Tag Archives: সমাজ

মায়া

মেয়েটি আমার যত বড় হচ্ছে মায়া মনে হচ্ছে ততই বাড়ছে

গতকাল আমার পিতৃত্বের এক বছর পূর্ণ হলো আলহামদুলিল্লাহ। ২০১৯ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি পৃথিবীতে আসার পর থেকেই কেবল নয়, বরং তারও প্রায় নয় মাস আগ থেকে আমাদের সকল কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে মেয়েটি। সন্তান-মা-বাবাকে ঘিরে পৃথিবীর যে মায়ার জগৎ এতদিন তা কেবল সন্তান হিসেবেই দেখে আসছিলাম এখন সেটা বাবা হিসেবেও আবিষ্কারের চেষ্টা করছি।
প্রথম প্রথম মেয়েটিকে দেখতাম বিস্ময়ের সঙ্গে। নবজাতকের কান্না, হাসি, আড়মােড় ভাঙ্গার মধ্যে কতটা শিল্প, কতটা সৌন্দর্য রয়েছে মেয়ে না হলে তা দেখার সৌভাগ্য হয়তো হতো না। মেয়েটি যখন আরেকটু বড় হচ্ছে শিশুর কাজ দেখারও সুযোগ হচ্ছে, এক সেকেন্ডের জন্যও তার ফুরসত নেই; যতক্ষণ সজাগ থাকবে, ততক্ষণ ব্যস্ত। এই এটা ধরবে, ওটা ধরবে। এক হাতে না পারলে দুই হাতে, এক হাত ছাড়ালে আরেক হাতে। মেয়েটার কাজ দেখে আমরা হয়রান হই। মেয়েটি যখন কথা বলা শিখছে ওর মুখ থেকে ফুটছে- আম্মা, বাব্বা, দাদ্দা, নান্না। মুখ থেকে একটা কথা বেরুবে সেটাই বলতে থাকবে। এক নাগাড়ে, এ নিশ্বাসে, একই শব্দ সুন্দর করে, দরদ দিয়ে এভাবে কাউকে বলতে দেখিনি।
মেয়েটি যতই একটু করে বড় হচ্ছে ততই চিনছে বাবাকে। বাবা হিসেবে সেটা আমার জন্য যেমন আনন্দের তেমনি মধুর বিড়ম্বনারও। বাবাকে সবসময় সামনে থাকা চাই। মেয়েকে রেখে বাইরে বেরুবার অধিকার, অফিসে যাওযার সুযোগ নেই। আহা প্রতিদিন অফিসের জন্য বেরুতে মেয়েকে যেভাবে বাসায় রেখে আসতে হয় সেটা এক কষ্টের ব্যাপার। অফিসে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছি কিন্তু মেয়েটি কোলে এসে বসে আছে। এমনভাবে বসবে যে, তাকে ছাড়া সহজ নয়। Continue reading

ইফা, তুমি পথ হারাইয়াছ?

দুর্নীতির বিরুদ্ধে যখন জাতি সোচ্চার, যখন সরকারি নানা অফিসে শোভা পাচ্ছে ‘আমি এবং আমার অফিস দুর্নীতিমুক্ত’; সেখানে ইসলামিক ফাউন্ডেশন (ইফা) ও এর মহাপরিচালকের (ডিজি) নানা দুর্নীতি ও অনিয়মের খবর সংবাদমাধ্যমে এসেছে। কোনো প্রতিষ্ঠান দুর্নীতিমুক্ত ঘোষণা করলেও বাস্তবে প্রতিষ্ঠানটি কতটা দুর্নীতিমুক্ত, সেটি আমরা জানি না। তবে এটা অন্তত অনুধাবন করা যায়, দুর্নীতিমুক্ত করতে প্রতিষ্ঠানটির কর্তাব্যক্তিদের সদিচ্ছা রয়েছে। কিন্তু যেখানে গোড়ায় পচন ধরে, অর্থাৎ খোদ প্রতিষ্ঠানপ্রধান দুর্নীতিগ্রস্ত হন, অনিয়ম ও স্বেচ্চাচারিতায় বেপরোয়া হন, সেখানে গোটা প্রতিষ্ঠানই তার লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ভুলে একজনের আজ্ঞাবহ ও সেবাদাসে পরিণত হতে বাধ্য। ইসলামিক ফাউন্ডেশনে ঠিক তা-ই হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির জন্য ‘পথিক, তুমি কি পথ হারাইয়াছ?’ উক্তিই যথার্থ।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালে প্রতিষ্ঠা করেন ইসলামের সমুন্নত আদর্শ প্রচার ও প্রসারের লক্ষ্যে। এমন মহান উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত ইসলামিক ফাউন্ডেশন যখন দুর্নীতির জন্য টানা খবর হয়, তার চেয়ে দুঃখজনক বিষয় আর কী হতে পারে! রোববার সমকালের প্রতিবেদন ‘ইসলামিক ফাউন্ডেশনে জেঁকে বসেছে দুর্নীতি’ পড়ে যে কেউ অবাক হবেন; হেন কোনো প্রকল্প নেই যেসব ক্ষেত্রে দুর্নীতি হয়নি। এক টাকা, দুই টাকা নয়; প্রতিষ্ঠানটিতে অডিট করে প্রায় আটশ’ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে। প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক সামীম মোহাম্মদ আফজালের নেতৃত্বে এসব অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ। ১০ বছর ধরে তিনি প্রতিষ্ঠানটির নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। পুরো সময়টির তদন্তে দেখা গেছে নিয়োগে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি, প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ, বেশি ব্যয়, অপচয়সহ তিনি নানা অপকর্ম করেছেন। সমকালের প্রতিবেদন বলছে, নিরীক্ষায় প্রথমে ১৩২টি অনিয়ম ও ৯০০ কোটি টাকা আর্থিক ক্ষতির হিসাব পাওয়া যায়। পরে ৩৬টি অডিট আপত্তি নিষ্পত্তি হয়। ডিজি ১০০ কোটি টাকার বেশি সরকারি কোষাগারে ফেরতও দেন।

এত বড় দুর্নীতি যে কোনো প্রতিষ্ঠানের জন্যই ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার বিষয়। আর সেখানে যদি একজনই অভিযুক্ত হন, তাহলে তো কথাই নেই। তবে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের দুর্নীতিতে তোলপাড়ের কারণ কেবল প্রতিষ্ঠান হিসেবে নয়, ব্যক্তির কারণেই নয় বরং কারণটি খোদ প্রতিষ্ঠানের ধরন-ধারণের জন্যও। প্রতিষ্ঠানটির নামের সঙ্গেই রয়েছে ইসলাম। Continue reading

‘শতভাগ সাক্ষরতা’ কতদূর

কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দিয়ে নিরক্ষর মানুষদের সাক্ষরতার কাজে নিয়োজিত করা যায়

আজকের সাক্ষরতা দিবসের প্রাক্কালে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তরফে আমরা জানছি, দেশে বর্তমান সাক্ষরতার হার ৭৩.৯ শতাংশ। এখনও প্রায় ২৬ শতাংশ মানুষ নিরক্ষর। অর্থাৎ শতভাগ সাক্ষরতা অর্জনে বাকি এ সংখ্যাটি। এর সঙ্গে আরেকটি হিসাবও জরুরি। এ জন্য একটু পেছনে ফিরতে হবে। ঠিক ১০ বছর আগে আমরা দেখেছি, তখন সরকার ২০১৪ সালের মধ্যে শতভাগ সাক্ষরতা অর্জনের অঙ্গীকার করে। ২০১২ সাল পর্যন্ত জোরেশোরে এ প্রচারণা চলে। তখন উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর ওয়েবসাইট খুললেই লেখা উঠত- ‘উই আর কমিটেড টু এনশিউর হান্ড্রেড পার্সেন্ট লিটারেসি বাই টোয়েন্টিফোরটিন।’ কিন্তু ২০১২ সালের সাক্ষরতা দিবসের দু’দিন পর আমরা জানতে পারলাম- সে সময়ের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর ভাষায়, ‘২০১৪ সালের মধ্যে দেশ থেকে নিরক্ষরতা দূরীকরণের ঘোষণা থাকলেও সম্ভব হচ্ছে না। তবে আমরা একটি ট্র্যাকে পৌঁছাতে চাই।’ হঠাৎ করে সম্ভব না হওয়ার কারণ অনুসন্ধান করে আমি ওই সময় সাক্ষরতা দিবসে (৮ সেপ্টেম্বর ২০১২) সমকালেই লিখেছিলাম, ‘দুটি প্রকল্পের পোস্টমর্টেম এবং শতভাগ সাক্ষরতা’। সে সময় সরকার দুটি প্রকল্প হাতে নেয়। প্রথমটি ৬১ জেলার নিরক্ষরদের সাক্ষর করার জন্য, ব্যয় ২ হাজার ৯৬২ কোটি টাকা আর অন্যটি এর বাইরের তিনটি পার্বত্য জেলার জন্য, ব্যয় ৫০ কোটি টাকার কিছু বেশি। সে সময় টাকার অভাব দেখিয়ে প্রকল্প দুটি বাস্তবায়ন করেনি সরকার। আর ওই দুটি প্রকল্প যখন বাতিল হলো, তখন শতভাগ সাক্ষরতার স্লোগানও শেষ হলো। তার মানে শতভাগ সাক্ষরতার স্লোগান ছিল প্রকল্পসর্বস্ব। আরও আশ্চর্যের বিষয়, সে সময় দুটি প্রকল্পের স্থানে গ্রহণ করা হয় মৌলিক সাক্ষরতা প্রকল্প। সেই প্রকল্পই মেয়াদ বাড়িয়ে এখনও চলছে। গত এক বছরে তার সুফল হলো সাক্ষরতার হার বেড়েছে মাত্র ১ শতাংশ। এভাবে করে ২০১৪ সাল থেকে পিছিয়ে আসা ‘শতভাগ সাক্ষরতা’ আমাদের কবে অর্জিত হবে? Continue reading

অপরাধবোধ এবং এক নিষিদ্ধ গল্প!


উপন্যাস- গল্পটি শুনতে চেয়ো না
লেখক- সোহেল নওরোজ,
প্রকাশক- দেশ পাবলিকেশন্স
প্রচ্ছদ- সোহানুর রহমান অনন্ত

নাই কাজ তো খই ভাজ। লেখক বলছেন, না খইও ভাজা যাবে না; কারণ এটাও একটা কাজ। অলসভাবে শুয়ে থাকাটাই হতে পারে কাজহীন অবস্থা কাটানোর শ্রেষ্ঠ উপায়। যদিও এর সঙ্গে ‘গল্পটি শুনতে চেয়ো না’ উপন্যাসের মূল ‘গল্পের’ কোনো সম্পর্ক নাই। তাহলে গল্পটা কী। যে গল্পটি শুনতে চাওয়া বারণ? যে গল্পটি হাফিজুল হক তার মেয়ে অর্পাকেও শুনতে দেননি। গল্পটা ঠিকই সোহেল নওরোজ পাঠকদের শুনিয়েছেন। কিন্তু সব পাঠকই যে তা ধরতে পারবে, সে নিশ্চয়তা দেওয়া যাচ্ছে না। লেখকের মুনশিয়ানা বোধহয় এখানেই।

মোচড়ের পর মোচড় আর মন খারাপ করে দেওয়া উপন্যাসটি শুরু হয়েছে হাফিজুল আর মেয়ে অর্পার কথোপকথন দিয়ে। হাফিজুল হক লেখক মানুষ। একটি উপন্যাস তিনি দাঁড় করাচ্ছেন। উপন্যাসের চরিত্রগুলো লেখার সঙ্গে সঙ্গে হাতেও আঁকছেন। প্রথমে এসেছে এতিমখানার নাহিদ আর অনিকেত। মেধাবী নাহিদ অনিকেতের খপ্পরে পড়ে সামান্য অন্যায়ের শাস্তির মুখোমুখি হওয়ার ভয়ে এক রাতে বেরিয়ে পড়ে অজানার উদ্দেশে। তারা ওঠে অনিকেতের পরিচিত এক কাকির বাসায়। সেখানে নাহিদকে চিঠি দিয়ে আবারও অনিকেতের নিরুদ্দেশ যাত্রা। এরপর নাহিদকে কেন্দ্র করে আগায় উপন্যাসটি। যেখানে নাহিদের এগিয়ে চলার প্রেরণা ছিল অনিকেতের চিঠি। Continue reading

প্রভাব-বলয়

দার্শনিক ও লেখক রুশো বলেছেন, মানুষ স্বাধীনভাবে জন্মায়; কিন্তু সর্বত্র সে শৃঙ্খলিত। এ শৃঙ্খল কত প্রকার ও কী কী তা জীবনের প্রতিটি স্তরে প্রত্যেকে টের পায়। শিশু থাকতেই এটা ধরা যাবে না, ওটা করা যাবে না, ওর সঙ্গে মেশা যাবে না ইত্যাদি নানা বাধা। মানুষ যত বড় হয় তার শৃঙ্খলও বাড়ে। পারিবারিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক নানা শৃঙ্খল। বিশেষ করে জীবনের সিদ্ধান্তগুলো কেউ চাইলেই এককভাবে নিতে পারে না। সেখানে অন্যের প্রভাব থাকবেই। আপনি চাইছেন এ স্কুলে পড়তে আর অভিভাবকের পছন্দ অন্য স্কুল। আপনি পড়তে চান ইঞ্জিনিয়ারিং; বাসা থেকে বলছে, ডাক্তারি পড়তে হবে। এভাবেই আমরা সবাই জড়িয়ে পড়ি এক শৃঙ্খলে। যে শৃঙ্খল মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ভাঙার নয়।

একজন রাষ্ট্রনায়কও কি একক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন? তার চারপাশে যারা থাকেন, তারা তার মতকে প্রভাবিত করতে পারে। আবার দেশের মানুষও সিদ্ধান্তে প্রভাবক ভূমিকা পালন করতে পারে। দলের ক্ষেত্রে দলীয় প্রধান তো একক সিদ্ধান্ত নিতেই পারেন না; কারণ অন্যের কথা তাকে শুনতে হয়। পরিবারের কর্তার সিদ্ধান্তে প্রভাব থাকে কর্ত্রীর, সন্তান-সন্ততির। আপনার জীবন-সংসার ভালো লাগছে না, সব ছেড়ে একদিকে পালিয়ে যেতে চান। কিন্তু তা এতটা সহজ নয়। প্রিয় মানুষগুলোর কথা আপনি কয়েকবার ভাববেন।

বলা বাহুল্য, প্রভাব-বলয় পরিবার, সমাজ, দেশ ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও বিস্তৃত। মার্কিন প্রভাব, রাশিয়ান প্রভাব, চীনা প্রভাব, ভারতের প্রভাব-বলয়ের কথা আমরা জানি। Continue reading

মানুষের ভিড়ে একা!

চারদিক লোকে লোকারণ্য। যেখানেই যাওয়া যাক মানুষের ভিড়ে লম্বা লাইনে দাঁড়ানো কিংবা হারিয়ে যাওয়ার অবস্থা। শহরে তো গিজগিজ করছে মানুষ; বাসে পা ফেলার জায়গা নেই; হাসপাতালে মানুষের অভাব নেই; ব্যাংকে লম্বা লাইন; রেস্টুরেন্টে বসার জায়গা নেই। সর্বত্র মানুষ আর মানুষ। অথচ এই মানুষের ভিড়ে আমরা ভীষণ একাকী। সবাই দৌড়াচ্ছে, যে যার কাজে, পাশের জনকে দেওয়ার মতো সময় নেই; প্রতিবেশীর খোঁজ নেওয়ার ফুরসত নেই; রাস্তায় বিপদে পড়া মানুষের সাহায্যে আসার অবস্থা নেই। স্ত্রী-সন্তানকে সময় দেওয়ার অবকাশ ও প্রিয় মানুষকে কাছে পাওয়ার উপায় নেই। সবাই চলছে যে যার মতো। এই একাকিত্বে বয়সেরও বালাই নেই।
আমরা ভাবি, হয়তো বৃদ্ধ, পঁচাত্তরোর্ধ্ব মানুষই একাকিত্ব বোধ করে। কিন্তু না; ১ অক্টোবর বিবিসি প্রকাশিত এক জরিপ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ১৬ থেকে ২৪ বছর বয়সীরাই বেশি একাকী থাকে। ‘আই অ্যাম সারাউন্ডেড বাই পিপল, বাট ফিল সো লোনলি।’ অর্থাৎ আমার চারপাশে মানুষ, কিন্তু আমি ভীষণ একাকিত্ব বোধ করি- শিরোনামে বিবিসির ওই প্রতিবেদনটি মূলত বিশ্বব্যাপী দুই শতাধিক দেশের মানুষের ওপর করা জরিপের ফল। বিশ্বব্যাপী ৫৫ হাজার মানুষের ওপর করা এই জরিপটি এমন দিনে প্রকাশ হলো, যেদিন ছিল বিশ্ব প্রবীণ দিবস। সমাজে নানাভাবে প্রবীণরা উপেক্ষিত। নানা কারণে তাদের অনেক সময় একাকিত্বে কাটাতে হয়। আমাদের পূর্বসূরি শ্রদ্ধেয় মানুষের প্রতি সবার কর্তব্য আছে, সেটা ঠিক। কিন্তু বিবিসি যেটা দেখাচ্ছে, আমাদের নতুন প্রজন্মই বেশি একাকিত্বে ভুগছে। সেটা একটি সংকেতও বটে।

Continue reading

শাওনের স্মারক

শারীরিকভাবে যারা নানা ধরনের অক্ষমতার শিকার, তাদের অনেকেই প্রতিবন্ধকতা জয় করে নানাভাবে সমাজে অবদান রাখছেন। অনেকক্ষেত্রেই তারা ভালো করছেন। আমরা দেখেছি, পা দিয়ে লিখে কীভাবে শিক্ষার্থী জিপিএ ৫ পাচ্ছে; দু’চোখ হারিয়েও স্বউদ্যোগে পরিচালিত প্রতিষ্ঠান দিয়ে মানুষের কর্মসংস্থান করছে; পা না থাকা সত্ত্বেও কীভাবে অদম্য মানুষ দাপিয়ে বেড়ায় মানুষের জন্য; খেলাধুলায় অনেক শারীরিক প্রতিবন্ধীর দক্ষতা বিস্ময়কর। খেলার দিক থেকে আমাদের দেশে বর্তমানে ক্রিকেট অত্যন্ত জনপ্রিয়। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশ ক্রিকেটের অবস্থান শক্তিশালী। একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আইসিসির র‌্যাংকিংয়ে আমাদের অবস্থান ৭। এমনকি আমাদের প্রতিবন্ধীরাও ক্রিকেটে ভালো খেলছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নানা দেশে গিয়ে তারা সে প্রতিভার স্বাক্ষর রাখছে। এমনি এক প্রতিবন্ধী ক্রিকেটার মো. শাওন সিকদারের খবর দিয়েছে শুক্রবারের সমকাল। যদিও খবরে তিনি এসেছেন অন্যভাবে। ‘প্রতিবন্ধী দলের ক্রিকেটার চালাচ্ছেন ইজিবাইক’ শিরোনামের খবরে পিরোজপুরে ইজিবাইক চালানো অবস্থায় শাওনের ছবিও প্রকাশ হয়েছে। শাওন জাতীয় প্রতিবন্ধী দলের কৃতী ব্যাটসম্যান ও উইকেটকিপার। প্রতিবন্ধী ক্রিকেটারদের নিয়ে মেধা অন্বেষণে প্রতিযোগিতায় উত্তীর্ণ হয়ে তিনি জাতীয় দলে সুযোগ পেয়েছেন। এই গত জুলাইয়েই ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ফিজিক্যাল ডিজঅ্যাবিলিটি ট্রাই ন্যাশন টি২০ সিরিজও খেলেন তিনি। ৮ জুলাই সেখানে শুরু হওয়া সিরিজে শাওন ইংল্যান্ড ও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তিন ম্যাচ খেলে ১২৯ রান করেন। এ সিরিজে শাওন একটি ম্যাচে ম্যান অব দ্য ম্যাচ এবং ম্যান অব দ্য সিরিজ হন।

Continue reading

হর্স পাওয়ার

শক্তি পরিমাপের একক হর্স পাওয়ার বা অশ্বশক্তি। অশ্ব বা ঘোড়ার ক্ষমতা কীভাবে শক্তি পরিমাপের একক হলো, তা নিয়ে নানা মুনির নানা মত রয়েছে। সাধারণভাবে যেটা বলা হয়, ইংল্যান্ডে খনি থেকে কাঠের দুই সমান্তরাল লাইনের ওপর দিয়ে মানুষ কয়লা বোঝাই ওয়াগন টেনে নিয়ে যেত। পরে তাতে মানুষের বদলে জুড়ে দেওয়া হলো ঘোড়া। এতে কয়লা টানার গতি বাড়ল। গতি আরও বাড়াতে বাড়িয়ে দেওয়া হতো ঘোড়ার সংখ্যা। এক ঘোড়াকে বলা হলো ১ হর্স পাওয়ার বা ১ অশ্বশক্তি, ২ ঘোড়াকে ২ হর্স পাওয়ার। এভাবেই ঘোড়া থেকে তৈরি হলো হর্স পাওয়ার বা অশ্বশক্তির ধারণা। রোববার ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনের শিরোনামে সে ‘হর্স পাওয়ার’ অভিধাটি কৌতূহলের সৃষ্টি করে। বিশেষ করে প্রসঙ্গ যখন শিশু। হর্স পাওয়ার :গিভিং কিডস দ্য রাইড অব দেয়ার লাইফ। অশ্বশক্তি কীভাবে শিশুদের জীবনকে গতি দিচ্ছে, সেটিই প্রতিবেদনটির আলোচ্য বিষয়। ইংল্যান্ডের দক্ষিণ লন্ডনের ব্রিক্সটন সেখানকার পিছিয়ে পড়া এলাকা। ব্রিক্সটনে রয়েছে ‘এবোনি হর্স ক্লাব’। এ ক্লাবের উদ্দেশ্য হলো, ঘোড়ায় চড়ার মাধ্যমে শিশু ও তরুণদের মাঝে শিক্ষা ও প্রত্যাশার আলো জ্বালানো। পিছিয়ে পড়া এলাকাটিতে মানুষের মাঝে রয়েছে কুসংস্কার আর হতাশা, যে কারণে সেখানে বেকারত্বের হারও অস্বাভাবিক। এ পিছিয়ে পড়াদের এগিয়ে নিতেই কাজ করছে ঘোড়ার ক্লাবটি। সেখানে কেবল ঘোড়াতেই চড়ানো হয় না বরং তাদেরকে জীবন ইতিবাচক ধারণা দিয়ে সামাজিক কুসংস্কারমুক্ত করা হয়। ঘোড়ায় চড়ার মাধ্যমে সেখানে জীবন নতুন অভিজ্ঞতা দেওয়া হয়; তেমনি ঘোড়ার সংস্পর্শে এসে অশ্বশক্তি বলীয়ান হয়ে জীবনের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জোগায় ক্লাবটি। গার্ডিয়ানের হর্স পাওয়ার লেখার রহস্য আসলে এখানেই। প্রতিবেদনসূত্রে ক্লাবটির ওয়েবসাইটে গিয়েও তার পরিচয় পাওয়া গেল। ক্লাবটির কার্যক্রমে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে, স্কুল-কলেজ ফেরত অনেকে উৎসাহিত হয়ে স্কুল-কলেজ তথা পড়াশোনায় যোগ দিয়েছে। অনেকে সুন্দর ক্যারিয়ার গড়তে উৎসাহিত হচ্ছে। Continue reading

অদম্য

পা দিয়ে লিখে জিপিএ ফাইভ

এসএসসির ফল বেরোলো রোববার (৬ মে ২০১৮)। এ নিয়ে সোমবারের সংবাদপত্র যতটা সরব ছিল, মঙ্গলবার ততটা দেখা যায়নি। সম্পাদকীয়, একাদশ শ্রেণির ভর্তি ও অন্যান্য সংবাদ প্রকাশ হলেও আগের মতো অদম্য মেধাবীদের নিয়ে তেমন খবর চোখে পড়েনি। নানা প্রতিবন্ধকতা জয় করে যারা জীবনের অন্যতম পর্যায় এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়, ভালো ফল করে, তাদের গল্প সংবাদপত্রে আগে কয়েক দিন ধরে প্রকাশ হতো। এখন তা কমে গেছে। তার পরও অনেকের খবর আসছে, অনলাইনে নানা মাধ্যমেও আমরা তাদের গল্প জানছি। পা দিয়ে লিখে জিপিএ ৫, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধিতা জয় করে উত্তীর্ণ, দারিদ্র্য জয় করে ভালো ফল, মা-ছেলে একসঙ্গে পাস- এমন শারীরিক, আর্থিক ও বয়সের প্রতিবন্ধকতা জয় করে উত্তীর্ণ হওয়ার খবর আমাদের প্রেরণা জোগায়।

অদম্য মেধাবীরা শত প্রতিবন্ধকতা জয় করে যখন একটা ধাপ অগ্রসর হয়, যখন তাদের উত্তীর্ণ হওয়ার সংবাদে আমরা আশান্বিত হই, তখনই হয়তো তারা কিংবা তাদের অভিভাবকরা শঙ্কিত হন তাদের পরবর্তী পড়াশোনার কথা ভেবে। মাধ্যমিক পেরোনোর পর স্বাভাবিকভাবেই উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে ভর্তি ও পড়াশোনার চিন্তা থাকে সবার মধ্যে। অভিভাবকের দারিদ্র্য, নিজের শারীরিক সীমাবদ্ধতা ইত্যাদির মধ্যে সংগ্রাম করে যখন কেউ পাস করে, তখন পরবর্তী পড়াশোনা নিয়ে কেউ কেউ অনিশ্চয়তায় থাকে। তাদের গল্পগুলো সংবাদমাধ্যমে এলে হয়তো কেউ এগিয়ে আসেন। কারও পড়াশোনার দায়িত্ব নেন কিংবা পড়াশোনা এগিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় সহায়তা করেন।

এভাবে পড়াশোনা করে অনেকেই আজ প্রতিষ্ঠিত। Continue reading

হৃদয়ের গল্প

নির্মল সাদা কাগজে অসহায় কালো কালি জীবন্ত হয়ে ওঠে লেখকের তুলির আচড়ে। পাঠকের হৃদয়ে নিশ্চল শব্দ আলোড়িত করে লেখকের লেখা। লেখকের মুন্সিয়ানা, লেখার ঢং, জীবন অভিজ্ঞতা, জানার পরিধি ফুটে ওঠে তার লেখায়। পাঠকের কাছে বিষয় সহজে উপস্থাপনার মাধ্যমেই লেখকের সফলতা।

পড়ার ক্ষেত্রে পাঠকের আগ্রহ থাকে গল্প। কারণ গল্প যে মানুষের জীবনই তুলে ধরে। কোনোটা নিজের সঙ্গে মিলে যায়, কোনোটা কানের পাশ দিয়ে যায়। আবার কোনোটা যেন পরিচিত কারও জীবনকাহিনী। সোহেল নওরোজের ‘প্রেমের আলামত পাওয়া যায়নি’ ঠিক তেমন গল্পের বই। ১৪টি গল্পের প্রতিটির আয়নায় পাঠক হয়তো নিজের মুখই দেখবেন। কিংবা তা পাঠকের পারিপাশর্ি্বকতারই গল্প। ‘রোদচশমা’ এ ক্ষেত্রে প্রকৃষ্ট উদাহরণ। আমাদের চারপাশে প্রতিনিয়ত যেসব অন্যায় সংঘটিত হয়, সেগুলো খালি চোখে সহ্য করা সত্যিই কঠিন। তাই গল্পের রাশেদ চোখে কালো চশমা পরে থাকে। আইডিয়া ও গল্পের নামের প্রশংসা এখানেই করতে হবে। তবে জীবনঘনিষ্ঠ বললে ‘হিডেন ফোল্ডার’ গল্পের কথা বলতেই হবে। গল্পটির কলেবর একটু বড়, তবে রহস্যটা বোধহয় শেষেই। স্বামী-স্ত্রীর পরস্পর যে ভালোবাসা, দায়বদ্ধতা এবং একে অপরকে গুরুত্ব ও সময় দেওয়ার ব্যাপার রয়েছে, তার বিপরীতটা ঘটলে স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হয়। তাতে হিডেন ফোল্ডার তথা কম্পিউটারের মতোই হৃদয়ের গোপন কোনো কুঠুরিতে দুঃখ জমা হয়। সুখের সংসার হলে সেখানে সুখও জমা হতে পারে। অবশ্য ‘চুপ’ গল্পটিও এদিক থেকে কম শিক্ষণীয় নয়। কাজের ক্ষেত্রে যোগ্যতাই মূল মাপকাঠি; তেলবাজি কখনোই তার সমকক্ষ হতে পারে না। চুপ গল্পের পরতে পরতে পাঠক শিক্ষা পাবেন- ‘যোগ্য ও সৎ শত্রুর চেয়ে তেলবাজ ও অসৎ বন্ধু উত্তম হতে পারে না’। বলাবাহুল্য, পাঠক সোহেল নওরোজের বইটিতে সব গল্পই উপভোগ করবেন। গল্পের ভেতরে শিক্ষার বিষয়টি সচেতন পাঠকই ধরতে পারবেন।
Continue reading