Tag Archives: লেখালেখি

রূপান্তরিত ইন্ডিপেনডেন্ট

Independent-uk

ব্রিটেনের দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের সর্বশেষ প্রকাশিত ছাপা পত্রিকা

পাঠকের দরজায় ব্রিটেনের অন্যতম জনপ্রিয় সংবাদপত্র দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের সর্বশেষ ছাপা সংস্করণ হাজির হয় শনিবার। ৩০ বছরের এ দৈনিকটির অবশ্য মৃত্যু হয়নি, তার স্বত্বাধিকারীর ভাষায়, রূপান্তর ঘটেছে; প্রিন্ট থেকে অনলাইনে এসেছে। ২০০৮ সাল থেকে এর অনলাইন সংস্করণ চালু হওয়ার পর থেকে দুটি মাধ্যমেই এটি প্রকাশিত হয়ে আসছে। এখন ছাপা সংস্করণ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কেবল অনলাইনেই পাওয়া যাবে পত্রিকাটি। ১৯৮৬ সালে ৭ অক্টোবর ব্রডশিট কাগজে প্রথম ছাপা সংস্করণ প্রকাশ হয় দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট। যার ডাকনাম ইন্ডি। ব্রিটেনের দ্য টেলিগ্রাফের তিন সাংবাদিক চাকরি ছেড়ে দিয়ে প্রকাশ করে ইন্ডি। অল্প সময়ে এটি বেশ ভালোই জনপ্রিয়তা পায়। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে তার প্রচারসংখ্যা ব্যাপক হ্রাস পায়। উইকিপিডিয়া দেখাচ্ছে, ২০১৫ সালের জুন মাসে ইন্ডির সার্কুলেশন ৫৮ হাজারের নিচে নেমে আসে। অথচ ১৯৯০ সালে তা ছিল চার লাখ।
ছাপা সংবাদপত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা অনেক দিনের। ইন্টারনেটের ব্যাপকতায় শঙ্কাও বাড়ছে। Continue reading

জীবন ও দ্রোহের কবিতা

Poem-didarহোসাইন মোহাম্মদ দিদারের ‘কাছে থেকো হৃদয়ের’ ও ‘সর্বাঙ্গে তোমার বিচরণ’ দুটি কবিতার বই। তাকে প্রেমিক কবি বলা যায়। উভয় বইয়ের প্রথম পৃষ্ঠায় বইয়ের নামের ওপর ব্র্যাকেটে তা পাঠকদের কাছে স্পষ্ট করেছেন। প্রথমটিতে লিখেছেন প্রেম ও দ্রোহের শ্রেষ্ঠ কবিতা নিয়ে। আর দ্বিতীয়টিতে লিখেছেন জীবন ও প্রেমের শ্রেষ্ঠ কবিতা নিয়ে। বলাবাহুল্য, কবির অসংখ্য কবিতা থেকে বাছাইকৃত শ্রেষ্ঠ কবিতাই বই দুটিতে স্থান পেয়েছে। তবে উভয়টিতেই প্রেম কমন। বইগুলো দেখে তাই কবি কিসের প্রেমিক তা খোঁজার চেষ্টা করি। ‘তোমরাই ঋণী’ কবিতায় পেয়েও যাই। তিনি লিখেছেন_ ‘এই দিনমজুর, বস্তিবাসী না থাকলে/তোমাদের মিছিল জমবে না। জমবে না সমাবেশ। রক্তাক্ত করতে পারবে না/মিছিলে মিছিলে রাজপথ। তোমরাই ঋণী তাদের কাছে।’ কবি দিনমজুরের কথা বলেছেন। তিনি আসলে মানবপ্রেমী। অবশ্য তাকে কেবল প্রেমের ফ্রেমে আবদ্ধ করা কঠিন। তিনি তার কবিতায় স্বাধীনতার কথা বলেছেন। বলেছেন গণতন্ত্রের কথা, স্বপ্নের কথা। মৃত্যুর কথাও এসেছে কবিতায়। ভালোবাসার কথা তো আছেই। কবি ও কবিতার বন্দনা গেয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে তারুণ্যের জয়গান গাইতেও ভোলেননি। কবি নামক কবিতায় তা-ই স্পষ্ট হয়_ ‘আমি রবির দলের তরুণ কবি’। তরুণ কবি দিদার নানা উপমা কবিতায় এনেছেন। সেসব তার কবিতার সৌন্দর্য আরও বাড়িয়েছে। তিনি লিখেছেন_ এতো দিন হৃদয় মহলের/সব দরজা-জানালা/খোলা ছিলো/ছিলো না কোনো প্রহরী। আরও লিখেছেন_ আমাকে সোনা ভেবে/ হাতে তুলে নিয়ে/আবার মাটির দলা মনে করে/ ছুড়ে ফেলে দিলে। এ রকম নানা জায়গায় অসাধারণ উপমা পাঠককে ধরা দেবে। কবি অবশ্য কবিতায় প্রকৃতির কথাও ভোলেননি। ভোলেননি দেশমাতৃকার প্রতি মানুষের দায়িত্বের কথা। Continue reading

ভালো মানুষের উদাহরণ

মানুষ নানাভাবে অনুপ্রাণিত হয়। মাঝে মাঝে এমন কিছুও অনুপ্রেরণার বিষয় হিসেবে হাজির হয় যে বিষয়ে ব্যাক্তি নিজেও হয়তো জানে না। একজনের সঙ্গে আরেকজনের যে প্রতিযোগিতা-প্রতিদ্বন্দ্বিতা সেটাও একটা অনুপ্রেরণার উৎস।
আমার নগণ্য যে লেখালেখি তার সূচনার বিশেষ ঘটনা থাকলেও বলার মত না। তবে তা ধরে রাখার কারণ বোধহয় এটাই ছিলো যে সংবাদপত্র লেখাগুলো ছাপতো। একইসঙ্গে এটাও কারণ যে, আমার মতো তখন অনেকেই লিখতো। তাদের ধারাবাহিকতাও আমার জন্য একরকম ঈর্ষার কারণ ছিলো। ভাবতাম তারা পারলে আমি কেন পারব না। তাদেরই অন্যতম সোহেল নওরোজ।
তাঁর সঙ্গে পরিচয়ের সূত্র স্বাভাবিকভাবেই লেখালেখি। আর ঘনিষ্ঠতার কারণও এর বাইরে নয়। তারপর সেটা লেখালেখির গণ্ডি ছাড়িয়ে অনেক দূর বিস্তৃত হয়েছে। কতদূর? তা নিরূপণ করা অসম্ভব। এটি পরিমাপের নির্ধারিত পাল্লা নেই। সেটা হৃদয় ও মনের ব্যাপার।সরাসরি সম্বোধনে তাকে যদিও স্যার ডাকি। মেইলে, মেসেজে স্যারই লিখি। কিন্তু বাস্তবে তা স্যারের ফ্রেমে বাঁধা নেই। এত সহজ সম্পর্ক অথচ গুরুগম্ভীর সম্ভাষণ কেন জানি না। তবে আমার কাছে যেটা মাঝে মাঝে মনে হয়, কাউকে ভাই বললে একটা শব্দ ধরে বলতে হয়। সেখানে সোহেল নওরোজের কাছে এসে যেন তা হয় না। যেমন, সোহেল ভাই বললে আমার কাছে কেমন যেন অসম্পূর্ণ থেকে যায়। আবার নওরোজ ভাইও মিলে না। একসঙ্গে সোহেল নওরোজ ভাই বললে সম্বোধনে আড়ষ্টতার ব্যাপার থাকে। এজন্য বোধ হয় স্যারই ভালো। এর বাইরে অবশ্য সবার কাছে সোহেল নওরোজই বলি। হয়তো নাম ধরেই বলি। আসলে এটা অন্যের বোঝার জন্য সহজ। কারণ দুইটা শব্দ মিলেই একজন অনন্য সোহেল নওরোজ। বিখ্যাত মানুষের নাম যেমন পুরোটা সবাই বলে- হুমায়ূন আহমেদ বা অমুক।

Continue reading

রানা ভাই এবং ভালো বাসা

রানা ভাইয়ের সঙ্গে পরিচয়টা কোন কাকতালীয় ব্যাপার ছিলো না। তিনি পত্রিকায় লিখতেন, আমিও লিখতাম। দীর্ঘদিন তার নামের সঙ্গে, লেখার সঙ্গে পরিচিত। এমনকি দেখাটাও কাকতাল নয়। রিভারাইন পিপল সূত্রে রোকন ভাই মারফতে আমাদের দেখা। কিন্তু কাকতালটা একসঙ্গে থাকা। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। তাছাড়া পড়াশোনায়ও এক বছর সিনিয়র। তারপরও দেড় বছরের মত সময় আমরা এক সঙ্গে ছিলাম। আমার অনার্স-মাস্টার্স শেষ। দীর্ঘদিনের প্রিয় সলিমুল্লাহ মুসলিম হল আমি ছেড়ে দিবো। রানা ভাই চট্টগ্রামের পাট চুকিয়ে কয়েকমাস আগেই ঢাকা এসেছেন। ভালো বাসা খুজছেন। তখনি আমি জানতে পারি। আমরা একসঙ্গে বেরিয়ে পড়ি বাসার খোজে।  
সেদিনের কথা মনে পড়ছে, প্রথম দিন যখন আমাদের ‍উভয়েরই কর্মস্থলের নিকটবর্তী স্থান ফার্মগেট এলাকায় বাসা খুজি। তখন রানা ভাই কাজ করেন বণিক বার্তায়। আমি সমকালেই। সেদিনের বাসা খোজার তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে সমকালে লিখেছিলাম ‘ভালো বাসা’। যার প্রথম দু’টি বাক্য
Continue reading

মেধাসম্পদ ও মেধার মূল্যায়ন

intellectual-property-e1266844349931মানুষের সৃষ্টির সবকিছুর মূলে রয়েছে মেধা। লেখকরা মেধা দিয়ে লেখেন। বিজ্ঞানী-গবেষকরা তা দিয়ে নতুন নতুন আবিষ্কার করেন। শিল্পীরা শিল্পকর্ম রচনা করেন এর মাধ্যমে। ব্যবসায়ী মেধা খাটিয়ে ব্যবসা করেন। কার্টুনিস্ট, ফটোগ্রাফার থেকে শুরু করে মুচি পর্যন্ত প্রত্যেক শ্রেণী-পেশার মানুষ স্ব-স্ব মেধা দিয়েই কাজ করেন। এমনকি শারীরিক শক্তি দিয়ে মানুষ যে কাজ করে, সেখানেও মেধা গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি কাজের আলাদা কৌশল রয়েছে। যিনি মাটি কাটেন তিনি এর কৌশল জানেন। মেধা খাটিয়েই তিনি এ কৌশল ব্যবহার করেন।
সব কাজের মধ্যেও বিশেষ কিছু বিষয় রয়েছে, যেগুলো মানুষ সরাসরি মেধার সাহায্যে করে থাকে। যার মাধ্যমে মানুষের সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী শক্তির প্রমাণ পাওয়া যায়। আজকের বিশ্ব মেধাসম্পদ দিবস আসলে এই সৃজনশীলতা ও সৃষ্টিশীলতাকে উৎসাহিত করার জন্যই পালন করা হয়। Continue reading

আইল বাঁধার প্রচেষ্টা-২

write-a-book-reviewআইল বাঁধার প্রচেষ্টা শীর্ষক সংক্ষিপ্ত বই আলোচনার পোস্টটি অনেকদিন আগেই এখানে প্রকাশ করেছি। পোস্টটিতে আমার পঠিত কয়েকটি বই নিয়ে কিছু বলেছি। কথা ছিলো এরপর প্রতিটা বই পড়ার পর পরই পোস্ট দিবো। কিন্তু তা আর হয়ে ওঠেনি। হলে হয়তো প্রত্যেকটি বইয়ের নামেই শিরোনাম হতে পারতো। এখন যেহেতু অনেকগুলো বই জমে গেছে ফলে কোনো একটার নাম দিয়ে শিরোনাম করা প্রায় অসম্ভব। এ জন্য এর শিরোনাম দিলাম আইল বাঁধার প্রচেষ্টা-২। Continue reading

ডাবল সেঞ্চুরি!

200খেলা নিয়ে আমার আগ্রহ কমই বলা চলে। সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের আবাসিক ছাত্র হিসেবে ২০১০ সালের বিশ্বকাপ ফুটবল দেখেছি। এ নিয়ে হলের শিক্ষার্থীদের তো বটেই অন্যান্যদেরও প্রবল আগ্রহ-উত্তেজনা দেখেছিলাম। সেসময় লিখেছি- ‘বিশ্বকাপ জ্বরে বিশ্ব যতটা কাঁপছে আমি ততটা স্থির। বিশ্বকাপের জ্বর আর জোয়ার যাই বলি আমাকে কিন্তু কোনোটাই স্পর্শ করেনি।’ অবশ্য এর অর্থ এই নয় যে খেলার কিছুই আমি জানি না। আমি হয়তো বসে বসে প্রতিটা বল দেখি না। কিংবা ইন্টারনেটে ইএসপিএন ক্রিকইনফো’র লাইভ স্কোর খুলে বসে থাকি না। কিন্তু ফলাফলটা ঠিকই জানি। কারও বড় অর্জন থাকলে সেটাও চোখ এড়ায় না। হাল আমলে এসব না জানা মানে ব্যাকডেটেড। আর বিশ্বের কাছে আমাদের পরিচয় তুলে ধরার এটাও একটা গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম নিসন্দেহে।
তবে আমার মত কম আগ্রহীদের জন্য সুবিধার কথা হলো সংবাদমাধ্যম খেলার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। ফলে অন্তত যারা নিয়মিত পত্রিকা পড়েন কিংবা টিভি-চ্যানেলে খবর দেখেন খেলার কোনো বিষয়ই তাদের জানার বাকী থাকার কথা নয়। অবশ্য আমার আজকের লেখার বিষয় খেলা নয়, অন্য কিছু। তারপরও লেখার শিরোনামটা খেলার পরিভাষা ‘ডাবল সেঞ্চুরি’ কেন সে বিষয়ে পরে আসছি। Continue reading

কাগজ-কলম কিংবা প্রযুক্তি

Rabinndrbath

রবীন্দ্রনাথের হাতে লেখা চিঠি

লেখার অত্যাবশ্যকীয় উপাদান হিসাব করতে গেলে অবশ্যম্ভাবী হয়ে দুটি বিষয় মাথায় হাজির হয়_ কাগজ ও কলম। লেখার সঙ্গে এ দুটি বিষয় এত অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত যেন এগুলো ছাড়া লেখালেখি কদাপি সম্ভব নয়। লেখালেখির ইতিহাসও তা-ই বলে। কাগজ-কলমের যখন আবিষ্কার হয়নি তখনও মানুষ লিখেছে গাছের পাতায় কিংবা চামড়ায়। কালি দিয়ে লিখত মানুষ। এরকম হাতের লেখায় প্রাচীন নানা গ্রন্থ আমরা দেখেছি। তবে লেখালেখি বলতে এতদিন সবাই যে ‘হ্যান্ড রাইটিং’ বা হাতের লেখা বুঝে আসছেন সেখানে এক ধরনের পরিবর্তন এসেছে। কাগজ-কলম ছাড়াও এখন মানুষ লিখে। সম্প্রতি টাইমস অব ইন্ডিয়ায় ‘থ্যাংকস টু ই-মেইল অ্যান্ড এসএমএস, উই আর লুজিং দ্য আর্ট অব রাইটিং‘ শীর্ষক ব্লগটিতে জুগ সুরাইয়া তার কিছু বিষয় তুলে ধরেছেন। তার শিরোনাম থেকেই ই-মেইল আর এসএমএস পাওয়া গেল, যেগুলো লিখতে কাগজ-কলমের প্রয়োজন হয় না। চিঠির বদলে, বিষয়গুলো যে চিঠির সে আবেদন, শিল্পকৌশল ধরে রাখতে পারছে না মোটাদাগে তাই তিনি বুঝিয়েছেন। তারপরও এগুলোকে তার থ্যাংকস দেওয়ার বিষয়টা অবশ্য অন্যরকম। Continue reading