Tag Archives: শিশু

ভর্তিতে শিক্ষার্থীর করোনাভাগ্য!

দুর্যোগের মধ্যেও শিশুদের একটি চাপমুক্ত ও স্বস্তির বছর শিক্ষার্থীর করোনা ভাগ্য বৈকি

শিশুদের স্কুলে লটারির মাধ্যমে ভর্তির বিষয়টি ২০১০-১১ সালের পর আবার আলোচনায় এসেছে। ২০১১ সালে সমকালেই লিখেছিলাম ‘ভাগ্যই বিজয়ী হোক‘। এবার করোনার সময় যখন লটারির পরিধি বাড়ছে, অর্থাৎ এতদিন কেবল প্রথম শ্রেণিতেই ছিল, এখন নবম পর্যন্ত প্রতিটি শ্রেণিতে লটারি হলেও বিজয়টা করোনার নয় বরং ভাগ্যেরই। এ সিদ্ধান্তে স্বাভাবিকভাবেই অনেকে খুশি হয়েছেন, আবার অনেক অভিভাবকই মন খারাপ করেছেন। লটারি যেখানে ভাগ্যের বিষয়, সেখানে ‘প্রত্যাশিত’ প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে না পারার বেদনা কাউকে না কাউকে তো সইতে হবেই। প্রশ্ন হলো, প্রত্যাশিত প্রতিষ্ঠান কোনগুলো? তার আগে বলা দরকার, শিক্ষামন্ত্রী এ-বিষয়ক আলোচনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের অবতারণা করেছেন : ‘ক্যাচমেন্ট এরিয়া’ বা প্রতিষ্ঠানসংলগ্ন এলাকা। আমি মনে করি, প্রত্যাশিত প্রতিষ্ঠান আর ক্যাচমেন্ট এরিয়া- এই দুটি জটিলতা নিরসনের ওপরই বহুলাংশে নির্ভর করছে স্কুলে ভর্তি সমস্যার সমাধান।

প্রত্যাশিত প্রতিষ্ঠান মানে সবাই ভালো ফল অর্জনকারী নামিদামি প্রতিষ্ঠানই বুঝে থাকেন। ওই সব প্রতিষ্ঠানে সন্তানের ভর্তি অনেকের কাছে সামাজিকভাবে সম্মানেরও বিষয়। সেগুলোতে অভিভাবকরা হুমড়ি খেয়ে পড়েন। ১০ বছর আগেও যখন প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির মাধ্যমে পরীক্ষা নেওয়া হতো, আমরা তখন কী এক অসুস্থ প্রতিযোগিতা দেখেছিলাম। ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য শিশুর স্বাভাবিক খেলাধুলা বাদ দিয়ে বই-খাতা-কলম নিয়ে বসে থাকা আর টিউটর-কোচিং সেন্টারে দৌড়ঝাঁপ করতে হতো। এমনকি কোনো কোনো অভিভাবক অন্য প্রতিষ্ঠানে দ্বিতীয় বা তৃতীয় শ্রেণিতে উঠলেও সন্তান নামিদামি প্রতিষ্ঠানে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে সেখানে প্রথম শ্রেণিতেই ভর্তি করিয়ে দিতেন!

প্রথম শ্রেণির ভর্তিতে লটারির প্রচলন করায় অন্তত শিশুরা কিছুটা হলে স্বস্তি পেলেও তা থেকে একেবারে মুক্তি মেলেনি। কারণ দ্বিতীয় শ্রেণি থেকেই আবার সেই ভর্তি পরীক্ষা। Continue reading

শিশুর বিকাশ ও আমাদের ভবিষ্যৎ

এমন একসময় জাতিসংঘ ঘোষিত সর্বজনীন শিশু দিবস উপস্থিত, যখন শিশুদের নিয়ে নানা মন খারাপের ঘটনা চারদিকে দেখছি আমরা। ইন্টারনেটে শিশু পরিস্থিতি খুঁজতে গেলে সামনে আসবে—শিশুশ্রম, বাল্যবিয়ে, অপুষ্টি, শিশু নির্যাতন, শিশু অধিকার লঙ্ঘন ইত্যাদি। এর বাইরেও সিরিয়া, ফিলিস্তিন, মিয়ানমারসহ নানা দেশে বড়দের জিঘাংসার শিকার শিশুদের ভেবে আমরা শিউরে উঠি। আফ্রিকার কোনো কোনো দেশের হাড্ডিসার শিশুর চিত্র আমরা হতবাক হয়ে দেখি। বিশ্বব্যাপী এসব চিত্র হতাশ করে বটে, তার পরও আমরা আশার আলো দেখি, পৃথিবীব্যাপী নানামুখী উদ্যোগ আমাদের প্রেরণা জোগায়।

সর্বজনীন শিশু দিবসটি জাতিসংঘ ঘোষিত ১৯৫৯ সালের ‘শিশু অধিকার ঘোষণা’ ও ১৯৮৯ সালের ‘শিশু অধিকার কনভেনশন’ প্রণয়নের দিন তথা ২০ নভেম্বর বিশ্বব্যাপী পালিত হয়। বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন তারিখে শিশু দিবস পালন করা হয়। আমাদের দেশে ১৯৯৬ সাল থেকে  বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিনটিকে শিশু দিবস হিসেবে পালন করা হয়। আর অক্টোবরের প্রথম সোমবারকে ধরা হয় বিশ্ব শিশু দিবস। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জুনের ১ তারিখ শিশু দিবস। আর সর্বজনীন শিশু দিবস নভেম্বরের ২০ তারিখ।

তারিখ যেটাই হোক না কেন, সবারই কথা শিশুদের জন্য সুন্দর একটা আবাসন গড়ে তোলা। শিশুদের উপযোগী করে বিশ্বকে তৈরি করা। আর এসবই হচ্ছে বড়দের নৈতিক দায়িত্ব। অবশ্য শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরাপদ ‘নীল’ বিশ্ব গড়ার আহ্বান জানিয়ে এবারের দিবসটির প্রতিপাদ্য করা হয়েছে, ‘চিলড্রেন আর টেকিং ওভার অ্যান্ড টার্নি দ্য ওয়ার্ল্ড ব্লু।’ Continue reading

হর্স পাওয়ার

শক্তি পরিমাপের একক হর্স পাওয়ার বা অশ্বশক্তি। অশ্ব বা ঘোড়ার ক্ষমতা কীভাবে শক্তি পরিমাপের একক হলো, তা নিয়ে নানা মুনির নানা মত রয়েছে। সাধারণভাবে যেটা বলা হয়, ইংল্যান্ডে খনি থেকে কাঠের দুই সমান্তরাল লাইনের ওপর দিয়ে মানুষ কয়লা বোঝাই ওয়াগন টেনে নিয়ে যেত। পরে তাতে মানুষের বদলে জুড়ে দেওয়া হলো ঘোড়া। এতে কয়লা টানার গতি বাড়ল। গতি আরও বাড়াতে বাড়িয়ে দেওয়া হতো ঘোড়ার সংখ্যা। এক ঘোড়াকে বলা হলো ১ হর্স পাওয়ার বা ১ অশ্বশক্তি, ২ ঘোড়াকে ২ হর্স পাওয়ার। এভাবেই ঘোড়া থেকে তৈরি হলো হর্স পাওয়ার বা অশ্বশক্তির ধারণা। রোববার ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনের শিরোনামে সে ‘হর্স পাওয়ার’ অভিধাটি কৌতূহলের সৃষ্টি করে। বিশেষ করে প্রসঙ্গ যখন শিশু। হর্স পাওয়ার :গিভিং কিডস দ্য রাইড অব দেয়ার লাইফ। অশ্বশক্তি কীভাবে শিশুদের জীবনকে গতি দিচ্ছে, সেটিই প্রতিবেদনটির আলোচ্য বিষয়। ইংল্যান্ডের দক্ষিণ লন্ডনের ব্রিক্সটন সেখানকার পিছিয়ে পড়া এলাকা। ব্রিক্সটনে রয়েছে ‘এবোনি হর্স ক্লাব’। এ ক্লাবের উদ্দেশ্য হলো, ঘোড়ায় চড়ার মাধ্যমে শিশু ও তরুণদের মাঝে শিক্ষা ও প্রত্যাশার আলো জ্বালানো। পিছিয়ে পড়া এলাকাটিতে মানুষের মাঝে রয়েছে কুসংস্কার আর হতাশা, যে কারণে সেখানে বেকারত্বের হারও অস্বাভাবিক। এ পিছিয়ে পড়াদের এগিয়ে নিতেই কাজ করছে ঘোড়ার ক্লাবটি। সেখানে কেবল ঘোড়াতেই চড়ানো হয় না বরং তাদেরকে জীবন ইতিবাচক ধারণা দিয়ে সামাজিক কুসংস্কারমুক্ত করা হয়। ঘোড়ায় চড়ার মাধ্যমে সেখানে জীবন নতুন অভিজ্ঞতা দেওয়া হয়; তেমনি ঘোড়ার সংস্পর্শে এসে অশ্বশক্তি বলীয়ান হয়ে জীবনের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জোগায় ক্লাবটি। গার্ডিয়ানের হর্স পাওয়ার লেখার রহস্য আসলে এখানেই। প্রতিবেদনসূত্রে ক্লাবটির ওয়েবসাইটে গিয়েও তার পরিচয় পাওয়া গেল। ক্লাবটির কার্যক্রমে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে, স্কুল-কলেজ ফেরত অনেকে উৎসাহিত হয়ে স্কুল-কলেজ তথা পড়াশোনায় যোগ দিয়েছে। অনেকে সুন্দর ক্যারিয়ার গড়তে উৎসাহিত হচ্ছে। Continue reading

রোহিঙ্গাদের জন্য আশার বাণী নেই !

একটি সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ জীবন তো রোহিঙ্গা শিশুদেরও প্রাপ্য

বিশ্বের সবচেয়ে বড় শরণার্থী বসতি কক্সবাজার। মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এ জেলায় গত বছর প্রথম সফরে আসি। তখন একটি বাঁশের সাঁকো দিয়ে পার হই, যেটি শরণার্থীরা তৈরি করেছে। এ সাঁকো কয়েক দশক ধরে মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের পূর্ববর্তী শরণার্থী শিবিরের সঙ্গে নতুন ক্যাম্পের সংযোগ স্থাপন করেছে। সাঁকোটি এখানে শরণার্থীদের যোগাযোগের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ পথ দিয়ে শরণার্থীদের ঘর তৈরির সামগ্রী, কম্বল, সোলার বাতি ইত্যাদি বিতরণ কেন্দ্র থেকে পুরনো শিবির হতে নতুন শিবিরে আনা-নেওয়া হচ্ছে। সাঁকোর নিচের পানিপ্রবাহ বৃষ্টি হলে যেন নদীতে পরিণত হয়। শরণার্থীরা প্রথম সে স্থানটি সাঁতরে পার হতো। পরে পানির ওপরে বাঁশ দিয়ে এ ব্যবস্থা তৈরি। এখন সেখানে তিনটি সাঁকো।

মিয়ানমারের রাখাইন থেকে বাংলাদেশে নতুন রোহিঙ্গা শরণার্থী স্রোত আসা শুরু হয় গত বছরের আগস্ট থেকে। তাতে সাত লাখ ২০ হাজারের অধিক রোহিঙ্গা আসে।

২০ জুন বিশ্ব শরণার্থী দিবসটি রোহিঙ্গাদের মতো শরণার্থীদের দুর্দশার কথা কেবল স্মরণ করেই উদযাপন নয়, বরং আমাদের উচিত, তাদের সংকটের সমাধানেও এগিয়ে আসা। আমরা যদি রোহিঙ্গাদের অন্য জীবন দেখি, সেখানে আমি অনেকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করি, তাদের কারও কারও এমনকি প্রকৌশলীর গুণও রয়েছে। তাদের যদি প্রয়োজনীয় সামগ্রী দেওয়া হয়, তারা যে কোনো কিছু তৈরি করে দিতে সক্ষম। সর্বাগ্রে সাঁকো নির্মাণে তাদের সহযোগিতা করা উচিত। Continue reading

বায়ুদূষণ রোধে স্কুলে ফেস মাস্ক

শিশুর ফুসফুসের ‘কার্যকারিতা কমাচ্ছে’ ঢাকার বায়ুদূষণ

ঢাকার মতো শহরে যাদের বাস তারা কি প্রাণভরে শ্বাস নিতে পারেন? বায়ুদূষণে যে শহরের মানুষ বিপর্যস্ত। শিশুরা বিপর্যস্ত। প্রতিবেদন বলছে, বায়ুদূষণের দিক থেকে এশিয়ার দ্বিতীয় শহর ঢাকা। সেখানে আমরা কীভাবে শ্বাস নেব? অথচ এ দূষণ থেকে বাঁচতে পদক্ষেপ যৎসামান্য। শিশুদের বাঁচাতেও আমরা নির্বিকার। এ ব্যাপারে অন্তত খোঁজ নেওয়া যায় অন্যরা কী করছে। উন্নত বিশ্বে যেখানে বায়ুদূষণ বেশি, সেখানে তারা কী ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছে। এ ক্ষেত্রে ইংল্যান্ডের স্কুলের একটি পদক্ষেপ আমাদের জন্য প্রাসঙ্গিক। ৩১ মার্চ বিবিসির একটি প্রতিবেদন দেখাচ্ছে, বায়ুদূষণ থেকে বাঁচতে লন্ডনের একটি প্রাইমারি স্কুল অভিভাবকদের তাদের সন্তানের জন্য ফেস মাস্ক কিনতে বলেছে। সেখানকার হিসাব বলছে, লন্ডনের প্রায় ৪৫০টি স্কুল বায়ুদূষণ অনিরাপদ অবস্থায় পেঁৗছেছে। শিক্ষার্থীদের বায়ুদূষণ থেকে নিরাপদ করতে পাইলট প্রকল্প হিসেবে স্কুল কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের ফেস মাস্ক ব্যবহার করার নির্দেশনা দেয়। এ নির্দেশনা বাস্তবায়নে স্কুলগুলো অভিভাবকদের ডেকে বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে বায়ুদূষণের ক্ষতিকর প্রভাব ও ফেস মাস্ক ব্যবহারের গুরুত্ব নিয়ে বিশেষ বক্তৃতা প্রদান করবে। এমনকি স্কুলগুলো বায়ুদূষণের ব্যাপারে মেয়র অফিসের সঙ্গে কাজ করবে বলেও বলছে প্রতিবেদনটি। Continue reading

নীরব ছবি, সরব উপস্থিতি

ওমরান নির্বিকার। কিন্তু তার ছবি সরব হয়ে ঘুরছে দেশে দেশে, অন্তর্জ্বালে নানা মানুষের টাইমলাইনে

ওমরান নির্বিকার। কিন্তু তার ছবি সরব হয়ে ঘুরছে দেশে দেশে, অন্তর্জ্বালে নানা মানুষের টাইমলাইনে

শান্ত জিনিসই বুঝি মানুষকে বেশি নাড়া দেয়; সমুদ্রতীরে পড়ে থাকা আইলান কুর্দির নিথর দেহ নাড়া দিয়েছিল বিশ্বকে। এখন নাড়া দিয়েছে নিস্তব্ধ ওমরান দাকনিশের ছবিটি। পাঁচ বছরের শিশু ওমরান একটি অ্যাম্বুলেন্সে বসে আছে। মাথা বেয়ে রক্ত পড়ছে। ধূলি-ধূসরিত গা। মুখের ওপর রক্ত জমাট বাঁধা। ওমরান নির্বিকার। কিন্তু তার ছবি সরব হয়ে ঘুরছে দেশে দেশে, অন্তর্জ্বালে নানা মানুষের টাইমলাইনে।
ওমরান যে যুদ্ধকবলিত সিরিয়ার শিশু, ছবিই সে প্রমাণ দিচ্ছে। সেখানকার আলেপ্পো শহরে তাদের বাস। বুধবার (১৭ আগস্ট) বিমান হামলায় তাদের বাসরত বাড়ি বিধ্বস্ত হয়। ধ্বংসস্তূপ থেকে ওমরানকে উদ্ধার করে বসানো হয় অ্যাম্বুলেন্সের চেয়ারে। সে ঘটনায় ওমরানের প্রায় পুরো পরিবার আহত হয়। এমনকি আহত হওয়া ওমরানের বড় ভাই আলির মৃত্যু হয় শনিবার। আলিও শিশু, ওমরানের চেয়ে মাত্র পাঁচ বছরের বড়। Continue reading

বইয়ের আশ্রয়ের খোঁজে!

Bookকখনও কখনও পত্রিকার সংবাদের চেয়ে সংবাদসংশ্লিষ্ট ছবি হৃদয়গ্রাহী হয়। পড়ার চেয়ে চোখে দেখে ঘটনার বাস্তবতা বোঝা সহজ হয়। সোমবার সমকালের লোকালয়ে প্রকাশিত সংবাদসংশ্লিষ্ট এই ছবি তার প্রমাণ। ছবিটি দেখাচ্ছে, একটি শিশু বুকসমেত পানি ডিঙিয়ে যাচ্ছে, তার হাতে বই। পানি বুকের ওপর উঠলেও বই ভিজতে দেয়নি। দুই হাতে বই উঁচিয়ে ধরে আছে শিশুটি।
বগুড়ায় যমুনা নদীর পানি বাড়ায় সেখানকার সারিয়াকান্দির নতুন এলাকা প্লাবিত হয়ে গেছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে সেখানকার মানুষ। পানি যেমন মানুষের বসতবাড়িতে উঠেছে, স্বাভাবিকভাবেই সেখানকার বিদ্যালয়ও রক্ষা পায়নি। ফলে প্রশাসন সেখানে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে এক সপ্তাহের জন্য। কিছু বিদ্যালয়ের ক্লাস কাছাকাছি বাঁধের ধারে নিয়ে আসা হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম। চারদিকে পথঘাট ডুবে যাওয়ায় তাদের পক্ষে ক্লাস করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। কোনো কোনো বিদ্যালয়ে অবশ্য পানি ওঠেনি, সেখানে আশ্রয় নিয়েছে পানিবন্দি অনেক পরিবার। ছবিটি সে এলাকার। ক্যাপশন বলছে, ঘরে পানি ওঠায় শিশুটির বই ভিজে গেছে। বইয়ের আর ক্ষতি যাতে না হয় তাই সেগুলো দুই হাত উঁচিয়ে ধরে কোনো নিরাপদ আশ্রয়ে যাচ্ছে। Continue reading

পাঠ্যসূচিতে সাঁতার

Children_swimming_in_Bangladeshসাঁতার কাটা কেবল ভালো ব্যায়ামই নয় নিরাপত্তার জন্যও এটি আবশ্যক। সাঁতারের জন্য প্রয়োজন পানির আঁধার, বিশেষ করে নদী-নালা, খাল-বিল, পুকুর-দীঘি কিংবা সুইমিংপুলের। গ্রামের মানুষের জন্য এদের অধিকাংশই পাওয়া সহজ। গ্রামের প্রতিটি বাড়িতেই পুকুর থাকে। কোথাও কোথাও থাকে দীঘি। অনেক গ্রামের পাশে আবার নদীও রয়েছে। যেখানে সবাই গোসলসহ গৃহস্থালির সব কাজকর্ম সম্পাদন করেন। ফলে গ্রামে বেড়ে ওঠা প্রায় প্রতিটি শিশুর ছোটবেলা থেকেই পানির সঙ্গে সখ্য গড়ে ওঠে এবং অনেকে দ্রুত সাঁতারও শেখে। শহরের চিত্র অবশ্য ভিন্ন। সেখানে সাঁতার কাটার মতো অবস্থা নেই। শহরের মানুষের সামর্থ্য অনুযায়ী সুইমিংপুলও পর্যাপ্ত নয়। স্কুলগুলোতে তো সুইমিংপুলের কথা চিন্তাও করা যায় না। সেখানে শিশুরা সাঁতার শিখবে কীভাবে! এ বিষয়ে আমাদের কারিকুলামে যে জোর দেওয়া প্রয়োজন তা-ও নেই। বিশেষ গবেষণা তো দূরের কথা। ইংল্যান্ডে এ রকম এক গবেষণার কথাই বলছে সে দেশের সংবাদপত্র গার্ডিয়ান। Continue reading

চিকিৎসার চেয়ে প্রতিকার উত্তম

Hand washingমানুষের অত্যাবশ্যকীয় প্রায় সব কাজে হাতের ব্যবহার অপরিহার্য। বাঁচার জন্য যে খাবার আমরা গ্রহণ করি তা মুখে তুলে দেয় হাত। এ হাত সর্বাবস্থায় খোলা থাকে, যা দিয়ে সবসময় নানা জিনিস আমরা স্পর্শ করি। হাতে যে কোনো জীবাণু লেগে থাকা স্বাভাবিক। ফলে কোনো খাদ্য গ্রহণের পূর্বে হাত ধোয়া আবশ্যক। অন্যথায় হাতে লেগে থাকা জীবাণু পেটে গিয়ে যে কারও নানা ধরনের রোগ হয়ে যেতে পারে। হাত ধোয়ার গুরুত্বের উপলব্ধি থেকেই বিশ্বব্যাপী পালিত হয় বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস। সুইডেনের স্টকহোমে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার জোট ‘পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ ফর হ্যান্ডওয়াশিং’ সর্বপ্রথম ২০০৮ সালের ১৫ অক্টোবর দিবসটি পালন করে। দিবসটির অফিসিয়াল ওয়েবসাইট গ্গ্নোবাল হ্যান্ড ওয়াশিং ডট ওআরজি বলছে, বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস মূলত শিশু ও স্কুলের জন্য করা হয়েছে। তবে যে কেউ হাত ধোয়ার প্রতি গুরুত্ব দিয়ে এটি পালন করতে পারে। ওয়েবসাইটটি আরও বলছে, প্রতি বছর ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় বিশ্বব্যাপী, বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশের ১৭ লাখ শিশু মারা যায়, যাদের বয়স ৫ বছরেরও কম। সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাসই এ মৃত্যুর হার দ্রুত কমাতে পারে। Continue reading

স্কুলের পথে

Dhaka-traffic-jamস্কুলপড়ূয়া শিশুদের নিয়ে অভিভাবকদের চিন্তা অন্তহীন। সকালে সন্তানকে ঘুম থেকে উঠিয়ে, প্রস্তুত করে, খাইয়ে স্কুলে পেঁৗছানো পর্যন্ত সব কাজ তাদের করতে হয়। গ্রামে শিশুকে স্কুলে পেঁৗছানোর টেনশন খুব একটা না থাকলেও শহরে এ চিন্তা প্রায় সব পরিবারেই উদ্বেগের। সামর্থ্যানুযায়ী অভিভাবকরা সন্তানদের স্কুলে পেঁৗছে দিতে নিজস্ব গাড়ি, বাস, রিকশা, স্কুল পরিবহন কিংবা সিএনজি ব্যবহার করেন। পরিবহন যে যাই ব্যবহার করুক এর সঙ্গে সবাইকে যানজটের বিষয়টা অতিরিক্ত মাথায় রাখতে হয়। অন্তত ঢাকা শহরের জন্য এ যে অনিবার্য সত্য। ঢাকার যানজটের কথা কারও অজানা নয়। কোথাও জ্যাম লেগে গেলে কতক্ষণ বসে থাকতে হয় তা বলাই বাহুল্য। এ নিয়ে কোনো গবেষণা হয়েছে কিনা জানা নেই। তবে এ সংক্রান্ত ইংল্যান্ডের এক গবেষণার খবর আমাদের জন্য প্রাসঙ্গিক। ৩ সেপ্টেম্বর গার্ডিয়ানে প্রকাশিত প্রতিবেদনটির শিরোনাম Continue reading