বঙ্গবন্ধু স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সংবাদমাধ্যম চাইতেন-আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী

সাক্ষাৎকার

লেখক ও সাংবাদিক আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী ভাষা আন্দোলনের স্মরণীয় গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো’-এর রচয়িতা। ১৯৫০-এর দশকে সাংবাদিকতার মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। পেশাগত কাজে সফলতার স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদক, স্বাধীনতা পদক, ইউনেস্কো পুরস্কার, বঙ্গবন্ধু পুরস্কার, মানিক মিয়া পদকসহ দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক পদক ও পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। বর্তমানে লন্ডনপ্রবাসী আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী ১৯৩৪ সালে বরিশাল জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আস্থাভাজন ও ঘনিষ্ঠজন ছিলেন। সম্প্রতি বঙ্গবন্ধুর সংবাদমাধ্যম ভাবনা প্রসঙ্গে সমকালের সঙ্গে কথা বলেন


সমকাল : বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আপনার কবে প্রথম দেখা হয়?

আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী : বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আমার প্রথম দেখা হয় ১৯৪৯ সালের মার্চ মাসে বরিশালে। ১৯৫১ সাল পর্যন্ত ১১ মার্চ রাষ্ট্র্রভাষা দিবস পালন করা হতো। ছাত্রলীগ তখন দ্বিধাবিভক্ত ছিল। একটি মুসলিম লীগ সরকারের সমর্থক। নেতা ছিলেন শাহ আজিজুর রহমান। অন্যটির নেতা মুসলিম লীগ অর্থাৎ তখনকার সরকারবিরোধী ছাত্রলীগ নেতা শেখ মুজিবুর রহমান। তখনও আওয়ামী লীগের জন্ম হয়নি। বরিশালে সরকার-সমর্থক ছাত্রলীগের স্ট্রং হোল্ড ছিল। নেতা ছিলেন মহিউদ্দীন আহমদ (পরে ন্যাপ এবং আরও পরে আওয়ামী লীগে যোগ দেন)। তিনি শাহ আজিজের ব্যক্তিগত বন্ধুও ছিলেন। বরিশালে ১১ মার্চের ভাষা দিবস উদযাপনের বিরাট ব্যবস্থ্থা হয়। শাহ আজিজ তা জানতে পেরে সরকার-সমর্থক ছাত্রলীগ যাতে সেই দিবস পালনে যোগ না দেয়, সেই ব্যবস্থ্থা করার জন্য বরিশালে আসেন। শাহ আজিজ বরিশাল থেকে চলে যান ৭ মার্চ (১৯৪৯)। যতদূর মনে পড়ে, শেখ মুজিব মার্চ মাসের ৮ কি ৯ তারিখে বরিশালে আসেন। তখন তিনি বঙ্গবন্ধু নন। ছিলেন মুজিব ভাই। বরিশালে মুজিব অনুসারী ছাত্রলীগ নেতা ছিলেন বাহাউদ্দীন আহমদ এবং শামসুল হক চৌধুরী টেনু মিয়া। বিএম কলেজের একটি হলে শাহ আজিজের বক্তব্য খণ্ডন করে এবং বাংলা ভাষার পক্ষে জোরালো ভাষায় বক্তৃতা দেন মুজিব ভাই। আমি তার বক্তৃতা বরিশালের সাপ্তাহিক নকীব পত্রিকায় ছেপেছিলাম। মুজিব ভাই তাতে খুশি হয়েছিলেন। তার সঙ্গে এই প্রথম আমার পরিচয়। আমি তখন স্কুলে পড়ি। বঙ্গবন্ধু আমাকে ম্যাট্রিকের পর ঢাকা যেতে বলেন।

সমকাল : সাংবাদিকদের সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর কেমন সম্পর্ক ছিল? Continue reading

‘মানুষমারা’ বদলে ‘মানুষগড়া’

মানুষ গড়া যে বিদ্যালয়ের কাজ, তার নাম মানুষ মারা হয় কীভাবে! বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা কেবল নির্দিষ্ট সিলেবাস সম্পন্ন করতেই যায় না, একই সঙ্গে জীবন গড়ার শিক্ষা নিতেও যায়। সেখানে একটি বিদ্যালয়ের নাম ‘মানুষমারা’ হওয়া বিস্ময়করই বটে। সেটি নিয়ে সমালোচনা হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তাই অবশেষে নীলফামারী জেলার সদর উপজেলার ‘মানুষমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’-এর নাম এ বছর ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় পরিবর্তন করে দিয়েছে ‘মানুষগড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’। এভাবে নাম পরিবর্তন কিংবা নাম সংশোধনের বিষয়টি নতুন নয়। মানুষ, স্থান, স্থাপনা কিংবা প্রতিষ্ঠানের নাম রাজনৈতিক, সামাজিক কিংবা পারিপার্শ্বিক নানা কারণেই পরিবর্তন হয়ে আসছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ রকম প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ কিছু স্থানের নাম নিয়ে সমালোচনা আমরা দেখেছি। সম্প্রতি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর শ্রুতিমধুর ও সুশোভন নয় এমন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন কেবল ‘মানুষগড়া’ দিয়েই শুরু হয়নি, এর আগেও নেত্রকোনার ‘ছেছড়াখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’-এর নাম বদলে ‘শহীদ স্মৃতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’ হয়। ফলে নাম পরিবর্তনে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের এ প্রজ্ঞাপন নতুন বিষয় নয়। তবে আগে হয়তো এ রকম কয়েকটি বিদ্যালয়ের পরিবর্তন হয়েছে; এবার সেটি ব্যাপকভাবে করার চিন্তা করছে কর্তৃপক্ষ। Continue reading

খোলার জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কতটা প্রস্তুত?

মাস্ক ব্যবহার, স্যানিটাইজার দিয়ে হাত জীবাণুমুক্তকরণ কিংবা শরীরের তাপমাত্রা মাপার ব্যবস্থাপনা থাকা জরুরি। কিন্তু মনে রাখতে হবে, প্রস্তুতির পরিসর আরও বিস্তৃত

অধিকাংশ দেশেই করোনা সংক্রমণের কারণে বন্ধ থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলতে শুরু করেছে। সংক্রমণের মাত্রা অনুযায়ী কোথাও বেশি সময়, আবার কোথাও অল্প সময় শ্রেণি কার্যক্রম ব্যাহত হয়। যেমন ডেনমার্কে ১১ মার্চ বন্ধ হওয়া স্কুল খুলেছে ২০ এপ্রিল। আর আমাদের ১৬ মার্চে বন্ধ হওয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার দিন নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী মাসের ৭ তারিখ। করোনা সংক্রমণের বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে আরও পেছাতে পারে। তবে আগস্ট কিংবা সেপ্টেম্বরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যখনই খুলবে, তার আগে আমাদের কিছু প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে হবে। তার জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো কতটা প্রস্তুত?
প্রস্তুতির ক্ষেত্রে যেসব দেশ ইতোমধ্যে স্কুল খুলেছে তাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো যেতে পারে। ২ জুলাই ইংল্যান্ডের প্রভাবশালী দৈনিক গার্ডিয়ানে ‘ব্যাক টু স্কুল : হোয়াট ক্যান পিউপিলস ইন ইংল্যান্ড এক্সপেক্ট ফ্রম সেপ্টেম্বর?’ অর্থাৎ স্কুল খোলার ক্ষেত্রে ইংল্যান্ডের শিক্ষার্থীরা সেপ্টেম্বর থেকে কী আশা করতে পারে? শিরোনামের প্রতিবেদনে করোনা-পরবর্তী সেখানকার বিদ্যালয় খোলার নির্দেশনার বিস্তারিত এসেছে। জুন মাসের শুরু থেকেই সেখানে স্কুল খুলে দেওয়া হয়েছে। জুন মাসের খোলাটা ছিল আংশিক। এতদিন কেউ চাইলে তার সন্তানকে স্কুলে না পাঠিয়েও থাকতে পারত, তাদের জন্য বিকল্প অনলাইন ক্লাসের ব্যবস্থা। কানাডাসহ অনেক দেশই এই শিথিলতা অনুমোদন দিয়েছে। কানাডা প্রবাসী তামান্না কলিম দ্যুতি জানিয়েছেন, জুনে সেখানেও স্কুল খুলেছে। মাসখানেক শ্রেণি কার্যক্রম চললেও তিনি তার মেয়েকে তখন স্কুলে পাঠাননি। গ্রীষ্ফ্মকালীন ছুটি কাটিয়ে সেপ্টেম্বরে আবার স্কুল খুললে তখন পাঠাতে নিরাপদ বোধ করবেন। আবার দক্ষিণ কোরিয়াসহ কিছু দেশে আগে বড়দের, তারপর ছোটদের এভাবে স্কুল খুলেছে। এতদিন যা-ই হয়েছে ইংল্যান্ডে কিন্তু সেপ্টেম্বর থেকে সশরীরে স্কুল করা বাধ্যতামূলক করেছে। কেউ স্কুলে না গেলে তার জন্য জরিমানার কথাও বলা হয়েছে। Continue reading

সামাজিক চাপ ও ব্যক্তির আত্মহনন

করোনার মধ্যে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল শিখিয়েছে উদযাপনে পরিমিতিবোধ

 

করোনা সংক্রমণের মধ্যেই এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ হলো। আর তাই এর প্রভাবও এতে স্পষ্ট। বলা বাহুল্য, সংখ্যার বিচারে তুলনামূলকভাবে শিক্ষার্থীরা এবার ভালো ফল করেছে। পাসের হার যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে সর্বোচ্চ গ্রেড জিপিএ ৫। ফলে আপাতদৃষ্টিতে গ্রেড কিংবা পাসের হারে করোনার তেমন প্রভাব পড়েনি। যদিও সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যাচ্ছে, শিক্ষকরা উদারভাবে খাতা দেখেছেন। উদারতার এ নমুনা দেশে নতুন নয়। তবে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে এবারের ফল নতুুন কিছু দৃশ্যপট সামনে এনেছে।

দুই.
করোনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার কারণে শিক্ষার্থীরা বাড়ি থেকেই অনলাইনে তার ফল জানতে পেরেছে। আগে দেখা যেত, যে কোনো পাবলিক পরীক্ষার ফল প্রকাশ হলে প্রতিষ্ঠানে গিয়ে ভালো গ্রেডধারীরা একসঙ্গে আনন্দ-উল্লাস করত। অনেক সময় এ উদযাপনে অতিরঞ্জনও লক্ষণীয়। দুই আঙুলে ভি-চিহ্ন দেখিয়ে শিক্ষার্থীরা যে প্রতিক্রিয়া প্রদর্শন করে, তা অনেকেই দৃষ্টিকটু হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এটা সত্য যে, কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জন করেছে সেটা নিশ্চয়ই তার সাফল্য। তাতে উদযাপন থাকতেই পারে। তবে সেটি হওয়া চাই নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে এবং তা যেন অন্যকে আঘাত না দেয়। যে শিক্ষার্থীটি কাঙ্ক্ষিত ফল লাভ করতে পারেনি তারই সহপাঠীর এমন উদযাপনে সে কষ্ট পেতে পারে। Continue reading

ইন্টারনেট নির্ভরতার কাল

করোনার এ সময়ে সবচেয়ে যুগান্তকারী বদল ঘটেছে- ঘরে থেকে অফিস করা

সম্প্রতি জাতীয় দৈনিকে একটি সরকারি হাসপাতালের ছবি বেরিয়েছে- করোনা আক্রান্ত রোগী তার ভাইয়ের কাছ থেকে খাবার নিতে নিজেই বাইরে এসেছেন। ছবিটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও আলোচনা হয়েছে। আইসোলেশনে থাকা রোগী বাইরে আসতে পারে কি-না কিংবা তাদের জন্য বাইরের খাবার নেওয়া সিদ্ধ কি-না, সেটা ভিন্ন প্রসঙ্গ। তবে এটা সত্য যে, এসব রোগীর সেবায় যারা থাকেন অনেকেই কাছে যেতে চান না। করোনা সংক্রামক ব্যাধি বলে বিষয়টি অস্বাভাবিকও নয়। কিন্তু এর বিকল্প সমাধান বিশ্বের অন্যান্যরা দেখিয়েছে। এমনকি চীনের যে উহানে করোনাভাইরাসের উৎপত্তি সেখানেও হাসপাতালে রোগীর সেবায় নার্স বা অন্যান্য সহযোগী স্টাফের বদলে ব্যবহার করা হয়েছে রোবট। রোগীর খাবার, ওষুধ ইত্যাদি দেওয়াসহ যেকোনো কাজ অনায়াসেই রোবট করতে পারে। আমাদের দেশেও বাণিজ্যিক ভিত্তিতে রোবট তৈরির প্রতিষ্ঠান রয়েছে। যেসব হাসপাতালে করোনা আক্রান্তদের সেবা দেওয়া হচ্ছে, সেখানে রোবট সার্ভিস দিতে তাদের সঙ্গে চুক্তি করে তা করা যায়। যদিও জরুরি পিপিই কিংবা মাস্ক এমনকি করোনা চিকিৎসা নিয়েই রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। সেখানে রোবটের বিষয়টি বাতুলতা মনে হতে পারে, তবে অসম্ভব নয়।

বলাবাহুল্য স্বাভাবিক জীবন-যাপনেই আমরা ইন্টারনেট ও প্রযুক্তির ওপর অনেকখানি নির্ভরশীল। আর করোনা সংক্রমণের এ সময়ে অধিকাংশ মানুষই ঘরে থাকছেন বলে ‘ঘরে থাকা’ নিশ্চিত করাসহ বাইরের কাজ ঘরে থেকে সম্পাদন করতে ইন্টারনেট ও প্রযুক্তির ওপর আমরা অনেকেই বলা চলে পুরোপুরি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছি। Continue reading

করোনায় তারাবির নামাজ

পবিত্র রমজানে রোজা পালনের সঙ্গে মসজিদে জামাতে তারাবির নামাজ পড়ার বিষয়টি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। দেশে সাধারণত রমজানের এক মাস তারাবির নামাজে অনেক মসজিদেই পবিত্র কোরআন খতম করা হয় বলেই হয়তো এ নামাজের এত গুরুত্ব। কিন্তু এ বছর এমন সময়ে রমজান শুরু হচ্ছে, যখন করোনাভাইরাস থেকে বাঁচতে মানুষ ঘরবন্দি; যখন নিয়মিত ফরজ নামাজ মসজিদে হওয়ার ব্যাপারে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নির্দেশনা রয়েছে; যখন পরিস্থিতির নাজুকতায় বিজ্ঞ আলেমগণ ঘরেই নামাজের ব্যাপারে একমত হয়েছেন; যখন সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য প্রশাসনের তরফ থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ অবস্থায় মসজিদে তারাবির নামাজের বিষয়টা আলোচনায় এসেছে। রমজান মাসে ইবাদতের গুরুত্ব বিবেচনায় হয়তো ধর্মপ্রাণ মুসলমানের হৃদয়ের আকুতি মসজিদে তারাবি পড়া। কিন্তু পরিস্থিতি যেখানে ভয়াবহ এবং মহামারিতে জীবন-মরণের প্রশ্ন, সেখানে ইসলামের নির্দেশনা অনুযায়ী নিজেকে সুরক্ষাই অগ্রাধিকার। তারাবির প্রশ্নে এটাই বলা যুক্তিসঙ্গত যথেষ্ট যে, যেহেতু করোনা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটেনি, উল্টো করোনায় আক্রান্ত ও শনাক্ত মানুষের সংখ্যা দিন দিন ব্যাপক হারে বাড়ছে; বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা, এ অবস্থায় ঘরে থাকা জরুরি।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত জুমার নামাজসহ নিয়মিত নামাজের ব্যাপারে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের যে নির্দেশনা ছিল, তাই হয়তো বলবৎ থাকবে। Continue reading

চোখ রাঙাচ্ছে করোনা

কেবল সংবাদকর্মীই নন, এ মুহূর্তে দেশের সব সচেতন নাগরিকই বোধ করি প্রতিদিন করোনা সংক্রান্ত সরকারের প্রেস ব্রিফিংয়ের জন্য অপেক্ষা করেন। দেশে করোনা পরিস্থিতি বুঝতে এটা জরুরিও বটে। এতদিনের ব্রিফিং যা-ই হোক, রোববারের ব্রিফিংয়ে নিশ্চয়ই অনেকে নড়েচড়ে বসেছেন। একদিনে এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ ১৮ জন করোনা পজিটিভ রোগী শনাক্ত হওয়ায় অনেক হিসাব-নিকাশও নিশ্চয়ই পাল্টে যাবে। দেশে করোনা পরিস্থিতি যে খারাপের দিকে যাবে, তা অনেকেই অনুমান করেছিলেন। দেশে ৮ মার্চ প্রথম করোনা আক্রান্ত শনাক্ত হওয়ার পর আমরা দেখছি, দিন দিন বাড়ছে সংক্রমিত রোগীর সংখ্যা। রোববার ২৮তম দিনে এক লাফে এত করোনা পজিটিভ খবর আমাদের বৈশ্বিক পরিসংখ্যানের দিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে। করোনা যদি বাংলাদেশে একই রূপ ধারণ করে তাতে বলতে হবে, এখনও প্রাথমিক পর্যায়েই রয়েছি আমরা। বিশ্বের যেসব দেশে এ ভাইরাস মহামারি আকারে ছড়িয়েছে, সেখানে প্রথম মাসের লক্ষণে বোঝাই যায়নি পরবর্তী মাসে ঠিক কী অপেক্ষা করছে। সর্বাধিক করোনা আক্রান্ত রোগী যে আমেরিকায়, সেখানে প্রথম ব্যক্তি শনাক্ত হন ২০ জানুয়ারি। মার্চের প্রথম দিন পর্যন্ত সেখানে ৭৪ জন রোগী শনাক্ত হয়। এর এক মাস পর এসে প্রায় দুই লাখ রোগী আক্রান্ত হয়। এখন সেখানে তিন লাখ ছাড়িয়ে গেছে। করোনায় সর্বাধিক মৃত্যু ১৫ হাজারের বেশি যে ইতালিতে, সেখানে জানুয়ারি মাসের শেষ দিনে দু’জনের দেহে করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়। এর মাস খানেক পর শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়ায় ১১শ’ জনে। আর সেখানে ৩১ মার্চ করোনা পজিটিভ মানুষের সংখ্যা বেড়ে লক্ষাধিক হয়ে যায়। স্পেন, যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও ফ্রান্সের অবস্থাও তথৈবচ। Continue reading

করোনার দিনগুলোতে ‘শিক্ষা’​

বাচ্চাদের পড়াশোনার মূল দায়িত্বটা কিন্তু নিতে হবে মা-বাবা/অভিভাবককে

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া রোধ ও তা থেকে সুরক্ষায় ‘ঘরে থাকা’ নিশ্চিত করতে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কেবল বাংলাদেশে বন্ধ হয়নি; বরং দেড় শতাধিক দেশের অবস্থাও তথৈবচ। তবে ১৬ মার্চ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের পর ছুটি পেয়ে অনেকেই ‘বদ্ধ ঘরে’ না থেকে ‘জগৎ’ দেখার আশায় কক্সবাজারসহ নানা জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছিলেন। এমনকি অনেক শিক্ষকও এ ‘সুযোগ’ হাতছাড়া করেননি। অবশ্য প্রধানমন্ত্রীর হুঁশিয়ারির পর, প্রশাসনের তরফ থেকে ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে এ প্রবণতা কমেছে। কক্সবাজারসহ বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। আর এখন তো চলছে দেশব্যাপী ‘লকডাউন’। সংক্রামক ব্যাধি করোনা থেকে বাঁচতে কেবল ঘরে থাকাই যথেষ্ট নয় বরং আরও কিছু সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। আমরা দেখেছি, ইতোমধ্যে শিক্ষার্থীদের হাত ধোয়াসহ বেশকিছু নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। সংবাদমাধ্যম ও মোবাইলে খুদেবার্তার মাধ্যমেও সতর্ক থাকার বিষয়গুলো প্রতিনিয়ত জানছেন শিক্ষার্থী ও তার পরিবার।

সরকারের ঘোষণায় প্রথমে ৩১ মার্চ পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার কথা বলা হলেও পরে তা বাড়িয়ে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত করা হয়েছে। কিন্তু করোনা পরিস্থিতি যেদিকে যাচ্ছে, তাতে ৯ এপ্রিলের পরই প্রতিষ্ঠানগুলো খুলবে- এ সম্ভাবনা রয়েছে সামান্যই। এমনকি এপ্রিলের প্রথম দিন থেকে অনুষ্ঠিতব্য চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষা ইতোমধ্যে পেছানো হয়েছে। কথা হলো, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি যদি আরও বাড়ে তাতে শিক্ষার্থীর পড়াশোনায় বিরতি দীর্ঘ হয়ে যাবে। শিক্ষাবর্ষের এক-তৃতীয়াংশ এখনই পার হয়ে গেছে। নানা পরীক্ষার তারিখ থাকলেও পেছাচ্ছে। এ অবস্থায় তথ্যপ্রযুক্তিসহ নানা উপায়ে পড়াশোনা চালিয়ে নেওয়ার বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা চলছে দেশ-বিদেশে। Continue reading

মায়া

মেয়েটি আমার যত বড় হচ্ছে মায়া মনে হচ্ছে ততই বাড়ছে

গতকাল আমার পিতৃত্বের এক বছর পূর্ণ হলো আলহামদুলিল্লাহ। ২০১৯ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি পৃথিবীতে আসার পর থেকেই কেবল নয়, বরং তারও প্রায় নয় মাস আগ থেকে আমাদের সকল কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে মেয়েটি। সন্তান-মা-বাবাকে ঘিরে পৃথিবীর যে মায়ার জগৎ এতদিন তা কেবল সন্তান হিসেবেই দেখে আসছিলাম এখন সেটা বাবা হিসেবেও আবিষ্কারের চেষ্টা করছি।
প্রথম প্রথম মেয়েটিকে দেখতাম বিস্ময়ের সঙ্গে। নবজাতকের কান্না, হাসি, আড়মােড় ভাঙ্গার মধ্যে কতটা শিল্প, কতটা সৌন্দর্য রয়েছে মেয়ে না হলে তা দেখার সৌভাগ্য হয়তো হতো না। মেয়েটি যখন আরেকটু বড় হচ্ছে শিশুর কাজ দেখারও সুযোগ হচ্ছে, এক সেকেন্ডের জন্যও তার ফুরসত নেই; যতক্ষণ সজাগ থাকবে, ততক্ষণ ব্যস্ত। এই এটা ধরবে, ওটা ধরবে। এক হাতে না পারলে দুই হাতে, এক হাত ছাড়ালে আরেক হাতে। মেয়েটার কাজ দেখে আমরা হয়রান হই। মেয়েটি যখন কথা বলা শিখছে ওর মুখ থেকে ফুটছে- আম্মা, বাব্বা, দাদ্দা, নান্না। মুখ থেকে একটা কথা বেরুবে সেটাই বলতে থাকবে। এক নাগাড়ে, এ নিশ্বাসে, একই শব্দ সুন্দর করে, দরদ দিয়ে এভাবে কাউকে বলতে দেখিনি।
মেয়েটি যতই একটু করে বড় হচ্ছে ততই চিনছে বাবাকে। বাবা হিসেবে সেটা আমার জন্য যেমন আনন্দের তেমনি মধুর বিড়ম্বনারও। বাবাকে সবসময় সামনে থাকা চাই। মেয়েকে রেখে বাইরে বেরুবার অধিকার, অফিসে যাওযার সুযোগ নেই। আহা প্রতিদিন অফিসের জন্য বেরুতে মেয়েকে যেভাবে বাসায় রেখে আসতে হয় সেটা এক কষ্টের ব্যাপার। অফিসে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছি কিন্তু মেয়েটি কোলে এসে বসে আছে। এমনভাবে বসবে যে, তাকে ছাড়া সহজ নয়। Continue reading

শিক্ষায় বড় তিন পরিবর্তন- তিনটি ছোট প্রশ্ন

তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পরীক্ষা নেই, পঞ্চম শ্রেণিতে সমাপনী কেন

শিক্ষাব্যবস্থায় ‘ব্যাপক’ পরিবর্তন আসছে বলে আমরা সম্প্রতি সংবাদমাধ্যম থেকে জানছি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তন প্রয়োজন। তবে পরিবর্তন যেমন ইতিবাচক ফল বয়ে আনতে পারে, তেমনি নেতিবাচকও হতে পারে। পরিবর্তন যাতে ইতিবাচক হয় সেটাই কাম্য। সে প্রত্যাশায় আমাদের প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা- প্রতিটি স্তরেই যে বড় পরিবর্তন আসছে, তা নিয়ে আমি আগাম তিনটি ছোট প্রশ্ন রাখতে চাই।

তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পরীক্ষা নেই, পঞ্চম শ্রেণিতে সমাপনী কেন : শিক্ষাব্যবস্থায় যে পরিবর্তনের কথা আমরা শুনছি, এর মধ্যে সবচেয়ে যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত হবে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পরীক্ষা উঠিয়ে দেওয়া। শিশুদের সুন্দর, সুষম ও সৌহার্দ্যপূর্ণ বিকাশে এটি সত্যিই জরুরি। পরীক্ষা তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে আমরা ধন্যবাদ জানাই। ছোটবেলা থেকেই যেভাবে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার চাপে পিষ্ট, যেভাবে শিশু ও অভিভাবকের মধ্যে পরীক্ষায় ‘ভালো ফল’-এর জন্য অসুস্থ প্রতিযোগিতা চালু রয়েছে; যেভাবে শিশুরা কোচিং-প্রাইভেট টিউটরের কাছে ধর্ণা দিচ্ছে, তা থেকে নিস্কৃতি পেতে পরীক্ষা বাদ দেওয়ার কোনো বিকল্প নেই। সিঙ্গাপুর ও ফিনল্যান্ডের মতো শিশুদের পরীক্ষা উঠিয়ে দিয়ে আনন্দদায়ক পরিবেশে শিক্ষার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। এটা হয়তো ঠিক; সিঙ্গাপুর-ফিনল্যান্ডের মতো পরিবেশ-পরিস্থতি আমাদের নেই। আমরা জানি, ফিনল্যান্ডে শিশুদের ১৬ বছর পর্যন্ত কোনো পরীক্ষাই নেই। আমরা তাদেরটা পুরোপুরি না হোক, কিছু তো অনুসরণ করতে পারি। তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পরীক্ষা উঠিয়ে দেওয়া যতটা উপকারী; পঞ্চম শ্রেণির সমাপনী ততটাই অপকারী। Continue reading