্যায্যতা প্রমাণের চেষ্টা করছেন— ‘এটা কোনো জাতীয় গণনা নয়, আমরা ৩৪ হাজার বিদ্যালয়ের তথ্য বিশ্লেষণ করে এটা পেয়েছি।’
বলার বিষয় হলো, বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইজ) সর্বশেষ (২০০৯) তথ্যমতে, দেশে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৮১ হাজার ৫০৮। ৩৪ হাজার যার অর্ধেকও নয়। সচিবের কথামতো এটা জাতীয় গণনাও নয়। অথচ এর ওপরই মন্ত্রী গোটা দেশের চিত্র বলে দিলেন!
সমস্যাটা আসলে এখানে নয়। সমস্যা হলো, শিক্ষামন্ত্রীসহ সরকারের কর্তাব্যক্তিরা সাম্প্রতিক সময়ে প্রায়ই বলে আসছেন, দেশে প্রাথমিকে ঝরে পড়ার হার ৪০ ভাগের ওপরে। এটাও তারা কোন গবেষণা থেকে পেয়েছেন জানি না। তবু এ সংখ্যাটা ধরলেও রাতারাতি ঝরে পড়ার হার ২১ শতাংশ তথা অর্ধেক হওয়ার মতো কোনো ঘটনা বাংলাদেশে ঘটেছে বলে কেউ জানে না। সরকার এ ক্ষেত্রে আলাদিনের চেরাগ বা এ জাতীয় কোনো কিছু পেয়েছে বলেও কোনো সূত্রে জানা যায়নি।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রাথমিক শিক্ষায় ঝরে পড়ার হার নির্ণয়ে সর্বশেষ গবেষণা হয়েছে ২০০৮ সালে। ‘Participatory Evaluation : Causes of Primary School Drop-Out’ শিরোনামে গবেষণাটি করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর। গবেষণার প্রতিবেদনটি এখনো যে কেউ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের ওয়েবসাইট (http://www.mopme.gov.bd/index.php?option=com_content&task=view&id=482&Itemid=516) থেকে ডাউনলোড করে দেখতে পারেন। ২০০৯-এ গবেষণার প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এখানে দেখানো হয়েছে, ৫০ দশমিক ৭ শতাংশ শিক্ষার্থী প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করতে পারে, অর্থাত্ ঝরে পড়ার হার ৪৯ দশমিক ৩। এটা সরকারি গবেষণার ফল। এ ছাড়া বেসরকারি প্রতিষ্ঠান গণসাক্ষরতা অভিযানের এডুকেশন ওয়াচ প্রতিবেদন ২০০৮ অনুযায়ী, পঞ্চম শ্রেণী শেষ করতে পারে ৫০ দশমিক ১০ শতাংশ শিক্ষার্থী।
আলোচিত দুটি গবেষণার কোনোটিই ৪৯ শতাংশের কম শিক্ষার্থী ঝরে পড়ছে, এ কথা বলতে পারছে না। তবে দুই বছরে নিশ্চয়ই অবস্থার উন্নতি ঘটেছে। তাই বলে তা ২১ শতাংশ হয়ে গেছে, এটা অবিশ্বাস্য।
বিষয়টা আরও সহজ করে বোঝার জন্য গত বছর চালু হওয়া প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষাই যথেষ্ট। এ পরীক্ষা চালু হওয়ায় সহজেই প্রাথমিক শিক্ষার হিসাবটা বের করা সম্ভব। গত বছর ২৫ লাখ শিক্ষার্থী প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার জন্য রেজিস্ট্রেশন করে। ২২ লাখ পরীক্ষায় অংশ নেয়। পাস করে ২০ লাখ শিক্ষার্থী। এ হিসাব থেকে আমরা দেখছি, পঞ্চম শ্রেণী থেকেই ৫ লাখ শিক্ষার্থী ঝরে গেছে। শতকরা হিসাবে এটা ২০ শতাংশ।
এ প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার মাধ্যমেই গোটা প্রাথমিক শিক্ষার ঝরে পড়ার হার বের করা যায়। ব্যানবেইজের হিসাবে, এখন প্রাথমিক স্তরে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১ কোটি ৬৫ লাখের কিছু বেশি। একে পাঁচটি শ্রেণীতে ভাগ করলে গড়ে ৩৩ লাখ। স্বাভাবিকভাবেই প্রথম শ্রেণীতে শিক্ষার্থী বেশি থাকে, ফলে এ শ্রেণীতে ৪০ লাখ ধরা যায়। সুতরাং প্রাথমিকের ৪০ লাখ শিক্ষার্থী থেকে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষাশেষে আমরা দেখলাম ২০ লাখ শিক্ষার্থী। তার মানে অর্ধেক শিক্ষার্থী ঝরে পড়েছে।
লক্ষ্যনীয় যে, বাংলাদেশে শিক্ষাসহ গুরুত্বপূর্ণ সকল বিষয়ে কেবল জরিপ টাইপের গবেষণা হয়, যার মাধ্যমে শুধু একটা সুপারফিসিয়াল তথ্য পাওয়া যায়। যেমন বাংলাদেশর শিক্ষার হার কত, কতভাগ মানুষ স্যানিটেশন পাচ্ছে কিংবা জনসংখ্যা কত। এ জাতীয় গবেষণা যার মাধ্যমে তথ্যটিই জানা যায়। এর বাইরে গুনগত মান পরিবর্তনে বিস্তর গবেষণা কমই হয়। উদাহরণত: গত বছর থেকে যে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী এবং জেএসসি পরীক্ষা শুরু হলো এর জন্য কোন গবেষণা হয়েছে বলে কেউ জানেনা। দুঃখের বিষয় হলো মাননীয় মন্ত্রীর বক্তব্যের মাধ্যমে জরিপ টাইপের গবেষণার দুর্দশা প্রমাণ করছে আর অন্য গবেষণার কথা নাইবা বললাম।
প্রাথমিক শিক্ষার সাম্প্রতিক ইতিবাচক পরিবর্তনের কথা মেনে নিয়েও বলছি। এতে ২১ ভাগে ঝরে পড়া নেমে আসার কথা নয়। সরকার দাবি করছে, বিদ্যালয় গমনোপযোগী (৬ থেকে ১০ বছর বয়সী) শিশুদের ৯৯ দশমিক ৪৭ শতাংশ এখন বিদ্যালয়ে যাচ্ছে। এ সংখ্যা নিয়েও যথেষ্ট সন্দেহ আছে। আবার কিছু দিন আগে সাক্ষরতা দিবসে (৮ সেপ্টেম্বর) এ মন্ত্রীই বলেছিলেন, সাক্ষরতার হার ৫৮ ভাগ— যদিও সরকারের গবেষণায় রয়েছে ৫৩। এ নিয়েও গণমাধ্যম সমালোচনা করেছে।
এভাবে সবকিছুর হারকে শুধু শুধু বাড়িয়ে বললে কাজের কাজ তো কিছুই হবে না। জনগণকে ফাঁকি দেয়া বা দাতাগোষ্ঠীকে এভাবে খুশি করার চেষ্টা আসলে বৃথা। এখন সবাই সচেতন। আর আন্দাজে বলাটা একদিকে যেমন প্রশ্নবিদ্ধ হয়, অন্যদিকে বিষয়গুলো হাস্যকর। মন্ত্রীদের এসব কাজ করার কোনো মানে হয় না।
প্রাথমিক শিক্ষাটা আমাদের দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, এটা বলার অপেক্ষা রাখে না। এর জন্য পিইডিপি-৩ নামে ইতিহাসের রেকর্ড ২৩ হাজার কোটি টাকার একটা প্রজেক্ট বাস্তবায়নের অপেক্ষায়। ঠিক এ মুহূর্তে প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রীর ঝরে পড়ার এ রকম তথ্যে কতটা খারাপ প্রভাব পড়বে, বোদ্ধারাই বলতে পারবেন। তবে মন্ত্রীরা কি সাবধান হবেন না?

২৯ সেপ্টম্বর ২০১১

সাক্ষরতা : যেতে হবে অনেক দূর


বিশ্বব্যাপী সাক্ষরতা দিবস পালনের গোড়ায় রয়েছে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান এবং সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিষ্ঠান ইউনেস্কো। ইউনেস্কোর ওয়েবসাইট খুললেই নজরে পড়বে_ Building peace in the minds of men and women নারী এবং পুরুষ নির্বিশেষে সবার মাঝে শান্তি প্রতিষ্ঠা।
আর এ শান্তিকে প্রাধান্য দিয়েই এবারে সাক্ষরতা দিবসের স্লোগান হলো_ খরঃবৎধপু ভড়ৎ ঢ়বধপব, শান্তির জন্য সাক্ষরতা। ইউনেস্কোর তথ্যমতে, বিশ্বব্যাপী ৭৯৩ মিলিয়ন অর্থাৎ প্রায় ৮০ কোটি বয়স্ক মানুষ নিরক্ষর, সে হিসাবে প্রতি ছয়জনে একজন নিরক্ষর। ইউনেস্কো দেখাচ্ছে, এখনও ৭ কোটি শিশু স্কুলেই যায় না আর ড্রপ আউট কিংবা শ্রেণীকক্ষে অনিয়মিত তো আছেই।
আমাদের চিত্রটা দেখার আগে সাক্ষরতার বিষয়ে আসি। বাংলাদেশের ভৌগোলিক পরিসরে সাক্ষরতা শব্দের প্রথম উল্লেখ দেখা যায় ১৯০১ সালে লোকগণনার অফিসিয়াল ডকুমেন্টে। শুরুতে স্ব অক্ষরের সঙ্গে অর্থাৎ নিজের নাম লিখতে যে কয়টি বর্ণমালা প্রয়োজন তা জানলেই তাকে সাক্ষর বলা হতো। ১৯৪০-এর দিকে পড়ালেখার দক্ষতাকে সাক্ষরতা বলে অভিহিত করা হতো।
ষাটের দশকে পড়া ও লেখার দক্ষতার সঙ্গে সঙ্গে সহজ হিসাব-নিকাশের যোগ্যতাসম্পন্ন মানুষ সাক্ষর মানুষ হিসেবে পরিগণিত হতো। আশির দশকে লেখাপড়া ও হিসাব-নিকাশের পাশাপাশি সচেতনতা ও দৃশ্যমান বস্তুসামগ্রী পঠনের ক্ষমতা সাক্ষরতার দক্ষতা হিসেবে স্বীকৃত হয়।
বর্তমানে এ সাক্ষরতার সঙ্গে যোগাযোগের দক্ষতা, ক্ষমতায়নের দক্ষতা, জীবন নির্বাহী দক্ষতা, প্রতিরক্ষায় দক্ষতা এবং সাংগঠনিক দক্ষতাও সংযোজিত হয়েছে।
বাংলাদেশে সাক্ষরতার হার নির্ণয়ে সর্বশেষ জরিপ হয়েছে ২০০৮-এর ডিসেম্বরে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো এবং ইউনেস্কোর যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত ‘লিটারেসি অ্যাসেসমেন্ট সার্ভে’ জরিপে সাক্ষরতার হার দেখানো হয়েছে ৪৮.৮ ভাগ। উইকিপিডিয়ায় এখনও দেওয়া আছে ৪৭.৫০ ভাগ। অবশ্য আমাদের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, সাক্ষরতার হার ৫৩ ভাগ।
এ বছর সাক্ষরতা দিবস বাংলাদেশের জন্য নানা কারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০১৪ সালের মধ্যে শতভাগ সাক্ষরতা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। এটা বাংলাদেশে সাক্ষরতা কার্যক্রম পরিচালনায় সরকারি প্রতিষ্ঠান ‘ব্যুরো অব ননফরমাল এডুকেশন বা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো’ যেমন বলছে, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের ইশতেহার, জাতীয় শিক্ষানীতিসহ এবারে সাক্ষরতা দিবসের প্রাক্কালে এ সংক্রান্ত পোস্টারিংয়েও সবাই দেখেছে।
সাক্ষরতা দিবসের গুরুত্বের আরেকটা কারণ হলো, ইউনেস্কোর ই-৯ ইনিশিয়েটিভ নামে একটি ফোরামের সদস্য বাংলাদেশ, যেখানে চীন, ইন্ডিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মিসরসহ আরও নয়টি দেশ রয়েছে, যারা পৃথিবীর ষাট ভাগ জনসংখ্যার অধিকারী দেশ। ঊফঁপধঃরড়হ ভড়ৎ অষষ বা সবার জন্য শিক্ষা নিশ্চিত করতে এ দেশগুলোর বিরাট ভূমিকা রয়েছে।
সেদিক থেকে বালাদেশ অনেক পিছিয়ে। আর বাংলাদেশের দায়িত্বও অনেক। ২০১৪ সালের মধ্যে শতভাগ সাক্ষরতা, আমাদের হাতে যদি তিন বছরও ধরি। এখনও ৪৭ ভাগ মানুষ নিরক্ষর। এ নিরক্ষর হারকে তিন বছরে সাক্ষর করা কতটা সম্ভব। পেছনে ফেরা যাক। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার সময় সাক্ষরতার হার ছিল ১৬.৮ ভাগ। স্বাধীনতার পরই সাক্ষরতার হার বাড়ানোর জন্য সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। ১৯৯১ সালে অবস্থার পরিবর্তন হয়ে দাঁড়ায় ৩৫.৩ ভাগ। বিশ বছরে সাক্ষরতার হার বাড়ে ১৮.৫ ভাগ। বর্তমান ৫৩ ভাগ সাক্ষরতা ধরলে ৪০ বছরে বেড়েছে ৩৬.২ ভাগ। ৪০ বছরে যেখানে ৩৬ ভাগ বেড়েছে, সেখানে তিন বছরে ৪৭ ভাগ অর্জন কতটা সহজ হবে।
নিরক্ষরতা দূরীকরণে দুটি বড় প্রকল্প শুরু হওয়ার কথা। মৌলিক সাক্ষরতা ও অব্যাহত শিক্ষা নামে দুটি প্রকল্পের ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে তিন হাজার কোটি টাকা। প্রকল্প এক হলো ৬১টি জেলার মানুষকে সাক্ষরকরণ, যার ব্যয় দুই হাজার কোটি টাকা। আর অন্যটি শুধু পার্বত্য তিনটি জেলার জন্য, ব্যয় ৫০ কোটিরও কিছু বেশি। সে প্রকল্পের কোনো কাজ শুরু হয়েছে বলে আমরা দেখিনি।
সাক্ষরতা অর্জনের সহায়ক হলো উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা। তবে আনুষ্ঠানিক শিক্ষার প্রাথমিক স্তর, প্রাথমিক শিক্ষা অর্থাৎ মৌলিক শিক্ষা নিশ্চিত হলেও সাক্ষরতার হার স্বাভাবিকভাবেই বাড়ে। প্রশাসনিকভাবে দেখানো হয়, আমাদের ৯৮ ভাগের ওপর শিশু স্কুলে ভর্তি হয়। এটা অবশ্য সন্তোষজনক। কিন্তু আমাদের ঝরে পড়ার হার এখনও কমেনি।
পঞ্চম শ্রেণী থেকেই প্রায় অর্ধেক শিশু ঝরে পড়ে। এ হারটা খুবই বেদনার। এটা না কমাতে পারলে যেমন একদিকে সবার জন্য প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত হবে না, তেমনি শতভাগ সাক্ষরতাও সম্ভব নয়।
সম্প্রতি প্রাথমিক শিক্ষায় সর্বকালের রেকর্ড ২৩ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প শুরু হতে যাচ্ছে। এ প্রকল্প ভালোভাবে বাস্তবায়ন হলে একদিকে যেমন প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়ন ঘটবে, অন্যদিকে এটা সাক্ষরতা অর্জনেও বড় ভূমিকা পালন করবে।

সমকালে প্রকাশিত- ৮সেপ্টেম্বর ২০১১
ছবি- Unesco