Tag Archives: ডায়েরি

স্মৃতির টাইম মেশিন

Memory-মানুষের জীবনে প্রতিনিয়ত নানা ঘটনা ঘটে। কোনোটা এমনি মনে থাকার মতো। কোনোটা মনে রাখতে সবাই লিখে রাখে। কোনোটা মনে রাখার চেষ্টা করে। আবার কোনোটা হারিয়ে যায়। মানুষের স্মৃতি অনেকটা টাইম মেশিনের মতো। যত বুড়োই হোক পেছনে ফিরে তাকালে অনেক কিছুই অনায়াসে ভেসে ওঠে মনের আয়নায়। ছোটবেলায় কোন রঙের কাপড় পরতেন তা কারও মনে না-ও থাকতে পারে। কিন্তু ছোটবেলার স্কুলের কথা তার ঠিকই মনে হবে। এ রকম জীবনের প্রত্যেকটি ধাপের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা সবারই মনে থাকবে। মনে থাকবে ছোটবেলার বন্ধু-বান্ধবের কথা। নিজ বাড়িটার কথা। কোথায় কোথায় ছিলেন ইত্যাদি। একইসঙ্গে কারও সময়কে সঙ্গে নিয়েও টাইম মেশিনের মাধ্যমে যে কেউ ফিরে যেতে পারেন অতীতে। এই সময় তিনি এখানে ছিলেন। তারপর পাঁচ বছর আরেক জায়গায়। এরপর অন্যখানে। এভাবে মনে মনে হয়তো একটা জীবনীগ্রন্থও দাঁড় করিয়ে ফেলতে পারেন। Continue reading

স্মৃতিচিহ্নে ফেসবুক

remembranceজীবনের সব অনিশ্চয়তার মধ্যে সবচেয়ে নিশ্চিত বিষয় মৃত্যু। মৃত্যু ছাড়াও মানুষ নানাভাবে হারিয়ে যেতে পারে। কেউ হারিয়ে গেলেও কিছু স্মৃতিচিহ্ন রেখে যায়। যেটা তার প্রমাণ বহন করে যে তিনি একদিন ছিলেন। সন্তান-সন্ততি রেখে কেউ মারা গেলে তারাই বড় স্মৃতিচিহ্ন। আরও নানা বিষয়ও তার স্মৃতিচিহ্ন হতে পারে। বড় কেউ মারা গেলে তার বাসভবন, থাকার জায়গা অন্যদের কাছে স্মারক হয়ে ওঠে। যেমন কুমিল্লায় নজরুলের স্মৃতিচিহ্ন কিংবা কুষ্টিয়ায় রবীন্দ্রনাথের স্মৃতিচিহ্ন ইত্যাদি। সাধারণ কিছু কারও কাছে স্মৃতির বিষয় হয়ে থাকতে পারে। কারও রেখে যাওয়া ডায়েরি, লেখা, ছবি, বক্তৃতা কিংবা ব্যবহার্য জিনিসপত্র ইত্যাদিও ব্যক্তির স্মৃতি বহন করে। এর সঙ্গে নতুন যোগ হয়েছে ফেসবুক।
সাম্প্রতিক সময়ে কেউ মারা গেলে সংবাদমাধ্যমে খবরের সঙ্গে তার শেষ ফেসবুক স্ট্যাটাসও জানানো হয়। Continue reading

জীবনের হালখাতা

Hero-Image-LifeSciences-Generalনতুন বছর আসছে- এ খবরটা কি কেউ আমাদের দিয়েছে? উত্তরে কেউ হয়তো বলবেন, নতুন বছর আসার খবর দেওয়ার কী আছে; ডিসেম্বর এলেই আমরা বুঝতে পারি নতুন একটা বছর শুরু হবে। ফেসবুক ব্যবহারকারীরাও কি তা বলবেন? মনে হয় না। কারণ ফেসবুক তার ব্যবহারকারী প্রত্যেককে গত ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকেই এ খবর দিয়েছে যে, বছরটা শেষ হয়ে যাচ্ছে। ফেসবুক বিষয়টা বছরের আনন্দময় মুহূর্তগুলো অ্যালবাম আকারে উপহার দিয়ে বুঝিয়েছে। তাছাড়া সংবাদমাধ্যমও ডিসেম্বরের দ্বিতীয়ার্ধ থেকেই পুরো বছরের ঘটনা সালতামামি আকারে পাঠক-দর্শকের কাছে নানাভাবে উপস্থাপন করেছে। তাতেও নতুন বছরের একটা আমেজ সবাই পেয়ে গেছে। Continue reading

ডাবল সেঞ্চুরি!

200খেলা নিয়ে আমার আগ্রহ কমই বলা চলে। সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের আবাসিক ছাত্র হিসেবে ২০১০ সালের বিশ্বকাপ ফুটবল দেখেছি। এ নিয়ে হলের শিক্ষার্থীদের তো বটেই অন্যান্যদেরও প্রবল আগ্রহ-উত্তেজনা দেখেছিলাম। সেসময় লিখেছি- ‘বিশ্বকাপ জ্বরে বিশ্ব যতটা কাঁপছে আমি ততটা স্থির। বিশ্বকাপের জ্বর আর জোয়ার যাই বলি আমাকে কিন্তু কোনোটাই স্পর্শ করেনি।’ অবশ্য এর অর্থ এই নয় যে খেলার কিছুই আমি জানি না। আমি হয়তো বসে বসে প্রতিটা বল দেখি না। কিংবা ইন্টারনেটে ইএসপিএন ক্রিকইনফো’র লাইভ স্কোর খুলে বসে থাকি না। কিন্তু ফলাফলটা ঠিকই জানি। কারও বড় অর্জন থাকলে সেটাও চোখ এড়ায় না। হাল আমলে এসব না জানা মানে ব্যাকডেটেড। আর বিশ্বের কাছে আমাদের পরিচয় তুলে ধরার এটাও একটা গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম নিসন্দেহে।
তবে আমার মত কম আগ্রহীদের জন্য সুবিধার কথা হলো সংবাদমাধ্যম খেলার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। ফলে অন্তত যারা নিয়মিত পত্রিকা পড়েন কিংবা টিভি-চ্যানেলে খবর দেখেন খেলার কোনো বিষয়ই তাদের জানার বাকী থাকার কথা নয়। অবশ্য আমার আজকের লেখার বিষয় খেলা নয়, অন্য কিছু। তারপরও লেখার শিরোনামটা খেলার পরিভাষা ‘ডাবল সেঞ্চুরি’ কেন সে বিষয়ে পরে আসছি। Continue reading

নীরবতা

Quietআমার বুঝ হওয়ার পর থেকে মনে হয়েছে অন্তত একটা দিক থেকে আমি ভাগ্যবান। যখনই শুনতাম অমুকের নেই তমুকের নেই অথচ আমার আছে তখনই তা মনে হতো। যদিও একজনের দিক থেকে আমরা ভাই-বোনরা বঞ্চিতই ছিলাম বলা চলে। তারপরও ভালো লাগতো; চারজনের মধ্যে একজন না থাকলে অমন কী।
দাদা-দাদী, নানা-নানীদের কথা বলছি। জন্মের পর থেকেই কাছে পেয়েছি দাদা-দাদীকে। তাদের আদর পেয়েছি। আশকারা পেয়েছি। নানাও ছিলেন আমাদের। কিন্তু নানীকে দেখার সৌভাগ্য হয়নি। মায়ের বিয়ের একবছর পর নাকি মারা গেছেন তিনি। নানা-নানীর বাড়িকে অনেকে নানীর বাড়ি বলেন। আমরা বলি নানার বাড়ি। ধারণা করছি আমাদের নানী নেই বলেই তা বলছি। তবে নানীর অভাব আমরা সেভাবে অনুভব করতে পারিনি। করতাম যদি কিছুদিন হলেও তার আদর পেতাম। এখন যেমন দাদা ও নানা মারা যাওয়ার পর তাদের মিস করছি।
তবে দাদা-দাদীর ভালোবাসা যেভাবে পেয়েছি বলার মত নয়। দাদার কথা আগে বলতে ইচ্ছে করছে। মানুষের একটা প্রবণতা আছে। বেঁচে থাকলে একে অপরের গুণ সেভাবে বলতে চায় না। মৃত্যুর পর সবাই সেটা অকপটে বলে- মানুষটি অসাধারণ ছিলেন। কখনো মিথ্যা কথা বলতেন না। খুব ভালো ছিলেন। সমাজে কেউ খারাপ হিসেবে পরিচিত থাকলেও তখন তার কোনো ভালো গুণ বের করে আনেন- আসলে তিনি যেমনই ছিলেন মানুষের উপকার করতেন। Continue reading

শরীফার ডায়েরি

Sharifa

শরীফা সুলতানা হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন

শরীফার পাতাগুলো ওল্টানোর সৌভাগ্য হয়নি। ২২ মে সমকাল তার ডায়েরির কিছু কথা পাঠকদের জানিয়েছে। ‘শরীফার ডায়েরির পাতায় পাতায় কষ্ট’ শিরোনামের প্রতিবেদনটি পড়ে ঘটনাটি অনুধাবনের চেষ্টা করছিলাম। কোনো হিসাবই মেলাতে পারিনি। স্বপ্নচারী এক তরুণীর কষ্টমাখা ডায়েরির পাতার সামনে অসহায় মানুষ হিসেবে আবিষ্কার করলাম। প্রবোধ দেওয়ার কোনো ভাষা নেই। প্রবোধ দিতে গিয়ে বুঝলাম এটা প্রহসন। ধিক্কারই আমার পাওনা। আমিও যে একজন পুরুষ। মাহমুদুলের চেয়ে ব্যতিক্রম কোনো প্রাণী নই। এও কি সম্ভব! একজন মেয়ে সংসারী হতে চেয়েছিলেন। মমতাময়ী মা হওয়ার তীব্র বাসনা ছিল তার। প্রিয়তমা স্ত্রী? না তিনি কিছুই হতে পারেননি। Continue reading

ডায়েরির পাতা

image_344_67424ডায়েরির পাতা কথা বলে। নানা কথা বলে, প্রতিনিয়ত ঘটে যাওয়া ঘটনার কথা যেমন বলে, তেমনি মৃত ঘটনাগুলোকে জীবন্ত করে চোখের সামনে আনে। ইতিহাসকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। আনা ফ্রাঙ্কের ডায়েরি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ঘটনা নিয়ে এসেছে। এ রকম নানা ঘটনা আমরা বিখ্যাতদের ডায়েরি থেকে জেনেছি। ডায়েরি অনেকের একান্ত ব্যক্তিগত বিষয় হলেও একটা সুদূরপ্রসারী ফল আছে। বিখ্যাতরা বলেন, আজ তুমি ডায়েরি রাখো, একদিন ডায়েরিই তোমাকে রাখবে। Continue reading