Tag Archives: ভারত

কর্তৃত্ববাদের বিরুদ্ধে অহিংস প্রতিবাদ

যদি কর্তৃত্ববাদের আচরণ একই হয়, সেখানে প্রতিবাদের ক্ষেত্রে অভিন্ন কারণও স্পষ্ট।

লেখক: অমর্ত্য সেন

দার্শনিক এমানুয়েল কান্ট যেমনটা বলেছেন, ‘যে কোনো বিষয়ে কারও মত প্রকাশ্যে তুলে ধরার স্বাধীনতার’ মতো গুরুত্বপূর্ণ আর কী হতে পারে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, কান্ট এটাও বলেছেন, সমাজই তর্কের সুযোগ প্রায়শ বন্ধ করে দেয়। কখনও কঠোরভাবেই বন্ধ করে। আজকের বিশ্বের একটি দুঃখজনক বাস্তবতা হলো- এশিয়া, ইউরোপ, লাতিন আমেরিকা, আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ, এমনকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও কর্তৃত্ববাদী শাসনের প্রবণতা লক্ষণীয়। অপ্রিয় হলেও সত্য, এ তালিকায় আমার দেশ ভারতকেও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। ভারতও সেই দুর্ভাগ্যজনক দেশগুলোর অন্যতম।

ভারত ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন থেকে স্বাধীন হওয়ার পর কয়েক দশক ধরে ব্যক্তিস্বাধীনতাসহ অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক চর্চার মধ্য দিয়ে অগ্রসর হয়েছিল। মানুষ তাদের স্বাধীনতার প্রতি দায়বদ্ধতার পরিচয় দেয়। তারা কঠোর ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচির মাধ্যমে কর্তৃত্ববাদী শাসন ব্যবস্থার বিলোপ সাধন করে সেই স্বাধীনতার প্রতি তাদের সংকল্পও প্রদর্শন করে। উদাহরণস্বরূপ ১৯৭৭ সালের নির্বাচনের কথা বলা যায়। যে নির্বাচনে স্বৈরাচারী আইন যাকে ‘জরুরি অবস্থা’ বলে ঘোষণা করা হয়, তাকে মানুষ কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছিল। সরকার দ্রুতই তা মেনে নেয়।

যা হোক, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে স্বাধীনতা দৃশ্যত অনেকের ক্ষেত্রেই অকার্যকর হয়ে পড়েছে। তারই আলোকে বর্তমান সরকার সেখানে ভিন্ন ধরনের সমাজ গড়তে আগ্রাসী নজির হাজির করছে। সরকারবিরোধী আন্দোলন দমন করতে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে, যাকে বিস্ময়করভাবে গ্রেপ্তারের প্রয়োজনীয় উপাত্ত হাজির করে ও বিরোধী নেতাদের বন্দি করে ‘রাষ্ট্রদ্রোহ’ হিসেবে বর্ণনা করছে সরকার। এ প্রক্রিয়ার ভেতরে স্বৈরাচারী মনোভাবের বাইরেও চিন্তার গভীর সংশয় রয়েছে। কারণ সরকারের সঙ্গে দ্বিমত মানে রাষ্ট্রদ্রোহ কিংবা কাউকে উৎখাত নয় Continue reading

ভারতে ভুয়া খবরের জমজমাট বাজার

ভারতের লোকসভা নির্বাচন শুরু হচ্ছে ১১ এপ্রিল ২০১৯

মূল : ক্রিস্টোফ জ্যাফ্রেলট

গত মাসে মাইক্রোসফট একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তাতে বলা হয়, বিশ্বের যে কোনো দেশের তুলনায় ভারতে বেশি ভুয়া খবর বের হয়। তা না হলে শত বছর আগের সত্য কীভাবে এখন এসে মিথ্যা হিসেবে প্রচার পায়? অথচ স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতী লিখেছেন- সত্যার্থ প্রকাশ। মাহাত্মা গান্ধী লিখেছেন- দ্য স্টোরি অব মাই এক্সপেরিমেন্টস উইথ ট্রুথ।
সম্প্রতি দাবি করা হয়, কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সংযুক্ত প্রগতিশীল জোট বা ইউপিএ জইশ-ই-মোহাম্মদের প্রতিষ্ঠাতা মাসুদ আজহারের মুক্তির জন্য দায়ী। প্রকৃত সত্য হলো, তাকে বিজেপির প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারি বাজপেয়ি সরকার পাকিস্তানের হাতে তুলে দেয়। আবার প্রচারণা চালানো হয় যে, পাকিস্তান যখন ১৯৬৫ সালে ভারত আক্রমণ করে, জওহরলাল নেহরু তখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। অথচ তখন ভারতের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন লাল বাহাদুর শাস্ত্রী। আবার ভারতের অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলির মতে, জওহরলাল নেহরু ইন্দিরা গান্ধীকে কংগ্রেস সভাপতি করে রাজনৈতিক উত্তরাধিকার প্রথা চালু করেন। আসলে নেহরু বিষয়টি অনেক আগেই পরিস্কার করেন, কংগ্রেস চাইলে এ সিদ্ধান্ত নিতে পারে- কে তার আসনে বসবেন।
এ রকম ভুয়া খবর নিয়ে ভারতের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সরগরম। সম্প্রতি ভারতের নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা ফেসবুক, টুইটার, হোয়াটসঅ্যাপ, গুগল ও টিকটকের মতো ইন্টারনেট অ্যাপিল্গকেশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দু’দিনব্যাপী বৈঠক করেন। ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার সুনিল অরোরা বলতে বাধ্য হয়েছেন, ‘আমরা চাই যাতে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে একটি নির্দিষ্ট আচরণবিধি রাখা হয়, যাতে করে এই অ্যাপগুলোকে ভুল খবর ছড়াতে ব্যবহার না করা যায়। কেন ভারতে এ রকম ভুয়া খবর প্রচার হচ্ছে? এসব খবর ভারতের জন্যই সম্মানহানিকর।’
গত পাঁচ বছরে অনেক গুজব ছড়ানো হয়। এমনকি ফটোশপে ছবি সম্পাদনা করে দেখানো হয় যে, ১৯৮৮ সালে কাবুলে আবদুল গাফফার খানের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় রাজীব গান্ধী ও রাহুল গান্ধী হাজির হন। এটাও বলা হয়, ইন্দিরা গান্ধীকে মুসলিম কায়দায় সমাহিত করা হয়। ফটোশপে আরও দেখানো হয়, বর্তমান রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী আশোক গহলোট পাকিস্তানের পতাকা উড়াচ্ছেন। আরও দেখানো হয়, রোহিঙ্গারা হিন্দুদের হত্যা করে তাদের গোশত খাচ্ছে। এ রকম তালিকা আরও দীর্ঘ। Continue reading

আসাম : ঠিকানাবিহীন ৪০ লাখ মানুষ!

৩০ জুলাই প্রকাশিত আসামে জাতীয় নাগরিকত্ব নিবন্ধন তথা এনআরসির চূড়ান্ত খসড়ায় বাদ পড়ে ৪০ লাখ মানুষ

বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক দেশ ভারতে যখন ৪০ লাখ মানুষের নাগরিকত্ব নিয়ে বিতর্ক চলছে, তখন আমার মনে পড়ছে রাজা উশিনারার ঘটনা। ঘটনাটি মহাভারতের, যেটি আসলে একটি চমৎকার উদাহরণ যে, আমরা কীভাবে পোস্ট অফিসহীন মানুষের সঙ্গে আচরণ করব এবং তাদের রক্ষা করব।

ঘটনা হলো, একদিন এক ঘুঘু পাখি রাজা উশিনারার আদালতে আশ্রয় প্রার্থনা করে। পাখিটিকে একটি বাজপাখি দৌড়াচ্ছিল। রাজা বাজপাখিকে বলল, ঘুঘু পাখি তার আশ্রয়ে রয়েছে। সুতরাং তার দায়িত্ব হলো পাখিটিকে রক্ষা করা। উত্তরে বাজপাখি বলল, ঘুঘু হলো তার খাদ্য, তাকে না খেলে উপোস থাকতে হবে, সেটা সম্ভব নয়। তখন রাজা বলল, ঘুঘুর বদলে যে কোনো কিছু খেতে পার। কিন্তু বাজপাখি সিদ্ধান্তে অনড়, ঘুঘুই তার চাই। অবশেষে বাজপাখি বলল, আপনি যদি ঘুঘু পাখিকে রক্ষা করতেই চান, তাহলে আপনার শরীর থেকে কিছু গোশত দিন; তা আমি খাব। রাজা উশিনারা এ শর্তে রাজি হলেন এবং তার শরীরের গোশত থেকে বাজপাখিকে খেতে বললেন।

এ ঘটনার এক গভীর তাৎপর্য আছে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতে আমরা বাংলাদেশি শরণার্থীদের স্বাগত জানিয়েছিলাম। তারা হিন্দু-মুসলিম উভয় ধর্মের মানুষই ছিল। যদিও আমাদের কাছে তাদের বড় পরিচয় মানুষ, মানুষ হিসেবেই আমরা তাদের সংকটে আশ্রয় দিয়েছিলাম। আর আজ আসামে খাঁটি ভারতীয়দের বাস নিশ্চিত করার জন্য আমরা তাদের নিশ্চিহ্ন করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি; তাতে ৪০ লাখ মানুষ এখন দেশে অবৈধ নাগরিক হয়ে গেছে। Continue reading

আসামের অভিবাসন রাজনীতি

নাগরিকদের জাতীয় নিবন্ধন বা এনআরসির মাধ্যমে আসামে খাঁটি ভারতীয় খোঁজা হচ্ছে!

ভারতবর্ষের প্রথম গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংসের অভিশংসন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে লেখক ও দার্শনিক এডমন্ড বার্ক বলেছিলেন, ‘এমন ঘটনা ঘটেছে, যা নিয়ে কথা বলা কঠিন আর চুপ থাকা অসম্ভব।’ আর আসামের ক্ষেত্রে এটা এমন নয় যে, ঘটেছে বরং অবধারিতভাবেই ঘটানো হয়েছে। কিংবা ঘটানোর প্রক্রিয়ায় ছিল। গত দশকে যেটা ঘটে গেছে, তাকে আমাদের চারদিকের অবস্থার আলোকে বোঝা দরকার। বিষয়টি বুঝতে হলে আমাদের আসামের নাগরিক নিবন্ধন বা এনআরসি ও তার রাজনীতির দিকে তাকাতে হবে।

আসামে আজ যা ঘটছে, তা বুঝতে ২০১৭ বা ২০১৮ সালের ঘটনাপ্রবাহ থেকে শুরু করলে হবে না, এ ক্ষেত্রে ১৯৮৩ সালের রক্তাক্ত সন্ত্রাসী ঘটনার কথা বলতে হবে, অথচ ওই ঘটনা কেউই স্মরণ করতে চান না।

যা হোক, ১৯৪৬ থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত আসামের রাজনীতিতে যখন কংগ্রেস প্রভাবশালী ছিল, তখন কংগ্রেসের বাঙালি সেটলারদের মধ্যে এক বিশেষ সম্পর্ক গড়ে ওঠে, যারা সেখানে বিশ শতকের গোড়ার দিকে এসেছিল। এখন যে অভিবাসনের কথা বলা হচ্ছে, তা আসলে নতুন বিষয় নয়, সেটাও প্রায় শত বছর আগের বিষয়। সে সময় অভিবাসীদের বৈধতা দেওয়া হয়, তাদের থাকার জন্য ভূমি দেওয়া হয় এবং এর ফলে তারা কংগ্রেসকে ভোট দেয়। এর বিপরীতে জনপ্রিয় মত হলো, এগুলো রাজনৈতিক বা ক্যাডার বাহিনী দ্বারা বাস্তবায়ন হয়নি। বরং রাজস্ব কর্মকর্তারা অভিবাসীদের বাসস্থানের ব্যবস্থা করেছেন।

আমাদের সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদে অবশ্য জীবনধারণ ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার জন্য ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার অধিকারের সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। ১৯৮৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে সংঘটিত আসামের দাঙ্গায় যাদের পরিবারের সদস্যরা নিহত হয়েছেন, তারা কোনো ধরনের ক্ষতিপূরণ পাননি। তবে যারা পাঁচ হাজার করে ভারতীয় রুপি পেয়েছেন, তা ছিল সেসব মানুষের জন্য অপমানস্বরূপ, যারা তাদের সন্তান ও পরিবারের সদস্যদের হারায়। তাদের ধন-সম্পদ ধ্বংস করা হয়, এমনকি সেসব মানুষ বৃদ্ধ বয়সে এসেও আদালতে মামলা চালাচ্ছে।

Continue reading

এমন বিক্ষোভ নয় কেন

ধর্ষণের বিরুদ্ধে স্পেনের এ বিক্ষোভের মত প্রতিবাদ প্রয়োজন

স্পেনে গতকাল (শনিবার, ২৮ এপ্রিল ২০১৮) তৃতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ চলেছে। সেখানে হাজারো মানুষের স্বতঃস্ম্ফূর্ত অংশগ্রহণে এমন জোরালো আন্দোলন হচ্ছে ধর্ষণের বিরুদ্ধে। রোববার গার্ডিয়ান অনলাইনে যার শিরোনাম :প্রটেস্ট কন্টিনিউ ফর থার্ড ডে ওভার পাম্পলোনা গ্যাং রেপ একুইটাল অর্থাৎ স্পেনের পাম্পলোনা শহরের গণধর্ষণে অপরাধীদের খালাস দেওয়ার প্রতিবাদে তৃতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ চলছে। পাম্পলোনার পুলিশ বলছে, অন্তত ৩৫ হাজার মানুষ এ বিক্ষোভে অংশ নেয়। তারা স্লোগান দিচ্ছে, ‘এটা যৌন হয়রানি নয়, ধর্ষণ।’ কেবল পাম্পলোনায় নয়, মাদ্রিদ, বার্সেলোনা ও ভ্যালেন্সিয়াসহ কয়েকটি শহরেও বিক্ষোভ-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ঘটনা ২০১৬ সালের, পাম্পলোনা শহরের ষঁাঁড়-দৌড় প্রতিযোগিতার সময় ১৮ বছরের এক কিশোরী ওলফ প্যাক নামে একটি গোষ্ঠীর পাঁচ ব্যক্তি যৌন হামলা চালায়। আদালতে তারা নিপীড়নের দায়ে অভিযুক্ত হলেও ধর্ষণের অভিযোগ থেকে তাদের খালাস দেওয়া হয়েছে। এর প্রতিবাদেই সেখানে এমন বিক্ষোভ।
ভারতেও ধর্ষণের বিরুদ্ধে এমন বিক্ষোভ দেখে গেছে। বিশেষ করে এ মাসের মাঝামাঝি সময়ে উত্তরপ্রদেশের উন্নাওয়ে ১৭ বছরের মেয়েকে গণধর্ষণ, জম্মু ও কাশ্মীরের কাঠুয়ায় মাত্র ৮ বছরের শিশুকন্যা আসিফাকে অপহরণ, গণধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় ভারতজুড়ে বিক্ষোভ প্রদর্শিত হয়। আসিফা ধর্ষণ ও হত্যার বিচার দাবিতে বিক্ষোভে অংশ নেন প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস পার্টির সভাপতি রাহুল গান্ধী, তার মা সোনিয়া গান্ধী এবং বোন প্রিয়াংকা ভদ্র গান্ধী। দেশজুড়ে বিক্ষোভের মুখে বিজেপির দুই মন্ত্রী পদত্যাগ করেন।
আমাদের দেশে ধর্ষণ থেমে নেই। ৯ এপ্রিল ধামরাইয়ে বাসে গণধর্ষণের ঘটনা ঘটে। ২১ এপ্রিল রাজধানীর চলন্ত বাসে উত্তরা ইউনিভার্সিটির এক ছাত্রী যৌন হয়রানির শিকার হয়। এসব ঘটনায় কিছু প্রতিবাদ বিক্ষোভ হয়েছে বটে। কিন্তু সে অর্থে সমাজে স্বতঃস্ম্ফূর্ত ব্যাপক বিক্ষোভ দেখা যাচ্ছে না। Continue reading

অধিক যোগ্যতাসম্পন্ন পুলিশ!

মানুষ পুলিশ মানে বোঝে অন্যরকম ক্ষমতার অধিকারী। সেটা পুলিশের যে পর্যায়ের চাকরিই হোক না কেন।

লেখাটি যখন লিখছি (মঙ্গলবার বিকেল, ১৭ এপ্রিল ২০১৮) টাইমস অব ইন্ডিয়ার অনলাইন সংস্করণের প্রধান শিরোনাম– ‘কনস্টেবলস ইন গুজরাট আর ইঞ্জিনিয়ারস, এমবিএস অ্যান্ড টেকিস!’ অর্থাৎ গুজরাটের পুলিশ কনস্টেবলরা ইঞ্জিনিয়ার, এমবিএ পাস ও প্রযুক্তিবিদ! প্রতিবেদনটি গুজরাটের বরোদা রেঞ্জের আইজিপি, ২০১৭ সালের এলআরডি বা লোক রক্ষক দল এ নিয়োগ বোর্ডের প্রধান জিএস মল্লিকের তরফে বলছে- নিয়োগ পাওয়া ১৭,৫৩২ জন কনস্টেবলের মধ্যে অর্ধেকের বেশিই স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী। যেখানে আবেদনের যোগ্যতা ১২ শ্রেণি পাস, যেটি আমাদের এইচএসসি। এলআরডি বা লোক রক্ষক দল নামে এ চাকরিতে প্রথম পাঁচ বছর একটি নির্ধারিত টাকা বেতনে নিয়োগ দেওয়া হয়। পাঁচ বছর পর তাদেরকে নিয়মিত কনস্টেবল হিসেবে অভিষিক্ত করা হয়। প্রতিবেদনের শুরুতে আহমেদাবাদের নবরংপুরা পুলিশ স্টেশনের চিত্র উঠে এসেছে, সেখানে দু’জন এলআরডি জওয়ান রয়েছেন এমবিএ ডিগ্রিধারী, একই স্টেশনে এ রকম আরও পাঁচজন আছেন, যারা বিসিএ, বিএ, বিএড পিজিডিসিএ ও এমএসসির মতো প্রফেশনাল ডিগ্রিধারী।

আমাদের অবস্থাও যে খুব একটা ভালো, তা নয়। এখানে কনস্টেবল পদে চাকরির যোগ্যতা এসএসসি পাস হলেও এইচএসসি পাস করা কিংবা ডিগ্রি বা তদূর্ধ্ব স্নাতকরাও যে আবেদন করেন, তা বলা বাহুল্য। অধিক শিক্ষাগত যোগ্যতা ছাড়াও এ পদের জন্য ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা ঘুষ দিতেও প্রস্তুত অনেকে। এমনকি হয়তো টাকা দিয়েও অনেকে স্বপ্নের কনস্টেবল হতে পারেন না! বাংলাদেশে পুলিশের চাকরি সম্পর্কে এটাই যেন ওপেন সিক্রেট। Continue reading

আসামে নতুন তালিকার রাজনীতি

মূল : দেবর্ষি দাস

আসামে নাগরিক তালিকার মাঠ পর্যায়ের নিরীক্ষা

আসামে নতুন করে নাগরিকদের জাতীয় নিবন্ধন বা এনআরসির প্রথম খসড়া তালিকা ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। আসাম ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী যথাক্রমে সর্বানন্দ সান্যাল ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উভয়েরই কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়েছে। এ সমস্যাকে অসমিয় বনাম বাঙালি কিংবা স্থানীয় বনাম অভিবাসী, এমনকি হিন্দু বনাম মুসলিম সমস্যা হিসেবে দেখা যাবে না। বরং এটি আরও জটিল সমস্যা।

আসামে বিদেশি শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া অনেক দিন ধরেই চলছে। স্নেহলতা দত্ত নামে ৮৬ বছরের এক অর্ধ-পক্ষাঘাতগ্রস্ত বৃদ্ধকে তিন মাস ধরে অবৈধ অভিবাসী আইনে কারারুদ্ধ করা হয়। অথচ তার জামাতা মুকুল দের মতে, স্নেহলতার পরিবার দেশভাগের আগে থেকেই আসামে বাস করে আসছে। মারিজান বিবির (৪১) ঘটনা এ রকমই। সঠিক কাগজপত্র দেওয়ার পরও তাকে বিদেশি শিবিরে আটক করা হয় এবং তাকে তার দেড় বছর বয়সী সন্তান থেকে পৃথক করা হয়। আমার এক আত্মীয়কেও এভাবে আটক করে এক মাস রাখা হয়। কারণ বিয়ের আগে ও পরের নামে মিল ছিল না।

আসামে বিদেশি গ্রেফতারের নামে আসলে এ রকম চরিত্রেরই মঞ্চায়ন করা হচ্ছে। নাগরিক নিবন্ধনের নতুন তালিকা করা বিদ্যমান তালিকার চেয়েও উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা। ১৯৮০’র দশকে বিদেশি নাগরিকদের আটক করার জন্য আন্দোলন তুঙ্গে ওঠে। এটি ১৯৮৫ সালে আসাম অ্যাকর্ড নামে পরিচিত- যেখানে বলা হয়, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের পর যারা আসামে প্রবেশ করেছে তারাই বিদেশি। তাদের শনাক্ত করে বিতাড়িত করা হবে। কিছু মানুষ বিতাড়ন করাও হয়। ২০১২ সাল পর্যন্ত এ সংখ্যা ২৪৪২। তবে ৫৪ হাজার জনকে বিদেশি হিসেবে ঘোষণা করা হয়। তাহলে কি খুব বেশি মানুষকে বিদেশি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি? Continue reading

তিস্তা চুক্তিকে পানিতে ফেলা নয়

তিস্তা নদীর উজানে পানির জন্য হাহাকার

তিস্তা নদীর উজানে পানির জন্য হাহাকার

মূল: জয়ীতা ভট্টাচার্য
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের অনিশ্চয়তা নানা জল্পনা-কল্পনার জন্ম দিয়েছে। দৃশ্যত মনে হচ্ছে, বাংলাদেশ-ভারত তিস্তা চুক্তি নিয়ে একমত হতে না পারাই এর প্রধান কারণ। এর আগে ২০১১ সালেও ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের বাংলাদেশ সফরের সময় দুই দেশ পানি বণ্টন চুক্তিতে স্বাক্ষরের জন্য প্রস্তুত ছিল। কিন্তু সে সময় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির আপত্তিতে তা হয়নি। চুক্তির খসড়ায় ছিল খরা মৌসুমে উভয় দেশ অর্ধেক অর্ধেক পানি পাবে। এটি তার রাজ্যের বিরুদ্ধে গেছে বলে মমতার আপত্তি। তিস্তার উৎপত্তি সিকিমে এবং এটি পশ্চিমবঙ্গের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে বলে রাজ্য সরকারের অনুমতি প্রয়োজন। এমনকি সংবিধানও বিষয়টির অধিকার রাজ্যকে দিয়েছে। কেন্দ্র-রাজ্য আলোচনায়ও জট না খোলায় তিস্তা চুক্তির বিষয়টি ঝুলে থাকে। Continue reading

ভাইরাল ভিডিও, সমান্তরাল পদক্ষেপ

SSC-examঢাকায় যখন ‘অ্যাই এম জিপিএ ৫’ ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল ভারতের বিহারে ততক্ষণে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার নির্দেশও হয়ে গেছে। ধরন হিসেবে ঘটনা দুটি হয়তো একই রকম। সেখানে উচ্চ মাধ্যমিকের ফল হয়েছে কয়েকদিন আগে। সে পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জনকারীকে টেলিভিশন চ্যানেলের সাংবাদিকরা নানা প্রশ্ন করেন। তার উত্তরে ‘লজ্জায়’ পড়ার কথা লিখেছে আনন্দবাজার পত্রিকা। তাকে জিজ্ঞেস করা হয়- রাষ্ট্রবিজ্ঞানে কী পড়ানো হয়। তার উত্তর ছিল, এতে রান্নাবান্না পড়ানো হয়। শিক্ষার্থী পরীক্ষায় মোট ৫০০ নম্বরের মধ্যে ৪৪৪ পেয়েছেন। অথচ এ পরীক্ষার্থী মোট নম্বর ৫০০ না বলে বলছেন ৬০০। পলিটিক্যাল সায়েন্সকে বলেছেন প্রডিগ্যাল সায়েন্স। এমনকি ওই পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগে প্রথম হওয়া শিক্ষার্থীর যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এ সংক্রান্ত ভিডিওটি সেখানকার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। টনক নড়ে কর্তৃৃপক্ষের। বোর্ড সব বিভাগের শীর্ষ ১৪ জনকে আবার পরীক্ষা নেওয়ার নির্দেশ দেয়। বলা বাহুল্য বিহারের শিক্ষার মান ও নকলপ্রবণতা নিয়ে প্রশ্ন অনেক দিনের। Continue reading

সবুজ তাজমহল!

তাজমহলের রঙ নিয়ে আলোচনা একেবারে কম হয়নি। স্থাপত্যশৈলীতেই যদিও এটি ক্ষণে ক্ষণে রঙ বদলায়; সকালে এক রঙ, দুপুরে আরেক, পূর্ণিমার রাতে ভিন্নরূপ; তাজমহলের এই রূপ-রঙ রহস্যের বাইরেও থামেনি রঙের আলোচনা। স্বচক্ষে না গিয়েও তাজমহল ডট জিওভি ডট আইএন-এর ভিউ অব তাজে গিয়ে পাঠক ডে ভিউতে দিনের পাঁচ ধরনের দৃশ্য দেখতে পাবেন। আর নাইট ভিউতে দেওয়া আছে রাতের চারটি দৃশ্য। দৃশ্যগুলো কোনোটা সাদা, কোনোটা কালো, কোনোটা হলুদাভ, কোনোটা সবুজাভ, আবার কোনোটা যেন লাল। যদিও সাদা মার্বেলের তৈরি বলে তাজমহলের রঙ অনেকে সাদাই বলেন। ঠিক এ সূত্রেই বলা চলে, কালো তাজমহলের খবর দিয়েছিল ভারতেরই টাইমস অব ইন্ডিয়া। মোগল সম্রাট শাহজাহান তার স্ত্রীর স্মৃতি হিসেবে বিশ্বের অন্যতম এই স্থাপনা তৈরি করেন। তিনি নাকি যমুনা নদীর অন্য পারে কালো মার্বেল পাথরে তাজমহলের আরেকটা অনুকৃতি তৈরি করতে চেয়েছিলেন। ফরাসি পর্যটক জঁ্য ব্যাপ্টিস্ট টাভারনিয়ারের ভ্রমণকাহিনীতে তা উল্লেখ আছে, যিনি ১৬৪০ ও ১৬৫৫ সালে মোগল রাজধানী আগ্রায় ভ্রমণ করেছিলেন। তার মতে, সম্রাট শাহজাহান যমুনার অপর পারে নিজের সমাধিক্ষেত্রের নির্মাণকাজ শুরু করেছিলেন। কিন্তু নিজের ছেলেদের মধ্যে লড়াই শুরু হওয়ায় তিনি তা শেষ করতে পারেননি। তার সমর্থনে উনিশ শতকে এসে এসিএল কারলেইলি নামের এক ব্রিটিশ প্রত্নতত্ত্ববিদ যমুনার পারে একটি পুকুরে কালো মার্বেল খুঁজে পাওয়ার দাবি করেন।
আজকের আলোচনায় অবশ্য তাজমহলের রঙের প্রসঙ্গ ভিন্ন। সেটা টাইমস অব ইন্ডিয়ারই গত বছরের প্রথম দিকের এক প্রতিবেদনের সঙ্গে মেলানো যায়। যেটি বলছে, ‘পলিউশন টার্নি তাজমহল ইয়েলো :স্টাডি’ অর্থাৎ গবেষণা বলছে, দূষণের কারণে তাজমহল হলুদ হয়ে যাচ্ছে। Continue reading