Tag Archives: অনলাইন

অনলাইনে ভর্তি পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের কথা ভাবতে হবে- অধ্যাপক ড. এ কে আজাদ চৌধুরী

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. এ কে আজাদ চৌধুরী বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও ভারতের নয়াদিল্লির সাউথ এশিয়ান ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব গভর্ন্যান্সের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল ফার্মাসি ও ফার্মাকোলজি বিভাগে দীর্ঘদিন অধ্যাপনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার ইউনিভার্সিটি থেকে ঔষধবিজ্ঞানে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনকারী এ কে আজাদ চৌধুরী ১৯৪৬ সালে ফেনী জেলায় জন্মগ্রহণ করেন
সমকাল: কয়েক বছর ধরে উচ্চশিক্ষায় সেশনজট ছিল না বললেই চলে। করোনায় নতুন করে সেশনজটের কথা শোনা যাচ্ছে। আপনার কী মনে হয়।
এ কে আজাদ চৌধুরী: হ্যাঁ, দীর্ঘদিন উচ্চশিক্ষায় সেশনজটের সমস্যা ছিল না। আমি যখন (১৯৯৬-২০০১) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ছিলাম, তখনই সেশনজটমুক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করি। এরপর ধীরে ধীরে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ও এ থেকে মুক্ত হয়। এটা সত্য যে, করোনাদুর্যোগের কারণে সেশনজটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে সেশনজট খুব বেশি হবে বলে আমি মনে করি না। কারণ ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অনলাইন শিক্ষা চালু করেছে।
সমকাল
: প্রশাসন কি চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় খুলতে পারত?
এ কে আজাদ চৌধুরী: করোনার মধ্যেও আমরা দেখেছি পোশাক শিল্পকারখানাসহ অর্থনৈতিক সবকিছুই খোলা রয়েছে। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সে সাহসিকতা প্রশাসন দেখাতে পারেনি। এর বাস্তব কারণ অস্বীকার করা যাবে না। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্য সচেতন বটে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে তো আবাসিক হলও খুলতে হবে। আমরা জানি, বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলের কোনো কোনো রুমে ১৬/১৭ জনও থাকে। সেখানে কীভাবে শারীরিক দূরত্ব থাকবে? Continue reading

ইন্টারনেট নির্ভরতার কাল

করোনার এ সময়ে সবচেয়ে যুগান্তকারী বদল ঘটেছে- ঘরে থেকে অফিস করা

সম্প্রতি জাতীয় দৈনিকে একটি সরকারি হাসপাতালের ছবি বেরিয়েছে- করোনা আক্রান্ত রোগী তার ভাইয়ের কাছ থেকে খাবার নিতে নিজেই বাইরে এসেছেন। ছবিটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও আলোচনা হয়েছে। আইসোলেশনে থাকা রোগী বাইরে আসতে পারে কি-না কিংবা তাদের জন্য বাইরের খাবার নেওয়া সিদ্ধ কি-না, সেটা ভিন্ন প্রসঙ্গ। তবে এটা সত্য যে, এসব রোগীর সেবায় যারা থাকেন অনেকেই কাছে যেতে চান না। করোনা সংক্রামক ব্যাধি বলে বিষয়টি অস্বাভাবিকও নয়। কিন্তু এর বিকল্প সমাধান বিশ্বের অন্যান্যরা দেখিয়েছে। এমনকি চীনের যে উহানে করোনাভাইরাসের উৎপত্তি সেখানেও হাসপাতালে রোগীর সেবায় নার্স বা অন্যান্য সহযোগী স্টাফের বদলে ব্যবহার করা হয়েছে রোবট। রোগীর খাবার, ওষুধ ইত্যাদি দেওয়াসহ যেকোনো কাজ অনায়াসেই রোবট করতে পারে। আমাদের দেশেও বাণিজ্যিক ভিত্তিতে রোবট তৈরির প্রতিষ্ঠান রয়েছে। যেসব হাসপাতালে করোনা আক্রান্তদের সেবা দেওয়া হচ্ছে, সেখানে রোবট সার্ভিস দিতে তাদের সঙ্গে চুক্তি করে তা করা যায়। যদিও জরুরি পিপিই কিংবা মাস্ক এমনকি করোনা চিকিৎসা নিয়েই রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। সেখানে রোবটের বিষয়টি বাতুলতা মনে হতে পারে, তবে অসম্ভব নয়।

বলাবাহুল্য স্বাভাবিক জীবন-যাপনেই আমরা ইন্টারনেট ও প্রযুক্তির ওপর অনেকখানি নির্ভরশীল। আর করোনা সংক্রমণের এ সময়ে অধিকাংশ মানুষই ঘরে থাকছেন বলে ‘ঘরে থাকা’ নিশ্চিত করাসহ বাইরের কাজ ঘরে থেকে সম্পাদন করতে ইন্টারনেট ও প্রযুক্তির ওপর আমরা অনেকেই বলা চলে পুরোপুরি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছি। Continue reading

সেকেন্ড-হ্যান্ড কিন্তু পুরনো নয়!

খুব সম্ভবত বইয়ের মতো সেকেন্ড-হ্যান্ড ও পুরাতন আর কোনো কিছুর এমন বাজার নেই

খুব সম্ভবত বইয়ের মতো সেকেন্ড-হ্যান্ড ও পুরাতন আর কোনো কিছুর এমন বাজার নেই

নতুন বই পড়ার স্বাদ আলাদা বটে, কিন্তু বই কখনও পুরনো হয় কি-না তা নিশ্চয় আলোচনার বিষয়। হয়তো বইটি সেকেন্ড-হ্যান্ড, কেউ বাজার থেকে নতুন কিনে পড়া শেষে আবার বিক্রি করেছে। হতে পারে বইটি জীর্ণ-শীর্ণ, শত বছর আগের বই লাইব্রেরিতে রাখা আছে; হয়তো বইটি দেখতে পুরনো; পুরাতন বই হিসেবে কম দামে দোকানি বিক্রি করছে। কিন্তু বইটি তো পুরনো নয়, যতক্ষণ না আপনি পড়ছেন। কিংবা অনেক আগে পড়েছেন, ভুলে গেছেন; আবার পড়ূন, নিশ্চয় নতুনের স্বাদ পাবেন। অথবা কিছু পুরাতন বই বারবার পড়ছেন, বারবার নতুন নতুন বিষয় আবিষ্কার করছেন; তাতেও যেন আপনার তৃষ্ণা মেটে না। সুতরাং তা পুরনো হয় কী করে! ফলে খুব সম্ভবত বইয়ের মতো সেকেন্ড-হ্যান্ড ও পুরাতন আর কোনো কিছুর এমন বাজার নেই। আলজাজিরা অনলাইনে ৯ জানুয়ারি ‘ইন্ডিয়া :ফর দ্য লাভ অব সেকেন্ড-হ্যান্ড বুকস‘ নামে একটি ফিচার প্রকাশ করে। ‘ভারতে সেকেন্ড-হ্যান্ড বইয়ের জন্য ভালোবাসা’র ফিচারটি যে আমাদের জন্যও প্রাসঙ্গিক। আজকালকার স্কুল শিক্ষার্থীরা হয়তো বছরের প্রথমেই নতুন বইয়ের ঘ্রাণ পাচ্ছে। কিন্তু আমাদের প্রজন্ম কিংবা তারও আগে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে এ রকম সব নতুন বই পাওয়ার ঘটনা ছিল বিরল। নতুন-পুরাতন বই দিয়েই শুরু হতো নতুন বছরের পড়াশোনা। অনেকে পুরনো বই অত্যন্ত যত্ন করে আলাদা কাভার লাগিয়ে পড়ত। দেখতে হোক না পুরাতন, আমার কাছে যে তা খুবই নতুন। শিক্ষা স্তরের বিভিন্ন পর্যায়ে এ পুরনো বই পড়া স্বাভাবিক বিষয়। একই বিষয়ের হয়তো কয়েকটি বই থাকে; সবার পক্ষে সব বই কেনা সম্ভব হয় না। তখন কাছের বন্ধুর কাছ থেকে ধার করে কিংবা বড় ভাইয়ের ব্যবহৃত বই পড়তে হয়। আবার লাইব্রেরিতেও তো সব বই সে অর্থে নতুন থাকে না। পুরনো এমনকি অনেক সময় লাইব্রেরির পোকায় খাওয়া বই-ই তখন ভরসা। প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনার বাইরে অন্যান্য বই পড়তেও পুরাতনই বেশি পড়া হয়। Continue reading