Tag Archives: শিক্ষা

‘নিউ নরমাল’ ভুবনে ‘প্রমোশন’ ভ্রান্তি?

দেশে করোনায় সীমিত পর্যায় থেকে ধীরে ধীরে সর্বত্র অনেকটা স্বাভাবিক অবস্থা বিরাজ করছে।

উচ্চ মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষায় ‘অটো পাসে’র পর সরকার অন্যান্য ক্ষেত্রেও বার্ষিক পরীক্ষা ছাড়াই পরবর্তী শ্রেণিতে ‘প্রমোশনে’র চিন্তা করছে বলে সংবাদমাধ্যমের তরফে আমরা জানছি। অবশ্য পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত কাঙ্ক্ষিতই ছিল। আগস্টের শেষ সপ্তাহে সিদ্ধান্ত হয়- এ দুটি ‘পাবলিক’ পরীক্ষার বদলে শিক্ষার্থীরা স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠানে বার্ষিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে। এখন সেই বার্ষিক পরীক্ষাই যদি না হয়, তবে তাদের মূল্যায়ন হবে কীভাবে?

করোনা পরিস্থিতি আমাদের অজানা নয়। এ দুর্যোগের কারণে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মার্চ মাসের মাঝামাঝি থেকে বন্ধ রয়েছে। মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে মে মাসের শেষ দিন পর্যন্ত সাধারণ ছুটিতে দেশে লকডাউনের মতো পরিস্থিতি ছিল। এরপর সীমিত পর্যায় থেকে ধীরে ধীরে সর্বত্র অনেকটা স্বাভাবিক অবস্থা বিরাজ করছে। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি দফায় দফায় বাড়িয়ে সর্বশেষ ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়। যদিও করোনা সে অর্থে নিয়ন্ত্রণে আসেনি, তার পরও ‘নিউ নরমাল’ তথা নতুন স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে সবই যখন চলছে, তখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কেন বন্ধ থাকছে- এ প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে আমরা দেখেছি, অনেক দেশেই প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলেছে। Continue reading

প্রকল্প ও দিবসনির্ভর সাক্ষরতা

করোনাদুর্যোগের মধ্যেই এবারের সাক্ষরতা দিবসের তাৎপর্য বহুমুখী। জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা ইউনেস্কোও বিষয়টি ধরে দিবসটির প্রতিপাদ্য করেছে- ‘কভিড-১৯ সংকট :সাক্ষরতা শিক্ষায় পরিবর্তনশীল শিখন-শেখানো কৌশল এবং শিক্ষাবিদদের ভূমিকা’। অর্থাৎ করোনার নতুন পরিস্থিতিতে সাক্ষরতা শিক্ষায়ও পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবী। এ ক্ষেত্রে মূল ভূমিকা রাখবেন শিক্ষক বা শিক্ষাবিদরা। বলাবাহুল্য, দেশে সাক্ষরতার যতটুকু অর্জন, সেখানে শিক্ষকরাই মুখ্য ভূমিকা পালন করে এসেছেন। আর সাক্ষরতার হার বাড়াতে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার অবদানই বেশি। রোববার সাক্ষরতা দিবসের সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, দেশে সাক্ষরতার হার ৭৪.৭ শতাংশ। গত এক বছরে সাক্ষরতার হার বেড়েছে শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ। সাক্ষরতার হার নিয়ে বেসরকারি তথ্যে অমিল থাকলেও সরকারি হিসাব অনুযায়ীই চার ভাগের এক ভাগ মানুষ এখনও নিরক্ষর।

অথচ সরকার ২০১৪ সালের মধ্যে শতভাগ সাক্ষরতা অর্জনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এরপর অর্ধযুগ পার হলেও আমরা শতভাগের কাছে যেতে পরিনি। এখানে ব্যর্থতা প্রকল্পের। সাক্ষরতা সংক্রান্ত দুটি বড় প্রকল্পের পরিকল্পনা করা হলেও সেগুলো যথাসময়ে বাস্তবায়ন হয়নি বলেই আমরা পিছিয়ে পড়েছি। অবশ্য সাক্ষরতার যেসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে, সেগুলোর ফলও সন্তোষজনক নয়। ১৫ থেকে ৪৫ বছর বয়সী প্রায় সাড়ে তিন কোটি মানুষকে সাক্ষর করতে ২০১৪ সালে ৪৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে নেওয়া চলমান ‘মৌলিক সাক্ষরতা প্রকল্পের (৬৪ জেলা)’ ফলও হতাশাজনক। ৩ সেপ্টেম্বর সমকালে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসেছে, চার বছরের এই প্রকল্প দুই দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে ছয় বছর করলেও সাক্ষরতা বৃদ্ধিতে বিশেষ কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি বলে সংসদীয় কমিটি ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ একে ‘ব্যর্থ’ প্রকল্প হিসেবে চিহ্নিত করেছে। সংসদীয় কমিটি প্রকল্পটির মেয়াদ আর না বাড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন নেওয়ার পরামর্শ দিলেও মুজিববর্ষের কথা বলে প্রকল্পের মেয়াদ তৃতীয় দফায় ২০২১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। দেখার বিষয়, এই প্রকল্প আর কতদূর যায়। Continue reading

শিক্ষায় বড় তিন পরিবর্তন- তিনটি ছোট প্রশ্ন

তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পরীক্ষা নেই, পঞ্চম শ্রেণিতে সমাপনী কেন

শিক্ষাব্যবস্থায় ‘ব্যাপক’ পরিবর্তন আসছে বলে আমরা সম্প্রতি সংবাদমাধ্যম থেকে জানছি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তন প্রয়োজন। তবে পরিবর্তন যেমন ইতিবাচক ফল বয়ে আনতে পারে, তেমনি নেতিবাচকও হতে পারে। পরিবর্তন যাতে ইতিবাচক হয় সেটাই কাম্য। সে প্রত্যাশায় আমাদের প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা- প্রতিটি স্তরেই যে বড় পরিবর্তন আসছে, তা নিয়ে আমি আগাম তিনটি ছোট প্রশ্ন রাখতে চাই।

তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পরীক্ষা নেই, পঞ্চম শ্রেণিতে সমাপনী কেন : শিক্ষাব্যবস্থায় যে পরিবর্তনের কথা আমরা শুনছি, এর মধ্যে সবচেয়ে যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত হবে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পরীক্ষা উঠিয়ে দেওয়া। শিশুদের সুন্দর, সুষম ও সৌহার্দ্যপূর্ণ বিকাশে এটি সত্যিই জরুরি। পরীক্ষা তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে আমরা ধন্যবাদ জানাই। ছোটবেলা থেকেই যেভাবে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার চাপে পিষ্ট, যেভাবে শিশু ও অভিভাবকের মধ্যে পরীক্ষায় ‘ভালো ফল’-এর জন্য অসুস্থ প্রতিযোগিতা চালু রয়েছে; যেভাবে শিশুরা কোচিং-প্রাইভেট টিউটরের কাছে ধর্ণা দিচ্ছে, তা থেকে নিস্কৃতি পেতে পরীক্ষা বাদ দেওয়ার কোনো বিকল্প নেই। সিঙ্গাপুর ও ফিনল্যান্ডের মতো শিশুদের পরীক্ষা উঠিয়ে দিয়ে আনন্দদায়ক পরিবেশে শিক্ষার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। এটা হয়তো ঠিক; সিঙ্গাপুর-ফিনল্যান্ডের মতো পরিবেশ-পরিস্থতি আমাদের নেই। আমরা জানি, ফিনল্যান্ডে শিশুদের ১৬ বছর পর্যন্ত কোনো পরীক্ষাই নেই। আমরা তাদেরটা পুরোপুরি না হোক, কিছু তো অনুসরণ করতে পারি। তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পরীক্ষা উঠিয়ে দেওয়া যতটা উপকারী; পঞ্চম শ্রেণির সমাপনী ততটাই অপকারী। Continue reading

পরীক্ষার ফ্রেমে আবদ্ধ শিক্ষার মান!

শিক্ষায় মান গেল বলে আমাদের চিন্তার অন্ত নেই। মানসম্পন্ন কিংবা গুণগত শিক্ষা আমরা খুঁজছি। শনিবার (২২ জুন ২০১৯) সমকালের একটি প্রতিবেদন তার অন্যতম প্রমাণ। যার শিরোনাম- স্কুল-কলেজ হাজার হাজার, মান কই। মান নিয়ে প্রশ্ন, কিন্তু মানটা আসলে কী? মানের অবয়ব নেই, একে ধরাছোঁয়া যায় না। অথচ আমরা সেটাকে ধরতে চাইছি, কিছু সংখ্যা দিয়ে পরিমাপ করছি। একটা প্রতিষ্ঠান থেকে বেশি জিপিএ ৫ পেল। আমরা ধরেই নিই, প্রতিষ্ঠানটির বুঝি মান খুব বেড়ে গেল। কিংবা কোনো শিক্ষার্থী ভালো রেজাল্ট করলে আমরা ভাবি, শিক্ষার্থীর মান ভালো। কিন্তু আমাদের ভাবনায় ছেদ পড়ে, যখন জিপিএ ৫ পাওয়া শিক্ষার্থী সাধারণ বিষয়টিও বুঝতে অক্ষম। আমরা সেটা টের পেয়ে ছি ছি করি। আমাদের পরীক্ষা পদ্ধতিতেই গলদ রয়েছে, সেটা অনেকেই বলেছেন। ড. মোহাম্মদ মনিনুর রশিদ সমকালেই (৮ মে ২০১৯) তার ‘শিক্ষায় মূল্যায়ন ব্যবস্থা এবং গুণগত মান’ শিরোনামের লেখায়ও তা তুলে ধরেছেন। আবার মান যে কেবল পরীক্ষার ওপরই নির্ভরশীল নয়, সেটাও বুঝতে হবে।

মানের বিষয়টি যখন আমরা পরীক্ষার ফ্রেমে আবদ্ধ করে ফেলেছি, তখন পরীক্ষাই হয়ে উঠল শিক্ষার একমাত্র ধ্যানজ্ঞান। শিক্ষকরা শেখান পরীক্ষায় পাসের জন্য; শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে কেবল পরীক্ষায় ভালো ফলের জন্য। এর সঙ্গে যুক্ত হলো কোচিং সেন্টারের টেকনিক, যুক্ত হলো নোট-গাইড। প্রশ্ন পদ্ধতি সৃজনশীল হলো, নোট-গাইডও সৃজনশীল হয়ে উঠল। এভাবেই জয় হলো পরীক্ষার। বাড়ল পরীক্ষা। প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে পাবলিক পরীক্ষা শুরু হলো। পরীক্ষায় পাসের হার কিংবা জিপিএ ৫- সংখ্যায় সবারই উন্নতি ঘটল। রইল বাকি- মান।

তাহলে মানটা কী? Continue reading

অদম্য

পা দিয়ে লিখে জিপিএ ফাইভ

এসএসসির ফল বেরোলো রোববার (৬ মে ২০১৮)। এ নিয়ে সোমবারের সংবাদপত্র যতটা সরব ছিল, মঙ্গলবার ততটা দেখা যায়নি। সম্পাদকীয়, একাদশ শ্রেণির ভর্তি ও অন্যান্য সংবাদ প্রকাশ হলেও আগের মতো অদম্য মেধাবীদের নিয়ে তেমন খবর চোখে পড়েনি। নানা প্রতিবন্ধকতা জয় করে যারা জীবনের অন্যতম পর্যায় এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়, ভালো ফল করে, তাদের গল্প সংবাদপত্রে আগে কয়েক দিন ধরে প্রকাশ হতো। এখন তা কমে গেছে। তার পরও অনেকের খবর আসছে, অনলাইনে নানা মাধ্যমেও আমরা তাদের গল্প জানছি। পা দিয়ে লিখে জিপিএ ৫, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধিতা জয় করে উত্তীর্ণ, দারিদ্র্য জয় করে ভালো ফল, মা-ছেলে একসঙ্গে পাস- এমন শারীরিক, আর্থিক ও বয়সের প্রতিবন্ধকতা জয় করে উত্তীর্ণ হওয়ার খবর আমাদের প্রেরণা জোগায়।

অদম্য মেধাবীরা শত প্রতিবন্ধকতা জয় করে যখন একটা ধাপ অগ্রসর হয়, যখন তাদের উত্তীর্ণ হওয়ার সংবাদে আমরা আশান্বিত হই, তখনই হয়তো তারা কিংবা তাদের অভিভাবকরা শঙ্কিত হন তাদের পরবর্তী পড়াশোনার কথা ভেবে। মাধ্যমিক পেরোনোর পর স্বাভাবিকভাবেই উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে ভর্তি ও পড়াশোনার চিন্তা থাকে সবার মধ্যে। অভিভাবকের দারিদ্র্য, নিজের শারীরিক সীমাবদ্ধতা ইত্যাদির মধ্যে সংগ্রাম করে যখন কেউ পাস করে, তখন পরবর্তী পড়াশোনা নিয়ে কেউ কেউ অনিশ্চয়তায় থাকে। তাদের গল্পগুলো সংবাদমাধ্যমে এলে হয়তো কেউ এগিয়ে আসেন। কারও পড়াশোনার দায়িত্ব নেন কিংবা পড়াশোনা এগিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় সহায়তা করেন।

এভাবে পড়াশোনা করে অনেকেই আজ প্রতিষ্ঠিত। Continue reading

‍সাক্ষরতায় ‌‘আজিবাইচিঁ শালা’

ভারতের মহারাষ্ট্রে অবস্থিত দাদি-নানিদের জন্য স্কুল ‘আজিবাইচিঁ শালা’

শিক্ষার বয়স নেই। শিশুও প্রকৃতি থেকে শেখে। তবে শিশুর আনুষ্ঠানিক পড়াশোনার বয়স আছে বটে। জার্মানিতে তো শিশুদের ৬ বছরের আগে বিদ্যালয়ে যাওয়াই নিষেধ। আমাদের এখানে অবশ্য অনেকে ৩ বছর থেকেই শিশুদের স্কুলে পাঠানো শুরু করেন। শিশুর ব্যাগও ভারী হয় তখন থেকেই। তা বন্ধে আদালতের রায়ও রয়েছে। সে ভিন্ন প্রসঙ্গ। তবে এটা ঠিক, আনুষ্ঠানিক পড়াশোনা যেন একটা বয়সের ফ্রেমে আবদ্ধ। ছোটবেলায় যারা শিক্ষা থেকে ঝরে পড়ে, পরবর্তীকালে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও অনেকে পড়াশোনায় ফিরতে পারে না। হয়তো বয়সে বাধা জয় করতে লজ্জা পায়। পারিপার্শ্বিক নানা কারণও থাকতে পারে। তার পরও মাঝে মধ্যে আমরা দেখি ‘বাবা-ছেলে এসএসসি পরীক্ষার্থী’। কিংবা এ রকম বেশি বয়সে পড়ার প্রেরণাদায়ী নানা খবর সংবাদমাধ্যমের কল্যাণে আমাদের কাছে আসে। প্রাসঙ্গিকভাবে ৮ মার্চ এবারের নারী দিবসে বিবিসির ‘মিট দ্য গ্র্যানি’স গোয়িং টু স্কুল’ শিরোনামের প্রতিবেদনটি প্রণিধানযোগ্য। সেখানে ভারতের দাদি-নানিদের একটি স্কুলের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।
স্কুলটি দাদি-নানিদের জন্যই বটে। ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্য, যেখানে নারীরা তুলনামূলক শিক্ষার সুযোগ কম পান। পরিসংখ্যান বলছে, সেখানে পুরুষ-নারীর সাক্ষরতার হার ৩ অনুপাত ১। সেখানেই এবারের নারী দিবসে স্কুলটির বয়স হয়েছে ১ বছর। মহারাষ্ট্রের ছোট একটি গ্রাম ফাংগানের দাদি-নানিদের স্কুলে ৯০ বছরের বৃদ্ধাও রয়েছেন। ‘আজিবাইচিঁ শালা’ নামের এ স্কুলটির মোট শিক্ষার্থী ২৯ জন নারী, যাদের বয়স ৬০-৯০ বছর। বয়সের কারণে অনেকে ঠিকমতো অক্ষরও দেখেন না। Continue reading

শিক্ষকদের সৃজনশীল হওয়ার পথ কেন রুদ্ধ

শিক্ষকদের যখন আন্দোলনে মাঠে থাকতে হয় তখন সৃজনশীল নিয়ে আলাদা সময় বের করার ফুরসত কোথায়?

শিক্ষকদের যখন আন্দোলনে মাঠে থাকতে হয় তখন সৃজনশীল নিয়ে আলাদা সময় বের করার ফুরসত কোথায়?

শিরোনামের প্রশ্নটি লেখকের মতো হয়তো অনেকেরই। বিশেষ করে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে যখন উঠে এসেছে, দেশের প্রায় ৪১ শতাংশ মাধ্যমিক বিদ্যালয় সৃজনশীল পদ্ধতির প্রশ্নপত্র তৈরি করতে পারে না, তখন স্বাভাবিকভাবেই শিক্ষকদের ব্যর্থতা সামনে আসছে। বাস্তবে শিক্ষকদের এ ব্যর্থতার পেছনে যে কিছু কারণ রয়েছে, যেগুলো সত্যিকার অর্থে শিক্ষকদের সৃজনশীল হতে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে, তা দেখার বিষয়।
বলা প্রয়োজন, গতানুগতিক ধারা থেকে বেরিয়ে এসে শিক্ষায় নতুন পদ্ধতি চালুর দাবি ছিল অনেক দিনের। বিশেষ করে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার ঘাড়ে যখন কোচিং-নোট-গাইডের মতো ছায়া শিক্ষা চেপে বসছিল, তখন দেশের শিক্ষাবিদদের সহযোগিতায় সরকার চালু করে সৃজনশীল পদ্ধতি। এ পদ্ধতি চালু হওয়ার সময় প্রত্যাশা করা হয়েছিল, দেশ থেকে কোচিং-নোট-গাইড উচ্ছেদ হবে, মুখস্থবিদ্যার বাইরে শিক্ষক-শিক্ষার্থী সৃজনশীল হবে, শিক্ষাব্যবস্থার মানোন্নয়ন ঘটবে। যদিও ২০০৮ সালে চালু হওয়া সৃজনশীল পদ্ধতির আজকের বাস্তবতা সংশ্লিষ্টদের অজানা নয়। কোচিং-নোট-গাইডও সৃজনশীল (!) হয়ে দিব্যি চলছে। কাগজে-কলমে খোদ প্রশাসনের প্রতিবেদনেও তার দুরবস্থার চিত্র সংবাদমাধ্যমে এসেছে। Continue reading

অভিবাসীদের আচরণ গেলানো!

finland-migrants

গত বছর ১০ লাখেরও বেশি মানুষ ইউরোপে পাড়ি জমিয়েছে। ফিনল্যান্ডে গেছে ৩২ হাজারেরও বেশি

শিক্ষা মানে আচরণের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন। শিক্ষিত ব্যক্তি মার্জিত ও বাঞ্ছিত আচরণের অধিকারী। কোথায় কী করতে হবে, বলতে হবে, কীভাবে চলতে হবে, ব্যক্তি সে কাণ্ডজ্ঞান শিক্ষার বদৌলতে অর্জন করেন। তারপরও কথা থাকে। মানুষ যে সমাজে বাস করে সেখানকার আচরণ এক রকম; অন্য দেশের আচরণ-মূল্যবোধ আবার আরেক রকম। আরেক সমাজে গেলে সে অনুযায়ী তাকে চলতে হয়। এখানে অনেকের ভুল হওয়া স্বাভাবিক। ফিনল্যান্ড হয়তো এ জন্যই অভিবাসীদের ‘আচরণ’ শেখাচ্ছে। শুক্রবার বিবিসি ম্যাগাজিনে প্রকাশিত ‘টিচিং মাইগ্র্যান্টস হাউ টু বিহেভ’ প্রতিবেদন সে কথাই বলছে।
মানুষ নানা কারণে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গা, এক দেশ থেকে আরেক দেশ, এক মহাদেশ থেকে আরেক মহাদেশে যায়। গতিশীল মানুষ যেমন ভ্রমণপ্রিয় তেমনি নতুন নতুন অভিজ্ঞতা লাভে আগ্রহী। কাজের ক্ষেত্রেও বৈচিত্র্য খোঁজেন অনেকে। ঘুরে বেড়ান দেশে-বিদেশে। কাজ, পড়াশোনা, ভ্রমণ ইত্যাদির বাইরেও মানুষ বাধ্য হয়ে আশ্রয়ের খোঁজে অন্য দেশে যান। Continue reading

জন্মদিনের শুভেচ্ছা!

flower-birthdayখ্যাতিমান কিংবা নিকটজন ছাড়া অন্যদের জন্মদিনের খবর মানুষ সাধারণত রাখে না। সংবাদমাধ্যমসহ নানাভাবে তাদের জন্মতারিখ জানা সম্ভব। এর বাইরে অন্যদের জন্মদিনের বিষয়টি জানা ততটা সহজ নয়। অবশ্য এখনকার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সেটা সহজ করেছে। বিশেষত ফেসবুকের কল্যাণে এখন সহজেই একজন আরেকজনের জন্মতারিখ জেনে নিতে পারছেন। সে সূত্র ধরেই লেখাটির অবতারণা। নতুন বছরের ১১তম দিন চলছে। এ বছরের শুরুর দিন এবং গত বছরের শেষ দিনে যারা ফেসবুকে সক্রিয় ছিলেন তাদের হয়তো অনেকেরই অভিজ্ঞতা হয়েছে, আপনার উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বন্ধুর জন্মদিন ছিল এ দুটি দিনে। হয়তো ফেসবুকে লেখা আপনার জন্মদিনটিও এ দু’দিনের একদিনেই পড়েছে। দেখা গেছে, এ দু’দিনের মধ্যে বছরের প্রথম দিনেই বেশিসংখ্যক মানুষের জন্মদিন। বছরের অন্যান্য দিনের চেয়ে প্রথম দিনে অস্বাভাবিক সংখ্যক মানুষের জন্মদিন হওয়ায় স্বভাবতই প্রশ্ন জাগে_ জন্মদিন কতটা সঠিক। এ প্রশ্নের ভিত্তিও আছে। কারণ আমাদের অনেকেরই জন্মতারিখ একাধিক। যদিও ধরাধামে প্রত্যেকের একটি নির্দিষ্ট দিনেই জন্ম হয়েছে। তারপরও নানাভাবে একাধিক জন্মতারিখ হয়ে যায়। এর অন্যতম প্রধান কারণ শিক্ষা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনেক সময় ভর্তি হতে প্রয়োজন অনুসারে প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীর বয়স কমায়-বাড়ায়। Continue reading

পায়ে কলম, মনে জোর

writing-legবিভিন্ন পরীক্ষার মাধ্যমে প্রতিবছর বিচিত্র অদম্য শিক্ষার্থীর কথা সংবাদমাধ্যমে আসে। যারা শারীরিক নানা প্রতিবন্ধকতা জয় করে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন। কারও হাত নেই, পরীক্ষা দিচ্ছেন মুখ দিয়ে; কারও হাত অচল, লিখছেন পা দিয়ে। মনের জোরে তারা হাতের বাধা দূর করেছেন। যদিও মুখ দিয়ে কিংবা পা দিয়ে লেখা কঠিন কাজ। তার ওপর দীর্ঘ সময় ধরে পরীক্ষা দেওয়া আরও দুঃসাধ্য। এর জন্য নিঃসন্দেহে অনেক দিনের অনুশীলনের প্রয়োজন। অথচ শিক্ষার জন্য এ কঠিন কাজ তারা অনায়াস সাধ্য করেছেন। এমনকি স্বাভাবিক হাত দিয়ে যারা পরীক্ষা দিচ্ছেন তাদের সঙ্গে বসেই পরীক্ষা দিচ্ছেন। তাদের এ সংগ্রাম সবার জন্য অনুপ্রেরণার।
সারাদেশে অষ্টম শ্রেণীর জেএসসি ও সমমানের পরীক্ষা চলছে। একাধিক সংবাদমাধ্যম শেরপুরের সুরাইয়ার কথা বলেছে। যার দুই হাত অচল; কলম ধরার ক্ষমতা নেই। ঘাড় খানিকটা বাঁকা; সোজা করার সামর্থ্য নেই। সুরাইয়া বিশেষ টেবিলে বসে পা দিয়েই জেএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে। এর আগে এভাবে পরীক্ষা দিয়েই সে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। একইভাবে মানিকগঞ্জের রুবেল ও পটুয়াখালীর বেলালের খবরও সংবাদমাধ্যমে এসেছে। তারা উভয়ে যথাক্রমে জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা দিচ্ছে। তাদের কারও হাত নেই। পা দিয়ে পরীক্ষা দিচ্ছে। Continue reading