Tag Archives: মানুষ

অপরাধবোধ এবং এক নিষিদ্ধ গল্প!


উপন্যাস- গল্পটি শুনতে চেয়ো না
লেখক- সোহেল নওরোজ,
প্রকাশক- দেশ পাবলিকেশন্স
প্রচ্ছদ- সোহানুর রহমান অনন্ত

নাই কাজ তো খই ভাজ। লেখক বলছেন, না খইও ভাজা যাবে না; কারণ এটাও একটা কাজ। অলসভাবে শুয়ে থাকাটাই হতে পারে কাজহীন অবস্থা কাটানোর শ্রেষ্ঠ উপায়। যদিও এর সঙ্গে ‘গল্পটি শুনতে চেয়ো না’ উপন্যাসের মূল ‘গল্পের’ কোনো সম্পর্ক নাই। তাহলে গল্পটা কী। যে গল্পটি শুনতে চাওয়া বারণ? যে গল্পটি হাফিজুল হক তার মেয়ে অর্পাকেও শুনতে দেননি। গল্পটা ঠিকই সোহেল নওরোজ পাঠকদের শুনিয়েছেন। কিন্তু সব পাঠকই যে তা ধরতে পারবে, সে নিশ্চয়তা দেওয়া যাচ্ছে না। লেখকের মুনশিয়ানা বোধহয় এখানেই।

মোচড়ের পর মোচড় আর মন খারাপ করে দেওয়া উপন্যাসটি শুরু হয়েছে হাফিজুল আর মেয়ে অর্পার কথোপকথন দিয়ে। হাফিজুল হক লেখক মানুষ। একটি উপন্যাস তিনি দাঁড় করাচ্ছেন। উপন্যাসের চরিত্রগুলো লেখার সঙ্গে সঙ্গে হাতেও আঁকছেন। প্রথমে এসেছে এতিমখানার নাহিদ আর অনিকেত। মেধাবী নাহিদ অনিকেতের খপ্পরে পড়ে সামান্য অন্যায়ের শাস্তির মুখোমুখি হওয়ার ভয়ে এক রাতে বেরিয়ে পড়ে অজানার উদ্দেশে। তারা ওঠে অনিকেতের পরিচিত এক কাকির বাসায়। সেখানে নাহিদকে চিঠি দিয়ে আবারও অনিকেতের নিরুদ্দেশ যাত্রা। এরপর নাহিদকে কেন্দ্র করে আগায় উপন্যাসটি। যেখানে নাহিদের এগিয়ে চলার প্রেরণা ছিল অনিকেতের চিঠি। Continue reading

মানুষের ভিড়ে একা!

চারদিক লোকে লোকারণ্য। যেখানেই যাওয়া যাক মানুষের ভিড়ে লম্বা লাইনে দাঁড়ানো কিংবা হারিয়ে যাওয়ার অবস্থা। শহরে তো গিজগিজ করছে মানুষ; বাসে পা ফেলার জায়গা নেই; হাসপাতালে মানুষের অভাব নেই; ব্যাংকে লম্বা লাইন; রেস্টুরেন্টে বসার জায়গা নেই। সর্বত্র মানুষ আর মানুষ। অথচ এই মানুষের ভিড়ে আমরা ভীষণ একাকী। সবাই দৌড়াচ্ছে, যে যার কাজে, পাশের জনকে দেওয়ার মতো সময় নেই; প্রতিবেশীর খোঁজ নেওয়ার ফুরসত নেই; রাস্তায় বিপদে পড়া মানুষের সাহায্যে আসার অবস্থা নেই। স্ত্রী-সন্তানকে সময় দেওয়ার অবকাশ ও প্রিয় মানুষকে কাছে পাওয়ার উপায় নেই। সবাই চলছে যে যার মতো। এই একাকিত্বে বয়সেরও বালাই নেই।
আমরা ভাবি, হয়তো বৃদ্ধ, পঁচাত্তরোর্ধ্ব মানুষই একাকিত্ব বোধ করে। কিন্তু না; ১ অক্টোবর বিবিসি প্রকাশিত এক জরিপ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ১৬ থেকে ২৪ বছর বয়সীরাই বেশি একাকী থাকে। ‘আই অ্যাম সারাউন্ডেড বাই পিপল, বাট ফিল সো লোনলি।’ অর্থাৎ আমার চারপাশে মানুষ, কিন্তু আমি ভীষণ একাকিত্ব বোধ করি- শিরোনামে বিবিসির ওই প্রতিবেদনটি মূলত বিশ্বব্যাপী দুই শতাধিক দেশের মানুষের ওপর করা জরিপের ফল। বিশ্বব্যাপী ৫৫ হাজার মানুষের ওপর করা এই জরিপটি এমন দিনে প্রকাশ হলো, যেদিন ছিল বিশ্ব প্রবীণ দিবস। সমাজে নানাভাবে প্রবীণরা উপেক্ষিত। নানা কারণে তাদের অনেক সময় একাকিত্বে কাটাতে হয়। আমাদের পূর্বসূরি শ্রদ্ধেয় মানুষের প্রতি সবার কর্তব্য আছে, সেটা ঠিক। কিন্তু বিবিসি যেটা দেখাচ্ছে, আমাদের নতুন প্রজন্মই বেশি একাকিত্বে ভুগছে। সেটা একটি সংকেতও বটে।

Continue reading

সম্প্রীতির উদাহরণ

সব পথ, মত ও ধর্মের সহাবস্থান সামাজিক সম্প্রীতির অংশ। এ সম্প্রীতি রক্ষায় কিছু কিছু দৃষ্টান্ত অনুপ্রেরণার। সাম্প্রতিক উদাহরণ বোধ হয় ৪ জুন আনন্দবাজারে প্রকাশিত একটি খবর। ‘রমজানে নিয়মিত রোজা রাখে এই হিন্দু পরিবার’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি বলছে কলকাতার বারাসাতের হিন্দু পরিবারটি কেবল রোজাই রাখে না, একটি মসজিদও দেখাশোনা করে। সেখানে জুমার নামাজ, রমজানে তারাবি-ইফতার সবই হয়। প্রতিবেদনটি বলছে, ৬৭ বছর বয়সী দীপক বসু নিজে রোজা রাখতে না পারলেও তার ছেলে নিয়মিত রোজা রাখেন। মসজিদে ইমামের সঙ্গে ইফতার করেন। দীপক বসুর আদি নিবাস আমাদের খুলনার ফুলতলার আলকাগ্রামে। ১৯৬৪ সালে পূর্ব পাকিস্তানে দাঙ্গার সময় কলকাতার বারাসাতের ওয়াজুদ্দিন মোড়লের বিশাল সম্পত্তি পাল্টাপাল্টি করে ওপারে চলে যান। সে জমির মালিকানায় মেলে একটি মসজিদ। মসজিদটি আজও বসু পরিবারটি রক্ষণাবেক্ষণ করে চলেছে। এমনকি আড়াই দশক আগে যখন উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা অযোধ্যার বাবরি মসজিদ ভাঙে, তখনও বসু পরিবার পাহারা দিত যাতে মসজিদের গায়ে কোনো আঁচড় না লাগে। মসজিদটিতে কোনো অনুদান গ্রহণ করা হয় না। ২৭ রমজানে লাইলাতুল কদরে কোরআন পড়া সম্পূর্ণ হলে চাঁদা তুলে পাড়ার সবাইকে খাওয়ান রোজাদাররা।
প্রায় এ রকমই আরেক সম্প্রীতির প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে কলকাতার জোড়াসাঁকোর মার্বেল প্যালেস মসজিদ। মসজিদটি বাঙালি বাবুর মসজিদ নামে পরিচিত হলেও এটি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে হিন্দু ট্রাস্ট। বিশেষভাবে বললে একটি হিন্দু পরিবার।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম সংবাদ প্রতিদিন ডট আইএন-এ প্রকাশিত ‘কলকাতার মসজিদের রক্ষণাবেক্ষণে নিযুক্ত হিন্দুরা!’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এর বিস্তারিত রয়েছে। প্রতিবেদনটি বলছে, মলি্লক পরিবারের দেবোত্তর জমিতে তৈরি মসজিদটির বয়স ১৮১ বছর। মসজিদটি মলি্লক পরিবার দীর্ঘ সময় ধরে দেখাশোনা করে আসছে।
হিন্দুপ্রধান দেশ ও হিন্দুপ্রধান এলাকায় এ দুটি মসজিদ ও দুটি পরিবারের কাহিনী প্রেরণার। এ রকম দৃষ্টান্ত যুগে যুগে নানা জায়গায় আমরা দেখেছি। ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হজরত ওমরের (রা.) সময়কার একটি ঘটনাও প্রাসঙ্গিক। Continue reading

স্বেচ্ছাশ্রমের প্রেরণা

স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত সাঁকো

মানুষ শ্রম দেয় নিজের জন্য, আবার কখনও কখনও স্বেচ্ছায় শ্রম দেয় দেশ ও দশের জন্য। ৮ মে সমকালের লোকালয়ে প্রকাশিত ‘স্বেচ্ছাশ্রমে সাঁকো নির্মাণ’ প্রতিবেদনটিই এর প্রমাণ। প্রতিবেদনটি বলছে, সাঁকোটি নির্মাণ হয়েছে শেরপুরের কেউটা বিলের ওপর। বিলটির এক পাড়ে তিরছা পূর্বপাড়া, পশ্চিমপাড়া, দক্ষিণপাড়াসহ তিন গ্রাম। অন্যপাড়েও রয়েছে কতগুলো গ্রাম। ওই বিলে গ্রামগুলোর দরিদ্র কৃষক ও জেলে পরিবারের ৬০০ হেক্টর আবাদি জমি রয়েছে। এসব জমির ধান, সবজি ও বিলের মাছ বিক্রি করে তাদের সংসার চলে। বর্ষাকালে জলপথে ছোট নৌকা দিয়ে ধান ও সবজি পারাপার করেন গ্রামগুলোর শত শত কৃষক ও জেলে। এতে ভোগান্তিতে পড়তে হয় তাদের। বৃষ্টি হলে বাড়ে দুর্ভোগ। এ অসুবিধা দূর করতে গ্রামের মানুষের স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত হয়েছে সাঁকো। সাঁকোটি নির্মাণে গ্রামের সব মানুষ উপকৃত হবেন, এটাই স্বাভাবিক।
এমন সময় স্বেচ্ছাশ্রমে সাঁকোটি নির্মাণ হলো, যখন এ ধরনের গণউন্নয়নমূলক কাজে সবাই সাধারণত সরকার বা স্থানীয় প্রতিনিধিদের দিকে তাকিয়ে থাকে কিংবা তাদের কাছে ধরনা দেয়। এখানে গ্রামবাসী তা না করে নিজেরাই উদ্যোগী হয়েছে। স্বেচ্ছাশ্রমে সাঁকো নির্মাণ, রাস্তা সংস্কার, প্রতিষ্ঠান নির্মাণ ইত্যাদি নানা কাজের খবর প্রায়ই সংবাদমাধ্যমে আসে। এর মধ্যে হয়তো কোনোটি নিজেরাই উদ্যোগী হয়ে স্বেচ্ছায় করেছে; আবার কোনোটি হয়তো করতে বাধ্য হয়েছে। অনেক সময় দেখা যায়, মানুষ দুর্ভোগ পোহালেও কর্তৃপক্ষের টনক নড়ে না। রাস্তাঘাট-পুল-কালভার্ট দিনের পর দিন ব্যবহারের অনুপযুক্ত হয়ে থাকলেও তা সংস্কার করা হয় না। এমনকি কোথাও তার জন্য আন্দোলন করেও কাজ হয় না। এমতাবস্থায় যে স্বেচ্ছাশ্রমই ভরসা। Continue reading

… ছাড়া চলেই না!

শূন্যস্থানে হয়তো অনেক কিছুই বসানো যাবে। সত্যিকারার্থেই এমন কিছু বিষয় রয়েছে যেগুলো ছাড়া চলে না। যেমন বাঁচতে হলে খেতে হবে, ঘুমাতে হবে, পোশাক লাগবে, থাকার ব্যবস্থা লাগবে। কিন্তু দিন দিন এমন বিষয়ও অনেকের আবশ্যকীয় তালিকায় চলে এসেছে, যেটা হয়তো কিছু দিন আগেও নিত্যব্যবহার্য ছিল না। এখন সেসব ছাড়া যেন চলেই না। অনেকের ফেসবুক ছাড়া চলে না। কারও সবসময় ইন্টারনেট লাগবেই। মোবাইল ছাড়াও যে অচল। ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ান অনলাইনের লাইফ অ্যান্ড স্টাইল বিভাগে ‘হোয়াট আই এম রিয়েলি থিংকিং’_ সতিকারার্থেই ‘আমি কী ভাবছি’ শিরোনামে অনুবিভাগটি দেখছি আর আমাদের সাধারণ কিছু না থাকার ‘অসাধারণ’ অভিব্যক্তির কথা ভাবছি।

আসলে তথ্যপ্রযুক্তিসহ কিছু বিষয়ের ওপর মানুষ এত বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে যে, এগুলো অল্পসময় হাতছাড়া হলেও যেন কী অস্বস্তি। হয়তো আপনি বাজারে এসেছেন অল্প সময়ের জন্য, মোবাইলটি আনতে ভুলে গেছেন। সারা পথ কিংবা যতক্ষণই বাজারে থাকছেন আপনার মনে হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ কিছু নেই বা মারাত্মক ভুল করে ফেলেছেন, ভুল করার জন্য আফসোসের শেষ নেই। আবার ধরুন, কারিগরি ত্রুটির কারণে ইন্টারনেট নেই। মনে হবে যেন ইন্টারনেট না থাকার কারণে সব কাজ আটকে আছে। ইন্টারনেট ছাড়া যেন এক মূহুর্তও চলে না। বিদ্যুতের অবস্থাও তথৈবচ। বিদ্যুৎ না থাকলে তো নগরজীবন অচল। Continue reading

ঢাকার শীত, গ্রামের শীত

gai-winter-36441গ্রামে ঘুমুতে যখন লেপ-কম্বলেও শীত মানছে না, রাজধানীতে তখন এক-দুটো পাতলা কাঁথায় দিব্যি চলছে। গ্রামে পৌষের শীতে যখন সবাই গরমের পোশাকে জবুথবু, ঢাকায় পাতলা জামায় চলছে তখন। দূরত্বের দিক থেকেও যে খুব বেশি তা নয়। তার পরও রাজধানী বলে কথা। মানুষের কোলাহলে শীত বুঝি আসতে ভয় পায়! আর প্রায় সর্বক্ষণ দরজা বন্ধ থাকা রুমে শীত ঢুকবেই বা কীভাবে!
এ বছর অবশ্য এতদিনে ঢাকায় তেমন শীতের দেখা না মিললেও শনিবার মাঘ আসার সঙ্গে সঙ্গে ভালোভাবেই শীত অনুভূত হচ্ছে। বাইরে বের হলেই শৈত্যপ্রবাহ টের পাওয়া যাচ্ছে। অন্যের গায়ে গরমের পোশাক দেখেও তো বলা যায়, শীত যে সত্যি জেঁকে বসেছে।
শীতে গ্রামের চিত্র একরকম, শহরের অন্যরকম। গ্রামে সবাই মিলে লাকড়ি জ্বালিয়ে আগুন পোহানোর মধুর চিত্র দেখা যায়, দেখা যায় সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ির আঙিনায় রোদ পোহানোর দৃশ্য। প্রকৃতির পরিবর্তনও গ্রামে লক্ষণীয়; মাঠে-জমিতে সবুজ শাকসবজি আর রসের হাঁড়ি নিয়ে খেজুর গাছে কৃষক। রাজধানীতে এসব চিত্র বিরল। রাজধানীর চিত্র অবশ্য দু’রকম। কৃত্রিম উপায়ে শীত নিবারণের ব্যবস্থা এখানে যেমন রয়েছে একই সঙ্গে শীতবস্ত্রহীন অসহায় মানুষের সংখ্যাও নেহাত কম নয়। রাজধানীতে যারা পথেঘাটে থাকে অনেকে অনেক কষ্টে শীতের দিন কাটায়। কম শীত হলে না হয় রাজধানীর ‘গরমে’ তাদের সমস্যা কম হয় কিন্তু শীতের প্রকোপ যখন বেশি তখন ভোগান্তিও কম নয়। Continue reading

লম্বা কিংবা খাটো

Tall_Small-peopleমানুষের বৈচিত্র্য তার ব্যক্তিত্বে, আচরণে, চরিত্রে এবং উচ্চতায়ও। যদিও দুনিয়ার এক মানুষের সঙ্গে অন্য মানুষের চেহারায় মিল না থাকলেও উচ্চতায় মিল থাকতে পারে। সেদিক থেকে উচ্চতাগত বৈচিত্র্য কম। তারপরও লম্বা, মধ্যম, খাটো_ তিন ধরনের বিশেষণে বিশেষায়িত করা যায়। এ বিশেষণ পৃথিবীর সবার জন্য সত্য। তবে ব্যক্তিগত হিসেবের বাইরে দেশ-অঞ্চলভেদেও পার্থক্য দেখা যায়। মঙ্গলবার বিবিসি অনলাইন উচ্চতা নিয়ে এক গবেষণার খবর দিয়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, নেদারল্যান্ডসের পুরুষ ও লাটভিয়ার নারী সবচেয়ে বেশি লম্বা। ই-লাইফ জার্নালে প্রকাশিত গবেষণাটিতে উচ্চতায় গত একশ’ বছরের ট্রেন্ড বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষণায় বাংলাদেশ প্রসঙ্গও এসেছে। যেখানে বেঁটের তালিকায় বাংলাদেশের নারীরা রয়েছেন দ্বিতীয় স্তরে।

মানুষের উচ্চতা যেমন জিন ও পরিবেশগত বিষয়ের ওপর নির্ভর করে, তেমনি নির্ভর করে তার খাদ্য ও পুষ্টির ওপর। সার্বিক সুস্থতা ও হরমোনের ওঠানামার সঙ্গেও উচ্চতার সম্পর্ক রয়েছে। সাধারণত দেখা যায়, লম্বা মা-বাবার সন্তান লম্বা হয়। বেঁটে দম্পতির সন্তান বেঁটে হয়। তবে ব্যতিক্রমও রয়েছে। অনেক সময় লম্বা দম্পতির সন্তান যেমন বেঁটে হয়, তেমনি বেঁটে দম্পতির সন্তানও লম্বা হতে দেখা যায়।
উচ্চতার দিক থেকে বলা চলে, বাংলাদেশের মানুষের অবস্থান মাঝামাঝি পর্যায়ে। গালিভারসের গল্পের মতো Continue reading

এই তবে ছাগল!

Goat-friendকাউকে বোকা বোঝানোর জন্য অনেকে সাধারণত ছাগলের সঙ্গে তুলনা করেন। কাউকে হেয় প্রতিপন্ন করারও মোক্ষম শব্দ বোধ হয় ছাগল। ছাগলকে আমরা বোকা ভাবলেও বিজ্ঞানীরা বলছেন, ছাগল আসলে বুদ্ধিমান। আমরা যতটা বুদ্ধিমান ভাবি, ছাগল তার চেয়েও বেশি বুদ্ধিমান। গবেষণায় এও দেখা গেছে, ছাগল মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে। ফলে বিজ্ঞানীরা বলছেন, ছাগল মানুষের সেরা বন্ধু। সম্প্রতি প্রভাবশালী ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান গবেষণার খবরে বলেছে, নো কিডিং, ম্যান’স নিউ বেস্ট ফ্রেন্ড ইজ এ গোট; ইয়ার্কি নয়, মানুষের নতুন সেরা বন্ধু একটি ছাগল। আর নিউজউইক লিখেছে, গোটস :ম্যান’স নিউ বেস্ট ফ্রেন্ড? সায়েন্স সেইস ইট’স পসিবল। বিজ্ঞান যে বলছে এটা সম্ভব, তার প্রমাণও দিয়েছে। যুক্তরাজ্যের রয়্যাল সোসাইটির জার্নাল বায়োলজি লেটার্সে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যায়, প্রশিক্ষণরত কয়েকটি ছাগলের সামনে একটি করে খাবারের বাক্স রাখা হয়, একটি বাদে বাকি সবক’টি ছাগলই কয়েকবারের চেষ্টায় বাক্সগুলো খুলতে সক্ষম হয়। তবে তার আগে দুয়েকবার চেষ্টা করে ব্যর্থ হওয়ার পর তারা কাছে থাকা মানুষের দিকে তাকায়। তাদের চাহনিতে ছিল বন্ধুত্বের আহ্বান। মানুষের দিকে তাকানোর মানে হচ্ছে তারা খুলতে ব্যর্থ। তাই সহযোগিতা প্রয়োজন। বিজ্ঞানীরা এও বলছেন, ঠিক একইভাবে তাকায় কুকুরও। ছাগল যখন মানুষের দিকে তাকায়, তার স্থিরদৃষ্টিতেই উভয়ের মাঝে একটি যোগাযোগ তৈরি হয়। ছাগল প্রভুভক্ত। তার চাহনি, লেজ নাড়াচাড়া করা কিংবা ডাকলে কাছে আসার মাধ্যমে ছাগল তার প্রমাণ দেয়। Continue reading

মামা সংস্কৃতি!

চলতে-ফিরতে বিশেষ করে বর্তমান প্রজন্মের মুখে সম্বোধনে বহুল ব্যবহৃত যে শব্দটি শোনা যায়, তা মামা। রিকশা-গাড়িচালক, দোকানদার, হোটেল বয় থেকে শুরু করে বন্ধু-বান্ধবও একে অপরকে মামা ডাকছে অবলীলায়। বয়সের ভেদ নেই, পেশার বালাই নেই, রক্তের সম্পর্ক নেই, পরিচিত হওয়ার ব্যাপার নেই_ যেন গণ-মামা। যাদের ডাকছে তারাও সাড়া দিয়ে যাচ্ছেন। কোনো বিকার নেই। অনেকে সম্বোধনকারীকেও মামাই বলছেন। সম্প্রতি এক ভিক্ষুকের কাছ থেকেও শোনা গেল_ ‘দিয়া যান মামা।’ এ এক অদ্ভুত ব্যাপার! সহপাঠীর সঙ্গে আড্ডা-আলোচনায়ও মামার প্রাধান্য। আজকাল টিভি নাটক, বিজ্ঞাপন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও দেখা যায় বন্ধু তার বন্ধুকে বলছে, জোস হইছে মামা। দেখাদেখি অন্যরাও শিখছেন। রিকশাওয়ালা সে রকম যাত্রী পেলে বলছেন, ‘যাবেন নাকি মামা?’ মামা যেন একটা সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। কীভাবে এ মামা আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের অংশ হয়ে উঠল তা এক গবেষণার বিষয়।
মায়ের ভাই হন মামা। মামা-ভাগ্নের সম্পর্ক হয়তো বন্ধুত্বপূর্ণ। মামার সঙ্গে সময়ে সময়ে ঠাট্টা-মশকরাও করা যায়। মামারা ভাগ্নেদের অনেক ‘গোপন’ ব্যাপারে নাকি সাহায্যও করেন। তাই বলে বন্ধুকেও মামা বলতে হবে! গণভাবে যাকে-তাকে মামা বলারই-বা হেতু কী! Continue reading

স্মার্ট বটে

Touchscreen smartphone with Earth globe

স্মার্টফােনে দুনিয়া

দেশে মোবাইল ফোনের উত্থান রীতিমতো এক বিপ্লব। অনেকের চোখের সামনে দিয়ে নীরবে এ বিপ্লব সংঘটিত হয়ে গেছে। নতুন প্রজন্ম তো বটেই, এক যুগ আগে মোবাইল ফোন ছাড়া যাদের দিব্যি সময় কাটত, এখন এটি ছাড়া যেন তারাও অচল। মোবাইল সহজলভ্য হয়েছে। ১১ ডিজিটের নম্বর মানুষের হাতে হাতে এসেছে। এখানে গরিব-ধনীর পার্থক্য নেই। নম্বরে না হলেও পার্থক্য বোধহয় এক জায়গায় আছে_ মোবাইল সেটে। দামের তারতম্যের কারণে বেশি দামের মোবাইল সেট কেনার সামর্থ্য হয়তো সবার নেই। যাদের টাকা আছে বেশি তারা দামি সেট ব্যবহার করতে পারেন। আজকাল বেশি দামের মোবাইল সেট মানে অবধারিতভাবেই স্মার্টফোন। তবে আমাদের ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রীর সাম্প্রতিক ঘোষণায় বোঝা যাচ্ছে, সে পার্থক্যও তেমন থাকছে না। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে তিনি ২৫ থেকে ৩০ টাকার মাসিক কিস্তিতে স্মার্টফোন দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে টেলিকম সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। Continue reading