Tag Archives: পরীক্ষা

সামাজিক চাপ ও ব্যক্তির আত্মহনন

করোনার মধ্যে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল শিখিয়েছে উদযাপনে পরিমিতিবোধ

 

করোনা সংক্রমণের মধ্যেই এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ হলো। আর তাই এর প্রভাবও এতে স্পষ্ট। বলা বাহুল্য, সংখ্যার বিচারে তুলনামূলকভাবে শিক্ষার্থীরা এবার ভালো ফল করেছে। পাসের হার যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে সর্বোচ্চ গ্রেড জিপিএ ৫। ফলে আপাতদৃষ্টিতে গ্রেড কিংবা পাসের হারে করোনার তেমন প্রভাব পড়েনি। যদিও সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যাচ্ছে, শিক্ষকরা উদারভাবে খাতা দেখেছেন। উদারতার এ নমুনা দেশে নতুন নয়। তবে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে এবারের ফল নতুুন কিছু দৃশ্যপট সামনে এনেছে।

দুই.
করোনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার কারণে শিক্ষার্থীরা বাড়ি থেকেই অনলাইনে তার ফল জানতে পেরেছে। আগে দেখা যেত, যে কোনো পাবলিক পরীক্ষার ফল প্রকাশ হলে প্রতিষ্ঠানে গিয়ে ভালো গ্রেডধারীরা একসঙ্গে আনন্দ-উল্লাস করত। অনেক সময় এ উদযাপনে অতিরঞ্জনও লক্ষণীয়। দুই আঙুলে ভি-চিহ্ন দেখিয়ে শিক্ষার্থীরা যে প্রতিক্রিয়া প্রদর্শন করে, তা অনেকেই দৃষ্টিকটু হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এটা সত্য যে, কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জন করেছে সেটা নিশ্চয়ই তার সাফল্য। তাতে উদযাপন থাকতেই পারে। তবে সেটি হওয়া চাই নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে এবং তা যেন অন্যকে আঘাত না দেয়। যে শিক্ষার্থীটি কাঙ্ক্ষিত ফল লাভ করতে পারেনি তারই সহপাঠীর এমন উদযাপনে সে কষ্ট পেতে পারে। Continue reading

শিক্ষায় বড় তিন পরিবর্তন- তিনটি ছোট প্রশ্ন

তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পরীক্ষা নেই, পঞ্চম শ্রেণিতে সমাপনী কেন

শিক্ষাব্যবস্থায় ‘ব্যাপক’ পরিবর্তন আসছে বলে আমরা সম্প্রতি সংবাদমাধ্যম থেকে জানছি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তন প্রয়োজন। তবে পরিবর্তন যেমন ইতিবাচক ফল বয়ে আনতে পারে, তেমনি নেতিবাচকও হতে পারে। পরিবর্তন যাতে ইতিবাচক হয় সেটাই কাম্য। সে প্রত্যাশায় আমাদের প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা- প্রতিটি স্তরেই যে বড় পরিবর্তন আসছে, তা নিয়ে আমি আগাম তিনটি ছোট প্রশ্ন রাখতে চাই।

তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পরীক্ষা নেই, পঞ্চম শ্রেণিতে সমাপনী কেন : শিক্ষাব্যবস্থায় যে পরিবর্তনের কথা আমরা শুনছি, এর মধ্যে সবচেয়ে যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত হবে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পরীক্ষা উঠিয়ে দেওয়া। শিশুদের সুন্দর, সুষম ও সৌহার্দ্যপূর্ণ বিকাশে এটি সত্যিই জরুরি। পরীক্ষা তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে আমরা ধন্যবাদ জানাই। ছোটবেলা থেকেই যেভাবে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার চাপে পিষ্ট, যেভাবে শিশু ও অভিভাবকের মধ্যে পরীক্ষায় ‘ভালো ফল’-এর জন্য অসুস্থ প্রতিযোগিতা চালু রয়েছে; যেভাবে শিশুরা কোচিং-প্রাইভেট টিউটরের কাছে ধর্ণা দিচ্ছে, তা থেকে নিস্কৃতি পেতে পরীক্ষা বাদ দেওয়ার কোনো বিকল্প নেই। সিঙ্গাপুর ও ফিনল্যান্ডের মতো শিশুদের পরীক্ষা উঠিয়ে দিয়ে আনন্দদায়ক পরিবেশে শিক্ষার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। এটা হয়তো ঠিক; সিঙ্গাপুর-ফিনল্যান্ডের মতো পরিবেশ-পরিস্থতি আমাদের নেই। আমরা জানি, ফিনল্যান্ডে শিশুদের ১৬ বছর পর্যন্ত কোনো পরীক্ষাই নেই। আমরা তাদেরটা পুরোপুরি না হোক, কিছু তো অনুসরণ করতে পারি। তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পরীক্ষা উঠিয়ে দেওয়া যতটা উপকারী; পঞ্চম শ্রেণির সমাপনী ততটাই অপকারী। Continue reading

পরীক্ষার ফ্রেমে আবদ্ধ শিক্ষার মান!

শিক্ষায় মান গেল বলে আমাদের চিন্তার অন্ত নেই। মানসম্পন্ন কিংবা গুণগত শিক্ষা আমরা খুঁজছি। শনিবার (২২ জুন ২০১৯) সমকালের একটি প্রতিবেদন তার অন্যতম প্রমাণ। যার শিরোনাম- স্কুল-কলেজ হাজার হাজার, মান কই। মান নিয়ে প্রশ্ন, কিন্তু মানটা আসলে কী? মানের অবয়ব নেই, একে ধরাছোঁয়া যায় না। অথচ আমরা সেটাকে ধরতে চাইছি, কিছু সংখ্যা দিয়ে পরিমাপ করছি। একটা প্রতিষ্ঠান থেকে বেশি জিপিএ ৫ পেল। আমরা ধরেই নিই, প্রতিষ্ঠানটির বুঝি মান খুব বেড়ে গেল। কিংবা কোনো শিক্ষার্থী ভালো রেজাল্ট করলে আমরা ভাবি, শিক্ষার্থীর মান ভালো। কিন্তু আমাদের ভাবনায় ছেদ পড়ে, যখন জিপিএ ৫ পাওয়া শিক্ষার্থী সাধারণ বিষয়টিও বুঝতে অক্ষম। আমরা সেটা টের পেয়ে ছি ছি করি। আমাদের পরীক্ষা পদ্ধতিতেই গলদ রয়েছে, সেটা অনেকেই বলেছেন। ড. মোহাম্মদ মনিনুর রশিদ সমকালেই (৮ মে ২০১৯) তার ‘শিক্ষায় মূল্যায়ন ব্যবস্থা এবং গুণগত মান’ শিরোনামের লেখায়ও তা তুলে ধরেছেন। আবার মান যে কেবল পরীক্ষার ওপরই নির্ভরশীল নয়, সেটাও বুঝতে হবে।

মানের বিষয়টি যখন আমরা পরীক্ষার ফ্রেমে আবদ্ধ করে ফেলেছি, তখন পরীক্ষাই হয়ে উঠল শিক্ষার একমাত্র ধ্যানজ্ঞান। শিক্ষকরা শেখান পরীক্ষায় পাসের জন্য; শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে কেবল পরীক্ষায় ভালো ফলের জন্য। এর সঙ্গে যুক্ত হলো কোচিং সেন্টারের টেকনিক, যুক্ত হলো নোট-গাইড। প্রশ্ন পদ্ধতি সৃজনশীল হলো, নোট-গাইডও সৃজনশীল হয়ে উঠল। এভাবেই জয় হলো পরীক্ষার। বাড়ল পরীক্ষা। প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে পাবলিক পরীক্ষা শুরু হলো। পরীক্ষায় পাসের হার কিংবা জিপিএ ৫- সংখ্যায় সবারই উন্নতি ঘটল। রইল বাকি- মান।

তাহলে মানটা কী? Continue reading

ভাইরাল ভিডিও, সমান্তরাল পদক্ষেপ

SSC-examঢাকায় যখন ‘অ্যাই এম জিপিএ ৫’ ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল ভারতের বিহারে ততক্ষণে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার নির্দেশও হয়ে গেছে। ধরন হিসেবে ঘটনা দুটি হয়তো একই রকম। সেখানে উচ্চ মাধ্যমিকের ফল হয়েছে কয়েকদিন আগে। সে পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জনকারীকে টেলিভিশন চ্যানেলের সাংবাদিকরা নানা প্রশ্ন করেন। তার উত্তরে ‘লজ্জায়’ পড়ার কথা লিখেছে আনন্দবাজার পত্রিকা। তাকে জিজ্ঞেস করা হয়- রাষ্ট্রবিজ্ঞানে কী পড়ানো হয়। তার উত্তর ছিল, এতে রান্নাবান্না পড়ানো হয়। শিক্ষার্থী পরীক্ষায় মোট ৫০০ নম্বরের মধ্যে ৪৪৪ পেয়েছেন। অথচ এ পরীক্ষার্থী মোট নম্বর ৫০০ না বলে বলছেন ৬০০। পলিটিক্যাল সায়েন্সকে বলেছেন প্রডিগ্যাল সায়েন্স। এমনকি ওই পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগে প্রথম হওয়া শিক্ষার্থীর যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এ সংক্রান্ত ভিডিওটি সেখানকার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। টনক নড়ে কর্তৃৃপক্ষের। বোর্ড সব বিভাগের শীর্ষ ১৪ জনকে আবার পরীক্ষা নেওয়ার নির্দেশ দেয়। বলা বাহুল্য বিহারের শিক্ষার মান ও নকলপ্রবণতা নিয়ে প্রশ্ন অনেক দিনের। Continue reading

‘ওভার স্মার্ট’ ভর্তি ব্যবস্থার সংকট

College-Admissionস্মার্ট ভর্তি পদ্ধতির কথা শুনে সবার ভালো লাগারই কথা। বাস্তবে এর নামে এবারের এইচএসসি ও সমমানের ভর্তি নিয়ে যা হয়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ভুলেরও একটা সীমা থাকে। কারিগরি জটিলতা কাটিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের চার দিন পর (২৮ জুন) প্রকাশিত প্রথম মেধা তালিকায় দেখা গেল_ মেয়েদের কলেজে ছেলেদের নাম, মানবিকের শিক্ষার্থী বিজ্ঞানে, কম জিপিএ পেয়ে ভালো কলেজে ভর্তি আর জিপিএ ৫ পেয়েও তালিকায় নেই। এ রকম ভুলের ছড়াছড়ি। এমনকি ব্যবসার শিক্ষার্থীকে দেওয়া হয়েছে বিজ্ঞান কলেজে। পছন্দের তালিকায় ছিল না, তার পরও অন্য জেলার এমন কলেজের নাম এসেছে, যেটা শিক্ষার্থী কখনোই শোনেনি। ভুল আর তালগোল পাকানো প্রথম তালিকায় কলেজই পায়নি ৫০ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত মতে, ভর্তি কার্যক্রম শেষ করে যেখানে ১ জুলাই থেকে একাদশ শ্রেণীর নতুন ক্লাস শুরু হওয়ার কথা ছিল, সেখানে তখনও বঞ্চিত লক্ষাধিক শিক্ষার্থী। ভর্তি নিয়ে গোটা সপ্তাহ ধরে চলা নৈরাজ্যকর পরিস্থিতিতে ৫ জুলাই সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন শিক্ষামন্ত্রী ও শিক্ষা সচিব। মন্ত্রী এর জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। একে ‘উন্নয়নের বেদনা’ বলে আখ্যায়িত করেন। যদিও শিক্ষা সচিব বলেছেন, ‘টি২০-তে ছক্কা মারার চেষ্টা করেছি।’ কিন্তু সে ছয় বাউন্ডারি পেরোয়নি। Continue reading

হিতে বিপরীত

copy-bihar

ভারতের বিহারে পরীক্ষাকেন্দ্রের দেয়াল বেয়ে উঠে নকল সরবরাহ। ছবি: টাইমস অব ইন্ডিয়া

নকল করে পরীক্ষায় পাস করা এখন অচিন্তনীয়। এমনকি আগে পাবলিক পরীক্ষায় নকলের বিষয়টি আমাদের প্রজন্মের জন্যও ‘শোনা কথা’। অগ্রজরা নিশ্চয়ই ভালো জানবেন। তবে নকলের অভিশাপ থেকে বাংলাদেশ মুক্ত হয়েছে। অবশ্য ভারতের চিত্র এখনও ভিন্ন। সম্প্রতি সেখানকার বিহারে নকলেরই এক আশ্চর্য ছবি দেখা গেছে। ভারতের টাইমস অব ইন্ডিয়াসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ হয় ছবিটি। যেটি দেখাচ্ছে, পরীক্ষাকেন্দ্রে পরীক্ষার্থীদের অভিভাবক এবং বন্ধু-বান্ধবরা ভবনের দেয়াল বেয়ে উঠে নকল সরবরাহ করছে। ২১ মার্চ প্রকাশিত এ ছবি-সংশ্লিষ্ট খবর বলছে Continue reading

প্রশ্ন ফাঁস: গোড়ার বদলে আগায় পানি ঢালা?

Question-outবিভিন্ন পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা নতুন নয়। তবে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের ধারা নতুনই বলতে হবে। আগের সব রেকর্ড ছাপিয়ে প্রায় প্রতিটি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ উঠেছে। কর্তৃপক্ষ সব অভিযোগ নাকচ করলেও ইংরেজি দ্বিতীয়পত্রে ব্যবস্থা না নিয়ে পারেনি। পরীক্ষাটি ১০ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও তা স্থগিত করতে বাধ্য হয়। কর্তৃপক্ষ অন্যান্য পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের বিষয় উড়িয়ে দিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ না করলেও অভিযোগ যে সত্য তা সংশ্লিষ্টদের জানার বাকি নেই। শ্রদ্ধেয় জাফর ইকবাল স্যার কয়েক বিষয়ে তা প্রমাণসহ সংবাদমাধ্যমে পাঠিয়েছেন এবং সেটা প্রকাশও হয়েছে। সর্বশেষ ২৫ মে অনুষ্ঠিত গণিত (তত্ত্বীয়) পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ ওঠে আগের দিনই। এ নিয়ে আগের দিন বুয়েটে প্রতিবাদও হয়। সংবাদমাধ্যম বিষয়টি ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের নজরে আনলেও এ ধরনের কোনো অভিযোগ পাননি বলে উড়িয়ে দেন। অথচ বাস্তবে সেসব প্রশ্ন মিলে গেছে।

প্রশ্ন ফঁাসের বিষয়ে শুরু থেকেই কর্তৃপক্ষের এ ধরনের চোখ বন্ধ করা ভাব যতটা বিস্ময়কর তার চেয়েও অদ্ভুত এ প্রশ্ন ফাঁস ঠেকানোর সুপারিশ। Continue reading

এইচএসসির ফলে ‘বিপর্যয়’ নাকি ছন্দপতন

HSC এবারের এইচএসসির ফলে কয়েক বছরের ধারাবাহিকতায় ছেদ পড়ল। ৩ আগস্ট প্রকাশিত এ ফলকে সরকার দেখছে ‘বিপর্যয়’ হিসেবে। আর সংবাদ মাধ্যমগুলোও মোটাদাগে খারাপ হিসেবেই চিহ্নিত করেছে। একে বিপর্যয় কিংবা খারাপ হিসেবে দেখার সুযোগ আছে কি?
১০টি শিক্ষা বোর্ডে এ বছর পাসের হার ৭৪ দশমিক ৩০ শতাংশ। আর সর্বোচ্চ স্কোর জিপিএ ৫ পেয়েছেন ৫৮ হাজার ১৯৭ জন। যে কোনো পাবলিক পরীক্ষা হিসেবে এ ফল মোটেও খারাপ নয়। বিপর্যয় তো নয়ই। বলা যায়, ধারাবাহিকতায় কিছুটা ছন্দপতন হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এইচএসসির ফলে যে ধারা চলে আসছিল তাতে কিছুটা ছেদ পড়েছে। যেখানে ২০১২ সালে পাসের হার ছিল ৭৮ দশমিক ৬৭ শতাংশ, ২০১১ সালে ৭৫ দশমিক ০৮ শতাংশ আর ২০১০ সালে ৭১ দশমিক ৮২ শতাংশ। জিপিএ ৫-এর ক্ষেত্রেও একই কথা। এ বছরগুলোতে জিপিএ ৫ ধারী ছিল যথাক্রমে ৬১ হাজার ১৬২, ৩৯ হাজার ৭৬৯ ও ২৫ হাজার ৫১২। Continue reading

অসি বনাম মসি

প্রবাদে আছে অসির চেয়ে মসির শক্তি বেশি। বাস্তব বলে অন্য কথা। অস্ত্রের চেয়ে শক্তিশালী আর কী হতে পারে। যার হাতে অস্ত্র সে-ই ক্ষমতাবান। অস্ত্রের কাছে সবাই অসহায়। ছাত্রের হাতে অস্ত্র থাকলে শিক্ষক অসহায়। খবরটা শনিবারের সমকালের । রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এক ছাত্রলীগ নেতা পরীক্ষার হলে গেছেন অস্ত্র নিয়ে। অস্ত্রের দাপটে তিনি তার নির্দিষ্ট আসনে বসেননি। দায়িত্বরত শিক্ষক তাকে নিজ আসনে বসতে বললেও শিক্ষকের কথা শোনেননি। উল্টো এ নেতা ক্ষিপ্ত হয়ে তার অস্ত্র দেখিয়ে হুমকি দিয়ে শিক্ষককে বলেছেন, Continue reading

বিশ্ববিদ্যালয় : ক্লাসে কম উপস্থিতি কেন?

আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের এক স্যার (অধ্যাপক) ক্লাসের সব শিক্ষার্থীকে জিজ্ঞেস করছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে তোমার প্রিয় স্থান কোনটি? জবাবে কেউ বলছে টিএসসি, কেউ ডাকসু, কারও কাছে হাকিম চত্বর, আবার কারও কাছে প্রিয় স্থানটি অপরাজেয় বাংলা। শুনতে শুনতে স্যার রেগে গেলেন, আসলে তিনি অত্যন্ত কষ্ট পেয়েছেন, কারণ তার কাঙ্ক্ষিত জায়গার নামটি কেউ বলছে না। বিস্ময় প্রকাশ করলেন_ ক্লাসটা তোমাদের কারও কাছেই প্রিয় স্থান নয়!
৭ আগস্ট ২০১১ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় ক্লাসে উপস্থিতির বিষয়ে বলা চলে এক কঠিন সিদ্ধান্ত হয়। কোনো শিক্ষার্থী ৬০ ভাগ উপস্থিত না থাকলে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে না। উপস্থিতি ৬৫-৭৪ শতাংশ থাকলে ৫ হাজার টাকা জরিমানা দিয়ে পরীক্ষা দিতে পারবে। ৭৫ ভাগ পর্যন্ত উপস্থিতরাই কেবল নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে পরীক্ষা দেবে। আর বিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষার্থীদের ৩০ ভাগের কম উপস্থিতি থাকলে ছাত্রত্ব বাতিল হবে। Continue reading