Tag Archives: সরকারি চাকরি

এক বছরেই বিসিএসের নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব- মো. সোহরাব হোসাইন

সাক্ষাৎকার গ্রহণ: সাব্বির নেওয়াজ ও মাহফুজুর রহমান মানিক

মো. সোহরাব হোসাইন গত বছরের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান পদে যোগদানের আগে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি এর আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিসিএস প্রশাসন একাডেমির রেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ছাড়াও বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরে গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের গ্র্যাজুয়েট সোহরাব হোসাইনের জন্ম ১৯৬১ সালে নোয়াখালীর চাটখিলে।

সমকাল: পিএসসির হাত ধরেই আপনার সরকারি চাকরিতে প্রবেশ। এখন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান- আপনার অনুভূতি কী?

সোহরাব হোসাইন: আমি বলব সরকারি কর্ম কমিশন তথা পিএসসির চেয়ারম্যান হওয়া আমার প্রত্যাশা ও যোগ্যতার তুলনায় বিশেষ পাওয়া। সরকার আমার প্রতি যে আস্থা রেখেছে, যথাযথ দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে তা রক্ষায় আমি সচেষ্ট থাকব। পিএসসির যে সম্মান ও জনআস্থা রয়েছে, তা আরও এগিয়ে নিতে আমি সহকর্মীদের নিয়ে চেষ্টা করব।

সমকাল:  সেপ্টেম্বরে আপনি পিএসসিতে যোগ দিলেন। নভেম্বরের মধ্যে পিএসসির দুটি বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি দিয়েছেন। সামনে প্রিলিমিনারি পরীক্ষাও রয়েছে। করোনাদুর্যোগের মধ্যেও পিএসসির কাজ এগিয়ে চলেছে…

সোহরাব হোসাইন: পিএসসি কেবল বিসিএস পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তিই দেয়নি। ইতোমধ্যে আমরা সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ২১৫৫ সহকারী শিক্ষক নিয়োগের জন্য ভাইভা নিয়েছি। আরও কয়েকটি পদের জন্যও ভাইভা নেওয়া হয়েছে। করোনায় ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশের মধ্যেও আমাদের বিজ্ঞ সদস্যদের সহযোগিতায় এটা সম্ভব হয়েছে। আমি যখন শিক্ষা সচিব ছিলাম, তখনই এ নিয়োগের ব্যাপারে সুপারিশ করি। আমরা দেখেছি, সরকারি স্কুলগুলোতে অনেক শিক্ষকের সংকট। অনেক সময় দাপ্তরিক একজনের অতিরিক্ত কাজ আরেকজন করতে পারে। কিন্তু শ্রেণিকক্ষে এক বিষয়ের শিক্ষক অন্য বিষয়ে ক্লাস নেবে কীভাবে? তাই নিয়োগটা জরুরিও ছিল। ২৯ ডিসেম্বর পিএসসি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করে।

সমকাল:  আমরা বিসিএসের কথা বলছিলাম।

সোহরাব হোসাইন: হ্যাঁ, দুটি বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়েছে। এর মধ্যে ৪২তম বিসিএস বিশেষ হবে। কেবল চিকিৎসকদের জন্য। আর ৪৩তম বিসিএস সাধারণ। আমি চেয়েছি একটু আগেই বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে। মানে, এমন যেন না হয় যে করোনা সংক্রমণের মধ্যে কারও বয়স ৩০ হয়ে গেল অথচ সে আবেদন করতে পারল না।

বিসিএসের চেয়ে জীবন অনেক বড়-ড. মোহাম্মদ সাদিক

বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) সদ্য বিদায়ী চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক সিভিল সার্ভিসে বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী। তিনি শিক্ষা সচিব ও বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব ছাড়াও বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ছাত্র ড. সাদিক বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ‘সিলেটি নাগরী লিপির’ ওপর পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তার জন্ম ১৯৫৫ সালে সুনামগঞ্জে। লেখালেখিতে সক্রিয় ড. মোহাম্মদ সাদিক ২০১৭ সালে কবিতায় বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন

সমকাল: আপনি পিএসসির সদ্য বিদায়ী চেয়ারম্যান। প্রতিষ্ঠানটির প্রতি আগের তুলনায় যে জনআস্থা ও বিশ্বাস আমরা দেখছি তার কারণ কী বলে আপনি  মনে করেন?

ড. মোহাম্মদ সাদিক: আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করেছি। আস্থা ও বিশ্বাসের বিষয়টি যারা বাইরে আছেন আপনারা দেখবেন। পিএসসি পরীক্ষা ও ফল ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থী সুপারিশের কাজ করে। কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য আমাদের বিজ্ঞ সদস্যবৃন্দ, পিএসসির সচিব ও সংশ্নিষ্ট সবাই মিলে আমরা একটি টিম হিসেবে কাজ করেছি। এখানে প্রশ্নকারী, মডারেটর, পরীক্ষক, নিরীক্ষক, পরিদর্শক এবং ভাইভা বোর্ডে যারা থাকেন, সবাই মিলেই কাজটি সম্পন্ন হয়। Continue reading

তদবির কাজ না অ-কাজ

বিজ্ঞানী নিউটনের দেওয়া গতির তৃতীয় সূত্র অনুযায়ী, প্রত্যেক ক্রিয়ারই প্রতিক্রিয়া রয়েছে। কাজের ক্ষেত্রে নিউটনীয় এ বিখ্যাত সূত্র বাস্তবায়ন হওয়াই তো সার্থকতা! আপনি সারাদিন দেয়াল ধাক্কালেন, এক চুলও নাড়াতে পারলেন না। আপনি আসলে কোনো কাজই করলেন না। আপনার এ প্রচেষ্টাকে বিজ্ঞান কাজ বলে স্বীকৃতি দিচ্ছে না। এ রকম যেসব কাজে ফল নেই, তা আপনি কেন করতে যাবেন? মঙ্গলবার সমকালের প্রথম পাতায় প্রকাশিত ‘তদবিরে বদলায় সিদ্ধান্ত’ শিরোনামে প্রতিবেদনটি পড়ে তা-ই ভাবছিলাম। তদবির তো এক বড় কর্ম! আহা কত মানুষের হাত-পা ধরতে হয়, অনুনয়-বিনয় করতে হয়, কোথাও অর্থ ঢালতে হয়, এর সঙ্গে জুতা ক্ষয় তো আছেই। এত কিছুর পরও যদি তাতে ফল না হয়, সে এক হতাশার কথা। না, এখানে হতাশ হওয়ার মতো কিছু ঘটেনি। কারণ কাজের ফল হয়েছে, তদবিরে বদলেছে সিদ্ধান্ত (!)।

জনপ্রশাসনে বদলি নিয়ে যে কত ধরনের তদবির রয়েছে, তা বলাই বাহুল্য। কোথাও টাকা, কোথাও মামা-চাচা, কোথাও ক্ষমতা আবার কোথাও উচ্চপদস্থদের ধরে তদবির হয়। এসব বিবেচনায় যার তদবির যত শক্তিশালী, তারটাই কাজে আসে। বদল হয় সিদ্ধান্ত। আশ্চর্যই বটে, সেদিন ফেসবুকে দেখা গেল একজন পোস্ট দিয়েছে, স্যারের (প্রশাসনের কর্মকর্তা) বদলি আমাদের কষ্ট দিয়েছে, এমন পরোপকারী মানুষ আর হয় না ইত্যাদি। আবার ক’দিন পরই তিনি জানাচ্ছেন, স্যারের বদলি স্থগিত হওয়ায় আমরা আনন্দিত। Continue reading