Tag Archives: জীবন

স্যালুট চাকা!

প্রায় ১০ বছর আগে মার্কিন সাময়িকী স্মিথস অনিয়ানে ‘অ্যা স্যালুট টু দ্য হুইল’ শিরোনামে একটি ফিচার প্রকাশ হয়। সেখানে লেখক মেগান গাম্বিনো চাকাকে স্যালুট জানিয়েছেন। এই স্যালুট একেবারে সাদামাটা অর্থে কোনো অভিবাদন নয়, এর গোড়া আরও গভীরে।
সৈয়দ শামসুল হক ২০১২ সালে কালের খেয়ায় ধারাবাহিক এক উপন্যাস লেখেন, যার শিরোনাম- ‘কেরানীও দৌড়ে ছিল’। উপন্যাসের বিষয় যা-ই হোক, তিনি দেখিয়েছেন, কেরানি তো বটেই, আসলে আমরা সবাই দৌড়াচ্ছি। জীবনযাপনের জন্য সবাইকে দৌড়াতে হয়। জীবনের এ দৌড় শুধু দু’পায়ে হয় না, বরং সময়ের যত আধুনিক ও দ্রুতযান আছে সবই অন্তর্ভুক্ত। আর যখনই যানবাহনের কথা আসছে তখনই হাজির চাকা। আজ চাকা ছাড়া জীবনের কোনো গতিই নেই।

চাকা আবিস্কার
বলাবাহুল্য, মানবসভ্যতার ইতিহাসে চাকার আবিস্কার একটি যুগান্তকারী ঘটনা। তবে কোথায় কখন এ চাকা আবিস্কার হয়, তার অকাট্য প্রমাণ নেই বললেই চলে। ফলে এ আবিস্কার নিয়ে রয়েছে নানা মুনির নানা মত। অবশ্য বিশেষজ্ঞ অনেকেই মনে করেন, যিশুখ্রিষ্টের জন্মের ৫০০০ বছর আগে তথা আজ থেকে ৭০০০ বছরেরও বেশি আগে প্রাচীন মেসোপটেমিয়ায় (বর্তমান ইরাকের একটি সভ্যতা) চাকা আবিস্কৃত হয়। ককেশাসের উত্তর দিকে বেশকিছু কবর পাওয়া গেছে, যাতে ৩৭০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ থেকে ঠেলাগাড়িতে করে মৃতদেহ কবর দেওয়া হতো। ৩৫০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দের কাছাকাছি সময়ে তৈরি করা একটি মাটির পাত্র দক্ষিণ পোল্যান্ডে পাওয়া গেছে, যাতে চার চাকার একটি গাড়ির ছবি আছে। এটিই এ পর্যন্ত প্রাপ্ত চাকাযুক্ত গাড়ির ছবির সবচেয়ে পুরনো নিদর্শন বা চিহ্ন। মনে করা হয়, গাছের গোল গুঁড়ি গড়িয়ে যেতে দেখে চাকার ধারণা আসে মানুষের মাথায়। তারা গুঁড়িটি পাতলা করে কেটে তার মাঝখানে ছিদ্র করে লাঠির মতো কিছু দিয়ে চাকতি দুটিকে যুক্ত করেছে। আর তাতেই তৈরি হয়েছে আদিম গাড়ি। ওই গাড়ির সঙ্গে বর্তমানের গরুর গাড়ির কিছুটা মিল থাকতে পারে। পরে নানাভাবে চাকার বিবর্তন হয়েছে। কাঠের চাকা দ্রুত ক্ষয়ে যাওয়া এবং ফেটে যাওয়ায় এতে লোহার পাতলা পাত লাগানো হয়। একপর্যায়ে পাতের জায়গা দখল করে পাতলা রাবার। সর্বশেষ রাবারের চাকা ও টিউব আবিস্কৃত হয়।
Continue reading

অপরাধবোধ এবং এক নিষিদ্ধ গল্প!


উপন্যাস- গল্পটি শুনতে চেয়ো না
লেখক- সোহেল নওরোজ,
প্রকাশক- দেশ পাবলিকেশন্স
প্রচ্ছদ- সোহানুর রহমান অনন্ত

নাই কাজ তো খই ভাজ। লেখক বলছেন, না খইও ভাজা যাবে না; কারণ এটাও একটা কাজ। অলসভাবে শুয়ে থাকাটাই হতে পারে কাজহীন অবস্থা কাটানোর শ্রেষ্ঠ উপায়। যদিও এর সঙ্গে ‘গল্পটি শুনতে চেয়ো না’ উপন্যাসের মূল ‘গল্পের’ কোনো সম্পর্ক নাই। তাহলে গল্পটা কী। যে গল্পটি শুনতে চাওয়া বারণ? যে গল্পটি হাফিজুল হক তার মেয়ে অর্পাকেও শুনতে দেননি। গল্পটা ঠিকই সোহেল নওরোজ পাঠকদের শুনিয়েছেন। কিন্তু সব পাঠকই যে তা ধরতে পারবে, সে নিশ্চয়তা দেওয়া যাচ্ছে না। লেখকের মুনশিয়ানা বোধহয় এখানেই।

মোচড়ের পর মোচড় আর মন খারাপ করে দেওয়া উপন্যাসটি শুরু হয়েছে হাফিজুল আর মেয়ে অর্পার কথোপকথন দিয়ে। হাফিজুল হক লেখক মানুষ। একটি উপন্যাস তিনি দাঁড় করাচ্ছেন। উপন্যাসের চরিত্রগুলো লেখার সঙ্গে সঙ্গে হাতেও আঁকছেন। প্রথমে এসেছে এতিমখানার নাহিদ আর অনিকেত। মেধাবী নাহিদ অনিকেতের খপ্পরে পড়ে সামান্য অন্যায়ের শাস্তির মুখোমুখি হওয়ার ভয়ে এক রাতে বেরিয়ে পড়ে অজানার উদ্দেশে। তারা ওঠে অনিকেতের পরিচিত এক কাকির বাসায়। সেখানে নাহিদকে চিঠি দিয়ে আবারও অনিকেতের নিরুদ্দেশ যাত্রা। এরপর নাহিদকে কেন্দ্র করে আগায় উপন্যাসটি। যেখানে নাহিদের এগিয়ে চলার প্রেরণা ছিল অনিকেতের চিঠি। Continue reading

‘স্বার্থপর’ দম্পতি

জনসংখ্যাকে জনসম্পদে পরিণত করতে পরিকল্পনা প্রয়োজন

পৃথিবীতে সবাই একা আসে, একা যায়ও বটে; তারপরও কিন্তু মানুষ সামাজিক জীব। সমাজে প্রত্যেকটি মানুষ একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কিত। অনেক কাজই মানুষ একাকী করতে পারে না। অন্যজনের সাহায্য লাগে এবং অপরের সাহায্যেও এগিয়ে যাওয়া লাগে। এভাবেই মানুষের মাঝে বন্ধন তৈরি হয় সমাজে-রাষ্ট্রে। একজন আরেকজনের সেবায় যত এগিয়ে যায়, তিনি ততই মহৎ উপাধি পান। পরোপকারী মানুষের কথাই কবি বলেছেন- ‘সকলের তরে সকলে আমরা প্রত্যেকে মোরা পরের তরে।’ এর বিপরীত চরিত্রের মানুষই স্বার্থপর। যারা কেবল নিজেকে নিয়েই ব্যস্ত। সমাজ-দেশ-দশের জন্য ভাবে না, কাজ করে না। স্বার্থপরের ইংরেজি সেলফিশ। বুধবার ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ান জাপানের এক খবর দিয়েছে। শিরোনাম- চাইল্ডলেস কাপলস আর ‘সেলফিশ’ সেইজ জাপানিজ পলিটিক্যাল চিফ অর্থাৎ জাপানের প্রবীণ রাজনৈতিক বলেছেন, সন্তানহীন দম্পতিরা ‘স্বার্থপর’।

জাপানের ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির সেক্রেটারি জেনারেল তোশিহিরো নিকাই অবশ্য সেসব দম্পতিকে বলেছেন, যারা সন্তান নিতে ইচ্ছুক নয়। তিনি অধিক সন্তান নেওয়ার ওপর জোর দেন। বলা বাহুল্য, সন্তান নেওয়ার ব্যাপারে জোর তৎপরতার কারণ হলো দেশটিতে জনসংখ্যা ক্রমহ্রাসমান। গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে দেখানো হয়েছে, দেশটিতে গত বছর জন্ম নেওয়া শিশুর সংখ্যা ৯ লাখ ৪১ হাজার, যা ১৮৯৯ সাল থেকে তথ্য রেকর্ডে সর্বনিম্ন। বলা যায়, ১২ কোটি ৭০ লাখের অধিক জনসংখ্যার দেশ জাপানে এক বছরে শিশু জন্মেছে প্রায় সাড়ে নয় লাখ। ইন্টারনেট ঘেঁটে আমাদের গত বছরের তথ্যটি পাওয়া না গেলেও এ বছরের প্রথম দিনের তথ্য জানা গেছে। Continue reading

হৃদয়ের গল্প

নির্মল সাদা কাগজে অসহায় কালো কালি জীবন্ত হয়ে ওঠে লেখকের তুলির আচড়ে। পাঠকের হৃদয়ে নিশ্চল শব্দ আলোড়িত করে লেখকের লেখা। লেখকের মুন্সিয়ানা, লেখার ঢং, জীবন অভিজ্ঞতা, জানার পরিধি ফুটে ওঠে তার লেখায়। পাঠকের কাছে বিষয় সহজে উপস্থাপনার মাধ্যমেই লেখকের সফলতা।

পড়ার ক্ষেত্রে পাঠকের আগ্রহ থাকে গল্প। কারণ গল্প যে মানুষের জীবনই তুলে ধরে। কোনোটা নিজের সঙ্গে মিলে যায়, কোনোটা কানের পাশ দিয়ে যায়। আবার কোনোটা যেন পরিচিত কারও জীবনকাহিনী। সোহেল নওরোজের ‘প্রেমের আলামত পাওয়া যায়নি’ ঠিক তেমন গল্পের বই। ১৪টি গল্পের প্রতিটির আয়নায় পাঠক হয়তো নিজের মুখই দেখবেন। কিংবা তা পাঠকের পারিপাশর্ি্বকতারই গল্প। ‘রোদচশমা’ এ ক্ষেত্রে প্রকৃষ্ট উদাহরণ। আমাদের চারপাশে প্রতিনিয়ত যেসব অন্যায় সংঘটিত হয়, সেগুলো খালি চোখে সহ্য করা সত্যিই কঠিন। তাই গল্পের রাশেদ চোখে কালো চশমা পরে থাকে। আইডিয়া ও গল্পের নামের প্রশংসা এখানেই করতে হবে। তবে জীবনঘনিষ্ঠ বললে ‘হিডেন ফোল্ডার’ গল্পের কথা বলতেই হবে। গল্পটির কলেবর একটু বড়, তবে রহস্যটা বোধহয় শেষেই। স্বামী-স্ত্রীর পরস্পর যে ভালোবাসা, দায়বদ্ধতা এবং একে অপরকে গুরুত্ব ও সময় দেওয়ার ব্যাপার রয়েছে, তার বিপরীতটা ঘটলে স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হয়। তাতে হিডেন ফোল্ডার তথা কম্পিউটারের মতোই হৃদয়ের গোপন কোনো কুঠুরিতে দুঃখ জমা হয়। সুখের সংসার হলে সেখানে সুখও জমা হতে পারে। অবশ্য ‘চুপ’ গল্পটিও এদিক থেকে কম শিক্ষণীয় নয়। কাজের ক্ষেত্রে যোগ্যতাই মূল মাপকাঠি; তেলবাজি কখনোই তার সমকক্ষ হতে পারে না। চুপ গল্পের পরতে পরতে পাঠক শিক্ষা পাবেন- ‘যোগ্য ও সৎ শত্রুর চেয়ে তেলবাজ ও অসৎ বন্ধু উত্তম হতে পারে না’। বলাবাহুল্য, পাঠক সোহেল নওরোজের বইটিতে সব গল্পই উপভোগ করবেন। গল্পের ভেতরে শিক্ষার বিষয়টি সচেতন পাঠকই ধরতে পারবেন।
Continue reading

… ছাড়া চলেই না!

শূন্যস্থানে হয়তো অনেক কিছুই বসানো যাবে। সত্যিকারার্থেই এমন কিছু বিষয় রয়েছে যেগুলো ছাড়া চলে না। যেমন বাঁচতে হলে খেতে হবে, ঘুমাতে হবে, পোশাক লাগবে, থাকার ব্যবস্থা লাগবে। কিন্তু দিন দিন এমন বিষয়ও অনেকের আবশ্যকীয় তালিকায় চলে এসেছে, যেটা হয়তো কিছু দিন আগেও নিত্যব্যবহার্য ছিল না। এখন সেসব ছাড়া যেন চলেই না। অনেকের ফেসবুক ছাড়া চলে না। কারও সবসময় ইন্টারনেট লাগবেই। মোবাইল ছাড়াও যে অচল। ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ান অনলাইনের লাইফ অ্যান্ড স্টাইল বিভাগে ‘হোয়াট আই এম রিয়েলি থিংকিং’_ সতিকারার্থেই ‘আমি কী ভাবছি’ শিরোনামে অনুবিভাগটি দেখছি আর আমাদের সাধারণ কিছু না থাকার ‘অসাধারণ’ অভিব্যক্তির কথা ভাবছি।

আসলে তথ্যপ্রযুক্তিসহ কিছু বিষয়ের ওপর মানুষ এত বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে যে, এগুলো অল্পসময় হাতছাড়া হলেও যেন কী অস্বস্তি। হয়তো আপনি বাজারে এসেছেন অল্প সময়ের জন্য, মোবাইলটি আনতে ভুলে গেছেন। সারা পথ কিংবা যতক্ষণই বাজারে থাকছেন আপনার মনে হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ কিছু নেই বা মারাত্মক ভুল করে ফেলেছেন, ভুল করার জন্য আফসোসের শেষ নেই। আবার ধরুন, কারিগরি ত্রুটির কারণে ইন্টারনেট নেই। মনে হবে যেন ইন্টারনেট না থাকার কারণে সব কাজ আটকে আছে। ইন্টারনেট ছাড়া যেন এক মূহুর্তও চলে না। বিদ্যুতের অবস্থাও তথৈবচ। বিদ্যুৎ না থাকলে তো নগরজীবন অচল। Continue reading

নামে কিংবা গুণে

দুনিয়ার সবকিছু প্রাথমিকভাবে নামেই পরিচিত। ব্যক্তির নাম, বস্তুর নাম, জায়গার নাম ইত্যাদি নাম ছাড়া চেনা অসম্ভব। অবশ্য অনেকে নামের সঙ্গে গুণের কথাও বলেন। তা হয়তো ঠিক। কিন্তু অনেক বিষয় আছে আসলে নামের সঙ্গে কোনো মিলই নেই। যেমন হাতিরঝিলে এখন কোনো হাতি নেই। মতিঝিলে মোতি নেই, ঝিলও নেই। আর রূপনগরে রূপ থাকবে কেমনে! সম্প্রতি এক ব্লগে ব্লগার তা-ই লিখেছেন, ‘রূপনগরের’ রূপের বাহার দেখি না! মিরপুরের রূপনগর সত্যিকারার্থেই এমন এক জায়গা, যেখানে রূপের বিপরীত সব চিত্র দৃশ্যমান। রাস্তার ঠিক নেই, চলছে যখন-তখন খোঁড়াখুঁড়ি, যেখানে-সেখানে বসে আছে হকার। চলাচলের ভালো যানবাহন নেই। নিয়ম-শৃঙ্খলার বালাই নেই। এটাই রূপনগর।
কেবল রূপনগর নয়, রাজধানীর অনেক এলাকার অবস্থাই এ রকম। দোষ যে কেবল নামের তা নয়। নাম কতগুলো নিরীহ বর্ণ কিংবা শব্দের সমন্বয়ে গঠিত। যদিও নাম রাখতে কেউই কম যান না। কে কত সুন্দর নামে নামকরণ করতে পারে সে প্রতিযোগিতা দেখা যায়। এতে তার দোষই বা কী। শান্তিনগরের নাম যিনি রেখেছেন সেখানে অশান্তির কিছু ঘটলে দায় তার ঘাড়ে পড়বে কেন? কারও নাম ইজ্জত উল্লাহ হলে তিনি বেইজ্জতির কিছু করলে, দোষ তো আর নামকারকের নয়। আবার নামের বিপরীত চিত্রও তো আছে। বহুল ব্যবহৃত উদাহরণ বোধহয় আলমের পচা সাবান। সাবানের বিজ্ঞাপনেই রয়েছে, নামে নয়_ গুণে পরিচয়। বলাবাহুল্য, এই আলমের পচা সাবান কারখানাকেই গত বছর বিএসটিআইয়ের অনুমোদন ও পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের লাইসেন্স না থাকায় সাড়ে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। সে ভিন্ন প্রসঙ্গ। Continue reading

গল্প ও জীবন- সমানে সমান

Dana Vanga Shaliker Shukhগল্প আর জীবনের দুরত্ব কতটুকু? লেখকের কাছে এর উত্তর হয়তো আছে। একেকজন একেকভাবে সেটা বলতে পারেন। তবে এটা মনে হওয়াও বিচিত্র নয় যে, এ দুয়ের মাঝে বিশেষ কোন দুরত্বই নেই। গল্পকার গল্প বানান ঠিকই আছে। তা জগতের বাইরের কিছু নয়। মানুষেরই গল্প। মানুষের হাসি-কান্না-সুখ-দুঃখের গল্প। ব্যক্তিগত, সামাজিক, রাষ্ট্রীয় কিংবা অন্য কোন জীবনের গল্প। সেখানে গল্প ও জীবন চলে সমানে সমান। জীবনের নানাবিধ অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার যার যত বেশি সে তত শক্তিশালী লেখক বা গল্পকার।
এ জন্য লেখক হওয়ার ক্ষেত্রে আলাদা চোখ লাগে। সাধারণ মানুষ কোন কিছু দেখে যখন হাঁসে কিংবা কাঁদে লেখক কেবল তা-ই করে না, এর ভেতর থেকে লেখাটাও তৈরি করে নেয়। গল্পকার গল্প সাজায়, একেকটা ঘটনা একেকটা অভিজ্ঞতা দেয়। তা নিয়ে গল্প লেখা হয়। তাতে এমন অনেক বিষয় উঠে আসে যেটা হয় চাক্ষুষ নয় অন্তরের বিষয়। কিন্তু গল্পকারের চোখে ধরা না পড়ে পারে না। সে গল্প পড়ে পাঠকও আশ্বর্য হয়। ভাবে এ যে তারই গল্প, তারই আত্মকথা।সোহেল নওরোজের ডানাভাঙা শালিকের সুখ তেমনি এক গল্পগ্রন্থ। নামের সঙ্গে সুখ থাকলেও ১৬ টি গল্পে কেবল সুখই নেই বেদনাও আছে, আশা নেই হতাশাও আছে, ভালো লাগা নেই মন্দ লাগাও আছে। গল্পের একেকটা শিরোনামই যেন সে অবস্থা বলে দেয়। বোধের দরজায় বৃদ্ধ বাবার সামনে এক কঠিন বাস্তবতা হাজির হয়। তার করুণ মৃত্যু পাঠককে অশ্রুসিক্ত না করে পারবে না। রোদবলিকা, টান কিংবা দোলাচল যেন নিঃশ্বাসে মিশে থাকা গল্প। এর মাঝেও সানাউল্লাহর কাহিনী আর অভিশপ্ত রাত তুমিগ্রস্ত আঁধারের মতই করুণ। Continue reading

মামা সংস্কৃতি!

চলতে-ফিরতে বিশেষ করে বর্তমান প্রজন্মের মুখে সম্বোধনে বহুল ব্যবহৃত যে শব্দটি শোনা যায়, তা মামা। রিকশা-গাড়িচালক, দোকানদার, হোটেল বয় থেকে শুরু করে বন্ধু-বান্ধবও একে অপরকে মামা ডাকছে অবলীলায়। বয়সের ভেদ নেই, পেশার বালাই নেই, রক্তের সম্পর্ক নেই, পরিচিত হওয়ার ব্যাপার নেই_ যেন গণ-মামা। যাদের ডাকছে তারাও সাড়া দিয়ে যাচ্ছেন। কোনো বিকার নেই। অনেকে সম্বোধনকারীকেও মামাই বলছেন। সম্প্রতি এক ভিক্ষুকের কাছ থেকেও শোনা গেল_ ‘দিয়া যান মামা।’ এ এক অদ্ভুত ব্যাপার! সহপাঠীর সঙ্গে আড্ডা-আলোচনায়ও মামার প্রাধান্য। আজকাল টিভি নাটক, বিজ্ঞাপন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও দেখা যায় বন্ধু তার বন্ধুকে বলছে, জোস হইছে মামা। দেখাদেখি অন্যরাও শিখছেন। রিকশাওয়ালা সে রকম যাত্রী পেলে বলছেন, ‘যাবেন নাকি মামা?’ মামা যেন একটা সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। কীভাবে এ মামা আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের অংশ হয়ে উঠল তা এক গবেষণার বিষয়।
মায়ের ভাই হন মামা। মামা-ভাগ্নের সম্পর্ক হয়তো বন্ধুত্বপূর্ণ। মামার সঙ্গে সময়ে সময়ে ঠাট্টা-মশকরাও করা যায়। মামারা ভাগ্নেদের অনেক ‘গোপন’ ব্যাপারে নাকি সাহায্যও করেন। তাই বলে বন্ধুকেও মামা বলতে হবে! গণভাবে যাকে-তাকে মামা বলারই-বা হেতু কী! Continue reading

ফেসবুকের মূল্য

A 3D plastic representation of the Facebook logo is seen in this illustration in Zenica, Bosnia and Herzegovina, May 13, 2015. REUTERS/Dado Ruvicদিন দিন আমরা যখন ব্যস্ত হয়ে উঠছিলাম; ব্যস্ত জীবনে যখন আরেকজনের খবর নেওয়ার ফুরসৎ ছিল না; যখন আমরা আত্মকেন্দ্রিক হয়ে উঠছিলাম; শহুরে জীবনের এককেন্দ্রিকতা যখন আমাদের আচ্ছন্ন করে ফেলছিল; যখন আমরা স্বার্থপর মানুষে পরিণত হয়েছিলাম; তখনই কি ফেসবুকের আগমন? অনেকে তা বলতেই পারেন। ২০০৪ সালে ফেসবুক এসে বলছে, ‘কানেক্ট উইথ ফ্রেন্ডস অ্যান্ড দ্য ওয়ার্ল্ড অ্যারাউন্ড ইউ অন ফেসবুক’। বলছে, আপনার বন্ধুবান্ধব কাছে কিংবা দূরে আছে, তাদের সঙ্গে সহজে যোগাযোগ হচ্ছে না? আপনার অবস্থা তাদের জানাতে পারছেন না? তাহলে দেরি না করে এখনি যুক্ত হোন ফেসবুকে।
ফেসবুকের কথা শুনেছে মানুষ। বুধবার ফেসবুক নিউজরুমে প্রকাশিত ২০১৫ সাল ও একই বছরের চতুর্থ ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত ফেসবুকের মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারী প্রায় একশ’ ষাট কোটি। বাংলাদেশেই রয়েছে ১ কোটি ৭০ লাখ ব্যবহারকারী। বলাবাহুল্য, ফেসবুক সত্যিই অচেনা মানুষকে বন্ধু করেছে, হারিয়ে যাওয়া বন্ধুকে খুঁজে দিয়েছে, দূরের বন্ধুকে কাছে এনেছে, যোগাযোগহীনতার একটা অবসান ঘটিয়েছে। তারপরও মানুষের আত্মকেন্দ্রিকতা, স্বার্থপরতার অবসান কতটা ঘটেছে তা ভিন্ন প্রসঙ্গ। Continue reading

জার্মানিতে বর্ষবরণে যৌন নিপীড়নের নেপথ্যে

large-crowds-germany-new-year's eve

নববর্ষ উদযাপনে জার্মানির কোলনে সমবেত মানুষ

জেসমিন কোলম্যান

জার্মানির কোলন শহরে বর্ষবরণ উৎসবে সংঘটিত সংঘবদ্ধ যৌন নিপীড়ন ও চুরির ঘটনা ক্ষোভ ও ক্রোধের জন্ম দিয়েছে। রাজনীতিবিদরা এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। কোলনের প্রধান রেলওয়ে স্টেশনের বাইরে সংঘটিত এ ঘটনায় শতাধিক নারী নিপীড়নের অভিযোগ করেছেন। কর্তৃপক্ষের ভূমিকা ব্যাপক সমালোচিত হয়েছে। সমালোচনার মুখে পড়েছেন কোলনের মেয়রও। কারণ তিনি এ ঘটনার পর উল্টো নারীদেরই সাবধান হওয়ার মতো মন্তব্য করেছেন।
প্রতিবেদন বলছে, এ নিপীড়নের ঘটনা কেবল কোলনেই ঘটেনি বরং জার্মানির অন্যান্য শহরেও ঘটেছে। এর শিকার নারী ও ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের বিস্ময়_ ‘কীভাবে এ রকমটা ঘটল!’
কোলনের বাসিন্দারা বলছেন, যে এলাকায় যৌন নির্যাতন সংঘটিত হয়েছে সে এলাকাটি আসলে অপরাধের জন্য ডেঞ্জার জোন হিসেবে পরিচিত। সেখানে পকেটমার ও চুরির ঘটনা অহরহ ঘটে। যদিও সে স্পটটি শহরের একেবারে কেন্দ্রে অবস্থিত, যেখানে নতুন বছর উদযাপনে হাজারো মানুষকে একত্র হতে উদ্বুদ্ধ করেছে। মানুষের ভিড়, কোলাহল, মাদকের ছড়াছড়ি, আতশবাজি ইত্যাদি পরিস্থিতিকে পুলিশের নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে গিয়েছিল। অপরাধীরা সে সুযোগই কাজে লাগিয়েছিল। তারা ভিকটিমের সঙ্গে নেচে-গেয়ে তাদের বিভ্রান্ত করতে চেয়েছিল।
Continue reading