Tag Archives: পরিবার

মায়া

মেয়েটি আমার যত বড় হচ্ছে মায়া মনে হচ্ছে ততই বাড়ছে

গতকাল আমার পিতৃত্বের এক বছর পূর্ণ হলো আলহামদুলিল্লাহ। ২০১৯ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি পৃথিবীতে আসার পর থেকেই কেবল নয়, বরং তারও প্রায় নয় মাস আগ থেকে আমাদের সকল কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে মেয়েটি। সন্তান-মা-বাবাকে ঘিরে পৃথিবীর যে মায়ার জগৎ এতদিন তা কেবল সন্তান হিসেবেই দেখে আসছিলাম এখন সেটা বাবা হিসেবেও আবিষ্কারের চেষ্টা করছি।
প্রথম প্রথম মেয়েটিকে দেখতাম বিস্ময়ের সঙ্গে। নবজাতকের কান্না, হাসি, আড়মােড় ভাঙ্গার মধ্যে কতটা শিল্প, কতটা সৌন্দর্য রয়েছে মেয়ে না হলে তা দেখার সৌভাগ্য হয়তো হতো না। মেয়েটি যখন আরেকটু বড় হচ্ছে শিশুর কাজ দেখারও সুযোগ হচ্ছে, এক সেকেন্ডের জন্যও তার ফুরসত নেই; যতক্ষণ সজাগ থাকবে, ততক্ষণ ব্যস্ত। এই এটা ধরবে, ওটা ধরবে। এক হাতে না পারলে দুই হাতে, এক হাত ছাড়ালে আরেক হাতে। মেয়েটার কাজ দেখে আমরা হয়রান হই। মেয়েটি যখন কথা বলা শিখছে ওর মুখ থেকে ফুটছে- আম্মা, বাব্বা, দাদ্দা, নান্না। মুখ থেকে একটা কথা বেরুবে সেটাই বলতে থাকবে। এক নাগাড়ে, এ নিশ্বাসে, একই শব্দ সুন্দর করে, দরদ দিয়ে এভাবে কাউকে বলতে দেখিনি।
মেয়েটি যতই একটু করে বড় হচ্ছে ততই চিনছে বাবাকে। বাবা হিসেবে সেটা আমার জন্য যেমন আনন্দের তেমনি মধুর বিড়ম্বনারও। বাবাকে সবসময় সামনে থাকা চাই। মেয়েকে রেখে বাইরে বেরুবার অধিকার, অফিসে যাওযার সুযোগ নেই। আহা প্রতিদিন অফিসের জন্য বেরুতে মেয়েকে যেভাবে বাসায় রেখে আসতে হয় সেটা এক কষ্টের ব্যাপার। অফিসে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছি কিন্তু মেয়েটি কোলে এসে বসে আছে। এমনভাবে বসবে যে, তাকে ছাড়া সহজ নয়। Continue reading

পারিবারিক শিক্ষা ও বন্ধন

familyকাজে গেলে মেয়েটি অপেক্ষা করে কখন আসবে বাবা, ছেলের ভাবনায়ও বাবা, স্ত্রীও হয়তো প্রিয় স্বামীর পথপানে চেয়ে থাকেন। বাবাকে নিয়ে এই উৎকণ্ঠা কেবল পরিবারেই সম্ভব। ছেলে পড়তে যাবে, মা যতক্ষণ চোখ যায় তাকিয়ে থাকেন। ছেলে অদৃশ্য হয়ে গেলে হয়তো শাড়ির আঁচলে চোখ মোছেন। বাবা এগিয়ে দিয়ে আসেন। যানবাহনে উঠিয়ে দেন। খেয়ে না খেয়ে রোজগারের টাকা ছেলের হাতে তুলে দেন। ছেলে পড়তে যায়, বাবা বারবার পেছনে তাকান। এটাই তো পরিবারের দৃশ্য। মেয়ে বড় হয়েছে। পছন্দমতো পাত্র খুঁজে পাত্রস্থ করবেন, তারপরও মায়ের বিলাপ, বাবার কান্না, ভাইবোনের অশ্রু। এমন আদর, সোহাগ, মমতা, ভালোবাসা কেবল পরিবারেই সম্ভব। সন্তানের অসুস্থতায় বাবা-মা উৎকণ্ঠায় থাকেন। নিজের জীবন বিপন্ন করে সন্তানকে বাঁচাতে চান। এই যে রক্তের, হৃদয়ের বন্ধন তা একমাত্র পরিবারই দিয়েছে।
পরিবারের সদস্যদের মধ্যকার এই সম্পর্ক প্রতিদিন প্রতিক্ষণের। একদিনের পরিবার দিবসে তাতে কিছু আসে যায় না। তার পরও জাতিসংঘ ঘোষিত আজকের আন্তর্জাতিক পরিবার দিবসে পরিবারের সদস্যদের মধ্যকার সম্পর্ক বিশ্লেষণ ও মূল্যায়নই বোধ হয় যথার্থ। Continue reading

প্রতিদ্বন্দ্বী

A Bangladeshi woman casts her vote at a polling station in Dhaka, Bangladesh, Sunday, Jan. 5, 2014. Police fired at protesters and more than 100 polling stations were torched in Sunday’s general elections marred by violence and a boycott by the opposition, which dismissed the polls as a farce. (AP Photo/Rajesh Kumar Singh)নির্বাচিত হবেন- এমন সম্ভাবনা না থাকা সত্ত্বেও কিন্তু অনেকে নির্বাচনে প্রার্র্থী হন। নির্বাচিত হলে তো কথাই নেই, না হলেও প্রার্থীর কোনো লাভই যে হয় না, তা নয়। প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়ে যে কেউ যেমন তার জনপ্রিয়তা যাচাই করতে পারেন, তেমনি নিজেকে পরিচিত করার সুবর্ণ সুযোগও গ্রহণ করতে পারেন। আজকালকার নির্বাচন মানেই প্রচার-প্রচারণা। ছবি সংবলিত পোস্টার, প্রার্থীর গুণকীর্তন করে লেখা লিফলেট, বিশাল আকারের ব্যানার আর মানুষের কর্ণকুহরে পেঁৗছার জন্য করা হয় মাইকিং। দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট চাওয়া তো আছেই। তার বাইরে আজকের যুগে সংবাদমাধ্যমও প্রচারের বড় ক্ষেত্র। প্রচার-প্রচারণার কাজে সাধারণত সমর্থক গোষ্ঠী ছাড়াও ব্যক্তির পরিবার সর্বতোভাবে সহযোগিতা করে থাকে। পরিবারের সদস্য, আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশীরা যেমন প্রচারের কাজ করেন, তেমনি ভোটও দেন। কিন্তু বিপত্তিটা তখনই হয়, যখন একই পরিবারের দুইজন একই পদে পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী হন। এ রকম ঘটনা কম ঘটলেও নির্বাচনের সময় নানা জায়গায় তা দেখা যায়। ইউপি নির্বাচন নিয়ে সমকালের রোববারের বিশেষ আয়োজনে এ রকমই একটি খবর_ ‘ফুলবাড়িয়ায় বাবার প্রতিদ্বন্দ্বী মেয়ে’। Continue reading