Tag Archives: রোহিঙ্গা

রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে সবার সহায়তা চাই

মূল: শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী হুন সেনের আমন্ত্রণে কম্বোডিয়ায় সফরে আমি ভীষণ আনন্দিত। তিন দিনের সফরে আমার ও দেশবাসীর তরফ থেকে কম্বোডিয়ার জনগণের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা। বাংলাদেশ ও কম্বোডিয়ার মধ্যে বন্ধুত্ব, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক অংশগ্রহণ ও অভিন্ন মূল্যবোধের কারণে উভয় দেশের মধ্যে গভীর সম্পর্ক বিদ্যমান।

আমি প্রধানমন্ত্রী হুন সেনের ২০১৪ সালের ১৬-১৮ জুন বাংলাদেশ সফরের কথা স্মরণ করছি। ভৌগোলিক নৈকট্য সত্ত্বেও আমাদের দু’দেশের মানুষের মধ্যে এক বড় ফারাক রয়ে গেছে। প্রধানমন্ত্রী হুন সেনের সফর সে ফারাক ঘোচাতে সাহায্য করে, যেখানে দু’দেশের জনগণ বিশেষত ব্যবসায়ীদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ছে।

বাংলাদেশ ও কম্বোডিয়া উভয় দেশের মানুষকেই তাদের স্বাধিকারের জন্য প্রায় একই ধরনের নৃশংসতা সহ্য করতে হয়েছে। বাংলাদেশ এখন আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের গতিধারায় একটি স্থিতিশীল দেশ; কম্বোডিয়ার অবস্থাও তদ্রূপ। অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে বাংলাদেশ শক্তিশালী অর্থনীতির ওপর দাঁড়িয়ে এখন নিম্নমধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে। আজ কম্বোডিয়াকেও টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে নিম্নমধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে দেখে আমি আনন্দিত।

বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা কখনোই মসৃণ ছিল না; পদে পদে আমাদের অনেক বাধা-বিপত্তি মোকাবেলা করতে হয়েছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে এক রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের জন্ম। মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ মানুষ জীবন দিয়েছেন; দুই লাখ মা-বোন ইজ্জত হারিয়েছেন। তখন পুরো জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়ে স্বাধীনতার আন্দোলন করেনি; এর মধ্যে এমনকি কিছু মানুষ স্বাধীনতার বিরোধিতাও করেছিল।

স্বাধীনতার মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় যখন যুদ্ধোত্তর দেশটি ব্যাপক পুনর্গঠন কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল, তখন আমার বাবা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পরিবারের ১৮ সদস্যসহ হত্যা করা হয়। আমি ও আমার ছোট বোন রেহানা বিদেশে অবস্থান করার কারণে বেঁচে যাই।

বাবা নিহত হওয়ার পর বাংলাদেশের স্বাধীনতা যারা চায়নি, তখন সে বিরোধী শক্তিও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অংশ হয়ে যায়। বাংলাদেশের জনগণ দুই যুগের বেশি সামরিক শাসনের জাঁতাকলে পড়ে। তখন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের কারণে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও মর্যাদা ভূলুণ্ঠিত হয়।

ছয় বছর নির্বাসনের পর ১৯৮১ সালে আমি দেশে ফিরে মানুষের মৌলিক অধিকার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন শুরু করি। ১৯৯৬ সালে আমরা সরকার গঠন করি। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আবার ২০০৮ সালে বিজয়ী হয়; এখনও আমরা দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায়।

Continue reading

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন চুক্তি স্পষ্ট হওয়া উচিত

মূল: লুক হান্ট

মিয়ানমারের সঙ্গে চুক্তির পরও আসছে রােহিঙ্গা। ২৬ নভেম্বর ২০১৭। রয়টার্স

বাংলাদেশ ও মিয়ানমার বলছে, গত সপ্তাহে তারা রোহিঙ্গা শরণাথীদের প্রত্যাবাসনে একটি সমঝোতা চুক্তি করেছে। যদিও চুক্তিতে কিছু সীমাবদ্ধ রয়েছে, সংকট পুরোপুরি কাটাতে এটি খুব একটা সহায়ক হবে বলে মনে হয় না। পোপ যখন ভ্যাটিকান থেকে উভয় দেশেই সফরে, ঠিক তার প্রাক্কালে তাড়াহুড়ো করে এ রকম চুক্তি অগোছালো কূটনীতিরই পরিচায়ক।

চুক্তিটি বলা চলে পরীক্ষামূলক, যেখানে অনেক অস্পষ্টতা রয়েছে। তবে আশা করা হচ্ছে, দুই মাসের মধ্যে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু হবে। চুক্তিটি এমন সময়ে হলো, তার আগের দিন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন জাতিসংঘের পর্যবেক্ষণকে সমর্থন করে বলেছেন, রোহিঙ্গাবিষয়ক তথ্যাদি সতর্ক হয়ে পর্যালোচনা করলে বলা যায়, রোহিঙ্গা মুসলিমদের টার্গেট করে চালানো সহিংসতা জাতিগত নিধন বৈ কিছু নয়।

আগস্ট মাসের শেষ দিকে মিয়ানমারের পুলিশ পোস্টে হামলা ও তার জের ধরে সামরিক বাহিনীর অভিযানে রোহিঙ্গা মুসলিমরা রাখাইন থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিচ্ছে। রোহিঙ্গার ঢল এখনও থামেনি। এমনকি সংবাদমাধ্যম বলছে, প্রত্যাবাসন চুক্তির পরও আসছে রোহিঙ্গারা। ইতিমধ্যে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে ছয় লক্ষাধিক রোহিঙ্গা। নেপিদো রোহিঙ্গাদের রোহিঙ্গা বলে স্বীকৃতি দেয়নি, বরং তাদেরকে বাঙালি হিসেবে দেখছে; যদিও তারা এর আগে মিয়ানমারেই বসবাস করে আসছিল।

১৯৯২-৯৩ সালের চুক্তিকে ভিত্তি করে এবারও সমঝোতা স্বাক্ষরিত হলো, যেখানে মিয়ানমার কেবল তাদেরই গ্রহণ করবে, আগে যারা সরকার কর্তৃক প্রদানকৃত নিজেদের পরিচয়পত্র দেখাতে পারবে। এর মধ্যে থাকবে জাতীয় পরিচয়পত্র ও ‘সাদা কার্ড’ কিংবা ‘সাদা কার্ড’ জমা দেওয়ার রসিদ। কিন্তু এ পদ্ধতি কতটা সফলভাবে কাজ করবে, এ নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে।

Continue reading

রোহিঙ্গাদের জন্য বিশ্ব এগিয়ে আসুক

মূল: রুশনারা আলী
স্যাটেলাইট থেকে তোলা মিয়ানমারের দুটি ছবি অনেক কথা বলছে। দুটিই সকালে তোলা, উভয়টি রোহিঙ্গা মুসলিম অধ্যুষিত রাখাইন রাজ্যের একই গ্রামের ছবি। প্রথম ছবি তোলা হয়েছে ২০১৪ সালে। দেখা যাচ্ছে, কার্যত রাষ্ট্রহীন সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ঘরবাড়ি। শতাধিক ঘর সড়ক ও গাছের মাঝামাঝি জায়গা দিয়ে যেন শুয়ে আছে। আর দ্বিতীয় সেট ছবি তোলা হয়েছে দুই মাস আগে, যাতে ঘরবাড়ির কোনো অস্তিত্বই নেই; আগুনে পোড়ামাটির ওপর সব একাকার হয়ে আছে।
মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ সেখানকার তিনটি ভিন্ন গ্রামের ৪৩০টি ঘরবাড়ি ধ্বংসের ছবি দেখিয়ে জাতিসংঘের কাছে বলছে, মিয়ানমার রোহিঙ্গা মুসলিম নিধনের মাধ্যমে নিজেদের ভূমি থেকে তাদের উচ্ছেদ করছে।
ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী রোহিঙ্গা মুসলমানদের এলাকার কাছে মিয়ানমার সীমান্তে ৯ অক্টোবর ৯ সীমান্তরক্ষী নিহত হওয়ার ঘটনার পর মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ সন্দেহ থেকে রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়ন চালিয়ে আসছে। ঘরবাড়ি আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, তাদের উচ্ছেদ করা হয়েছে, রোহিঙ্গা নারী ধর্ষিত হচ্ছে। এভাবে দিন দিন নির্যাতনের মাত্রা বাড়ছেই। দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে প্রায় দশ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও শরণার্থীদের সূত্র মতে, সামরিক বাহিনীর নেতৃত্বাধীন মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী শত শত ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো হেলিকপ্টার গানশিপ থেকে ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া, নির্বিচারে গ্রেফতার ও নারীদের ধর্ষণের জন্য মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীকে অভিযুক্ত করেছে। জাতিসংঘ এই তালিকায় নির্যাতন, প্রাণদণ্ড ও মসজিদ গুঁড়িয়ে দেওয়ার বিষয়টিও যুক্ত করেছে। রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের জোর করে রাখার আশ্রয় শিবিরগুলোর চিত্র অত্যন্ত ভয়াবহ। Continue reading

অভিবাসী যখন বিশ্বগ্রামের সদস্য

অভিবাসী দিবসের পোস্টার

অভিবাসী দিবসের পোস্টার

উন্নত জীবন ও কর্মসংস্থানের আশায় মানুষ দুনিয়ার এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় অভিবাসী হিসেবে পাড়ি দেয়। শরণার্থী হিসেবেও অনেকে অন্যত্র যায়, নানা কারণে অন্য দেশে আশ্রয় চায় মানুষ। অভিবাসনের বিষয়টি প্রাচীনকাল থেকেই চলে আসছে। মানুষ কখনও এক জায়গায় বসে থাকেনি। মানুষের পৃথিবী জয় এভাবেই হয়েছে। তবে আজ এমন সময়ে বিশ্ব আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস পালন করছে, যখন প্রতিবেশী মিয়ানমারে অত্যাচার-নির্যাতনের শিকার রোহিঙ্গারা, সাগরে ভাসছে তাদের নৌকা; যখন সিরিয়ায় চলছে যুদ্ধ, সেখানকার সাধারণ মানুষ আশ্রয় খুঁজছে; যখন আফ্রিকার লাখো মানুষ ইউরোপে কাজ খুঁজছে। আবার এটাও জানা আছে যে, বাংলাদেশের প্রায় ৯০ লাখ মানুষ এখন বিদেশে বাস করছেন। তারা প্রবাসে থেকে কষ্ট করে কাজ করে দেশের জন্য টাকা পাঠান।
শ্রমিকরা বিদেশে কাজ করলেও, কাজ করছেন আসলে দেশের জন্য। তাদের পাঠানো রেমিট্যান্সে দেশের উপকার হচ্ছে। এ জন্যই এবারের দিবসটির প্রতিপাদ্য করা হয়েছে, ‘উন্নয়নের মহাসড়কে, অভিবাসীরা সবার আগে।’ প্রবাসীরা বছরে প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলার দেশে পাঠাচ্ছে। তাদের রেমিট্যান্সের ওপর ভর করেই এখন আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ তিন হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়েছে।
অভিবাসীদের দ্বারা দেশ উপকৃত হচ্ছে। তাদের স্বার্থ দেখাও দেশেরই কাজ। নানা দেশে নানাভাবে শ্রমিকরা বঞ্চিত হচ্ছে, নির্যাতিত হচ্ছে। অনেকে বিদেশে কাজ করেও পারিশ্রমিক না নিয়েই দেশে ফিরতে হচ্ছে। এমন সমস্যায় প্রশাসন তাদের পাশে দাঁড়াবে এটাই স্বাভাবিক। Continue reading

আসিয়ান থেকে মিয়ানমারকে চাপ দিতে হবে

 rohingya

মূল: শাফিরা ডি. গায়েত্রী

মিয়ানমারের উত্তর রাখাইন রাজ্যে বসবাসকারী নৃতাত্তি্বক সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠন ও সংবাদমাধ্যম মিয়ানমারের সেনাবাহিনী কর্তৃক রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো পরিকল্পিত সহিংসতা, নিপীড়নসহ গণধর্ষণ, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও উচ্ছেদের প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদন বলছে, কর্তৃপক্ষ কর্তৃক রোহিঙ্গাদের প্রায় ১২৫০টি বাড়ি পোড়ানো হয়েছে।

৯ অক্টোবর সীমান্ত বাহিনীর ৯ সদস্যের নিহতের ঘটনায় মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ রোহিঙ্গাদের দোষারোপ করেছে। সংবাদমাধ্যমের খবরে প্রকাশ, সন্দেহবশত দোষারোপ করে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন শুরু করে। ফলে নিহত হয় একশ’রও বেশি আর গ্রেফতার করা হয় ৬শ’ মানুষকে। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার মতে, মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ও সীমান্ত পুলিশ ‘সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের একত্রে শায়েস্তা করার কাজে জড়িত’_ মিয়ানমার সরকার এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এসব তথ্য-উপাত্ত অবশ্য যাচাইয়ের সুযোগ কমই। মিয়ানমার সরকার রাখাইন প্রদেশে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা ও দাতা সংস্থার প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে।

জাতিগত বৈষম্য এবং চলমান নিপীড়নে অনেক রোহিঙ্গা তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে বাংলাদেশের দিকে যেতে বাধ্য হচ্ছে। অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকলে এবং রোহিঙ্গারা এভাবে দেশ ছাড়তে বাধ্য হলে গত বছরের মতোই শরণার্থী সংকট প্রকট আকার ধারণ করবে। গত বছরের মে মাসে আমরা রোহিঙ্গাসহ বিশ্বব্যাপী শরণার্থী সংকট দেখেছি। তখন রোহিঙ্গাসহ সাগরে ভাসছিল শরণার্থী হয়ে। মানবতার এ বিপর্যয় ঘনীভূত হয় যখন নিকটস্থ দেশগুলো তাদের দেশে নৌকা ভেড়াতে দিচ্ছিল না। অবশ্য অবশেষে তাদের দয়া হয়, শরণার্থীদের বাঁচাতে আন্দামান সাগরের উপকূলীয় দেশগুলোর কাছে জাতিসংঘের তরফ থেকে বারবার অনুরোধ জানানোর পর তারা আশ্রয় দেয়। বিশেষ করে ইউরোপের কয়েকটি দেশে বেশি শরণার্থী আশ্রয় পায়। পরিসংখ্যান বলছে, গত এক বছরে ১০ লাখের বেশি মানুষ ইউরোপে পাড়ি জমায়। মিয়ানমারের প্রতিবেশী ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ায়ও অনেকে আশ্রয় পায়। Continue reading