Tag Archives: যাপিত জীবন

প্রভাব-বলয়

দার্শনিক ও লেখক রুশো বলেছেন, মানুষ স্বাধীনভাবে জন্মায়; কিন্তু সর্বত্র সে শৃঙ্খলিত। এ শৃঙ্খল কত প্রকার ও কী কী তা জীবনের প্রতিটি স্তরে প্রত্যেকে টের পায়। শিশু থাকতেই এটা ধরা যাবে না, ওটা করা যাবে না, ওর সঙ্গে মেশা যাবে না ইত্যাদি নানা বাধা। মানুষ যত বড় হয় তার শৃঙ্খলও বাড়ে। পারিবারিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক নানা শৃঙ্খল। বিশেষ করে জীবনের সিদ্ধান্তগুলো কেউ চাইলেই এককভাবে নিতে পারে না। সেখানে অন্যের প্রভাব থাকবেই। আপনি চাইছেন এ স্কুলে পড়তে আর অভিভাবকের পছন্দ অন্য স্কুল। আপনি পড়তে চান ইঞ্জিনিয়ারিং; বাসা থেকে বলছে, ডাক্তারি পড়তে হবে। এভাবেই আমরা সবাই জড়িয়ে পড়ি এক শৃঙ্খলে। যে শৃঙ্খল মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ভাঙার নয়।

একজন রাষ্ট্রনায়কও কি একক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন? তার চারপাশে যারা থাকেন, তারা তার মতকে প্রভাবিত করতে পারে। আবার দেশের মানুষও সিদ্ধান্তে প্রভাবক ভূমিকা পালন করতে পারে। দলের ক্ষেত্রে দলীয় প্রধান তো একক সিদ্ধান্ত নিতেই পারেন না; কারণ অন্যের কথা তাকে শুনতে হয়। পরিবারের কর্তার সিদ্ধান্তে প্রভাব থাকে কর্ত্রীর, সন্তান-সন্ততির। আপনার জীবন-সংসার ভালো লাগছে না, সব ছেড়ে একদিকে পালিয়ে যেতে চান। কিন্তু তা এতটা সহজ নয়। প্রিয় মানুষগুলোর কথা আপনি কয়েকবার ভাববেন।

বলা বাহুল্য, প্রভাব-বলয় পরিবার, সমাজ, দেশ ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও বিস্তৃত। মার্কিন প্রভাব, রাশিয়ান প্রভাব, চীনা প্রভাব, ভারতের প্রভাব-বলয়ের কথা আমরা জানি। Continue reading

আলুর অপচয়

ব্রিটেনে খাবারের জন্য কেনা প্রায় অর্ধেক আলু মানুষ ডাস্টবিনে ফেলে দেয়।

আলুর কদর বিশ্বব্যাপী। মানুষের প্রধান খাদ্য হিসেবে ভুট্টা, গম আর চালের পরই আলুর স্থান। খাদ্য হিসেবে আলু সুষম ও পুষ্টিকর। এটি আমাদের প্রধান খাদ্য না হলেও খাদ্য তালিকায় বলা যায়, ভাতের পরই আলুর স্থান। রান্নাবান্নায় অনেকের আলু প্রধান অনুষঙ্গ। আলুর ভর্তা, ভাজি ছাড়াও আলুর চপ, ফ্রেন্স ফ্রাই, চিপস ইত্যাদি বেশ জনপ্রিয়। আলু ছাড়া যেন আমাদের দিন চলে না। এ জন্য মাঝে মধ্যে দামটাও চড়া হয়ে যায়। এ মূল্যবান আলুর সাম্প্রতিক এক খবর চমকে দেওয়ার মতোই। ৮ নভেম্বর ইংল্যান্ডের প্রভাবশালী দৈনিক গার্ডিয়ান বলছে, সে দেশের আলুর প্রায় অর্ধেকই অপচয় হয়। খাবারের জন্য কেনা প্রায় অর্ধেক আলু মানুষ ডাস্টবিনে ফেলে দেয়।

গার্ডিয়ান দেখিয়েছে, এভাবে দিনে প্রায় তিন মিলিয়ন বা ৩০ লাখ আলু অপচয় হয়। অর্থের হিসাবে তা বছরে ২৩০ মিলিয়ন পাউন্ড বা ২৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি। এ হিসাবে ব্রিটেনে অপচয়ের দিক থেকে আলুর স্থান দ্বিতীয়। সেখানে সবচেয়ে বেশি অপচয় হয় পাউরুটি। এর পেছনে অবশ্য বড় কোনো কারণ নেই। অপচয় প্রতিরোধে সেখানে সরকারের সঙ্গে কাজ করে দি ওয়েস্ট অ্যান্ড রিসোর্সেস অ্যাকশন প্রোগ্রাম বার্ যাপ। প্রতিষ্ঠানটি কর্তৃক পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে- অপচয়ের কারণ হলো, অনেক আলুর চামড়া কুঁচকে যায় কিংবা কোনোটায় শিকড় গজানোর কারণে তা খাবারের জন্য না নিয়ে ডাস্টবিনে ফেলে দেয় মানুষ। সূত্র বলছে, ব্রিটেনে ১৫ মিলিয়ন টন খাদ্য অপচয় হয়। এর মধ্যে বাসাবাড়িতে অপচয় হয় সাত মিলিয়ন। আলুর অপচয় রোধে সেখানে বিশেষ প্রচারণা চালানো হয়, Continue reading

… ছাড়া চলেই না!

শূন্যস্থানে হয়তো অনেক কিছুই বসানো যাবে। সত্যিকারার্থেই এমন কিছু বিষয় রয়েছে যেগুলো ছাড়া চলে না। যেমন বাঁচতে হলে খেতে হবে, ঘুমাতে হবে, পোশাক লাগবে, থাকার ব্যবস্থা লাগবে। কিন্তু দিন দিন এমন বিষয়ও অনেকের আবশ্যকীয় তালিকায় চলে এসেছে, যেটা হয়তো কিছু দিন আগেও নিত্যব্যবহার্য ছিল না। এখন সেসব ছাড়া যেন চলেই না। অনেকের ফেসবুক ছাড়া চলে না। কারও সবসময় ইন্টারনেট লাগবেই। মোবাইল ছাড়াও যে অচল। ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ান অনলাইনের লাইফ অ্যান্ড স্টাইল বিভাগে ‘হোয়াট আই এম রিয়েলি থিংকিং’_ সতিকারার্থেই ‘আমি কী ভাবছি’ শিরোনামে অনুবিভাগটি দেখছি আর আমাদের সাধারণ কিছু না থাকার ‘অসাধারণ’ অভিব্যক্তির কথা ভাবছি।

আসলে তথ্যপ্রযুক্তিসহ কিছু বিষয়ের ওপর মানুষ এত বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে যে, এগুলো অল্পসময় হাতছাড়া হলেও যেন কী অস্বস্তি। হয়তো আপনি বাজারে এসেছেন অল্প সময়ের জন্য, মোবাইলটি আনতে ভুলে গেছেন। সারা পথ কিংবা যতক্ষণই বাজারে থাকছেন আপনার মনে হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ কিছু নেই বা মারাত্মক ভুল করে ফেলেছেন, ভুল করার জন্য আফসোসের শেষ নেই। আবার ধরুন, কারিগরি ত্রুটির কারণে ইন্টারনেট নেই। মনে হবে যেন ইন্টারনেট না থাকার কারণে সব কাজ আটকে আছে। ইন্টারনেট ছাড়া যেন এক মূহুর্তও চলে না। বিদ্যুতের অবস্থাও তথৈবচ। বিদ্যুৎ না থাকলে তো নগরজীবন অচল। Continue reading

আনন্দ কেনা যায়!

চাকার গল্পের শেষ নেই। শেষ নেই মানুষের জীবনের গল্পও। চাকা বিচিত্র, মানুষও। রিকশা আর গাড়ির চাকা এক না হলেও উভয়টিই চাকা। মানুষ জীবনের প্রয়োজনে নানা কাজ করে। কেউ হয়তো বিরাট করপোরেট কর্মকর্তা আর কেউ রাস্তার পাশের দোকানদার। গুরুত্বের দিক থেকে কেউই কম নয়। যদিও সমাজে মানুষ একে অপরকে নানাভাবে মূল্যায়ন করে। সামাজিক বেড়াজালে আবদ্ধ হয়েই অনেককে অনেক কিছু মেনে নিতে হয়। কেউ কেউ আবার অনেক কিছুরই ধার ধারেন না। তবে চাকা নিজে যে মানুষের জীবনেরও গল্প তৈরি করে তার উদাহরণ এক রিকশাচালকই। যার চাকা টাকা আনে। চাকা ঘুরলেই তো তার বাড়িতে চাল আসে, পরিবার নিয়ে জীবন কাটাতে পারেন। শুক্রবার ২১ অক্টোবর ভারতের টাইমস অব ইন্ডিয়া এমনই এক গল্প জানিয়েছে আমাদের। যে গল্পের নায়ক যেমন ব্যক্তি তেমনি বলা চলে তার চাকা। পত্রিকাটির ব্লগ সেকশনে ব্লগার ‘টিম সোশ্যাল’ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক থেকে মুম্বাইয়ের এক অটোরিকশা চালকের ঘটনা শেয়ার করেছে, যিনি হিন্দুস্তান ইউনিলিভারের চাকরি ছেড়ে দিয়ে অটোরিকশা চালাচ্ছেন! ইউনিলিভারের মতো করপোরেট প্রতিষ্ঠানে মাস্টার্স পাস এ ব্যক্তির কাজ করতে কোনো সমস্যাই হচ্ছিল না। সমস্যা একটাই, ৫-৯টায় অফিস করা তার একঘেয়ে লাগছিল। একদিন সিদ্ধান্ত নিয়ে চাকরিই ছেড়ে দেন। তার শখ নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়া, ফটোগ্রাফি করা। তাই অটোরিকশা কিনেছেন নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার জন্য। অটোরিকশা চালান, মানুষের সঙ্গে কথা বলেন আর তাদের ছবি তোলেন- এ কাজ করেই তিনি কি-না ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করলেন। Continue reading

সিভি অব ফেইলিয়রস-ব্যর্থতার সিভি!

CV-Failuresসিভি বা কারিকুলাম ভিটায় জীবনের বৃত্তান্ত লিখতে সবাই সচেতন। সিভির সঙ্গে যে অনেক কিছু জড়িত। আপনার স্বপ্নের চাকরিটা হয়তো সিভির কারণেই হাত ফসকে বের হয়ে যেতে পারে। সুন্দর সিভি না হলে কেউই হয়তো আপনাকে ডাকবে না। ভালো একটা সিভি তৈরি করতে তাই সবাই গলদঘর্ম হন। সেখানে নেতিবাচক বা ব্যর্থতার কথা লেখা তো দূরের কথা, ইনিয়ে-বিনিয়ে নানা ইতিবাচক দিক লিখতে আমরা ব্যস্ত। সবাই ধরে নেন, সিভি মানেই ব্যক্তির ইতিবাচক ধারণার উপস্থাপন। যেখানে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সব সফলতা, অর্জন, দক্ষতা লেখা হবে। সিভির এই প্রচলিত ধারণাকে বলা চলে একেবারে উল্টিয়েই দিয়েছেন জোহানস হাউসোফার। ৩০ এপ্রিল ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানে ‘সিভি অব ফেইলিয়রস‘ নামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে তা উঠে এসেছে। প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক জোহানস হাউসোফার। ২৩ এপ্রিল তিনি টুইট করেছেন, নিউ ‘পাবলিকেশন’ :মাই সিভি অব ফেইলিয়রস! অর্থাৎ নতুন ‘প্রকাশনা’ :আমার ব্যর্থতার সিভি। টুইটের সঙ্গে তিনি ব্যর্থতার সে সিভির লিঙ্কও দিয়ে দেন। ২ পৃষ্ঠার সে সিভিতে তিনি তার ক্যারিয়ারের নানা ব্যর্থতার বিষয় তুলে ধরেন। পিএইচডি, গ্র্যাজুয়েট কোর্স ও বিএ ডিগ্রির জন্য অ্যাপ্লাই করেও কয়েক জায়গায় তিনি সুযোগ পাননি। কয়েক জায়গায় ফেলোশিপ, শিক্ষকতার চাকরি, স্কলারশিপ, রিসার্চ ফান্ড পাননি। এসব বিষয় তিনি ব্যর্থতার সিভিতে পয়েন্ট আকারে তুলে ধরেছেন। যেমন তিনি লিখেছেন, ডিগ্রি প্রোগ্রামস আই ডিড নট গেট ইনটু, একাডেমিক পজিশনস অ্যান্ড ফেলোশিপস আই ডিড নট গেট, অ্যাওয়ার্ডস অ্যান্ড স্কলারশিপস আই ডিড নট গেট ইত্যাদি। Continue reading

কল্পনায় জীবন্ত গল্প

রাফিক হারিরির ফুলবানু ও অন্যান্য গল্প পড়ে চরিত্রদের কথা চিন্তা করি। ফুলবানু, হাবিবুল্লাহ, নুরু, হাজেরাদের কথাই বারবার মনে পড়ছে। কত শত চরিত্রের মাঝে কবি চরিত্রটাও ভোলার মতো নয়। ৩৩টি গল্পে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক চরিত্র রয়েছে। একেকটা গল্প ধরে হয়তো বর্ণনা করা যাবে। কিন্তু মোটের ওপর কয়েকটি চরিত্র হৃদয়ে দাগ কেটে যায়। চরিত্র কতটা শক্তিশালী তা লেখকের ওপর নির্ভর করে। লেখকের চিত্রায়ন পাঠক অনুধাবনের চেষ্টা করে। কখনও কখনও পাঠকের কাছে তা জীবন্ত হয়ে ওঠে। হয়তো পাঠক নিজের সঙ্গে, সমাজের সঙ্গে, পরিচিতজনের সঙ্গে তুলনা করার চেষ্টা করেন। ভাবেন, ওর জীবনে তো ঠিক এমনটাই ঘটেছে। একইভাবে লেখকও তার অভিজ্ঞতা থেকেই চোখের সামনে ঘটনাগুলোই তার লেখনীর মাধ্যমে তুলে ধরেন। হাজেরার কথাই ধরা যাক। প্রতিনিয়ত শাহবাগের পথে কত হাজেরার দেখাই না আমরা পাই। আমাদের কাছে সে হয়তো হাজেরাই। কিন্তু লেখকের কাছে সে অন্য কিছু। রাফিক হারিরি তাকে কল্পনা করেছেন ছায়াময়ী হিসেবে,যে ঘুরে ঘুরে ফুল বিক্রি করে। বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার প্রতিটি ঘটনার সাক্ষী সে। কিন্তু গল্পটা যে তার কুকুরকে নিয়ে। লেখক যাকে বিপদের ত্রাণকর্তা হিসেবে এনেছেন। সে এক অসাধারণ গল্প। রাফিক হারিরির এ রকম প্রতিটি গল্পই মোড় ঘুরানো। পাঠক গল্পগুলো পড়ে চমৎকৃত না হয়ে পারবেন না। Continue reading

গল্প ও জীবন- সমানে সমান

Dana Vanga Shaliker Shukhগল্প আর জীবনের দুরত্ব কতটুকু? লেখকের কাছে এর উত্তর হয়তো আছে। একেকজন একেকভাবে সেটা বলতে পারেন। তবে এটা মনে হওয়াও বিচিত্র নয় যে, এ দুয়ের মাঝে বিশেষ কোন দুরত্বই নেই। গল্পকার গল্প বানান ঠিকই আছে। তা জগতের বাইরের কিছু নয়। মানুষেরই গল্প। মানুষের হাসি-কান্না-সুখ-দুঃখের গল্প। ব্যক্তিগত, সামাজিক, রাষ্ট্রীয় কিংবা অন্য কোন জীবনের গল্প। সেখানে গল্প ও জীবন চলে সমানে সমান। জীবনের নানাবিধ অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার যার যত বেশি সে তত শক্তিশালী লেখক বা গল্পকার।
এ জন্য লেখক হওয়ার ক্ষেত্রে আলাদা চোখ লাগে। সাধারণ মানুষ কোন কিছু দেখে যখন হাঁসে কিংবা কাঁদে লেখক কেবল তা-ই করে না, এর ভেতর থেকে লেখাটাও তৈরি করে নেয়। গল্পকার গল্প সাজায়, একেকটা ঘটনা একেকটা অভিজ্ঞতা দেয়। তা নিয়ে গল্প লেখা হয়। তাতে এমন অনেক বিষয় উঠে আসে যেটা হয় চাক্ষুষ নয় অন্তরের বিষয়। কিন্তু গল্পকারের চোখে ধরা না পড়ে পারে না। সে গল্প পড়ে পাঠকও আশ্বর্য হয়। ভাবে এ যে তারই গল্প, তারই আত্মকথা।সোহেল নওরোজের ডানাভাঙা শালিকের সুখ তেমনি এক গল্পগ্রন্থ। নামের সঙ্গে সুখ থাকলেও ১৬ টি গল্পে কেবল সুখই নেই বেদনাও আছে, আশা নেই হতাশাও আছে, ভালো লাগা নেই মন্দ লাগাও আছে। গল্পের একেকটা শিরোনামই যেন সে অবস্থা বলে দেয়। বোধের দরজায় বৃদ্ধ বাবার সামনে এক কঠিন বাস্তবতা হাজির হয়। তার করুণ মৃত্যু পাঠককে অশ্রুসিক্ত না করে পারবে না। রোদবলিকা, টান কিংবা দোলাচল যেন নিঃশ্বাসে মিশে থাকা গল্প। এর মাঝেও সানাউল্লাহর কাহিনী আর অভিশপ্ত রাত তুমিগ্রস্ত আঁধারের মতই করুণ। Continue reading

ফেসবুকের মূল্য

A 3D plastic representation of the Facebook logo is seen in this illustration in Zenica, Bosnia and Herzegovina, May 13, 2015. REUTERS/Dado Ruvicদিন দিন আমরা যখন ব্যস্ত হয়ে উঠছিলাম; ব্যস্ত জীবনে যখন আরেকজনের খবর নেওয়ার ফুরসৎ ছিল না; যখন আমরা আত্মকেন্দ্রিক হয়ে উঠছিলাম; শহুরে জীবনের এককেন্দ্রিকতা যখন আমাদের আচ্ছন্ন করে ফেলছিল; যখন আমরা স্বার্থপর মানুষে পরিণত হয়েছিলাম; তখনই কি ফেসবুকের আগমন? অনেকে তা বলতেই পারেন। ২০০৪ সালে ফেসবুক এসে বলছে, ‘কানেক্ট উইথ ফ্রেন্ডস অ্যান্ড দ্য ওয়ার্ল্ড অ্যারাউন্ড ইউ অন ফেসবুক’। বলছে, আপনার বন্ধুবান্ধব কাছে কিংবা দূরে আছে, তাদের সঙ্গে সহজে যোগাযোগ হচ্ছে না? আপনার অবস্থা তাদের জানাতে পারছেন না? তাহলে দেরি না করে এখনি যুক্ত হোন ফেসবুকে।
ফেসবুকের কথা শুনেছে মানুষ। বুধবার ফেসবুক নিউজরুমে প্রকাশিত ২০১৫ সাল ও একই বছরের চতুর্থ ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত ফেসবুকের মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারী প্রায় একশ’ ষাট কোটি। বাংলাদেশেই রয়েছে ১ কোটি ৭০ লাখ ব্যবহারকারী। বলাবাহুল্য, ফেসবুক সত্যিই অচেনা মানুষকে বন্ধু করেছে, হারিয়ে যাওয়া বন্ধুকে খুঁজে দিয়েছে, দূরের বন্ধুকে কাছে এনেছে, যোগাযোগহীনতার একটা অবসান ঘটিয়েছে। তারপরও মানুষের আত্মকেন্দ্রিকতা, স্বার্থপরতার অবসান কতটা ঘটেছে তা ভিন্ন প্রসঙ্গ। Continue reading

অভিবাসীদের আচরণ গেলানো!

finland-migrants

গত বছর ১০ লাখেরও বেশি মানুষ ইউরোপে পাড়ি জমিয়েছে। ফিনল্যান্ডে গেছে ৩২ হাজারেরও বেশি

শিক্ষা মানে আচরণের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন। শিক্ষিত ব্যক্তি মার্জিত ও বাঞ্ছিত আচরণের অধিকারী। কোথায় কী করতে হবে, বলতে হবে, কীভাবে চলতে হবে, ব্যক্তি সে কাণ্ডজ্ঞান শিক্ষার বদৌলতে অর্জন করেন। তারপরও কথা থাকে। মানুষ যে সমাজে বাস করে সেখানকার আচরণ এক রকম; অন্য দেশের আচরণ-মূল্যবোধ আবার আরেক রকম। আরেক সমাজে গেলে সে অনুযায়ী তাকে চলতে হয়। এখানে অনেকের ভুল হওয়া স্বাভাবিক। ফিনল্যান্ড হয়তো এ জন্যই অভিবাসীদের ‘আচরণ’ শেখাচ্ছে। শুক্রবার বিবিসি ম্যাগাজিনে প্রকাশিত ‘টিচিং মাইগ্র্যান্টস হাউ টু বিহেভ’ প্রতিবেদন সে কথাই বলছে।
মানুষ নানা কারণে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গা, এক দেশ থেকে আরেক দেশ, এক মহাদেশ থেকে আরেক মহাদেশে যায়। গতিশীল মানুষ যেমন ভ্রমণপ্রিয় তেমনি নতুন নতুন অভিজ্ঞতা লাভে আগ্রহী। কাজের ক্ষেত্রেও বৈচিত্র্য খোঁজেন অনেকে। ঘুরে বেড়ান দেশে-বিদেশে। কাজ, পড়াশোনা, ভ্রমণ ইত্যাদির বাইরেও মানুষ বাধ্য হয়ে আশ্রয়ের খোঁজে অন্য দেশে যান। Continue reading

জীবন ও দ্রোহের কবিতা

Poem-didarহোসাইন মোহাম্মদ দিদারের ‘কাছে থেকো হৃদয়ের’ ও ‘সর্বাঙ্গে তোমার বিচরণ’ দুটি কবিতার বই। তাকে প্রেমিক কবি বলা যায়। উভয় বইয়ের প্রথম পৃষ্ঠায় বইয়ের নামের ওপর ব্র্যাকেটে তা পাঠকদের কাছে স্পষ্ট করেছেন। প্রথমটিতে লিখেছেন প্রেম ও দ্রোহের শ্রেষ্ঠ কবিতা নিয়ে। আর দ্বিতীয়টিতে লিখেছেন জীবন ও প্রেমের শ্রেষ্ঠ কবিতা নিয়ে। বলাবাহুল্য, কবির অসংখ্য কবিতা থেকে বাছাইকৃত শ্রেষ্ঠ কবিতাই বই দুটিতে স্থান পেয়েছে। তবে উভয়টিতেই প্রেম কমন। বইগুলো দেখে তাই কবি কিসের প্রেমিক তা খোঁজার চেষ্টা করি। ‘তোমরাই ঋণী’ কবিতায় পেয়েও যাই। তিনি লিখেছেন_ ‘এই দিনমজুর, বস্তিবাসী না থাকলে/তোমাদের মিছিল জমবে না। জমবে না সমাবেশ। রক্তাক্ত করতে পারবে না/মিছিলে মিছিলে রাজপথ। তোমরাই ঋণী তাদের কাছে।’ কবি দিনমজুরের কথা বলেছেন। তিনি আসলে মানবপ্রেমী। অবশ্য তাকে কেবল প্রেমের ফ্রেমে আবদ্ধ করা কঠিন। তিনি তার কবিতায় স্বাধীনতার কথা বলেছেন। বলেছেন গণতন্ত্রের কথা, স্বপ্নের কথা। মৃত্যুর কথাও এসেছে কবিতায়। ভালোবাসার কথা তো আছেই। কবি ও কবিতার বন্দনা গেয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে তারুণ্যের জয়গান গাইতেও ভোলেননি। কবি নামক কবিতায় তা-ই স্পষ্ট হয়_ ‘আমি রবির দলের তরুণ কবি’। তরুণ কবি দিদার নানা উপমা কবিতায় এনেছেন। সেসব তার কবিতার সৌন্দর্য আরও বাড়িয়েছে। তিনি লিখেছেন_ এতো দিন হৃদয় মহলের/সব দরজা-জানালা/খোলা ছিলো/ছিলো না কোনো প্রহরী। আরও লিখেছেন_ আমাকে সোনা ভেবে/ হাতে তুলে নিয়ে/আবার মাটির দলা মনে করে/ ছুড়ে ফেলে দিলে। এ রকম নানা জায়গায় অসাধারণ উপমা পাঠককে ধরা দেবে। কবি অবশ্য কবিতায় প্রকৃতির কথাও ভোলেননি। ভোলেননি দেশমাতৃকার প্রতি মানুষের দায়িত্বের কথা। Continue reading