Tag Archives: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

পালাবদলের ঘুম!

ঢাবির হলগুলোর গণরুম যেন উদ্বাস্তু-শিবির

দিনের কর্মব্যস্ততা শেষে রাত আসে বিশ্রামের জন্য। রাতের ঘুম আবার পরদিন কাজের শক্তি জোগায়। মানুষের বাঁচার জন্য তাই জরুরি বিষয়গুলোর মধ্যে বাসস্থান অন্যতম। সুন্দর আবাসন, ভালো ঘুম মানুষকে প্রফুল্ল রাখে, কাজে মনোযোগী করে, জীবনবোধে ইতিবাচক পরিবর্তন আনে। ছাত্রজীবনের প্রধান কাজ পড়াশোনা করা। বিশ্ববিদ্যালয়ে জ্ঞানচর্চা, পড়াশোনা ও গবেষণার পরিবেশ নির্বিঘ্ন করতেই রয়েছে আবাসন ব্যবস্থা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড বলার অন্যতম কারণ হলো যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় আবাসিক। সেখানে শিক্ষার্থীরা হলের সঙ্গে সংযুক্ত এবং তাদের আবাসন নিশ্চিত করা হয়। একইভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের আবাসন নিশ্চিত করত। এখনও সব শিক্ষার্থী কোনো না কোনো হলের সঙ্গে সংযুক্ত। কিন্তু দুঃখের বিষয়, এখন শিক্ষার্থীর তুলনায় আবাসন সুবিধা খুব কম। অধিকাংশ শিক্ষার্থীকে হলের বাইরে থাকতে হয়। আবাসিক হলগুলোতে যে আসন রয়েছে, তার তুলনায় অনেক বেশি শিক্ষার্থী হলগুলোতে থাকছেন। ফলে সেখানে আবাসন সুবিধা একেবারেই অপ্রতুল। সে বিষয়টিই উঠে এসেছে সোমবার প্রকাশিত একটি দৈনিকের প্রতিবেদনে। ‘পালা করে কেউ ঘুমায় রাতে, কেউ বা দিনে’ শিরোনামের প্রতিবেদনটিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি জসীম উদ্‌দীন হলের শিক্ষার্থীদের এমন দুর্দশা উঠে এলেও এটি আসলে গোটা বিশ্ববিদ্যালয়েরই চিত্র। হলটিতে আবাসিক সুবিধা রয়েছে ৩৮৭ জনের। অথচ থাকছেন ১০০০ শিক্ষার্থী। সেখানে রয়েছে ১০টি গণরুম, যেখানে ৪ জনের রুমে থাকছেন ২০/২৫ জন শিক্ষার্থী। স্বাভাবিকভাবেই এসব কক্ষে রাতের বেলায় সবার একসঙ্গে ঘুমানো অসম্ভব। তাই তাদের ঘুমাতে হয় পালা করে। কেউ রাতে ঘুমান, কাউকে ঘুমাতে হয় দিনে। ফলে রাতে হয়তো কাউকে ঘুরেফিরে, বসে কিংবা কষ্ট করে পড়াশোনা করে কাটাতে হয়। একজন প্রতীক্ষায় থাকেন কখন তার সহপাঠী উঠবে, সেও একটু ঘুমাবে। Continue reading

স্বপ্ন ফেরি করা লাল বাস

অপেক্ষা লাল বাসের জন্য। প্রতীক্ষাটা কত সময়ের? ক্লাস শেষ, বাস আসবে, সবাই হুড়মুড়িয়ে উঠবে। পাঁচ-দশ মিনিট কিংবা আধা ঘণ্টা। না! ‘লাল বাস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ নামে ফেসবুক পেজে একজন লিখেছেন- ‘৬ মাস ধরে ডিইউতে [ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে] বসবাস করছি; লাল বাসে চড়ার ইচ্ছাটা কবে যে পূরণ হবে…।’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হওয়ার পরও হয়তো নানা কারণে তার লাল বাসে চড়ার সুযোগ হয়নি। তিনি এখনও সুযোগের অপেক্ষায়। তার অপেক্ষা মাত্র ছয় মাসের। কারও অপেক্ষা তো ১৯-২০ বছরের! একজন লিখেছেন, ১০টি কারণে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন, যার প্রথমটিই- লাল বাস।
লাল বাসের কী এমন মাহাত্ম্য যেটা স্বপ্ন হতে পারে? ঢাকার বুক চিরে বিশ্ববিদ্যালয়ের লাল বাসগুলো কেবল দাপিয়েই বেড়ায় না, শিক্ষার্থী পরিবহনই করে না, বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজই করে না; বরং স্বপ্নও ফেরি করে বেড়ায়। বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম অলঙ্কৃৃত ক্ষণিকা, চৈতালি, বৈশাখী-বসন্ত, উয়ারী-বটেশ্বর, হেমন্তসহ একঝাঁক লাল বাস যখন ঢাকার রাস্তায় চলে, তখন হাজার হাজার কিশোর-কিশোরীর মনে স্বপ্ন জাগায়; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার প্রেরণা দেয়।
চোখ-ধাঁধানো লাল রঙের বাস দেখার পর হয়তো তা অনেকক্ষণ মানসপটে ভেসে থাকে। বাসের রঙ লাল হওয়ার বিশেষত্ব কি এখানেই? Continue reading

ঢাবির ছারপোকা

du_bedbug_campaignছারপোকা খবরের অনুষঙ্গ হিসেবে সংবাদমাধ্যমে নানা সময়ে হাজির হয়। বিভিন্ন সময়ে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে ছারপোকা প্রসঙ্গ এসেছে। তবে এবারের খবরটি ব্যতিক্রমই বলতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এসএম হলের আবাসিক শিক্ষার্থী হিসেবে ছারপোকার বিরুদ্ধে অভিযানের অভিজ্ঞতা আমাদের রয়েছে। এখন খবর বলছে, হল কর্তৃপক্ষ এ অভিযানে নেমেছে। এটা বলার অপেক্ষা রাখে না, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল ও শিক্ষার্থী নিবাসে ছারপোকার উৎপাত কতটা রয়েছে। সারাদিনের ক্লান্তি নিয়ে ঘুমুতে গিয়ে রক্তচোষা ছারপোকার তীক্ষষ্ট কামড় কতটা বেদনাদায়ক তা ভুক্তভোগী মাত্রই জানেন। সে ছারপোকার বিরুদ্ধে স্বয়ং হল কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের জন্য নিশ্চয়ই স্বস্তির খবর! Continue reading

সম্পর্কের সূত্র

46thConvocation_Page_12

২০১২ সালে অনুষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৬তম সমাবর্তন

বিখ্যাত, ক্ষমতাশালী কিংবা জনপরিচিতদের সঙ্গে ‘সম্পর্ক’ থাকার কথা উচ্ছ্বাসের সঙ্গে প্রকাশ করা মানুষের সাধারণ প্রবণতা। তাদের আপনজন, নিকটাত্মীয়-দূরাত্মীয়, পরিচিত এমনকি অপরিচিতজনও হয়তো এই ‘সম্পর্কে’র কথা বলেন। কোনো সন্তান যেমন বলতে পারে, এই আমার বাবা কিন্তু সচিব। কেউ আবার বলবে, আমার দুলাভাইয়ের মামা কিন্তু এমপি। কিংবা কেউ বলবে, অমুক মন্ত্রী কিন্তু আমাদের পাশের এলাকার। আবার কেউ হয়তো কোনো লিংক খুঁজবে, অমুক নায়ক কিন্তু আমার এক আত্মীয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে এসেছিল। হুমায়ূন আহমেদ এই ছাত্রাবাসে একসময় ছিলেন, আর সেখানে আমি এখন থাকি_ কারও কাছ থেকে এরকম শোনাও অসম্ভব নয়। হুমায়ূন আহমেদের (১৩ নভেম্বর, ১৯৪৮ – ১৯ জুলাই, ২০১২) প্রসঙ্গ যখন এসেছে, বলে নেওয়া ভালো, তার মৃত্যুর পর এ রকম ‘সম্পর্কের’ অসংখ্য সূত্র ধরে অনেকের লেখা পাঠক দেখে থাকবেন।
বাংলাদেশের ১৯তম রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমানের সঙ্গে ‘সম্পর্কে’র এ রকম একটা সূত্র খুঁজছিলাম। Continue reading

বিশ্ববিদ্যালয় : ক্লাসে কম উপস্থিতি কেন?

আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের এক স্যার (অধ্যাপক) ক্লাসের সব শিক্ষার্থীকে জিজ্ঞেস করছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে তোমার প্রিয় স্থান কোনটি? জবাবে কেউ বলছে টিএসসি, কেউ ডাকসু, কারও কাছে হাকিম চত্বর, আবার কারও কাছে প্রিয় স্থানটি অপরাজেয় বাংলা। শুনতে শুনতে স্যার রেগে গেলেন, আসলে তিনি অত্যন্ত কষ্ট পেয়েছেন, কারণ তার কাঙ্ক্ষিত জায়গার নামটি কেউ বলছে না। বিস্ময় প্রকাশ করলেন_ ক্লাসটা তোমাদের কারও কাছেই প্রিয় স্থান নয়!
৭ আগস্ট ২০১১ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় ক্লাসে উপস্থিতির বিষয়ে বলা চলে এক কঠিন সিদ্ধান্ত হয়। কোনো শিক্ষার্থী ৬০ ভাগ উপস্থিত না থাকলে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে না। উপস্থিতি ৬৫-৭৪ শতাংশ থাকলে ৫ হাজার টাকা জরিমানা দিয়ে পরীক্ষা দিতে পারবে। ৭৫ ভাগ পর্যন্ত উপস্থিতরাই কেবল নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে পরীক্ষা দেবে। আর বিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষার্থীদের ৩০ ভাগের কম উপস্থিতি থাকলে ছাত্রত্ব বাতিল হবে। Continue reading