Tag Archives: দুর্নীতি

ইফা, তুমি পথ হারাইয়াছ?

দুর্নীতির বিরুদ্ধে যখন জাতি সোচ্চার, যখন সরকারি নানা অফিসে শোভা পাচ্ছে ‘আমি এবং আমার অফিস দুর্নীতিমুক্ত’; সেখানে ইসলামিক ফাউন্ডেশন (ইফা) ও এর মহাপরিচালকের (ডিজি) নানা দুর্নীতি ও অনিয়মের খবর সংবাদমাধ্যমে এসেছে। কোনো প্রতিষ্ঠান দুর্নীতিমুক্ত ঘোষণা করলেও বাস্তবে প্রতিষ্ঠানটি কতটা দুর্নীতিমুক্ত, সেটি আমরা জানি না। তবে এটা অন্তত অনুধাবন করা যায়, দুর্নীতিমুক্ত করতে প্রতিষ্ঠানটির কর্তাব্যক্তিদের সদিচ্ছা রয়েছে। কিন্তু যেখানে গোড়ায় পচন ধরে, অর্থাৎ খোদ প্রতিষ্ঠানপ্রধান দুর্নীতিগ্রস্ত হন, অনিয়ম ও স্বেচ্চাচারিতায় বেপরোয়া হন, সেখানে গোটা প্রতিষ্ঠানই তার লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ভুলে একজনের আজ্ঞাবহ ও সেবাদাসে পরিণত হতে বাধ্য। ইসলামিক ফাউন্ডেশনে ঠিক তা-ই হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির জন্য ‘পথিক, তুমি কি পথ হারাইয়াছ?’ উক্তিই যথার্থ।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালে প্রতিষ্ঠা করেন ইসলামের সমুন্নত আদর্শ প্রচার ও প্রসারের লক্ষ্যে। এমন মহান উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত ইসলামিক ফাউন্ডেশন যখন দুর্নীতির জন্য টানা খবর হয়, তার চেয়ে দুঃখজনক বিষয় আর কী হতে পারে! রোববার সমকালের প্রতিবেদন ‘ইসলামিক ফাউন্ডেশনে জেঁকে বসেছে দুর্নীতি’ পড়ে যে কেউ অবাক হবেন; হেন কোনো প্রকল্প নেই যেসব ক্ষেত্রে দুর্নীতি হয়নি। এক টাকা, দুই টাকা নয়; প্রতিষ্ঠানটিতে অডিট করে প্রায় আটশ’ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে। প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক সামীম মোহাম্মদ আফজালের নেতৃত্বে এসব অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ। ১০ বছর ধরে তিনি প্রতিষ্ঠানটির নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। পুরো সময়টির তদন্তে দেখা গেছে নিয়োগে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি, প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ, বেশি ব্যয়, অপচয়সহ তিনি নানা অপকর্ম করেছেন। সমকালের প্রতিবেদন বলছে, নিরীক্ষায় প্রথমে ১৩২টি অনিয়ম ও ৯০০ কোটি টাকা আর্থিক ক্ষতির হিসাব পাওয়া যায়। পরে ৩৬টি অডিট আপত্তি নিষ্পত্তি হয়। ডিজি ১০০ কোটি টাকার বেশি সরকারি কোষাগারে ফেরতও দেন।

এত বড় দুর্নীতি যে কোনো প্রতিষ্ঠানের জন্যই ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার বিষয়। আর সেখানে যদি একজনই অভিযুক্ত হন, তাহলে তো কথাই নেই। তবে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের দুর্নীতিতে তোলপাড়ের কারণ কেবল প্রতিষ্ঠান হিসেবে নয়, ব্যক্তির কারণেই নয় বরং কারণটি খোদ প্রতিষ্ঠানের ধরন-ধারণের জন্যও। প্রতিষ্ঠানটির নামের সঙ্গেই রয়েছে ইসলাম। Continue reading

পিচ রাস্তায় আঙুলের খোঁচা

কুষ্টিয়ার কুমারখালীর একটি সড়কে আঙুলের খোঁচায় উঠে যাচ্ছে পিচ

পিচঢালা পথ কেমন? হয়তো সিসাঢালা প্রাচীরের মতো মজবুত নয়; কিন্তু অতটা শক্তও কি নয়? ইট-খোয়া বিটুমিনের তৈরি পিচ, এমন পিচের এক মাইল রাস্তা নির্মাণের জন্য নয় হাজার গ্যালন জ্বালানি খরচ করতে হয়; স্বাভাবিকভাবেই তা শক্ত ও মজবুত হওয়ার কথা। যে সড়কের ওপর দিয়ে প্রতিনিয়ত ভারী যানবাহন যাতায়াত করলেও পিচের কোনো ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকার কথা নয়; এমন মজবুত পিচ দিব্যি কয়েক মাস, এমনকি বছরও পার হয়ে যায়। অনেক সময় তাতে আঁচড়ও লাগে না। কিন্তু মাঝেমধ্যে এমন পিচের খবর সংবাদমাধ্যমে আসে, যে পিচঢালাইয়ের কয়েকদিনের মধ্যেই উঠে যায়! এমনকি সে পিচ ওঠাতে তেমন কসরতও করতে হয় না, আঙুলের খোঁচাই যেন যথেষ্ট। ৩০ জুন সমকালে প্রকাশিত একটি সচিত্র প্রতিবেদন সে কথাই বলছে। ‘নির্মাণ শেষ হতেই উঠে যাচ্ছে সড়কের পিচ’ শীর্ষক প্রতিবেদনটিতে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর একটি সড়কের চিত্র উঠে এসেছে। যেখানে কাজ শেষ হওয়ার কয়েকদিনের মধ্যেই কোটি টাকা ব্যয়ে সড়কের পিচ মানুষের হাতের খোঁচায় উঠে যাওয়ার দৃশ্য দৃষ্টিগ্রাহ্য হয়ে উঠেছে। এ এক দুঃখজনক চিত্র।

এ চিত্র উপস্থাপনে খবর ও ছবি উভয় মিলে হয়তো পত্রিকার পাতায় অল্প জায়গাই যথেষ্ট; কিন্তু এর পেছনের ঘটনা অত ছোট নয়। স্বাভাবিকভাবেই কতগুলো বিষয় সামনে আসবে। প্রথমত, এক কোটি দুই লাখ টাকা বাজেটের সড়কটিতে সঠিকভাবে ঠিকাদার বাছাই করা হয়েছে কি-না; দ্বিতীয়ত, সড়কের কাজ সঠিকভাবে হয়েছে কি? তৃতীয়ত, পিচ তৈরিতে কেমন সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে! প্রতিবেদন বলছে, মাত্র ২১ জুন সড়কের কার্পেটিংয়ের কাজ শেষ হয়। এর মধ্যে ক’দিন যেতে না যেতেই আঙুলের খোঁচায় পিচ উঠে যাচ্ছে! স্বাভাবিকভাবেই ওপরের প্রশ্নগুলো আসছে। Continue reading