Tag Archives: বাংলাদেশ

ডেল্টা পরিকল্পনায় বাংলাদেশের পাশে নেদারল্যান্ডস

বাংলাদেশের সদ্যবিদায়ী ডাচ্ রাষ্ট্রদূত লিওনি কুয়েলিনায়ের নেদারল্যান্ডসভিত্তিক ওয়েবসাইট নেক্সটব্লুর সঙ্গে কথা বলেছেন বাংলাদেশের পরিবেশ, পানি, ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়ন ও এ ক্ষেত্রে নেদারল্যান্ডসের সহযোগিতা বিষয়ে

নেক্সট ব্লু :বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে পানি বিষয়ক সহযোগিতা অনেক দিনের। এর অর্জন কী?

লিওনি কুয়েলিনায়ের :হ্যাঁ, অনেক দিনের। শুরুটা হয়েছিল ১৯৫৫ সালে। ১৯৫৩ সালে যখন পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমান বাংলাদেশ) বন্যা হয়, তখন দু’দেশের প্রকৌশলীরা একত্রে কাজ করেন। সেটাই ছিল শুরু। এখনও বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য প্রকৌশলী নেদারল্যান্ডসের ডেলফটে অবস্থিত ইনস্টিটিউট ফর ওয়াটার এডুকেশন-আইএইচইতে কাজ করছেন। ২০১৪ সালেও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নেদারল্যান্ডসকে পুনরায় দুর্যোগে সহায়তা করার অনুরোধ জানান। এবারের কাজ বন্যা মোকাবেলা ও নিরাপদ খাবার পানির ব্যবস্থাপনা তথা ডেল্টা প্ল্যান।

বাংলাদেশের ডেল্টা প্ল্যানকে ডাচ্‌ ডেল্টা প্ল্যানের সঙ্গে তুলনা করা যায়। ডাচ্‌ ডেল্টা প্ল্যান ২০০৮ সালে ভিরম্যান কমিশন প্রণয়ন করেছিল। বলা চলে, উভয় ডেল্টা প্ল্যানের উদ্দেশ্য একই রকম :নিরাপদ, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা ও অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী ব-দ্বীপ গড়ে তোলা। যদিও দু’দেশের বাস্তবতা ভিন্ন। কারণ বাংলাদেশের জনসংখ্যা অনেক। প্রতি বছর দেশটিতে ২০ লাখ মানুষ বাড়ছে। যা হোক ২১০০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের ডেল্টা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রযুক্তিগত দিক থেকে নেদারল্যান্ডসের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

বাংলাদেশের ডেল্টা প্ল্যান বা এই ব-দ্বীপের পরিকল্পনা খুব জরুরি। কারণ আমরা দেখি, উপকূলীয় এলাকার অনেক গ্রাম প্রায়ই বন্যার পানিতে ভেসে যায়। লবণাক্ততা ও পানি জমে থাকার কারণে সেখানকার কৃষিজমি অনুর্বরহয়ে পড়ে। Continue reading

নেপালি মন্ত্রীর নিছক অজ্ঞতা!

বাংলাদেশে অধ্যয়নরত বিদেশি শিক্ষার্থীর উল্লেখযোগ্য অংশ নেপালের। নেপালের অধিকাংশ শিক্ষার্থীই বলা চলে, আমাদের মেডিকেল কলেজগুলোতে পড়াশোনা করছেন। নেপালের দ্য হিমালয়ান টাইমস পত্রিকার এক প্রতিবেদন অনুসারে, নেপাল থেকে প্রতি বছর তিন শতাধিক শিক্ষার্থী এমবিবিএস ও বিডিএস পড়তে বাংলাদেশে আসেন। পত্রিকাটির হিসাবে ২০১৬ সালে বিদেশে ডাক্তারি পড়তে যাওয়া ৪৭৮ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩২৮ জনই এসেছেন বাংলাদেশে। সে হিসাবে ওরা বলছেন, দেশের বাইরে পড়তে যাওয়া নেপালের ৭২ শতাংশ শিক্ষার্থীর পছন্দ বাংলাদেশ। এডুকেট নেপাল ডট কম ওয়েবসাইটের এক প্রতিবেদন দূতাবাস সূত্রে বলছে, বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় সাত হাজার নেপালি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। বাংলাদেশ কেন পছন্দ, তার কারণ বলেছেন এক নেপালিয়ান অধ্যাপক। একদিকে কম দূরত্বে অবস্থিত বাংলাদেশ, রয়েছে সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা, পড়ার মাধ্যম ইংরেজি, তার চেয়ে বড় বিষয়- ভিসার জটিলতা নেই। তিনি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ বলেছেন, দুই দেশের রোগের ধরনও প্রায় একই রকম। এর সঙ্গে আমরা পরিবেশকেও যুক্ত করতে পারি। ঠিক যে বিষয়ে মন্তব্যের জেরে পদত্যাগ করতে হয় নেপালের আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রীকে।

২০ জুলাই এক অনুষ্ঠানে নেপালের মন্ত্রী শের বাহাদুর তামাং বলেছিলেন, ‘মেডিকেলের ওপর যারা বাংলাদেশে লেখাপড়া করতে যায়, সার্টিফিকেট পাওয়ার জন্য তাদেরকে সেখানে নিজেদের বিক্রি করতে হয়।’ ছাত্রীদের নিয়ে এমন অশালীন মন্তব্যের জবাব সংশ্নিষ্টরাই দিয়েছেন। ফলে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু ও ঢাকা উভয় স্থানে সমালোচনার ঝড় ওঠে। প্রতিবাদ জানান ঢাকায় পড়তে আসা নেপালের ছাত্রীরাও। প্রতিবাদের মুখে তিনি তার মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। ক্ষমাও চেয়েছেন তিনি। এরপরও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা অব্যাহত থাকে। অবশেষে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। বিবিসির সংবাদদাতা বলছেন, তিনি প্রথমে পদত্যাগ করতে চাননি। কিন্তু পরে তার দল ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপালের ভেতরেই তার ওপর প্রচণ্ড রকমের চাপ তৈরি হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। এ কারণেই শেষ পযন্ত তিনি পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন। পদত্যাগী সেই মন্ত্রীর জেলও দাবি করছেন বাংলাদেশে অবস্থানরত নেপালের শিক্ষার্থীরা।

আসলে নেপালের ওই মন্ত্রী এক ভয়ঙ্কর মন্তব্য করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি একদিকে যেমন নেপাল থেকে আসা ছাত্রীদের চরিত্রের ওপর কালিমা লেপন করেছেন, তাদের প্রাপ্ত ডিগ্রিকে ছোট করেছেন; ঠিক তেমনি বাংলাদেশের সংশ্নিষ্টদের ওপর অন্যায়ভাবে দোষারোপ করেছেন। আমাদের পড়ার পরিবেশ ও ছাত্রীদের নিরাপত্তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। Continue reading

জলবায়ু : উপকূলবাসীর পাশে থাকুন

মূল : কাসিয়া পাপরোকি

বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে নিউইয়র্ক টাইমসের কলাম লেখক নিকোলাস ক্রিস্টফ ১৯ জানুয়ারি প্রকাশিত তার কলামে লিখেছেন, সেখানে সমুদ্রস্তর বেড়ে যাওয়ায় উপকূলবর্তী এলাকা তলিয়ে যাওয়ার ভয়ে কৃষকরা জোর করে অল্পবয়স্ক মেয়েদের বিয়ে দিচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে বাংলাদেশের কল্পিত এই চিত্র অত্যন্ত গতানুগতিক। এই আখ্যানের মূল বিষয় হলো : সমুদ্রস্তর বেড়ে যাওয়ায় ভূমি তলিয়ে যাচ্ছে, সেখানকার হতভাগা ও মরিয়া বাসিন্দারা তাদের ভূমি ও আবাস হারিয়ে যেতে দেখছে, ফলে ছোট্ট এ দেশটিতে লাখো ‘জলবায়ু শরণার্থী’ হচ্ছে।
জলবায়ু পরিবর্তন হচ্ছে, এর প্রভাব বিশ্বের অন্যান্য জায়গার মতো বাংলাদেশের ওপরও পড়ছে; তাতে কোনো সন্দেহ নেই। এর প্রভাব যেমন উপকূলবর্তী বাংলাদেশিদের ওপর পড়ছে, তেমনি পড়ছে উপকূলবর্তী মার্কিন ম্যানহাটনের ওপরও। উভয় এলাকার মানুষই এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের পথে রয়েছে।
নিকোলাস ক্রিস্টফ যেটা বলছেন, বাংলাদেশ জলবায়ুর অত্যন্ত ঝুঁকিতে রয়েছে। এ ধরনের পরিভাষা বরং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘ঝুঁকিপূর্ণ দেশ’, যাদের অভিবাসীদের তিনি চান না; তার সে কল্পিত পরিভাষার সঙ্গে মিলে যায়। এমনকি ক্রিস্টফের বর্ণনা মানবহিতৈষী হলেও সেখানে বরং একটি দেশের শক্তিহীনতা, অক্ষমতা, নির্ভরশীলতা ও ব্যর্থতার চিত্রই ফুটে ওঠে। Continue reading

‘বঞ্চনার কারণেই বাংলাদেশের জন্ম’

মূল : বাবর আয়াজ

নওয়াজ শরিফ একবারে সত্যবাদী বা বিশ্বস্ত না-ও হতে পারেন; তবে পূর্ব পাকিস্তানের বিভক্তি ও বাংলাদেশের জন্মের ব্যাপারে তিনি পাকিস্তানকে যে আত্মানুসন্ধানের কথা বলেছেন, তা ভুল বলেননি। বিষয়টি নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করার পরিবর্তে কিছু উগ্র দেশপ্রেমিক সংবাদমাধ্যমে তাকে একহাত নিয়েছেন। পশ্চিম পাকিস্তানের নেতাদের বোকামির কারণেই শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতা আন্দোলনের সূচনা করতে বাধ্য হয়েছিলেন- নওয়াজের এ কথায় বেশ চটেছেন পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) এক জ্যেষ্ঠ নেতা।

আমিও নওয়াজ শরিফের বক্তব্য সমর্থন করে বলছি, এখনি সত্য স্বীকারের উপযুক্ত সময়, সেটি যতই তিক্ত হোক না কেন।

বাংলাদেশের জন্ম কেবল পূর্ব পাকিস্তানে আট মাসের সামরিক যুদ্ধের ফল নয়; বরং পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে পূর্ব পাকিস্তানের সঙ্গে উপনিবেশস্বরূপ যে আচরণ করেছে, তারই ফল। পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীনতা যুদ্ধকে ভারত সমর্থন করে, এর মাধ্যমে তারা দ্বিজাতিতত্ত্বের অসারতা বিশ্বের কাছে দেখানোর সুযোগ পায়।

পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পরপরই প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলীর নেতৃত্বে মুসলিম লীগ নেতৃবৃন্দ ১৯৪৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্ট করেন। এরপর ২১ মার্চ মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, বাংলা প্রদেশের ভাষা হতে পারে বটে; তবে আমি স্পষ্ট করে বলছি, অন্য কোনো ভাষা নয়, উর্দুই হতে পারে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা। এটি বাঙালিদের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি। কারণ এতে তারা পাঞ্জাবি বা পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে যারা ভালো উর্দু বুঝত, তাদের চেয়ে পিছিয়ে পড়বে।

Continue reading

রোহিঙ্গা: ক্লিয়ারেন্স অপারেশন!

মূল: ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ

রোহিঙ্গা মুলমানদের কান্নায় আকাশ ভারী

মিয়ানমারের রাখাইন পুলিশ পোস্টে ২৫ আগস্ট জঙ্গিগোষ্ঠী হারাকাহ আল ইয়াকিন হামলা চালায়। হামলার পেছনে রয়েছে আরাকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মি (এআরএসএ)। এআরএসএ’কে ইতিমধ্যেই মিয়ানমার সরকার সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে। সরকার বলছে, হামলাকারীরা হাতবোমা, চাপাতি ও অস্ত্রে সজ্জিত ছিল। তারা দশ পুলিশ অফিসার, একজন সৈন্য ও একজন অভিবাসী কর্মকর্তাকে হত্যা করে। হামলার পর সেখানে দমন অভিযানে নামে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। এ অভিযানকে বলা হচ্ছে ‘ক্লিয়ারেন্স অপারেশন’। রাখাইন এলাকাজুড়ে চলছে এ অভিযান। রোহিঙ্গাদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। কোথাও কোথাও রোহিঙ্গাদের সঙ্গে সংঘর্ষ হচ্ছে। অভিযানকৃত এলাকা থেকে রোহিঙ্গা ও বৌদ্ধ উভয় সম্প্রদায়ের মানুষই নিরাপদ স্থানে যাওয়ার জন্য পালাচ্ছে। রোহিঙ্গারা পার্শ্ববর্তী বাংলাদেশে আশ্রয় নিচ্ছে। এভাবে সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে। রাখাইন রাজ্যকে গভীর খাত থেকে উত্তরণ ও রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে সরকারকে দ্রুত দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
উত্তর রাখাইনে দিনের পর দিন উত্তেজনা বেড়েই চলেছে। ২০১৬ সালের অক্টোবরে জঙ্গিগোষ্ঠী প্রথম তিনটি পুলিশ পোস্দ্বে আত্রক্রমণ করে। পরবর্তীকালে রাখাইন রাজ্যে সেনা অভিযানে ব্যাপকহারে নির্যাতন, হত্যা এবং ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। ৮৭ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা দেশত্যাগ করতে বাধ্য হয়। এ বছরের প্রথম দিকে ফেব্রুয়ারি মাসে ব্যাপকহারে তারা প্রতিবেশী বাংলাদেশে আসে। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সে সময়ের রোহিঙ্গাবিরোধী অপরাধ জাতিসংঘ অনুসল্পব্দান কমিটি মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে চিহিক্রত করে। যদিও মিয়ানমারের একটি তদন্স্ন কমিটি সে অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে।
এমনকি নিউইয়র্কভিত্তিক মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন ‘হিউম্যান রাইটস ওয়াচ’ জানিয়েছে, প্রায় ৩০ হাজার মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়েছে। পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে রোহিঙ্গাদের বহু গ্রাম। তাতে মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ওপর ‘জাতিগত নিধন’ চালাচ্ছে বলেও জানিয়েছে জাতিসংঘ। Continue reading

ব্রিটিশ ‘শাসন’ ব্রিটেন ‘শাসন’

ব্রিটেনের নির্বাচনে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের বংশোদ্ভূত ২৭ জন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন

ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ১৬১২ সালে ভারতে প্রথম বাণিজ্য কুঠি স্থাপনের মধ্য দিয়ে ভারতীয় উপমহাদেশে ইংরেজদের আগমন। ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধ ও ১৭৬৪ সালে বক্সারের যুদ্ধের মাধ্যমে এখানে তাদের কলোনি শাসন কায়েম হয়। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান-ভারত প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এখানে সে শাসনের অবসান হয়। কেবল ভারতীয় উপমহাদেশই নয়, ষোড়শ থেকে আঠারশ শতকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় কলোনি ব্রিটিশ উপনিবেশ। বর্তমানে বিশ্বে ৫২টি দেশ কমনওয়েলথভুক্ত। এ দেশগুলোর অধিকাংশই ছিল ব্রিটিশ শাসনের অধীনে। ১৯৪৫ সাল থেকে ধীরে ধীরে ব্রিটেন কলোনি শাসন থেকে বের হতে থাকে। এর ফলেই ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান-ভারত স্বাধীনতা লাভ করে। আর দক্ষিণ রোডেশিয়া ছিল ব্রিটেনের সর্বশেষ উপনিবেশ, যা ১৯৮০ সালে জিম্বাবুয়ে হিসেবে স্বাধীন হয়। ৮ জুন অনুষ্ঠিত হয় ব্রিটেনের মধ্যবর্তী নির্বাচন। এ নির্বাচনে ভারতীয় উপমহাদেশ তথা বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের বংশোদ্ভূত ২৭ জন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বাংলাদেশের তিনজন আর পাকিস্তান ও ভারতের নির্বাচিত হয় ১২ জন করে। ব্রিটিশ হাউস অব কমন্সের ৬৫০ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে এ সংখ্যাটি একেবারে মামুলি নয়। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এক সময় ব্রিটিশরা আমাদের শাসন করত আর এখন আমরা সেখানে গিয়ে তাদের শাসনকার্যের অংশ হয়ে উঠেছি। Continue reading

লম্বা কিংবা খাটো

Tall_Small-peopleমানুষের বৈচিত্র্য তার ব্যক্তিত্বে, আচরণে, চরিত্রে এবং উচ্চতায়ও। যদিও দুনিয়ার এক মানুষের সঙ্গে অন্য মানুষের চেহারায় মিল না থাকলেও উচ্চতায় মিল থাকতে পারে। সেদিক থেকে উচ্চতাগত বৈচিত্র্য কম। তারপরও লম্বা, মধ্যম, খাটো_ তিন ধরনের বিশেষণে বিশেষায়িত করা যায়। এ বিশেষণ পৃথিবীর সবার জন্য সত্য। তবে ব্যক্তিগত হিসেবের বাইরে দেশ-অঞ্চলভেদেও পার্থক্য দেখা যায়। মঙ্গলবার বিবিসি অনলাইন উচ্চতা নিয়ে এক গবেষণার খবর দিয়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, নেদারল্যান্ডসের পুরুষ ও লাটভিয়ার নারী সবচেয়ে বেশি লম্বা। ই-লাইফ জার্নালে প্রকাশিত গবেষণাটিতে উচ্চতায় গত একশ’ বছরের ট্রেন্ড বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষণায় বাংলাদেশ প্রসঙ্গও এসেছে। যেখানে বেঁটের তালিকায় বাংলাদেশের নারীরা রয়েছেন দ্বিতীয় স্তরে।

মানুষের উচ্চতা যেমন জিন ও পরিবেশগত বিষয়ের ওপর নির্ভর করে, তেমনি নির্ভর করে তার খাদ্য ও পুষ্টির ওপর। সার্বিক সুস্থতা ও হরমোনের ওঠানামার সঙ্গেও উচ্চতার সম্পর্ক রয়েছে। সাধারণত দেখা যায়, লম্বা মা-বাবার সন্তান লম্বা হয়। বেঁটে দম্পতির সন্তান বেঁটে হয়। তবে ব্যতিক্রমও রয়েছে। অনেক সময় লম্বা দম্পতির সন্তান যেমন বেঁটে হয়, তেমনি বেঁটে দম্পতির সন্তানও লম্বা হতে দেখা যায়।
উচ্চতার দিক থেকে বলা চলে, বাংলাদেশের মানুষের অবস্থান মাঝামাঝি পর্যায়ে। গালিভারসের গল্পের মতো Continue reading

প্রাণের পতাকা

Patakaদেশের প্রতি মানুষের অনুরাগ যেমন সহজাত, তেমনি পতাকার প্রতিও। লাল-সবুজ খচিত আমাদের পতাকা তো দেশকেই প্রতিনিধিত্ব করে। বিশ্বব্যাপী যেখানেই বাংলাদেশি থাকুক তার কাছে এই পতাকার একটা অর্থ আছে। দেশকে বোঝানোর ১০ :৬ কিংবা ৫ :৩ ফুটের পতাকাই যথেষ্ট। সবুজের বাংলাদেশ আর রক্তে রঞ্জিত শহীদের যে চিহ্ন পতাকায় রয়েছে তার যে অর্থ সবাই বোঝেন। তাই বিজয়ের মাস ডিসেম্বর এলেই আমরা চারদিকে দেখি পতাকা। রাস্তায় পতাকা নিয়ে বেড়াচ্ছে হকার; ছেলেমেয়েদের হাতে শোভা পাচ্ছে; যানবাহনেও অনেকে লাগাচ্ছেন পতাকা; অনেকে আবার হাতে বা শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে পতাকার স্কেচ আঁকেন, দেখিয়ে বেড়ান। এর মধ্যে এক ধরনের প্রশান্তি খোঁজে মানুষ। পতাকা বিক্রেতার অনেক সময় কম বেচাবিক্রি হলেও অভিযোগ থাকে না। সাংবাদিকদের বলেন, ‘আয় কম, তবুও পতাকা বিক্রি করে শান্তি পাই।’ Continue reading

খবরে ‘খবর’ হোক

Political-crisis

ছেলেহারা মায়ের বুকফাটা আর্তনাদের এরকম নিয়মিত খবরেও টনক নড়বে না! -সমকাল ২৩ জানুয়ারি ২০১৫

কোনো কিছুর অবস্থা যাচাইয়ের নানা পদ্ধতি রয়েছে। শরীরের তাপমাত্রা পরিমাপ করে ব্যক্তির জ্বর আছে কি-না বোঝা যায়। চোখের পানি ব্যক্তির অনুভূতির পরিচায়ক। এ রকম প্রত্যেকটির অবস্থা পরিমাপ করতে একেকটি যন্ত্র, স্কেল বা পরিমাপক আছে। ভূমিকম্প হলে রিখটার স্কেল বলে দেয় তার মাত্রা কেমন। পাল্লা বলে দেয় বস্তুর ওজন। ল্যাক্টোমিটারে দুধের বিশুদ্ধতা পরিমাপ হয় কিংবা পরীক্ষা প্রমাণ করে শিক্ষার্থীর মেধা। তারপরও কিছু থেকে যায়। যেগুলো মাপার সাধারণ যন্ত্র নেই। অবস্থা বোঝার বৈজ্ঞানিক সূত্র নেই। তবুও বিভিন্নভাবে আমরা অনুভব করি।
সংবাদমাধ্যমে নীতিনির্ধারণের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের কাজ সংবাদ নিয়ে। সংবাদকে তারাও বিভিন্নভাবে মাপেন। কোন খবর বড় করে দেবেন, কোনটা ছোট করবেন_ এটা তাদের বিবেচ্য। এ বিবেচনারও হয়তো নানা মাত্রা আছে। Continue reading

স্কুলের পথে

Dhaka-traffic-jamস্কুলপড়ূয়া শিশুদের নিয়ে অভিভাবকদের চিন্তা অন্তহীন। সকালে সন্তানকে ঘুম থেকে উঠিয়ে, প্রস্তুত করে, খাইয়ে স্কুলে পেঁৗছানো পর্যন্ত সব কাজ তাদের করতে হয়। গ্রামে শিশুকে স্কুলে পেঁৗছানোর টেনশন খুব একটা না থাকলেও শহরে এ চিন্তা প্রায় সব পরিবারেই উদ্বেগের। সামর্থ্যানুযায়ী অভিভাবকরা সন্তানদের স্কুলে পেঁৗছে দিতে নিজস্ব গাড়ি, বাস, রিকশা, স্কুল পরিবহন কিংবা সিএনজি ব্যবহার করেন। পরিবহন যে যাই ব্যবহার করুক এর সঙ্গে সবাইকে যানজটের বিষয়টা অতিরিক্ত মাথায় রাখতে হয়। অন্তত ঢাকা শহরের জন্য এ যে অনিবার্য সত্য। ঢাকার যানজটের কথা কারও অজানা নয়। কোথাও জ্যাম লেগে গেলে কতক্ষণ বসে থাকতে হয় তা বলাই বাহুল্য। এ নিয়ে কোনো গবেষণা হয়েছে কিনা জানা নেই। তবে এ সংক্রান্ত ইংল্যান্ডের এক গবেষণার খবর আমাদের জন্য প্রাসঙ্গিক। ৩ সেপ্টেম্বর গার্ডিয়ানে প্রকাশিত প্রতিবেদনটির শিরোনাম Continue reading