Tag Archives: অটিস্টিক শিশু

সামাজিক বৈচিত্র্য ও অটিজম

প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছাকার্ডে অটিস্টিক শিশুর আঁকা ছবি (২০১৪)

সমাজভর্তি বিচিত্র মানুষ। কারও সঙ্গে কারও শতভাগ মিল নেই। রঙে মিল নেই, কথায় মিল নেই, আচরণে মিল নেই, চলাফেরায় মিল নেই, চিন্তা-চেতনায় মিল নেই। প্রতিভাও সবার সমান নয়। উচ্চতায়ও পার্থক্য ঢের। অমিল রয়েছে আয়ে, পারিবারিক অবস্থায় এবং বয়সে। কেউ উদার, কেউ অনুদার; কেউ কোমল, কেউ রাগী; কেউ অন্তর্মুখী, কেউ বহির্মুখী। কারও দুটি হাত থাকার বদলে একটি থাকা কিংবা পা না থাকা বা চোখে দেখতে না পাওয়া ইত্যাদি। অর্থাৎ যাদের আমরা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষ কিংবা প্রতিবন্ধী বলি, তারাও এই বৈচিত্র্যের বাইরে নয়। অটিজম এমনি এক বৈচিত্র্যের নাম। যাদের মানসিক কিংবা শারীরিক বিকাশ সঠিকভাবে হয় না তারা সাধারণত অটিজমের শিকার। মানুষের বৈচিত্র্যের মধ্যেও শেষ দুই শ্রেণির জন্য আলাদা পরিভাষা সমাজে প্রচলিত; কারণ তাদের ধরন ও প্রয়োজন ভিন্ন। সামাজিক শৃঙ্খলা ও সংহতির জন্য আমরা যেমন ভিন্ন চিন্তার মানুষকে সম্মান করি, ঠিক একই কারণে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের চাহিদা পূরণে আমরা এগিয়ে যাই এবং অটিজম রয়েছে এমন কারও প্রতি সহানুভূতিশীল হই। সে চিন্তা থেকেই নিশ্চয় অটিজম সচেতনতা দিবসের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছিল জাতিসংঘ। ২ এপ্রিল বিশ্বব্যাপী দিবসটি পালিত হয়।

অটিজম সচেতনতা দিবসে এ বছর জাতিসংঘ জোর দিয়েছে ইনক্লুসিভ এডুকেশন বা অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষায়। আমরা জানি, প্রতিটি শিশুর চাহিদা ও সম্ভাবনা অনুযায়ী শিখন সম্পন্ন করা এবং সব ধরনের প্রতিবন্ধকতা দূর করে সবার শিক্ষা নিশ্চিত করাই অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা। এর মাধ্যমে ধর্ম-বর্ণ, ধনী-গরিব, ছেলে-মেয়ে, প্রতিবন্ধী-অটিস্টিকসহ সব শিশুকে মানসম্পন্ন শিক্ষা প্রদান করা হয়। বস্তুত আমরা যখন অটিস্টিক শিশুর চাহিদা নিশ্চিত করার কথা বলছি, তাদের ব্যাপারে সচেতনতার কথা বলছি, সেখানে প্রথমেই আমাদের দৃষ্টি দিতে হবে শিক্ষায়। Continue reading

শুভেচ্ছা কার্ড

Naboborsha-Card

প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা কার্ডে ব্যবহৃত অটিস্টিক শিশু শিল্পী রিশাত হোসেন’র আঁকা ছবি

বৈশাখ দরজায় কড়া নাড়ছে। বাংলা নববর্ষবরণ করতে চলছে জোর প্রস্তুতি। সংবাদমাধ্যমে ইতিমধ্যেই নানা আয়োজন দেখছি আমরা। এ যে বাঙালির প্রাণের উৎসব। প্রতিবছর পহেলা বৈশাখে মানুষ যেভাবে স্বতঃস্ফূর্ত আনন্দে মেতে ওঠে তা দেখার মতো।
প্রতিটি উৎসব, আনন্দের উপলক্ষ মানুষ তার প্রিয়জনের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে চায়। একত্রে কাটাতে চায়। প্রিয় মানুষ, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব দূরে থাকলেও তাদের নিমন্ত্রণ করেন। নিমন্ত্রণের সাধারণ ও প্রচলিত মাধ্যমটা বলা চলে কার্ড। বিয়ের কার্ড, ঈদকার্ড, নববর্ষের কার্ডসহ নানা উৎসবে নানা রকম কার্ড উপহার দেয় একে অপরকে। এ কার্ড আগে প্রধানত হাতে হাতে পাঠানো হতো। এখনও সে প্রচলন আছে, তবে ইন্টারনেটের বদৌলতে ফেসবুক কিংবা মেইলেই অনেকে তা পাঠিয়ে থাকেন। যে যেভাবেই দিক সবাই চান তার কার্ডটা সুন্দর হোক। Continue reading